সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার0%

সত্য কাহিনী সম্ভার লেখক:
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ: চরিত্র গঠনমূলক বই

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক: শহীদ আয়াতুল্লাহ মুর্তাজা মোতাহহারী
: মাওলানা আলী আক্কাস
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বিভাগ:

ভিজিট: 26940
ডাউনলোড: 2706

সত্য কাহিনী সম্ভার
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 79 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 26940 / ডাউনলোড: 2706
সাইজ সাইজ সাইজ
সত্য কাহিনী সম্ভার

সত্য কাহিনী সম্ভার

লেখক:
প্রকাশক: কালচারাল কাউন্সেলরের দফতর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দুতাবাস -
বাংলা

এ বইটি তার বিষয়ের সর্বপ্রথম ও অনন্য অবতারণা হোক অথবা না হোক , এর জন্য প্রাপ্য ফুলের মামলার যোগ্য পাত্র আমি নই , অর্থাৎ যদি এ বইটি কাহিনী রচনার জগতে কোন গুরুত্বপূর্ণ নতুন অবতারণার দাবিদার হয় তাহলে তার গোড়াপত্তনকারী আমি নই। বরং প্রকাশনা ও প্রচারণার একটি প্রতিষ্ঠানে দেশের বিজ্ঞ বিজ্ঞ বিজ্ঞানী-গুণী কতিপয় ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি সম্পাদনা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এ অধমও সে বোর্ডের একজন সদস্য। দেশের খ্যাতনামা লেখক ও বিজ্ঞতম ব্যক্তিত্ব সমৃদ্ধ সে বোর্ডের এক বৈঠকে প্রস্তাব রাখা হলো যে , এমন একটি গ্রন্থ রচিত হওয়া উচিত যার মধ্যে চারিত্রিক সুন্দর ও গুণাবলী কাহিনী আকারে উপস্থাপিত থাকবে। আর সে কাহিনীগুলো লেখকের নিজের মস্তিষ্ক থেকে আবিস্কৃত বা নিজের খেয়াল মোতাবেক তৈরি হবে না। বরং তার ভিত্তিমূল ও উৎস হবে হাদীস , বাস্তব জীবন ও ইতিহাসের গ্রন্থরাজি। এর সংকলনের উদ্দেশ্য থাকবে মুসলিম সমাজকে শিক্ষা দান এবং যুব সমাজকে হেদায়েতের পথ প্রদর্শন ও পরিচালনা করা।

30

প্রতিবেশীর অভিযোগ

এক ব্যক্তি রাসূলে খোদা (সাঃ)-এর খেদমতে এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করলো। সে বললো , আমার প্রতিবেশী আমাকে এমন বিরক্ত করে যে , আমার বেঁচে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাসূলে আকরাম (সাঃ) বললেন , ধৈর্য ধারণ করো , প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে শোরগোল করো না , বরং নিজের চাল-চলনে কিছুটা পরিবর্তন আনয়ন করো। কিছু দিন পর সে লোকটি আবার রাসূলের খেদমতে এসে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো। এবারও রাসল (সাঃ) বললেন , ধৈর্য ধারণ করো। এরপর আরো কিছুদিন পর সে তৃতীয়বার অভিযোগ নিয়ে আল্লাহর নবীর খেদমতে হাজির হলো। সে বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমার এ প্রতিবেশী তার মন্দ কাজ থেকে বিরত হচ্ছে না। আগের মতোই সে আমাকে ও আমার পরিবারবর্গকে বিরক্ত করেই চলেছে।

এবার মহানবী (সাঃ) তাকে বললেন , শুক্রবার দিন আসলে তোমার ঘরের সমস্ত মালামাল বের করে রাস্তার মাথায় এমন এক স্থানে রেখে দেবে , যেখান দিয়ে লোকেরা যাতায়াত করার সময় তা দেখতে পায়। তোমার মালপত্র রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখে লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞাসা করবে যে , তোমার সমস্ত মালামাল এভাবে রাস্তার উপর রেখে দেয়ার কারণ কি ? তুমি লোকদেরকে বলবে , আমি আমার প্রতিবেশীর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে খুবই বিপদগ্রস্থ এভাবে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরো।

