ওহি-গৃহে আক্রমণ

ওহি-গৃহে আক্রমণ0%

ওহি-গৃহে আক্রমণ : মুহম্মদ রিজওয়ানুস সালাম খান
প্রকাশক: মাজমা-এ-যাখায়েরে ইসলামী কুম,ইরান
বিভাগ: হযরত ফাতেমা (সা.আ.)

  • শুরু
  • পূর্বের
  • 9 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 567 / ডাউনলোড: 305
সাইজ সাইজ সাইজ
ওহি-গৃহে আক্রমণ

ওহি-গৃহে আক্রমণ

প্রকাশক: মাজমা-এ-যাখায়েরে ইসলামী কুম,ইরান
বাংলা

এই প্রবন্ধে মুখ্য আলোচ্য বিষয়বস্তু হল: ১. হজরত রাসূল (সা.) এর ভাষায় হজরত ফাতিমা (আ.) এর নিষ্পাপত্ব (ইসমত)। ২. হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহ,কুরআন ও সুন্নতের আলোকে সম্মানীয়। ৩. হজরত রাসূল (সা.) এর পরে তাঁর গৃহের উপর আক্রমণ করে তাঁর মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

ওহি-গৃহে আক্রমণ

يورش به خانه وحي

অনুবাদ:

মুহম্মদ রিজওয়ানুস্ সালাম খান

ব্যবস্থাপনায়:

নূরুল ইসলাম একাডেমী ,চণ্ডীপুর (পঃ বঃ)

প্রকাশনায়:

মাজমা-এ-যাখায়েরে ইসলামী কুম ,ইরান

ওহি-গৃহে আক্রমণ

অনুবাদ : মুহম্মদ রিজওয়ানুস্ সালাম খান

সম্পাদনা : জনাব মাওলানা আবুল কাসেম সাহেব

ব্যবস্থাপনায় : নূরুল ইসলাম একাডেমী ,চণ্ডীপুর ,(পঃ বঃ) ,ভারত

কম্পোজ : জনাব মকবুল হাসান সাহেব

প্রকাশকাল : মহর্রম 1430 ,মাঘ: 1415 ,জানুয়ারী: 2009

প্রকাশনায় : মাজমা-এ-যাখায়েরে ইসলামী ,বাড়ি নং 1 , গলি নং 23 , আযার স্ট্রীট ,কুম ,ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ।

গ্রন্থস্বত্ব প্রকাশকের জন্য সংরক্ষিত

Title: OHI-GRIHE AQROMON

Translated By: M. Rizwanus Salam Khan. Edited By: M. Abul Qasim. Supervisor: Noorul Islam Academi. Chandipur,24 Pgs (S),(W.B) India. Pulished By: Majma-E-Zakhair Islami,Qom,Iran . Published On: January 2009,Moharram 1430,Magh,1415 .Dey 1387 Farsi.

এই বইটি আল হাসানাইন (আ.) ওয়েব সাইট কর্তৃক আপলোড করা হয়েছে ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

মাহ্দী (আ.)-এর সুস্থতা কামনার দোওয়া

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلی مُحَمَّدٍ وَّآلِ مُحَمَّدٍ وَّعَجِّل فَرَجَهُم

اَللَّهُمَّ كُن لِوَ لِيِّكَ الحُجَّة بنِ الحَسَن صَلَوَاتُكَ عَلَيهِ

وَ عَلی آبَائِهِ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ وَفِي كُلّ سَاعَة وَلِياًّوَّ

حَافِظاًوَّ قَائِداً وَّ نَاصِراً وَّ دَلِيلاً وَّ عَينًاحَتَّی تُسْكِنَهُ

اَرْضَكَ طَوعاً وَ تُمَتِّعَهُ فِيهَا طَوِيلاً

“ হে খোদা! তুমি স্বীয় প্রতিনিধি হুজ্জ্বত ইবনুল হাসান ” এবং তার পবিত্র পূর্ব পরুষগণের প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ করো এবং এই মুহূর্ত হতে সর্বদা তুমি তাঁর সংরক্ষক ,পৃষ্ঠপোষক ,সহায়ক ,রক্ষক ,তথা পথ-প্রদর্শক থেকো এবং তোমার জগৎকে সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত অবশিষ্ট রেখো যাতে তোমার প্রতিনিধি তোমার নেয়ামত সমূহ হতে পূর্ণরূপে লাভবান হতে পারেন। ”

