সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার0%

সত্য কাহিনী সম্ভার লেখক:
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ: চরিত্র গঠনমূলক বই

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক: শহীদ আয়াতুল্লাহ মুর্তাজা মোতাহহারী
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ:

ভিজিট: 18176
ডাউনলোড: 1800

সত্য কাহিনী সম্ভার
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 79 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 18176 / ডাউনলোড: 1800
সাইজ সাইজ সাইজ
সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক:
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বাংলা

এ বইটি তার বিষয়ের সর্বপ্রথম ও অনন্য অবতারণা হোক অথবা না হোক , এর জন্য প্রাপ্য ফুলের মামলার যোগ্য পাত্র আমি নই , অর্থাৎ যদি এ বইটি কাহিনী রচনার জগতে কোন গুরুত্বপূর্ণ নতুন অবতারণার দাবিদার হয় তাহলে তার গোড়াপত্তনকারী আমি নই। বরং প্রকাশনা ও প্রচারণার একটি প্রতিষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞ বিজ্ঞ বিজ্ঞানী-গুণী কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি সম্পাদনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ অধমও সে বোর্ডের একজন সদস্য। দেশের খ্যাতনামা লেখক ও বিজ্ঞতম ব্যক্তিত্ব সমৃদ্ধ সে বোর্ডের এক বৈঠকে প্রস্তাব রাখা হলো যে , এমন একটি গ্রন্থ রচিত হওয়া উচিত যার মধ্যে চারিত্রিক সুন্দর ও গুণাবলী কাহিনী আকারে উপস্থাপিত থাকবে। আর সে কাহিনীগুলো লেখকের নিজের মস্তিষ্ক থেকে আবিস্কৃত বা নিজের খেয়াল মোতাবেক তৈরি হবে না। বরং তার ভিত্তিমূল ও উৎস হবে হাদীস , বাস্তব জীবন ও ইতিহাসের গ্রন্থরাজি। এর সংকলনের উদ্দেশ্য থাকবে মুসলিম সমাজকে শিক্ষা দান এবং যুব সমাজকে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন ও পরিচালনা করা।

37

বুযনতী

আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবী নছর বুযনতী সেকালের সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ওলামা ও জ্ঞানীদের মধ্যে পরিগণিত হতেন। অনেক দিন পর্যন্ততার ও ইমাম আলী রেজা (আঃ)-এর মধ্যে পত্র বিনিময় হচ্ছিল। বুযনতী অসংখ্য প্রশ্ন লিখে ইমামের কাছে পাঠাতেন। ইমাম (আঃ) তার প্রতিটি প্রশ্নের জবাব অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে দিতেন। অবশেষে বুযনতী ইমামের ইমামতে বিশ্বাসী হয়ে গেলেন। একদিন তিনি ইমামের কাছে আবেদন জানালেন , সরকারে পক্ষ থেকে আমার উপর চলাফেরার ব্যাপারে কোন বিধি-নিষেধ নেই। যে কোন স্থানে যাতায়াতের স্বাধীনতা আমার আছে। অতএব আমার মনের অনেক আশা যে , একদিন আমি আপনার বাড়িতে আসবো এবং আপনার জ্ঞান- গরিমা থেকে আরো উপকৃত হবো।

একদিন ইমাম আলী রেজা (আঃ) নিজের বিশেষ বাহন পাঠিয়ে বুযনতীকে নিজের মেহমান হিসেবে ডেকে পাঠালেন। জ্ঞান-গর্ভ বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও প্রশ্ন-উত্তরের মধ্যে দিয়ে আধা রাত পেরিয়ে গেলো। বুযনতী একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন এবং ইমাম (আঃ) অত্যন্ত বিজ্ঞতার সাথে জবাব দিতে থাকেন। বুযনতী নিজের মনে এ ধারণা পোষণ করে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত ছিলেন যে , আজ ইমাম তাকে মেহমান হিসেবে ডেকে পাঠিয়েছেন আর তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইমামের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করার সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন।

রাত অতিবাহিত হতে লাগলো। এভাবে ঘুমের সময় হলো। ইমাম (আঃ) তার খাদেমকে ডেকে বললেন , আমি যে বিছানায় শয়ন করি সে বিছানাটি এনে বিছিয়ে দাও। তাতে বুযনতী বিশ্রাম নিবে।

