একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন

একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন0%

একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন লেখক:
: মীর আশরাফ-উল-আলম
প্রকাশক: আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, কোম-ইরান
বিভাগ: নারী বিষয়ক

একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন

লেখক: মীর আশরাফ-উল-আলম
: মীর আশরাফ-উল-আলম
প্রকাশক: আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, কোম-ইরান
বিভাগ:

ভিজিট: 46487
ডাউনলোড: 5669

পাঠকের মতামত:

একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 87 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 46487 / ডাউনলোড: 5669
সাইজ সাইজ সাইজ
একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন

একজন মুসলিম নারীর অবশ্যই যা জানা প্রয়োজন

লেখক:
প্রকাশক: আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, কোম-ইরান
বাংলা

1- পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা

) إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّـهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّـهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا(

“ নিশ্চয়ই মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারী , ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী , অনুগত পুরুষ ও নারী , ইবাদতকারী পুরুষ ও নারী , সত্যবাদী পুরুষ ও নারী , ধৈর্য্যশীল পুরুষ ও নারী , খোদাভীরুপুরুষ ও নারী , ছদকা দানকারী পুরুষ ও নারী , রোযাদার পুরুষ ও নারিগণ এবং যে সকল পুরুষ ও নারী তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং যে সকল পুরুষ ও নারী আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে , তাদের সকলের জন্যেই আল্লাহ তা’ য়ালার কাছে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার” ।3

এই পবিত্র আয়াতে , পুরুষ ও নারীকে পাশা-পাশি উল্লেখ করা হয়েছে । আল্লাহ্ তা’ য়ালা পুরস্কার দান ও ক্ষমা করার ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করেন নি ।

) يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّـهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ(

হে মানব সকল! আমরা তোমাদের সকলকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি এ কারণে যে , তোমরা যেন একে অপরকে চিনতে পার (এবং বুঝতে পার বংশ ও গোত্র কোন গর্বের বিষয় নয়) । তোমাদের মধ্যে সেই আল্লাহর কাছে অধিক উত্তম যে অন্যের থেকে বেশী তাকওয়াসম্পন্ন । নিশ্চয়ই আল্লাহ্ জ্ঞানী এবং মানুষের ভাল ও মন্দ কাজের বিষয়ে সম্যক অবগত আছেন ।4

এই পবিত্র আয়াতেও আল্লাহ তা ’ য়ালা পুরুষ ও নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য তাঁর ও একক , পবিত্র সত্তাকে উত্তমরূপে জানা বলে উল্লেখ করেছেন । আর বংশ , ক্ষমতা , ধন-দৌলত , জ্ঞান , রং , ভাষা ও ভৌগলিকতার (আমেরিকা , ইউরোপ , এশিয়া ইত্যাদি) ভিত্তিতে আল্লাহ মানুষের মর্যাদাকে নির্ধারণ করেন নি বরং আল্লাহর কাছে উত্তম বস্তু হচ্ছে তাকওয়া , আর তাকওয়ার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ-নিষেধকে মেনে চলা ।

) مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ(

“ পুরুষ ও নারীদের মধ্য থেকে যারাই ঈমান আনবে এবং উত্তম কাজ আঞ্জাম দিবে , তাদেরকে আমরা পবিত্র জীবন দান করবো এবং তাদের কাজের তুলনায় উত্তম পুরস্কার দান করব” ।5

এই আয়াতেও আল্লাহ্ তা’ য়ালা উত্তম কাজের বিনিময় স্বরূপ পুরস্কার ও সওয়াব দানের অঙ্গীকার করেছেন , আর সৎকর্ম সম্পাদনকারী পুরুষই হোক অথবা নারী হোক কোন পার্থক্য করেন নি বরং যে কোন বান্দাই এই ভাল কাজ আঞ্জাম দিবে আল্লাহ তা’ য়ালা তাকেই এই পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন ।

) وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ(

“ আল্লাহ্ তা’ য়ালার নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি হচ্ছে যে , তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে সহধর্মিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে করে তাদের সান্নিধ্যে প্রশান্তি অনুভব করতে পার , আর তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও রহমতকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন । এ সব কিছুই হচ্ছে নিদর্শন তাদের জন্য যারা চিন্তা করে ।” 6

