জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম

জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম0%

জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম লেখক:
প্রকাশক: -
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম

লেখক: নূর হোসেন মজিদী
প্রকাশক: -
বিভাগ:

ভিজিট: 642
ডাউনলোড: 173

জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 30 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 642 / ডাউনলোড: 173
সাইজ সাইজ সাইজ
জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম

জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম

লেখক:
প্রকাশক: -
বাংলা

জ্ঞানতত্ত্ব সম্বন্ধে যথেষ্ট জানার আছে এবং লেখক , সাংবাদিক ও জ্ঞানগবেষকদের জন্য এ বিষয়ে বিস্তারিত অধ্যয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। এ পুস্তকে এ বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা দেয়া হয়েছে মাত্র। আশা করি এ পুস্তক পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে এ বিষয়ে অধিকতর অধ্যয়নের আগ্রহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। আর তাহলেই অত্র পুস্তকের সফলতা।

জ্ঞানতত্ত্ব ও ইসলাম

নূর হোসেন মজিদী

ভূমিকা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

জ্ঞানতত্ত্ব ( Epistemology -علم المعرفة/ نظرة المعرفة/ شناخت شناسی )হচ্ছে এমন একটি মানবিক বিজ্ঞান যা স্বয়ং জ্ঞান নিয়ে চর্চা করে। অর্থাৎ জ্ঞান বলতে কী বুঝায় , জ্ঞানের বিভিন্ন প্রকরণ , জ্ঞানের উৎসসমূহ , জ্ঞান আহরণের মাধ্যমসমূহ ও তার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই , সঠিক জ্ঞানের পথে প্রতিবন্ধকতাসমূহ ও তা দূরীকরণের পন্থা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।

প্রশ্ন হচ্ছে , ইসলামের সাথে জ্ঞানতত্ত্বের সম্পর্ক কী ?

ইসলাম হচ্ছে জ্ঞানের ধর্ম ; বরং একমাত্র ইসলামই জ্ঞানের ধর্ম। কোরআন মজীদের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে:اِقراء - পড়ো। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা আলা মানুষের কাছ থেকে সর্বপ্রথম যা দাবী করলেন তা হচ্ছে , মানুষ পড়বে - জ্ঞান অর্জন করবে। কিন্তু এ জ্ঞান হতে হবে নির্ভুল জ্ঞান। কারণ , জ্ঞানে যদি বড় ধরনের ভুল থাকে তাহলে সে জ্ঞান অজ্ঞতা বা অজ্ঞানতার চেয়েও অধিকতর অবাঞ্ছিত এবং সে জ্ঞান কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণই বেশী নিয়ে আসে।

বস্তুতঃ ভ্রান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ জ্ঞান মানুষকে এমনভাবে বিপথে নিয়ে যেতে পারে যে , তার পক্ষে আর সুপথে ফিরে আসার সুযোগ ও সম্ভাবনা লাভের পথ খোলা না-ও থাকতে পারে। এ বিষয়টি কোরআন মজীদেও সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে:

) أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلا تَذَكَّرُونَ( .

(হে রাসূল!) তাহলে আপনি কি তাকে দেখেছেন যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তিকে স্বীয় ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ্ জ্ঞানের ওপরে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন , আর তার (অন্তরের) শ্রবণশক্তি ও ক্বলবের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন , আর তার (অন্তরের) দর্শনশক্তির ওপর আবরণ তৈরী করে দিয়েছেন ? অতঃপর আল্লাহর পরে আর কে তাকে পথ দেখাবে ? অতঃপর তোমরা কি (এ থেকে) শিক্ষা গ্রহণ করবে না ? (সূরাহ্ আল্-জাছিয়াহ্: 23)

এভাবে জ্ঞান যাদের পথভ্রষ্টতার কারণ তাদের কতকের পরিচয় আল্লাহ্ তা আলা পরবর্তী আয়াতেই পেশ করেছেন। আল্লাহ্ তা আলা এরশাদ করেন:

) وَقَالُوا مَا هِيَ إِلا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ(

আর তারা বলে: আমাদের এ পার্থিব জীবন ছাড়া আর কী আছে ? আমরা মৃত্যুবরণ করি , আর জীবিত থাকি এবং মহাকাল ব্যতীত কোনো কিছু আমাদেরকে ধ্বংস করে না। (আসলে এ ব্যাপারে) তাদের (প্রকৃত) জ্ঞান নেই ; তারা তো কেবল ধারণা-বিশ্বাস পোষণ করে মাত্র। (সূরাহ্ আল্-জাছিয়াহ্: 24)

এ যুগেও অনেক তথাকথিত জ্ঞানী ও দার্শনিক এ ধরনের মত পোষণ করেন। বলা বাহুল্য যে , তাঁদের এ সব মতামত অকাট্য জ্ঞান ভিত্তিক নয় , বরং এগুলো তাঁদের ধারণা বা বিশ্বাস মাত্র। অতএব , কোনো জ্ঞান নির্ভুল ও অকাট্য কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা একটি অপরিহার্য প্রয়োজন। জ্ঞানতত্ত্ব এ প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করে থাকে।

অবশ্য কেউ হয়তো বলতে পারেন যে , নির্ভুল জ্ঞান ও পথনির্দেশের জন্য আল্লাহ্ তা আলার কিতাব কোরআন মজীদের দ্বারস্থ হওয়াই যথেষ্ট , অতঃপর আর জ্ঞানতত্ত্বের সাহায্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা থাকে না।

তিনটি কারণে এ যুক্তি অর্থাৎ জ্ঞানতত্ত্বের মুখাপেক্ষিতা প্রয়োজন না হওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।প্রথমতঃ জন্মসূত্রে যারা মুসলমান আল্লাহ্ তা আলা কোরআন মজীদকে কেবল তাদের হেদায়াতের জন্যই নাযিল করেন নি। (বস্তুতঃ যখন কোরআন মজীদ নাযিল শুরু হয় তখন এবং তার পরেও বহু বছর যাবত কোনো জন্মসূত্রে মুসলমান ছিলো না।) বরং সমস্ত মানুষের সামনে উপস্থাপন ও গ্রহণের জন্য তাদের প্রতি আহবান জানানোর লক্ষ্যেই কোরআন মজীদ নাযিল করা হয়েছে। অতএব , যাদের সামনে কোরআন মজীদের দাও আত পেশ করা হবে তাদের ভ্রান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ জ্ঞানের ভ্রান্তি ও ত্রুটি চিহ্নিত ও খণ্ডন করার যোগ্যতা অর্জন করা মুসলমানদের জন্য , বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী জ্ঞানগবেষকদের জন্য অপরিহার্য।

দ্বিতীয়তঃ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দার্শনিকতার নামে এমন বহু বিভ্রান্তিকর ধারণার অস্তিত্ব রয়েছে যার মুখোমুখি হলে খুব কম লোকের পক্ষেই তুখোড় অপযুক্তির বেড়াজাল ছিন্ন করে সে সবের ভ্রান্তি বুঝতে পারা সম্ভব হয়। ফলে অনেকে , এমনকি কোরআন মজীদকে একনিষ্ঠভাবে আঁকড়ে ধরেছিলো এমন অনেক লোকও পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। এভাবে অনেকের ঈমান হুমকির সম্মুখীন হয়।

তৃতীয়তঃ কোরআন মজীদের তাৎপর্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বহু বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা যায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে এ মতপার্থক্য অত্যন্ত গুরুতর হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ , নবী-রাসূলগণ (আঃ)-এর পক্ষে পাপকাজ সম্পাদন করা সম্ভব কিনা এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে এবং এ মতপার্থক্যের উৎস কোরআন মজীদের এতদসংশ্লিষ্ট আয়াত সমূহের তাৎপর্য গ্রহণে মতপার্থক্য। আর শোষোক্ত ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের জন্য যে সব কারণ দায়ী তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জ্ঞানের সঠিক সংজ্ঞা এবং সঠিক জ্ঞান ও ভুল জ্ঞান চিহ্নিত করার মানদণ্ডের সাথে অনেকেরই পরিচয় না থাকা। এ পরিচয় অর্জনে সহায়তা করাই জ্ঞানতত্ত্বের কাজ।

শুধু ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদগণই নন , যে কোনো শাস্ত্রের জ্ঞানচর্চাকারীদের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি ( مقدمات ) হিসেবে মানবিক বিজ্ঞানের কয়েকটি শাখার সাথে ভালোভাবে পরিচয় থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি। সেগুলো হচ্ছে : যুক্তিবিজ্ঞান , জ্ঞানতত্ত্ব , দর্শন ও তাৎপর্যবিজ্ঞান এবং সেই সাথে যে ভাষার তথ্যসূত্রাদি ব্যবহার করা হবে (উৎস ভাষা - source language- زبان مبدء ) ও যে ভাষায় লেখা হবে (লক্ষ্য ভাষা - target language- زبان مقصد ) এবং তার ওপরে ব্যাকরণের ব্যাপক ও গভীর জ্ঞান সহ দক্ষতা।

বক্ষ্যমাণ পুস্তকটি মূলতঃ জ্ঞানতত্ত্ব সম্বন্ধে অত্যন্ত সংক্ষেপে কিছুটা ধারণা দেয়ার লক্ষ্য একটি ছোট বৈঠকের জন্য প্রবন্ধ আকারে লেখা হয়েছিলো। পরে এটি অধিকতর সংক্ষিপ্ত আকারে সাপ্তাহিক রোববার-এ প্রকাশিত হয়েছিলো। এরপর কয়েক বছর আগে (2010-এর শেষার্ধে) একটি লেখক-সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কোর্সের ক্লাস নিতে গিয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে কিছুটা ধারণা দিতে গিয়ে অনেক দিন আগেকার এ প্রবন্ধটি খুঁজে বের করি এবং কম্পিউটারে কম্পোজ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেই। কম্পোজ করতে গিয়ে এটিকে কিছুটা পরিমার্জন ও সামান্য সম্প্রসারণ করেছি।

জ্ঞানতত্ত্ব সম্বন্ধে যথেষ্ট জানার আছে এবং লেখক , সাংবাদিক ও জ্ঞানগবেষকদের জন্য এ বিষয়ে বিস্তারিত অধ্যয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। এ পুস্তকে এ বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা দেয়া হয়েছে মাত্র। আশা করি এ পুস্তক পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে এ বিষয়ে অধিকতর অধ্যয়নের আগ্রহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। আর তাহলেই অত্র পুস্তকের সফলতা।

গ্রন্থটি থেকে যদি পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যকার একজনও উপকৃত হন তাহলেই লেখকের পরিশ্রম সার্থক হবে। যদিও জ্ঞানতত্ত্বের সাথে পরিচিতি সকল ধরনের জ্ঞান-বিজ্ঞানের গবেষকের জন্যই অপরিহার্য , তবে ইসলামী জ্ঞানচর্চাকারীদের জন্য অনেক বেশী অপরিহার্য এবং কেবল এ কারণেই অত্র বিষয়ে লিখতে উদ্যোগী হই। তাই আল্লাহ্ তা আলার কাছে প্রার্থনা , তিনি অত্র গ্রন্থ থেকে এর সকল পাঠক-পাঠিকাকে উপকৃত হবার তাওফীক্ব দিন এবং এটিকে এর লেখক , পাঠক-পাঠিকা এবং প্রচার-প্রসারে সহায়তাকারী সকলের পরকালীন নাজাতের জন্য সহায়ক হিসেবে কবূল্ করে নিন।

বিনীত

নূর হোসেন মজিদী

জ্ঞানতত্ত্বের ওপর এক নযর

জ্ঞান অর্জন সম্ভব কি ?