এমন আন্তরিক ভালোবাসা বুযনতীর হৃদয়ে একটা অসাধারণ দাগ কাটে। তিনি কল্পনার জগতে হারিয়ে গেলেন। মনে মনে ভাবতে লাগলেন , আজ আমার চেয়ে বেশী সৌভাগ্যবান লোক দুনিয়াতে আর কেউ নেই। ইমাম আমার আসার জন্য তার নিজের বিশেষ বাহন পাঠিয়েছেন। আমি সেই ব্যক্তি যার সাথে ইমাম রেজা (আঃ) অর্ধরাত পর্যন্ত আলাপ-আলোচনা করেছেন এবং আমার প্রশ্নাবলীর জবাব দিয়েছেন। আমি সে সৌভাগ্যবান , যখন আমার বিশ্রাম নেয়ার সময় হয়েছে তখন ইমাম নির্দেশ দিলেন তার নিজের বিছানা আমার জন্য বিছিয়ে দিতে। কাজেই জগতে আমার চেয়ে বেশী ভাগ্যবান আর কে হতে পারে ?

এ দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছুকে নিজের পায়ের নিচে দেখছিলেন। হঠাৎ ইমাম (আঃ) বসা থেকে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বুযনতীকে ইয়া আহমদ বলে ডাকলেন। ইমামের ডাকে তার কল্পনার রাজ্যে ছেদ গেলো। অতঃপর ইমাম (আঃ) তাকে বললেন , আজ তোমার সাথে যা কিছু ঘটেছে সেটাকে তুমি নিজের জন্য গর্ব করার এবং অপরাপর মুসলমানদের উপর নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাববার বিষয় হিসাবে গ্রহণ করো না। কেননা ছা ছায়া ইবনে ছোহান হযরত আলী (আঃ)-এর বড় সাহাবী ছিল। একবার সে অসুস্থ হলে হযরত আলী (আঃ) তাকে দেখার জন্য তার বাড়িতে গেলেন। অনেকক্ষণ পর্যন্ত তার সাথে আন্তরিক ভালোবাসা ও স্নেহসুলভ আচরণ করলেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে তার মাথায় হাত বলালেন। কিন্তু সেখান থেকে যাবার সময় আলী (আঃ) তাঁর বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বললেন , আজকের আমার এ আচরণ তোমার জন্য গর্ব ও বড়াই করার বিষয় হিসাবে নিয়ো না। কেননা এটা তোমার শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্বের নিদর্শন নয়। আমি এ কাজগুলো আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য কাজ মনে করে আঞ্জাম দিয়েছি। সুতরাং কখনো কারো এ চিন্তা করা উচিত নয় যে , এ জাতীয় কাজ তার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন।48

38

আলীর মেহমান আকীল

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আঃ)-এর খেলাফতকাল। তার ভাই জনাব আকীল একবার কুফায় তার বাড়িতে মেহমান হলেন। হযরত আলী (আঃ) তার বড় ছেলে ইমাম হাসানকে ইঙ্গিত করলেন যে , স্বীয় চাচা আকীলকে একটি জামা উপহার দাও। ইমাম হাসান একটি জামা ও নিজের পক্ষ থেকে একটি রিদা (চাদর) চাচার খেদমতে উপহার হিসেবে পেশ করলেন। দিন শেষে রাত এলো। গ্রীষ্মকাল। হযরত আলী ও তাঁর ভাই আকীল দারুল খেলাফতের ছাদে বসে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। কথাবার্তার মধ্য দিয়ে রাতের খাবার সময় হয়েছে। জনাব আকীল নিজেকে খলিফার মেহমান হিসাবে ভাবছিলেন । তাই তার আশা ছিল যে , আজ দস্তরখানে রকমারী ও রং বেরংয়ের মজাদার খাবার সাজানো থাকবে। কিন্তু তার আশার বিপরীত অত্যন্তসাধারণ খাবার দস্তরখানে দেখতে পেলেন। অবাক হয়ে দস্তরখানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন , খাবার জন্যে তোমাদের যা প্রস্তুতি তা কি শুধু এই ?

