সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার0%

সত্য কাহিনী সম্ভার লেখক:
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ: চরিত্র গঠনমূলক বই

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক: শহীদ আয়াতুল্লাহ মুর্তাজা মোতাহহারী
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ:

ভিজিট: 17501
ডাউনলোড: 1730

সত্য কাহিনী সম্ভার
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 79 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 17501 / ডাউনলোড: 1730
সাইজ সাইজ সাইজ
সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক:
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বাংলা

এ বইটি তার বিষয়ের সর্বপ্রথম ও অনন্য অবতারণা হোক অথবা না হোক , এর জন্য প্রাপ্য ফুলের মামলার যোগ্য পাত্র আমি নই , অর্থাৎ যদি এ বইটি কাহিনী রচনার জগতে কোন গুরুত্বপূর্ণ নতুন অবতারণার দাবিদার হয় তাহলে তার গোড়াপত্তনকারী আমি নই। বরং প্রকাশনা ও প্রচারণার একটি প্রতিষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞ বিজ্ঞ বিজ্ঞানী-গুণী কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি সম্পাদনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ অধমও সে বোর্ডের একজন সদস্য। দেশের খ্যাতনামা লেখক ও বিজ্ঞতম ব্যক্তিত্ব সমৃদ্ধ সে বোর্ডের এক বৈঠকে প্রস্তাব রাখা হলো যে , এমন একটি গ্রন্থ রচিত হওয়া উচিত যার মধ্যে চারিত্রিক সুন্দর ও গুণাবলী কাহিনী আকারে উপস্থাপিত থাকবে। আর সে কাহিনীগুলো লেখকের নিজের মস্তিষ্ক থেকে আবিস্কৃত বা নিজের খেয়াল মোতাবেক তৈরি হবে না। বরং তার ভিত্তিমূল ও উৎস হবে হাদীস , বাস্তব জীবন ও ইতিহাসের গ্রন্থরাজি। এর সংকলনের উদ্দেশ্য থাকবে মুসলিম সমাজকে শিক্ষা দান এবং যুব সমাজকে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন ও পরিচালনা করা।

59

নাসীবাহ

নাসীবাহ বিনতে কাআ ব নিজের পুত্র আম্মারার সূত্রে উম্মে আম্মারা নামে খ্যাত ছিলেন। তার কাঁধে এমন একটি দাগ ছিল যা দেখে এ কথা বুঝতে দেরী হতো না যে , এটি একটি মারাত্মক যখমের দাগ। নারীরা , বিশেষত যে সমস্তযুবতী মেয়ে যারা রাসূলে আকরাম (সাঃ)-এর জীবদ্দশা দেখেনি কিংবা রাসূলের সময়ে একেবারে ছোট্ট ছিল তারা উম্মে আম্মারার কাঁধের মারাত্মক যখমের দাগটি দেখে উম্মে আম্মারার কাছ থেকে সে অহুদের যুদ্ধের কাহিনী শুনতে চাইতো যে যুদ্ধের সময় তাকে এ বিপজ্জনক আঘাতটি বরণ করতে হয়েছিল।

উম্মে আম্মারার আদৌ কোন চিন্তা-ফিকির ও পরোয়া ছিল না যে , তার স্বামী ও দুইটি ছেলে অহুদের ময়দানে ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করে রাসূলে আকরাম (সাঃ)-এর রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি পানির মশক কাঁকে নিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত সৈনিকদের পানি পান করানো ও তাদের সেবা-পরিচর্যার কাজে লেগেই আছেন। ইসলামী সৈনিকের ক্ষত স্থানে পট্টি বাঁধার জন্য তিনি কিছু কাপড়ের পট্টিও নিয়ে এসেছিলেন। সেদিন নাসীবাহ এ কাজেই ব্যস্তছিলেন। তার অন্য কোন কাজ ছিল না।

যুদ্ধের প্রথম দিকে মুসলমানদের সৈন্য সংখ্যার স্বল্পতা ও অস্ত্র সীমিত থাকা সত্ত্বেও ইসলামের মুজাহিদরা শত্রুপক্ষকে পর্যুদস্তকরে দিয়েছিল। ফলে ইসলামের শত্রুরা রণাঙ্গন ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি গিরিপথে নিয়োগকৃত কিছু সংখ্যক মুসলিম সৈনিকের গাফলতির কারণে দুশমনরা পিছন থেকে ইসলামী বাহিনীর উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। যুদ্ধের রূপ বদলে গেল। রাসূল (সাঃ)-এর নিকট সমবেত ইসলামী বাহিনীর লোকেরা হঠাৎ মারাত্মক হামলার সম্মুখীন হলো।

এ অবস্থা দেখে নাসীবাহ পানির মশক মাটিতে রেখে দিয়ে হাতে তলোয়ার উঠিয়ে নিলেন। কখনও বা তীর ধনুকের সাহায্য নিলেন। আবার কখনো তলোয়ারের সাহায্যে দুশমনদের উপর হামলা করলেন। রণাঙ্গন থেকে পলায়নকারী সৈনিকদের কাছ থেকে একটি যেরাহ ছিনিয়ে নিলেন এবং শত্রুসৈন্যের মোকাবিলার সময় সে যেরাহটি ব্যবহার করলেন। হঠাৎ রণাঙ্গনে এক শত্রুসৈন্য ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছিল , মুহাম্মদ কোথায় ? স্বয়ং মুহাম্মদ কোথায় ? এ ঘোষণা শুনেই নাসীবাহ সে দিকে দৌঁড়ে গেলেন। সেখানে পৌঁছেই তিনি সেই শত্রুটির উপর দুই তিনটি মারাত্মক আঘাত হানলেন যে এ গুজবটি ছড়াচ্ছিল। যেহেতু সে দুশমনটি দুই দুটি যেরাহ (লৌহ পোশাক) পরিধান করেছিল , সে জন্য নাসীবার আঘাত তাকে ঘায়েল করতে পারেনি। কিন্তু সে নাসীবার বাধামুক্ত স্কন্ধে একটা প্রচণ্ড আঘাত হানে যার ফলে তার কাঁধে এমন একটি গভীর যখম হলো যে , প্রায় এক বছরেরও বেশীকাল ধরে তার চিকিৎসা করতে হয়েছিল। রাসূলে আকরাম (সাঃ) দেখলেন যে , নাসীবার যখমের স্থল থেকে রক্তের ফিনকি বের হচ্ছে। এ অবস্থা দেখে তিনি নাসীবার এক ছেলেকে ডেকে বললেন , দৌঁড়ে যাও , তোমার মায়ের কাঁধের যখমস্থলে তাড়াতাড়ি পট্টি বাঁধো। ছেলেটি দ্রুত গিয়ে মায়ের এ গভীর যখমস্থলে মজবুত পট্টি বাঁধলো। এরপর নাসীবাহ আবার যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হলেন।

এমন সময় তিনি দেখলেন তার এক ছেলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সাথে সাথেই তিনি সে পট্টির কাপড় বের করলেন যা তিনি সাথে নিয়ে এসেছিলেন আহত মুজাহিদদের জন্য। তারপর খুব দ্রুত আহত পুত্রের কাছে পৌঁছে গেলেন এবং তার যখমের উপর পট্টি বাঁধলেন। মহানবী (সাঃ) গভীরভাবে এ দৃশ্য দেখছিলেন। তিনি সে রমণীর এ বীরত্ব প্রত্যক্ষ করে মুচকি হাসলেন। নিজের ছেলের যখমে পট্টি বেঁধে তিনি ছেলেকে বললেন , বাবা! ইসলামের দুশমনদের মোকাবিলা করার জন্য তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে যাও। নাসীবাহর এ কথাটি শেষ হতে না হতেই মহানবী (সাঃ) একটি লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন , তোমার ছেলেকে এ লোকটিই আঘাত করেছে। এ কথা শোনার সাথে সাথেই নাসীবাহ সিংহীর ন্যায় সে লোকটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আর তার হাঁটুর নিচে এমনভাবে তলোয়ারের আঘাত হানলেন যে , সেখানেই সে কুপোকাত হয়ে গেল। রাসূল (সাঃ) বললেন , নাসীবাহ! তুমি তোমার প্রতিশোধ নিয়ে নিয়েছো। মহান আল্লাহর শোকর আদায় করছি যে , তিনি তোমাকে সফল করেছেন। তিনি তোমাকে ইজ্জত ও সম্মানে ভূষিত করেছেন। যুদ্ধে কিছু সংখ্যক মুসলমান মুজাহিদ শাহাদত বরণ করেন এবং কতিপয় আহত হন। নাসীবাহও খুব মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। মনে হচ্ছিল যে , এ আঘাতে হয়তো তিনি বেঁচে থাকবেন না। অহুদের যুদ্ধের পর রাসূল (সাঃ) ইসলামী বাহিনীকে হামরাউল আসাদ নামক স্থানে যাবার নির্দেশ দিলেন। ইসলামী বাহিনী সেদিকে যাত্রা করলো। নাসীবাহও যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মারাত্মক যখমের কারণে চলার শক্তি ছিল না। হামরাউল আসাদ থেকে ফিরে এসে সাথে সাথেই মহানবী (সাঃ) নাসীবাহর খোঁজ-খবর নেবার জন্য একজন লোক পাঠালেন। লোকটি ফিরে এসে তার অবস্থা্র উন্নতির সুসংবাদ পরিবেশন করলো। তাতে আল্লাহর নবী খুব খুশী হলেন।70

