আল মুরাজায়াত

আল মুরাজায়াত4%

আল মুরাজায়াত লেখক:
: আবুল কাসেম
প্রকাশক: এস. এম. আলীম রেজা ৯৩,আরামবাগ,ঢাকা।
বিভাগ: ইতিহাস

আল মুরাজায়াত
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 133 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 69327 / ডাউনলোড: 9341
সাইজ সাইজ সাইজ
আল মুরাজায়াত

আল মুরাজায়াত

লেখক:
প্রকাশক: এস. এম. আলীম রেজা ৯৩,আরামবাগ,ঢাকা।
বাংলা

1

2

3

ه

৯০। হারুন ইবনে সা দ আজালী কুফী

যাহাবী তাঁর নামের পাশে সাংকেতিকভাবে মুসলিম লিখেছেন,যেহেতু তিনি মুসলিমের রিজাল ও রাবীদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তাঁর চরিত্র বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু কট্টর রাফেযী ও অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী। আব্বাস ইবনে মুঈন হতে বলেছেন, হারুন শিয়া গালীদের (বাড়াবাড়ির আকীদা পোষণকারী) অন্তর্ভুক্ত। তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবু সাঈদ খুদরী হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে আবি হাফছ আত্তার,মাসউদী এবং হাসান ইবনে হাই তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতেম তাঁকে ত্রুটিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

৯১। হাশিম ইবনে বুরাইদ ইবনে যাইদ (আবু আলী কুফী)

যাহাবী তাঁর নামের পাশে সাংকেতিক আবু দাউদ ও নাসায়ী লিখেছেন,কারণ তিনি এ দুই সহীহর রিজালদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ইবনে মুঈনের সূত্রে তাঁর রাফেযী ও শিয়া হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বস্ত হবার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অতঃপর আহমাদ হতে তাঁর ত্রুটিহীনতার কথা বলেছেন। হাশিম যাইদ ইবনে আলী এবং মুসলিম বাতিন হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর পুত্র আলী ইবনে হাশিম ও খারিবী তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাশিম যে শিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এ সত্যটি আলী ইবনে হাশিমের পরিচিতি পর্বে আমরা বর্ণনা করেছি।

৯২। হুবাইরা ইবনে বারীম হিমায়ারী

তিনি হযরত আলী (আ.)-এর সাহাবীদের অন্তর্গত। আলীর প্রতি ভালবাসা ও তাঁর বেলায়েতের স্বীকৃতিতে তিনি হারিসের মত। যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল গ্রন্থে তাঁর নামের পাশে সুনানের লেখকগণের নাম সাংকেতিক চিহ্নে লিখেছেন,কারণ সুনানসমূহের সনদে রাবীদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। অতঃপর আহমাদের সূত্রে বলেছেন, তিনি ত্রুটিহীন এবং হারিস হতে আমাদের নিকট অধিকতর প্রিয়।

যাহাবী আরো বলেছেন, ইবনে খাররাশ বলেছেন যে,তিনি দুর্বল। সিফ্ফিনের যুদ্ধে তিনি যুদ্ধাহতদের হত্যা করেন। জাওযাজানী বলেছেন, তিনি মুখতার সাকাফীর পক্ষে খাযেরের যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।

শাহরেস্তানী তাঁর মিলাল ওয়ান নিহাল -এ তাঁকে শিয়া রিজালদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন এবং তিনি হযরত আলী হতে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা সুনান গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আবু ইসহাক ও আবু ফাখিতাহ্ তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৯৩। হিশাম ইবনে যিয়াদ (আবু মাকদাম বাসরী)

শাহরেস্তানী তাঁর মিলাল ওয়ান নিহাল -এ তাঁকে শিয়া রিজালদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল -এ নামানুসারে এবং কুনিয়ার স্থানেهاء বর্ণের স্থলে তাঁর পরিচয় দান করেছেন। কুনিয়ার আলোচনায় তাঁর নামের পাশে(ت ق) লিখেছেন,কারণ সুনান লেখকগণ তাঁর ওপর নির্ভর করতেন।

যে সকল হাদীস তিনি হাসান ও কারযী হতে বর্ণনা করেছেন তা সহীহ তিরমিযীতে দেখতে পারেন। শাইবান ইবনে ফারুখ,কাওয়ারিরী এবং অন্যান্যরা তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৯৪। হিশাম ইবনে আম্মার ইবনে নুসাইর ইবনে মাইসারাহ আবুল ওয়ালিদ (জা ফারী দামেস্কী)

তিনি বুখারীর সহীহতে তাঁর উস্তাদ। ইবনে কুতাইবা তাঁকে শিয়া রিজালের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তিনি তাঁর মা আরিফ গ্রন্থের আল ফিরাক অধ্যায়ে শিয়া রিজালদের নামের তালিকায় তাঁর নাম এনেছেন।

যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল গ্রন্থে তাঁকে ইমাম,খাতীব,ক্বারী,মুহাদ্দিস,দামেস্কের আলেম,সত্যবাদী ও অধিক হাদীস বর্ণনাকারী বলে উল্লেখ করে বলেছেন তিনি এমন অনেক হাদীস নকল করেছেন যা অনেকেরই পছন্দ নয়।

বুখারী যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত ও দরিদ্রকে সময় দেয় সে সম্পর্কিত হাদীসের এবং সঠিক

ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসায় পদ্ধতি সম্পর্কিত আলোচনা অধ্যায়ে তাঁর হতে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করেছেন। বিশেষজ্ঞ পণ্ডিতগণ এ বিষয়ে অধিকতর অবগত আছেন। তাঁর বর্ণিত অন্যান্য হাদীস নবী করীম (সা.)-এর সাহাবীদের ফাজায়েল,পানীয়সমূহের আলোচনায় এবং মাগাজী বা যুদ্ধসমূহ নামক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি ইয়াহিয়া ইবনে হামযাহ্,সাদাকা ইবনে খালিদ,আবদুল হামিদ ইবনে আবিল ঈশরীন ও অন্যান্যদের হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল গ্রন্থে বলেছেন, অসংখ্য লোক কোরআন ও হাদীস শিক্ষার জন্য তাঁর নিকট যেত ও তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করত।

ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্যতম। হিশাম আবু লাহিয়া হতে হাদীস বর্ণনার অনুমতিপ্রাপ্ত। আবদান বলেছেন, তৎকালীন সময়ে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। কেউ বলেছেন, হিশাম বাগ্মী,ভাষা অলংকারশাস্ত্রবিদ এবং জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন।

আমার মতে তিনি অন্যান্য শিয়াদের মত কোরআনের শব্দসমূহ আল্লাহর সৃষ্টি বলে বিশ্বাস করতেন অর্থাৎ বর্তমানে কোরআনে যে বর্ণ ও ধ্বনি রয়েছে সেভাবেই রাসূল (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। মিযানুল ই তিদাল গ্রন্থে হিশামের পরিচিতি পর্বে বর্ণনা করা হয়েছে- আহমাদ তাঁর এ বিশ্বাসের কথা শুনে বলেন, আমি তাকে অজ্ঞ ও মূর্খ পেয়েছি। আল্লাহ্ তাকে হত্যা করুন। আহমাদ হিশামের লিখিত একটি গ্রন্থের প্রথমে দেখলেন লেখা রয়েছে-

الحمد لله الّذي تجلّى لخلقه بخلقه

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে তাঁর সৃষ্টির কাছে প্রকাশিত করেছেন।

আহমাদ তা দেখে রাগের প্রচণ্ডতায় একবার উঠছিলেন ও একবার বসছিলেন এবং ক্রোধের সাথে বললেন যারা হিশামের পেছনে নামায পড়েছেন তাঁরা যেন তা পুনরায় আদায় করেন।

হিশামের বক্তব্যতে আল্লাহর পবিত্রতা,তাঁর সৃষ্টিতে তাঁর নিদর্শনের প্রমাণ,তাঁর পবিত্রতার প্রকৃতি ও মর্যাদা যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা দৃষ্টিমান ব্যক্তিদের নিকট গোপন নয়। কারণ তাঁর বক্তব্য এই কথার সমার্থক যে,প্রতিটি বস্তুতেই আল্লাহর নিদর্শন রয়েছে। অবশ্যই তাঁর কথা এ থেকেও পরিষ্কার ও বোধগম্য। কিন্তু আলেমগণ নিজের ইচ্ছামত একজন অপরের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

হিশাম ১৫৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন ও ২৪৫ হিজরীর মুহররম মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ্ তাঁকে রহম করুন।

৯৫। হাশিম ইবনে বাশির ইবনে কাসিম ইবনে দীনার সালামী (আবু মুয়াবিয়া,ওয়াসেতী)

তিনি প্রকৃতপক্ষে বাল্খের লোক,কারণ তাঁর প্রপিতা কাসিম ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ওয়াসেত এসেছিলেন।

ইবনে কুতাইবা তাঁর মা আরিফ গ্রন্থে তাঁকে শিয়া রিজালের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং তাঁর পর্যায়ের অনেকেরই শিক্ষক। যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল গ্রন্থে তাঁর নামের পাশে সিহাহ সিত্তাহর গ্রন্থকার কর্তৃক তাঁর হাদীস হতে যুক্তি প্রদর্শনের সাংকেতিক চি হ্ন লিখেছেন এবং তাঁকে হাফিয বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে তিনি সেসব আলেমের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা যুহরী ও হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান হতে হাদীস শ্রবণ করেছেন।

ইয়াহিয়া ইবনে কাত্তান,আহমাদ,ইয়াকুব দাউরাকী এবং অনেকেই তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। যে সকল হাদীস তিনি হামিদ তাভীল,ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ,আবু ইসহাক শায়বানী ও অন্যদের হতে বর্ণনা করেছেন তা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আপনি দেখতে পারেন।

বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনানুসারে উমর,নাকেদ,আমর ইবনে যুরারাহ্ এবং সাঈদ ইবনে সুলাইমান তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া বুখারীতে আমর ইবনে আওফ,সা দ ইবনে নাদর,মুহাম্মদ ইবনে নিবহান,আলী ইবনে মাদিনী ও কুতাইবা তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ মুসলিমে আহমাদ ইবনে হাম্বল,শুরাইহ্,ইয়াকুব দাউরাকী,আবদুল্লাহ্ ইবনে মুতী,ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া,সাঈদ ইবনে মানসুর,ইবনে আবি শাইবা,ইসমাঈল ইবনে সালিম,মুহাম্মদ ইবনে সাবাহ,দাউদ ইবনে রশিদ,আহমাদ ইবনে মানী,ইয়াহিয়া ইবনে আইউব,যুহাইর ইবনে হারব,উসমান ইবনে আবি শাইবা,আলী ইবনে হাজার এবং ইয়াযীদ ইবনে হারুন তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি ১৮৩ হিজরীতে ৭৯ বছর বয়সে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ্ তাঁকে রহম করুন।

و

৯৬। ওয়াকী ইবনে জাররাহ্ ইবনে মালিহ ইবনে আদী (তাঁর কুনিয়াত তাঁর পুত্র সুফিয়ান রাওয়াসীর নামানুসারে আবু সুফিয়ান)

তিনি কাইস গাইলান গোত্রের লোক। ইবনে কুতাইবা তাঁর মা আরিফ গ্রন্থে শিয়া রিজালের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। ইবনে মাদিনী তাঁর তাহ্যীব গ্রন্থে তাঁর শিয়া হবার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়ার এ বিষয়ে কোন সন্দেহ ছিল না যে,তিনি রাফেযী। একদিন ইয়াহিয়া ইবনে মুঈন মারওয়ানের নিকট বেশ কিছু লিখিত বস্তু দেখলেন যার প্রতিটি লেখা ছিল অমুক এরূপ,অমুক এরূপ,সেখানে ওয়াকীর নামও লিখা ছিল এবং তাতে তাঁকে রাফেযী বলে সম্বোধন করা হয়েছে। ইবনে মুঈন তাঁকে বললেন, ওয়াকী তোমার চেয়ে উত্তম। সে শুনে বলল, হ্যাঁ। ওয়াকী একথা শুনে বললেন, ইয়াহিয়া আমাদের বন্ধু।