আলী (আঃ) বললেন , এগুলো কি খোদার নেয়ামত নয় ? আমি তো খোদার এ নেয়ামতগুলোর জন্যই লাখ লাখ শুকুর আদায় করি।

জনাব আকীল বললেন , তাহলে আমার প্রয়োজনের কথাটা তোমাকে বলে তাড়াতাড়ি এখান থেকে বিদায় নেবো। আসল কথা হলো , আমি ঋণের দায়ে জর্জরিত আছি। এখন তুমি হুকুম দাও খুব তাড়াতাড়ি যেন বাইতুলমাল থেকে আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়াও ভাই হিসাবে যতদূর তোমার পক্ষে সম্ভব আমাকে সাহায্য করো যেন প্রশান্তির মন নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারি।

হযরত আলী (আঃ) জিজ্ঞাসা করলেন , আপনার ঋণ কত টাকা ?

জনাব আকীল বললেন , এক লাখ দিরহাম।

হযরত আলী (আঃ) বললেন , উহ্! এক লাখ দিরহাম ? এতো বিরাট অংকের টাকা ? অত্যন্ত আফসোসের সাথে বলতে হচ্ছে যে , আমার কাছে এতো টাকা নেই যে , আপনার ঋণ পরিশোধ করতে পারি। কিন্তু কিছুদিন অপেক্ষা করুন। আমার মাসিক ভাতা পাওয়ার সময় নিকটবর্তী। আমার ভাতার টাকা থেকে আমি আমার নিজের অংশটা আপনাকে দিয়ে দেবো। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের যে অধিকার রয়েছে সে ব্যাপারে আমি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করবো না। যদি পরিবার-পরিজনের দায়-দায়িত্ব আমার উপর না থাকতো তাহলে আমি আমার সমস্ত পয়সাই আপনাকে দিয়ে দিতাম। আমার নিজের জন্য কিছুই রাখতাম না।

জনাব আকীল বললেন , তুমি এসব কি বলছো ? আমি তোমার বেতন পাওয়া অবধি অপেক্ষা করবো ? তুমি এ ধরনের কথাবার্তা কেন বলছো ? দেশের সমস্ত টাকা পয়সা ও বাইতুলমাল তোমার হস্তগত। আর তুমি নাকি আমাকে বলছো বেতনের সময় নিকটবর্তী। কাজেই বেতন হওয়া অবধি আমি অপেক্ষা করতে থাকবো। তারপর তুমি তোমার বেতনের কিছু অংশ আমাকে দেবে। অথচ বাইতুলমাল তোমার হাতেই। তুমি যত ইচ্ছা বাইতুলমাল থেকে নিতে পারো। তাহলে কেন আমাকে বেতনের হাওয়ালা দিচ্ছো ? আর কতো টাকাই বা তুমি বাইতুলমাল থেকে বেতন পাও ? ধরে নাও তুমি তোমার সমস্ত বেতনটাই আমাকে দিয়ে দিলে , তাতেও তো আমার ব্যথার উপশম হবে না।

হযরত আলী (আঃ) বললেন , আপনার চিন্তা-ভাবনার উপর আমি অবাক হচ্ছি। রাষ্ট্রের বাইতুলমালে টাকা পয়সা আছে কি নেই তাতে আমার আর আপনার কি আসে যায় ? আমার ও আপনার তো ততটুকু অধিকার যতোটুকু আর সব মুসলমান ভাইয়ের রয়েছে। এ কথা সত্য যে , আপনি আমার ভাই। অতএব আমার কর্তব্য রয়েছে যে , যথাসাধ্য আপনার সাহায্য করা। কিন্তু সে সাহায্য বাইতুলমাল থেকে নয় , বরং ব্যক্তিগত অর্থ থেকে।

এভাবে দুই ভাইয়ের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে। জনাব আকীল স্বীয় ভ্রাতা আলীকে বার বার বলতে থাকলেন যে , বাইতুলমালের দ্বার খুলে দিয়ে সেখান থেকে তার প্রয়োজনীয় অর্থ তাকে দিয়ে দিতে যাতে করে তিনি লোকদের পাওনা পরিশোধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারেন।

তারা যেখানে বসে কথাবার্তা বলছিলেন সেখান থেকে কুফার বাজার পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। ব্যবসায়ী-বণিকদের নিজেদের টাকা পয়সা রাখার সিন্দুকগুলোও দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। জনাব আকীল বার বার তার ভাই আলীর কাছে খোশামোদের ভাষায় জিদ করছিলেন , আমাকে বাইতুলমাল থেকে প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা দিয়ে দাও , যাতে করে আমি ঋণমুক্ত হতে পারি।

হযরত আলী (আঃ) বললেন , আপনি খালি খালি জিদ করছেন আর আমার কথা বুঝতে চাচ্ছেন না। আপনি যদি আমার কথা বুঝতে চান তাহলে আসুন আমি আপনাকে একটা পন্থা বলে দিচ্ছি। যদি সে পন্থা অবলম্বন করতে পারেন তাহলে আপনার সমস্তঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয় , আপনার নিজের খরচাদির জন্যও অনেক টাকা বেঁচে যাবে।

জনাব আকীল বললেন , কি সে পন্থা ?