অভিযোগকারী মহানবী (সাঃ)-এর কথা মতো ঠিক তাই করলো। কষ্টদানকারী প্রতিবেশী ভেবেছিল যে , আল্লাহর নবী সর্বদা ধৈর্য্য ধারণ করার উপদেশই দিয়ে যাবেন। তার এ কথা জানা ছিল না যে , যখন জুলুম-অত্যাচার ঠেকাবার ও অধিকার বাঁচাবার প্রশ্ন দেখা দেয় তখন সীমা লংঘনকারীর কোন মর্যাদা ইসলামের দৃষ্টিতে অবশিষ্ট থাকে না। যখনই সে এ বিষয়ে খবর পেল তখন সে খুব ভয় পেয়ে গেল এবং সে লোকটির কাছে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করতে লাগলো , ভাই , তোমার মালামাল নিয়ে ঘরে চলো। শুধু তাই নয় , বরং সে তার সাথে অঙ্গীকার করলো যে , আগামীতে সে আর কখনও কষ্ট দেবে না এবং বিরক্ত করবে না।41

31

খুরমা গাছ

এক আনসারীর বাগানে সামারাতা বিন জুনদার নামের এক ব্যক্তি একটি খুরমা গাছ লাগিয়েছিল। সে আনসারীর বসতবাড়িও এ বাগানের মধ্যেই ছিল যেখানে তার পরিবার-পরিজনও বসবাস করতো । সামারাহ মাঝে মাঝে তার গাছটি দেখাশোনা করার জন্য অথবা খুরমা তোলার জন্য সে আনসারীর বাগানে যাতায়াত করতো। ইসলামী বিধান মতে সে আনসারীর ঘরে আসা-যাওয়া করার অধিকার সামারার ছিল , গাছের পরিচর্যা উপলক্ষে বাগানে আসা-যাওয়ার সুবাদে।

সামারাহ তার গাছের পরিচর্যাকল্পে বাগানে গেলে সে আনসারীর বাড়িতে আকস্মিকভাবে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতো। ঘরে প্রবেশ করার সময় তার দৃষ্টি ঘরের অন্য লোকদের উপরও পড়তো।

একবার ঘরের মালিক সামারাকে বললো , ঘরে প্রবেশ করার সময় আকস্মিকভাবে প্রবেশ করা উচিত নয়। সঙ্গত কাজ হচ্ছে ঘরে প্রবেশ করার আগে শব্দ ইত্যাদি করা। সামারাহ এ কথা মেনে নিতে অস্বীকার করলো। ঘরের মালিক বাধ্য হয়ে মহানবী (সাঃ)-এর খেদমতে এসে অভিযোগ করে বললো , এ লোকটি আকস্মিকভাবে অনুমতি ছাড়াই আমার ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে। আপনি তাকে একটু বলে দিন যেনো সে ঘরে প্রবেশ করার পূর্বে তার আগমন সংবাদ দিয়ে দেয় যাতে করে আমার পরিবারের লোকেরা তার দৃষ্টি থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে।

হযরত রাসূলে আকরাম (সাঃ) সামারাকে ডেকে বললেন , অমুক ব্যক্তি তোমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে যে , তুমি সংবাদাদি না দিয়েই ঘরে ঢুকে পড়ো। আর তুমি তার পরিবারের লোকদেরকে এমন অবস্থায় দেখে নাও যা তাদের নিকট অপছন্দনীয়। কাজেই আগামীতে সে ব্যক্তির ঘরে প্রবেশ করার আগে আওয়াজ দিয়ে তাদেরকে তোমার অগমন সম্পর্কে সতর্ক করে দেবে। কারো ঘরে তার অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা উচিত নয়। সামারাহ রাসূল (সাঃ)-এর এ কথায় সম্মত হলো না।

রাসূল (সাঃ) তাকে বললেন , আমার এ কথা যদি তোমার নিকট গ্রহণযোগ্য না হয় তাহলে তুমি তোমার গাছটি বিক্রি করে দাও। সে এ কথাতেও রাজী হলো না। রাসূল (সাঃ) গাছের মূল্য আরো কিছু বাড়িয়ে দিলেন। তাতেও সে নিজের জিদে অটল থাকলো। কোন মূল্যেই সে গাছটি বিক্রি করতে প্রস্তুত হলো না। রাসূলে অকরাম (সাঃ) বললেন , যদি তুমি এ কাজ করো তাহলে বেহেশতেও তোমাকে একটি ফলের গাছ দেয়া হবে। এতসব কথা শোনার পরও সে গাছটি বিক্রি করতে প্রস্তুত হলো না। সে তার গোঁয়ার্তুমীতে অনড় থাকলো। সে বললো , আমি এ গাছটি বিক্রি করবো না আর এ বাগানে প্রবেশ করার সময় বাগানের মালিকের কাছ থেকে অনুমতিও নেবো না।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আল্লাহর নবী (সাঃ) বললেন , তুমি একজন অনিষ্টপ্রিয় ও পাষাণ হৃদয়ের লোক। ইসলামে কাউকে কষ্ট দেয়া বা কারো ক্ষতি করার কোনই অধিকার দেয়া হয়নি। অতঃপর রাসলে আকরাম (সাঃ) সে বাগানের মালিক আনসারীর প্রতি লক্ষ্য করে বললেন , যাও বাগান থেকে খুরমার গাছটি উপড়ে ফেলো এবং সামারার সামনে ফেলে দাও।