আহমাদ ইবনে হাম্বলকে প্রশ্ন করা হলো, যদি আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এবং ওয়াকী কোন বিষয়ে দ্বৈতমত পোষণ করেন তবে কার কথাকে গ্রহণ করবেন? তিনি যে দৃষ্টিকোণ থেকে আবদুর রহমানকে দেখতেন সে দৃষ্টিতে বললেন, আবদুর রহমানকে। কারণ আবদুর রহমানের দৃষ্টিতে পূর্ববর্তীগণ ত্রুটিমুক্ত,ওয়াকীর দৃষ্টিতে নন।

এ কথার সপক্ষে দলিল হলো যাহাবীর মিযান -এ হাসান ইবনে সালিহের পরিচিতি পর্বে ওয়াকীর যে বক্তব্য তিনি এনেছেন। ওয়াকী বলেছেন, হাসান ইবনে সালিহ আমার নেতা ও পথ প্রদর্শক। তাঁকে বলা হলো, হাসান হযরত উসমানের জন্য দোয়া করেন না। ওয়াকী বললেন, তুমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের ওপর দরূদ পড়? এখানে ওয়াকী হযরত উসমানকে হাজ্জাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উপরোক্ত বিষয়গুলো যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল -এ এনেছেন। সিহাহ সিত্তাহর হাদীসবিদগণ তাঁর হাদীসসমূহ যুক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যে সকল হাদীস তিনি আ মাশ,সাওরী,শো বা,ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ এবং আলী ইবনে মোবারক হতে বর্ণনা করেছেন তা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। এ দুই হাদীসগ্রন্থেই ইসহাক হানযালী এবং মুহাম্মদ ইবনে নুমাইর তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বুখারীর বর্ণনামতে,আবদুল্লাহ্ ইবনে হামিদী,মুহাম্মদ ইবনে সালাম,ইয়াহিয়া ইবনে জা ফর ইবনে আ য়ুন,ইয়াহিয়া ইবনে মূসা,মুহাম্মদ ইবনে মাকাতিল তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের মতে,যুহাইর,ইবনে আবি শাইবা,আবু কুরাইব,আবু সাঈদ আশাজ,নাছর ইবনে আলী,সাঈদ ইবনে আযহার,ইবনে আবি উমর,আলী ইবনে খাশরাম,উসমান ইবনে আবি শাইবা এবং কুতাইবা ইবনে সাঈদ তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি ১৯৭ হিজরীর মুহররম মাসে হজ্ব হতে ফেরার পথে ৬৮ বছর বয়সে ফাইদ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।

ي

৯৭। ইয়াহিয়া ইবনে জাযযার আরানী কুফী (আমীরুল মুমিনীন আলী [আঃ]-এর সাহাবী)

যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল গ্রন্থে তাঁর নামের পাশে সহীহ মুসলিম ও সুনান লেখকগণের নাম সাংকেতিকভাবে লিখেছেন তাঁদের তাঁর হাদীসসমূহ দলিল হিসেবে ব্যবহারের কারণে। তিনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত বলেছেন।

হাকাম ইবনে উতাইবার সূত্রে তিনি বলেছেন, ইয়াহিয়া ইবনে জাযযার শিয়া বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতেন।

ইবনে সা দ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ২০৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন যে,ইয়াহিয়া ইবনে জাযযার শিয়া ছিলেন এবং তাঁর কথায় এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি ছিল। তিনি তাঁকে বিশ্বস্ত বলেছেন ও তাঁর হাদীস নকল করেছেন। আমার জানা মতে,সহীহ মুসলিমে নামাযের অধ্যায়ে তাঁর হাদীস রয়েছে। তাছাড়া ঈমান অধ্যায়েও আবদুর রহমান ইবনে আবি লাইলা হতে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকাম ইবনে উতাইবা ও আরানী এবং অন্যরা সহীহ মুসলিমে তাঁর হতে হাদীস নকল করেছেন।

৯৮। ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ কাত্তান (তাঁর কুনিয়াত আবু সাঈদ,বনি তামীমের দাস,বসরার অধিবাসী এবং তাঁর সময়ের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত)

ইবনে কুতাইবা তাঁর মা আরিফ গ্রন্থে তাঁকে শিয়া রিজালের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। সিহাহ সিত্তাহর গ্রন্থকারগণ ও অন্যান্যরা তাঁর হাদীস প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং হামিদ তাভীল,হিশাম ইবনে উরওয়া,ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ আনসারী এবং অন্যদের হতে তিনি যে সকল হাদীস বর্ণনা করেছেন তা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। তাঁদের দু জনের মতেই মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না ও বানদার তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

বুখারীর বর্ণনানুসারে মুসাদ্দিদ,আলী ইবনে মাদিনী ও বায়ান ইবনে আমর এবং মুসলিমের বর্ণনানুসারে মুহাম্মদ ইবনে হাতেম,মুহাম্মদ ইবনে খাল্লাদ বাহেলী,আবু কামেল,ফুযাইল ইবনে হুসাইন জাহদারী,মুহাম্মদ মোকাদ্দামী,আবদুল্লাহ্ ইবনে হাশিম আবু বকর ইবনে আবি শাইবা,আবদুল্লাহ্ ইবনে সাঈদ,আহমাদ ইবনে হাম্বল,আবদুল্লাহ্ কাওয়ারিরী,ইয়াকুব দারুকী,আহমাদ ইবনে আবদুহু,আমর ইবনে আলী এবং আবদুর রহমান ইবনে বাশির তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৯৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

৯৯। ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদ কুফী (কুনিয়াত আবু আবদুল্লাহ্,বনি হাশিমের দাস)

