নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 43923
ডাউনলোড: 2028

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 43923 / ডাউনলোড: 2028
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

খোৎবা - ৯৮

في التزهيد من الدنيا

نَحْمَدُهُ عَلَى مَا كَانَ وَ نَسْتَعِينُهُ مِنْ أَمْرِنَا عَلَى مَا يَكُونُ وَ نَسْأَلُهُ اَلْمُعَافَاةَ فِي اَلْأَدْيَانِ، كَمَا نَسْأَلُهُ اَلْمُعَافَاةَ فِي اَلْأَبْدَانِ.

عِبَادَ اَللَّهِ،أُوصِيكُمْ بِالرَّفْضِ لِهَذِهِ اَلدُّنْيَا اَلتَّارِكَةِ لَكُمْ وَ إِنْ لَمْ تُحِبُّوا تَرْكَهَا، وَ اَلْمُبْلِيَةِ لِأَجْسَامِكُمْ وَ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ تَجْدِيدَهَا، فَإِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَ مَثَلُهَا كَسَفْرٍ سَلَكُوا سَبِيلاً فَكَأَنَّهُمْ قَدْ قَطَعُوهُ، وَ أَمُّوا عَلَماً فَكَأَنَّهُمْ قَدْ بَلَغُوهُ. وَ كَمْ عَسَى اَلْمُجْرِي إِلَى اَلْغَايَةِ أَنْ يَجْرِيَ إِلَيْهَا حَتَّى يَبْلُغَهَا! وَ مَا عَسَى أَنْ يَكُونَ بَقَاءُ مَنْ لَهُ يَوْمٌ لاَ يَعْدُوهُ، وَ طَالِبٌ حَثِيثٌ مِنَ اَلْمَوْتِ يَحْدُوهُ وَ مُزْعِجٌ فِي اَلدُّنْيَا حَتَّى يُفَارِقَهَا رَغْماً!

فَلاَ تَنَافَسُوا فِي عِزِّ اَلدُّنْيَا وَ فَخْرِهَا، وَ لاَ تَعْجَبُوا بِزِينَتِهَا وَ نَعِيمِهَا، وَ لاَ تَجْزَعُوا مِنْ ضَرَّائِهَا وَ بُؤْسِهَا، فَإِنَّ عِزَّهَا وَ فَخْرَهَا إِلَى اِنْقِطَاعٍ، وَ إِنَّ زِينَتَهَا وَ نَعِيمَهَا إِلَى زَوَالٍ، وَ ضَرَّاءَهَا وَ بُؤْسَهَا إِلَى نَفَادٍ(نفاذِ) ، وَ كُلُّ مُدَّةٍ فِيهَا إِلَى اِنْتِهَاءٍ، وَ كُلُّ حَيٍّ فِيهَا إِلَى فَنَاءٍ. أَ وَ لَيْسَ لَكُمْ فِي آثَارِ اَلْأَوَّلِينَ مُزْدَجَرٌ، وَ فِي آبَائِكُمُ اَلْمَاضِينَ تَبْصِرَةٌ وَ مُعْتَبَرٌ. إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ! أَوَ لَمْ تَرَوْا إِلَى اَلْمَاضِينَ مِنْكُمْ لاَ يَرْجِعُونَ، وَ إِلَى اَلْخَلَفِ اَلْبَاقِينَ لاَ يَبْقَوْنَ! أَ وَ لَسْتُمْ تَرَوْنَ أَهْلَ اَلدُّنْيَا يُصْبِحُونَ وَ يُمْسُونَ عَلَى أَحْوَالٍ شَتَّى: فَمَيِّتٌ يُبْكَى. وَ آخَرُ يُعَزَّى، وَ صَرِيعٌ مُبْتَلًى، وَ عَائِدٌ يَعُودُ، وَ آخَرُ بِنَفْسِهِ يَجُودُ، وَ طَالِبٌ لِلدُّنْيَا وَ اَلْمَوْتُ يَطْلُبُهُ، وَ غَافِلٌ وَ لَيْسَ بِمَغْفُولٍ عَنْهُ؛ وَ عَلَى أَثَرِ اَلْمَاضِي(الماضین) مَا يَمْضِي اَلْبَاقِي أَلاَ فَاذْكُرُوا هَاذِمَ اَللَّذَّاتِ، وَ مُنَغِّصَ اَلشَّهَوَاتِ، وَ قَاطِعَ اَلْأُمْنِيَاتِ، عِنْدَ اَلْمُسَاوَرَةِ(المشاورة) لِلْأَعْمَالِ اَلْقَبِيحَةِ؛ وَ اِسْتَعِينُوا اَللَّهَ عَلَى أَدَاءِ وَاجِبِ حَقِّهِ، وَ مَا لاَ يُحْصَى مِنْ أَعْدَادِ نِعَمِهِ وَ إِحْسَانِهِ.

দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা ও সময়ের উত্থান - পতন সম্পর্কে

দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা ও সময়ের উত্থান - পতন সম্পর্কে যা কিছু ঘটেছে তার জন্য আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং আমাদের কাজকর্মে ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে তার জন্য আমরা তার সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের ইমানের নিরাপত্তার জন্য আমরা তার কাছে প্রার্থনা করি যেভাবে আমরা শরীরের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করে থাকি ।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,এ দুনিয়া থেকে দূরে থাকার জন্য আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি। যদিও তোমরা দুনিয়ার প্রস্থান পছন্দ কর না। তবুও অচিরেই দুনিয়া তোমাদেরকে পরিত্যাগ করবে এবং তোমাদের শরীরকে তরতাজা রাখার জন্য যতই চেষ্টা কর না কেন বার্ধক্য তাকে গ্রাস করবেই । তোমাদের ও দুনিয়ার অবস্থা হলো সহযাত্রীর মতো - কিছু দূর একসাথে চলার পর যে যার পথে দ্রুত চলে যায়। কত অল্প সময়ের এ সহযাত্রা! এ দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চ অতি অল্প সময়ের যা একটা মুহুর্তের জন্য বর্ধিত করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। অপরপক্ষে একজন দ্রুতগামী চালক (অর্থাৎ সময়) দুনিয়া থেকে প্রস্থান করার জন্য তোমাদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সুতরাং পার্থিব সম্মান ও প্রতিপত্তির জন্য লালায়িত হয়ো না। দুনিয়ার চাকচিক্য ও ঐশ্বর্যে আনন্দউদ্বেল হয়ো না এবং এর ক্ষতি ও দুর্ভাগ্যের জন্য রোদন করো না। কারণ দুনিয়ার সম্মান ও প্রতিপত্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে ,এর সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এর ক্ষতি ও দুর্ভাগ্যের অবসান হবে। এ পৃথিবীতে প্রতিটি কালের শেষ আছে এবং প্রত্যেক জীবিত বস্তুই মৃত্যুবরণ করবে। তোমাদের পূর্ববর্তীগণের স্মৃতিচিহ্ন কি তোমাদের জন্য সতর্কাদেশ নয় ? তারা কি তোমাদের চোখ খুলে দেয়নি ? তোমাদের পূর্ব পুরুষদের অবস্থা কি তোমাদেরকে শিক্ষা দেয় না ? তাদের অবস্থা কি তোমাদের বোধশক্তি জাগ্রত করে না ?

তোমরা কি দেখতে পাও না পূর্ববর্তীগণ ফিরে আসে না এবং জীবিত অনুসারীগণ চিরকাল থাকে না ? তোমরা কি লক্ষ্য কর না ,দুনিয়ার মানুষ সকাল ও সন্ধ্যা এক অবস্থায় কাটায় না ? কেউ মৃতের জন্য ত্যাগ করছে ,কেউ দুনিয়ার পিছনে ছুটে চলেছে অথচ মৃত্যু তাকে খুঁজছে ;কেউ সব ভুলে গাফেল হয়ে বসে আছে অথচ মৃত্যু তাকে কখনো ভুলে না এবং পূর্ববর্তীগণের পদাঙ্কের দিকে পরবর্তীগণকে নিয়ে যায় ।

সাবধান ,পাপ কাজ করার আগে ভোগ - বিলাস ধ্বংসকারী ,আনন্দ নস্যাৎকারী ও কামনা - বাসনার হত্যাকারীকে (মৃত্যু) স্মরণ করো। আল্লাহর প্রতি কর্তব্য পালনের জন্য এবং তাঁর অগণিত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য তার সাহায্য প্রার্থনা কর।

খোৎবা - ৯৯

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَلنَّاشِرِ فِي اَلْخَلْقِ فَضْلَهُ، وَ اَلْبَاسِطِ فِيهِمْ بِالْجُودِ يَدَهُ. نَحْمَدُهُ فِي جَمِيعِ أُمُورِهِ، وَ نَسْتَعِينُهُ عَلَى رِعَايَةِ حُقُوقِهِ، وَ نَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ غَيْرُهُ.

