শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস

শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস0%

শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস লেখক:
প্রকাশক: ইসলামী সেবা দপ্তর,কোম,ইরান
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস

লেখক: আল্লামা মুহাম্মাদ রেজা আল -মুজাফফর
প্রকাশক: ইসলামী সেবা দপ্তর,কোম,ইরান
বিভাগ:

ভিজিট: 9047
ডাউনলোড: 1910

পাঠকের মতামত:

শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 51 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 9047 / ডাউনলোড: 1910
সাইজ সাইজ সাইজ
শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস

শিয়াদের মৌলিক বিশ্বাস

লেখক:
প্রকাশক: ইসলামী সেবা দপ্তর,কোম,ইরান
বাংলা

36। কবর যিয়ারত সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস :

ইমামিয়াদেরকে যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশেষায়িত করা যায় তা হলো মহানবী (সা.) ও ইমামগণের (আ.) কবর যিয়ারত সম্পর্কে তাদের বিশেষ মনযোগ ,কবরসমুহের উপর সুবিশাল ইমারত নির্মাণ ও ঐগুলোকে অটুট রাখা ইত্যাদি। ইমামীয়া বা শিয়াদের এ সকল কর্মকান্ডের সবই ইমামগণের (আ.) নির্দেশের বাস্তবায়ন ব্যতীত কিছুই নয়। তারা (আ.) স্বীয় অনুসারীদেরকে তাদের (আ.) যিয়ারতের জন্য উৎসাহিত করেছেন। তারা তাদের অনুসারীদেরকে এমন কাজে বাধ্য করেছেন যাতে অধিক সাবাব বিদ্যমান। কারণ ইমামীয়রা মনে করে এ কাজগুলো ওয়াজিব ইবাদতসমূহের পরেই গুরুত্বপূর্ণ এবং মহান আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম ইবাদত বলে পরিগনিত হয়। ইমামীয়ারা আরো বিশ্বাস করে যে ,এ কবরগুলো মহান আল্লাহ কর্তৃক দোয়া ও তাওয়াসসুল কবুলের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত স্থান। আর এ আমলগুলোকে ইমামগণের (আ.) নিকট দেয়া প্রতিশ্রুতি প্রতিপালন বলে তারা (শীয়ারা) বিশ্বাস করে।

প্রত্যেক ইমামের (আ.) ভক্তদের ও অনুসারীদের রয়েছে তাদের (আ.) প্রতি বিশেষ দায়িত্ব ও কর্তব্য । সুতরাং ইমামগণের (আ.) কবর যিয়ারতের মাধ্যমে তারা উত্তম আমলের দ্বারা তাদের কর্তব্য ও প্রতিশ্রুতি পালন ও রক্ষা করে। সুতরাং যদি কেউ তাদের প্রতি অনুরাগবশতঃ তাদের কবর যিয়ারত করে তবে প্রকৃতপক্ষে সে ইমামদের (আ.) ইচ্ছারই বাস্তবায়ন করেছে। ফলে ইমামগণ (আ.) তাদের শাফায়াতকারী হবেন। 3

কবর যিয়ারতের মধ্যে যে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রভাব লুক্কায়িত সে কারণেই এ ব্যাপারে ইমামগণ (আ.) বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন। কারণ এর ফলে ইমামগণ (আ.) ও তাদের ভক্তদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। আর মানুষের অন্তরে ইমামগণের (আ.) কীর্তি ,আখলাক ও আল্লাহর পথে তাদের জিহাদের স্মরণকে পুনরুজ্জীবিত করে।

যিয়ারতের সময় মুসলমান যেখানেই বসবাস করুক না কেন একত্রে এক জায়গায় জমায়েত হয়। ফলে পরস্পর পরস্পরের সাথে পরিচিত ও প্রিয়ভাজন হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহর হুকুমের আনুগত্য ও তার দিকে তাওয়াসসুলের অনুরাগ সৃষ্টি করে। আর ইমামগণ (আ.) থেকে বর্ণিত যিয়ারতনামার কথায় ও বিষয়বস্তুতে প্রকৃত তাওহীদের শিক্ষা এবং ইসলামের ও মোহাম্মাদী রিসালাতের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয় কৃতজ্ঞতা ও নম্রতা এবং পবিত্র আখলাকের শিক্ষা প্রদান করা হয়।