যাহাবী তাঁর মিযানুল ই তিদাল -এ সাংকেতিকভাবে মুসলিম ও সুনানে আরবাআহর নাম তাঁর নামের পাশে লিখেছেন। তাঁরা তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু ফুযাইল হতে বর্ণনা করেছেন। ইয়াযীদ ইবনে আবি যিয়াদ শিয়াদের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।

তিনি আরো স্বীকার করেছেন ইয়াযীদ কুফার আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি আবু বারযা বা আবু বারদা হতে হাদীস নকল করেছেন যে,আবু বারদা বলেছেন, আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম তখন গান বাজনার শব্দ ভেসে আসল,পরে বোঝা গেল মুয়াবিয়া ও আমর ইবনে আস এর আয়োজন করেছে। নবী (সা.) বললেন : হে আল্লাহ্! তাদের কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন করো ও আগুনের দিকে পরিচালনা করো। (এ হাদীস বর্ণনার কারণে অনেকেই এটি তাঁর ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ওপর জুলুম করেছে।)

আবদুর রহমান ইবনে আবি লাইলী হতে তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহ মুসলিম তাঁর সহীহতে আত্ইমাহ্ অধ্যায় হতে উদ্ধৃত করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা তাঁর হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি ১৩৬ হিজরীতে ৯০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ্ তাঁকে রহম করুন।

১০০। আবু আবদুল্লাহ্ জাদলী

যাহাবী কুনিয়াসমূহের আলোচনায় তাঁর নামের পাশে(د ت) লিখেছেন,কারণ তিনি আবু দাউদ ও তিরমিযীর রিজালদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর তাঁকে হিংসুক শিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জাওযাজানী হতে বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ্ মুখতারের বাহিনীর পতাকাধারী ছিলেন এবং আহমাদের সূত্রে তাঁকে বিশ্বস্ত বলেছেন।

শাহরেস্তানী তাঁর আল মিলাল ওয়ান নিহাল -এ তাঁকে শিয়া রিজালের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন এবং ইবনে কুতাইবা তাঁর মা আরিফ গ্রন্থে তাঁকে রাফেযী বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহ সহীহ তিরমিযী,আবু দাউদ,মুসনাদ ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে বিদ্যমান রয়েছে।

ইবনে সা দ তাঁর তাবাকাত গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৫৯ পৃষ্ঠায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, তিনি কট্টর শিয়া ও এ আকীদায় অটল ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে মনে করা হয় মুখতারের বিশেষ সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে ৮০০ ব্যক্তির যে দলটি আবদুল্লাহ্ ইবনে যুবাইরের সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি তার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে যুবাইর যখন বনি হাশিম ও ইবনে হানাফিয়াকে গৃহবন্দী করে চতুর্দিকে আগুন জ্বালিয়ে ভীতির সঞ্চার করে তাদের হতে বাইয়াত গ্রহণ করার চেষ্টা করে আবু আবদুল্লাহ্ জাদলী এ অবস্থাতে তাঁদের রক্ষা করেন। আল্লাহ্ নবী পরিবারের পক্ষ হতে তাঁর কর্মের পুরস্কার দান করুন।

এই সংক্ষিপ্ত সময়ে যে একশ তাকওয়া সম্পন্ন,শক্তিশালী,সম্ভ্রান্ত ও প্রসিদ্ধ শিয়া ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করলাম তাঁদের শেষ ব্যক্তি হলেন আবু আবদুল্লাহ্ জাদলী। তাঁরা আহলে সুন্নাহর জন্য নিদর্শন ও দলিল,তাঁরা উম্মতের ইলমের পাত্র যাঁদের মাধ্যমে নবুওয়াত সংরক্ষিত হয়েছে এবং তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ সিহাহ্,মুসনাদ এবং সুনান গ্রন্থগুলোতে স্থান পেয়েছে। তাঁদের পূর্ণ নাম উল্লেখ করে আহলে সুন্নাহর আলেমদের মতে যে তাঁরা শিয়া ছিলেন এতদ্সত্ত্বেও তাঁরা (আহলে সুন্নাহর আলেমরা) তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যবহার করতেন তা বর্ণনা করেছি। যদিও তাঁরা নিজস্ব মত ও নিয়মানুযায়ী চলতেন তদুপরি তাঁদের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিলেন। সুতরাং আমার মনে হয় যাঁরা এ কথা বলেন,আহলে সুন্নাহ্ শিয়া রিজালদের হাদীস গ্রহণ করেন না ও তাঁদের হাদীস দলিল ও যুক্তি হিসেবে পেশ করেন না এমন ব্যক্তিবর্গ নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। তাঁরা খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন আহলে সুন্নাহর হাদীসবিদগণের নিকট কোন হাদীস গ্রহণের মানদণ্ড শিয়া ও সুন্নী হওয়া নয়,বরং তাঁদের সত্যবাদিতা ও আমানতদারীই। যদি শর্ত এটিই হয়,শিয়া সূত্র হতে বর্ণিত হাদীস সম্পূর্ণ বর্জনীয় তবে নবুওয়াতের চি‎‎ হ্ন সম্পূর্ণরূপে মুছে যাবে। যেমনটি যাহাবী তাঁর মিযান গ্রন্থে আবান বিন তাগলিবের পরিচিতি পর্বে স্বীকার করেছেন। মহান আল্লাহ্ সত্যকে আপনার মাধ্যমে সাহায্য করুন। আপনি জানেন,প্রাচীন শিয়াদের মধ্যে যাঁদের আমি উল্লেখ করেছি তাঁদের বাইরে অনেকেই রয়েছেন আহলে সুন্নাহর আলেমগণ যাঁদের হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করতেন। তাঁদের সংখ্যা যেমন অধিক তেমনি তাঁদের মর্যাদা ও হাদীসের আধিক্য সনদের মূল্যের দিক থেকেও সমধিক। তাঁদের জ্ঞান,সময়ের দিক হতে অগ্রগামিতা ও শিয়া বিষয়ে দৃঢ়তাও লক্ষণীয় । মহানবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে এ ধরনের ব্যক্তিত্বের নামের তালিকা ও পরিচয় আপনার অবগতির জন্য আমাদের ফুসূলুল মুহিম্মা গ্রন্থে এনেছি। এছাড়া তাবেয়ীদের মধ্যকার শিয়া আলেমদের পরিচয়ও আমরা সেখানে দিয়েছি। তাঁদের সকলেই হাফিয,বিশ্বস্ত,নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য। তাঁদের অনেকেই আলী (আ.)-এর সহযোগী হয়ে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন,কেউ জঙ্গে জামালে,কেউ সিফ্ফিনে,কেউ নাহরাওয়ানে,কেউবা বুসর ইবনে আরতাতের বিরুদ্ধে ইয়েমেন ও হেজাজের যুদ্ধে এবং মুয়াবিয়ার পক্ষ হতে বসরায় সৃষ্ট গোলযোগে২২১ শাহাদাত বরণ করেছেন। আবার কেউ কেউ বেহেশতের যুবকদের নেতা ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর সঙ্গে কারবালায় এবং তাঁর নাতী যাইদ ইবনে আলীর সঙ্গে কুফায় শহীদ হয়েছেন এবং তাঁরা অপমানকে সহ্য করেন নি বরং ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর পথে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। অনেকেই অত্যাচারিত হয়ে হিজরত করতে বা ভয়-ভীতির কারণে ঈমানকে গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছেন,যেমন আহনাফ ইবনে কাইস,আসবাগ ইবনে নুবাতাহ্ এবং ইয়াহিয়া ইবনে ইয়ামুর যিনি আরবী হরফে নোকতা চি হ্ন সংযোজন করেন। তন্মধ্যে খালিল বিন আহমদ ফারায়েযী যিনি লুগাত বা অভিধানশাস্ত্র এবং স্বরচিহ্নের প্রবর্তক এবং মায়াজ ইবনে মুসলিম হাররা যিনি ইলমে ছারফের প্রবক্তা ও এ ধরনের আরো অনেক প্রবক্তা রয়েছেন যাঁদের নামের তালিকা দিতে গেলে মোটা একটি গ্রন্থ সৃষ্টি হবে। যা হোক নাসেবীদের (আহলে বাইত বিদ্বেষী) মধ্যে যারা তাঁদের প্রতি আক্রমণ করেছে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণের নামে দুর্বল বলার চেষ্টা করেছে ও তাঁদের হাদীস গ্রহণে অনীহা দেখিয়েছে তাদের কথা বাদ দিন।