রাসূলের কথা মতো তারা বাগানে গেল এবং সমস্তকাজ সম্পাদন করলো। রাসূলে খোদা (সাঃ) সামারাকে বললেন , যাও আল্লাহর যমীন খোলা আছে। যেখানে তোমার মন চায় সেখানে গিয়ে তোমার গাছ লাগাও।42

32

উম্মে সালমার ঘরে

সে রাতে রাসূলে আকরাম (সাঃ) উম্মে সালমার ঘরে রাত যাপন করছিলেন। মধ্য রাতে উম্মে সালমা ঘুম থেকে জেগে গেলেন। দেখতে পেলেন আল্লাহর নবী (সাঃ) তার বিছানায় নেই। তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন যে , ঘটনা কি ? নারীসুলভ ঈর্ষার কারণে তিনি খুঁজতে লাগলেন রাসূলে আকরাম (সাঃ) কোথায় গেলেন ? তিনি দেখলেন যে , আল্লাহর নবী (সাঃ) ঘরের এক অন্ধকার কোণে দাঁড়িয়ে আসমানের দিকে হাত তুলে কেঁদে কেঁদে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বলছেন :

হে পরোয়ারদিগার! যে সমস্ত নেয়ামত তুমি আমাকে দান করেছো তা আমার থেকে ফেরত নিও না। হে আমার প্রভু! আমার দুশমন ও বিদ্বেষীদের দুঃখ-কষ্টে আনন্দিত হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা করো। হে বিশ্ব জাহানের মালিক! যে সমস্ত মন্দ ও গহির্ত কাজ থেকে আমাকে দূরে রেখেছো সে গুলোর দিকে আমাকে কখনও নিয়ে যেয়ো না। হে খোদা! এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে তুমি আমার নিজের ওপর ছেড়ে দিও না।

হযরত রাসূলে আকরাম (সাঃ)-এর মুখে এ কথাগুলো শুনে উম্মে সালমা কেঁপে উঠলেন। তিনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না। ঘরের এক কোণে গিয়ে বসে কাঁদতে লাগলেন। হযরত উম্মে সালমার কান্না এমন আকার ধারণ করলো যে , অবশেষে নবী (সাঃ) স্বয়ং তার কাছে আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন :

হে উম্মে সালমা! তুমি এভাবে কাঁদছো কেন ?

উম্মে সালমা বললেন , আমি কেন কাঁদবো না ? মহান আল্লাহর দরবারে আপনার বিরাট মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। আপনি তার নিকটতম বান্দা। তারপরও আপনি খোদার ফরিয়াদ করছেন এক মুহূর্তের জন্যও যেন নিজের ওপর ছেড়ে না দেন।

মহানবী (সাঃ) বললেন , হে উম্মে সালমা! আমি কেমন করে অস্থির না হয়ে থাকতে পারি ? আর কি করেই বা নিশ্চিত থাকতে পারি ? যেখানে ইউনুস (আঃ)-কে। এক মুহূর্তের জন্য আল্লাহ তাকে তার নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এতেই তার মাথার উপর যে বিপদ আসার ছিল তাই এলো।43

33

কালোবাজার

পরিবারে লোকসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আঃ)-এর খরচাদি অনেক বেড়ে গেলো । তাই তিনি সাংসারিক খরচাদি মেটাবার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোন উপায়ে আয়ের উৎস বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করতে লাগলেন। একবার তিনি এক হাজার দিনার যোগাড় করে তার গোলাম মুসাদিফকে দিয়ে বললেন , এ এক হাজার দিনার নিয়ে মিসরে গিয়ে ব্যবসা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করো।

মুসাদিফ সে দিনার দিয়ে এমন সব মালামাল খরিদ করলো সাধারণত মিসরের বাজারে যেগুলো চাহিদা বেশী। এরপর মিসরগামী একটা ব্যবসায়ী কাফেলার সাথে শামিল হয়ে মিসরের দিকে চললো।