অনুরূপভাবে যিয়ারতের সময় যে পংক্তিগুলো আবৃত্তি করা হয় সেগুলো পবিত্র ইমামগণ (আ.) কর্তৃক বর্ণিত দোয়াসমূহের মতই প্রভাব রাখেন। এমনকি এ দোয়াগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই সাহিত্যমান সমৃদ্ধ ও সমুন্নততম দোয়া। যেমন- কথিত আছে যে ,যিয়ারতে আমীনাল্লাহ ইমাম যয়নূল আবেদীন (আ.) তার দাদা হযরত আলী ইবনে আবি তালিবের (আ.) কবর যিয়ারতের সময় পাঠ করেছিলেন। এ যিয়ারতনামাগুলো ইমামগণের (আ.) অবস্থান ও মর্যাদা ,সত্যের জন্য ও দ্বীনের নাম বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাদের (আ.) ত্যাগ ,মহান আল্লাহর প্রতি তাদের নির্মল আনুগত্য সম্পর্কে শীয়াদেরকে জ্ঞান দান করে। এ দোয়াগুলো সুন্দর ও শ্রুতিমধূর আরবী ও সহজ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে যাতে সাধারণ ও বিশেষ তথা সকল শ্রেনীর মানুষের পক্ষেই তা অনুধাবন করা সম্ভব হয়। এ যিয়ারতগুলো তাওহীদের সর্বোচ্চ অর্থ এবং মহান আল্লাহর সূক্ষ্ম পরিচিতি সমন্বিত। আর তা শিক্ষা দেয় কিরূপে খোদার নিকট সাহায্য চাইতে হবে এবং কিরূপে দোয়া করতে হবে।

নিঃসন্দেহে এ যিয়ারতগুলো কোরআন এবং নাহজুল বালাগা ও ইমামগণ (আ.) থেকে বর্ণিত দোয়ার পরই প্রকৃতপক্ষে সমুন্নত সাহিত্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পরিপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচিত হয়। কারণ এগুলো সংক্ষেপে চারিত্রিক পরিশুদ্ধতা ও ধর্মীয় বিষয়ে ইমামগণের (আ.) শিক্ষাকে তুলে ধরে। এছাড়া যিয়ারতের সংস্কৃতিতে এমন কিছু বিষয় শিক্ষা দেয়া হয় যে ,দ্বীনের ঐ অর্থগুলোর বাস্তবায়নকে মুসলমানদের ব্যক্তিগত মূল্যবোধসমূহের উৎকর্ষ সাধনের স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট বলে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর মুসলমানদেরকে অপরের সাথে সদাচরণ ও সদ্ব্যবহার করতে ও পারস্পরিক সম্পর্ককে পছন্দ করতে উৎসাহিত করে। কারণ এ বিষয়গুলোর সংস্কৃতিতে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো যিয়ারতকারীকে পবিত্র যিয়ারতগাহতে প্রবেশ করার পূর্বে আনজাম দিতে হয় এবং কিছু কিছু আমল আছে যেগুলোকে যিয়ারতের সময় ও তৎপরে সম্পাদন করতে হয়। এখানে আমরা এমন কিছু আদব বা সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করব যাতে মুসলমানদেরকে উপরোল্লিখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত করতে পারি।

(1) যিয়ারতের একটা আদব হলো এই যে ,যিয়ারতকারীকে যিয়ারতের পূর্বে ইসলামী বিধান মোতাবেক গোসল করতে হয়। এর ফলে তার শরীরের ময়লা দূর হয় ,রোগ-বালাই ও ক্লেশ প্রতিহত হয় যে কারণে অন্যেরা তার শরীরের দূর্গন্ধে কষ্ট পায় না। 4

এ বাহ্যিক (যা শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট) কর্মকাণ্ড স্বীয় আত্মাকেও কদর্যতা এবং কলুষতা থেকে পবিত্র করে। কারণ বর্ণিত হয়েছে যে ,যিয়ারতকারী গোসল শেষে সেই সমুন্নত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলে-

“ প্রভু হে! আমার জন্য শুভ্রতা ও পবিত্রতা দান কর ,যথার্থরূপে সকল রোগ ,বিমার ও বালা থেকে নিরাপত্তাদান কর। আর এ গোসলের মাধ্যমে আমার অন্তর ,অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ,হাড়-মাংস ,রক্ত ,লোম ,চর্ম ,আমার মস্তিতস্ক ,আমার স্নায়ুকে পবিত্র কর এবং পবিত্র কর আমা কর্তৃক স্পর্শিত পৃথিবীর স্থান সমূহকে এবং আমার অভাব ,দারিদ্র ও প্রয়োজনের সময়ে আমার জন্য সাক্ষী নির্ধারণ করে দাও। ”