আহলে বাইতের অনুসারীদের মধ্যে এরূপ শত সহস্র প্রতিষ্ঠিত আলেম ও হাফিয ছিলেন যাঁদেরকে আহলে সুন্নাহর আলেমরা উপেক্ষা করেছেন। কিন্তু শিয়া আলেমগণ তাঁদের পরিচয় ও তালিকা প্রকাশ করে তাঁদের অবদানকে বিভিন্ন গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন ও ইসলামের চিরায়ত সত্য ও সহজ শরীয়তের প্রসারে তাঁদের ভূমিকাকে তুলে ধরেছেন যাতে সত্যান্বেষীরা তাঁদের সম্পর্কে জানতে পারে। আপনি তা অধ্যয়নে তাঁদের সততা,আমানতদারিতা,দুনিয়াবিমুখতা,নিষ্ঠা,খোদাভীতি (তাকওয়া) ও ইবাদতের নমুনা ও আদর্শ খুঁজে পাবেন। আরো বুঝতে পারবেন তাঁরা আল্লাহ্,তাঁর রাসূল (সা.),পবিত্র কোরআন ও ইমামগণের বাণীকে কিরূপে সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তাঁর বরকতের দ্বারকে তাঁদের মাধ্যমেই আমাদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। তিনি আরহামুর রাহিমীন।

ওয়াসসালাম

দশম পত্র

১৯ জিলক্বদ ১৩২৯ হিঃ

আরো কয়েকটি হাদীস

যদি আমার পত্রটি আগ্রহ নিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে এ জন্য প্রস্তুত করেছেন। আপনার পত্র দিনে দিনে আমার আকাঙ্ক্ষাকে লক্ষ্যে নিয়ে পৌঁছাচ্ছে এবং আমার কর্মকাণ্ডকে সফলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যে ব্যক্তি পবিত্র নিয়ত ও অন্তর,সুন্দর চরিত্র,বিনয়,সৌজন্যবোধ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার অধিকারী,জ্ঞানের মুকুট তার মাথায়ই শোভা পাওয়া স্বাভাবিক। যে সহনশীলতার মাল্য পরিধান করেছে তার কথা ও লেখনীতেই সত্য প্রতিমূর্ত হয় এবং সত্যপরায়ণতা ও সুবিচার তার মুখেই প্রতিভাত হয়।

আমাকে আরো অধিক জানাতে বলে আপনার নির্দেশ পালনে ও কৃতজ্ঞতাবোধে আবদ্ধ হতে বাধ্য করেছেন। ইতোপূর্বে এর চেয়ে অধিক অনুগ্রহ ও সৌজন্যের সন্ধান আমি পাই নি। আল্লাহর শপথ,অবশ্য অবশ্যই আপনার দৃষ্টিকে সমুজ্জ্বল করবো। তবে শুনুন।

১। তাবরানী তাঁর কাবীর গ্রন্থে এবং রাফেয়ী তাঁর মুসনাদে অবিচ্ছিন্ন সনদে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি এজন্য আনন্দিত যে,সে চায় আমার মত জীবন যাপন করতে,আমার মত মৃত্যুবরণ করতে ও আমার প্রতিপালকের চিরস্থায়ী বেহেশতে বাস করতে সে যেন আলীকে ভালবাসে এবং আলীকেই তার অভিভাবক বলে জানে,সে যেন আলীর বন্ধুকেও বন্ধু বলে জানে ও আমার পর আমার আহলে বাইতের অনুসরণ করে। কারণ তারা আমার সর্বাধিক আপন এবং তারা আমার অস্তিত্ব হতে অস্তিত্ব লাভ করেছে,আমার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থেকেই তারা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা লাভ করেছে। ধ্বংস আমার সেই উম্মতের জন্য যারা তাদের (আহলে বাইতের) শ্রেষ্ঠত্বকে মিথ্যা মনে করে এবং আমার ও তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে কর্তন করে। আল্লাহ্ আমার শাফায়াতকে তাদের জন্য হারাম করুন। ৩৪