وَ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَ رَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ بِأَمْرِهِ صَادِعاً(ناطقاً) ، وَ بِذِكْرِهِ نَاطِقاً(قاطعاً) . فَأَدَّى أَمِيناً، وَ مَضَى رَشِيداً؛ وَ خَلَّفَ فِينَا رَايَةَ اَلْحَقِّ، مَنْ تَقَدَّمَهَا مَرَقَ، وَ مَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا زَهَقَ، وَ مَنْ لَزِمَهَا لَحِقَ، دَلِيلُهَا مَكِيثُ اَلْكَلاَمِ، بَطِيءُ اَلْقِيَامِ، سَرِيعٌ إِذَا قَامَ. فَإِذَا أَنْتُمْ أَلَنْتُمْ لَهُ رِقَابَكُمْ، وَ أَشَرْتُمْ إِلَيْهِ بِأَصَابِعِكُمْ، جَاءَهُ اَلْمَوْتُ فَذَهَبَ بِهِ،فَلَبِثْتُمْ بَعْدَهُ مَا شَاءَ اَللَّهُ حَتَّى يُطْلِعَ اَللَّهُ لَكُمْ مَنْ يَجْمَعُكُمْ وَ يَضُمُّ نَشْرَكُمْ. فَلاَ تَطْمَعُوا(تطنعوا) فِي غَيْرِ(عین) مُقْبِلٍ، وَ لاَ تَيْأَسُوا مِنْ مُدْبِرٍ، فَإِنَّ اَلْمُدْبِرَ عَسَى أَنْ تَزِلَّ بِهِ إِحْدَى قَائِمَتَيْهِ،(قدمیه) وَ تَثْبُتَ اَلْأُخْرَى، فَتَرْجِعَاً حَتَّى تَثْبُتَا جَمِيعاً.

أَلاَ إِنَّ مَثَلَ آلِ مُحَمَّدٍصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم ، كَمَثَلِ نُجُومِ اَلسَّمَاءِ: إِذَا خَوَى نَجْمٌ طَلَعَ نَجْمٌ، فَكَأَنَّكُمْ قَدْ تَكَامَلَتْ مِنَ اَللَّهِ فِيكُمُ اَلصَّنَائِعُ، وَ أَرَاكُمْ مَا كُنْتُمْ تَأْمُلُونَ.

রাসূল (সা.) ও তাঁর বংশধর সম্পর্কে

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর নেয়ামত সারা সৃষ্টিতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং সকলের প্রতি তার দয়ার হাত প্রসারিত করেছেন। তার সকল কর্মকান্ডে আমরা তার প্রশংসা করি এবং তার প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পরিপূরণের জন্য তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ,তিনি ব্যতীত আর কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁর আদেশ সুস্পষ্টভাবে দেখানো ও তাকে স্মরণ করার কথা বলার জন্য রাসূলকে (সা.) প্রেরণ করেছিলেন। ফলে তিনি বিশ্বস্ততার সাথে তা পরিপূর্ণ করেছিলেন এবং সত্যপথ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি ইনতিকাল করেছিলেন।

তিনি আমাদের মাঝে সত্যের ঝাণ্ডা (আহলুল বাইত) রেখে গেছেন। যে ব্যক্তি এ ঝাণ্ডা ডিঙ্গিয়ে যায় সে ইমান হারিয়ে ফেলে ,যে তা থেকে পিছনে পড়ে থাকে। সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। যে এর প্রতি অবিচল থাকে সে সত্য ও ন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর নিদর্শন হলো সংক্ষিপ্ত কথা বলা ,ধীর পদক্ষেপ নেওয়া এবং যখন উঠে দাঁড়ায় তখন খুব দ্রুত এগিয়ে যায়। যখন তোমরা তার সম্মুখে তোমাদের ঘাড় বঁকা করেছে। এবং তাঁর দিকে তোমাদের আঙ্গুলি নির্দেশ করেছো তখন তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং আল্লাহ তাঁকে তুলে নিয়ে গেছেন। তারা তার পরেও বেঁচেছিল যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। আল্লাহ তোমাদের জন্য এক জনকে বের করে আনেন যিনি তোমাদের একত্রিত করলেন এবং বিভেদের পর তোমাদের একীভূত করলেন। যে এগিয়ে আসে না তার কাছে কিছু প্রত্যাশা করো না এবং যে প্রচ্ছাদিত তার প্রতি নিরাশ হয়ে না। কারণ প্রচ্ছাদিত জনের দুপায়ের একটা ফসকে গেলেও অপরটির ওপর সে থাকতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না উভয় পা যথাস্থানে ফিরে এসে ঠিক হয়ে না দাঁড়ায় (দুপা বলতে জাহেরি রাজত্ব ও বাতেনি রাজত্ব বুঝানো হয়েছে) ।

সাবধান ,আলে মুহাম্মদের (সা.) উদাহরণ হলো আকাশের তারকাপুঞ্জের মতো। যখন একটা তারকা অস্ত যায়। তখন অন্য একটা উদিত হয়। সুতরাং তোমরা এমন অবস্থায় আছো যে ,তোমাদের ওপর আল্লাহর আশীবাদ সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং তোমরা যা আকাঙ্খা করতে আল্লাহ তোমাদের তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

খোৎবা - ১০০

و هو من خظبة الّتی تَشْتَمِلُ عَلى ذِكُرِ الْمَلاحِمِ

الحمد لله الْأَوَّلِ قَبْلَ كُلِّ أَوَّلٍ، وَ الْآخِرِ بَعْدَ كُلِّ آخِرٍ، وَ بِأَوَّلِيَّتِهِ وَجَبَ أَنْ لاَ أَوَّلَ لَهُ، وَ بِآخِرِيَّتِهِ وَجَبَ أَنْ لاَ آخِرَ لَهُ، وَ أَشْهَدُ أَنْ لا إ لهَ إِلا اللَّهُ شَهَادَةً يُوافِقُ فِيهاالسِّرُّ الْإِعْلانَ، وَ الْقَلْبُ اللِّسَانَ.

أَيُّهَا النَّاسُ، لا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقاقِي وَ لا يَسْتَهْوِيَنَّكُمْ عِصْيانِي، وَ لا تَتَرَامَوْا بِالْأَبْصَارِ عِنْدَ ما تَسْمَعُونَهُ مِنِّي. فَوَالذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ، وَ بَرَأَ النَّسَمَةَ، إِنَّ الَّذِي أُنَبِّئُكُمْ بِهِ عَنِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم ما كَذَبَ الْمُبَلِّغُ، وَ لا جَهِلَ السَّامِعُ.

لَكَأَنِّي أَنْظُرُ إلى ضِلِّيلٍ قَدْ نَعَقَ بِالشّامِ، وَ فَحَصَ بِراياتِهِ فِي ضَواحِي كُوفانَ، فَإ ذا فَغَرَتْ فَاغِرَتُهُ، وَ اشْتَدَّتْ شَكِيمَتُهُ، وَ ثَقُلَتْ فِي الْأَرْضِ وَطْأَتُهُ، عَضَّتِ الْفِتْنَةُ أَبْنَأَها بِأَنْيابِها، وَ ماجَتِ الْحَرْبُ بِأَمْواجِها وَ بَدا مِنَ الْأَيَّامِ كُلُوحُها، وَ مِنَ اللَّيالِي كُدُوحُهَا. فَإِذا أَيْنَعَ زَرْعُهُ وَ قامَ عَلى يَنْعِهِ، وَ هَدَرَتْ شَقَاشِقُهُ، وَ بَرَقَتْ بَوَارِقُهُ، عُقِدَتْ راياتُ الْفِتَنِ الْمُعْضِلَةِ، وَ أَقْبَلْنَ كَاللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، وَ الْبَحْرِ الْمُلْتَطِمِ. هَذَا، وَ كَمْ يَخْرِقُ الْكُوفَةَ مِنْ قَاصِفٍ، وَ يَمُرُّ عَلَيْها مِنْ عَاصِفٍ، وَ عَنْ قَلِيلٍ تَلْتَفُّ الْقُرُونُ بِالْقُرُونِ، وَ يُحْصَدُ الْقَائِمُ، وَ يُحْطَمُ الْمَحْصُودُ!