(2) যিয়ারতকারী গোসলান্তে সর্বোত্তম পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করে। কারণ কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে রুচিসম্মত পোশাক পরিধান করা এমন একটি উত্তম কর্ম যার মাধ্যমে পরস্পর পরস্পরের দিকে আকৃষ্ট হয় ,একজনকে অন্যজনের নিকটবর্তী করে ,মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং সামাজিক মর্যাদার গুরুত্বের অনুভূতিকে বৃদ্ধি করে। এ শিক্ষায় যা লক্ষ্যনীয় তা হলো ,কোন ব্যক্তির জন্য এটা জরুরী নয় যে সে সবার চেয়ে ভাল পোশাক পরিধান করবে বরং তার সাধ্যমত ভাল পোশাক পরিধান করবে। কারণ প্রত্যেকেই সকলের চেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করতে পারে না। যদি তাই হত তবে তা দুর্বলদের জন্য কষ্ট বয়ে আনবে যাকে ধর্মীয় ও মানবীয় বন্ধুত্ববোধ স্বীকৃতি দেয় না। স্মরণযোগ্য এ আদেশ এরূপ যে ,একদিকে মানুষের শরীরকে দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা করে ,অপরদিকে পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে দরিদ্রদের অবস্থাকেও বিবেচনা করে।

(3) আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি মাখবে এবং এর সুফল পোশাক পরিধানের মতই।

(4) যে মানদন্ডের ভিত্তিতে দরিদ্রকে সদকা দেয়া যেতে পারে ,তার উপকারিতা হলো দরিদ্রজনকে সাহায্য করার পাশাপাশি দয়াদ্র আত্মার উৎকর্ষ সাধন করা।

(5) যিয়ারতকারী ধীর স্থিরভাবে এগিয়ে চলে এবং নামাহরাম থেকে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে রাখে। এখানে জ্ঞাতব্য যে ,যিয়ারতকারীকে হারাম শরীফের ও অন্যান্য যিয়ারতকারীদের সম্মান রক্ষা করতে হবে। তার একাগ্র মনোযোগ থাকে কেবলমাত্র মহান আল্লাহর প্রতি। মানুষের সমস্যা সৃষ্টি থেকে সে দূরে থাকতে চায় ,তাদের পথরোধ থেকে বিরত থাকতে চায়। অপরের সাথে সে অশিষ্ট আচরণ করতে চায় না।

(6) আল্লাহু আকবার ’ ধ্বনি দেয় এবং যতবার ইচ্ছা এর পুনরাবৃত্তি করে। কোন কোন যিয়ারতে এর সংখ্যা একশবার বলা হয়েছে। এ তাকবীরের উপকারিতা হলো এই যে ,এ তাকবীর উচ্চারণকারী মহান আল্লাহর মাহাত্মকে অনুভব করে এবং সে জানে যে ,এ বিশ্ব জগতে তার চেয়ে বড় আর কেউ নেই। অন্তরে সে উপলব্ধি করে যে ,এ যিয়ারত একমাত্র খোদার এবাদতের জন্যই করা হয় যা তার পবিত্রতা বর্ণনা এবং তার স্মরণ ও তার দ্বীনের উপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।

(7) মহানবীর (সা.) কিংবা ইমামগণের (আ.) কবর যিয়ারত শেষে যিয়ারতকারী ন্যূনতম পক্ষে দু রাকআত মোস্তাহাব নামায আদায় করে যাতে সে যে মহান আল্লাহ ’ তাকে এ যিয়ারতের তাওফীক দিয়েছেন সে-ই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পারে এবং নামাযের সাওয়াবকে তার উপর হাদিয়া করতে পারে যাকে সে যিয়ারত করেছে।

যিয়ারতকারী এ নামাযের পরে যে দোয়া পড়ে তা তাকে বুঝায় যে তার এ নামায ও আমল একমাত্র এক আল্লাহর জন্যই। আর এ যিয়ারতও কেবলমাত্র মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও পরশ লাভের সফলতার জন্যই। কারণ ঐ দোয়ায় সে পাঠ করে-

প্রভু হে! তোমার জন্যই নামায আদায় করেছি ,তোমার জন্যই রুকু সেজদা করেছি। কারণ তুমি হলে এক ও অদ্বিতীয়। তোমার কোন শরীক নেই। সুতরাং নামায ,রুকু ও সেজদা একমাত্র তোমারই জন্য। প্রভু হে! মোহাম্মদ (সা.) ও তার বংশধরদের (আ.) উপর সালাওয়াত ও সালাম প্রেরণ কর এবং আমার এ যিয়ারতকে কবুল কর। আর মোহাম্মদ (সা.) ও তার আহলে বাইতের (আ.) কারণে আমার প্রার্থনা গ্রহণ কর।

অতএব ,যদি কেউ ইমামগণ (আ.) ও তাদের অনুসারীদের কবর যিয়ারতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চায় (যারা যিয়ারতের ক্ষেত্রে ইমামগণেরই (আ.) পদাঙ্ক অনুসরণ করে) সে যেন এ ধরনের আদব ও কর্মকান্ডের দিকে লক্ষ্য করে এবং নির্বোধরা যা ধারণা করে সেদিকে যেন মনোযোগ না দেয়। অজ্ঞদের ধারণা এ যিয়ারতগুলো প্রকারান্তরে কবরেরই এবাদত এবং কবরবাসীর নৈকট্য কামনা যা হলো মহান আল্লাহর শরীক করা।

কিন্তু — আমার জানা মতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইমামীয়া সমাজকে পবিত্র করার নিমিত্তেই সম্পাদিত হয়। কারণ যিয়ারতানুষ্ঠানের সামাজিক ,ধর্মীয় ,ইত্যাদি বহুবিধ কল্যাণ বিদ্যমান। আর এ কাজগুলো আহলে বাইতে (আ.) শত্রুদের চোখে কাঁটার মত। নতুবা আমরা বিশ্বাস করি যে তারা এ ধরনের যিয়ারতের ক্ষেত্রে আহলে বাইতের (আ.) লক্ষ্যের হাকীকাত সম্পর্কে অজ্ঞ। কারণ আহলে বাইতের ইমামগণ (আ.) ছিলেন এমন ব্যক্তিবর্গ যারা স্বীয় নিয়্যাতকে একমাত্র মহান আল্লাহর জন্যই পরিশুদ্ধ করেছেন ,স্বীয় এবাদতে তারা (আ.) কেবলমাত্র মহান আল্লাহর প্রতিই দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন এবং একমাত্র দ্বীনের সাহায্যের জন্যই তাদের সমস্ত জীবনের চেষ্টা প্রচেষ্টাকে উৎসর্গ করেছেন। এমতাবস্থায় কিরূপে কল্পনা করা যায় যে ,এ ধরনের ব্যক্তিবর্গ মুসলমানদেরকে এবাদতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর অংশীকরণের দিকে আহবান করেছেন ?

(8) যিয়ারতের অপর একটি বিশেষ আদব হলো যে সে যেন অপরাপর যিয়াতকারীর সাথে সদাচরণ ও আদব সহকারে কথা বলে এবং স্বল্প কথা বলে যদি না কেবলমাত্র তার কথাগুলো সুকর্ম ও কল্যাণ সংশ্লিষ্ট হয় এবং অধিকাংশই আল্লাহর স্মরণ বা যিকর 5 হয়। সে যেন বিনম্রভাবে খোদার ভয়ে ভীত হয় এবং অধিকাংশ সময়ই মোহাম্মদ (সা.) ও তার বংশধরদের উপর সালাওয়াত প্রেরণ করে। চক্ষুযুগলকে খারাপ দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত রাখে ,দ্বীনী ভাইদের অভাব পূরণ করে এবং তাদের প্রতি সদয় ও ধৈর্য ধারণ করে ,আর ইসলামে যা কিছু নিষিদ্ধ হয়েছে তা থেকে দূরে থাকে। সে অপরের সাথে শত্রুতা ও দুশমনী করে না এবং অতিরিক্ত কসম করে না ,আর অপরের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় না যেখানে কসমের ব্যবহার অধিক। 6

অতএব ,উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে ,প্রকৃতপক্ষে যিয়ারত হলো মহানবী (সা.) ও তার আহলে বাইতের ইমামগণের (আ.) প্রতি সালাম উৎসর্গ করা। আর তা এ বিশ্বাসের কারণে যে , তারা (আ.) মহান আল্লাহর নিকট জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত হচ্ছেন। ” সুতরাং তারা অপরের কথা শুনতে পান এবং তার জবাব দিয়ে থাকেন। অতএব এটুকু বলা যথেষ্ট- আপনার উপর সালাম হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! উত্তম হলো ইমামগণের (আ.) নিকট থেকে যে দোয়াসমূহ বর্ণিত হয়েছে সেগুলো পাঠ করা। কারণ যেমনটি ইতিপূর্বে বলেছিলাম যে ,ঐ দোয়াগুলোতে সাহিত্যমান ,বাগ্মিতা ও শ্রুতিমধুরতা ছাড়াও আখলাকী ও সামাজিক সমুন্নত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও অধিক ধর্মীয় কল্যাণ বিদ্যমান যার মাধ্যমে মানুষ মহান আল্লাহর প্রতি বেশী মনযোগী হবে।