২। মুতির,বাওয়ারদী,ইবনে জারির,ইবনে শাহীন এবং ইবনে মানদুহ ইসহাকের মাধ্যমে যিয়াদ ইবনে মুতরিফ হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলকে বলতে শুনেছি : যে কেউ পছন্দ করে আমার মত জীবন যাপন ও মৃত্যুবরণ করতে ও আমাকে যে চিরস্থায়ী জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে সেখানে প্রবেশ করতে,সে যেন আলী ও তার বংশধরদের ভালবাসে কারণ তারা কখনোই তোমাদের সত্য ও হেদায়েতের পথ হতে বিপথে পরিচালনা করবে না এবং তোমাদের গোমরাহীতেও নিক্ষেপ করবে না। ৩৫

৩। এরূপ আরেকটি হাদীস হলো যায়িদ ইবনে আরকাম হতে বর্ণিত হাদীস যেখানে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে কেউ আমার মত জীবন যাপন ও মৃত্যুবরণ করতে চায়,আমার প্রভুর প্রতিশ্রুত চিরস্থায়ী বেহেশতে প্রবেশ করতে চায়,সে যেন অবশ্যই আলীকে ভালবাসে,কেননা আলী কখনোই তাকে হেদায়েত থেকে বিচ্যুত করবে না এবং গোমরাহও করবে না। ৩৬

৪। তেমনি হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাসূল (সা.) থেকে বলেছেন, যে কেউ আমার প্রতি ঈমান এনেছে ও আমাকে সত্যায়ন করেছে তাদেরকে আমি আলী ইবনে আবি তালিবের বেলায়েতকে মেনে নেয়ার সুপারিশ করছি (নির্দেশ দিচ্ছি),যে ব্যক্তি আলীকে নিজের আভিভাবক মেনেছে,সে যেন আমাকেই তার আভিভাবক জেনেছে এবং যে আমাকে অভিভাবক জেনেছে সে আল্লাহকে নিজের অভিভাবক মনোনীত করেছে। যে ব্যক্তি আলীকে ভালবাসে সে আমাকেই ভালবেসেছে,আর যে আমাকে ভালবেসেছে সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকেই ভালবেসেছে। যে কেউ আলীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করে। আর যে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে অবশ্যই তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছে। ৩৭

৫। অন্যত্র হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাসূল থেকে বর্ণনা করেছেন, হে প্রতিপালক! তুমি সাক্ষী থাকো,এ উম্মতকে আমি জানিয়েছি যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান এনেছে ও আমাকে সত্য প্রতিপন্ন করেছে সে যেন আলী ইবনে আবি তালিবের বেলায়েত হতে হাত সঙ্কুচিত না করে,কারণ আলীর বেলায়েত আমারই বেলায়েত আর আমার বেলায়েত আল্লাহরই বেলায়েত। ৩৮

৬। রাসূল (সা.) তাঁর এক খুতবায় বলেন, হে লোকসকল! মর্যাদা,সম্মান ও অভিভাবকত্বের পদমর্যাদা রাসূল (সা.) ও তার বংশধরদের জন্য। সুতরাং অন্যদের অন্যায় দাবী ও বক্তব্য যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে। ৩৯

৭। অন্যত্র রাসূল বলেছেন, আমার উম্মতের প্রতিটি প্রজন্মের সময়ই আমার বংশধর হতে কোন না কোন সুবিচারক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি থাকবে। তারা বিভ্রান্ত ব্যক্তিদের সৃষ্ট বিকৃত চিন্তা ও দীন ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের অপনোদন করবে এবং দীন হতে অজ্ঞ ব্যক্তিদের ভ্রান্ত ব্যাখ্যাসমূহকে দূরীভূত করবে। জেনে রাখো,তোমাদের ইমাম ও নেতৃবর্গ তোমাদের প্রতিপালকের নিকট আদর্শ ব্যক্তি,তাই কাকে নিজের ইমাম ও নেতা মনোনীত করে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে সে বিষয়ে চিন্তা করো। ৪০

৮। রাসূল (সা.) বলেছেন, আমার আহলে বাইতের ইমামগণ হতে পেছনে পড়ো না,তাদের বিষয়ে গাফেল ও অসচেতন হয়ো না তাহলে তোমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। তাদেরকে কোন বিষয়ে শিক্ষাদান করতে যেও না,তারা এ বিষয়ে তোমাদের হতে অধিকতর জ্ঞাত। ৪১

৯। অন্যত্র রাসূল বলেছেন, আমার আহলে বাইতকে দেহের মধ্যে মস্তকের ন্যায় ও মস্তকের মধ্যে চোখের ন্যায় মনে কর। জেনে রেখো,চক্ষু ব্যতীত মস্তক হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারে না। ৪২

১০। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, আমার আহলে বাইতের ভালবাসার প্রতি অনুগত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হও। কারণ যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবে যে,সে আমাদের ভালবাসে তাহলে সে আমাদের শাফায়াতের মাধ্যমে বেহেশতে প্রবেশ করবে। যাঁর হাতের মুঠোয় আমার জীবন আবদ্ধ সেই প্রভুর শপথ,আমাদের অধিকারের প্রতি সচেতনতা ও সম্মান প্রদর্শন ব্যতীত কোন সৎ কর্মই ফলদান করবে না। ৪৩