মিসরের নিকট পৌঁছলে মিসর থেকে প্রত্যাগত অপর একটি ব্যবসায়ী কাফেলার সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো। উভয় কাফেলার লোকেরা পরস্পরের হাল অবস্থা জিজ্ঞাসা করলো। আলাপ-আলোচনা ও কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে তারা জানতে পারলো যে , মুসাদিফ ও তার সফর-সাথীদের সাথে যে মালামাল রয়েছে , মিসরের বাজারে তার খুব চাহিদা আছে। চাহিদা সম্পন্ন মালামালের অধিকারীরা খুশিতে আত্মহারা। ঘটনাক্রমে তাদের কাছে যে মালামাল ছিলো তা সাধারণ মানষদের অতি প্রয়োজনীয়। যে কোন মূল্যে মানুষ এসব মালামাল খরিদ করতে বাধ্য।

ব্যবসায়ীরা এ খুশির সংবাদ পেয়ে সকলে মিলে এ সিদ্ধান্তনিলো যে , আমরা আমাদের মালামাল শতকরা এক শত ভাগ লাভ না করে বিক্রি করবো না।

মিসরে পৌঁছেই তারা বুঝতে পারলো যে , রাস্তায় প্রাপ্ত খবর সম্পূর্ণ সত্য। তাদের মধ্যে কৃত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা প্রথমে কালোবাজারির পরিবেশ সৃষ্টি করলো। কেউ তাদের মাল দ্বিগুণ দামের কমে বিক্রি করলো না। যেহেতু বাজারে সে সব মালের সরবরাহ কম ছিলো এবং চাহিদা ছিল বেশী। তাই অল্প দিনের মধ্যেই তাদের সমস্তমালামাল দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়ে গেলো।

অন্যান্য ব্যবসায়ীর ন্যায় মুসাদিফও এক হাজার দিনার মুনাফা নিয়ে মদীনায় ফিরে আসলো। সে খুব আনন্দিত মনে ইমাম সাদিক (আঃ)-এর খেদমতে উপস্থিত হলো। এক হাজার দিনার করে দুটি থলি ইমামের সামনে রেখে দিলো। ইমাম জিজ্ঞাসা করলেন , এগুলো কি ? জবাবে মুসাদিফ বললো , এর মধ্যে একটি থলিতে সে টাকা যা আপনি আমাকে পুজিঁ হিসেবে দিয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় থলিতে ব্যবসায়ের মুনাফার টাকা যা পুঁজির সমান।

ইমাম (আঃ) বললেন , মসাদিফ! অনেক বেশী মুনাফা দেখা যাচ্ছে। বলো তো , কিভাবে তোমরা এতো বেশী লাভবান হয়েছো ?

মুসাদিফ বললো , ঘটনাটি ছিলো এই যে , আমরা যখন মিসরের কাছাকাছি পৌঁছলাম তখন সংবাদ পেলাম যে , আমরা যে সব মালামাল নিয়ে যাচ্ছিলাম সেগুলোর মিশরে খুবই চাহিদা। তারপর আমরা ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তনিলাম যে , শতকরা এক শ ভাগ মনাফা না করে আমরা কেউ মাল বিক্রি করবো না। এ সিদ্ধান্তঅনুযায়ী আমরা কাজ করলাম।

ইমাম (আঃ) বললেন , সুবহানাল্লাহ! তোমরা এমন একটি কাজ করেছো! তোমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছো যে , মুসলমানদের মধ্যে কালোবাজারির পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তোমরা কসম করেছো যে , পুঁজির সমান মুনাফা না করে মাল কেউ বিক্রি করবে না। আমি এ ধরনের ব্যবসা ও লাভ কোনদিন কখনও পছন্দ করি না।

অতঃপর হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) একটি থলি তুলে নিলেন এবং বললেন , এটা আমার পুঁজি। দ্বিতীয় থলিটি সেখানে পড়ে থাকলো। ইমাম বললেন ,ও টাকার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

