আল হাসানাইন (আ.)

কোরআনের তাফসীর

সূরা রা’দ; (১০ম পর্ব)

সূরা রা’দ; (১০ম পর্ব)

পবিত্র কুরআনে সাধারণত ঈমানের পাশাপাশি সৎকর্মের বিষয়টিকে স্থান দেয়া হয়েছে। বিষয়টি এমন যে ঈমান এবং সৎকর্ম যেন অবিচ্ছেদ্য। যারা ঈমানদার তাদের বৈশিষ্ট্য মুনাফিক এবং ফাসেকের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন ফাসেকের মনে আল্লাহর বিশ্বাস থাকলেও সে অনেক ক্ষেত্রে পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু মুনাফিক মন থেকে আল্লাহকে বিশ্বাস না করলেও জন সম্মুখে নিজেকে ঈমানদার বা মুসলমান হিসেবে প্রকাশ করে।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৯ম পর্ব)

সূরা রা’দ; (৯ম পর্ব) আসলে যারা জ্ঞানী এবং সত্য সন্ধানী তারা নবীদের জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং যে কোন মুজিজা দেখা মাত্রই সত্যকে গ্রহণ করে নেয় কিন্তু যারা হঠকারী এবং যারা একগুঁয়েমি স্বভাবের তারা মুজিজা বা অলৌকিক ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করলেও সত্যকে মেনে নিতে চায় না বরং আরো বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করতে থাকে। তারা পাপ এবং গোঁয়ার্তুমির কারণে এক ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত। ভালো কথা এবং ঐশী বাণী তাদের অন্তরে জ্বালার সৃষ্টি করে।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৮ম পর্ব)

সূরা রা’দ; (৮ম পর্ব) বিত্ত বৈভবের মালিক হওয়ার পর কেউ যেন আল্লাহর অনুগ্রহের কথা ভুলে না যায়। আবার অভাবে পড়লে যেন হতাশ হয়ে না পড়ি। এটা মনে রাখতে হবে যে দুনিয়া হচ্ছে পরীক্ষার জায়গা আর প্রকৃত পুরস্কার লাভের স্থান হচ্ছে আখেরাত।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৭ম পর্ব)

সূরা রা’দ; (৭ম পর্ব) মানুষের সেবা করা ছাড়া আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক করা যায় না। সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সচ্ছলদের দায়িত্ব রয়েছে। সে দিকে প্রতিটি মুসলমানের সচেতন থাকতে হবে।  

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৬ষ্ঠ পর্ব)

সূরা রা’দ; (৬ষ্ঠ পর্ব) মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ পরিমাপ করে শেষ করা যাবে না। তার দয়া ও অনুগ্রহ অবারিত। মানুষের প্রতি তাঁর কল্যাণের ধারা সবসময় চলমান। কে কতটুকু পেল বা গ্রহণ করতে পারল তা মানুষের নিজেস্ব ব্যাপার। যার যোগ্যতা ও ধারণ ক্ষমতা বেশি সে বেশী পাবে আর যার যোগ্যতা ও ধারণ ক্ষমতা কম সে কম পাবে এটাই স্বাভাবিক।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৫ম পর্ব)

সূরা রা’দ; (৫ম পর্ব) বিশ্ব জগতে মহান আল্লাহর পরাক্রম এবং স্রষ্টার প্রতি সকল সৃষ্টির নিরলস আনুগত্যের বর্ণনা দেয়ার পর এই আয়াতে সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেরদের বিভ্রান্তি সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, তারা বিপদাপদ এবং প্রয়োজনের সময় এমনসব জড় বস্তুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে যারা তাদের চেয়েও অক্ষম। যাদের কোন শক্তি বা সামর্থই নেই। তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির মত যে পানির কাছে পানি প্রার্থনা করে এবং পরিণতিতে পানি না পেয়ে তৃষ্ণার্ত থেকে কষ্ট পায়।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৪র্থ পর্ব)