১১। রাসূল (সা.) বলেছেন, আমার আহলে বাইতের প্রকৃত পরিচয় জানা জাহান্নামের অগ্নি হতে মুক্তির উপায়। আমার বংশধরদের প্রতি প্রেম ও ভালবাসা পুলসিরাত অতিক্রমের অনুমতিপত্র ও রক্ষাকবচ এবং তাদের বেলায়েত আল্লাহর আজাব হতে নিরাপত্তা দানকারী। ৪৪

১২। রাসূল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষকে চারটি প্রশ্নের জবাব দানের পূর্বে কোথাও যেতে দেয়া হবে না (১) তার জীবনকে কোন্ পথে ব্যয় করেছে (২) তার দেহকে কোন্ কাজে নিয়োজিত রেখেছে (৩) অর্থকে কোন্ পথে ব্যয় করেছে অর্থাৎ কোথা হতে আয় করেছে ও কোথায় ব্যয় করেছে (৪) আমার আহলে বাইতের প্রতি কিরূপ ভালবাসা পোষণ করেছে? ৪৫ (*১২)

১৩। অন্যত্র রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি কেউ তার সমগ্র জীবন মাকামে ইবরাহীমে দাঁড়িয়ে নামায পড়ে ও রোযা রাখে কিন্তু আমার আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

১৪। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাসূলের বংশধরদের প্রতি ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে সে শহীদের মৃত্যুবরণ করেছে। জেনে রাখো,রাসূলের আহলে বাইতের ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণকারী ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছে,রাসূলের আহলে বাইতের ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণকারী তওবাকারী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। জেনে রাখো,যারা রাসূলের আহলে বাইতের ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে,ঈমান নিয়ে অর্থাৎ মুমিন হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে এবং মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে বেহেশতের সুসংবাদ দান করেছে এবং কবরেও মুনকার-নাকীর তাকে এ সুসংবাদ দান করবে। যে কেউ আমার আহলে বাইতকে ভালবেসে দুনিয়া থেকে চলে গেছে,সে নববধূ যেরূপ স্বামীর ঘরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে ও সসম্মানে প্রবেশ করে সেরূপ বেহেশতে প্রবেশ করবে। আমার আহলে বাইতের ভালবাসা নিয়ে মৃত্যুবরণকারীর জন্য কবর হতে দু টি দরজা বেহেশতের দিকে উন্মুক্ত করা হবে এবং আল্লাহ্ তার কবরকে ফেরেশতাদের জন্য যিয়ারতের স্থানে পরিণত করবেন। জেনে রাখো,আমার আহলে বাইতের ভালবাসাসহ প্রাণদানকারী ব্যক্তি রাসূলের দীনের পথে ও সুন্নাহর ওপর মৃত্যুবরণ করেছে এবং এও জেনে রাখো,যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে তার কপালে কিয়ামতের দিন লিখা থাকবে আল্লাহর রহমত হতে বঞ্চিত ৪৬

এ বক্তব্যগুলোর মাধ্যমে এক মহাসত্যকে প্রকাশ করে রাসূল (সা.) চেয়েছিলেন প্রবৃত্তি ও বাসনার কুপ্রভাবকে এদিকে (সত্যের দিকে) ফিরিয়ে আনতে। এ সকল হাদীস বর্ণনাসূত্রে মুতাওয়াতির ও বহুল বর্ণিত বিশেষত আহলে বাইতের পক্ষ থেকে তা নির্ভরযোগ্য ও সহীহ। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে,তাঁরা যদি আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শন না হতেন তাহলে এই মর্যাদা ও সম্মান লাভ করতেন না। অবশ্যই যদি তাঁরা সত্যের মহাউৎস,ঐশী আদেশ-নিষেধের ক্ষেত্রে রাসূলের স্থলাভিষিক্ত ও হেদায়েতের প্রতিকৃতি না হতেন তাহলে কখনোই এরূপ মর্যাদায় ভূষিত হতেন না। তাই তাঁদের অনুসারী ও প্রেমিকরা আল্লাহ্ ও রাসূলের প্রেমিক এবং তাঁদের বিরুদ্ধাচারণকারী ও বিদ্বেষীরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারণকারী ও বিদ্বেষী বলে পরিগণিত। এ কারণে রাসূল (সা.) বলেছেন, পরহেজগার ও মুমিন ব্যতীত কেউ আমাদের বন্ধু হতে পারে না এবং মুনাফিক ও পাষাণহৃদয় ব্যক্তি ব্যতীত কেউ আমাদের শত্রু হতে পারে না। ৪৭

প্রসিদ্ধ কবি ফারাযদাক আহলে বাইত সম্পর্কে বলেছেন,

مِنْ مَعْشَرٍ حُبُّهُمْ دِيْنٌ وَ بُغْضُهُمْ كُفْرٌ وَ قُرْبُهُمْ مُنْجِي وَ مُعْتَصِمٌ

তাঁরা এমন ব্যক্তিবর্গ যাঁদের ভালবাসাই ধর্ম এবং তাঁদের প্রতি শত্রুতাই কুফর। তাঁদের নৈকট্যই মুক্তি ও নিরাপত্তা লাভের উপায়।

إِنْ عُدَّ أَهْل التُقى كانُوا ائِمَّتَهُمْ أَوْ قِيْلَ مَنْ خَيْرُ أَهْلِ الأَرْضِ قِيْلَ هُمْ

যদি পরহেজগার ব্যক্তিদের গণনা করা হয়,তবে তাঁরা তাদের নেতা। যদি বলা হয় পৃথিবীর ওপর শ্রেষ্ঠতম মানুষ কারা,তবে বলা হবে তাঁরা।

আমীরুল মুমিনীন আলী (আ.) সব সময় বলতেন, আমি,আমার পিতৃপুরুষ ও বংশধরগণ সবচেয়ে বুদ্ধিমান,শৈশবে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সহনশীল এবং বৃদ্ধাবস্থায় তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। আমাদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ মিথ্যাকে ভূলুণ্ঠিত করেন,নেকড়ের দাঁতগুলোকে উপড়ে ফেলেন,দুনিয়াপ্রেমিকদের লাঞ্ছিত করেন,তোমাদের বন্দীত্ব ও অপমানের অবসান ঘটান এবং তোমাদের স্কন্ধ হতে জিঞ্জির ও শিকলকে অপসারিত করেন। আমাদের মাধ্যমেই তিনি শুরু করেন এবং আমাদের হতেই শেষ করেন। ৪৮