এরপর ইমাম (আঃ) বললেন ,হে মুসাদিফ। হালাল রুজির মোকাবিলায় তলোয়ার চালনা সহজতর।44

34

কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন

রাতের অন্ধকারে এক যুবকের করুণ আহ্বান দূর থেকে শোনা যাচ্ছিল। সে অত্যন্তকরুণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন করছিলো এবং সে আম্মাজান , আম্মাজান করে ডাকছিল। আসলে তার দুর্বল রোগা উটটি কাফেলা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত উটটি ক্লান্তহয়ে যমীনে শুয়ে পড়েছিল। সব রকমের চেষ্টা করেও সে উটটিকে ওঠাতে সক্ষম হলো না। কোন উপায়ান্তর না দেখে সে উটটির মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন করতে লাগলো। এমন সময় মহানবী (সাঃ) , যিনি সর্বদা কাফেলার সকলে পিছে চলে থাকেন , যাতে করে কোন দুর্বল ও বৃদ্ধ লোক কাফেলা থেকে পিছে পড়ে গেলে একা অসহায় না হয়ে পড়ে , তিনি দূর থেকে সে যুবকের ফরিয়াদ শুনতে পেলেন। তিনি যখন যুবকটির কাছে পৌঁছলেন তখন জিজ্ঞাসা করলেন , কে তুমি ?

যুবকটি বললো , আমি জাবের। রাসূল (সাঃ) বললেন , তুমি এতো অস্থির ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কেন ?

যুবক বললো , হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমার উটটি দুর্বল ও ক্লান্তির কারণে কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন সে বসে পড়েছে আর উঠতেই চায় না। ওদিকে কাফেলা এগিয়েই চলেছে।

রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন , তোমার কাছে কোন লাঠি আছে কি ?

সে বললো , জী হ্যাঁ। রাসূল (সাঃ) বললেন , দাও। আমাকে দাও। এরপর মহানবী (সাঃ) লাঠির সাহায্যে উটটিকে ধাক্কা দিলেন। উটটি উঠে দাঁড়ালো। তিনি আবার সেটিকে বসিয়ে দিলেন। তারপর তিনি স্বীয় হাতকে পাদানী বানিয়ে ধরলেন এবং জাবেরকে বললেন , আরোহণ করো।

জাবের উটের পিঠে চড়ে রাসূলে আকরাম (সাঃ)-এর সাথে সাথে চললেন। এবার জাবেরের উটটি আগের চেয়ে আরো দ্রুত চলতে লাগলো। পথে আল্লাহর নবী (সাঃ) জাবেরের প্রতি সর্বদা দয়া প্রদর্শন করছিলেন। জাবের গণনা করে দেখলেন যে , রাসূল (সাঃ) পথ চলতে চলতে প্রায় পঁচিশবার তার জন্যে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

পথে রাসূল (সাঃ) জাবের ইবনে আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলেন , তোমার পিতা থেকে তোমরা কতো ভাইবোন আছো ?

জাবের বললেন , ইয়া রাসূলুলাহ! আমার সাতটি বোন আছে। আর আমিই একমাত্র ভাই।

রাসূল (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন , তুমি কি তোমার পিতার সমস্তঋণ পরিশোধ করে দিয়েছো ? নাকি এখনো কিছু বাকী আছে ?

জাবের বললেন , না! এখনো কিছু লোকের ঋণ বাকি আছে।

রাসূল (সাঃ) বললেন , মদীনায় পৌঁছে তুমি পাওনাদারদের সাথে ঋণ পরিশোধের বিষয়ে কথাবার্তা বলে নিও। আর যখন খুরমা তোলার সময় আসবে তখন আমাকে খবর দিও।

: আচ্ছা! ঠিক আছে।

: তুমি কি বিয়ে শাদী করেছো ?

: জ্বী হ্যাঁ।

: কাকে বিয়ে করেছো ?

: আমি অমুকের মেয়ে অমুককে বিয়ে করেছি। সে মদীনার একজন বিধবা রমণী।

: তুমি একটি কুমারী মেয়েকে কেন বিয়ে করলে না ? তোমার মতো একজন যুবকের জন্য তো কুমারী মেয়েই সঙ্গত ছিলো।

: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমার কয়েকটি অনভিজ্ঞ যুবতী বোন আছে। এ জন্য অনভিজ্ঞা যুবতী মেয়েকে বিয়ে করতে চাইনি। বরং কল্যাণকর মনে করলাম যে , একজন বুদ্ধিমতী অভিজ্ঞা বিধবা নারীকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করি।

: এটা তুমি একটা উত্তম কাজ করেছো। এ উটটি তুমি কতো টাকা দিয়ে কিনেছো ? দুইশত দিরহাম ।