জ্ঞানতত্ত্বের প্রথম আলোচ্য বিষয় হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব কিনা। এ প্রসঙ্গে এক বাক্যে জ্ঞানের সংজ্ঞা উল্লেখ করা যেতে পারে: জ্ঞান হচ্ছে যে কোনো বস্তুগত ও অবস্তুগত অস্তিত্ব , ঘটনা , সম্পর্ক ও তাৎপর্য সম্বন্ধে এমন মনোলোকীয় রূপ যা হুবহু প্রকৃত অবস্থার প্রতিনিধিত্বকারী হবে। অর্থাৎ মানবমস্তিষ্কের ধারণক্ষমতার আওতায় কোনো কিছুর সঠিক প্রতিনিধিত্বকারী অবস্তুগত রূপই হচ্ছে সে সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান।

কিন্তু সুপ্রাচীন কাল থেকেই এ প্রশ্ন ছিলো এবং এখনো আছে যে , কোনো কিছু সম্পর্কে সত্যকে জানা তথা সত্যিকারের জ্ঞান অর্জন করা আদৌ সম্ভব কিনা ? এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনেককেই বলতে শোনা যায়: যখন যার কথা শুনি তখন তা-ই সত্য বলে মনে হয় , সকলের কথায়ই যুক্তি আছে ; আসলে কোনটি সত্য তা কে জানে! হয়তো কোনোটিই সত্য নয় , হয়তো সত্যকে জানা আদৌ সম্ভব নয়।

এ জাতীয় বক্তব্য অনেক সময় দৃশ্যতঃ খুবই যুক্তিসিদ্ধভাবে উপস্থাপন করা হয় , ফলে অনেকের কাছে তা গ্রহণযোগ্য মনে হয় এবং তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে , সত্যকে জানা যায় না।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর চিন্তা নতুন নয়। বরং যদ্দূর জানা যায় , প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে এ ধরনের চিন্তাধারার সূচনা হয়েছিলো। খৃস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে গ্রীসে প্রোতাগোরাস ( Protagoras) ও গর্জিয়াস ( Gorigias) প্রমুখ একদল পণ্ডিত দাবী করেন যে , সত্য ও মিথ্যার কোনো অকাট্য মানদণ্ড নেই , বরং সত্য ও মিথ্যা ধারণা-কল্পনা মাত্র। প্রোতাগোরাস বলেন , প্রত্যেকেই নিজে যেমন বুঝেছে ঠিক সেভাবেই কোনো বিষয়ে মত ব্যক্ত করে , আর যেহেতু লোকদের বুঝ-সমঝ বিভিন্ন সেহেতু একই বিষয়ে তাদের মতামতও বিভিন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং হতে পারে যে , একটি বিষয় সত্যও , আবার মিথ্যাও

এ ধরনের চিন্তাধারা পোষণকারীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে খুবই সুদক্ষ ছিলেন এবং প্রতিপক্ষের লোকেরা সাধারণতঃ তাঁদের মতামত খণ্ডন করতে পারতেন না। তাই তাঁরা সমাজে জ্ঞানী ( sophist)বলে পরিচিত হন। সক্রেটিস , প্লেটো ও এরিস্টোটল এদের বিভ্রান্তিকর মতাদর্শের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।

সক্রেটিসের যুগের পরবর্তীকালে সন্দেহবাদীদের উদ্ভব ঘটে। সফিস্ট ও সন্দেহবাদীদের চিন্তাধারার মধ্যে পার্থক্য এই যে , সফিস্টরা যেখানে সত্যকে ধারণা-কল্পনাভিত্তিক মনে করতেন অর্থাৎ পরস্পরবিরোধী ধারণাসমূহের সবগুলোকেই তথা প্রত্যেকের জন্য নিজ নিজ ধারণাকে সত্য বলে তথ্য সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ের কোনো সর্বজনীন মানদণ্ড নেই বলে মনে করতেন , সেখানে সন্দেহবাদীদের অভিমত ছিলো এই যে , সত্যকে আদৌ জানা সম্ভব নয়। তাঁদের মতে , জ্ঞান আহরণের মাধ্যম পঞ্চেন্দ্রিয় ও বিচারবুদ্ধি ( عقل - reason) উভয়ই ভুল তথ্য সরবরাহ করে , অতএব , প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। সন্দেহবাদী গ্রীক পণ্ডিত পিরহো ( Pyrho) জ্ঞানার্জন সম্ভব নয় - এ মতের সপক্ষে দশটি প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