এই পবিত্র আয়াতেও আল্লাহ তা’ য়ালা নারী সৃষ্টিকে তাঁর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পেশ করেছেন । তিনি উল্লেখ করেছেন যে , নারীরা হচ্ছে ভালবাসা , রহমত ও প্রশান্তির কারণ । বিশিষ্ট মুফাসসির আল্লামা তাবাতাবাই (রহ:) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন , পুরুষ ও নারী এমনই এক সৃষ্টি একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলে যারা উভয়ই পূর্ণতা অর্জন করে এবং এ দু’ য়ের মিলনের মাধ্যমে মানব জাতির বংশ বিস্তার ঘটে থাকে , আর তারা একজন অপরজন ছাড়া অসম্পূর্ণ ।

আল্লাহ্ তা’ য়ালা এই আয়াতের শেষে বলছেন : এই বিষয়টি তাদের জন্য নিদর্শন যারা চিন্তা করে বা যারা বিবেক সম্পন্ন । তারা এর মাধ্যমে বুঝতে পারবে যে , পুরুষ ও নারী একে অপরের পরিপূরক । আর নারীই একটি পরিবারকে সতেজ ও উদ্যমী করে রাখে এবং এর সদস্যদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে । যে কারণে পুরুষ ও নারী শুভ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তা হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ভালবাসা ও রহমত । শুধুমাত্র দৈহিক চাহিদার কারণেই তারা এ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না ।

কিন্তু পুরুষ ও নারীর বন্ধনের মধ্যে দু’ টি দিক বিদ্যমান । তার একটি হচ্ছে ঐশী ও ভালবাসার দিক অপরটি হচ্ছে পাশবিক দিক । তবে মানুষ তার ঐ ঐশী ও ভালবাসার বোধের মাধ্যমেই পূর্ণতায় পৌঁছে থাকে ।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করছি তা হচ্ছে , অনেক মুফাসসির উল্লিখিত আয়াত ও এ ধরনের আরো কিছু আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে , নারী পুরুষের শরীরের অংশ । কেননা তাদেরকে পুরুষের শরীরের অংশ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে । আর এই ধরনের তফসিরের ফলে অনেক সুবিধাবাদী পুরুষ , নারীদেরকে তাদের থেকে নিম্ন পর্যায়ের মনে করে থাকেন যা নারীর জন্যে একটি অপমান জনক বিষয় । এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত আয়াতসমূহকে তারা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন :

) يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً(

হে মানব সকল ! তোমাদের পরওয়ারদিগারকে ভয় কর । যিনি তোমাদেরকে একক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন । আর তা থেকে তার সহধর্মিণীকেও এবং ঐ দু’ জন থেকে অনেক পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন ।7

) هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا(

তিনিই তোমাদেরকে একক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রী ।8

) خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا(

তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃি ষ্ট করেছেন এবং তা থেকে তার স্ত্রীকেও ।9

) وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا(

আর এটা তাঁর নিদর্শনমূহের নমুনা স্বরূপ যে , তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন ।10

) وَاللَّـهُ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم بَنِينَ وَحَفَدَةً(

আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রী নির্দিষ্ট করেছেন এবং তোমাদের স্ত্রীদের থেকে সন্তান ও পৌত্রদের সৃষ্টি করেছেন ।11

) جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا(

তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন ।12

বাহ্যিকভাবে দেখা যায় যে , প্রথম তিনটি আয়াতে বলা হয়েছে সমস্ত মানুষ একটি নফস (সত্তা) থেকে সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের স্ত্রীগণও ঐ নফস থেকেই সৃষ্টি হয়েছে ।

কিন্তু পরের তিনটি আয়াতে উক্ত বিষয়টিকে সমস্তপুরুষের প্রতি ইশারা করে বলা হচ্ছে যে , তোমাদের স্ত্রীগণকে তোমাদের থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে । যদি আমরা একটুখানি এই বিষয়ের প্রতি গভীর দৃষ্টি দেই তবে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে , এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তা’ য়ালা এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে , তাদের স্ত্রীগণ উৎসের দৃষ্টিতে তাদেরই প্রকৃতির , অন্য প্রকৃতির নয় । এটা নিশ্চয় বুঝাতে চাননি যে , স্ত্রীগণ তাদের দেহের অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে । যদি তাই হয়ে থাকে তবে বলতে হয় যে , প্রতিটি স্ত্রীই তার স্বামীর দেহের অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে । পরবর্তী তিনটি আয়াত প্রথম তিনটি আয়াতকে ব্যাখ্যা করেছে , যাতে করে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যায় ।

