আল হাসানাইন (আ.)

কোরআনের তাফসীর

সূরা ইউসুফ; (১৮তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৮তম পর্ব)

হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর মনে একদিকে ইউসুফকে হারানো তিক্ত অভিজ্ঞতা অপরদিকে বেনইয়ামিনকে সঙ্গে না পাঠালে খাদ্যও পাওয়া যাবে না,তাই তিনি আল্লাহর ওপর নির্ভর করলেন এবং বেনইয়ামিনের নিরাপত্তার ভার তাঁর ওপরই ন্যস্ত করলেন। কঠিন সময়ে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা একদিকে মনকে যেমন প্রশান্ত করে তেমনি এতে ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর ওপর অকৃত্রিম নির্ভরতা ঐশী সাহায্যকে অনিবার্য করে তোলে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১৭তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৭তম পর্ব) কঠিন বা সংকটময় সময়ে সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা উচিত হযরত ইউসুফ (আ.) এর নির্দেশ থেকে আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। তাছাড়া যে ভাই'রা তার প্রতি চরম অন্যায় করেছে,তাকে নির্মমভাবে হত্যা করার ব্যর্থ ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণের কোনো চিন্তা করলেন না; এটাই নবী-রাসূলদের শিক্ষা।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১৬তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৬তম পর্ব) কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় বা ইন্দ্রীয় পরায়ণতার কারণে মানুষ পাপের দিকে পা বাড়ায়। মানুষ যখন প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হয় তখনি তার মধ্যে পশুসুলভ আচরণ স্বাভাবিকে পরিণত হয়। তখন মানুষ আর তার পরিণতির কথা ভাবতে পারে না। এ অবস্থায় একমাত্র আল্লাহর বিশেষ রহমত বা অনুগ্রহ ছাড়া কারো পক্ষে কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা সম্ভব নয়। আর যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সব কাজে তারই সাহায্য কামনা করে একমাত্র তারাই আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করে থাকে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১৫তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৫তম পর্ব) তাকওয়া এবং সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে এভাবেই সৎ লোকেরা বিপদ থেকে উদ্ধার পান। মিশরের রাজার স্ত্রী এক সময় হযরত ইউসুফ (আ.) কে অপবাদ দিয়েছিল এবং তার অপবাদ ও মিথ্যা বক্তব্যের কারণেই হযরত ইউসুফকে কারাগারে আটক করা হয়েছিল কিন্তু কিছু সময়ের ব্যবধানে রাজার স্ত্রী নিজেই হযরত ইউসুফকে সত্যবাদী ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে সাক্ষী দিল এবং হযরত ইউসুফ স্বসম্মানে জেল থেকে বেরিয়ে আসলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় সত্য এভাবেই প্রকাশিত হয়। এ জন্য ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার সঙ্গে আল্লাহর ওপর নির্ভর করা উচিত।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১৪তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৪তম পর্ব) আল্লাহর ওপর আস্থা রাখার অর্থ এটা নয় যে মানুষ সব কিছু বাদ দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। মানুষকে তার সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে এবং সব ব্যাপারে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রেখেই তার চেষ্টা চালাতে হবে। তাহলে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন এবং তার চেষ্টাকে ফলবান করবেন। কাজেই দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় খাদ্য মজুদ করা,আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা আস্থার সঙ্গে অসামাঞ্জস্যতার কিছু নেই।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১৩তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১৩তম পর্ব) হযরত ইউসুফকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক করা হয়েছিল ৷ জুলেখার সঙ্গে ঘটনার পর ইতিমধ্যে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে৷ কাজেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হযরত ইউসুফ যে বন্দীকে মুক্তি পাওয়ার সুসংবাদ দিয়েছিলেন তাকে তিনি মুক্তি পাওয়ার পর রাজার সঙ্গে তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বলেছিলেন৷ হযরত ইউসুফ ভেবেছিলেন, নিরপরাধ হয়েও অনেক দিনইতো তিনি কারাগারে কাটালেন৷ কাজেই রাজা বন্দীর কাছ থেকে হযরত ইউসুফ সম্পর্কে সব জানার পর হয়ত তাকে মুক্ত করে দিবেন ৷ কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ঐ ব্যক্তি হযরত ইউসুফ (আ.)এর কথা ভুলে গিয়েছিল ৷ ফলে ইউসুফ (আ.)কে সাত বছর কারাগারে থাকতে হয়েছিল ৷

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১২তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১২তম পর্ব) মুশরিকরা পানির দেবতা, বাতাসের দেবতা, বৃষ্টির দেবতা এ ধরনের বহু দেবতার উপাসনা করে৷ আসলে এসবের কোনো ভিত্তি নেই, নাম সর্বস্ব এসব দেবতা কাল্পনিক এবং মানুষেরই সৃষ্টি৷ ঐশী বিধানে বলা হয়েছে,একমাত্র আল্লাহই হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা এবং বিশ্ব প্রতিপালক৷ মানুষ কেবল তারই উপাসনা করবে এবং তারই সামনে মাথা নত করবে৷ ধর্মীয় বিশ্বাস যুক্তি নির্ভর এবং তা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত ৷ পূর্ব পুরুষের অনুসরণ ধর্ম বিশ্বাসের ভিত্তি হতে পারে না ৷  

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১১তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১১তম পর্ব) স্বৈরাচারী এবং তাগুতি শাসনের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, এখানে মানুষের মর্যাদার মূল্যায়ন হয় না। তাগুতি শাসন ব্যবস্থায় জনগণের স্বার্থের চেয়ে রাজা ও রাজ দরবারের স্বার্থই বড় বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে বৈধ-অবৈধ বিবেচনায় আনা হয় না। ইউসুফ-জুলেখার ঘটনায় এই বাস্তবতাই লক্ষ্য করা যায়। রাজা ও রাজ দরবারে হযরত ইউসুফ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছিলেন। এমনকি জুলেখা নিজেও অভিজাত মহিলাদের এক অনুষ্ঠানে হযরত ইউসুফের পবিত্রতার সাক্ষ্য দিয়েছে। তারপরও মিশরের রাজ দরবার রাণীর অপরাধ ঢাকা দেয়ার জন্য হযরত ইউসুফকে কারান্তরীন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আসলে কলুষিত সমাজে পাপাচারী মানুষের দৌরাত্ম্যই বেশী। এমন সমাজে সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ যাপন করেন এক ধরনের বন্দিত্ব জীবন।  

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১০ম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১০ম পর্ব) পাপ ও কলুষমুক্ত পরিবেশ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কলুষিত পরিবেশ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। এতে কষ্ট হলেও তা উত্তম। ইতিহাসে দেখা যায় বহু মানুষ সততা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য কষ্টকর জীবনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে শিক্ষাহীনতাই কেবল অজ্ঞতা নয়, উশৃঙ্খলতা এবং কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব করাটাও অজ্ঞতার মধ্যে পড়ে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৯ম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৯ম পর্ব) সত্য কখনও গোপন থাকে না। প্রকৃত অপরাধী একদিন ধরা পড়বেই। এটা এই আয়াতের একটি শিক্ষণীয় দিক। এছাড়া মিশরের রাজা সহজেই যুক্তি মেনে নিলেন এবং তার স্ত্রীর দোষ স্বীকার করে নিয়ে হযরত ইউসুফকে নির্দোষ বলে চিহ্নিত করলেন-এটাও একটি শিক্ষা নেবার মত ঘটনা। সত্য অপ্রিয় হলেও গ্রহণ করা উচিত এ ঘটনা আমাদেরকে সে শিক্ষাই দেয়।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৮ম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৮ম পর্ব) পাপ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য শুধু মুখে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে বসে থাকলে হবে না। সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৭ম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৭ম পর্ব) ঈমানের শক্তির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে ঈমানের শক্তি অনেক বেশী। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস মানুষের মন ও মননকে বিশেষ শক্তি যোগায়, যা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সহায়তা করে। আল্লাহর প্রতি ঈমান বা দৃঢ় বিশ্বাস ঐশী সাহায্যকে অনিবার্য করে তোলে, আর এই ঐশী মদদ বা সাহায্য ব্যতীত কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা সম্ভব নয়। নবী রাসূলরাও সাধারণ মানুষের মত তাদেরও অনুভূতি আছে, তাদের মধ্যেও কুপ্রবৃত্তি সক্রিয় হয়ে উঠে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি তাদের দৃঢ় ঈমানের কারণে তারা পাপে লিপ্ত হননা। এই ঈমানের নূর তাদেরকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে।  