হযরত আলী (আঃ) বললেন , দেখুন। এ বাজারে অনেক টাকার সিন্দুক পড়ে আছে। এখন রাত্রি বেলা। সমস্ত বাজার নীরব নিস্তব্ধ। আপনি নিচে চলে যান। বাজারে গিয়ে সিন্দুকগুলোর তালা ভেঙ্গে আপনার যত টাকা প্রয়োজন নিয়ে নিন।

জনাব আকীল বললেন , এ সিন্দুকগুলো কার ? আলী বললেন , এগুলো ব্যসায়ীদের নিজস্ব সিন্দুক। তারা সারাদিন পরিশ্রম করে কেনা-বেচা করে যা টাকা আয় করেছে তা এ সিন্দুকগুলোতে রেখে তারা বাড়ি চলে গেছে।

আকীল বললেন , বড় আশ্চর্যের কথা। তমি আমাকে পরামর্শ দিচ্ছ যে , লোকদের সিন্দুকের তালা ভেঙ্গে সে সমস্ত লোকের টাকা-পয়সা নিয়ে নিতে যারা সারাদিন খেটে অনেক কষ্ট-ক্লেশ করে টাকা- পয়সা উপার্জন করে নিজেদের সমস্ত কামাই-পুঁজি আল্লাহর উপর ভরসা করে এ সিন্দুকগুলোতে রেখে ঘরে চলে গেছে। তুমি কি আমাকে এ কথা বলতে চাও যে , তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের জমাকৃত টাকা-পয়সা চুরি করে নিয়ে যাবো ?

আলী (আঃ) বললেন , তাহলে আপনি আমাকে এ পরামর্শ কেন দিচ্ছেন আর তার উপর জিদ করছেন যে , আমি সমস্ত মুসলমানের বাইতুলমালের তালা খুলে আপনার প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা আপনাকে দিয়ে দিতে ? আপনি নিজেই বলুন। এ বাইতুলমাল কার ? বস্তুত এ সম্পদ তো তাদের যারা নিজেদের ঘর-বাড়িতে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে। আপনি খুব ভালোভাবেই জানেন যে , বাইতুলমাল আমার ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। যেভাবে রাতের অন্ধকারে ব্যবসায়ীদের সিন্দুকের তালা ভাঙ্গা একটা অবৈধ কাজ , তেমনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাইতুলমালের দরজা খোলাও অপরাধ। আচ্ছা আসুন। আমি আপনাকে আরেকটি পন্থাও বলছি। যদি আপনার পছন্দ হয় তাহলে এ প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে পারেন।

জনাব আকীল , তোমার দ্বিতীয় প্রস্তাব কি ?

আলী (আঃ) বললেন , আপনি যদি ভালো মনে করেন তাহলে আপনার তলোয়ার হাতে নিন। আমিও আমার তলোয়ার তুলে নেবো। কুফার নিকটেই একটি পুরাতন শহরে নাম হাইরাহ। সেখানে বড় বড় বণিক-সওদাগরদের বাড়িঘর। রাতের অন্ধকারে আমরা দুই ভাই মিলে সেখানে যাবো। আর সে সওদাগরদের কোন একজনের বাড়িতে ডাকাতি করে পর্যাপ্ত টাকা পয়সা নিয়ে ফিরে আসব। আকীল বললেন , হে আমার প্রিয় ভাই। আমি এখানে চুরি-ডাকাতি করার জন্য আসি নাই। আর তুমি আমাকে এ সবের প্রস্তাব দিচ্ছো। আমি তো কেবল তোমাকে এ কথা বলছি যে , আমাকে রাষ্ট্রীয় বাইতুলমাল থেকে সে কয়টা টাকা দান করো যা দ্বারা আমার ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে পারি।

