শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড)

শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড)0%

শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড) লেখক:
প্রকাশক: ওয়াইজম্যান পাবলিকেশনস
বিভাগ: ইতিহাস

শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড)

লেখক: আল্লামা আব্বাস বিন মুহাম্মাদ রেযা আল কুম্মি
প্রকাশক: ওয়াইজম্যান পাবলিকেশনস
বিভাগ:

ভিজিট: 5092
ডাউনলোড: 888

পাঠকের মতামত:

শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড)
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 90 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 5092 / ডাউনলোড: 888
সাইজ সাইজ সাইজ
শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড)

শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (প্রথম খণ্ড)

লেখক:
প্রকাশক: ওয়াইজম্যান পাবলিকেশনস
বাংলা

শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস

(প্রথম খণ্ড)

(কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস)

লেখক:

আল্লামা আব্বাস বিন মুহাম্মাদ রেযা আল কুম্মি

ইংরেজী অনুবাদ:

এজায আলী ভুজওয়ারা (আল হোসাইনি)

অনুবাদ:

মুহাম্মদ ইরফানুল হক

সম্পাদনা:

এ. কে. এম. রাশিদুজ্জামান

ফাতিমা মুনাওয়ারা

ওয়াইজম্যান পাবলিকেশনস

এই বইটি আল হাসানাইন (আ.) ওয়েব সাইট কর্তৃক আপলোড করা হয়েছে ।

http://alhassanain.org/bengali

শিরোনাম : শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস (নাফাসুল মাহমুম)

লেখক : আল্লামা আব্বাস বিন মুহাম্মাদ রেযা আল কুম্মি

ইংরেজী অনুবাদ : এজায আলী ভুজওয়ারা (আল হোসাইনি)

অনুবাদ : মুহাম্মদ ইরফানুল হক

সম্পাদনা : এ. কে. এম. রাশিদুজ্জামান , ফাতিমা মুনাওয়ারা

সহযোগিতায় : কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর , ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান , ঢাকা , বাংলাদেশ

প্রকাশক : ওয়াইজম্যান পাবলিকেশনস

ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আমাদের অভিভাবক মজলুম ইমাম হোসেইন (আ.) এর জন্ম ইমাম হোসেইন (আ.) এর জন্মের দিন , মাস ও বছর নিয়ে শিয়া ও সুন্নি পণ্ডিত ব্যক্তিদের , হাদীসবেত্তাদের ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ বলেন তিনি জন্মেছিলেন শা বান মাসের তিন ও পাঁচ তারিখে অথবা হিজরি ৪র্থ বর্ষের ৫ই জমাদিউল উলাতে , আবার কেউ বলেন তা ছিলো হিজরি ৩য় বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের শেষের দিকে।

একইভাবে শেইখ তূসী তার তাহযীব -এ , শেইখ শাহীদ আল আউয়াল তার দুরূস -এ এবং শেইখ বাহাই তার তাওযীহাল মাক্বাসিদ -এ সবাই একমত এবং তারা সিক্বাতুল ইসলাম (ইসলামের বিশ্বস্ত কর্তৃপক্ষ) শেইখ কুলাইনি (আল্লাহ তার কবরকে সম্মানিত করুন) থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন যে , ইমাম জাফর আস সাদিক্ব (আ.) বলেছেন , ইমাম হাসান (আ.) (এর জন্ম) ও ইমাম হোসেইন (আ.) এর (গর্ভে আসা) মধ্যে দূরত্ব এক তুহর (পবিত্র সময়) এবং তাদের জন্মদিনের মধ্যে দূরত্ব ছয় মাস দশ দিন।

এখানে যা বোঝানে হয়েছে তা হলো ন্যূনতম পবিত্র কাল যা হলো দশ দিন। ইমাম হাসান (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন রমযানের পনেরো তারিখে। বদরের যুদ্ধের বছরে অর্থাৎ হিজরি দ্বিতীয় বছরে।

পাশাপাশি এটিও বর্ণিত হয়েছে যে , ইমাম হাসান (আ.) (এর জন্ম) এবং ইমাম হোসেইন (আ.) এর (গর্ভে আসা) দূরত্ব এক তুহর ছিলো না এবং ইমাম হোসেইন (আ.) তার মায়ের গর্ভে ছিলেন ছয় মাস।

ইবনে শাহর আশোব তার মানাক্বিব -এ উল্লেখ করেছেন কিতাব আল আনওয়ার থেকে যে , আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলুল্লাহ (সা.) কে ইমাম হোসেইন (আ.) এর গর্ভে আসা ও তার জন্ম সম্পর্কে অভিনন্দন পাঠালেন এবং একই সাথে তার শাহাদাত সম্পর্কে শোক বার্তা পাঠালেন। যখন হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.) কে তা জানানো হলো তিনি শোকাভিভূত হয়ে পড়লেন। তখন নিচের এ আয়াতটি নাযিল হয়:

) حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا(

কষ্ট নিয়ে তার মা তাকে বহন করেছে এবং কষ্টের ভেতরে সে তাকে প্রসব করেছে এবং তাকে গর্ভে বহন ও দুধ খাওয়ানো ছিলো ত্রিশ মাস। [সূরা আল আহক্বাফ: ১৫]

সাধারণত একজন নারীর গর্ভকাল হলো নয় মাস এবং কোন শিশু ছয় মাসে জন্মগ্রহণ করে বেঁচে থাকে না , শুধুমাত্র নবী ঈসা (আ.) এবং ইমাম হোসেইন (আ.) ছাড়া।

শেইখ সাদুক্ব তার বর্ণনাকারীদের ক্রমধারা উল্লেখ করে সাফিয়াহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে , তিনি বলেছেন: যখন ইমাম হোসেইন (আ.) এর জন্ম হলো আমি তখন তার মায়ের সেবা করছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার কাছে এলেন এবং বললেন , হে ফুপু , আমার ছেলেকে আমার কাছে আনো। আমি বললাম আমি তাকে এখনও পবিত্র করি নি। তিনি বললেন , তাকে তুমি পবিত্র করবে ? বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে পরিষ্কার ও পবিত্র করেছেন।

অন্য একটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে , তখন তিনি শিশুকে রাসূল (সা.) এর কাছে দিলেন যিনি তার জিভকে তার মুখের ভিতর দিলেন এবং ইমাম হোসেইন (আ.) তা চাটতে লাগলেন। সাফিয়াহ বলেন যে , আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে দুধ ও মধু ছাড়া অন্য কিছু দেননি। তিনি বলেন যে , এরপর শিশু পেশাব করলো এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তার দুচোখের মাঝখানে একটি চুমু দিলেন এবং কাঁদলেন , এরপর আমার কাছে তাকে তুলে দিয়ে বললেন , হে আমার প্রিয় সন্তান , আল্লাহ যেন তাকে অভিশাপ দেন যে তোমাকে হত্যা করবে। তিনি তা তিনবার বললেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম , আমার মা-বাবা আপনার জন্য কোরবান হোক , কে তাকে হত্যা করবে ? তিনি বললেন , বনি উমাইয়ার মধ্য থেকে যে অত্যাচারী দলটি আবির্ভূত হবে।

বর্ণিত আছে , রাসূলুল্লাহ (সা.) তার ডান কানে আযান ও বাম কানে ইক্বামাহ দিলেন। ইমাম আলী যায়নুল আবেদীন (আ.) বর্ণনা করেছেন যে , রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ইমাম হোসেইন (আ.) এর কানে আযান দিয়েছিলেন যেদিন তার জন্ম হয়েছিলো। এছাড়া বর্ণিত আছে যে , সপ্তম দিনে তার আকিকা দেয়া হয়েছিলো এবং সাদা রঙের মন কাড়া দুটো ভেড়া কোরবানী করা হয়েছিলো , এর একটি উরু এবং সাথে একটি স্বর্ণমুদ্রা ধাত্রীকে দেয়া হয়েছিলো। বাচ্চার চুল চেঁছে ফেলা হয়েছিলো এবং এর সমান ওজনের রুপা দান করা হয়েছিলো। এরপর বাচ্চার মাথায় সুগন্ধি মেখে দেয়া হয়েছিলো।

ইসলামের বিশ্বস্ত কর্তৃপক্ষ শেইখ কুলাইনি বর্ণনা করেছেন যে , ইমাম হোসেইন (আ.) তার মা হযরত ফাতিমা (আ.) অথবা অন্য কোন মহিলা থেকে দুধ পান করেননি। তাকে সবসময় রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে আনা হতো এবং তিনি তাকে তার হাতের বুড়ো আঙ্গুলটি চুষতে দিতেন। ইমাম হোসেইন (আ.) তার বুড়ো আঙ্গুল চুষতেন এবং এরপর দুই অথবা তিন দিন তৃপ্ত থাকতেন। এভাবেই ইমাম হোসেইন (আ.) এর রক্ত ও মাংস তৈরী হয়েছিলো রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রক্ত ও মাংস থেকে।