60

ঈসা ( আঃ )- এরপ্রত্যাশা

হযরত ঈসা (আঃ) তার শিষ্য-সাথী তথা হাওয়ারীদেরকে বললেন , আমার একটা প্রত্যাশা আছে। যদি তোমরা আমার এ আশা পূর্ণ করার প্রতিশ্রতি দাও তাহলে আমি তোমাদেরকে সে আশার কথা বলবো। জবাবে হাওয়ারীরা বললো , আপনি হুকুম করুন আমরা সবাই আপনার সে নির্দেশ পালনের জন্য প্রস্তুত।

ঈসা (আঃ) নিজের স্থান থেকে উঠে গিয়ে হাওয়ারীদের প্রত্যেকের পা ধুয়ে দিতে লাগলেন। এতে হাওয়ারীদের চেহারায় অস্থিরতা ও অশান্তির ছাপ ফুটে উঠলো। কিন্তু যেহেতু ঈসা (আঃ)-এর আশা- আকাংক্ষা পূর্ণ করার অঙ্গীকার করেছিল , তাই নীরব থাকা ব্যতীত আর কোন পথ ছিল না। যা হোক , ঈসা (আঃ) তাদের পা ধুতে থাকলেন। তিনি যখন এ কাজ থেকে অবসর হলেন তখন তারা বললো , আপনি আমাদের শিক্ষাগুরু। উচিত ছিল তো আমরাই আপনার পা ধুয়ে দেবো। কিন্তু আপনি এ কাজ করে আমাদেরকে লজ্জিত করলেন।

হযরত ঈসা (আঃ) বললেন , আমি এ কাজ লোকদেরকে এ শিক্ষা দেবার জন্য করেছি যে , সবচেয়ে অধিক যোগ্য ও বিজ্ঞ সে ব্যক্তি যে , আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করার দায়িত্ব পালন করে। আমি এ কাজটি হীনতা-নিচতা ও হেয়পনার নমুনা হিসাবে পেশ করার জন্য আঞ্জাম দিয়েছি যাতে করে তোমরা অধমতা ও হেয়তার শিক্ষা লাভ করতে পারো। আমার পরে যখন তোমাদের উপর সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দেয়া ও সত্য দ্বীনের দাওয়াত পেশ করার দায়িত্ব আসবে তখন তোমরাও হীন ও নিচ মনোভাব নিয়ে সৃষ্টি সেবার পথ অবলম্বন করতে পারো। জ্ঞান-বুদ্ধি এরূপ অধমতা ও হেয়তার ক্ষেত্রেই সুশোভিত হয়ে ওঠে। ঠিক বিপরীতে অহংকার ও দম্ভতার পরিবেশে জ্ঞান-বুদ্ধির বিকাশ ঘটা একেবারেই অসম্ভব।এর উদাহরণ মনে করো এমন যে , ঘাস নরম মাটিতে উৎপাদিত হয়ে থাকে , শক্ত জমির পাহাড়ে ঘাস জন্মানো অসম্ভব।71