আলী (আঃ) বললেন , আমরা দুই ভাই মিলে এক ব্যক্তির মাল চুরি করা উত্তম নাকি হাজার হাজার মুসলমানদের তথা সমস্ত মুসলমানদের অধিকার চুরি করা ? এটা আপনার কোন ধরনের চিন্তা-ভাবনা ও কি রকম যুক্তি যে , তলোয়ারের সাহায্যে এক ব্যক্তির মাল নিয়ে নেয়া চুরি আর বাইতুলমাল থেকে সাধারণ মুসলমানদের মাল তুলে নেয়া চুরি নয় ? আমার মনে হয় আপনার নিকট চুরি-ডাকাতির অর্থ হচ্ছে কোন লোক নিজের শক্তি প্রয়োগ করে কারো কাছ থেকে তার মাল ছিনিয়ে নেয়া। ভাইজান।

আপনি বাইতুলমালের দরজা খুলে টাকা পয়সা বের করার কথা বলছেন। কিন্তু আপনার জানা থাকা উচিত যে , সব চেয়ে নিকৃষ্ট চুরি হচ্ছে এটাই , যা আপনি এখন আমাকে করার জন্য বলছেন।49

39

ভয়ানক স্বপ্ন

সে একটি স্বপ্ন দেখে প্রচণ্ড ঘাবড়ে গেল। আর সব সময় সে স্বপ্নের নানা রকম ভয়ানক ব্যাখ্যা চোখের সামনে দেখতে লাগলো। সে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় হযরত ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ)-এর খেদমতে এসে বললো , আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে , একটি কাঠের মানুষ একটি কাঠের ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে আছে। তার হাতে একটি তলোয়ার। আর সে তলোয়ারটি শুন্যের মধ্যে চালনা করছে। এ স্বপ্নটি দেখে আমি খুব ভয় পেয়ে গেলাম। আমার চোখের সামনে সব সময় সে স্বপ্নটি ভেসে উঠছে। দয়া করে আমাকে সে স্বপ্নটির তা বীর বলে দিন। যাতে করে আমি এ ভয়-ভীতি থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি।

ইমাম (আঃ) বললেন , তোমার দৃষ্টি এক ব্যক্তির ধন-দৌলতের উপর লেগে আছে। তুমি সব সময় এ চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত থাকো যে ,কি করে তার ধন-দৌলত আত্মসাৎ করা যায়। তুমি আল্লাহকে ভয় করো। আর এ ধরনের চিন্তা- ভাবনা থেকে বিরত থাকো।

লোকটি বললো , নিঃসন্দেহে আপনি একজন প্রকৃত ও সত্যিকার আলেম। এতে কোনই সন্দেহের অবকাশ নেই যে , আপনি জ্ঞানের খনি ও ভাণ্ডার থেকে ইলম ও জ্ঞান হাসিল করেছেন। আমি এ কথা স্বীকার করছি যে , আমার অন্তরে এরূপ একটি খেয়াল ছিল। আসলে আমার প্রতিবেশী এক আত্মীয়ের নিকট অনেক জায়গা জমি আছে। তার টাকা-পয়সারও খুব বেশী দরকার। তাই সে তার জমি-জায়গা বিক্রি করতে চাচ্ছে। আর আমি ছাড়া তার এ সম্পত্তি খরিদ করার মতো ক্রেতা বর্তমান কেউ নেই। তখন আমি এ চিন্তা-ভাবনায় লেগেছিলাম যে , তার প্রয়োজনের সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অল্প মূল্যে তার সমস্ত সম্পদ কিনে নেবো।50

40

বনু সায়ে দার বস্তিতে

বর্ষার রাত। চারিদিকে অন্ধকার ছেয়ে আছে। এমন নীরব-নিস্তব্ধ অন্ধকার পরিবেশে ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) একাকী ঘর থেকে বের হলেন। বনু সায়ে দার বস্তির দিকে যাচ্ছিলেন। ইমামের নিকটতম এক সাথী মায়ালী ইবনে খুনাইস , যে ইমামের পারিবারিক খরচাদি দেখাশোনা করতো সে ইমামের এভাবে বাড়ি থেকে বের হওয়াটা লক্ষ্য করেছে। সে নিজের মনে বলতে লাগলো এভাবে অন্ধকার রাতে ইমামের একা একা যাওয়া ঠিক হবে না। তাই সে ইমামের পিছে পিছে ধীরে ধীরে চলতে লাগলো। তার ও ইমামের মাঝে দূরত্ব এতোখানি ছিল যে , সে এ অন্ধকারের মধ্যে ইমামের অবয়বটাই শুধু দেখতে পাচ্ছিল।