সন্দেহবাদীদের কথা হচ্ছে , ইন্দ্রিয় ও বিচারবুদ্ধি উভয় জ্ঞানমাধ্যমই ভুল করে। প্রতিটি ইন্দ্রিয়ই ভুল তথ্য সরবরাহ করে। পঞ্চেন্দ্রিয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তথ্য সরবরাহকারী ইন্দ্রিয় হচ্ছে চক্ষু , কিন্তু চক্ষু কয়েকশ ধরনের ভুল করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ , চক্ষু দূরের বড় জিনিসকে ছোট দেখতে পায়। অন্যান্য ইন্দ্রিয়ও ভুল করে , যেমন: ত্বক । উদাহরণস্বরূপ , দু টি উষ্ণ ও শীতল পানির পাত্রে দু হাত ডুবিয়ে অতঃপর দুয়ের মাঝামাঝি তাপমাত্রার পানির পাত্রে উভয় হাত ডুবালে এক হাতে গরম ও এক হাতে ঠাণ্ডা অনুভূত হবে , অথচ একই পানি , অতএব , তা একই সময় ঠাণ্ডা ও গরম দুইই হতে পারে না। আর বিচারবুদ্ধির ভুল আরো বেশী। তাঁরা বলেন , যে এক জায়গায় ভুল করেছে তার সব জায়গায়ই ভুল করার সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। অতএব , ইন্দ্রিয়নিচয় ও বিচারবুদ্ধি কোনোটির ওপরই আস্থা রাখা যায় না। সুতরাং সত্যে উপনীত হওয়া বা জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।

তাঁরা আরো একটি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন স্বপ্নের স্বরূপের দৃষ্টান্ত দিয়ে। তাঁরা বলেন , আমরা যখন স্বপ্ন দেখি তখন তাকে বাস্তব বলেই মনে করি। স্বপ্নে হাসি আছে , কান্না আছে , আনন্দ আছে , বেদনা আছে ; রূপ , রস , বর্ণ , গন্ধ , স্বাদ তথা সব কিছুই আছে। স্বপলোকের সব কিছুই আমাদের কাছে বাস্তব বলে মনে হয়। কিন্তু ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা বুঝতে পারি যে , তা স্বপ্ন ছিলো , বাস্তব ছিলো না। অতএব , আমরা যাকে বাস্তব বলি অর্থাৎ আমাদের এ জীবনও যে এক ধরনের স্বপ্ন নয় তার নিশ্চয়তা কোথায় ? হয়তো এ-ও স্বপ্ন - মৃত্যুতে যার অবসান ঘটবে এবং আমরা প্রকৃত বাস্তবতায় ফিরে যাবো। অতএব , মোদ্দা কথা , সত্যকে জানা বা জ্ঞানার্জন করা সম্ভব নয়।

কিছু কিছু অকাট্য জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব

ইন্দ্রিয়নিচয় ও বিচারবুদ্ধি যে ভুল করে থাকে তা অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। অতএব , এতদুভয়ের প্রদত্ত তথ্যের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা যেতেই পারে। আর কোনো কিছু সম্বন্ধে সন্দেহ হওয়ার মানেই হচ্ছে তার যথার্থতা যেমন নিশ্চিত নয় তেমনি তার সঠিক হওয়াও অসম্ভব নয়। তাই তা চোখ বুঁজে গ্রহণ করা যেমন উচিত হবে না , ঠিক সেভাবেই তা চোখ বুঁজে প্রত্যাখ্যান করাও উচিত হবে না। বরং পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ভ্রান্তিগুলো চিহ্নিত করা যেতে পারে। আর যতই ভ্রান্তি চিহ্নিত করা যাবে ততই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। এভাবে কতক বিষয়ে অবশ্যই অকাট্য জ্ঞানে উপনীত হওয়া সম্ভব হবে। ইমাম গাযযালী ও দেকার্তে ( Descartes)সংশয় থেকে শুরু করে প্রত্যয়ে উপনীত হন এবং সংশয়বাদীদের মোকাবিলা করেন।