সময়ের উত্থান - পতন সম্পর্কে

আল্লাহ সর্বপ্রকার প্রথমের প্রথম এবং সকল শেষের অবশিষ্ট। তাঁর প্রথমতা অপরিহার্য করে তোলে এ জন্য যে ,তাঁর পূর্বে অন্য কোন প্রথম নেই এবং তাঁর অবশিষ্টতা অপরিহার্য করে তোলে এ জন্য যে ,তাঁর পরে অন্য কোন কিছু অবশিষ্ট নেই। আমি প্রকাশ্যে ও গোপনে ,হৃদয়ে ও মুখে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ,আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মাবুদ নেই।

হে লোকসকল ,আমার বিরোধিতা করার অপরাধ করো না। আমাকে অমান্য করার কাজে প্রলুব্ধ হয়ো না এবং যখন আমার কথা শোন তখন একে অন্যের সাথে চোখ ঠারাঠারি করো না। যিনি বীজ থেকে অন্ধুর গজান ও বাতাস প্রবাহিত করেন ,সেই আল্লাহর কসম ,আমি তোমাদের কাছে যা বলি তার সবই রাসূল (সা.) থেকে প্রাপ্ত। না রাসূল আল্লাহর বাণী মিথ্যা বলেছেন ,আর না শ্রোতা হিসাবে আমি তা ভুল বুঝেছি।

আমি সিরিয়ায় একজন গোমরাহ (বিভ্রান্ত) লোককে চেচাতে দেখি ,যে কুফার উপকণ্ঠে তার ঝাণ্ডা গেড়েছে। যখন তার মুখ পুরাপুরি খুলবে ,তার অবাধ্যতা চরমে পৌছবে এবং তার পদচারণা পৃথিবীতে ভারী হয়ে পড়বে (স্বৈরাচারিতা চরম হবে।) তখন বিশৃঙ্খলা তার দাঁত দিয়ে মানুষকে কেটে ফেলবে ,যুদ্ধের তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে ,দিবাভাগ দারুণ কঠোর ও রাত্রি শ্রমসাধ্য হয়ে পড়বে। সুতরাং সময় ও সুযোগ পরিপক্ক হলে গোমরাহ বিদ্রোহীর ঝাণ্ডা আঁধার করা রাত ও তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মতো ক্রোধে জ্বলে উঠবে। এরকম এবং আরো বহু তাণ্ডব কুফার ওপর দিয়ে বয়ে যাবে এবং প্রবল ঝঞ্জা কুফাকে ধুয়ে - মুছে ফেলবে এবং শীঘ্রই মাথা মাথার সাথে সংঘর্ষ করবে ,উঠতি শস্য কর্তিত হবে ও কর্তিত শস্য বিনষ্ট করা হবে ।

____________________

১ । কারো কারো মতে উল্লেখিত গোমরাহ লোকটি মুয়াবিয়া ,আবার কারো কারো মতে লোকটি আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান।

খোৎবা - ১০১

صفة یوم القیامة

وَ ذَلِكَ يَوْمٌ يَجْمَعُ اللَّهُ فِيهِ الْأَوَّلِينَ وَ الْآخِرِينَ لِنِقاشِ الْحِسابِ وَ جَزَأِ الْأَعْمَالِ، خُضُوعا قِيَاما، قَدْ أَلْجَمَهُمُ الْعَرَقُ، وَ رَجَفَتْ بِهِمُ الْأَرْضُ، فَأَحْسَنُهُمْ حَالاً مَنْ وَجَدَ لِقَدَمَيْهِ مَوْضِعاً، وَ لِنَفْسِهِ مُتَّسَعاً.

الإخبار عن مستقبل البصرة الذامی

فِتَنٌ كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ، لا تَقُومُ لَها قائِمَةٌ، وَ لا تُرَدُّ لَها رايَةٌ، تَأْتِيكُمْ مَزْمُومَةً مَرْحُولَةً يَحْفِزُها قَائِدُها، وَ يَجْهَدُها راكِبُها، أَهْلُها قَوْمٌ شَدِيدٌ كَلَبُهُمْ، قَلِيلٌ سَلَبُهُمْ يُجاهِدُهُمْ فِي اللَّهِ قَوْمٌ أَذِلَّةٌ عِنْدَ الْمُتَكَبِّرِينَ، فِي الْأَرْضِ مَجْهُولُونَ، وَ فِي السَّمَأِ مَعْرُوفُونَ. فَوَيْلٌ لَكِ يَا بَصْرَةُ عِنْدَ ذلِكِ مِنْ جَيْشٍ مِنْ نِقَمِ اللَّهِ لا رَهَجَ لَهُ وَ لا حَسَّ، وَ سَيُبْتَلَى أَهْلُكِ بِالْمَوْتِ الْأَحْمَرِ، وَ الْجُوعِ الْأَغْبَرِ!

বিচারদিন সম্পর্কে

সেদিন এমন হবে যে ,আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজের হিসাব - নিকাশ দেখা ও বিনিময় পাওয়ার জন্য আনুগত্য সহকারে দাঁড়িয়ে থাকবে। ঘর্ম তাদের মুখ পর্যন্ত প্রবাহিত হবে এবং তাদের পায়ের নিচের মাটি কাঁপতে থাকবে। তাদের মধ্যে সে - ই সব চাইতে ভালো অবস্থায় থাকবে যে তার দুটো পা রাখার জন্য একটু স্থান পাবে এবং নিশ্বাস ফেলার জন্য একটু খোলা জায়গা পাবে।

ভবিষ্যৎ ফেতনা সম্পর্কে

ফেতনা হলো অন্ধকার রাতের মতো। না অশ্ব তার মোকাবেলায় দাড়াবে ,না তার ঝাণ্ডা ফিরে আসবে। তা পূর্ণ লাগামে উপস্থিত হবে এবং জিন নিয়ে প্রস্তুত থাকবে। তাদের নেতা তাদের পরিচালিত করতে থাকবে এবং সওয়ার তার ক্ষমতা কাজে লাগতে থাকবে। ফেতনাবাজাদের আক্রমণ মারাত্মক। আল্লাহর খাতিরে যারা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে তারা গর্বিতদের দৃষ্টিতে নীচ ,পৃথিবীতে অপরিচিত। কিন্তু আকাশে সুপরিচিত। তোমাকে অভিশাপ হে বসরা ,যখন আল্লাহর অভিশপ্ত একদল সৈনিক কোন প্রকার চিৎকার না করেই তোমার ওপর আপতিত হবে ;তখন তোমার অধিবাসীগণ রক্তাক্ত মৃত্যুর মুখোমুখি হবে ও ক্ষুধায় মরবো।

খোৎবা - ১০২

کیفیّة مواجهة الدنّیا

ایُّها الناسُ، انْظُرُوا إلَى الدُّنْيَا نَظَرَ الزَّاهِدِينَ فِيهَا، الصَّادِفِينَ عَنْهَا، فَإِنَّهَا وَ اللَّهِ عَمّا قَلِيلٍ تُزِيلُ الثَّاوِيَ السَّاكِنَ، وَ تَفْجَعُ الْمُتْرَفَ الْآمِنَ، لا يَرْجِعُ ما تَوَلَّى مِنْها فَأَدْبَرَ، وَ لا يُدْرى ما هُوَ آتٍ مِنْها فَيُنْتَظَرَ، سُرُورُها مَشُوبٌ(مشرب) بِالْحُزْنِ، وَ جَلَدُ الرِّجَالِ فِيها إلَى الضَّعْفِ وَ الْوَهْنِ، فَلا يَغُرَّنَّكُمْ كَثْرَةُ مَا يُعْجِبُكُمْ فِيها، لِقِلَّةِ مَا يَصْحَبُكُمْ مِنْهَا. رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً تَفَكَّرَ فَاعْتَبَرَ، وَ اعْتَبَرَ فَأَبْصَرَ(أقصر) ، فَكَأَنَّ ما هُوَ كائِنٌ مِنَ الدُّنْيَا عَنْ قَلِيلٍ لَمْ يَكُنْ، وَ كَأَنَّ ما هُوَ كائِنٌ مِنَ الْآخِرَةِ عَمّا قَلِيلٍ لَمْ يَزَلْ، وَ كُلُّ مَعْدُودٍ مُنْقَضٍ، وَ كُلُّ مُتَوَقَّعٍ آتٍ وَ كُلُّ آتٍ، قَرِيبٌ دَانٍ.

منزلة العالم

مِنْهَا: الْعالِمُ مَنْ عَرَفَ قَدْرَهُ، وَ كَفى بِالْمَرْءِ جَهْلاً أَنْ لا يَعْرِفَ قَدْرَهُ؛ وَ إِنَّ مِنْ أَبْغَضِ الرِّجَالِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى لَعَبْدا وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى نَفْسِهِ، جَائِرا عَنْ قَصْدِ السَّبِيلِ، سَائِرا بِغَيْرِ دَلِيلٍ، إِنْ دُعِيَ إلَى حَرْثِ الدُّنْيَا عَمِلَ، وَ إنْ دُعِيَ إلَى حَرْثِ الْآخِرَةِ كَسِلَ! كَأَنَّ ما عَمِلَ لَهُ وَاجِبٌ عَلَيْهِ؛ وَ كَأَنَّ ما وَنى فِيهِ سَاقِطٌ عَنْهُ.