37। মহানবী (সা.) এর আহলে বাইতের (আ.)নিকট তাশাইয়্যূর অর্থ :

আহলেবাইতের ইমামগণ (আ.) যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হলেন ,যদিও তারা (আ.) এর জন্য কোন পরিকল্পনা করেন নি তখন তাদের (আ.) নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি ঐরূপ সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের নিকট চেয়েছিলেন। সুতরাং তারা (আ.) সমস্ত ভক্তবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তবে তাদের সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা ছিল শরীয়তের আহকাম শিক্ষা দেয়া ও মোহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা প্রচার করা। আর তারা তাদের অনুসারীদেরকে যা তাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা তাদের জন্যে ক্ষতিকর সে সম্পর্কে অবহিত করতেন। এমন কোন ব্যক্তি ইমামগণের (আ.) অনুসারী বলে পরিগণিত হত না যদি না সে মহান আল্লাহর অনুগত হত ,কুমন্ত্রণা ও স্বেচ্ছাচারিতা থেকে দূরে থাকত এবং ইমামগণের (আ.) শিক্ষা ও পথনির্দেশনা মেনে চলত।

তারা কখনোই বলতেন না যে ,শুধুমাত্র তাদেরকে (আ.) ভালবাসা মুক্তির জন্যে কোন পদক্ষেপ। যেমন কিছু মানুষ আছে যারা কুপ্ররোচনার দিকে ধাবিত হয় ,মহান আল্লাহর আনুগত্য করতে অবহেলা করে অথচ মনে করে যে ,কেবলমাত্র ইমামগণের (আ.) ভক্তিই তাদের গুনাহ মাপের কারণ হবে। কিন্তু ইমামগণ (আ.) তাদের ভক্তিকেই এবং বেলায়াত কবুল করাকেই নাজাতের উসিলা মনে করেন না। কেবলমাত্র তখনই ইমামগণের (আ.) প্রতি ভক্তি তার মুক্তির মাধ্যম হতে পারে যখন তার সাথে তার সৎকর্ম যোগ হবে। যখন সে সততা ,বিশ্বাস ,আমানতদারিতা ও তাকাওয়ার অধিকারী হবে। কারণ স্বয়ং ইমামগণ (আ.) পুনঃপুনঃ বলেছেন-

“ হে খিসামা! আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের অনুসারীদের কাছে একথা পৌঁছে দাও যে আমাদের প্রতি ভক্তি তাদেরকে খোদার মুখাপেক্ষীতা থেকে মুক্ত করে না। তারা যেন আমল করে এবং কেউ আমাদের বেলায়াতের নিকটবর্তী হতে পারে না তাকওয়া ব্যতীত।

পুনরায় বলেছেন-

কিয়ামত দিবসে সর্বাধিক আফসোস ও কষ্ট থাকবে তাদের যারা আদালতের বর্ণনা করে কিন্তু স্বয়ং অপরের প্রতি ন্যায়পরায়ণতা রক্ষা করে না। 7

ইমামগণ (আ.) সকল ক্ষেত্রে তাদের অনুসারীদের নিকট চাইতেন তারা যেন মানুষের মধ্যে সত্যের আহবানকারী হয় এবং মানুষকে কল্যাণ ও মুক্তির দিকে আহবান ও পথ নির্দেশনা করে। তারা (আ.) কর্মের মাধ্যমে আহবানকে কথার চেয়ে বেশী ফলপ্রসু বলে মনে করতেন। ইমামগণ (আ.) বলেন-

মানুষের জন্য সত্যের প্রতি আহবানকারী হও আমলের মাধ্যমে ,কথার মাধ্যমে নয় ,যাতে মানুষ কার্যতঃই তোমাদের প্রচেষ্টা ,সততা ও তাকওয়া দেখতে পায়। 8

আমরা এখন আপনাদের জন্য কিছু কথোপকথনের উল্লেখ করব যেগুলো তারা তাদের বিভিন্ন অনুসারীদের সাথে করেছেন।