আল্লামা তাবাতাবাই এই আয়াতের তফসিরে বলেছেন :‘ ওয়া খালাকা মিনহা যাওজাহা’ আয়াতের বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে যে , স্ত্রীদের পুরুষের প্রকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাদের উভয়েরই সৃষ্টির উৎস হচ্ছে এক ।

এই আয়াতে‘ মিন’ শব্দটি উৎস বর্ণনা অর্থে এসেছে অর্থাৎ এখানে‘ মিন’ কোন কিছু সৃষ্টির উৎসকে বর্ণনা করছে । এই আয়াতটি অন্যান্য আয়াতের মতই পুরুষ ও নারীর সৃষ্টির উৎস বর্ণনা করেছে , যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে ।

অতএব , এটা আমাদের কাছে পরিস্কার এবং বিভিন্ন তফসির গ্রন্থের ভাষ্য অনুযায়ী যে বলা হয়ে থাকে আল্লাহ তা’ য়ালা নারীকে পুরুষের বাম পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলিলহীন উক্তি । 13

উপরোল্লিখিত ভ্রান্ত ধারণাটির পক্ষে রয়েছেন আহলে সুন্নাতের মুফাসসিরগণ যেমন : ওয়াহ্বাহ্ যুহাইলী এবং ফাখরুদ্দীন রাযি তারা তাদের নিজ নিজ গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন ও গ্রহণ করেছেন ।

সুতরাং কোরআনের আয়াত থেকে আমাদের কাছে যা প্রমাণিত হয়েছে তা হচ্ছে , পবিত্র কোরআন পুরুষ ও নারী সৃষ্টির উৎসগত আলোচনা করেছে এবং তাদের মধ্যকার সাদৃশ্যকে তুলে ধরেছে । এর পক্ষে আমাদের আরো জোরাল যুক্তি রয়েছে যা নিম্নরূপ :

ইমাম সাদিক (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করা হল যে ,‘ একদল লোক বলে হযরত হাওয়াকে হযরত আদমের বাম পাজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ’ এ ব্যাপারে আপনার মত কি ?

তিনি বললেন : আল্লাহ তা’ য়ালা এমন ধরনের কাজ করা থেকে পবিত্র । এরপর তিনি তাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে বললেন : আল্লাহর কি ক্ষমতা ছিল না যে , হযরত আদমের জন্য স্ত্রী সৃষ্টি করবেন যে তার পাজরের হাড় থেকে হবে না ? যাতে করে পরবর্তীতে কেউ বলতে না পারে যে , হযরত আদম নিজেই নিজের সাথে বিয়ে করেছেন । আল্লাহ তাদের ও আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে ফায়সালা করুন । 14

(অর্থাৎ এখানে ইমাম বুঝাতে চেয়েছেন যে , আল্লাহ যখন হযরত আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করতে পেরেছেন তবে তার সৃষ্টির জন্য , তার পাজরের হাড় থেকে করতে হবে কেন ? যেহেতু আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী । তাই এ কথা বললে তাঁর অক্ষমতাকেই তুলে ধরা হয় , নয় কি ? -নাউযুবিল্লাহ । )

অন্য আরেকটি হাদীসে এসেছে যে ,‘ আল্লাহ তা ’ য়ালা হযরত আদম সৃষ্টির পরে অবশিষ্ট কাদা-মাটি থেকে হযরত হাওয়াকে (হযরত আদমের মতই) স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করেছেন ।15

) وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ أُمِّ مُوسَىٰ أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ(

“ আমরা মুসার মায়ের প্রতি এরূপ এলহাম করেছিলাম যে , তাকে দুধ দাও এবং যখনই তার ব্যাপারে ভয় পাবে তখনই তাকে ( নীল নদের ) পানিতে নিক্ষেপ কর , তুমি ভয় করো না ও দুঃখিত হয়োনা আমরা তাকে পুনরায় তোমার কাছে ফিরিয়ে দিব এবং তাকে রাসূলগণের মধ্যে স্থান দিব” ।16