وَ مِنْهَا: وَ ذَلِكَ زَمَانٌ لا يَنْجُو فِيهِ إِلا كُلُّ مُؤْمِنٍ نُوَمَةٍ، «إنْ شَهِدَ لَمْ يُعْرَفْ، وَ إنْ غابَ لَمْ يُفْتَقَدْ أُولَئِكَ مَصَابِيحُ الْهُدَى» وَ أَعْلاَمُ السُّرَى، لَيْسُوا بِالْمَسَايِيحِ، وَ لا الْمَذَايِيعِ الْبُذُرِ، أُولَئِكَ يَفْتَحُ اللَّهُ لَهُمْ أَبْوابَ رَحْمَتِهِ، وَ يَكْشِفُ عَنْهُمْ ضَرَّأَ نِقْمَتِهِ.

أَيُّهَا النَّاسُ، سَيَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمانٌ يُكْفَأُ فِيهِ الْإِسْلاَمُ كَما يُكْفَأُ الْإِنَأُ بِما فِيهِ، أَيُّهَا النَّاسُ إنَّ اللَّهَ قَدْ أَعَاذَكُمْ مِنْ أَنْ يَجُورَ عَلَيْكُمْ، وَ لَمْ يُعِذْكُمْ مِنْ أَنْ يَبْتَلِيَكُمْ، وَ قَدْ قالَ جَلَّ مِنْ قائِلٍ:( إنَّ فِي ذلِكَ لاَياتٍ وَ إنْ كُنّا لَمُبْتَلِينَ ) .

মিতাচারিতা , আল্লাহর ভয় সম্পর্কে

হে লোকসকল ,সেসব লোকের মতো দুনিয়ার দিকে দৃষ্টিপাত কর যারা দুনিয়াকে পরিহার করে ও দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আল্লাহর কসম ,অচিরেই দুনিয়া এর অধিবাসীকে অপসারণ করবে এবং সুখী ও নিরাপদগণের শোকের কারণ হবে। দুনিয়া থেকে যা ফিরে চলে যায় তা কখনো প্রত্যাবর্তন করে না এবং যা সংঘটিত হতে পারে তা অজানা ও অননুমেয়। এর আনন্দ দুঃখের সাথে মিশ্রিত। এখানে মানুষ দৃঢ়তা ,দুর্বলতা ও অবসন্নতা প্রবণ থাকে। এখানে যা কিছু তোমাদের আনন্দ দেয় তার দ্বারা তুমি ধোকায় পড়ো না ,কারণ খুব অল্প সংখ্যক উপকরণই তোমাদের সাহায্যে আসবে।

আল্লাহর রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক ,যে চিন্তা করে ও দুনিয়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং যখন সে শিক্ষা গ্রহণ করে তখন সে হেদায়েতের আলো লাভ করে। এ পৃথিবীতে যা কিছু বিদ্যমান অচিরেই তার অস্তিত্ব থাকবে না। অপরপক্ষে পরকালে যা টিকে থাকবে তা এখনো অস্তিত্বমান। গণনাযোগ্য প্রতিটি বস্তু মরে যাবে। প্রতিটি পূর্বাভাস দেখা দেবে বলে ধরে নিতে হবে এবং যা কিছু দেখা দেবে তা খুবই নিকটবর্তী বলে ধরে নিতে হবে।

বিদ্বান লোকের গুণাবলী

বিদ্বান হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের মূল্য জানে। একজন লোকের অজ্ঞ থাকার জন্য এটাই যথেষ্ট যে ,সে নিজের মূল্য জানে না। নিশ্চয়ই ,সে ব্যক্তি আল্লাহর সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত যাকে তার নিজের কারণে আল্লাহ পরিত্যাগ করেছেন। সে সত্য পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় এবং পথ প্রদর্শক ছাড়া ঘোরাফিরা করে। এ দুনিয়ার বাগান করতে (সম্পদ আহরণ) তাকে আহবান করলে সে কর্মতৎপর হয়ে পড়ে ,কিন্তু পরকালের বাগান করতে আহবান করলে সে ঝিমিয়ে পড়ে। (দেখে মনে হবে) যাতে সে কর্মতৎপর তা যেন তার জন্য অবশ্যকরণীয় এবং যাতে সে ঝিমিয়ে পড়েছে তা তার জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয়।

ভবিষ্যৎ সময় সম্পর্কে

এমন এক সময় আসবে যখন শুধুমাত্র ঘুমন্ত (নিস্ক্রিয়) মোমিন নিরাপদ থাকবে। যদি সে উপস্থিত থাকে। তবে তাকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না এবং অনুপস্থিত থাকলে তাকে সন্ধান করা হবে না। এরাই হেদায়েতের প্রদীপ ও নিশীথ যাত্রার পতাকা। তারা কারো চরিত্র হননের জন্য মিথ্যা বিবৃতি ছড়ায় না ,গুপ্ত বিষয় ফাঁস করে দেয় না এবং কাউকে অপবাদ দেয় না। তারা সেসব লোক যাদের জন্য আল্লাহ তার রহমতের দরজা খুলে রাখবেন এবং তাঁর শাস্তির কষ্ট তাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন।

হে লোকসকল ,এমন এক সময় আসবে যখন ইসলামকে উল্টিয়ে দেয়া হবে যেমন করে ভেতরের বস্তুসহ কোন পাত্রকে উল্টিয়ে দেয়া হয়। হে লোকসকল ,আল্লাহ তোমাদের প্রতি কঠোর হতে পারতেন ;কিন্তু তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। তাসত্ত্বেও তিনি তোমাদের বিচার না করে ছাড়বেন না। সকল বক্তার চেয়ে মহিমান্বিত বক্তা বলেনঃ এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। আমি তো তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। (কুরআন - ২৩:২৪)

খোৎবা - ১০৩

أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ بَعَثَ مُحَمَّداصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم وَ لَيْسَ أَحَدٌ مِنَ الْعَرَبِ يَقْرَأُ كِتَاباً، وَ لاَ يَدَّعِي نُبُوَّةً وَ لاَ وَحْياً. فَقَاتَلَ بِمَنْ أَطَاعَهُ، مَنْ عَصَاهُ يَسُوقُهُمْ إِلَى مَنْجَاتِهِمْ؛ وَ يُبَادِرُ بِهِمُ السَّاعَةَ أَنْ تَنْزِلَ بِهِمْ، يَحْسِرُ الْحَسِيرُ، وَ يَقِفُ الْكَسِير،ُ فَيُقِيمُ عَلَيْهِ حَتَّى يُلْحِقَهُ غَايَتَهُ، إِلا هَالِكا لاَ خَيْرَ فِيهِ، حَتَّى أَرَاهُمْ مَنْجَاتَهُمْ، وَ بَوَّأَهُمْ مَحَلَّتَهُمْ، فَاسْتَدَارَتْ رَحَاهُمْ (رخاهم)، وَ اسْتَقَامَتْ قَنَاتُهُمْ وَ ايْمُ اللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ مِنْ سَاقَتِهَا حَتَّى تَوَلَّتْ بِحَذَافِيرِهَا، وَ اسْتَوْسَقَتْ فِي قِيَادِهَا، مَا ضَعُفْتُ، وَ لاَ جَبُنْتُ، وَ لاَ خُنْتُ، وَ لاَ وَهَنْتُ. وَ ايْمُ اللَّهِ لَأَبْقُرَنَّ الْبَاطِلَ حَتَّى أُخْرِجَ الْحَقَّ مِنْ خَاصِرَتِهِ!