সে ধীরে ধীরে ইমামের পিছে পিছে চুপচাপ চলছিল। হঠাৎ তার মনে হলো যেন ইমামের কাঁধ থেকে কোনো জিনিস মাটিতে পড়ে গেছে। আর ইমামের ক্ষীণ কণ্ঠে শব্দ হলো। ইমাম বলছেন , হে আমার আল্লাহ! এগুলোকে আমায় ফিরিয়ে দাও।

এমনি সময় মায়ালি ইমামের সামনে গিয়ে তাকে সালাম নিবেদন করলো। কথা শুনেই ইমাম বুঝতে পারলেন যে , এটা মায়ালী। জিজ্ঞাসা করলেন , তুমি কি মায়ালী ?

জবাবে সে বললো , জী হ্যাঁ। আমি মায়ালী।

ইমামের প্রশ্নের জবাব দেবার পর মায়ালী গভীরভাবে দেখতে লাগলো যে , ইমামের কাঁধ থেকে কি জিনিস মাটিতে পড়ে গেছে। সে দেখলো যে , কিছু রুটি মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

ইমাম (আঃ) বললেন , এ রুটিগুলোকে তুলে আমার কাছে দাও।

মায়ালী রুটিগুলোকে তুলে ইমামের কাছে দিল। রুটিগুলোকে তুলে একত্র করার পর দেখা গেল যে , এত বড় একটা বোঝা হলো যা , একজন লোক কোন রকমে কাঁধে করে বহন করতে পারে।

মায়া লী বললো , হে ইমাম! আপনি অনুমতি দিলে বোঝাটি আমি নিতে পারি।

ইমাম (আঃ) বললেন , না! তোমার দরকার হবে না। এ কাজের জন্য তোমার চেয়ে আমিই বেশী উপযুক্ত।

ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) রুটির বোঝাটি নিজের কাঁধে তুলে নিলেন এবং দুইজনে পথ চলতে লাগলেন। কিছু দূর চলার পর তারা বনু সায়েদার বস্তিতে গিয়ে পৌঁছলেন।

সেটা ছিল দরিদ্র অসহায় লোকদের বস্তি। যাদের বাড়ি-ঘর ও ঠিকানা ছিল না। তারা এসে সেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই বানাতো।

সেখানে পৌঁছে তারা দেখতে পেলেন যে , বস্তির সমস্তলোক ঘুমিয়ে আছে। একজনও জেগে নেই। ইমাম (আঃ) প্রত্যেকেরই কাপড়ের নিচে একটি দুটি করে রুটি রেখে দিলেন। রুটি বন্টনের সময় ইমাম খুব সতর্কতার সাথে লক্ষ্যে রাখলেন যেন কেউ বাদ পড়ে না যায়। রুটি বণ্টন শেষে ইমাম মায়ালীকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন।

মায়ালী জিজ্ঞাসা করলো , হে ইমাম! আপনি এই গভীর রাতে এ লোকদের মাঝে কষ্ট করে রুটি বণ্টন করলেন। এরা কি সব শিয়া ছিল ? তারা কি ইমামতে বিশ্বাস রাখে ?

ইমাম (আঃ) বললেন , না! এরা ইমামতে বিশ্বাস করে না। যদি এরা ইমামতে বিশ্বাসী হতো তাহলে আমি রুটির সাথে নিমকও আনতাম।51

41

ইয়াহুদীর সালাম

রাসূল (সাঃ)-এর স্ত্রী বিবি আয়েশা তাঁর কাছে বসেছিলেন , এমন সময় একজন ইয়াহুদী উপস্থিত হলো। সে আসসালামু আলাইকুম বলার পরিবর্তে বললো , আসসামু আলাইকুম অর্থাৎ তোমাদের মৃত্যু হোক। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই অপর একজন ইয়াহুদী এলো। সেও আসসালামু আলাইকুম এর বদলে আসসামু আলাইকুম বললো। এতে বোঝা গেল যে , তারা একটা পরিকল্পনাভিত্তিক এ ধরনের মৌখিক খারাপ আচার-ব্যবহার দ্বারা রাসূলের অন্তরে আঘাত হানতে চায়। এতে বিবি আয়েশা অত্যন্ত ক্রোধান্বিতা হলেন এবং চিৎকার করে বললেন , মৃত্যু আসুক তোমাদের উপর এবং...।