এই আয়াতে এ বিষয়টি পরিস্কার যে , আল্লাহ তা’ য়ালা হযরত মুসা (আ.)-এর মায়ের প্রতি এলহাম করেছেন , আল্লাহ একজন নারীকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন এটা হচ্ছে নারীদের জন্য একটি মর্যাদার বিষয় ।

) إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّـهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ(

“ (ঐ সময়কার কথাকে স্মরণে আন ) যখন ফেরেশতাগণ বলেছিলেন :‘ হে মারিয়াম ! আল্লাহ তা’ য়ালা তোমাকে তার পক্ষ থেকে এক বাণীর সুসংবাদ দান করছেন যে , তার নাম হচ্ছে মাসিহ্ ঈসা ইবনে মারিয়াম , সে এই দুনিয়া ও আখেরাতেও একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের মধ্যে শামিল হবে ।” 17

তাহলে আমাদের কাছে এটা পরিস্কার যে , একজন নারীর পক্ষে এটা সম্ভব যে , সে পরিপূর্ণতার এমন পর্যায়ে পৌছাবে , যার কারণে আল্লাহ তা’ য়ালা আসমানী কিতাবে তাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলবেন । আর আল্লাহর ফেরেশ্তাগণ ও স্বয়ং জিব্রাঈল (আ.) তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁর সাথে কথা বলবেন । আর এমন নজির পুরুষদের মধ্যেও কম দেখা যায় ।

) وَضَرَبَ اللَّـهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ(

“ আল্লাহ্ তা’ য়ালা মু’ মিনদের জন্য ফিরআউনের স্ত্রীকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন , যখন সে বলেছিল যে , হে আল্লাহ ! বেহেশ্তে তোমার কাছে আমার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ কর এবং আমাকে ফিরআউনের কু -কর্ম ও তার অত্যাচারী দলবল থেকে রক্ষা কর” ।18

1-আল্লাহ তা’ য়ালা এই আয়াতে সকল পুরুষ ও নারীর সামনে একজন নারীকে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন ।

2-আছিয়া (ফিরআউনের স্ত্রী) সকল নারীকে এটাই শিক্ষা দিলেন যে , আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা কোন বাদশাহর প্রাসাদে জীবন-যাপন করার (সেখানে সব ধরনের সুব্যবস্থা থাকা সত্বেও) থেকেও উত্তম । তিনি আরো প্রমাণ করলেন যে , কোন নারীরই উচিৎ নয় এই দুনিয়ার বাহ্যিক রূপের মোহে ভুল করা । কেননা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা ধ্বংস হয়ে যাবে । আর শুধুমাত্র আল্লাহ্ই থাকবেন ।

3-তিন আরো শিক্ষা দিলেন যে , নারীদের স্বাধীনতা থাকবে (যতটুকু আল্লাহ অনুমতি দিয়েছেন) এবং তারা জুলুম ও জালিমের প্রতি ঘৃণা রাখবে ; যদিও ঐ জালিম তার স্বামীও হয়ে থাকে ।

) إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ﴿١﴾ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ ﴿٢﴾ إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ﴾

হে রাসূল ! আমরা তোমাকে অফুরন্ত নেয়ামত - নবুওয়াত , শাফা ’ য়াতের ন্যায় উচ্চ মর্যাদাসহ কাউসার ( ফাতিমাকে ) - দান করেছি । সুতরাং তুমি এই নে ’ য়ামতসমূহের শুকরিয়া স্বরূপ নামায আদায় এবং কুরবানী কর । আর প্রকৃতপক্ষে তোমার শত্রুরাই হচ্ছে নির্বংশ । ”19

সূরা কাউছারের তিনটি আয়াতের তিনটি অলৌকিকত্ব

প্রথম অলৌকিকত্ব

যেহেতু রাসূল (সা.) -এর সব পুত্র সন্তান মারা গিয়েছিল তাই শত্রুরা মনে করেছিল যে , তাঁর ইন্তেকালের পর তারা জুলুম ও অত্যাচারের ব্যাপারে স্বাধীন । কিন্তু আল্লাহ্ তা ’ য়ালা হযরত যাহরা (আ.) -কে দান করলেন , যাতে তাঁর সন্তানগণ বিশ্ব জুড়ে ইসলামের ভিত্তি স্থাপন করতে পারেন এবং আবু সুফিয়ান বংশের আর কেউ ইসলামের সাথে শত্রুতা করে সফল হতে না পারে ।