: এই টাকা মূল্যেই উটটি আমাকে দাও। মদীনায় এসে তুমি আমার কাছ থেকে তা নিয়ে নিও। এভাবে কয়েকদিন সফর করে কাফেলা মদীনায় এসে পৌঁছলো। জাবের তার উটটি নিয়ে রাসূলে খোদার খেদমতে হাজির হলেন উটটি হস্তান্তর করবেন বলে। রাসূল (সাঃ) জাবেরকে দেখেই বিলালকে ডেকে বললেন , জাবেরকে দুইশত দিরহাম দিয়ে দাও। এটা তার উটের মূল্য। তাকে আরো একশ বিশ দিরহাম দিয়ে দাও যাতে তার বাবার ঋণ পরিশোধ করতে পারে। তার সাথে এ উটটিও তাকে ফেরত দিও। এটা তারই থাকবে।

এরপর রাসূল (সাঃ) জাবেরকে জিজ্ঞাসা করলেন , পাওনাদারদের সাথে কি তোমার কোন কথাবার্তা হয়েছে ?

জাবের বললেন , না! হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)!

রাসূল (সাঃ) আরো জিজ্ঞাসা করলেন , তোমার পিতা যে সম্পদ রেখে গেছেন তা দিয়ে কি তোমার বাবার ঋণ পরিশোধ করা যথেষ্ট হবে ?

জাবের বললেন , না। হে আল্লাহর নবী (সাঃ)! তা যথেষ্ট নয়।

রাসূল (সাঃ) বললেন , তাহলে খুরমা তোলার সময় হলে আমাকে খবর দিও।

এর কিছুদিন পরেই খুরমা তোলার মওসম এসে পৌঁছল ।জাবের রাসূল (সাঃ)-কে খবর দিলেন। মহানবী (সাঃ) নিজে গিয়ে সমস্তঋণ পরিশোধ করে দিলেন। আর জাবেরের পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণের জন্য যথেষ্ট টাকা অবশিষ্ট রেখে দিলেন।45

35

জুতার ফিতা

হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) কতিপয় সাহাবীকে নিয়ে তাঁর এক আত্মীয়কে সান্ত্বনা দানের জন্য তার বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে ইমামের জুতার ফিতা ছিড়ে গেলো। তাতে ইমাম জুতা পায়ে দিয়ে চলতে পারছিলেন না। তিনি জুতা খুলে হাতে নিলেন এবং খালি পায়ে চলতে লাগলেন।

এ অবস্থা দেখে তাঁর অন্যতম সাহাবী ইবনে আবী ইয়াফুর তৎক্ষণাৎ স্বীয় পায়ের জুতা খুলে ফেললো। সে তার জুতার ফিতা খুলে ইমামের দিকে এগিয়ে দিলো যাতে করে ইমাম জুতা পায়ে দিয়ে চলতে পারেন। আর সে নিজে খালি পায়ে চলবে।

ইমাম সাদিক (আঃ) আবদুল্লাহ ইবনে আবী ইয়াফুরের এ কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কোন অবস্থাতেই তার ফিতা গ্রহণ করতে রাজী হলেন না। তিনি বললেন , যদি কারো উপর কোন বিপদ এসে পড়ে তখন সে বিপদ বহন করা তার জন্যই উত্তম কাজ। এটা কিছুতেই সঙ্গত কাজ হতে পারে না যে , বিপদ আসবে একজনের উপর আর তা বহন করবে অন্যজন।46

36

হিশাম ও ফারাযদাক

দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দীর প্রথম দিকের কথা। তখন উমাইয়্যাদের শাসন ক্ষমতা একেবারে তুঙ্গে। হিশাম ইবনে আবদুল মালেক খলিফার পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত হয়েছে। খেলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিশাম একবার হজ্ব করতে গেলো। সে কাবাঘর তওয়াফ করার পর হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য সব রকমের চেষ্টা করলো। কিন্তু লোকদের ভিড়ের চাপের কারণে তার মনের আশা পূরণ হলো না। সে হাজরে আসওয়াদের নিকটে পৌঁছতে ব্যর্থ হলো। সকলেই ইহরামের পোশাক পরা। মুখে মুখে আল্লাহর যিকির জারি ছিলো। হাজীগণ একই আমল অনুশীলন করছেন। মোট কথা সকলে মিলে এক আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে পাক-পবিত্র ধ্যান-ধারণা ও নেক চিন্তা-ভাবনায় এমনই নিমজ্জিত ছিলো যে , হিশামের পার্থিব ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য করার সময় তাদের ছিল না। হিশামের সাথে আগত সাথীরা অবশ্য এ ব্যাপারে খুবই তৎপর ছিল যে , যুবরাজের ব্যক্তিত্ব ও শান-শওকত যেনো সুরক্ষিত থাকে। তাদের কাছে হজ্বের আরকান-আহকাম ও আমল-অনষ্ঠানের তেমন কোন গুরুত্ব ছিল না। তাদের নিকট আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের চাইতে খলিফার উত্তরাধিকারীর সন্তুষ্টির চিন্তাই বড় ছিল।

যা হোক , হিশাম নিজেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পৌঁছাবার জন্য সম্ভাব্য সব রকমের চেষ্টাই করেছে যাতে করে হজ্বের নিয়ম অনুযায়ী স্বীয় হাতকে সে পবিত্র পাথরের সাথে স্পর্শ করতে পারে। কিন্তু ঠাসা ভিড়ের কারণে তার সব চেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। বাধ্য হয়ে সে ফিরে এলো। তার সেবাদাস সাথীরা একটা চেয়ার এনে একটু উঁচু এক স্থানে রেখে দিলো। হিশাম সে চেয়ারটিতে বসে হজ্বের দৃশ্য দেখতে লাগলো। সিরিয়া থেকে আগত তার সাথীরা তাকে ঘিরে দাঁড়ালো। হিশামের সাথে তারাও খোদার আশেক বান্দাদের আকীদা-বিশ্বাস ও আগ্রহ-উদ্দীপনার দশ্যৃ দেখতে থাকলো।

ঠিক এমনি সময়ে এক সুদর্শন ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটলো যার চেহারায় অতীব তাকওয়া-পরহেযগারীর নিদর্শনাদি পরিদৃষ্ট হচ্ছিল। তার শরীরেও ছিলো অপরাপর হাজীদের ন্যায় একটা সাদা পোশাক। তার চেহারা থেকে খোদার ইবাদত-বন্দেগীর নিদর্শন প্রকাশিত হচ্ছিলো। প্রথমে তিনি কাবাঘর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর অত্যন্ত প্রশস্তিও প্রশান্তঅন্তরে হাজরে আসওয়াদের দিকে ধীরে ধীরে এগুতে লাগলেন। প্রচণ্ড সেই ভিড় সত্ত্বেও লোকেরা যখনই তাকে দেখলো সাথে সাথে সরে গিয়ে পথ বের করে দিল। তিনি হাজরে আসওয়াদের নিকট পৌঁছে গেলেন। সিরিয়া থেকে আগত হিশামের সঙ্গী-সাথীরা এ দৃশ্যটি খুব ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করছিলো। এর আগে তারা দেখেছিলো যে , খলিফার যুবরাজ এতো শান-শওকত নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করেও হাজরে আসওয়াদের নিকট পৌঁছতে পারেনি। সুতরাং এ দৃশ্যটি তাদেরকে বিস্মিত করে দেয়। তাদের মধ্যে থেকে একজন স্বয়ং হিশামকেই জিজ্ঞাসা করলো , এ ব্যক্তিটি কে ?

হিশাম খুব ভালোভাবেই জানতো যে , তিনি হযরত আলী ইবনিল হোসাইন (অঃ) অর্থাৎ ইমাম যায়নুল আবেদীন (আঃ)। কিন্তু সে না চেনার ভান করে বললো , আমি তাকে চিনি না।

এমতাবস্থায় হিশামের ভয়-ভীতির সামনে কার এ সাহস ছিল যে , ইমামের পরিচয় তুলে ধরার জন্য মুখ খুলবে ? সকলেই জানে যে , হিশামের তলোয়ার থেকে সর্বদা রক্ত ঝরতে থাকে। এ সময় মুখ খোলা মানেই হচ্ছে হিশামের তলোয়ারে নিচে গর্দান পেতে দেয়া। কিন্তু এমনি মুহূর্তেও তৎকালীন আরবের বিখ্যাত কবি হাম্মাম ইবনে গালিব যিনি কবি ফারাযদাক নামে খ্যাত ছিলেন , তিনি তার আবেগের জোশ দমন করে রাখতে পারলেন না। সাথে সাথেই নির্ভয়ে বলে উঠলেন , কিন্তু আমি তাকে খুব ভালোভাবেই চিনি। এতটুকুন বলেই তিনি থামলেন না। বরং নিকটেই একটি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ইমামের প্রশংসা করে অত্যন্তজোশ ও উদ্যমের সাথে নিজস্ব বিশেষ সুরে হিশামের মুখের সামনেই কবিতা আবত্তিৃ শুরু করলেন। ফারাযদাকের এ কবিতা আরবী সাহিত্যে শীর্ষস্থানের অধিকারী। কবিতাটি পাঠ করলে মনে হয় যেনো তার জযবা জোশ ও উদ্দীপনার সাগরে জোয়ার এসেছিল। তিনি তার আত্মিক জযবাকে কবিতার ছন্দে যেভাবে রূপ দিয়েছেন তার জন্য দরকার একটি মুক্ত পরিবেশ। অথচ বাস্তব অবস্থা্ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। ফারাযদাকের চোখের সামনেই হিশামের খোলা তলোয়ার চমকাচ্ছিল। তবুও তিনি তার মুখের উপরই কবিতা রচনা করেই চলছিলেন। কবি ফারাযদাক তার কবিতায় হযরত ইমাম যায়নুল আবেদীন (আঃ)-এর পরিচয় তুলে ধরে এভাবে বলেন :