রাসূলে আকরাম (সাঃ) বললেন , হে আয়েশা! অসংযত কথাবার্তা বলো না। অসংযত ও অশ্রাব্য কথাবার্তা যখন বড় আকৃতি ধারণ করে তখন তার আকৃতি হয় অত্যন্তবিশ্রী , কুৎসিৎ। নম্রতা , ভদ্রতা ও ধৈর্য ধারণের পন্থা যারা অবলম্বন করে , এগুলো তাদের শ্রী-বৃদ্ধি করে ও তাদেরকে আকর্ষণীয় করে তোলে। নম্রতা ও ভদ্রতা মানুষকে সৌন্দর্য দান করে। কোন বিষয়ে যখন নম্রতা ও সভ্যতার অভাব থাকে তখন সেখানে সৌন্দর্য ও আকর্ষণ কমে যায়।তুমি এভাবে অসন্তুষ্ট ও রাগান্বিতা হয়ে গেলে কেন ?

বিবি আয়েশা বললেন , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আপনি কি দেখেননি যে , এ লোকেরা অপমানজনক ও নির্লজ্জভাবে আসসালামু আলাইকুম এর স্থলে কি বলেছে ?

নবী (সাঃ) বললেন , তাতে কি হয়েছে ? তুমি হয়তো লক্ষ্য করোনি , আমিও জবাবে বলেছি , আলাইকুম অর্থাৎ তোমাদের উপর। তাদের জবাবের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।52 .

42

হযরত আবু যার গিফারীর নামে পত্র

হযরত আবু যার গিফারী একটি পত্র পেলেন। পত্রটি খুলে তিনি পাঠ করলেন। দেখলেন পত্রটি অনেক দূর থেকে এসেছে। এক ব্যক্তি পত্রের মাধ্যমে তার কাছে উপদেশ চেয়েছে। সে লোকটি জনাব আবু যার গিফারী সম্পর্কে অবগত ছিল। সে জানতো যে , রাসূলে আকরাম (সাঃ) তাকে কতোই না ভালোবাসতেন। রাসূলের কাছে তার কতোই না মর্যাদা ও সম্মান। তিনি রাসূলের সংস্পর্শে থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উচ্চ শিক্ষা হাসিল করেছেন।

হযরত আবু যার গিফারী তার পত্রের জবাবে খুবই ছোট্ট একটি মাত্র কথা লিখে দিলেন। কথাটি ছিল এই , যাকে তুমি আর সকলের চেয়ে বেশী ভালোবাসো , তার সাথে মন্দ আচরণ ও শত্রুতা করো না। শুধু এতটুকুন লিখেই তিনি পত্রটি পাঠিয়ে দিলেন।

উপদেশ প্রার্থী লোকটি জনাব আবু যারের পত্র পেয়ে খুলে পড়লো। কিন্তু সে কিছুই বুঝতে পারলো না। সে নিজের মনে নিজে বললো , তার মানে কি ? এ কথার উদ্দেশ্য কি ? যাকে তুমি সমস্তলোকের চেয়ে বেশী ভালোবাসো , তার সাথে মন্দ আচরণ ও শত্রুতা করো না , এটা তো একটা জানা কথা। এর মধ্যে আর বিশেষ কি কথা ? এটা কি করে সম্ভব হতে পারে যে , মানুষ যাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসবে আবার তারই সাথে মন্দ আচরণ করবে এবং তার সাথে দুশমনি করবে ? মন্দ ও দুশমনি করা তো দূরের কথা , মানুষ তার প্রিয়জনের জন্যে নিজের জান-মাল , এমন কি নিজেকেও উৎসর্গ করে দিতে প্রস্তুত থাকে।

পক্ষান্তরে সে এ বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করতে লাগলো। সে বার বার এ কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে যে , তিনি এ কথাটি এমনিতেই লিখে দেননি। নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন না কোন রহস্যঘন কথা রয়েছে। এ কথাটি কোন সাধারণ মানুষ লিখেনি। কথাটি লিখেছেন মহানবী (সাঃ)-এর একজন প্রিয়তম সাহাবী জনাব আবু যার গিফারী। যার উপাধি হচ্ছে এ উম্মতের লোকমান। যার জ্ঞান-গরিমা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশও নেই। সে যা হোক , এ কথাটির উদ্দেশ্য লোকটি বুঝতে পারলো না।

