সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার0%

সত্য কাহিনী সম্ভার লেখক:
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ: চরিত্র গঠনমূলক বই

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক: শহীদ আয়াতুল্লাহ মুর্তাজা মোতাহহারী
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ:

ভিজিট: 26942
ডাউনলোড: 2706

সত্য কাহিনী সম্ভার
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 79 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 26942 / ডাউনলোড: 2706
সাইজ সাইজ সাইজ
সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক:
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বাংলা

এ বইটি তার বিষয়ের সর্বপ্রথম ও অনন্য অবতারণা হোক অথবা না হোক , এর জন্য প্রাপ্য ফুলের মামলার যোগ্য পাত্র আমি নই , অর্থাৎ যদি এ বইটি কাহিনী রচনার জগতে কোন গুরুত্বপূর্ণ নতুন অবতারণার দাবিদার হয় তাহলে তার গোড়াপত্তনকারী আমি নই। বরং প্রকাশনা ও প্রচারণার একটি প্রতিষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞ বিজ্ঞ বিজ্ঞানী-গুণী কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি সম্পাদনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ অধমও সে বোর্ডের একজন সদস্য। দেশের খ্যাতনামা লেখক ও বিজ্ঞতম ব্যক্তিত্ব সমৃদ্ধ সে বোর্ডের এক বৈঠকে প্রস্তাব রাখা হলো যে , এমন একটি গ্রন্থ রচিত হওয়া উচিত যার মধ্যে চারিত্রিক সুন্দর ও গুণাবলী কাহিনী আকারে উপস্থাপিত থাকবে। আর সে কাহিনীগুলো লেখকের নিজের মস্তিষ্ক থেকে আবিস্কৃত বা নিজের খেয়াল মোতাবেক তৈরি হবে না। বরং তার ভিত্তিমূল ও উৎস হবে হাদীস , বাস্তব জীবন ও ইতিহাসের গ্রন্থরাজি। এর সংকলনের উদ্দেশ্য থাকবে মুসলিম সমাজকে শিক্ষা দান এবং যুব সমাজকে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন ও পরিচালনা করা।

তথ্যসূত্র :

1.ইসলামের প্রথম দিকে মসজিদে নববীতে কেবল নামাযই হতো না , বরং তখনকার মুসলমানদের সামাজিক ও ধর্মীয় সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্র ছিল এ মসজিদ। যখন কোন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সকলের একত্র হওয়ার দরকার দেখা দিত তখন সকলকে এ মসজিদে ডাকা হতো। লোকেরা এখানে এসেই তাদের জরুরি বিষয়াদি জেনে নিত। যে কোন নতুন সিদ্ধান্ত এখানেই গ্রহণ করা হতো এবং ঘোষণাও করা হতো এখান থেকেই যাতে করে সকল লোকে জানতে পারে।

মুসলমানরা যতদিন মক্কায় ছিল ততদিন তারা সামাজিক কাজকর্ম ও স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করতে পারতো না। আর ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষাও গ্রহণ করতে পারতো না নিজেদের ইচ্ছামতো। এ অবস্থা অনেক দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। অতঃপর আরবের আরেকটি স্থা্নের নাম ছিল ইয়াসরিব । সেখানে ইসলামের প্রভাব ছড়িয়ে পড়লো। এ স্থানটিতে পরবর্তীকালে মদীনাতুন্নাবী অর্থাৎ নবীর শহর নামে বিখ্যাত হলো। মহানবী (সাঃ) মদীনার লোকদের প্রস্তাব ও প্রতিশ্রু তি বিবেচনা করে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করলেন। ধীরে ধীরে সকল মুসলমানই হিজরত করে মদীনায় এসে উপস্থিত হয়। তখন থেকে তারা স্বাধীনভাবে ধর্মীয় কাজগুলোতে অংশগ্রহণ করতো। মদীনায় পৌঁছে মহানবী (সাঃ) সর্বপ্রথম যে কাজটি করলেন সেটি হলো একটি মনোরম ও সুবিধাজনক স্থান বেছে নিয়ে তাঁর সাহাবীগণের সহযোগিতায় এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করলেন।

2 মুনিয়াতুল মুরীদ , বোম্বে সংস্করণ , পৃ. 10।

3.উসূলে কাফী ,দ্বিতীয় খণ্ড ,পৃ.:139 , বাবুল কানাআহ ,সাফীনাতুল বিহার , কানাআহ অধ্যায়।

4.ওয়াসাইল ,আমীর বাহাদর মূদ্রণ ,দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ: 529।

5. কোহলিল বাছার ,মুহাদ্দেসে কুমী , পৃ. 69।

6. নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই মহান আলাহ তার সে বান্দাকে কখনও ভালোবাসেন না যে নিজের বন্ধুদের মাঝে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ও্ উত্তম মনে করে এবং নিজেকে অপরের চেয়ে বিশেষ ব্যক্তিত্ব জ্ঞান করে।

7.কোহলিল বাছার , মুহাদ্দেস কুমী , পৃ. 68 ।

8.বিহারুল আনোয়ার ,খণ্ড-11 ,কোম্পানী মুদ্রিত ,পৃ. 21 ।

9.অসূলে কাফী ,দ্বিতীয় খণ্ড ,বাবু হুসনুছছাহাবা ওয়া হাককুছছাহেবে ফিস-সফর ,পৃ. 670।

10.নাহজুল বালাগাহ , কালিমাতে কেছার ,নং-37 ।

11.কোহলিল বাছার ,পৃ. 70 ,মুহাদ্দেসে কুমী ।

12.সিরিয়া দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমরের খেলাফতকালে বিজিত হয়েছিল। বিজয় লাভের পর সেখানকার শাসনকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল মুআবিয়ার বড় ভাই ইয়াযীদ ইবনে আবু সুফিয়ানকে। দুই বছর শাসন করার পর ইয়াযীদ মারা যায়। তার মৃত্যুর পর এ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটির শাসনভার মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের হাতে তুলে দেন স্বয়ং দ্বিতীয় খলিফাই। এরপর থেকে মুআবিয়া একাধারে বিশ বছর পর্যন্ত দোর্দণ্ড প্রতাপের সাথে শাসন করতে থাকে। হযরত ওমরের খেলাফতকালে বিশেষ একটি নিয়ম ছিল যে ,কোন শাসককেই একই এলাকায় একাধারে কয়েক বছর পর্যন্ত শাসন করার সুযোগ দেয়া হতো না। কারণ সে যেন অনেক দিন পযর্ন্ত শাসন করার সুযোগ নিজের অবস্থান ও ক্ষমতাকে সুদৃঢ় ও মজবুত করতে না পারে। এ জন্যই শাসকদেরকে তাড়াতাড়ি পদচ্যুত করে তদস্থলে অন্য নতুন শাসক নিয়োগ করা হতো। কিন্তু মুআবিয়া নিজের ক্ষমতায় স্থায়ী থাকে। কেননা তাকে করা পদচ্যুত হয়নি। এ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে সে নিজের অবস্থান ও ক্ষমতাকে এতো মজবুত করেছে যে , সে খেলাফতের মসনদের স্বপ্ন দেখতে লাগলো। সুতরাং বিশ বছর ক্ষমতায় থাকার সুসংবাদে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো। পরবর্তী আরো বিশ বছর সে সিরিয়া ও ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতে মুসলমানদের খলিফা হিসেবে শাসন করে। এভাবে সিরিয়াতে বসবাসকারী লোকেরা উমাইয়া শাসনাধীনে লালিত-পালিত হয় এবং তাদেরই দেয়া শিক্ষা-দীক্ষায় গড়ে ওঠে। আমরা সকলেই খুব ভালোভাবে জানি যে , বনী উমাইয়ারা হাশেমী খানদানের সাথে আন্তরিক শত্রুতা রাখতো। ইসলামের ঘোষণা প্রকাশের পর সে শত্রুতা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। সুতরাং হযরত আলী (আঃ) ও তার সন্তানগণ উমাইয়াদের শত্রুতার কেন্দ্রে পরিণত হলো। সিরিয়ার লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করার সাথে সাথে হযরত আলী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করার শিক্ষাও লাভ করতে থাকে। এভাবে শত্রুতার শিকড় তাদের অন্তরে ভালোভাবেই গেড়ে গিয়েছিল। বনী উমাইয়ার শাসকরা হযরত আলী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণের কাজটিকে দ্বীন ইসলামের অংশ বলে সাব্যস্ত করেছিল। তাদের প্রচার দ্বারা অর্থাৎ জনগণকে এভাবে বুঝিয়েছে যে ,সে ব্যক্তি সঠিক মুসলমান হতেই পারবে না যে আলী ও তাঁর সন্তানদের সাথে শত্রুতা না রাখবে। সুতরাং সিরিয়াবাসীদের এ আচরণ এবং হযরত আলী ও তার সন্তানদের প্রতি দুশমনি পোষণ করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

13.নাফশাতুল মাছদুর ,মোহাদ্দেছে কুমী ,পৃ. 4 ।

14.অসূলে কাফী , দ্বিতীয় খণ্ড ,পৃ ,.404।

15.আল ইমামু আলীউন সওতুল আদালাতিল ইনসানিয়্যাহ , পৃ. 63 , বিহারুল আনোয়ার , নবম খণ্ড , তাবরীয সংস্করণ , পৃ. 598 (মতান্তরে)।

16.হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম দিকে মুসলমানদের মধ্যে থেকে একটি দল আত্মপ্রকাশ করলো যারা নিজেদেরকে সূফী ও দরবেশ নামে পরিচয় দিত। এরা একটা বিশেষ পদ্ধতিতে জীবন যাপনের পথ অনুসরণ করতো। আর তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা ছিল যে , অন্য মুসলমানদেরকেও তাদের অনুসারী বানাবে। সে দলের লোকেরা এ কথাই বোঝাতে চাইতো যে , তারা যে পন্থা অনুসরণ করে চলেছে প্রকৃতপক্ষে সেটাই ইসলামী জীবন যাপনের পথ। সেটাই ইসলামের শিক্ষা। তাদের দাবী ছিল দুনিয়ার নেয়ামতসমূহ থেকে দূরে থাকা উচিত। তাদের আকীদা-বিশ্বাসমতে একজন মুমিন মুসলমানের উচিত উত্তম পোশাক , রুচিসম্মত খাদ্য খাবার ও ভালো ভালো ঘর-বাড়ী পরিহার করা। এরা যদি দেখতে পেতো যে , কোন মুসলমান আলাহর দেয়া নেয়ামত দ্বারা কোন ফায়দা হাসিল করছে বা উপভোগ করছে তাহলে তারা তার অপমান ও হেয় করার ব্যাপারে মোটেও দেরী করতো না। তাদের দৃষ্টিতে ভালো পোশাক পরিধানকারী , রুচিসম্মত খাদ্য গ্রহণকারী ও ভালো বাড়িতে বসবাসকারী লোকেরা দুনিয়াদার। তাদের সাথে মহান আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই। ইমাম সাদিক (আঃ) এর প্রতি সাওরীর আপত্তি এ আকীদা বিশ্বাসের ভিত্তিতেই।

এ মতবাদ সমগ্র পৃথিবীতেই খ্যাতি অর্জন করেছে। শুধু ভারত ও গ্রীসে) নয় , বরং বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে এ মতবাদের অনুসারীদের সংখ্যা বিরাট পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মুসলমানদের মধ্যে এ মতের অনুসারীদের সংখ্যা কম নয়। আর তারা তাদের এ মতবাদের গায়ে ধর্মীয় লেবাস পরিয়ে দিয়েছে। সুতরাং এর ধারা বংশানুক্রমে এগিয়েই চলেছে এবং এর প্রভাবও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যথেষ্ট। অতএব এ কথা বললে বেশী বলা হবে না যে , মসলমানদের মধ্যে এমন একটা বিশেষ মতবাদের আবিষ্কার হয়েছে , যার অনিবার্য ফল হচ্ছে জীবন যাপনের রীতিনীতির ক্ষেত্রে মুসলমানরা একটা অমর্যাদাকর অবস্থায় রয়েছে এবং দুনিয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম-নীতির অনুসারী নয় বলে পরিচিত হয়েছে। পরবর্তীতে এ নীতিহীনতা ও বেদআতের কারণে ইসলামী দেশগুলো পশ্চাৎপদতায় পতিত হয়েছে।

এ মতবাদের প্রভাব কেবল সুফীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়নি , বরং এ বিশেষ মতবাদটি যার ভিত্তি হচ্ছে দুনিয়া ত্যাগ ও বৈরাগ্যবাদ , তা সেই লোকদের উপরও বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছে যারা ছিল এ সুফীবাদের ঘোর বিরোধী। তাদের সংখ্যাও বৈরাগ্যবাদে বিশ্বাসী এ সুফীদের চাইতে কোন অংশ কম নয় ।

এ মত বিশ্বাসটিকে যদি একটি সামাজিক ব্যধি বলে আখ্যায়িত করা হয় তাহলে অত্যুক্তি হবে না অর্থাৎ এটি এমন একটি বিপজ্জনক ও সমাজ ধ্বংসকারী রোগ যা ইসলামী সমাজকে অভ্যন্তরীণভাবে একেবারে আধমরা করে ফেলেছে। অতএব এ বিপজ্জনক রোগের উত্তম চিকিৎসা উদ্ভাবন করা খবই জরুরী। যাতে করে ইসলামী সমাজকে এর কূ-প্রভাবের শিকার হতে না হয়। অত্যন্ত পরিতাপের সাথে এ কথা স্বীকার করতে হয় যে , এখন পর্যন্ত এ রোগের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকরী আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি এবং এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা দূর করার ব্যাপারে কিছুই করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে প্রতিটি আন্দোলনই জাতিগত ঝগড়া ও শেণী সংগ্রামের রূপ পরিগ্রহ করেছে। আর অনেক লোকই দুনিয়ার পদের লোভে এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথ থেকে সরে পড়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তো এটাই দেখা গেছে যে , এ সূফীবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকারীরা নিজেরাই এর ফাঁদে আটকা পড়েছে। এছাড়াও দেখা গেছে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা বেশীর ভাগই উচ্চ চিন্তা- ভাবনা ও মানুষের উচ্চ মর্যাদার ধারণা সম্পর্কে মোটেই কোন জ্ঞান রাখে না। তাদের আদৌ জানা নেই যে , মানবতা ও মানুষের প্রধান কর্তব্য কি ? কিছ লোক যদি মানুষের উচ্চ মর্যাদার ও উচ্চ চিন্তা-ভাবনা করার জ্ঞানের অধিকারী হয় এবং সমাজের বিস্তৃত রোগ-ব্যধিগুলো দূর করার জন্য প্রচার করা শুরু করে তখনই চারদিক থেকে তার উপর আক্রমণ চালানো হয়। তথাকথিত এ সুফীবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সময় এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে , এমন একটি মতবাদের বিরু দ্ধে সংগ্রাম করা হচ্ছে যা ইসলামী সমাজের জন্য একটা মারাত্মক রোগ। যার কারণে ইসলামী উম্মাহ নানা প্রকার বেদআতের শিকার হচ্ছে। সুফীবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদেরকে ইমাম সাদিক (আঃ)-এর সাথে ঘটিত এ ঘটনাটি মনে রাখতে হবে। আরো খেয়াল রাখতে হবে যে , কোন অবস্থাতেই যেন এ আন্দোলন জাতিগত ঝগড়া ও শ্রেণী সংগ্রামের রূপ্ল ধারণ করতে না পারে। আর স্থান , কাল বা ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমিত না হয়ে যায়। বরং কার্যক্রমটি এমন হতে হবে যে , যেখানেই হোক এবং যে দলের দ্বারাই এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকুক , তাদের সাথেই উক্ত মতবাদটি ভ্রান্ত প্রমাণের জন্য সহযোগিতা করা উচিত।

যা হোক এ মতবাদটির জবাব ও তা ভ্রান্ত প্রমাণ করার ব্যাপারে ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ)-এর এ বর্ণনাটি অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। আর এটা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের কথা যে , ইমামের এ হাদিসটি সনদযুক্ত কিতাবাদির মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে। যার প্রচারের দ্বারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে বিদআত সৃষ্টি করার যে কোন প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা যেতে পারে।

17.অর্থাৎ যারা হিজরতকারীদের পূর্বে নিজেদের বাড়িতে বসবাস করতো। আর ঈমানে ছিল মজবুত । হিজরত করে যারা তাদের কাছে চলে এসেছে তাদের প্রতি রাখে ভালোবাসার মন। তারা যে (ধন) লাভ করেছে তার জন্য নিজেদের অন্তরে গরজবোধ করে না। যদিও নিজে অভাব-অনটনের মধ্যে রয়েছে এবং নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারছে না তথাপিও অপরের প্রয়োজনকে নিজের উপর প্রাধান্য দেয়। আর যারা নিজেদেরকে লোভ-লালসা থেকে রক্ষা করতে পেরেছে তারাই সফলকাম। (সূরা আল-হাশর , আয়াত-9)।

18.অর্থাৎ আর তারা তাকেই ভালোবেসে মিসকীন , ইয়াতীম ও কয়েদীকে খাবার খাওয়ায়। (সূরা-আদ দাহার , আয়াত-8)।

19. অর্থাৎ , আর তারা যখন খরচ করে তখন তারা অতিরিক্ত তথা অপাত্রে খরচ করে না। আর বখিলী কৃপণতাও করে না। তাদের খরচ মধ্যম নীতিতে হয়ে তাকে। (সরা-আল-ফোরকান , আয়াত-67।)

20.অর্থাৎ , তোমার হাতকে ঘাড়-গর্দানের সাথে বেঁধে রেখো না। তথা বখীল কৃপণ হয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রেখো না যে , (কাউকে কিছু দিবে না)। আর দান করতে গিয়ে হাত একেবারে খুলে দিও না যে , (সব কিছদিয়ে দিবে) । অবশেষে তোমাকে দঃখি ও লজ্জিত হয়ে বসে থাকতে হবে।(সূরা ইসরা ,29)।

21.অর্থাৎ , সে আমার নিকট প্রার্থনা করে বললো , হে আমার পরোয়ারদিগার! আমাকে ক্ষমা করে দাও। আর আমাকে এমন একটি রাজত্ব দান করো যা আমার পরে আর কারো পক্ষেই লাভ করা সম্ভব হবে না। নিঃসন্দেহে তুমি বড় দয়ালু দাতা। (সূরা-ছোয়াদ , আয়াত-35)।

22 অর্থাৎ , ইউসুফ বললো-আমার উপর রাজ্যের কোষাগার বা অর্থনৈতিক বিষয়াদির দায়িত্বভার অর্পণ করুন। কেননা আমি নির্ভরযোগ্য বিশ্বাসী ও কর্মাভিজ্ঞ ।সূরা ইউসুফ , আয়াত-55)।

23.তুহফুল উকূল ,পৃ. 348-354 ,কাফী , প্লঞ্চম খণ্ড , আল-মাঈশাহ অধ্যায় ,পৃ. 65-71।

24.উষ্ট্রের যুদ্ধটি বসরা শহরের নিকটেই হয়েছিল। এ যুদ্ধে এক পক্ষে ছিলেন আমীরুল ম মিনীন হযরত আলী (আঃ) ও অন্য পক্ষে ছিলেন বিবি আয়েশা , তালহা ও যোবায়ের। এটাকে উষ্ট্রের যুদ্ধ এ জন্য বলা হয় যে , এ যুদ্ধে বিবি আয়েশা একটা উটের পিঠে আরোহণ করে হযরত আলী (আঃ)-এর বিরুদ্ধে দ্ধযরত সৈনিকদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। আরবী ভাষায় জামাল মানে উট। হযরত আলী (আঃ) খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরপরই বিবি আয়েশা , তালহা ও যোবায়ের তাঁর বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ চাপিয়ে দেন। কারণ তিনি তাঁর ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক আচরণের কারণে অভিজাত শ্রেণীর লোকদের বেলায় কোন প্রকার বিশেষ সুযোগ প্রদান করতে রাজী ছিলেন না। যুদ্ধে হযরত আলীই জয়ী হয়েছিলেন।

25. নাহজুল বালাগা ,খোতবা নং-207।

26. অসুলে কাফী ,দ্বিতীয় খণ্ড , ফাজলে ফোকারায়িল মুসলিমীন অধ্যায় , পৃ. 260।

27. সাফীনাতুল বিহার , মাদ্দায়ে শোতর , মাজমুআয়ে ওয়ারাম থেকে সংকলিত।

28.গাযযালী নামা , পৃ. 116।

29. তারীখে উলুমে আকলী দার ইসলাম , পৃ. 211।

30. বিহারুল আনোয়ার ,কোম্পানী মুদ্রিত ,11শ খণ্ড ,হালাতে ইমাম বাক্বের (আঃ) ,পৃ. 82।

31.

কাব্যার্থ

* গগণচুম্বী অট্টালিকা , দুর্জয় দুর্গ গড়ি

চেয়েছে পেতে অনেকে নিরাপ্লদ আশ্রয়।

সশস্ত্র দেহরক্ষী , জাগ্রত সান্ত্রী রাখি

চেয়েছে রুখিতে শঙ্কা-শঙ্কিল বিপ্লর্যয়।

কিন্তু এসে যবে মৃত্যুদূত টুটি ধরে চাপি

ব্যর্থ তাবৎ অস্ত্রশস্ত্র মুহূর্তও দেয়নি প্রশ্রয়।

32.

*বিরাট-বিশাল মহল , দুর্ভেদ্য কেলা ছাড়ি

যেতে হয়েছে সমাধির সংকীর্ণ আঁধার গোরে।

চলে গেছে সকল স্বজন নির্জনে অসহায় ফেলি।

কেউ এসে দেখেনি হাল কখনও কবর খুঁড়ে!!

জিজ্ঞাসে তাদের পুনঃপুনঃ বিবেক হাতেফ ডাকি

কোথা তোদের শান-শওকত , কোথা তখতে তাজ ?

দোর্দণ্ড প্রতাপ-প্রতিপত্তি , অহংবোধ কোথা রাখি

এসেছো শন্য হাতে , বলো তো কি হবে আজ ?

*চকচকে ঝলমল রেশমী মিহি পর্দার আড়ালে থাকি

রেখেছো নিজেকে জনগণ থেকে অনেক দর।

আরাম-আয়েশে লালিত গর্বাহংকারে মুখখানি

চলে গেছে কোথা , কোন সুদূর অচিনপুর ?

*চলেছে তারা যে মাটির উপর নিয়ত : দম্ভ ভরি

সঁপেছে লোকেরা তাদের তারই দয়ার দ্বারে।

ভোগ-বিলাসে করেছে সতেজ যে দেহকে সদা লালি।

লাঞ্ছিত আজি কবর নামক বন্দী কারাগারে।

* কালান্তর ধরে জগৎ মাঝে স্বাদাস্বাদের আহার করি

হয়েছে আজি কবর মাঝে মাটিরই খাদ্যাহার।

ভুগিবে কঠোর শাস্তি সাজা মাটিরই গর্ভে থাকি

নিজেদেরই কর্মের ফল , অশেষ-অসীম লাঞ্ছনার।

33.বিহারুল আনোয়ার ,দ্বিতীয় খণ্ড ,আহওয়ালে ইমাম হাদী (আঃ) ,পৃ. 169 ।

34. বিহারুল আনোয়ার , দ্বাদশ খণ্ড , হালাতে হযরত রেজা , পৃ 39।

35. বিহারুল আনোয়ার , দশম খণ্ড , পৃ. 25।

36. আল-ইমামু আলীয়্যুন , সওতিল আদালাতিল ইনসানিয়্যাহ , পৃ. 49 , দেখুন শরহে নাহজুল বালাগা , ইবনে আবিল হাদীদ , বৈরুত সংস্করণ , চতুর্থ খণ্ড , পৃ. 185।

37. বিহারুল আনোয়ার , একাদশ খণ্ড , হালাতে ইমাম সাদিক , পৃ. 116।

38. ওয়াসায়েল ,দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ 469।

39. ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ. 494 , বারো ইসতিহবাবির রিফ্কু আলাল মু মিনীন , হাদীস নং-3 ও 9।

40.মুরূজুযযাহাব মাসউদী , দ্বিতীয় খণ্ড , হালাতে মাহদী আব্বাসী।

41. উসলে কাফী , দ্বিতীয় খণ্ড , বাবে হাককল জেওয়ার ,পৃ:668।

42. ওয়াসায়িল , তৃতীয় খণ্ড , কিতাবুশশাফাআহ , বাবো আদমে জাওয়াযিল ইজরারি বিল মুসলিম , পৃ. 329 , হাদীস নং-1 , 3 , 4।

43. বিহার , 6ষ্ঠ খণ্ড , বাবো মাকারেমে আখলাকুহু ওয়া সিয়ারুহু ওয়া সুনানুহু।

44.বিহারুল আনোয়ার , একাদশ খণ্ড ,পৃ:121।

45. বিহারুল আনোয়ার , 6ষ্ঠ খণ্ড , বাবো মাকারিমুল আখলাকু ওয়া সিয়ারুহু ওয়া সুনানুহু।

46. বিহারুল আনোয়ার , একাদশ খণ্ড , পৃ:117।

47..কবিতাটির বাংলা অর্থ নিম্নরূপ্ল :

*চেনে তাকে মরু মক্কার প্রতিটি পাথরকণা ,

খানে কা বার কাছে নন তিনি অচেনা অজানা।

হেরেমের ধূলা-বালির যতো অণূ-পরমাণু

বাইরে মৃত্তিকাও অবগত তার পরিচয়খানা।

*নন্দন তিনি অতি প্রিয় বান্দা খোদার ;

সবার সেরা আবেদ তিনি মোত্তাকী পরহেযগার।

পুতঃপবিত্রতার প্রতীক তিনি জগতে খ্যাত ,

অতুল ব্যক্তিত্বাসনে অশেষ মর্যাদার।

*যতোই বলো না কেন চেনো না তারে ;

কি তাতে আসে যায় , না কমে-না বাড়ে!

তোমার চেনা-অচেনায় নেই তাঁর নোকসান-

কেননা আরব-আজম জানে তাঁকে হাড়ে হাড়ে।

48. বিহারুল আনোয়ার , দ্বাদশ খণ্ড , পৃ:. 14 ।

49. বিহারুল আনোয়ার , নবম খণ্ড , তাবরিয সংস্করণ , পৃ. 613।

50. ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ: 582।

51. বিহারুল আনোয়ার ,একাদশ খণ্ড ,কোম্পানী ,পৃ. 110 ,ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , মুদ্রণ-আসীর বাহাদুর ,পৃ. 49।

52.ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ: 212।

53.এরশাদে দেইলামী।

54. বিহারুল আনোয়ার , দ্বাদশ খণ্ড , পৃ: 31।

55. আল কুনা ওয়াল আলকাব , মুহাদ্দিসে কুমী , দ্বিতীয় খণ্ড , আলহাফী শিরোনাম , পৃ. 153 , আলামা লিখেছেন মিনহাজুল কারামাহ গ্রন্থ থেকে।

56. মালেক ইবনে আনাস বিন মালেক বিন আবী আমের আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের চারজন বিখ্যাত ইমামগণের একজন। বিখ্যাত মালেকী মাযহাব তার নামানুসারেই। তিনি ইমাম আব হানীফার সময়কালের একজন আলেম। ইমাম শাফেঈ ইমাম মালেকের শিষ্য ছিলেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ইমাম শাফেঈর শিষ্য ছিলেন।

ফেকাহশাস্ত্রের দিক থেকে ইমাম মালেক ও আবু হানীফার মতবাদে বিরাট পার্থক্য ছিল। এ দু টি মতবাদকে একটি আরেকটির ঘোর বিরোধী বলে ধরা হয়। কেননা আবু হানীফা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের রায় ও কিয়াসকে প্রাধান্য দিতেন । এর বিপরীতে ইমাম মালেকের ফেকহী মতবাদ অধিকতর হাদীসের উপর নির্ভরশীল। এর সাথে সাথে ইবনে খালকান তার রচিত ওয়াফইয়াতুল আ ইয়ান নামক গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডের 286 পষ্ঠায় লিখেছেন যে , ইমাম মালেক তার মৃত্যুর পূর্বে অনেক কান্নাকাটি করতেন। এর কারণ ছিল এই যে , তিনি কতিপয় ফতোয়া নিজের রায় ও কিয়াসের ভিত্তিতে দিয়েছিলেন। তার জীবনের শেষ মুহূর্তে সে ভুলের কথা গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছিল। তাই যখনই তার নিজের রায় ও কিয়াস ভিত্তিক প্রদত্ত ফতোয়ার কথা তার মনে জাগতো তখনই তিনি অস্থিরভাবে কান্নাকাটি শুরু করতেন। আর নিজের অজান্তেই বলতেন , হায় আফসোস! আমি যদি অমার রায় মোতাবেক সে ফতোয়াগুলো না দিতাম। আমি এখন এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট চিত্তে প্রস্তুত রয়েছি যে , আমার নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে দেয়া প্রতিটি ফতোয়ার বদলে এক একটি করে বেত্রাঘাত করা হোক। যাতে করে আমি সে সব গুনাহ থেকে মক্তি লাভ করতে পারি।

মালেকী মাযহাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিশেষ ব্যাপার হচ্ছে যে , তারা মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ মাহাজ যিনি শহীদ হয়েছেন তার বাইয়াতকে সঠিক মনে করে। এ মাযহাবের দৃষ্টিতে বনী আব্বাসীয়দের , যারা শক্তি দ্বারা খেলাফতের ক্ষমতা দখল করেছে তাদের বাইয়াত করা জায়েয নয়। ইমাম মালেক কখনও তার এ আকীদা-বিশ্বাস প্রকাশ করা পরিত্যাগ করেননি। তিনি বনী আব্বাসীয়দের প্রতাপ-প্রতিপত্তি ও দোর্দণ্ড প্রভাবের কোনই পরোয়া করতেন না। এ কারণেই সাফফাহ ও মনসুরে চাচা জা ফর ইবনে সুলাইমান আব্বাসীর হুকুমে তাকে কঠোর বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। কিন্তু এটা একটা আশ্চর্যের বিষয় যে , আব্বাসীয় শাসকদের পক্ষ থেকে প্রহারের কারণে মালেকের খ্যাতি , জনপ্রিয়তা ও সম্মান অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেল। ওয়াফইয়াতুল আ ইয়ান গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডের 285 পৃষ্ঠায় এ পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মদীনায় অবস্থা্নকালে ইমাম মালেক সব সময় ইমাম জাফর সাদিক (আঃ)-এর কাছে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি তাদেরই মধ্য থেকে একজন , যারা ইমাম (আঃ)-এর কাছ থেকে হাদীস বণর্ না করতেন। বিহারুল আনোয়ারের বর্ণনা মতে ইমাম সাদিক (আঃ) ইমাম মালেককে খুব ভালো জানতেন। আর প্রায়ই তিনি মালেককে বলতেন , আমি তোমাকে ভালো জানি। মালেক ইমামের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে খুব খুশী হতেন। আল-ইমাম আস-সাদিক নামক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়েছে যে , ইমাম মালেক প্রায়ই বলতেন , আমি একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ)-এর কাছে আসা-যাওয়া করতাম। তখন আমি ইমামকে অধিকাংশ সময় দেখতে পেতাম নামায-রোযা , তিলাওয়াতে কোরআন ইত্যাদি নেক কাজে ব্যস্ত। ইবাদত-বন্দেগী , তাকওয়া-পরহেযগারী ও জ্ঞান-গরিমার জগতে তার থেকে বড় কাউকে আর আমি দেখিনি। বিহারুল আনোয়ারে ভাষ্য অনুযায়ী ইমাম মালেক ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) সম্পর্কে এভাবে বলতেন , ইমাম জা ফর সাদিক (আঃ) অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একজন ইবাদতকারী ও মোত্তাকী-পরহেযগার লোক ছিলেন। তিনি মহান আল্লাহকে অনেক ভয় করতেন। মহানবী (সাঃ) এর অনেক অনেক হাদীস তার মুখস্ত ছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নেক চরিত্রের অধিকারী এক মহান ব্যক্তিত্ব। তাঁর সংস্পর্শে এসে অনেক কিছু অর্জন করা যেতো। তাঁর সংস্পর্শে এসে ও তার মজলিসে বসে লোকেরা সব রকমের সৌভাগ্য ও বরকত হাসিল করতো। মহানবী (সাঃ) এর নাম তাঁর সামনে উচ্চারিত হবার সাথে সাথেই তাঁর চেহারার রং পাল্টে যেতো।

57. বিহারুল আনোয়ার , একাদশ খণ্ড , পৃ. 109।

58. ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ. 531 , বিহারুল আনোয়ার , নবম খণ্ড , পৃ. 599।

59. উসূলে কাফী দ্বিতীয় খণ্ড বাবুল বাযা , পৃ. 324 , ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ. 477।

60. নাহজুল বালাগাহ , শরহে ইবনে আবিল হাদীদ , বৈরুত সংস্করণ , চতুর্থ খণ্ড , পৃ. 389।

61. তাতিম্মাতুল মুনতাহা , মুহাদ্দেসে কুমী , দ্বিতীয় খণ্ড , পৃ. 400 , তারীখে ইবনে খালকান , তৃতীয় খণ্ড , পৃ. 44।

62. মুরযুযাহাব ,মাসউদী ,মিসর সংস্করণ ,দ্বিতীয় খণ্ড ,পৃ.174 ,আহওয়ালে ওমর ইবনে আব্দুল আযীয অধ্যায়ে ।

63. আল আনোয়ারুল বাহিয়াহ ,মোহাদ্দেসে কুম্মী ,পৃ.76 ।

64. কিতাবে নিয়ায়েশ এর অনুবাদের ভূমিকাংশ (আলেকসিস কার্ল রচিত) জনাব মুহাম্মাদ তাকী শরীয়াতীর লিখিত।

65.কাফী , দ্বিতীয় খণ্ড , বাব হাকীকাতল ঈমান ওয়াল ইয়াকনী ,পৃ.53।

66. সীরায়ে ইবনে হিশাম , প্রথম খণ্ড , পৃ. 321-338 , শরহে ইবনে আবিল হাদীদ নাহজুল বালাগাহ। চতুর্থ খণ্ড , বৈরুত সংস্করণ , পৃ. 175- 177 , নাসেখুত তাওয়ারিখ হিজরত পূর্ব ঘটনাবলী।

67. বিহারুল আনোয়ার , 11শ খণ্ড , প. 120।

68. কাফী , দ্বিতীয় খণ্ড , বাবু হাক্কুল জাওয়ার , পৃ. 666।

69. বিহারুল আনোয়ার , 11শ খণ্ড , প. 105।

70. শরহে ইবনে আবিল হাদীদ , তৃতীয় খণ্ড , পৃ. 568-570 , মাগাযীয়ে ওয়াকেদী থেকে সংকলিত।

71. ওয়াসায়েল দ্বিতীয় খণ্ড , প. 457।

72. ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , প. 462 ।

73. বিহারুল আনোয়ার , একাদশ খণ্ড , পৃ. 215।

74. কুহলিল বাছার , মুহাদ্দেসে কুমী , পৃ. 79।

75. ওয়াসায়েল , দ্বিতীয় খণ্ড , প. 57।

76 সীরাতে ইবনে হিশাম , প্রথম খণ্ড , পৃ. 265।

77. রওযাতল জান্নাত ,হাজী সাইয়্যেদ সাঈদ প্রকাশিত , পৃ. 747।

78. তারীখে উলুমে পিইউররোসো , পৃ. 382-383।

79. আইনে সখানভারী , মরহুম মহাম্মাদ আলী ফরুগী রচিত , দ্বিতীয় খণ্ড , প. 5-6।

80. সীরাতে ইবনে হিশাম , 1ম খণ্ড , পৃ. 419-421।

81. কাব্যার্থ : *দেখেছো তোমরা ? কতো উচ্চ ব্যক্তিত্বের শবদেহ- চলে গেছে এ পথিবীর মায়া সাঙ্গ করে ; হেরেছো তোমরা ? কেমন করে হলো এমন ? স্তব্ধ হয়ে গেছে প্রজাপতির সমারোহ চিরতরে।

*লুটিয়ে পড়েছে ভূতলে হিমাদ্রিসম পর্বত , হতো যদি নিপতিত অতল সাগর বুকে- উপচে উঠতো তার সীমাহীন জলরাশি , প্লাবিত হতো ভরপুর বারিধির উপরি মুখে!!

*তোমার মৃত্যুর আগে কখনো পায়নি স্থান- আমার বিশ্বাস জগতের মণিকোঠায় একটিবার , পর্বতসম তোমাকেও একদিন মৃত্তিকার অভ্যন্তরে লুকিয়ে নেবে চিরতরে ফিরিয়ে দেবে না আর!!

82. ওয়াফইয়াতুল আইয়ান , মুহাদ্দেস কুমী দ্বিতীয় খণ্ড , প. 365 আসসাবী অধ্যায়।

83. আলকুনা ওয়াল আলকাব , দ্বিতীয় খণ্ড , আল বসরী শিরোনাম , বিহারুল আনোয়ার , প্রথম খণ্ড , পৃ. 224 , হাদীস নং-17 ।

84.তরজমাতুল মুনাকায মিনাদ্দলালাহ (এতেরাফাতে গাযযালী) , তারীখে ইবনে খালকান , পঞ্চম খণ্ড , পৃ. 351-352 , গাযযালী নামাহ।

85. আবুযার গিফারী , রচনায় আব্দুল হামীদ জাওয়াতুসসিহার , (অনুবাদ-আলী শরীয়তী , বর্ধিত কলেবরে)।

86. বিহারুল আনোয়ার , 11শ খণ্ড , পৃ. 17 , 27 , আল ইমাম আসসাদিক , 1ম খণ্ড , পৃ. 111 , আল-ইমামু যয়নুল আবেদীন , রচনায়-আব্দুল আযীয সাইয়্যেদুল আহাল , অনুবাদ-হোসাইন বিজদানী , পৃ. 92।

87. বিহারুল আনোয়ার , সপ্তম খণ্ড , 103নং অধ্যায় , পৃ.-597 ।