61

মরুভূমিতে লাকড়ীর যোগাড়

রাসূলে আকরাম (সাঃ) তার সাথীদেরকে নিয়ে এক সফরে এমন এক স্থানে এসে কাফেলা থামিয়ে দিলেন যা ছিল অনাবাদী এক মরুভূমি। আগুন জ্বালাবার জন্য তাদের লাকড়ির প্রয়োজন দেখা দিল। রাসূল (সাঃ) বললেন , তোমরা সকলে মিলে কিছু কিছু লাকড়ি যোগাড় করে আনো। সকলে বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আপনি নিজেই দেখতে পাচ্ছেন যে , এটি এমন একটি ভুখণ্ড যা একেবারে অনাবাদী খালি মরুভূমি। অনেক দূর পর্যন্তও এক টুকরা লাকড়ির চিহ্নও দেখা যায় না। রাসূল (সাঃ) বললেন , তবুও প্রত্যেকে মিলে চেষ্টা করে দেখো , যে যা কুড়াতে পারো তাই এনে জমা করো।

রাসূলের সাথীরা লাকড়ির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লো। আর খুব ভালোভাবে দেখতে দেখতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তাদের সামনে ছোট্ট একটি লাকড়ির টুকরাও দেখতে পেলে সেটাই তুলে নিল। অবশেষে প্রত্যেকেই অল্প-স্বল্প লাকড়ি নিয়ে ফিরে আসলো। যখন সকলের আনিত লাকড়িগুলো একত্রে জমা করা হলো তখন দেখা গেল বেশ বড় একটা স্তুপ হয়ে গেছে।

এ স্তুপ দেখে মহানবী (সাঃ) বললেন , আমাদের ছোট ছোট ও সাধারণ গুনাহ লাকড়ির এ ছোট ছোট টুকরোর মতো যা প্রথমে নজরেই আসে না। কিন্তু সব কিছুরই কোন না কোন সন্ধানকারী থাকে। তোমরা সন্ধান কাজ শুরু করেছো তাতে লাকড়ির এ স্তুপ জমে ।তদ্রূপই আমাদের ছোট ছোট ও সাধারণ গুনাহকে জমা করা হচ্ছে। আর একদিন তোমরা দেখতে পাবে যে , বাহ্যিকভাবে দেখা যায় না এমন সব ছোট ছোট গুনাহ একত্র করার পর একটি বিরাট স্তুপের আকার ধারণ করেছে।72

62

দস্তরখানে মদ্য

আব্বাসীয় খলিফা মনসুর দেওয়ানিকী কিছু দিন পর পরই বিভিন্ন বাহানা-বায়না দিয়ে হযরত ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ)-কে মদীনা থেকে ইরাকে ডেকে আনতো। তার আসল উদ্দেশ্য ছিল ইমামের চলাফেরা ও কাজ-কর্মের উপর খবরদারী ও কড়া নজর রাখা। মাঝে মাঝে সে ইমামকে অনেক দিন পর্যন্ত মদীনায় ফিরে যেতে দিত না। একবার হযরত ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) ইরাকে অবস্থান করছিলেন। মনসুরের সেনা বাহিনীর এক কর্মকর্তার ছেলের মুসলমানী (খাৎনা) করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে সে এক আড়ম্বরপর্ণ প্রীতিভোজের আয়োজন করেছিল। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতা , মন্ত্রী , ব্যবসায়ী প্রভাবশালী লোক এ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিল। অন্যদের ন্যায় সে ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ)-কেও দাওয়াত দিয়েছিল। ইমাম গেলেন। দস্তরখানা বিছিয়ে দেয়া হলো। সমস্তলোক খাওয়ার জন্য দস্তরখানে বসে পড়লো। ইমামও বসলেন। খাবার আনা হলো এবং লোকেরা খেতে লাগলো। এমন সময় একজন মেহমান পানি চাইলো। পানির বদলে তার হাতে মদের পেয়ালা দেয়া হলো। যখনই তাকে মদের পেয়ালা দেয়া হলো সাথে সাথেই ইমাম সাদিক (আঃ) উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং দস্তরখানা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। তারা ইমামকে পুনরায় দস্তরখানে নিয়ে যাবার জন্য সব রকমের চেষ্টাই করেছে। কিন্তু ইমাম আর ফিরে গেলেন না , বরং লোকদেরকে উদ্দেশ করে বললেন , রাসূলে আকরাম (সাঃ) বলেছেন , যে ব্যক্তি এমন দস্তরখানে বসে , যেখানে মদ রয়েছে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ ।73