তাঁদের অনুসরণের পক্ষে যুক্তি হিসেবে আমাদের জন্য এটিই যথেষ্ট যে,আল্লাহ্পাক তাঁদেরকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং তাঁদের ওপর দরূদ পড়াকে ফরয নামাযের অংশ হিসেবে তাঁর প্রতিটি বান্দার ওপর অপরিহার্য করেছেন অর্থাৎ তাঁদের ওপর দরূদ না পড়লে কারো নামাযই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না তিনি যে কেউ হোন না কেন- সিদ্দীক (মহাসত্যবাদী),ফারুক (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী),যুন্নূর (আলোর অধিকারী),যুন্নূরাইন (*১৩) (দুই দ্যুতির অধিকারী),যু আনওয়ার (দ্যুতিসমূহের অধিকারী)- সকল বান্দার জন্যই নামাযের মধ্যে যেমনভাবে শাহাদাতাইন বলা ইবাদত তেমনি তাঁদের ওপর দরূদ পাঠানোও ইবাদত। তাঁদের এ মর্যাদার প্রতি চার মাজহাবের ইমামগণসহ সকল প্রসিদ্ধ ব্যক্তি অনুগত ও বিনীত।

ইমাম শাফেয়ী এ বিষয়ে বলেছেন,

يَا أَهْلَ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ حُبُّكُمْ   فَرْضٌ مِنَ اللهِ فِيْ الْقرْآن أَنْزَلَهُ

হে রাসূলের আহলে বাইত! তোমাদের ভালবাসা সবার জন্য ফরয করা হয়েছে যা কোরআনে অবতীর্ণ হয়েছে।

كَفَاكُمْ مِنْ عَظِيْمِ الْفَضْلِ إِنَّكُمْ مَنْ لَمْ يُصَلِّ عَلَيْكُمْ لا صَلَوة لَهُ

তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট যে,যদি কেউ নামাযে তোমাদের ওপর দরূদ না পড়ে,তার নামায কবুল হবে না। ৪৯

রাসূল (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ্ হতে তাঁর আহলে বাইতকে অনুসরণ করার অপরিহার্যতার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন এখানেই শেষ করছি। আল্লাহর কিতাবেও (কোরআনে) এ বিষয়ে স্পষ্ট আয়াত রয়েছে,যেহেতু আপনি ঐ সকল ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা ইশারা হতেই অনেক কিছু বুঝেন তাই এ বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণের দায়িত্ব আপনার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তির ওপর ছেড়ে দিলাম।

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন

এগারতম পত্র

২০ জিলক্বদ ১৩২৯ হিঃ

১। প্রামাণ্য হাদীসের উদ্ধৃতিতে আশ্চর্যান্বিত হওয়া।

২। এরূপ রেওয়ায়েত হতে আহলে সুন্নাতের দূরত্বের বিষয়ে চিন্তা করে হতচকিত হওয়া।

৩। কোরআন হতে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের আহবান।

১। আপনার মূল্যবান পত্রটি আমার হস্তগত হয়েছে। পত্রটি সত্যকে প্রকাশের জন্য স্পষ্ট,বোঝার জন্য সহজ ও গ্রহণোপযোগী। আপনি আপনার জ্ঞানের কূপ হতে বালতি পূর্ণ করে দিয়েছেন যেন পর্বত হতে দলিল-প্রমাণের ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়েছে। আপনার পত্রটি গভীর মনোযোগের সাথে পড়েছি এবং দীর্ঘক্ষণ এর ওপর চিন্তা করেছি। আমার মনে হয়েছে,সংলাপে আপনার মধ্যে কোন ক্লান্তি আসে না,বিতর্কে আপনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দৃঢ় এবং বক্তব্যে প্রাঞ্জল।

২। যখন আপনার উপস্থাপিত দলিলগুলোর মধ্যে নিজেকে নিমজ্জিত করলাম ও যুক্তি-প্রমাণের চুলচেরা বিশ্লেষণে নিমগ্ন হলাম তখন বুঝতে পারলাম আপনার অকাট্য যুক্তির মোকাবিলায় আমার মনে অদ্ভুত এক অন্তর্দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। আপনার বর্ণিত হাদীসগুলো পড়ে আহলে বাইতের ইমামগণকে আল্লাহ্ ও রাসূলের সামনে এমন এক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত দেখতে পাচ্ছি যে,তাঁদের সম্মুখে আমাদের ভক্তি ও বিনয়ের পাখা মেলে দেয়া উচিত।

অন্যদিকে মুসলমানদের বৃহৎ অংশের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখেছি তারা এ হাদীসগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। আমার দ্বিধাবিভক্ত অন্তরের এক অংশ আমাকে এই দলিল-প্রমাণের অনুসরণের দিকে আর অন্য অংশ অধিকাংশ মুসলমানের অনুসৃত পথের দিকে টানছে।

প্রথমটি এর লাগামকে আপনার হাতে ছেড়ে দিয়ে আমাকে শান্ত হতে ও আপনা হতে বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করছে আর দ্বিতীয়টি আপনার বিরোধিতা করে বিচ্ছিন্ন হতে বলছে।

৩। যদি সম্ভব হয় কোরআন হতে অকাট্য দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে আমার একগুঁয়ে এ

অন্তরের বিরোধিতার পথকে রুদ্ধ করুন এবং আহলে বাইতের পথে আমাকে পরিচালিত করুন যেন আমার ও অধিকাংশের অনুসৃত পথের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়।

ওয়া আলাইকাসসালাম


6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

32

33

34

35

36

37

38

39

40

41

42

43

44

45

46

47

48

49