নবুয়ত প্রকাশের পূর্বে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে

নিশ্চয়ই ,আল্লাহ্ মুহাম্মদকে (সা.) নবী হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন যখন আরবদের কেউ কিতাব পড়তে জানতো না এবং কেউ নবুয়ত বা আহি দাবি করেনি। যারা তাকে অনুসরণ করেছিল তাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি সেসব লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন যারা তাকে অমান্য করেছিলো। তিনি তাদেরকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন এবং তিনি এতে তাড়াহুড়া করেছিলেন পাছে মৃত্যু তাদেরকে পরাভূত করে। নিকৃষ্টতম লোক (যার ভেতরে কোন সদগুণের লেশমাত্র নেই) ব্যতীত যখনই কোন ক্লান্ত মানুষ হাই তুলছিলো অথবা বিপদগ্রস্থ হচ্ছিলো তিনি তার পাশে দাঁড়িয়েছেন যে পর্যন্ত না সে তার লক্ষ্য অর্জন করেছে। অবশেষে তিনি তাদেরকে তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেখিয়ে দিলেন এবং মুক্তির স্থানে নিয়ে গেলেন। ফলত তাদের কর্মকান্ডের অবস্থান পরিবর্তিত হলো ,তাদের হস্তচালিত কল ঘুরতে লাগলো এবং তাদের বর্শা সোজা হয়ে গেল (অর্থাৎ তারা সরল ও সৎ অবস্থা লাভ করলো) ।

আল্লাহর কসম ,আমি তাদের পিছনে প্রহরীর মতো ছিলাম ,যে পর্যন্ত না তারা পাশ ফিরেছিলো এবং তাদের রশিতে জমায়েত হয়েছিলো (অর্থাৎ ইমানের পথে ফিরে এসেছিলো) । আমি কখনো দুর্বলতা প্রদর্শন করিনি বা সাহস হারাইনি। আমি কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করিনি বা নিস্তেজ হইনি। আল্লাহর কসম ,আমি অন্যায়কে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলবো এবং এর পাজর থেকে ন্যায় বের করে আনবো।

খোৎবা - ১০৪

خصائص النبیصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم

حَتَّى بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّداصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم شَهِيداً، وَ بَشِيراً، وَ نَذِيراً، خَيْرَ الْبَرِيَّةِ طِفْلاً، وَ أَنْجَبَهَا كَهْلاً، وَ أَطْهَرَ الْمُطَهَّرِينَ شِيمَةً، وَ أَجْوَدَ الْمُسْتَمْطَرِينَ دِيمَةً.

تحذیر من المستقبل المظلم بنی امیّة

فَمَا احْلَوْلَتْ لَكُمُ الدُّنْيَا فِي لَذَّتِهَا، وَ لاَ تَمَكَّنْتُمْ مِنْ رَضَاعِ أَخْلاَفِهَا، إِلا مِنْ بَعْدِ مَا صَادَفْتُمُوهَا جَائِلاً خِطَامُهَا، قَلِقا وَضِينُهَا، قَدْ صَارَ حَرَامُهَا عِنْدَ أَقْوَامٍ بِمَنْزِلَةِ السِّدْرِ الْمَخْضُودِ، وَ حَلاَلُهَا بَعِيدا غَيْرَ مَوْجُودٍ، وَ صَادَفْتُمُوهَا، - وَ اللَّهِ -، ظِلًّا مَمْدُود، ا إِلَى أَجْلٍ مَعْدُودٍ، فَالْأَرْضُ لَكُمْ شَاغِرَةٌ وَ أَيْدِيكُمْ فِيهَا مَبْسُوطَةٌ؛ وَ أَيْدِي الْقَادَةِ عَنْكُمْ مَكْفُوفَةٌ، وَ سُيُوفُكُمْ عَلَيْهِمْ مُسَلَّطَةٌ، وَ سُيُوفُهُمْ عَنْكُمْ مَقْبُوضَةٌ. أَلاَ وَ إِنَّ لِكُلِّ دَمٍ ثَائِراً، وَ لِكُلِّ حَقِّ طَالِباً، وَ إِنَّ الثَّائِرَ فِي دِمَائِنَاً كَالْحَاكِمِ فِي حَقِّ نَفْسِهِ، وَ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لاَ يُعْجِزُهُ مَنْ طَلَبَ، وَ لاَ يَفُوتُهُ مَنْ هَرَبَ؛ فَأُقْسِمُ بِاللَّهِ، يَا بَنِي أُمَيَّةَ عَمَّا قَلِيلٍ لَتَعْرِفُنَّهَا فِي أَيْدِي غَيْرِكُمْ وَ فِي دَارِ عَدُوِّكُمْ! أَلاَ إِنَّ أَبْصَرَ الْأَبْصَارِ مَا نَفَذَ فِي الْخَيْرِ طَرْفُهُ! أَلاَ إِنَّ أَسْمَعَ الْأَسْمَاعِ مَا وَعَى التَّذْكِيرَ وَ قَبِلَهُ!

نصائح خالدة

أَيُّهَا النَّاسُ، اسْتَصْبِحُوا مِنْ شُعْلَةِ مِصْبَاحٍ وَاعِظٍ مُتَّعِظٍ، وَ امْتَاحُوا مِنْ صَفْوِ عَيْنٍ قَدْ رُوِّقَتْ مِنَ الْكَدَرِ. عِبَادَ اللَّهِ لاَ تَرْكَنُوا إِلَى جَهَالَتِكُمْ، وَ لاَ تَنْقَادُوا لِأَهْوَائِكُمْ، فَإِنَّ النَّازِلَ بِهَذَا الْمَنْزِلِ نَازِلٌ بِشَفَا جُرُفٍ هَارٍ يَنْقُلُ الرَّدَى عَلَى ظَهْرِهِ مِنْ مَوْضِعٍ إِلَى مَوْضِعٍ لِرَأْيٍ يُحْدِثُهُ بَعْدَ رَأْيٍ يُرِيدُ أَنْ يُلْصِقَ مَا لاَ يَلْتَصِقُ وَ يُقَرِّبَ مَا لاَ يَتَقَارَبُ! فَاللَّهَ اللَّهَ أَنْ تَشْكُوا إِلَى مَنْ لاَ يُشْكِي شَجْوَكُمْ، وَ لاَ يَنْقُضُ بِرَأْيِهِ مَا قَدْ أَبْرَمَ لَكُمْ. إِنَّهُ لَيْسَ عَلَى الْإِمَامِ إِلا مَا حُمِّلَ مِنْ أَمْرِ رَبِّهِ: الْإِبْلاَغُ فِي الْمَوْعِظَةِ، وَ الاِجْتِهَادُ فِي النَّصِيحَةِ، وَ الْإِحْيَأُ لِلسُّنَّةِ، وَ إِقَامَةُ الْحُدُودِ عَلَى مُسْتَحِقِّيهَا، وَ إِصْدَارُ السُّهْمَانِ عَلَى أَهْلِهَا. فَبَادِرُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِ تَصْوِيحِ نَبْتِهِ، وَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تُشْغَلُوا بِأَنْفُسِكُمْ عَنْ مُسْتَثَارِ الْعِلْمِ مِنْ عِنْدِ أَهْلِهِ، وَ انْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَ تَنَاهَوْا عَنْهُ، فَإِنَّمَا أُمِرْتُمْ بِالنَّهْيِ بَعْدَ التَّنَاهِي!

রাসূলের (সা.) প্রশংসা

আল্লাহ রাসূলকে (সা.) সাক্ষী ,শুভ সংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারী হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের পবিত্রতম শিশু ,নিষ্পাপতম যুবক ,আচরণে পরিশুদ্ধদের পরিশুদ্ধতম এবং যারা উদারতা চাইত তাদের জন্য উদারতম ।

উমাইয়াদের সম্পর্কে

এ দুনিয়া আমোদ - প্রমোদে মধুর হয়ে তোমাদের নিকট হাজির হয়নি এবং তোমরা এর বাট থেকে দুধ দোহন করনি ,যে পর্যন্ত না। এর নাকের রশি টেনে ধরেছিলে ও পেটে বাধা বেল্ট ঢিলা করে দিয়েছিলে। কিছু লোকের কাছে দুনিয়ার হারাম জিনিসগুলো ছিল ফলভারে নুয়ে পড়া বৃক্ষ শাখার মতো ,আর হালাল জিনিসগুলো ছিল অনেক দূরে - নাগালের বাইরে। আল্লাহর কসম ,তোমরা এটাকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দীর্ঘ প্রতিবিম্বের মতো দেখতে পাবে। সুতরাং কোন বাধা - বিপত্তি ছাড়াই পৃথিবী তোমাদের সাথে আছে এবং এতে তোমাদের হাত সম্প্রসারিত। অপরপক্ষে নেতাদের (ইমামদের) হাত তোমাদের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তোমাদের তরবারি তাদের ওপর ঝুলছে ,কিন্তু তাদের তরবারি তোমাদের ওপর থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

সাবধান ,প্রতিটি রক্তপাতের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণকারী আছে এবং প্রতিটি অধিকারের দাবিদার আছে। আমাদের রক্তের বদলা গ্রহণকারী তার নিজের দাবির বিচারকের মতো। আল্লাহ এমন যে ,যদি কেউ তাকে অনুসন্ধান করে ,তিনি তাকে হতাশ করেন না। আবার কেউ যদি তার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে চায়। তবে সে তার নজর এড়িয়ে যেতে পারে না। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি ,হে বনি উমাইয়া ,অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে যে ,তোমাদের দখলিয় সবকিছু অন্যের হাতে ও তোমাদের শত্রুর ঘরে চলে গেছে। জেনে রাখো ,সর্বোত্তম দৃষ্টিমান চোখ সেটি যাতে কল্যাণ ধরা পড়ে এবং সর্বোত্তম শ্রুতিমান কান সেটি যাতে ভালো উপদেশ শোনা যায় ও তা গ্রহণ করে।