(1) জাবির জায়াফীর সাথে হযরত আবুজাফর ইমাম বাকের (আ.) এর কথোপকথন -

হে জাবির! তুমি কি মনে কর যারা আমাদের বন্ধুত্বে বিশ্বাসী তারা আমাদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। না ,আল্লাহর শপথ! আমাদের প্রকৃত অনুসারী তারাই যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং তার আদেশ পালন করে। আমাদের অনুসারী হলো তারা যারা বিনয়ী ,আমানতদার ,আল্লাহর অধিক স্মরণকারী ,রোজাপালনকারী ,নামাযী ,পিতামাতার প্রতি সদাচারণকারী এবং দরিদ্র ,মিসকীন ,ঋনগ্রস্থ ,ইয়াতীম ,প্রতিবেশীদের প্রতি প্রতিবেশী সুলভ কর্তব্য পালনকারী বলে পরিচিত। তারা হবে সৎ ,কোরআন পাঠকারী! তারা কথার দ্বারা কাউকে কষ্ট দেয় না ,কারো ক্ষতি করে না! তারা ভাল কথা বলে। স্বগোত্র ও অন্যদের রক্ষাকারী ,তাদের ধন সম্পদের আমানত রক্ষাকারী। সুতরাং হে অনুসারীরা! খোদাকে ভয় কর ,তার আদেশগুলোকে পালন কর। কারণ খোদা ও বান্দাদের মধ্যে কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব নেই। বরং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত বান্দা সে - ই যে সর্বাধিক পরহেজগার এবং সর্বাধিক অনুগত।

পুনরায় তিনি বলেন-

হে জাবির! আল্লাহর শপথ কেউ আল্লাহর নৈকট্য পাবে না কেবলমাত্র আল্লাহর আনুগত্য ব্যতীত। আমরা কাউকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিতে পারব না এবং মহান আল্লাহর সম্মুখে কারোরই কোন অজুহাত নেই। হ্যাঁ ,যদি কেউ আল্লাহর আনুগত্য করে তবে তারা আমাদের প্রিয়ভাজন। আর যদি কেউ মহান আল্লাহর অবাধ্য হয় তবে সে আমাদের শত্রু । কেউই তাকওয়া ও সৎকর্ম না করে আমাদের বন্ধুত্ব ও বেলায়াতে পৌঁছাতে পারবে না।

(2) ইমাম বাকির (আ.) ও সাঈদ ইবনে হাসানের মধ্যকার কথোপকথন-

ইমাম : ওহে তোমাদের মধ্যে এমন ঘটনা কি ঘটে যে কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কাছে এসে তার ভাইয়ের ব্যাগের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে নিজের প্রয়োজনমত অর্থ তুলে নেয় অথচ তার ভাই তাকে বাধা দেয় না ?

সাঈদ : না ,এমন ঘটনার কথা আমি জানিনা।

ইমাম : সুতরাং তোমাদের মধ্যে প্রকৃত দ্বীনী ভ্রাতৃত্ববোধের কোন অস্তিত্ব নেই।

সাঈদ : তবে কি এমতাবস্থায় আমরা ধ্বংসের পথে আছি ?

ইমাম : হ্যাঁ ,নিশ্চয়ই। কারণ এরূপ ব্যক্তি যা বলে নিজে তা করে না। ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ ইসলামী আহকাম ব্যতীত আর কিছুই নয়।

(3) আবু সালেহ কেনানীর সাথে হযরত ইমাম সাদিকের (আ.) কথোপকথন-

কেনানী : আপনাদের সাথে আমাদের সম্পর্কের কারণে লোকজন কতভাবে যে আমাদেরকে তিরস্কৃত করে।

ইমাম সাদিক (আ.) : লোকজন তোমাদেরকে কিভাবে তিরস্কার করে ?

কেনানী : যখন আমাদের সাথে অন্যদের কথোকপকথন হয় তখন বলে ‘ এই খবিস জাফরী!

ইমাম সাদিক (আ.) : লোকজন তোমাদেরকে কি আমাদের শীয়া (অনুসারী) হওয়ার কারণে মন্দ বলে ?

কেনানী : হ্যাঁ।

ইমাম সাদিক (আ.) : আল্লাহর শপথ! আমার প্রকৃত অনুসারী তোমাদের মধ্যে সংখ্যায় অতি নগণ্য। আমার প্রকৃত অনুসারী হলো- তারা যাদের তাকওয়া অতি দৃঢ় ,যারা স্বীয় প্রভুর আনুগত্য করে এবং মহান আল্লাহর নিকট পুরস্কারের আশা রাখে। হ্যাঁ ,এরাই আমার প্রকৃত অনুসারী।

(4) হযরত সাদিক (আ.) এ ধরনের অনেক কথা বলেছেন। নিম্নে এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু তুলে ধরছি :

(ক) এমন কেউ আমাদের নয় ও কল্যাণের অধিকারী নয় যদি সে এক লক্ষ অধিবাসী অধ্যুষিত কোন শহরে বসবাস করে ,আর ঐ শহরে এমন অন্য কোন ব্যক্তিও আছে যে তার চেয়ে বেশী পরহেজগার।

(খ) আমরা কাউকে মূমিন বলে মনে করি না যদি না সে আল্লাহর সকল আদেশ পালন করে চলে এবং সবগুলো হুকুমের প্রতি উৎসাহিত হয়। মনে রেখ ,আমাদেরকে অনুসরণের জন্য আবশ্যকীয় বিষয় হলো তাকওয়া ও পরহেজগারী। সুতরাং তাকওয়া ও সদগুণ দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করো যাতে আল্লাহ তোমাকে স্বীয় রহমতের অন্তর্ভূক্ত করেন।

(গ) সে আমাদের শীয়াদের অন্তর্ভূক্ত নয় যার সম্পর্কে পবিত্র নারীরা তাদের নিজেদের কথোপকথনের মধ্যে যৌন বিষয়ে তার পবিত্রতা ও সংযমের কথা স্মরণ করে না। সে আমাদের শীয়াদের মধ্যে নয় যে দশহাজার অধিবাসীর কোন জনপদে বসবাস করে ,আর সেখানে এমন অন্য কেউ আছে যে তার থেকে বেশী সংযমী।

(ঘ) প্রকৃতপক্ষে জাফরী শীয়া সেই যে তার উদর ও যৌন কামনাকে অনুসরণ করে না। জাফরী শীয়ারা দ্বীনের পথে ত্যাগের ক্ষেত্রে দৃঢ় ,মহান আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং তার নিকট উত্তম পুরস্কারের আশা করে। আর তারা তার আজাবের ভয় করে। যদি এমন কোন ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাও তবে জেনে রেখ সে আমাদের শীয়া।

38। অত্যাচার থেকে দূরে থাকা :

ইমামগণ (আ.) কঠোরভাবে যে মহাপাপে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন তা হলো অন্যের অধিকার হরণ করা ও অত্যাচার করা। আর ইমামগণের (আ.) এ আদেশ কোরআনের সে আয়াতেরই প্রতিফলন যাতে জুলুম-অত্যাচারে কদর্যতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনটি বলা হয়েছে-

মনে করোনা যে মহান আল্লাহ অত্যাচারীদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বেখবর। বরং তাদের শাস্তিকে সে দিন পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন ,যেদিন চক্ষুগুলো ভয়ে পেরেশান হবে। (সূরা ইব্রাহীম আয়াত -42)

হযরত আলী (আ.) জোর-জুলুমের কদর্যতা সম্পর্কে কঠোর ভাষায় নাহজুল বালাগায় 219 নং খোতবায় বলেছেন-

যদি সাত আসমান ও এর নিম্নে যা কিছু আছে তা আসমান ও এর নিম্নে যা কিছু আছে তা আমাকে এজন্য দেয়া হয় যে ,কোন পিঁপড়ার মুখ থেকে যবের একটি খোসা ছিনিয়ে নিতে হবে ,আর এর দ্বারা খোদার অবাধ্য হতে হবে তবে আল্লাহর শপথ কখনোই আমি তা করব না।

জুলুম-অত্যাচার থেকে দূরে থাকার জন্য এখানে চূড়ান্ত পর্যায়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। আর এর কদর্যতাকে মানুষ এ পর্যায়ে অনুধাবন করতে পারে ,যেখানে পিঁপড়ার মুখ থেকে যবের খোসা পরিমাণ বস্তুও কেড়ে নিতে নারাজ। এমনকি সাত আসমানের বিনিময়েও।