63

কোরআন শোনার সাধ

ইবনে মাসউদ ওয়াহী লেখকদের মধ্যে একজন ছিলেন অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহর তরফ থেকে নাযিলকৃত আয়াতগুলোকে ক্রমানুসারে সাজিয়ে লিখে রাখতেন।

একদিন আল্লাহর নবী (সাঃ) ইবনে মাসউদকে বললেন , আমার সাধ হচ্ছে যে , তুমি কোরআন মজীদ তিলাওয়াত করবে আর আমি তা শ্রবণ করবো। ইবনে মাসউদ তার পান্ডুলিপি নিয়ে সূরা আন-নিসা তিলাওয়াত করা শুরু করলেন। রাসূলে আকরাম (সাঃ) খুব মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত শুনছিলেন। এভাবে ইবনে মাসউদ যখন সূরা নিসার 41নং আয়াত তিলাওয়াত করলেন :

বলো! তখন কি অবস্থা হবে , যখন আমরা প্রত্যেক উম্মত ও দলের সাক্ষী তলব করবো ? আর (হে মুহাম্মদ!) তোমাকে তলব করা হবে তাদের সকলের সাক্ষী হিসাবে।

যেই মাত্র এ আয়াত তিলাওয়াত সমাপ্ত হয়েছে , রাসূলে আকরাম (সাঃ)-এর চোখ দিয়ে অশ্রুপ্রবাহিত হলো। তিনি বললেন , হে ইবনে মাসউদ! এখানেই থেমে যাও। এতটুকুনই যথেষ্ট।74

64

সাধারণের খ্যাতি

বহু দিন থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ব্যক্তি খুব জনপ্রিয়। সকলের মুখে মুখে তার নাম আলোচিত। চারদিকে তার তাকওয়া , পরহেযগারী ও ঈমানদারীর চর্চা হতো। সর্বত্র লোকেরা তার উন্নত চরিত্র ও শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা গেয়ে বেড়াতো। অনেক সময় হযরত ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ)- এর সামনেও লোকেরা তার তাকওয়া-পরহেযগারী ও সৎ চরিত্রের কথা আলোচনা করেছে। তাই ইমাম (আঃ)-এর চিন্তা হলো এমন একজন খোদাভক্ত লোককে সবার অলক্ষ্যে নিজের চোখে দেখা দরকার। যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এতো বিরাট জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করে নিয়েছে। প্রত্যেক মানুষই তাকে অত্যন্তসম্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে।

একদিন হযরত ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) একজন অপরিচিত লোকের মতো সে ব্যক্তির কাছে গেলেন। দেখতে পেলেন তার আশপাশে তার ভক্তবৃন্দ ভিড় জমিয়ে বসে আছে। তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ-জাহেল। ইমাম (আঃ) নিজের পরিচয় না দিয়ে চুপচাপ বসে বসে সব কিছু অবলোকন করতে লাগলেন। প্রথম দর্শনেই ইমামের বুঝতে দেরী হলো না যে , সে লোকদের সাথে ধোঁকার নীতি অবলম্বন করে লোকদেরকে আকৃষ্ট করে রেখেছে। একবার সে লোকদের ভিড় থেকে বেরিয়ে পড়লো এবং এক সড়ক পথে এগিয়ে যেতে লাগলো। ইমামও তার পিছে পিছে যাচ্ছিলেন যাতে করে দেখতে পারেন যে , সে কোথায় যায় এবং কি করে ? এমন কোন্ কাজটি করে , যার কারণে লোকেরা তার প্রতি এত আসক্ত হয়ে গেছে ?