নসিহত

হে লোকসকল ,তোমরা সেই ওয়ায়েজের (নসিহতকারী) দীপ - শিখা থেকে আলো সংগ্রহ করো যিনি যা নসিহত করেন তা নিজেও অনুসরণ করেন এবং সেই ঝরনা থেকে পানি তুলে নাও যা ময়লা বিমুক্ত করা হয়েছে।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,তোমাদের অজ্ঞতার ওপর নির্ভর করো না এবং তোমাদের খাহেশের অনুগত হয়ে না। কারণ যে খাহেশ নিয়ে থাকে সে যেন পানি দ্বারা ধ্বংসোন্মুখ তীরের ঢালু স্থানে থাকে। একের পর এক অভিমত পরিবর্তন করে সে নিজের পিঠে ধ্বংস বহন করে বেড়ায়। যা আমন্ত্রিত হবার নয়। সে চায় তা আমন্ত্রণ করতে এবং যা একত্রে রাখা যায় না সে চায় তা একত্রিত করতে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং যে তোমাদের দুঃখ বিমোচন করতে পারে না তার কাছে অনুযোগ করো না এবং যা তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তা করা থেকে তার কথায় বিরত হয়ে না।

নিশ্চয়ই ,আল্লাহ যে কাজ অর্পণ করেছেন তা ছাড়া ইমামের আর কোন দায়িত্ব নেই। তা হলো - সতর্কাদেশ পৌছিয়ে দেয়া ,ভালো উপদেশ প্রদান করা ,সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করা ,যারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য তাদের শাস্তি বিধান করা এবং যারা অংশ পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে তা প্রদান করা। সুতরাং জ্ঞানের বৃক্ষ শুকিয়ে যাবার পূর্বেই তার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং যাদের জ্ঞান আছে তাদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণে নিজকে ফিরিয়ে নেয়ার পূর্বেই তাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও। হারাম কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রেখো এবং অন্যকেও নিবৃত্ত করো ,কারণ অন্যকে নিবৃত্ত করার পূর্বে নিজেকে বিরত করতে তোমাদের আদেশ দেয়া হয়েছে।

খোৎবা - ১০৫

تعریف جامع للإسلام

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي شَرَعَ الْإِسْلاَمَ فَسَهَّلَ شَرَائِعَهُ لِمَنْ وَرَدَهُ، وَ أَعَزَّ أَرْكَانَهُ عَلَى مَنْ غَالَبَهُ فَجَعَلَهُ أَمْنا لِمَنْ عَلِقَهُ وَ سِلْما لِمَنْ دَخَلَهُ(عقله) ، وَ بُرْهَاناً لِمَنْ تَكَلَّمَ بِهِ، وَ شَاهِداً لِمَنْ خَاصَمَ عَنْهُ، وَ نُورا لِمَنِ اسْتَضَأَ بِهِ، وَ فَهْما لِمَنْ عَقَلَ وَ لُبّا لِمَنْ تَدَبَّرَ وَ آيَةً لِمَنْ تَوَسَّمَ وَ تَبْصِرَةً لِمَنْ عَزَمَ وَ عِبْرَةً لِمَنِ اتَّعَظَ وَ نَجَاةً لِمَنْ صَدَّقَ وَ ثِقَةً لِمَنْ تَوَكَّلَ، وَ رَاحَةً لِمَنْ فَوَّضَ وَ جُنَّةً لِمَنْ صَبَرَ.

فَهُوَ أَبْلَجُ الْمَنَاهِجِ وَ أَوْضَحُ الْوَلاَئِجِ مُشْرَفُ الْمَنَارِ، مُشْرِقُ الْجَوَادِّ، مُضِي ءُ الْمَصَابِيحِ كَرِيمُ الْمِضْمَارِ رَفِيعُ الْغَايَةِ، جَامِعُ الْحَلْبَةِ مُتَنَافِسُ السُّبْقَةِ شَرِيفُ الْفُرْسَانِ التَّصْدِيقُ مِنْهَاجُهُ، وَ الصَّالِحَاتُ مَنَارُهُ وَ الْمَوْتُ غَايَتُهُ، وَ الدُّنْيَا مِضْمَارُهُ، وَ الْقِيَامَةُ حَلْبَتُهُ، وَ الْجَنَّةُ سُبْقَتُهُ.

الدعاءِ النَّبِيِّصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم :

حَتَّى أَوْرَى قَبَسا لِقَابِسٍ وَ أَنَارَ عَلَما لِحَابِسٍ. فَهُوَ أَمِينُكَ الْمَأْمُونُ، وَ شَهِيدُكَ يَوْمَ الدِّينِ، وَ بَعِيثُكَ نِعْمَةً وَ رَسُولُكَ بِالْحَقِّ رَحْمَةً. اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَهُ مَقْسَما مِنْ عَدْلِكَ، وَ اجْزِهِ مُضَعَّفَاتِ الْخَيْرِ مِنْ فَضْلِكَ. اللَّهُمَّ أَعْلِ عَلَى بِنَأِ الْبَانِينَ(النّاس) بِنَأَهُ! وَ أَكْرِمْ لَدَيْكَ نُزُلَهُ، وَ شَرِّفْ عِنْدَكَ مَنْزِلَهُ، وَ آتِهِ الْوَسِيلَةَ، وَ أَعْطِهِ السَّنَأَ وَ الْفَضِيلَةَ، وَ احْشُرْنَا فِي زُمْرَتِهِ غَيْرَ خَزَايَا، وَ لاَ نَادِمِينَ، وَ لاَ نَاكِبِينَ، وَ لاَ نَاكِثِينَ، وَ لاَ ضَالِّينَ، وَ لاَ مُضِلِّينَ، وَ لاَ مَفْتُونِينَ.

ثمرات البعثة المحمدیة

وَ قَدْ بَلَغْتُمْ مِنْ كَرَامَةِ اللَّهِ تَعَالَى لَكُمْ مَنْزِلَةً تُكْرَمُ بِهَا إِمَاؤُكُمْ، وَ تُوصَلُ بِهَا جِيرَانُكُمْ، وَ يُعَظِّمُكُمْ مَنْ لاَ فَضْلَ لَكُمْ عَلَيْهِ، وَ لاَ يَدَ لَكُمْ عِنْدَهُ، وَ يَهَابُكُمْ مَنْ لاَ يَخَافُ لَكُمْ سَطْوَةً، وَ لاَ لَكُمْ عَلَيْهِ إِمْرَةٌ.

وَ قَدْ تَرَوْنَ عُهُودَ اللَّهِ مَنْقُوضَةً فَلاَ تَغْضَبُونَ! وَ أَنْتُمْ لِنَقْضِ ذِمَمِ آبَائِكُمْ تَأْنَفُونَ! وَ كَانَتْ أُمُورُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ تَرِدُ وَ عَنْكُمْ تَصْدُرُ، وَ إِلَيْكُمْ تَرْجِعُ. فَمَكَّنْتُمُ الظَّلَمَةَ مِنْ مَنْزِلَتِكُمْ، وَ أَلْقَيْتُمْ إِلَيْهِمْ أَزِمَّتَكُمْ وَ أَسْلَمْتُمْ أُمُورَ اللَّهِ فِي أَيْدِيهِمْ يَعْمَلُونَ بِالشُّبُهَاتِ، وَ يَسِيرُونَ فِي الشَّهَوَاتِ، وَ ايْمُ اللَّهِ لَوْ فَرَّقُوكُمْ تَحْتَ كُلِّ كَوْكَبٍ، لَجَمَعَكُمُ اللَّهُ لِشَرِّ يَوْمٍ لَهُمْ!