সূরা রা’দ; (৪র্থ পর্ব) প্রকৃতিতে কোন কিছু সংঘটিত করার শক্তি বা সামর্থ মানুষের নেই, কিন্তু মানুষকে তার ভাগ্য গড়ার সামর্থ দেয়া হয়েছে। সেটি ব্যক্তিগত হোক কিংবা সামাজিক হোক, মানুষ তার ভবিষ্যত বিনির্মাণের ক্ষেত্রে সামর্থবান। এটা প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে, মানুষের ভাগ্য গড়ে দেয়ার জন্য আল্লাহপাক ফেরেশতা নিয়োগ করবেন। মানুষ যদি তার ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে সফলতা আনতে চায় তাহলে এজন্য তাকেই উদ্যোগী হতে হবে, নৈরাজ্য পরিহার করে সঠিক পথে চলার উদ্যোগ নিতে হবে এবং জুলুম-অত্যাচারের মূলোৎপাটন করে ন্যায়পরায়নতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অলৌকিকভাবে আদর্শ সমাজ বা আদর্শ রাষ্ট্র গড়ে উঠে না,এজন্য মানুষকেই সম্মিলিতভাবে সচেষ্ট হতে হবে।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (৩য় পর্ব)

সূরা রা’দ; (৩য় পর্ব) প্রত্যেক নবীর মুজিজা তার সময়ের সামাজিক প্রথা বা রীতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে। যেমন হযরত মুসা (আ.) এর সময় মিশরে জাদুর ব্যাপক প্রচলন ছিল। কাজেই হযরত মুসা (আ.) এর মুজিজাও ছিল অনুরূপ। তেমনিভাবে হযরত ঈসা (আ.) এর যুগে চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি সাধিত হয়েছিল, তাই হযরত ঈসা (আ.) এর মুজিজাও ছিল এর সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যে যুগে নব্যুয়ত লাভ করেন সে যুগে আরবে কাব্য ও সাহিত্য বেশ উৎকর্ষতা লাভ করেছিল। কাজেই বিশ্বনবীর ওপর যে মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ হয় তা সাহিত্যিক মানের দিক থেকে অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (২য় পর্ব)

সূরা রা’দ; (২য় পর্ব) পাপাচার এবং ঔদ্ধত্যের কারণে মহান আল্লাহ সাথে সাথেই মানুষকে শাস্তি দেন না, তিনি মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেন। মানুষ তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন।

বিস্তারিত

সূরা রা’দ; (১ম পর্ব)