অবশেষে সে এ কথাটির ব্যাখ্যা চেয়ে আবার জনাব আবু যারের কাছে পত্র লিখলো।

জবাবে হযরত আবু যার লিখলেন , আমার দৃষ্টিতে তোমার সব চেয়ে প্রিয়তম বন্ধু তুমি নিজেই। আমার মতে তুমি ছাড়া অন্য কেউ তোমার এত নিকটতম নেই। তুমিই তোমাকে আর সব মানুষের চাইতে অধিক ভালোবাসো। আর আমি যে লিখেছি , তুমি তোমার সব চাইতে প্রিয় বন্ধুর সাথে মন্দ ও দুশমনি করো না। এর অর্থ হলো তুমি তোমার নিজের সাথে মন্দ ও দুশমনি করো না। তুমি হয়তো জানো না যে , মানুষ যখন গুনাহ ও পাপের কাজ করে , তখন সে তার সেগুলোর কারণে নিজেকেই নিজে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। আর গুনাহের কাজ করে সে নিজেই নিজের দুশমনিতে লিপ্ত হয়ে থাকে।53

43

অনির্দিষ্ট পারিশ্রমিক

সেদিন সোলাইমান ইবনে জা ফর জা ফরী ও হযরত ইমাম আলী রেজা (আঃ) কোনো কাজে একত্রে বের হয়েছিলেন। সারাদিন কাজ করতে করতে সূর্যাস্তহয়ে গেল। সুলাইমান ইবনে জা ফর বাড়ী যেতে চাইলো। ইমাম আলী ইবনে মূসা আর রেজা (আঃ) তাকে বললেন , হে জা ফর! আজ রাত তুমি আমার এখানেই থেকে যাও। জা ফর ইমামের নির্দেশ মেনে তাঁর বাড়িতে তাঁর সাথেই থেকে গেল।

বাড়িতে পৌঁছে ইমাম দেখতে পেলেন সকল গোলামই ফুল লাগানোর কাজে লিপ্ত আছে। সে সময় ইমাম দেখতে পেলেন আরো একটি অচেনা লোক তাদের সাথে কাজ করছে। ইমাম জিজ্ঞাসা করলেন , এ লোকটি কে ?

জবাবে গোলামরা বললো , এ লোকটিকে আমরা আজ দিন মজুর হিসাবে আমাদের সাথে কাজে লাগিয়েছি যাতে করে সমস্তকাজ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়।

ইমাম বললেন , বেশ ভালো কাজ করেছো। তার পারিশ্রমিক কত নির্ধারণ করেছো ?

গোলামরা বললো , কাজের শেষে তাকে তার খুশি মোতাবেক কিছু দিয়ে দেবো। এ কথা শোনার পর ইমাম (আঃ)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টি ও রাগের ছাপ পরিলক্ষিত হলো। তিনি খুব ক্রোধ ভরে গোলামদের দিকে তাকালেন। মনে হচ্ছিল যেন তাদেরকে বেত্রাঘাত করে উচিত শিক্ষা দিবেন। এ সময় সোলাইমান জা ফরী সামনে এসে বললো , হে ইমাম! আপনি এভাবে রেগে গেলেন কেন ?

ইমাম (আঃ) বললেন , আমি এদেরকে বার বার বলেছি যে , পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করে কাউকে কাজে লাগিয়ো না। কাউকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমে তার পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করা উচিত। তারপর তাকে কাজে লাগানো ঠিক হবে। কাজের শেষে নির্দিষ্ট মজুরীর চাইতে কিছুটা বেশী দিলেও দোষ নেই। নির্ধারিত মজুরীর চেয়ে কিছুটা বেশী পেলে সে তোমার নিকট কৃতজ্ঞ ও সন্তুষ্ট থাকবে এবং তোমাকে ভালোবাসবে , তোমার সাথে ও তার সাথে একটা সুসস্পর্ক থাকবে , আর যদি শুধু নির্দিষ্ট মজুরীও দেয়া হয় তাতেও সে অসন্তুষ্ট হবে না। কিন্তু যদি মজুরী নির্ধারণ না করে কাউকে কাজে লাগাও তাহলে কাজের শেষে তুমি তাকে যতোই বেশী পারিশ্রমিক দাও না কেন সে কখনো এ কথা ভাববে না যে , তুমি তার সাথে ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছ , বরং সে মনে করবে যে , তাকে মজুরী কম দেয়া হয়েছে।54