ইসলাম , রাসূল (সা.) ও নিজের অনুচরদের সম্পর্কে

ইসলাম সম্পর্কে

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর যিনি ইসলামকে প্রতিষ্ঠা প্রদান করেছেন। তাদের জন্য ইসলামকে সহজ করে দিয়েছেন যারা এর সমীপবর্তী হয়। তিনি ইসলামের স্তম্ভসমূহ এমন সুদৃঢ় করেছেন যে ,কেউ চেষ্টা করে তা উপড়ে ফেলতে পারে না। সুতরাং আল্লাহ ইসলামকে তার জন্য শান্তির উৎস করেছেন যে একে জড়িয়ে ধরে ,তার জন্য নিরাপত্তার উৎস করেছেন যে এতে প্রবেশ করে ,তার জন্য দলিল স্বরূপ করেছেন। যে এটা সম্বন্ধে কথা বলে ,তার জন্য সাক্ষী করেছেন যে এর জন্য জিহাদ করে ,তার জন্য আলোকবর্তিকা করেছেন যে এতে আলোর সন্ধান করে ,তার জন্য প্রজ্ঞা যে এর প্রতিপালন করে ,তার জন্য বিচক্ষণত যে গভীর চিন্তা করে ,তার জন্য নিদর্শন (আয়াত) যে উপলব্ধি করে ,তার জন্য দৃষ্টিশক্তি যে স্থির করে ,তার জন্য শিক্ষা যে উপদেশ সন্ধান করে ,তার জন্য মুক্তি যে তাসদিক (বিশ্বাস) করে ,তার জন্য নির্ভরশীলতা যে তাওয়াক্কুল করে ,তার জন্য আনন্দ যে সমর্পণ করে এবং তার জন্য বর্ম যে সবুর (ধৈর্য ধারণ) করে।

ইসলাম হলো সকল পথের চেয়ে উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্নতম। এর মর্যাদাপূর্ণ মিনার ,উজ্জ্বল রাজপথ ,প্রদীপ্ত প্রদীপ ,সম্মানজনক কর্মক্ষেত্র ও মহান উদ্দেশ্য আছে। এর দ্রুত ধাবমান অশ্ব আছে। আগ্রহের সাথে এ অশ্বের নিকটবর্তী হতে হয়। এ অশ্বের সওয়ার অত্যন্ত সম্মানিত। আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশিত পথই এ অশ্বের একমাত্র চলার পথ ,আমলে সালেহা (কল্যাণকর কর্ম) এর মিনার ,মৃত্যু এর সীমা ,দুনিয়া এর ঘোড় - দৌড় মাঠ ,বিচার দিন এর দৌড় প্রতিযোগিতা ও বেহেশত এর নির্দিষ্ট লক্ষ্যবিন্দু।

রাসূল (সা.) সম্পর্কে

রাসূল (সা.) সন্ধানকারীদের জন্য উজ্জ্বল প্রদীপ শিখা জ্বলিয়েছিলেন এবং বিভ্রান্তদের জন্য উজ্জ্বল আলোক বর্তিকা রেখে গেছেন। সুতরাং হে আল্লাহ ,তিনি তোমার বিশ্বস্ত আমানতদার ,বিচার দিনে তোমার সাক্ষী ,তোমার নেয়ামতস্বরূপ প্রতিনিধি এবং তোমার রহমতস্বরূপ সত্যের বাণী বাহক। হে আমার আল্লাহ ,তোমার ন্যায় বিচারের প্রসাদ থেকে এবং তোমার অগণন নেয়ামত থেকে তাকে তুমি পুরস্কৃত কর। আমার আল্লাহ ,তাঁর নির্মাণকে অন্য সকল নির্মাণ থেকে উচু করো ,যখন তিনি তোমার কাছে আসেন তখন তাকে সম্মান করো ,তোমার কাছে তার মর্যাদা সমুন্নত করো ,তাকে সম্মানিত মর্যাদা প্রদান করো এবং তাঁকে গৌরব ও বিশিষ্টতা দ্বারা পুরস্কৃত কর। বিচারের দিনে আমাদেরকে তাঁর দলভুক্ত করো যাতে আমরা লজ্জিত না হই ,অনুতপ্ত না হই ,দিকভ্রান্ত না হই ,প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী না হই ,বিপথগামী না হই ,গোমরাহ না হই ও প্রলুব্ধ না হই।

তার অনুচরদের সম্পর্কে

তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমতের কারণে তোমরা এমন এক মর্যাদা লাভ করেছো যাতে তোমাদের ক্রীতদাসেরাও আজ সম্মান পাচ্ছে এবং তোমাদের প্রতিবেশীগণ ভালো ব্যবহার পাচ্ছে। এমনকি যার সঙ্গে তোমাদের কোন পার্থক্য নেই বা যারা তোমাদের কাছে ঋণী নয়। তারাও তোমাদেরকে সম্মান করে। ওই সকল লোকও আজ তোমাদেরকে ভয় করে তোমাদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যাদের নেই বা যাদের ওপর তোমাদের কোন কর্তৃত্ব নেই। তোমরা এখন দেখতে পাচ্ছে যে ,আল্লাহর প্রতি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হচ্ছে ,কিন্তু তোমরা তাতে ক্ষুব্ধ হচ্ছো না ,যদিও তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ভাঙ্গতে গেলে তোমরা ক্রোধে অস্থির হয়ে পড়তে। আল্লাহর আহকাম তোমাদের নিকট আসছে ও চলে যাচ্ছে এবং আবার তোমাদের নিকট ফিরে আসছে কিন্তু তোমরা তোমাদের স্থান অন্যায়কারীদের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছো ,তোমাদের দায়িত্ব তাদের দিকে নিক্ষেপ করেছে এবং আল্লাহর আহকামকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তারা সংশয়ে আমল করে এবং আকাঙ্খার বশবর্তী হয়ে পদচারণা করে। আল্লাহর কসম ,যদি তারা তোমাদেরকে বিভিন্ন নক্ষত্রেও ছড়িয়ে দেয়। তবুও আল্লাহ নির্দিষ্ট দিনে তোমাদেরকে একত্রিত করবেন যে দিনটি তাদের জন্য নিকৃষ্টতম হবে।

খোৎবা - ১০৬

فِي بَعضِ أَيَامِ صِفَينَ

وَ قَدْ رَأَيْتُ جَوْلَتَكُمْ وَ انْحِيَازَكُمْ عَنْ صُفُوفِكُمْ تَحُوزُكُمُ الْجُفَاةُ الطَّغَامُ وَ أَعْرَابُ أَهْلِ الشَّامِ وَ أَنْتُمْ لَهَامِيمُ الْعَرَبِ وَ يَآفِيخُ الشَّرَفِ وَ الْأَنْفُ الْمُقَدَّمُ وَ السَّنَامُ الْأَعْظَمُ. وَ لَقَدْ شَفَى وَحَاوِحَ صَدْرِي، أَنْ رَأَيْتُكُمْ بِأَخَرَةٍ تَحُوزُونَهُمْ كَمَا حَازُوكُمْ، وَ تُزِيلُونَهُمْ عَنْ مَوَاقِفِهِمْ كَمَا أَزَالُوكُمْ حَسّا بِالنِّصَالِ، وَ شَجْراً بِالرِّمَاحِ؛ تَرْكَبُ أُوْلاَهُمْ أُخْرَاهُمْ كَالْإِبِلِ الْهِيمِ الْمَطْرُودَةِ؛ تُرْمَى عَنْ حِيَاضِهَا؛ وَ تُذَادُ عَنْ مَوَارِدِهَا!.

সিফফিনের যুদ্ধ চলাকালে প্রদত্ত খোৎবা

আমি তোমাদের যুদ্ধ দেখেছি এবং দেখেছি সারি থেকে তোমাদের সরে পড়া। তোমরা চারিদিক থেকে সিরিয়ার রূঢ় ও নিচ বেদুইন দ্বারা ঘেরাও হয়ে পড়েছিলে । অথচ তোমরা আরবদের প্রধান ও বিশিষ্টতার চূড়ায় এবং এমন মর্যাদার অধিকারী যেন উচু নাক ও বিরাট কুঁজওয়ালা উট। আমার বুকের দীর্ঘশ্বাস প্রশমিত হতো যদি আমি একটা বারের জন্য দেখতে পেতাম যে ,তোমরা তাদের ঘেরাও করে রেখেছো ,যেভাবে তারা তোমাদেরকে ঘেরাও করেছে ;তোমরা তাদেরকে অবস্থানচ্যুত করেছো ,যেভাবে তারা তোমাদেরকে করেছে ;তীর দ্বারা তাদেরকে হত্যা করেছো এবং বর্শা দ্বারা তাদেরকে আঘাত করেছো ,যাতে তাদের অগ্রবর্তী সারি পশ্চাতের সারির ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। যেমন করে তৃষ্ণার্ত উট পানি দেখলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

খোৎবা - ১০৭

حکومة بنی امیة

معرفة الله

الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُتَجَلِّي لِخَلْقِهِ بِخَلْقِهِ، وَ الظَّاهِرِ لِقُلُوبِهِمْ بِحُجَّتِهِ. خَلَقَ الْخَلْقَ مِنْ غَيْرِ رَوِيَّةٍ، إِذْ كَانَتِ الرَّوِيَّاتُ لاَ تَلِيقُ إِلا بِذَوِي الضَّمَائِرِ، وَ لَيْسَ بِذِي ضَمِيرٍ فِي نَفْسِهِ. خَرَقَ عِلْمُهُ بَاطِنَ غَيْبِ السُّتُرَاتِ، وَ أَحَاطَ بِغُمُوضِ عَقَائِدِ السَّرِيرَاتِ.