সূরা রা’দ; (১ম পর্ব) সূরা রা'দ মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এই সূরায় মোট ৪৩টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় মূলত কুরআন শরীফের সত্যতা, তাওহীদ বা একত্ববাদ,রিসালাত এবং সৃষ্টি জগতের রহস্য ও প্রকৃতিতে বেঁধে দেয়া নিয়ম সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৩১তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৩১তম পর্ব) মানুষের প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন নবী রাসূলরা সত্য প্রচারের কাজে অনড় ও অবিচল ছিলেন, তারা কখনোই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। অবিশ্বাসী কাফেররা নবী রাসূলদেরকে বিদ্রুপ করে বলতো, যদি তাদের কথা সত্যিই হতো তাহলে এতদিনে ঐশী শাস্তি নেমে আসতো, আর আমরা সেই শাস্তিতে পুরোপুরি নাস্তানাবুদ হয়ে যেতাম।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (৩০তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (৩০তম পর্ব) ঈমানদার ব্যক্তিরা এই পৃথিবীতে কষ্ট ও সমস্যার মধ্যে জীবন যাপন করলেও পরকালে আল্লাহ পাক তাদেরকে তা পুষিয়ে দিবেন। কিন্তু পাপাচারীরা ইহজগতে যেমন শাস্তি ও লাঞ্ছনার শিকার হয় পরকালেও তারা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হবে।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৯তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৯তম পর্ব) আল্লাহ তালার কাছে অতীত বর্তমান ভবিষ্যত বলতে কিছু নেই, তিনি সব বিষয়েই জ্ঞান রাখেন। কোনো কিছুই তার অজানা নয়। নবী রাসূলগণকে আল্লাহতালাই অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন। নবী রাসূলদের অলৌকিক কর্ম এবং যাদুকরের যাদু এক নয়।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৮তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৮তম পর্ব) হযরত ইউসুফ (আ.) এভাবে স্ববিনয়ে আল্লাহর কছে দোয়া করতেন। তিনি প্রকৃতই একজন আত্মসমর্পণকারী ছিলেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌছার পরও তিনি এক মুহুর্তের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহের কথা ভুলেননি।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৭তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৭তম পর্ব) হযরত ইয়াকুব (আ.) এর এই ছেলেরাই একদিন রক্তমাখা জামা এনে বলেছিল ইউসুফকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে, আজ তারাই আবার হযরত ইউসুফের জামা এনে সুসংবাদ দিচ্ছে যে, তিনি শুধু বেঁচে আছেন তাই নয়, তিনি এখন মিশরের অত্যন্ত পরাক্রমশালী ব্যক্তিত্ব। আসলে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর কারো হাত নেই।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৬তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৬তম পর্ব) হযরত ইয়াকুব (আ.) নিজেও আল্লাহর নবী ছিলেন,সুস্থতার জন্য তার দোয়াই যথেষ্ট হতো কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি হযরত ইউসুফ (আ.) এর জামার স্পর্শে আরোগ্য লাভ করলেন। এ থেকে বোঝা যায় যে,নবী-রাসূল এবং ওলী-আউলিয়ারা নিজেরা নিজেরা যেমন মানুষের জন্য কল্যাণকর, তেমনি তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রও কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনতে পারে। কাজেই ওলি-আউলিয়াদের ব্যবহৃত কোনো জিনিস তাবার্‌রুক হিসেবে গ্রহণ করা অবৈধ কিছু নয়।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৫তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৫তম পর্ব) বৈমাত্রেয় ভাইদের কাছে এভাবে হযরত ইউসুফের পরিচয় প্রকাশ হয়ে গেল, তারা হযরত ইউসুফের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির কারণে বিস্মিত ও শঙ্কিত হয়ে পড়লো। হযরত ইউসুফ (আ.) তাদেরকে বোঝালেন, সবই আল্লাহর ইচ্ছা, তিনিই তাকে ও তার সহোদরকে এই মর্যাদায় ভূষিত করেছেন এবং সবকে পুনরায় একত্রিত হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৪তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৪তম পর্ব) হযরত ইউসুফ (আ.) মিশরের অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ভাইদের নিষ্ঠুর আচরণের প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তাই করলেন না। বরং তিনি অত্যন্ত বিনীতভাবে বৈমাত্রেয় ভাইদের অভাব অনটন এবং পরকালীন মুক্তির পথ প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিলেন। তাদেরকে অনুগ্রহ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন। এটাই ইসলামের শিক্ষা। এটাই নবী-রাসূলদের আদর্শ। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ কখনো নিতে হয় না।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২৩তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২৩তম পর্ব) নবী-রাসূলগণ যে কোনো সমস্যা ও বিপদে আল্লাহর ওপর নির্ভর করতেন, তার সাহায্য কামনা করতেন, সব কিছু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করতেন। যেমন-হযরত মুসা (আ.) অভাব অনটনের কথা আল্লাহর কাছে অভিযোগ করেছিলেন। হযরত ইয়াকুব (আ.) রোগ মুক্তির আবেদন করেছিলেন। হযরত ইয়াকুব (আ.)ও তেমনি অত্যধিক স্নেহভাজন শিশু পুত্রকে হারানোর বিষয়টি আল্লাহর ওপরই সোপর্দ করেছিলেন।

বিস্তারিত

সূরা ইউসুফ; (২২তম পর্ব)

সূরা ইউসুফ; (২২তম পর্ব) এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় হলো, বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা একদিন ইউসুফকে অপমানিত করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে কূপে ফেলেছিল। কিন্তু আজ এই ভাইয়েরা ইউসুফকে আজিজ বা 'মহামান্য রাজা' হিসেবে সম্বোধন করতে বাধ্য হলো। এটাই আল্লাহর ইচ্ছা, এটাই প্রকৃতিতে আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়ম। এই নিয়মেই জালেমের পতন ঘটে এবং মজলুমের বিজয় নিশ্চিত হয়।

বিস্তারিত

আপনার মতামত

মন্তব্য নেই
*
*

আল হাসানাইন (আ.)