এ ব্যাপারে দেকার্তের যুক্তি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন , সকল বিষয়ে সংশয় পোষণ করতে পারি , কিন্তু সংশয় পোষণের ব্যাপারে তো আর সংশয় পোষণ করতে পারে না। তাহলে অন্ততঃ এই একটি বিষয়ে প্রত্যয় পোষণ করছি। আর যেহেতু আমি সংশয় পোষণ করি সেহেতু আমি আছি - এ ব্যাপারেও প্রত্যয় পোষণ করি। এছাড়া এমন কিছু বা এমন অনেক কিছু আছে যে ব্যাপারে আমি সংশয় পোষণ করছি। তাহলে এরূপ কিছু আছে যার স্বরূপ জানি না বলে সে সম্পর্কে সংশয় পোষণ করছি। তেমনি এ ব্যাপারেও প্রত্যয় পোষণ করি যে , ইন্দ্রিয়নিচয় ও বিচারবুদ্ধির অস্তিত্ব আছে এবং তারা ভুল করে থাকে। অতএব , এখানে আমরা কয়েকটি অস্তিত্বের ব্যাপারে সংশয়মুক্ত ও প্রত্যয়ের অধিকারী , সেগুলো হচ্ছে: সংশয় নামক একটি অবস্থা , সংশয় পোষণকারী ব্যক্তি , যে বিষয় সম্পর্কে সংশয় পোষণ করা হয় , জ্ঞান আহরণের দু টি মাধ্যম - ইন্দ্রিয়নিচয় ও বিচারবুদ্ধি এবং এতদুভয় ভুল করে থাকে। আর যেহেতু বিচারবুদ্ধি ভুল চিহ্নিত করতে সক্ষম এবং উক্ত বিষয়গুলোতে নির্ভুল সিদ্ধান্ত ও প্রত্যয়ে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছে সেহেতু বিচারবুদ্ধির পক্ষে ভুল চিহ্নিত করে অন্ততঃ কতক বিষয়ে নির্ভুল জ্ঞানে উপনীত হওয়া সম্ভব।

আরেকটি যুক্তি সংশয়বাদীদের চিন্তা ও দর্শনের ভিত্তিকে পুরোপুরি ধ্বসিয়ে দিতে সক্ষম। তা হচ্ছে: সমস্ত বিষয়ই সংশয়ের আবর্তে নিমজ্জিত - এ ধারণাকে যদি তারা নির্ভুল ও অকাট্য বলে প্রত্যয় পোষণ করে তাহলে এ থেকে প্রমাণিত হয় যে , অন্ততঃ এই একটি ব্যাপারে তাদের সংশয় নেই। সে ক্ষেত্রে সব কিছুই সংশয়ের আবর্তে নিমজ্জিত - এ দাবী ভুল প্রমাণিত হয়ে যায় । অর্থাৎ অন্ততঃ কিছু বিষয়ে সংশয়মুক্ত প্রত্যয় হাসিল করা যায়। আর সব কিছুই সংশয়ের আবর্তে নিমজ্জিত - এ ধারণা সত্য হবার ব্যাপারেও যদি তাদের সংশয় থেকে থাকে তাহলে তাদের এ সংশয়ই তাদের তত্ত্বকে অগ্রহণযোগ্য করে দেয়। কারণ , যে তত্ত্বের সঠিক হবার ব্যাপারে সংশয় আছে তার ভিত্তিতে অন্য কোনো তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই ও সে সম্বন্ধে সংশয় পোষণ করা যেতে পারে না।