শেইখ সাদুক্ব (আল্লাহ তার কবরকে আরও পবিত্র করুন) ইমাম সাদিক্ব (আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে , যখন ইমাম হোসেইন (আ.) জন্ম নিলেন তখন আল্লাহ জিবরাঈলকে আদেশ করলেন সাথে এক হাজার ফেরেশতা নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করতে এবং রাসূল (সা.) কে আল্লাহর পক্ষ থেকে ও তার নিজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাতে। জিবরাঈল অবতরণ করলেন এবং একটি দ্বীপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে ফিতরুস নামে এক ফেরেশতা , যে আরশ বহনকারী ছিলো , বহিস্কৃত অবস্থায় পড়েছিলো। আল্লাহ একবার ফিতরুসকে একটি কাজ দিয়েছিলেন যা সে করতে দেরী করেছিলো অলসতার কারণে ; তাই আল্লাহ তার পাখা দুটো কেটে নিয়েছিলেন এবং ঐ দ্বীপে বহিষ্কার করেছিলেন। ফিতরুস সেখানে আল্লাহর ইবাদত করেছিলো সাতশত বছর ইমাম হোসেইন (আ.) জন্মের সময় পর্যন্ত। যখন ফিতরুস জিবরাঈলকে দেখলো সে তাকে জিজ্ঞেস করলো তিনি কোথায় যাচ্ছেন। জিবরাঈল উত্তরে বললেন , আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুহাম্মাদ (সা.) এর উপর নেয়ামত (ইমাম হোসেইন) দান করেছেন। আর এজন্য আল্লাহ আমাকে আদেশ করেছেন তার কাছে যেতে এবং তাকে অভিনন্দন জানাতে তার পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে। ফিতরুস বললো , তাহলে হে জিবরাঈল , আমাকেও আপনার সাথে নিয়ে চলুন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে , হতে পারে তিনি আমার জন্য দোআ করবেন। জিবরাঈল তাকে তুলে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে তাকে আনলেন। যখন তিনি সেখানে পৌঁছালেন তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে ও নিজের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানালেন , এরপর ফিতরুসের বিষয়টি উপস্থাপন করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতরুসকে আদেশ করলেন ইমাম হোসেইন (আ.) এর দেহ স্পর্শ করতে এবং ওপরে উঠতে। ফিতরুস তা-ই করলো এবং ওপরের দিকে উঠে গেলো এবং বললো , হে রাসূলুল্লাহ , আপনার এ সন্তানটি আপনার উম্মতের হাতে দয়ামায়া ছাড়া নিহত হবে। অতএব আমার উপর দায়িত্ব হয়ে যায় এ উপকারের বদলে আমি প্রতিউপকার করি। তাই এমন কোন ব্যক্তি নেই যে তার কবর যিয়ারত করবে আর আমি তাকে এগিয়ে এসে গ্রহণ করবো না এবং কোন মুসলমান নেই যে তাকে সালাম জানাবে অথবা তার জন্য দোআ করবে আর আমি তা তার কাছে পৌঁছে দিবো না এবং তার সংবাদ নিয়ে যাবো না। এ কথা বলে ফিতরুস উড়ে চলে গেলো। অন্য একটি বর্ণনায় পাওয়া যায় যে , ফিতরুস উড়ে চলে যাওয়ার সময় বললো , কে আছে আমার মত ? আমি হোসেইন (আ.) এর কারণে মুক্ত হয়েছি , যে আলী (আ.) ও ফাতিমা (আ.) এর সন্তান এবং যার নানা হচ্ছে আহমাদ (সা.) ।

শেইখ তূসী তার মিসবাহ তে বর্ণনা করেছেন যে , ক্বাসিম বিন আবুল আলা আ হামাদানি (ইমাম আলী আন-নাক্বী (আ.) এর প্রতিনিধি) ইমাম আল মাহদী (আল্লাহ তার আত্মপ্রকাশ তরান্বিত করুন)-এর কাছ থেকে একটি লিখিত ঘোষণা পান যা ছিলো এরকম: আমাদের অভিভাবক ইমাম হোসেইন বিন আলী (আ.) জন্ম নিয়েছিলেন বৃহস্পতিবার , শা বান মাসের তৃতীয় দিনে , অতএব সে দিন রোযা রাখো এবং এ দোআটি তেলাওয়াত করো , হে আল্লাহ , আমি তার নামে আপনার কাছে চাচ্ছি যিনি এ দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন (শেষ পর্যন্ত)। এছাড়া নিচের কথাগুলো উল্লেখ ছিলো , ফিতরুস তার দোলনার নিচে আশ্রয় নিয়েছিলো এবং তার পরে আমরা আশ্রয় খুঁজি তার কবরের নিচে।

মালহুফ -এ সাইয়েদ ইবনে তাউস বলেন যে , আকাশগুলোতে কোন ফেরেশতা বাকী ছিলো না যে রাসূলুল্লাহ (সা.) কে ইমাম হোসেইন (আ.) এর জন্মদিনে অভিনন্দন জানাতে ও তার শাহাদাত সম্পর্কে শোক বার্তা জানাতে আসে নি এবং তারা জানিয়েছিলো ইমামের জন্য কী পুরস্কার প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। তারা তাকে ইমাম হোসেইন (আ.) এর কবর দেখালেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) দোআ করলেন , হে আল্লাহ , তাকে পরিত্যাগ করো যে হোসেইনকে পরিত্যাগ করে এবং তাকে হত্যা করো যে হোসেইনকে হত্যা করে এবং তাকে কোন প্রাচুর্য দান করো না যে তার মৃত্যু থেকে সুবিধা নেয়ার ইচ্ছা করে।

প্রথম অধ্যায়

ইমাম হোসেইন (আ.) এর কিছু গুণাবলী ,

তার দুঃখ-কষ্ট স্মরণ করে কাঁদার পুরস্কার ,

তার হত্যাকারীদের ওপর অভিশাপ দেয়া এবং

তার শাহাদাতের বিষয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী সম্পর্কে

পরিচ্ছেদ - ১