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৬ষ্ঠ পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৬ষ্ঠ পর্ব) আল্লাহতালা সমাজেরই একজনকে নবী হিসেবে নির্বাচিত করেন। এরপর নানা ঘটনার মাধ্যমে তাকে পরীক্ষা করেন এবং মানব সমাজে সত্যের আহ্বানকারী হওয়ার যোগ্যরূপে গড়ে তোলেন।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৫ম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৫ম পর্ব) যে কোনো দুর্ঘটনাই ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবেলা করা উচিত। কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন। ধৈর্য তখনই ফলপ্রদ হয় যখন মানুষ চরম বিপদের মধ্যেও শান্তভাবে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে।  

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৪র্থ পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৪র্থ পর্ব) যে কারো কথা বিশ্বাস করা উচিত নয়। যেমন হযরত ইউসুফের ভাইয়েরা নিজেদেরকে বিশ্বস্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের মনে দুরভিসন্ধি কাজ করছিল।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৩য় পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৩য় পর্ব) হিংসা-বিদ্বেষ এবং পরশ্রীকাতরতা অনেক সময় অত্যন্ত ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। হিংসার বশবর্তী হয়ে অনেক সময় মানুষ নিজ সহোদরকেও হত্যা করতে দ্বিধা করে না। হযরত ইউসুফ (আ.) ও তার ভাইদের ঘটনা ছাড়াও হযরত আদম (আ.) এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের ঘটনা এর সাক্ষী হয়ে আছে। হিংসায় উন্মত্ত হয়ে কাবিলের হাত তার ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২য় পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২য় পর্ব) হযরত ইউসুফ (আ.)-এর পিতা হযরত ইয়াকুব (আ.)ও আল্লাহর নবী ছিলেন, তাই তিনি স্বপ্নের বর্ণনা শুনে বুঝতে পারলেন যে, এটা সাধারণ কোনো স্বপ্ন নয় বরং ভবিষ্যতে হযরত ইউসুফ (আ.) একজন আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হবেন। কাজেই তিনি ভাইদের কাছে এই স্বপ্ন বৃত্তান্ত না বলার জন্য ইউসুফকে সাবধান করে দিলেন। কারণ স্বপ্নের তাতপর্য অনুধাবন করে ভাইয়েরা হযরত ইউসুফের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ক্ষতি করতে পারে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (১ম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (১ম পর্ব) কুরআন হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থ যা আলোকবর্তিকার মতো মানুষের সামনে চির সত্যকে উদ্ভাসিত করে। দ্বিতীয়ত, কুরআনের আয়াত বা বাণী নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরকালীন মুক্তি ও পুরস্কারের আশায় শুধু আবৃত্তি করার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়নি; বরং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন গড়ে তোলার জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে, কাজেই কুরআনকেই জীবনের একমাত্র পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।  

বিস্তারিত

সূরা হুদ;(২৭তম পর্ব)

সূরা হুদ;(২৭তম পর্ব) সমাজে বিজ্ঞ ও শিক্ষিত মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। মানুষকে পাপ ও অনাচার থেকে মুক্ত করে সঠিক পথের দিশা তারাই দিতে পারেন যারা নিজেদেরকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করতে সক্ষম হয়েছেন। সমাজের বিজ্ঞ ও শিক্ষিত মানুষ যদি তাদের এই মহান দায়িত্বের ব্যাপারে অবহেলা করেন তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠে। এই অবহেলার কারণে অতীতে অনেক জাতি বিপর্যস্ত হয়েছে।

বিস্তারিত

সূরা হুদ;(২৬তম পর্ব)

সূরা হুদ;(২৬তম পর্ব) ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে খোদোদ্রোহী শক্তির অনুপ্রেরণায় নিজের আদর্শের ব্যাপারে যেমন অমনোযোগী বা আপোষকামী হওয়া যাবে না তেমনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সীমালঙ্ঘন বা বাড়াবাড়িও করা যাবে না। প্রতিরোধ ও ভারসাম্যমূলক অবস্থান হচ্ছে ইসলামের শিক্ষা।

বিস্তারিত

আপনার মতামত

মন্তব্য নেই
*
*

আল হাসানাইন (আ.)