জ্ঞানের স্তরভেদ

যে কোনো প্রপঞ্চ বা বিস্তারিতভাবে বিবৃত বিষয় ( phenomena- پدیده ) সম্বন্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির জ্ঞান বিভিন্ন স্তরের হতে পারে। (এখানে আমরা ভুলজ্ঞান বা ভুলমিশ্রিত জ্ঞানকে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের বাইরে রাখছি।) কারো জ্ঞান হাল্কা ও অগভীর এবং কারো জ্ঞান গভীর হতে পারে। আবার কারো জ্ঞান সম্পূর্ণ ও কারো জ্ঞান অসম্পূর্ণ হতে পারে এবং অসম্পূর্ণ জ্ঞানের ক্ষেত্রেও অসম্পূর্ণতা বিভিন্ন পর্যায়ের হতে পারে। যেমন: প্রথম বারের মতো কেউ যখন সকাল বেলা পূর্বাকাশে সূর্যকে উদয় হওয়ার অবস্থায় দেখতে পায় তখন সে তাকে একটি অস্তিত্ব হিসেবে বুঝতে পারে ; তার এ জ্ঞান সত্য , তবে খুবই অগভীর , অসম্পূর্ণ ও প্রাথমিক স্তরের। কারণ , সে এটাকে একটা সোনালী চাকতি বলে মনে করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এর পরিচয় বা স্বরূপ সম্বন্ধে তার ধারণা ভুল , কিন্তু এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার ধারণা সঠিক তথা জ্ঞানের পর্যায়ভুক্ত। পরে যদি সে বুঝতে পারে যে , এটি একটি আলোদানকারী অস্তিত্ব তাহলে সূর্য সম্বন্ধে তার জ্ঞান পূর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও উন্নততর স্তরের হলো। এভাবে সে এর আয়তন , অবস্থান , উপাদান , গঠনপ্রক্রিয়া , গতি , অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক আলোড়ন , এর অণু-পরমাণুগুলোর অবস্থান ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্বন্ধে অবহিত হতে পারে।

জ্ঞানের আরেকটি স্তরগত ব্যবধান হচ্ছে স্বয়ং জ্ঞাত অস্তিত্বটি (বস্তুগত-অবস্তুগত নির্বিশেষে) যখন ব্যক্তির কাছে হাযির থাকে এবং যখন তা হাযির না থাকে শুধু সে সংক্রান্ত অবস্তুগত রূপ তার মস্তিষ্কে বিদ্যমান থাকে। যেমন: সূর্য সামনে থাকাকালে সূর্য সংক্রান্ত জ্ঞান এবং সূর্য আকাশে অনুপস্থিত থাকাকালে মস্তিষ্কে বিদ্যমান সে সংক্রান্ত ধারণা।

তেমনি আরেকটি স্তরগত ব্যবধান হচ্ছে , জ্ঞানের বিষয়টি জ্ঞানের অধিকারীর স্মৃতি বা অনুভূতিতে শক্তিশালী বা হাল্কাভাবে বা সুপ্তভাবে উপস্থিত থাকতে পারে। যেমন: জ্ঞানের অধিকারীর কাছে তীব্র ক্ষুধার অবস্থায় , হাল্কা ক্ষুধার অবস্থায় ও ক্ষুধা না থাকা অবস্থায় ক্ষুধা সংক্রান্ত জ্ঞান। এটাকে জ্ঞানের শক্তি ও দুর্বলতার স্তরগত ব্যবধান বলা যেতে পারে।

জ্ঞানের আরেকটি স্তরগত বিভিন্নতা হচ্ছে এই যে , কোনো কোনো ক্ষেত্রে জ্ঞানের অধিকারী , জ্ঞান ও জ্ঞানের বিষয়বস্তু অভিন্ন , কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বিভিন্ন। ব্যক্তির নিজস্ব সত্তা এবং তার বিভিন্ন অবস্তুগত বৈশিষ্ট্য , যেমন: ক্ষুধা , তৃষ্ণা , যৌনানুভূতি ইত্যাদি সংক্রান্ত জ্ঞান প্রকৃত পক্ষে তার নিজস্ব সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। অন্যদিকে তার বিভিন্ন ধারণা ও কল্পনা - প্রকৃত পক্ষে সে নিজেই যেগুলোর স্রষ্টা , সেগুলোর তার নিজ সত্তার বাইরে কোনো অস্তিত্ব নেই , কিন্তু তা তার সত্তার অপরিহার্য অংশ বা বৈশিষ্ট্যও নয় । অন্যদিকে তার সত্তার বাইরের বস্তুগত ও অবস্তুগত জগতসমূহের বিভিন্ন অস্তিত্ব তার সত্তায় নিহিত নেই , কিন্তু সে সম্পর্কে তার জ্ঞান আছে।

তেমনি কারো জ্ঞান কোনো কিছুর সমগ্র সম্পর্কে হতে পারে , অথবা তার অংশবিশেষ সম্বন্ধে হতে পারে। কারো সামনে সমগ্র অস্তিত্বের সকল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দিক , বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা সহকারে সদাবিদ্যমানতা হচ্ছে জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তর এবং এ জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা আলারই রয়েছে।

জ্ঞানের বিভিন্ন প্রকরণ

জ্ঞানকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভিন্ন প্রকরণে বিভক্ত করা যায়। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে অনেক সময় কোনো জ্ঞান মাত্র একটি বিভাগে পড়ে এবং কোনো জ্ঞান একাধিক বিভাগে পড়তে পারে। জ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের বিভাগের ক্ষেত্রে কতক বিভাগের নাম একাধিক ধরনের বিভাগে অভিন্ন এবং কতক নাম বিভিন্ন অর্থাৎ অভিন্ন নামের বিভাগের সংজ্ঞা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথক হতে পারে।

মাধ্যমবিহীন ও মাধ্যমনির্ভর জ্ঞান

এ সব দৃষ্টিকোণের মধ্যে এক বিবেচনায় জ্ঞান দুই প্রকারের: মাধ্যমবিহীন বা স্বতঃ জ্ঞান ও মাধ্যমনির্ভর জ্ঞান। জ্ঞানের অধিকারী কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই , এমনকি স্বীয় ইন্দ্রিয়নিচয়ের সাহায্য ছাড়াই যে জ্ঞানের অধিকারী তা-ই মাধ্যমবিহীন বা স্বতঃ জ্ঞান। আর কোনো না কোনো মাধ্যমের সাহায্যে সে যে জ্ঞানের অধিকারী হয় তা মাধ্যমনির্ভর জ্ঞান। জ্ঞানের অধিকারীর স্বীয় অভ্যন্তরীণ সত্তা এবং তার সত্তার বিভিন্ন গুণ-বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা , যেমন: ক্ষুধা , তৃষ্ণা , আনন্দ , বিষাদ ইত্যাদি সম্বন্ধে তার জ্ঞান প্রথম পর্যায়ের। এ সব বিষয়ের জ্ঞান যে , মাধ্যমনির্ভর নয় , শুধু তা-ই নয় , বরং জ্ঞানের অধিকারী , জ্ঞান ও জ্ঞানের বিষয়বস্তু অভিন্ন। তবে জ্ঞানের অধিকারীর শরীর ও এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ এ সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ , এ সবের জ্ঞানের অধিকারী হবার জন্য তাকে ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নিতে হয়।

এক বিবেচনায় জ্ঞান তিন প্রকারের: অনর্জিত (غير اکتسابی ) , অর্জিত (اکتسابی ) ও বিচারবুদ্ধি কর্তৃক উৎপাদিত (تولیدی عقلی ) জ্ঞান। অনর্জিত জ্ঞান তা-ই যার অধিকারী হওয়ার জন্য তাকে কোনো রকমের ইন্দ্রিয়গত বা চৈন্তিক চেষ্টাসাধনা করতে হয় নি। এ ধরনের জ্ঞান দুই রকমের: (1) স্বীয় সত্তা , স্বীয় সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের সত্যতা , স্বীয় ক্ষুধা-তৃষ্ণা ইত্যাদি সহজাত জ্ঞান (علم فطری ) এবং (2) অন্তরে উদ্ভূত জ্ঞান (علم قلبی ) যেমন: ওয়াহী ও ইলহামের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান। অর্জিত জ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান ও পরীক্ষালব্ধ বা অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান। এছাড়া মানুষের বিচারবুদ্ধি (عقل ) অন্যান্য জ্ঞান পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন করে থাকে।