কিছু দূর চলার পর সে একটি রুটির দোকানের সম্মুখে দাঁড়িয়ে গেল। একটি দৃশ্য দেখে ইমাম অবাক হয়ে গেলেন যে , লোকটি দোকানদারের অগোচরে দুটি রুটি নিয়ে নিজের কাপড়ের নিচে গোপন করে ফেললো। এরপর সে আরো সামনে এগুতে লাগলো। ইমাম ভাবলেন হতে পারে এ রুটিগুলো সে খরিদ করার উদ্দেশ্যেই নিয়েছে। এর দাম হয়তো আগেই পরিশোধ করে দিয়েছে অথবা পরে পরিশোধ করবে। কিন্তু এমনটিই যদি হবে তাহলে দোকানদারের দৃষ্টির আড়ালে রুটিগুলো তুলে নেবে কেন ? আর দোকানিকে কিছু না বলেই সামনে চলে যাবে কেন ?

সে যাই হোক , ইমাম (আঃ) তার পিছে পিছে অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলেন। তিনি রুটির দোকানের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন। ঠিক এমনি সময় সে লোকটি একটি ফলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গেল। দোকানদারের চোখ একটু আড়াল হতেই সে খপ করে দুটি ডালিম নিজের কাপড়ের নিচে লুকিয়ে ফেললো। এরপর সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। এটা দেখে ইমাম আরো অবাক হয়ে গেলেন। কিন্তু ইমামের আশ্চর্য হওয়ার সীমানা তখন ছাড়িয়ে গেল যখন তিনি দেখলেন যে , লোকটি সে রুটিগুলো ও ডালিমগুলো একজন রুগীকে দান করে দিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর ইমাম তার সামনে এসে তাকে বললেন , আজ আমি তোমাকে আশ্চর্য ধরনের কিছু কাজ করতে দেখলাম। এরপর ইমাম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্তঘটনাগুলো বর্ণনা করলেন। অতঃপর তার কাছে এ অবৈধ কর্ম-কাণ্ডগুলোর ব্যাখ্যা চাইলেন। সে ইমামকে নিরীক্ষণ করলো এবং বললো , আমার মনে হয় আপনি জা ফর ইবনে মুহাম্মাদ (আঃ)।

জবাবে ইমাম বললেন , হ্যাঁ , তোমার ধারণা সত্য। আমি জা ফর ইবনে মুহাম্মাদ।

লোকটি বললো , নিঃসন্দেহে আপনি রাসূলে পাক (সাঃ)-এর সন্তান এবং খান্দানী মর্যাদার দিক থেকে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু আমার আফসোস হয় যে , আপনি একজন অজ্ঞ জাহেল।

ইমাম (আঃ) বললেন , তুমি আমার মধ্যে কি অজ্ঞতা-মূর্খতা দেখতে পেলে ?

লোকটি বললো , আপনার এ প্রশ্নটিই মুর্খতা বৈ কিছু নয়। মনে হচ্ছে আপনি দ্বীনের সহজ-সরল হিসাবটাও জানেন না। আপনি কি জানেন না যে , মহান আল্লাহ বলেছেন ,

অর্থাৎ যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ করলো , তাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে দশ গুণ।

আল-কোরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে :

অর্থাৎ আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ করবে , তাকে তার পরিণতিতে সে পরিমাণ শাস্তি ব্যতীত আর কিছু দেয়া হবে না। সুতরাং একটি গুনাহের কাজের জন্য একটি সাজা আর একটি নেক কাজের জন্য দশ গুণ ছওয়াব। তাহলে সে হিসাবে আমি দুটি রুটি চুরি করেছি তাতে দুটি গুনাহের কাজ করেছি। আবার আমি দুটি ডালিম চুরি করেছি এ জন্য আরো দুটি গুনাহ আমার হিসাবে যোগ হয়েছে। অপর দিকে সে রুটি দুটি ও ডালিম দুটি আল্লাহর পথে একজন রুগীকে দান করে দিয়েছি যার প্রতিটির বিনিময়ে দশ নেকী করে আমার হিসাবে লেখা হয়েছে। এভাবে প্রতিটিতে দশ নেকী হিসাবে আমি চল্লিশটি নেকী লাভ করেছি। এখন খুব সহজে এ হিসাব করা যেতে পারে যে , আমার আমলনামায় চলিশটি সওয়াব লেখা হয়েছে। আর মোকাবিলায় গুনাহের সংখ্যা মাত্র চারটি। তাহলে এখন যদি আমার চলিশটি নেকী থেকে চারটি গুনাহ বিয়োগ করা হয় তাতেও আমার আমলনামায় ছত্রিশটি নেকী অবশিষ্ট থাকে। এ হলো সে সহজ-সরল হিসাব যা আপনি বুঝতে পারেননি এবং আমাকে অজ্ঞের মতো প্রশ্ন করে বসেছেন।

ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) বললেন , তোমার মৃত্যু হোক। আসলে তুমি হলে বড় জাহেল যে নিজের ইচ্ছা মতো মনগড়া হিসাব-কিতাব করছো। তুমি কোরআনের এ আয়াত পড়োনি ? মহান আল্লাহ বলেন , ----------------

অর্থাৎ মহান আল্লাহ কেবল মোত্তাকী পরহেযগার লোকদের আমলই গ্রহণ করে থাকেন।

তাহলে এ সহজ-সরল আয়াতটি তোমার ভুল-ভ্রান্তি ধরিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। তুমি তো নিজেই তোমার চারটি গুনাহের কথা স্বীকার করে নিয়েছো। অন্যের মাল সদকা-খয়রাতের নাম দিয়ে অপরকে দিয়ে দিয়েছো। এতে কোন সওয়াব হবে না। শুধু তাই নয় , বরং এ কাজের দ্বারা তুমি আরো চারটি গুনাহের পাত্র হয়েছো। অনুরূপভাবে তোমার পূর্বের চার গুনাহের সাথে আরও চার গুনাহ যোগ কর। এ হিসাবে তোমার আমল নামায় আটটি গুনাহ লেখা হয়েছে। এদিকে সওয়াবের নামে তুমি কিছুই হাসিল করোনি।75

ইমামের এ কথাগুলো লোকটির চেহারায় বিস্ময়ের ছাপ এঁকে দিল। সে কিছক্ষণ ইমামের দিকে তাকিয়ে থাকলো। এরপর ইমাম (আঃ) তাকে সেখানে রেখে বাড়ি চলে গেলেন।

ইমাম (আঃ) তার সাথীদের সামনে এ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন , দ্বীনের ব্যাপারে এ ধরনের ব্যাখ্যা- বিশেষণ লোকদেরকে গোমরাহ বানিয়ে দেয় এবং অপর লোকদেরকেও সে পথভ্রষ্ট করে।

65

যে কথায় আবু তালিব ( আঃ ) শক্তি পেলেন

রাসূলে আকরাম (সাঃ) নানা রকম বিপদ-মুসিবতের মধ্যে দিয়েও শৌর্য-বীর্যের সাথে কোরাইশ কাফের-মুশরিকদের মোকাবিলা করে যাচ্ছিলেন। অসংখ্য কঠিন সংকট ও দুরূহ পর্যায় অতিক্রম করেও তিনি আল্লাহর দ্বীনী মিশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছিলেন। তিনি মূর্তিগুলোর অবমাননা ও তুচ্ছতা এবং মূর্তি পূজকদের অজ্ঞতা ও পথ-ভ্রষ্টতার কথা প্রকাশ করা থেকে বিরত হলেন না। কোরাইশের নেতাবর্গ তার ব্যাপারে অধৈর্য হয়ে পড়েছিল। তাই তারা একদিন জনাব আবু তালিব (আঃ)-এর কাছে এলো , তারা বললো , আপনি হয় নিজে আপনার ভাতিজাকে বিরত করুন অথবা কোরাইশের লোকদের অনুমতি দিন যে , তারা আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রকে সতর্ক করে দেবে। হযরত আবু তালিব (আঃ) তার খোশ আখলাক ও মধুর ভাষা দিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদেরকে নির্বাক করে দিলেন। এভাবে ধীরে ধীরে আল্লাহর দ্বীনের মিশন এগিয়ে যেতে থাকলো। ঘরে ঘরে নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চর্চা চলছিল। পরস্পর দুইজনের সাথে সাক্ষাত ঘটলে তাদেরকে বলাবলি করতে দেখা যেতো যে , লোকেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে চলেছে। মোট কথা এমন কোন স্থান বাকি ছিল না যেখানে ইসলাম ও ইসলামের নবীর বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতো না। সুতরাং কোরাইশের নেতারা আবার জনাব আবু তালেবের সাথে সাক্ষাত করার সিদ্ধান্ত নিল । যাতে করে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও কার্যকরী কথাবার্তা আলোচনা করা যায়।

কোরাইশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনাব আবু তালিবের সাথে সাক্ষাত করে তাকে বললো , আমরা আগেও একবার বলেছি যে , আপনি আপনার ভাতিজাকে থামান। কিন্তু আপনি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিলেন না। আমরাও আপনার উচ্চ মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এ পর্যন্ততার কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কোন আপত্তি করিনি। আর আমরা এ সিদ্ধান্তনিয়েছি যে , আপনার সাথে আলাপ- আলোচনা ব্যতীত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবো না। কিন্তু আজ আমরা আপনাকে এ কথা বলতে এসেছি যে , এখন থেকে আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রের কোন কর্মকাণ্ড আমরা বরদাশত করবো না। কেননা সে আমাদের দেবদেবীগুলোর বিরুদ্ধে দোষ-ত্রুটি বলে বেড়ায়। সাথে সাথে আমাদেরকেও অজ্ঞ- জাহেল আখ্যায়িত করে আমাদের বিদ্রুপ করে। আর আমাদের বাপ-দাদাকেও পথভ্রষ্ট বলে সাব্যস্ত করে। এবারে আমরা কেবল চূড়ান্ত সতর্কতার সাথে এসেছি। যদি আগামীতেও আপনি তাকে রুখতে না পারেন তাহলে আমরা আপনার উচ্চ মর্যাদার কোনই সম্মান প্রদর্শন করবো না এবং আপনাদের দুইজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে এ বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা করে ফেলবো।

এ প্রকাশ্য হুমকিটি জনাব আবু তালিবের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ালো। এর পূর্বে তিনি কোরাইশদের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এ ধরনের হুমকির সম্মুখীন হননি। তিনি এ কথাও জানেন যে , তার মধ্যে এখন আর সে শক্তি নেই যে , তিনি তাদের মোকাবিলা করতে পারেন। সুতরাং যদি যুদ্ধের পরিস্থিতিই এসে যায় তাহলে প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রসহ সমগ্র খান্দান ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

যা হোক , বিদ্যমান পরিস্থিতি ও পরিবেশের আলোকে তিনি মহানবী (সাঃ)-কে বললেন , দেখো ভাতিজা! পরিস্থিতি এরূপ দাঁড়িয়েছে। কাজেইও তুমি নীরবতা অবলম্বন করো। কেননা আমার ও তোমার উভয়ের জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন।

রাসূলে আকরাম (সাঃ) বুঝতে পারলেন যে , কোরাইশের নেতাদের হুমকিতে তিনি প্রভাবান্বিত হয়েছেন। তাই তিনি শ্রদ্ধেয় চাচাকে জবাবে একটি কথাই বললেন যা শুনে জনাব আবু তালিবের মন থেকে কোরাইশপতিদের হুমকি দূর হয়ে গেল।

তিনি বললেন , চাচাজান! আমি আপনাকে শুধু এতটুকু জানিয়ে দিতে চাই যে , এরা যদি আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চন্দ্র এনে দেয় আর এর বিনিময়ে বলে যে , আমি লোকদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেয়া থেকে বিরত থাকবো , তাহলেও আমি মহান খোদার এ দাওয়াতী মিশনের কাজ থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে দাড়াবো না। যতক্ষণ না খোদার দ্বীন বিজয়ী না হবে , ততক্ষণ আমি আমার তৎপরতা পরিপূর্ণরূপে অব্যাহত রাখবো। যদি এ পথে আমার জীবন চলে যায় তাতেও পরোয়া করবো না।

এ কথাটি বলার সময় আল্লাহর নবীর চোখ দিয়ে অশ্রুগড়িয়ে পড়তে লাগলো। তখন তিনি চাচা আবু তালিবের কাছ থেকে উঠে চললেন। কয়েক কদম পথ চলার পর চাচা আবু তালিবের ডাকে ফিরে এলেন। আবু তালিব বললেন , যদি তাই হয় তাহলে তুমি যা ভালো মনে করো তাই করো। খোদার কসম! আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটি পর্যন্তআমি তোমার হেফাজত করে যাবো।76