এমতাবস্থায় ,যারা মুসলমানদের রক্ত ঝরিয়েছে এবং তাদের ধন সম্পদ কুক্ষিগত করেছে ,তাদের সম্মান ও যশ ঘৃণাভরে বিনষ্ট করেছে তাদের অবস্থা কী হবে ?যারা এমন ,কি করে তাদের আমলকে আমীরুল মূমীনীন আলীর (আ.) আমলের সাথে তুলনা করা যেতে পারে ?কিরূপে ঐ ধরনের ব্যক্তিরা হযরতের (আ.) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শীষ্যের মর্যাদা লাভ করতে পারে ?সত্যিই আলী (আ.) এর আচরণ হলো ধর্মীয় শিক্ষার সমুজ্জ্বল উদাহরণ যাহা ইসলাম মানবতার মাঝে সঞ্চারিত করতে চায়।

হ্যাঁ ,জুলুম হলো সবচেয়ে বড় পাপ যা মহান আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন। এ কারণেই আহলে বাইতের (আ.) দোয়া ও রেওয়ায়েতে এ কাজটি সর্বাধিক ঘৃণিত ও পরিত্যক্ত হয়েছে এবং এর কদর্যতাগুলি বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র ইমামগণ (আ.) ও তাদের অনুসারীদেরকে কঠোর ভাষায় জুলুম থেকে বিরত থাকতে বলতেন। ইমামদের (আ.) এ আচরণ শুধু তাদের শীয়াদের সাথে ছিল না বরং যারা তাদের উপর জুলুম করেছিল ,রূঢ়তা দেখিয়েছিল তাদের সাথেও তারা (আ.) একই রূপ আচরণ করতেন।

ইমাম হাসানের (আ.) ধৈর্য সম্পর্কিত বিখ্যাত ঘটনাটি উপরোক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ঐ ঘটনার বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি যে ,শামের কোন এক ব্যক্তি ইমামকে (আ.) অপমান করে কথা বলেছিল ও বিদ্বেষপূর্ণ অপবাদ দিয়েছিল। তথাপি ইমাম (আ.) তার সাথে কোমল ও বিনম্র আচরণ করেছিলেন যাতে ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে তার কুৎসিত কর্ম সম্পর্কে তাকে অবহিত করতে পারেন। কয়েক পৃষ্ঠা পূর্বে আমরা সহীফায়ে সাজ্জাদিয়ার দোয়া পড়েছিলাম যাতে দেখতে পেয়েছি কিরূপে ইমাম তাদের ক্ষমার জন্য দোয়া করেছিলেন যারা মানুষের উপর জুলুম করেছে ,আর তারা (আ.) শিক্ষা দিয়েছেন কিরূপে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। তবে শরীয়তগতভাবে সীমা লংঘনের ক্ষেত্রে অত্যাচারীদেরকে অভিশম্পাত দেয়া জায়েয। তবে এ কাজটি জায়েয হওয়া এককথা আবার ক্ষমা যা সমুন্নত আখলাকের অন্তর্ভূক্ত তা অন্যকথা। এমনকি ইমামগণের (আ.) মতে অত্যাচারীকে অভিশাপ দেয়ার ক্ষেত্রে সীমা লংঘন করাও স্বয়ং জুলুম।

ইমাম সাদিক (আ.) বলেন-

কোন ব্যক্তি অত্যাচারিত হলে যদি সে অত্যাচারীকে মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ অভিশাপ দেয় তবে সে স্বয়ং অত্যাচারে লিপ্ত হয়।

অবাক ব্যাপার! যখন অত্যাচারীকে অভিশাপ দেয়ার ক্ষেত্রে সীমা লংঘন করলে জুলুম বলে পরিগণিত হয় তখন আহলে বাইতগণের (আ.) দৃষ্টিতে ঐ ব্যক্তির স্থান কোথায় যে ব্যক্তি স্বয়ং সজ্ঞানে জুলুম অত্যাচারে লিপ্ত হয় কিংবা অপরের মান-সম্মানের হানি করে অথবা তাদের মালামাল লুট করে ,অন্য অত্যাচারীদের নিকট মানুষের বদনাম করে যাতে সেই অত্যাচারীরা মানুষের উপর খারাপ ধারণা করে কিংবা শঠতা ও ধূর্ততার আশ্রয় নিয়ে মানুষের কষ্টের কারণ হয় অথবা গুপ্তচরের হাতে মানুষকে বন্দী করে ?কারণ এ ধরনের ব্যক্তিবর্গ মহান আল্লাহর দরবারে সর্বাধিক অভিশপ্ত। তাদের পাপ ও শাস্তি অন্য সকলের চেয়ে কঠিন। আর আমল ও আখলাকের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিকৃষ্ঠতম ব্যক্তি।