قال رسول الله صلي الله عليه واله وسلم :

يا علي ! ستقاتلك الفئة الباغية و أنت علي الحق

فمن لم ينصرك يوميئذ فليس مني

আল্লাহর শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (স .) এরশাদ করেছেনঃ

হে আলী! শীঘ্র অবাধ্যদল তোমার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। অথচ তুমি সত্যের ওপরে অবস্থান করবে। সুতরাং সেদিন যে দিন যে ব্যক্তি তোমাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে না সে মুসলমান নয়।1

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

ওহি - গৃহে আক্রমণ

সম্প্রতি সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞাত সিস্তান ও বেলুচিস্তান এলাকার অধিবাসী একব্যক্তি রাসূল (সা.) এর কন্যা সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ রচনা করেছে যার নাম হল ফাতিমা জাহরার শাহাদাতের কল্পকাহিনী ” এই প্রবন্ধে হযরত ফাতিমার মর্যাদা ও গুণাবলীর বিবরণ দেয়ার পর তাঁর শাহাদত ও রাসূল (সা.) এর মৃত্যুর পর তাঁর কন্যার মর্যাদা হানি করে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা অস্বীকার করা হয়েছে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে এই প্রবন্ধের একাংশ পরিষ্কার ও স্পষ্ট ভাবে ইসলামের ইতিহাসকে অপব্যাখ্যা করেছে। তাই সেই অংশগুলি সুস্পষ্ট করে সত্যকে ফাঁস করতে চাই। যাতে প্রমাণ হয়ে যায় যে বিবি ফাতিমা (সা.) এর শাহাদাতের ইতিহাস এতটা প্রমাণিত যে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। যদি লেখক এমন বক্তব্যকে উপস্থাপন না করত তাহলে আমি এমনি ভাবে ওর পিছনে ছুটতাম না।

এই প্রবন্ধে মুখ্য আলোচ্য বিষয়বস্তু নিম্নে দেওয়া হল:

1. হজরত রাসূল (সা.) এর ভাষায় হজরত ফাতিমা (আ.) এর নিষ্পাপত্ব (ইসমত) ।2

2. হজরত ফাতিমা (আ.) এর গৃহ ,কুরআন ও সুন্নতের আলোকে সম্মানীয়।

3. হজরত রাসূল (সা.) এর পরে তাঁর গৃহের উপর আক্রমণ করে তাঁর মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

এই আশা নিয়ে তিনটি বিষয়কে ব্যাখ্যা করব ,যাতে প্রবন্ধকার সত্যের সামনে নতি স্বীকার করে ,আর নিজের লেখার জন্য নিজের উপর আক্ষেপ করে ,আর পরিত্রাণের জন্য পথ খোঁজে।

এই আলোচনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কেন না সম্পূর্ণরূপে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের পুস্তক সমূহ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

1) রাসূল (সা.) এর বাণীতে হজরত ফাতিমা জাহরা (আ.) এর ইসমত (পাপশূন্যতা)

নবী নন্দিনী ( আ .) এর মর্যাদা ও সম্মান মহান ও সর্বোত্তম। রাসূল ( সা .) এর বাণী যা তিনি নিজের কন্যার প্রতি লক্ষ্য করে বর্ণনা করেছেন তাতে হজরত ফাতিমার ইসমত ’ ও গুনাহ থেকে মুক্ত থাকাকে প্রমাণ করে। যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন :

فاطمة بضعة مني فمن اغضبها اغضبني

অর্থাৎ: ফাতিমা আমারই একটি অঙ্গ ,যে তাঁকে অসন্তুষ্ট করল সে আমাকে অসন্তুষ্ট করল 3

অর্থাৎ: ফাতিমা (আ.) এর অসন্তুষ্টিতে রাসূল (সা.) এর অসন্তুষ্টি। আর রাসূল (সা.)কে অসন্তুষ্টকারী ব্যক্তির শাস্তি সম্পর্কে কুরআন মজিদ বর্ণনা করছে:

) و َالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّـهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ(

অর্থাৎ: যারা রাসূল (সা.) কে যন্ত্রণা দেয় তাদের জন্য কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে । 4

তাঁর ইসমতের উপর এর থেকে দৃঢ় অন্য এক হাদীছে তাঁর খুশী খোদার খুশীর কারণ ও তাঁর অসন্তুষ্টি খোদার অসন্তুষ্টির কারণ ” বলে রাসূল (সা.) হতে বর্ণিত হয়েছে:

يا فاطمة إنّ الله يغضب لغضبك و يرضي لرضاك

অর্থাৎ: হে ফাতিমা খোদা তোমার অসন্তুষ্টিতে অসন্তুষ্ট এবং তোমার সন্তুষ্টে সন্তুষ্ট হয়5

এ ছাড়া দুনিয়ার নারীকুলের নেত্রী ঘোষণা করেও নবী (সা.) হাদীছ বর্ণনা করেছেন:

يا فاطمة! ألا ترضين أن تكون سيدة نساء العالمين، وسيدة نساء هذه الامة، وسيدة نساء المومنين

অর্থাৎ: হে ফাতিমা! তুমি কি এই মহান মর্যাদায় যা খোদা তোমাকে দান করেছেন সন্তুষ্ট নও যে তোমাকে পৃথিবীর নারীকুলের নেত্রী ,এই উম্মতের নারীকুলের নেত্রী ও ঈমানদার নারীকুলের নেত্রীর মর্যাদায় ভুষিত করেছেন।6

2) কুরআন ও সুন্নতের আলোকে ফাতিমা (আ.)এর গৃহ সম্মানিত

হাদিছশাস্ত্রবিদরা উল্লেখ করেছেন: যখন এই পবিত্র আয়াত নবী (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়

) ف ِي بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّـهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ(

উচ্চারণ: ফি বুয়ুতিন আজেনা ল্লাহো আন তুরফায়া ওয়া য়ুজকারা ফিহাসমুহু । 7

নবী করীম এই আয়াতটি মসজিদে তেলাওয়াত করলেন সেই সময় এক ব্যক্তি উঠে প্রশ্ন করলেন: হে মহানবী (সা.) এই ঘরগুলি বলতে ও তার গুরুত্ব বলতে কি বোঝায় ? (অর্থাৎ: কোন ঘর ও তার কি গুরুত্ব) ।

রাসূল (সা.) বললেন: নবীগণের গৃহগুলিকে বোঝানো হয়েছে।

তখনি হজরত আবুবকর উঠে হজরত আলী (আ.) ও ফাতিমা (আ.) এর গৃহের দিকে ইশারা করে বললেন: আচ্ছা এই গৃহ কি সেই গৃহের মধ্যে আছে ?

উত্তরে নবী করীম (সা.) বললেন: হ্যাঁ ,তাদের থেকেও উত্তম।8

নবী করীম (সা.) দীর্ঘ নয় মাস পর্যন্ত নিজের কন্যার বাড়ি এসে তাঁর ও তাঁর স্বামীর উপর সালাম করতেন এবং এই আয়াতকে তেলাওয়াত করতেন:

) إ ِنَّمَا يُرِيدُ اللَّـهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا(

(সুরা আহযাব: 33)9

যে ঘর আল্লাহর নূরের কেন্দ্র এবং আল্লাহ যাকে সম্মান করার আদেশ দিয়েছেন তার সাথে অত্যন্ত সম্মান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করা আবশ্যক।

হ্যাঁ! নিশ্চয়ই যে ঘরে আসহাবে কেসা 10 একত্রিত হয়ে ছিলেন ,আল্লাহ তাকে মহা সম্মান ও মর্যাদা সাথে স্বরণ করেছেন ,তাই সেই ঘরের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা প্রতি মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য।

এবার দেখা অবশ্যক যে রাসূল (সা.) এর পর এই ঘরের সাথে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে ? কেমন ভাবে এই ঘরের মর্যাদাহানি করেছে যে তারা (অসম্মান কারীরা) নিজেদের কর্মকে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছে ? এরা কারা ছিল ও তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল ?