শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম

শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম0%

শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম লেখক:
: মোহাম্মাদ মুনীর হোসেন খান
প্রকাশক: আমার দেশ বাংলাদেশ সোসাইটি
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম

লেখক: শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুহাম্মদ বাকের সাদর (রহঃ)
: মোহাম্মাদ মুনীর হোসেন খান
প্রকাশক: আমার দেশ বাংলাদেশ সোসাইটি
বিভাগ:

ভিজিট: 6731
ডাউনলোড: 2360

পাঠকের মতামত:

বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 18 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 6731 / ডাউনলোড: 2360
সাইজ সাইজ সাইজ
শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম

শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম

লেখক:
প্রকাশক: আমার দেশ বাংলাদেশ সোসাইটি
বাংলা

শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম

মূল: শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুহাম্মদ বাকের সাদর (রহঃ)

অনুবাদ: মোহাম্মাদ মুনীর হোসেন খান

শিয়া প্রবণতা ও ইসলাম

মূলঃ শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মুহাম্মদ বাকের সাদর (রহঃ)

অনুবাদঃ মোহাম্মাদ মুনীর হোসেন খান

সম্পাদনাঃ মোহাম্মাদ আশরাফউদ্দিন খান

সহযোগিতায়ঃ আল মুয়াম্মাল কালচারাল ফাউন্ডেশন,কোম ইরান এবং শহীদ আল্লামা বাকের সাদর (রহ.)বিশ্ব সম্মেলন কমিটি,কোম,ইরান।

প্রকাশকঃ আমার দেশ বাংলাদেশ সোসাইটি (সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান)

প্রকাশকালঃ ২১ রমজান,১৪৩০ হিজরী,১২ সেপ্টেম্বর,২০০৯ খৃষ্টাব্দ

 

Shia probanata o islam, Author: Shaheed Ayatullah Sayyid Muhammad Baqir al-Sadr, Translator: Muhammad Munir Hossain Khan, Editor: Muhammad Ashrafuddin Khan, Sponsored: Al-Mu ammal Cultural Foundation and Muzes fee Usule Din of Sayyid Muhammad Baqir al-Sadr, qum, Iran. Published by: Amar desh Bangladesh Society. ৩২/১, T.B Cross Road, Khulna, Bangladesh.

সম্মেলন কমিটির বক্তব্য

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন,ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলিহী আত-তাহেরীন।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম উম্মাহর ভাগ্যাকাশে ছিল দুর্যোগের ঘনঘটা। যার পরিণতিতে বিচ্যুত,অবনতি আর জড়তার আধার উম্মাকে ছেয়ে ফেলেছিল। অবশেষে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে মুসলিম উম্মার পুনর্জাগরণ শুরু হয়। ইমাম খোমেইনীর (রহ.)নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার মাধ্যমে তা পরিপুর্ণতা অর্জন করে,ইসলামী শক্তি পুনরায় আবির্ভূত হয়।দীর্ঘদিন সাম্রাজ্যবাদী ও অত্যাচারীদের হাতে শোষিত হওয়ার পর উম্মার ভাগ্যে যে বিপর্যয় ঘটেছিল তা থেকে মুক্ত হয়ে আবার সে শক্তি সঞ্চয় করেছে,মাথা উচু করে দাড়িয়েছে। মুসলিম উম্মার এ পুনর্জাগরণ সাম্রাজ্যবাদীদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে,উপনিবেশবাদী লোলুপ দৃষ্টি পোষণকারীদের আশা আকাঙ্ক্ষার কবর রচনা করেছে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মার মধ্যে আজ যে নব জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে সে ক্ষেত্রে ইমাম খোমেইনী(রহ.)মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি চিন্তাগত ও তত্ত্বগত দিক থেকে উম্মার মধ্যে যে জোয়ার এসেছে সেক্ষেত্রে শহীদ আল্লামা বাকের সাদর নিঃসন্দেহে মৌলিক অবদান রেখেছেন। ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে তিনি ছিলেন নজিরবিহীন। তার চিন্তাধারা ও লেখনি একদিকে যেমন চিন্তার জগতে নব-দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়েছে অপরদিকে গভীরতা ও ব্যপকতার দিক থেকেও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাত্ত্বিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভের উদ্দেশ্যে সমসাময়িক মুসলিম সমাজে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন চিন্তাধারার পারস্পরিক সংঘাতময় পরিবেশেও তিনি বুদ্ধিজীবি ও চিন্তাবিদদের মহলে ব্যাপকভাবে ইসলামী চিন্তাধারার প্রসার ঘটিয়েছিলেন।

শহীদ আয়াতুল্লাহ বাকের সাদর তার নজিরবিহীন ব্যক্তিত্ব,অসাধারণ যোগ্যতা ও গতিশীল ইসলামী চিন্তাধারার মাধ্যমে আধুনিক বস্তুবাদী দার্শনিক ও চিন্তাবিদদেরকে অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছেন। বস্তুবাদী সভ্যতার তত্ত্বগত ভিত্তিহীনতা ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে তিনি সবাইকে চিন্তাগত দাসত্বের শৃঙ্খল,(প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের)অন্ধ অনুকরণ ও খোদাবিমুখতা থেকে ফিরিয়ে রাখেন। বাস্তব জীবনে মানব সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ইসলামের যে নজিরবিহীন ক্ষমতা রয়েছে তা তিনি ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। তিনি আরো প্রমাণ করেছেন আধুনিক বিশ্ব যদি ইসলামী বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাহলে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবকুলের সৌভাগ্য রচিত হবে,মানব সমাজ কল্যাণ লাভ করবে।

শহীদ আল্লামা বাকের সাদর অত্যন্ত গতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী ছিলেন। তার চিন্তাধারা কোন বিশেষ গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিলনা,বরং জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন। ইসলামী অর্থনীতি,তুলনামূলক দর্শন (ইসলামী ও পশ্চাত্য দর্শন),আধুনিক যুক্তিবিদ্যা ইত্যাদি সাম্প্রতিককালে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অনায়াসে প্রবেশ করেছেন এবং নতুন নতুন ধারার সৃষ্টি করেছেন। উসূল ও ফেকাহশাস্ত্র,দর্শনশাস্ত্র,যুক্তিবিদ্যা,কালামশাস্ত্র,তাফসীর,ইতিহাস ইত্যাদি ক্লাসিক বিষয়েও পদ্ধতিগত ও বিষয়-বস্তুগত উভয় দিক থেকে নতুন নতুন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং চিন্তাগত বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

আল্লামা বাকের সাদরের শাহাদতের পর দু দশকেরও বেশী সময় অতিবাহিত হয়েছে,কিন্তু আজও পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে তার চিন্তাধারার প্রভাব অটুট রয়েছে। যে কোন বিষয় ভিত্তিক পর্যালোচনা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তার রেখে যাওয়া রচনাবলী,বিশেষ করে চিন্তার ক্ষেত্রে তিনি যে নতুন ধারার সৃষ্টি করেছেন তা সবার জন্য মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

এ দৃষ্টিকোণ থেকেই শহীদ আল্লামা বাকের সাদর বিশ্ব সম্মেলন পরিচালনা কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে চিন্তাগত ও জ্ঞানগত বিভিন্ন বিষয়ে তার রেখে যাওয়া মূল্যবান রচনাবলীর পুনরুজ্জীবন ও উপযুক্ত সংরক্ষণ। যেহেতু তার রচনাবলী অত্যন্ত ব্যাপক তাই এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি পালনের ক্ষেত্রে দু টি দিকের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবেঃ

প্রথমতঃ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা ও সূক্ষ্ণ দৃষ্টিসহকারে পৃথিবীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় এগুলোর অনুবাদ এবং প্রকাশ।

দ্বিতীয়তঃ অত্যধিকবার প্রকাশিত হওয়া এবং উপযুক্ত পর্যবেক্ষণের অভাবে তার প্রকাশিত অনেক বই যেগুলো আংশিকভাবে বিকৃত হযেছে সেগুলোকে মূল পাণ্ডুলিপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং সংশোধন করা।

সবশেষে আমরা আল্লামা বাকের সাদরের বর্তমান উত্তরাধিকারীদের,বিশেষ করে তার স্বনামধন্য পুত্র জনাব সাইয়্যেদ জাফর সাদর(আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন)-এর অবদানের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। এ বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং আল্লামা বাকের সাদরের বিভিন্ন রচনাবলী প্রকাশ ও পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে তিনি যে বিশেষ সম্মতি প্রদান করেছেন সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

পরিচালনা কমিটি

শহীদ আল্লামা বাকের সাদর বিশ্ব সম্মেলেন

ভূমিকা

ইসলামে শিয়াদের ইতিহাস রক্ত আর অশ্রুর ইতিহাস। শিয়া ইতিহাসের পাতায় পাতায় ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত যে সকল ঘটনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা নির্যাতন ও দুঃখ-কষ্টে পরিপূর্ণ। বুদ্ধিজীবি মহলে শিয়া মতবাদকে ভূলভাবে বুঝা হয়ে থাকে এবং তাই তার ভূল ব্যাখ্যা দেয়া হয়। শীর্ষস্থানীয়দের সামান্যতম কু-ধারণা কালক্রমে জনতার কাছে বিপদজনক আকার ধারণ করে। পন্ডিত ব্যক্তিবর্গের মাঝে সামান্যতম মতপার্থক্য বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এ উপমহাদেশের স্বণামধন্য ব্যক্তিগণ তথা নবাব সিরাজউদ্দৌলা,টিপু সুলতান,হাজী মুহাম্মদ মুহসীন,তীতুমীর প্রমূখ জা ফরী ফিকাহ (শিয়া মাজহাব)এর অনুসারী হওয়া স্বত্বেও এবং এ দেশে আগত অনেক পীর-কামেল ইমাম হযরত আলী (আ.)এর ধারার অনুসারী হওয়ার পরও এ মাযহাব বিরুদ্ধবাদীদের বিষাক্ত ছোবলে ক্ষতবিক্ষত। এর অন্যতম কারণ বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে এ সম্পর্কে তেমন কোন বাংলা বই পুস্তক ও কিতাবাদি ছিল না এবং বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে দ্বীনের দাওয়াতী ও প্রচারমূলক কর্মকান্ডও তেমন লক্ষণীয় ছিল না।

   আন-নাশআ-তুশ-শীয়া মহান মনীষী ও গবেষক শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বাকের সাদর (রহ.)-এর আরবী ভাষায় লিখিত একটি সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ। শীয়া মতবাদের উৎপত্তি সম্পর্কে এটি একটি মৌলিক গ্রন্থ। এ বইটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হলে এ মাযহাব সম্পর্কে বাংলা ভাষাভাষীগণ সঠিক ধারণা লাভে সক্ষম হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এর ফলে সার্বিকভাবে উপকৃত হবে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ।

   এ বইটি মূল আরবী থেকে বাংলায় অনুবাদ করে আমাদের দেশের বিশিষ্ট গুণীজন ও অনুবাদক জনাব মোহাম্মদ মুনীর হোসেন খান এক অনবদ্য দায়িত্ব পালন করেছেন। বইটি সম্পাদনা করেছেন বিশিষ্ট আলেম জনাব মোহাম্মদ আশরাফউদ্দিন খান। তাদের উভয়কে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। বইটি প্রকাশে সহযোগিতা করায় জনাব আলী নেওয়াজকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। বইটি অনুবাদে সহযোগিতা করায় শহীদ আল্লামা বাকের সাদর (রহ.)বিশ্ব সম্মেলনে কমিটি,কোম, ইরান এর প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অবতরণিকা

কিছু কিছু আলোচক ও পর্যালোচক মুসলিম উম্মাহ্ বহির্ভূত এক সম্প্রদায় হিসেবে শিয়া মাযহাব সর্ম্পকে আলোচনা করে থাকেন । তাঁরা এ মাযহাবটিকে মুসলিম উম্মাহর এমন এক অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন যার উদ্ভব কালক্রমে কতগুলো সুনির্দিষ্ট সামাজিক ঘটনা ও পরিবতর্নের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে,এ সব ঘটনা প্রবাহ ও পরিবর্তনসমূহ মুসলিম উম্মাহর সেই অংশ-বিশেষের (শিয়া মাযহাব) চিন্তাগত ও মাযহাবী অস্তিত্বের এক বিশেষ রূপরেখা প্রদান করেছে । অতঃপর ধীরে ধীরে সেই অংশটি (সম্প্রদায়টি) বিকাশ লাভ করতে থাকে ।

এসব আলোচক ও পর্যালোচক (শিয়া মাযহাবের উৎপত্তি সংক্রান্ত) এ ধরনের ধারণা পোষণ করার পাশাপাশি ঐ সব ঘটনা ও পরিবর্তন সর্ম্পকেও যথেষ্ট মতপার্থক্য পোষণ করে থাকেন যা শিয়া মাযহাবের উৎপত্তি ও বিকাশের কারণ । এসব আলোচক ও পর্যালোচকের মধ্যে কারো কারো ধারণা হচ্ছে এই যে,‘‘ আবদুলাহ্ বিন সাবা ও তার কল্পিত রাজনৈতিক তৎপরতাই শিয়া সম্প্রদায়ের উৎপত্তির মূল কারণ আবার কোন কোন পর্যালোচক ইমাম আলী (আ.)-এর খেলাফত কাল এবং তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের সাথে ‘‘ শিয়া মাযহাবের উৎপত্তি সংশ্লিষ্ট বলে মনে করেন আবার কোন কোন আলোচক মনে করেন যে, ইমাম আলী (আ.)-এর খেলাফত-কালোত্তর মুসলিম উম্মাহর ধারাবাহিক ঐতিহাসিক ঘটনা-প্রবাহের মাঝেই নিহিত রয়েছে শিয়া মাযহাবের উৎপত্তির কারণ

আমার দৃষ্টিতে যে কারণে এসব আলোচকের অনেকেই শিয়া মাযহাবকে মুসলিম উম্মাহর মাঝে বহিরাগত (অনুপবেশকারী) এক সম্প্রদায় হিসেবে ধারণা করছেন,তা হল এই যে,শিয়া সম্প্রদায় ইসলামের শুরু থেকেই মুসলিম উম্মাহর এক সংখ্যালঘিষ্ঠ অংশ বই আর কিছুই ছিল না।

আর এ অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে,শিয়া না হওয়া ছিল সে সময়কার মুসলিম সমাজে প্রচলিত একমাত্র নিয়ম । আর শিয়া হওয়াটাই ছিল সেই প্রচলিত নিয়মের ব্যতিক্রম এবং (মুসলিম) উম্মাহ্ বহির্ভূত এমন বিষয় বা ঘটনা যার উৎপত্তির কারণসমূহ (তৎকালীন) প্রচলিত অবস্থার বিপক্ষে সংগ্রাম ও প্রতিরোধের ক্রমবিবর্তন ধারার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হওয়া একান্ত আবশ্যক ।

অথচ সংখ্যাধিক্য এবং আপেক্ষিক সংখ্যালঘুতকে নিয়ম ও ব্যতিক্রম নির্ণয় বা মূল-অমূলের পার্থক্য নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয় । তাই সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে শিয়া বহির্ভূত ইসলামকে মৌলিকত্ব প্রদান এবং সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে শিয়া ইসলামকে অমূলক ও ইসলাম বহির্ভূত বলে বিবেচনা করাটাও এক মারাত্মক ভুল । কেননা এটা বিশ্বাস-কেন্দ্রিক বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়ার গতি-প্রকৃতি বিরোধী । কারণ অনেক ক্ষেত্রে আমরা একই রিসালতের অবকাঠামোর মধ্যে বিশেষ কোন বিশ্বাস-কেন্দ্রিক বিভক্তিকরণ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করে থাকি যা উক্ত রিসালতের কতিপয় চিহ্ন ও নিদর্শনের সীমারেখা সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতপার্থক্যভিত্তিক । আবার কখনো কখনো দু টি আদর্শিক (বিশ্বাস-কেন্দ্রিক) সম্প্রদায় যদিও সংখ্যাগত দিক থেকে সমান নয়,তবুও সমানভাবে বিতর্কিত ঐ রিসালতটি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে । যেমনভাবে ইসলামী রিসালতের অবকাঠামোর আওতায়‘‘ শিয়া তত্ত্বের উৎপত্তির বিষয়টি একটি পরিভাষা এবং মুসলমানদের মধ্যকার একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের এক বিশেষ নাম হিসেবে শিয়া বা তাশাইয়ু শব্দের সাথে জুড়ে দেয়া ঠিক হবে না,তদ্রুপ সংখ্যাগত দিক থেকে শিয়া অশিয়া-এ দু ভাগে ইসলামী রিসালতের অবকাঠামোর ভিতরে আদর্শিক বিভক্তি সংক্রান্ত আমাদের ধারণাও কোনক্রমে সঠিক হবে না । কারণ শাব্দিক নাম ও পরিভাষাসমূহের উৎপত্তি এক জিনিষ আর অন্তর্নিহিত মূল নির্যাস বা বিষয়,সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গি এবং (পান্ডিত্যপূর্ণ)তত্ত্বের উৎপত্তি আরেক জিনিষ। তাই মহানবীর জীবদ্দশায় বা তাঁর তিরোধানের পর প্রচলিত ভাষায় আমরা শিয়া শব্দের অস্তিত্ব যদি খুজে নাও পাই তাহলে এর অর্থ দাঁড়াবে না যে,(মহানবীর জীবদ্দশায় বা তাঁর ওফাতোত্তর কালে) শিয়া তত্ত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির আদৌ কোন অস্তিত্ব ছিল না ।

সুতরাং এ মানসিকতার আলোকে শিয়া বা তাশাইয়ু (শিয়া প্রবণতা) সম্পর্কে আলোচনা এবং নিম্নোক্ত প্রশ্ন দু টির উত্তর দেয়া জরুরী । প্রশ্ন দু টি :

১ । শিয়া প্রবণতার(تشیع ) উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে?

২ । শিয়া মাযহাবের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে?

তাশাইয়ু বা শিয়া প্রবণতার উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে?

v ভবিষ্যতের দাওয়াতের বিষয়ে নেতিবাচব পদক্ষেপ ।

v শূরা বা পরামর্শের ভিত্তিতে মহানবীর (সা.) খলিফা নির্ধারণের ইতিবাচক পদক্ষেপ ।

v সরাসরি বাছাই ও প্রত্যক্ষ মনোনয়নের ভিত্তিতে মহানবীর (সা.) উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করণের ইতিবাচক পদক্ষেপ ।

প্রথম প্রশ্ন অর্থাৎ শিয়া প্রবণতা বা তাশাইয়ুর উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে? আমরা এতদসংক্রান্ত চিন্তা করে বলতে পারি যে,তাশাইয়ু হচ্ছে পবিত্র ইসলাম ধর্মেরই এক স্বাভাবিক পরিণতি এবং সেই তত্ত্বেরই বাস্তব রূপ যা একমাত্র দাওয়াত বা ইসলাম প্রচার কার্যক্রমের সুষ্ঠু বিকাশের নিশ্চয়তা বিধান করতে সক্ষম । তাই এ প্রচার কার্যক্রম কর্তৃক তা অর্জিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন । আর মহানবী (সা.) ইসলাম প্রচার কার্যক্রমের নেতৃত্ব,কার্যক্রমের গঠন-প্রকৃতি এবং তাঁর (সা.) সমসাময়িক পরিস্থিতি ও অবস্থার কারণেই দিয়েছিলেন । আর এ ইসলাম প্রচার কার্যক্রম থেকেই সরাসরি এ তত্ত্ব অর্থাৎ শিয়া মাযহাবের তত্ত্ব যুক্তিপূর্ণভাবে নির্ণয় করা সম্ভব ।

কারণ মহানবী (সা.) বৈপ্লবিক প্রচার কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিতেন এবং তিনি সমাজ, সামাজিক রীতি-নীতি,প্রথা-ব্যবস্থা এবং চিন্তা ও ভাবধারায় বাস্তবে আমূল পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করেছেন । আর এ পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি ক্ষণস্থায়ী কোন প্রক্রিয়া ছিল না বরং তা ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাপক যা জাহেলিয়াত (অন্ধকার যুগ) ও ইসলাম ধর্মের মধ্যকার বিরাজমান আধ্যাত্মিক ব্যবধান ও পার্থক্যের মতই দীর্ঘ ও ব্যাপক । তাই যে ইসলাম প্রচার কার্যক্রম মহানবী (সা.) তাঁর নিজ জীবদ্দশায় পরিচালনা করেছেন,কথা ছিল যে,তা জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতার যুগের অজ্ঞ,বর্বর মানুষকে এক নতুন সৃষ্টিতে রূপান্তরিত করবে এবং তাকে (আদর্শ) ইসলামী ব্যক্তিত্বে পরিণত করবে,যে বিশ্ববাসীর কাছে নতুন আলোর বার্তা পৌঁছে দিবে এবং জাহেলিয়াতের মূলোৎপাটন করবে ।

মহানবী (সা.) সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বিস্ময়কর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন । আর উচিৎ ছিল যে,এই সংস্কারমূলক কার্যক্রম প্রক্রিয়া এমনকি মহানবীর (সা.) ওফাতের পরও অব্যাহতভাবে সুদীর্ঘ পথ পরিক্রমণ করবে । মহানবী (সা.) তাঁর ওফাতের কিছুকাল আগে থেকেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে,তাঁর জীবনের অন্তিম মুহূর্ত অতি নিকটবর্তী,তাই তিনি এ বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় বিদায় হজ্বেও ব্যক্ত করেছিলেন । আর মৃত্যুও তাঁর কাছে হঠাৎ করে উপস্থিত হয়নি । এর অর্থ দাঁড়ায় যে,তিনি তাঁর ওফাতের পরে ইসলাম প্রচার কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করার যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পেয়েছিলেন । এমনকি যদি এক্ষেত্রে আমরা অদৃশ্য জগতের সাথে তাঁর যোগাযোগ ও সম্পর্ক এবং মহান আল্লাহ কর্তৃক ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যমে রিসালতের সরাসরি সংরক্ষণ করার বিষয়টি আদৌ বিবেচনায় না আনি।

অতএব,এ আলোচনার আলোকে আমরা প্রত্যক্ষ করি যে,মহানবী (সা.)-এর সামনে ইসলাম প্রচার কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত কেবলমাত্র তিনটি পথই উন্মুক্ত ছিল:

প্রথমতঃ নেতিবাচক পথ বা পদক্ষেপ।

দ্বিতীয়তঃ শূরা বা পরামর্শভিত্তিক ইতিবাচক পথ বা পদক্ষেপ এবং

তৃতীয়তঃ সরাসরি বাছাই,মনোনয়ন এবং নিযুক্তি ।

আর এক্ষেত্রে তিনটি আলোচনা রয়েছে ।