দ্বিতীয় অলৌকিকত্ব

যদিও রাসূলে খোদা (সা.) তাঁর রিসালাতের প্রথম দিকে অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তা ’ য়ালা তাকে এত পরিমানে ধন-সম্পদ দান করেছিলেন যে , তিনি হজ্জ মৌসুমে একটি উট অথবা তারও বেশী পরিমান কুরবানী করতেন ।

তৃতীয় অলৌকিকত্ব

রাসূল (সা.) -এর শত্রুরা বিশাল সৈন্য বাহিনী ও সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্বেও কিছু দিনের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের কোন অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট ছিল না । এতে করে শত্রুদের বংশই ধ্বংস হয়েছিল , রাসূলে খোদার (সা.) নয় । এরপর দিনের পর দিন হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলে খোদা (সা.) -এর বংশের বিস্তৃতি হতে থাকলো ।

সাধারণ মানুষেরা হযরত ফাতিমা (আ.)-এর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে কিছু বলতে অক্ষম । কেননা তিনি হলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ (ইনসানে কামেল) ও চরম আধ্যাত্মিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব । আর সাধারণ মানুষ হচ্ছে অপূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত । সে কারণেই তাদের পক্ষে হযরত ফাতিমা (সা.আ.) এর মত একজন পরিপূর্ণ মানুষকে বুঝে উঠার ক্ষমতা নেই । তাই তাঁর ব্যাপারে অবশ্যই আশরাফুল মাখলুকাত খাতামুল আম্বিয়া হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর উত্তরসূরী মা ’ সুম ইমামগণ (আ.)-এর মুখ থেকেই শুনতে হবে:

ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ). :ﺍﻥ ﺍﷲ ﺗﻌﺎﱃ ﻟﻴﻐﻀﺐ ﻟﻐﻀﺐ ﻓﺎﻃﻤﺔ ﻭ ﻳﺮﺿﻰ ﻟﺮﺿﺎﻫﺎ

রাসূল (সা.) বলেছেন : আল্লাহ্ তা’ য়ালা ফাতিমা ( আ .)- এর ক্রোধে ক্রোধান্বিত হন এবং তার সন্তুষ্টিতে তিনি সন্তুষ্ট হন ।20

: ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ): ﺍﻭﻝ ﺷﺨﺺ ﺗﺪﺧﻞ ﺍلجنّة ﻓﺎﻃﻤﺔ

রাসূল (সা.) বলেছেন : সর্ব প্রথম যে ব্যক্তি বেহেশ্তে প্রবেশ করবে সে হচ্ছে ফাতিমা (সা.আ.) ।21

ﻗﺎﻝ الحسن (ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ) ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺍﻟﺴﻼﻡ: ما ﻛﺎﻥ ﰱ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﺍﻋﺒﺪ ﻣﻦ ﻓﺎﻃﻤﺔ علیها السلام ﻛﺎﻧﺖ ﺗﻘﻮﻡ ﺣﱴ ﺗﺘﻮﺭﻡ ﻗﺪﻣﺎﻫﺎ

ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন : ফাতিমা (আ.)-এর মত ইবাদতকারী পৃথিবীতে আর কেউ ছিল না , কেননা তিনি এত বেশী ইবাদত করতেন যার কারণে তার পদযুগল ফুলে যেত ।22

ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন : আমার মা ফাতিমা (আ.) প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভোর পর্যন্ত ইবাদতে মশগুল থাকতেন । তাকে মু’ মিন বান্দাদের জন্য প্রচুর দোয়া করতে শুনতাম কিন্তু নিজের জন্য দোয়া করতেন না । মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে , হে জননী ! অন্যদের জন্য এত দোয়া করেন , কেন আপনার নিজের জন্য দোয়া করেন না ? তিনি বললেন :

یا بنی الجار ثم الدار

হে আমার সন্তান! প্রথমে প্রতিবেশী তারপর নিজের বাড়ি ও নিজে ।23

রাসূল (সা.) বলেছেন : ফাতিমা (আ.) পৃথিবীর সকল (প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত) নারীদের নেত্রী এবং সে যখন মেহরাবে ইবাদতে দণ্ডায়মান হয় তখন 70 হাজার ফেরেশ্তা তাকে সালাম করতে থাকে ও তাকে বলে : হে ফাতিমা! আল্লাহ তা’ য়ালা তোমাকে মনোনীত করেছেন এবং তোমাকে সব ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করেছেন , আর তোমাকে পৃথিবীর সমস্ত নারীদের উপরে স্থান দিয়েছেন । 24

হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.)-এর ব্যাপারে ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর উক্তি

হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর মধ্যে একটি মানুষের জন্য পূর্ণতার যত দিক চিন্তা করা যায় তার সবগুলোই পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান ছিল । কেননা তিনি একজন সাধারণ নারী ছিলেন না । তিনি একজন মালাকুতি ও রূহানী (অলৌকিক ও আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায়ের) নারী ছিলেন । একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন । তিনি একজন মালাকুতি (বস্তুজগতের উর্ধ্বের অদৃশ্য জগতের) অস্তিত্ব যিনি মানুষ রূপে এ ধরাধামে এসেছিলেন । তিনি এলাহী ও জাবারুতী (ফেরেশতাদেরও উর্ধ্বের ঐশী জগতের) এক অস্তিত্ব যিনি নারী রূপে প্রকাশিত হয়েছেন । তাঁর সমগ্র অস্তিত্বে নবীদের বৈশিষ্ট্যসমুহ পরিলক্ষিত হয় । তিনি এমন এক নারী , যদি তিনি পুরুষ হতেন তবে হয়তো নবী হতেন । তাঁর মধ্যে এলাহী , মালাকুতি , জাবারুতী , মুলকী ও নাসুতি (উর্ধ্ব ও বস্তুজগতের সকল উচ্চতর) বৈশিষ্ট্যসমূহ একত্রে একত্রিত হয়েছে ।25

তিনি এমন এক নারী যিনি হযরত যয়নাব (আ.)-এর মত প্রশিক্ষিত এক সন্তান মানব জাতিকে উপহার দিয়েছেন । পরবর্তীতে সেই যয়নাবই তাগুতী শক্তির বিরুদ্ধে নির্ভয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাদেরকে অপরাধী সাব্যস্ত করেছিলেন , ইয়াযিদকে দোষী প্রমাণ করেন । তিনি ইয়াযিদকে বলেন : তুই মানুষ না , মানুষ হওয়ার যোগ্যতাও তোর নেই ।26

তিনি এমন এক নারী , যার গুণাবলী মহানবীর (সা.) গুণাবলীর অনুরূপ অসীম এবং তিনি হচ্ছেন পবিত্র ও নিষ্পাপ নবী পরিবারের সদস্য । তিনি এমন নারী , যার মর্যাদার ব্যাপারে সবাই তার নিজের বোঝার ক্ষমতানুযায়ী কথা বলে থাকে । এখনো পর্যন্ত কেউই তাঁর যথার্থ প্রশংসা করতে সক্ষম হয় নি । তাঁর ব্যাপারে তাঁর পরিবারের মহান ব্যক্তিদের কাছ থেকে ততটুকু বর্ণিত হয়েছে যতটুকু শ্রোতাদের ধারণক্ষমতা ছিল ও তাদের জন্য বোধগম্য হতো । সাগরকে কখনো কলসীতে আবদ্ধ করা যায় না । তাই তাঁর সম্পর্কে ইমামরা শ্রোতাদের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী কথা বলেছেন । এক্ষেত্রে আমাদের জন্য উত্তম হলো এ সীমাহীন রহস্যময় প্রান্তরকে আমাদের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে আবদ্ধ করার চেষ্টা না করা ।27

হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.)-এর ব্যাপারে শহীদ মুর্তযা মুতাহ্হারীর উক্তি

তিনি বলেছেন : ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন মহিলা অনেক রয়েছে । খুব কম পুরুষই আছে যে হযরত খাদিজার সমান যোগ্যতা রাখে । আর নবী (সা.) ও আলী (আ.) ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ নেই যাদেরকে হযরত ফাতিমা (আ.) -এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে । তিনি তাঁর সন্তানগণের (যারা সকলেই হচ্ছেন ইমাম) উপর এবং শেষ নবী (সা.) ব্যতীত অন্য সকল নবীর উপরে অবস্থান করছেন ।28

এই বর্ণনায় এটা পরিস্কার হয়েছে যে , হযরত ফাতিমা (আ.) -এর মর্যাদা কোন সাধারণ মানুষ অনুধাবন করতে পারবে না । আর তিনি শুধুমাত্র পৃথিবীর নারীদের উপরেই নয় বরং বেহেশ্তী নারীদের উপরেও শ্রেষ্ঠত্ব রাখেন । আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাদেরকে তাঁর শাফা ’ য়াত থেকে বঞ্চিত না করুন ইনশাআল্লাহ । আর আল্লাহ তা ’ য়ালা আমাদের নারীদেরকে হযরত ফাতিমাকে অনুসরণ করে চলার তৌফিক দান করুন ।

2 - হাদীসের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা

নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিস :-

ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ): خیر ﺍﻭﻻﺩﻛﻢ ﺍﻟﺒﻨﺎﺕ

রাসূল (সা.) বলেছেন : কন্যারাই হচ্ছে তোমাদের উত্তম সন্তান ।29

ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ): خیرﻛﻢ خیرﻛﻢ ﻟﻨﺴﺎﺋﻪ ﻭ ﻟﺒﻨﺎﺗﻪ

রাসূল (সা.) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাদের নারী ও কন্যাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করে ।30

ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﷲ (ﺻﻠﻰ ﺍﷲ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺁﻟﻪ):. خیرﻛﻢ خیر ﻛﻢ ﻻﻫﻠﻪ ﻭ ﺍﻧﺎ خیرﻛﻢ ﻻﻫﻠﻰ ﻣﺎ ﺍﻛﺮﻡ ﺍﻟﻨﺴﺎﺀ ﺍﻻ ﻛﺮﱘ ﻭ ﻻ ﺍﻻ ﻟﺌﻴﻢ

রাসূল (সা.) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার পরিবারের সাথে উত্তম ব্যবহার করে থাকে । আমি আমার পরিবারের সাথে তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যবহারকারী । কেবল মহান ব্যক্তিরাই নারীগণকে সম্মান দিয়ে থাকেন এবং নিম্নশ্রেণীর ব্যক্তিরাই কেবল নারীদেরকে অপমান ও অপদস্থ করে থাকে ।31

রাসূল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তির তিনটি (সচ্চরিত্র) কন্যা সন্তান থাকবে অথবা তিনটি (পবিত্র) বোনের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে , তার জন্য বেহেশ্ত ওয়াজিব হবে ।

রাসূল (সা.) -এর কাছে প্রশ্ন করা হল যে , ইয়া রাসূলুল্লাহ্! দু’ টি (সচ্চরিত্র) কন্যা সন্তান অথবা দু’ টি (পবিত্র) বোনের ভরণ-পোষণকারীও কি এই ছওয়াব পাবে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ , তাকেও এই পুরস্কার দেয়া হবে ।

আবারও প্রশ্ন করা হল যে , ইয়া রাসূলুল্লাহ ! একটি ( পবিত্র ) কন্যা সন্তান অথবা একটি ( পবিত্র ) বোনের ভরণ - পোষণকারীও কি এই সওয়াব পাবে ? তিনি বললেন : হ্যাঁ , তাকেও এই একই পুরস্কার দেয়া হবে ।32

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺼﺎﺩﻕ (ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ): .. ﺍﺫﺍ ﺁﺫﺍﻫﺎ ﱂ ﻳﻘﺒﻞ ﺍﷲ ﺻﻼﺗﻪ ﻭ ﻻ ﺣﺴﻨﺔ ﻣﻦ ﻋﻤﻠﻪ ﻭ ﻛﺎﻥ ﺍﻭﻝ ﻣﻦ ﻳﺮﺩ ﺍﻟﻨﺎﺭ

ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : যদি কোন ব্যক্তি তার ¯ স্ত্রীকে কষ্ট দেয় , তাহলে আল্লাহ্ তার নামাযকে কবুল করবেন না এবং তার ভাল ও উত্তম কাজ সমূহকে তার আমলনামায় লেখা হবে না । আর তার স্ত্রীকে কষ্ট দেয়ার কারণে সে প্রথম ব্যক্তি যে জাহান্নামে প্রবেশ করবে ।33