*তিনি সেই ব্যক্তি যাকে মরু-মক্কার প্রতিটি পাথরকণা খুব ভালোভাবে চেনে। এ পবিত্র কা বাঘর তার পরিচয় সম্পকে যথাযথ অবগত। পবিত্র হেরেম শরীফের ধুলা-বালির প্রতিটি অণু-পরমাণুর কাছে রয়েছে তার পরিচিতি। হেরেমের বাইরে মাটির কাছেও তিনি অজানা অপরিচিত নন।

*তিনি মহান আল্লাহর অতি প্রিয় বান্দার সন্তান। যার তাকওয়া পরহেযগারীর কোন তুলনা হয় না। পুত-পবিত্র আত্মার অধিকারী ব্যক্তিত্ব বলে সারা বিশ্বে তার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে। এরপর হিশাম ইবনে আবদুল মালিককে লক্ষ্য করে তিনি ইমামের প্রশংসা এভাবে তুলে ধরেন : *তুমি বলছো যে , তুমি তাকে চেনো না। কিন্তু তোমার এ বলার দ্বারা তার কিছুই আসে যায় না অর্থাৎ তোমার এ কথা বলার দ্বারা উচ্চ মর্যাদার অধিকারী এ ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদায় বিন্দুমাত্র কমবে না। যদি ধরে নেয়া যায় যে , তুমি একা তাকে চেনো না তাহলে সেটা খুব বড় কথা নয়। কেননা আরব-অনারবের সকলের কাছেই তিনি খুব ভালোভাবে পরিচিত আছেন।

কবি ফারাযদাকের এ কবিতা শুনে হিশাম ক্রোধে অগ্নিমূর্তি ধারণ করলো। সাথে সাথেই হুকুম জারি করলো বাইতুলমাল থেকে ফারাযদাককে যে ভাতা দেয়া হতো তা বন্ধ করে দেয়া হলো। শুধু এখানেই শেষ নয় , বরং তাকে গ্রেফতার করে মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তীা অসফান নামক স্থানে বন্দী করে রাখা হলো। ফারাযদাককে এসব শাস্তি এ জন্য দেয়া হয়েছিল যে , তিনি বীরত্ব প্রদর্শন করে নিজের আকীদা-বিশ্বাসের প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ফারাযদাকের দৃষ্টিতে এরূপ পার্থিব কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদে পতিত হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তার বাহাদুরী ও সাহসিকতার নমুনা এমন ছিল যে , বন্দী দশার জীবনেও তিনি হিশামের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে তার ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত হননি।

হযরত ইমাম যায়নুল আবেদীন (আঃ) যখন জানতে পারলেন যে , তার সরকারী ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং তিনি বন্দীশালায় আটক রয়েছেন তখন তিনি তার জন্যে কিছু টাকা-পয়সা জেলখানায় পাঠিয়ে দিলেন। কিন্তু ফারাযদাক তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বললেন , আমি আমার সে কবিতাটি কেবল আমার ঈমান-আকীদার তাগিদে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্যই রচনা করেছিলাম। অতএব আমি তার বদলে টাকা পয়সা গ্রহণ করতে চাই না।

ইমাম আলী ইবনিল হোসাইন (আঃ) পুনরায় সে টাকা পাঠিয়ে দিয়ে সংবাদ দিলেন , আল্লাহ তোমার নিয়ত ও ইচ্ছা সম্পর্কে অবগত আছেন। সে অনুযায়ী তোমাকে প্রতিদানও দেবেন। তুমি যদি আমার পাঠানো এ সাহায্য গ্রহণ করো তাহলে সেখান থেকে কমে যাবে না। এ পর্যায়ে ইমাম তাকে গ্রহণ করার ব্যাপারে কসম দিয়েছিলেন। আর তিনিও তা গ্রহণ করে নেন।47