خصائص النبیصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم

اخْتَارَهُ مِنْ شَجَرَةِ الْأَنْبِيَأِ، وَ مِشْكَاةِ الضِّيَأِ، وَ ذُؤَابَةِ الْعَلْيَأِ، وَ سُرَّةِ الْبَطْحَأِ، وَمَصَابِيحِ الظُّلْمَةِ، وَ يَنَابِيعِ الْحِكْمَةِ.وَ مِنْهَا : طَبِيبٌ دَوَّارٌ بِطِبِّهِ، قَدْ أَحْكَمَ مَرَاهِمَهُ، وَ أَحْمَى مَوَاسِمَهُ، يَضَعُ مِنْ ذَلِكَ حَيْثُ الْحَاجَةُ إِلَيْهِ، مِنْ قُلُوبٍ عُمْيٍ، وَ آذَانٍ صُمِّ، وَ أَلْسِنَةٍ بُكْمٍ، مُتَتَبِّعٌ بِدَوَائِهِ مَوَاضِعَ الْغَفْلَةِ، وَ مَوَاطِنَ الْحَيْرَةِ.

علل انحراف بنی امیة

لَمْ يَسْتَضِيئُوا بِأَضْوَأِ الْحِكْمَةِ، وَ لَمْ يَقْدَحُوا بِزِنَادِ الْعُلُومِ الثَّاقِبَةِ؛ فَهُمْ فِي ذَلِكَ كَالْأَنْعَامِ السَّائِمَةِ، وَ الصُّخُورِ الْقَاسِيَةِ. قَدِ انْجَابَتِ السَّرَائِرُ لِأَهْلِ الْبَصَائِرِ، وَ وَضَحَتْ مَحَجَّةُ الْحَقِّ لِخَابِطِهَا، وَ أَسْفَرَتِ السَّاعَةُ عَنْ وَجْهِهَا، وَ ظَهَرَتِ الْعَلاَمَةُ لِمُتَوَسِّمِهَا.

توبیخ اهل الکوفة

مَا لِي أَرَاكُمْ أَشْبَاحا بِلاَ أَرْوَاحٍ، وَ أَرْوَاحا بِلاَ أَشْبَاحٍ، وَ نُسَّاكا بِلاَ صَلاَحٍ، وَ تُجَّارا بِلاَ أَرْبَاحٍ، وَ أَيْقَاظا نُوَّما، وَ شُهُودا غُيَّبا، وَ نَاظِرَةً عَمْيَأَ، وَ سَامِعَةً صَمَّأَ، وَ نَاطِقَةً بَكْمَأَ! رَايَةُ ضَلاَلٍ قَدْ قَامَتْ عَلَى قُطْبِهَا، وَ تَفَرَّقَتْ بِشُعَبِهَا، تَكِيلُكُمْ بِصَاعِهَا، وَ تَخْبِطُكُمْ بِبَاعِهَا، قَائِدُهَا خَارِجٌ مِنَ الْمِلَّةِ، قَائِمٌ عَلَى الضَّلَّةِ.

الأخبار عن عسف بنی امیة

فَلاَ يَبْقَى يَوْمَئِذٍ مِنْكُمْ إِلا ثُفَالَةٌ كَثُفَالَةِ الْقِدْرِ، أَوْ نُفَاضَةٌ كَنُفَاضَةِ الْعِكْمِ، تَعْرُكُكُمْ عَرْكَ الْأَدِيمِ، وَ تَدُوسُكُمْ دَوْسَ الْحَصِيدِ، وَ تَسْتَخْلِصُ الْمُؤْمِنَ مِنْ بَيْنِكُمُ اسْتِخْلاَصَ الطَّيْرِ الْحَبَّةَ(الجبّة) الْبَطِينَةَ مِنْ بَيْنِ هَزِيلِ الْحَبِّ.

التاکید علی طاعة اهل البیتعليهم‌السلام

أَيْنَ تَذْهَبُ بِكُمُ الْمَذَاهِبُ، وَ تَتِيهُ بِكُمُ الْغَيَاهِبُ، وَ تَخْدَعُكُمُ الْكَوَاذِبُ؟ وَ مِنْ أَيْنَ تُؤْتَوْنَ وَ أَنَّى تُؤْفَكُونَ؟ فَلِكُلِّ أَجَلٍ كِتابٌ، وَ لِكُلِّ غَيْبَةٍ إِيَابٌ، فَاسْتَمِعُوا مِنْ رَبَّانِيِّكُمْ وَ أَحْضِرُوهُ قُلُوبَكُمْ، وَ اسْتَيْقِظُوا إِنْ هَتَفَ بِكُمْ، وَلْيَصْدُقْ رَائِدٌ أَهْلَهُ، وَلْيَجْمَعْ شَمْلَهُ، وَلْيُحْضِرْ ذِهْنَهُ، فَلَقَدْ فَلَقَ لَكُمُ الْأَمْرَ فَلْقَ الْخَرَزَةِ، وَ قَرَفَهُ قَرْفَ الصَّمْغَةِ.

الإخبار عن مسخ القیّم فی حکومة بنی امیة

فَعِنْدَ ذَلِكَ أَخَذَ الْبَاطِلُ مَآخِذَهُ، وَ رَكِبَ الْجَهْلُ مَرَاكِبَهُ، وَ عَظُمَتِ الطَّاغِيَةُ، وَ قَلَّتِ الدَّاعِيَةُ، وَ صَالَ الدَّهْرُ صِيَالَ السَّبُعِ الْعَقُورِ، وَهَدَرَ فَنِيقُ الْبَاطِلِ بَعْدَ كُظُومٍ وَ تَوَاخَى النَّاسُ عَلَى الْفُجُورِ، وَ تَهَاجَرُوا عَلَى الدِّينِ، وَ تَحَابُّوا عَلَى الْكَذِبِ، وَ تَبَاغَضُوا عَلَى الصِّدْقِ. فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ كَانَ الْوَلَدُ غَيْظا، وَ الْمَطَرُ قَيْظا، وَ تَفِيضُ اللِّئَامُ فَيْضا، وَ تَغِيضُ الْكِرَامُ غَيْضا، وَ كَانَ أَهْلُ ذَلِكَ الزَّمَانِ ذِئَابا، وَ سَلاَطِينُهُ سِبَاعا، وَ أَوْسَاطُهُ أُكَّالاً، وَ فُقَرَاؤُهُ أَمْوَاتا، وَ غَارَ الصِّدْقُ، وَ فَاضَ الْكَذِبُ، وَ اسْتُعْمِلَتِ الْمَوَدَّةُ بِاللِّسَانِ وَ تَشَاجَرَ النَّاسُ بِالْقُلُوبِ، وَ صَارَ الْفُسُوقُ نَسَبا، وَ الْعَفَافُ عَجَبا، وَ لُبِسَ الْإِسْلاَمُ لُبْسَ الْفَرْوِ مَقْلُوباً.

উমাইয়াদের শাসন ব্যাবস্থা

খোদা পরিচিতি

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর সৃষ্টির সম্মুখে তাদেরই কারণে স্বতঃপ্রকাশ ,যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণের কারণে তাদের হৃদয়ে দৃশ্যমান ;যিনি কোন প্রকার চিন্তা - ভাবনা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। চিন্তা করার ইন্দ্রিয় ছাড়া চিন্তা - ভাবনার কথা অযৌক্তিক। তার নিজের কোন চিন্তা - ইন্দ্রিয় নেই। তার জ্ঞান অজ্ঞাত ও গুপ্ত বিষয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং সুগভীর বিশ্বাসের তলদেশ সম্বন্ধেও তিনি অবহিত ।

রাসূল (সা.) সম্পর্কে

আল্লাহ নবীদের সাজোরাহ থেকে ,আলোর শিখা থেকে ,মহত্ত্বের কপাল থেকে ,বাত্হা উপত্যকার শ্রেষ্ঠাংশ থেকে ,অন্ধকারের প্রদীপ থেকে এবং প্রজ্ঞার উৎস থেকে তাকে নির্বাচিত করেছেন। রাসূল হলেন ভ্রাম্যমান চিকিৎসক যিনি সর্বদা তার মলম প্রস্তুত রেখেছেন এবং তার যন্ত্রপাতি উত্তপ্ত রেখেছেন (জীবাণুমুক্ত করার জন্য) । এসব চিকিৎসার উপকরণ তিনি ব্যবহার করেছেন যখনই অন্ধ হৃদয় ,বধির কান ও রুদ্ধবাক জিহবার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছে। তিনি তার ঔষধসহ গাফলতি ও জটিলতার স্থলে উপস্থিত হতেন।

বনি উমাইয়াদের বিচ্যুতির কারণ

মানুষ তাঁর প্রজ্ঞার আলো থেকে আলো গ্রহণ করেনি এবং তারা প্রদীপ্ত জ্ঞান - স্ফুলিঙ্গ থেকে শিখা উৎপন্ন করেনি। সুতরাং এ ব্যাপারে তারা চারণভূমির ভ্রাম্যমান গরুর পাল ও কঠিন পাথরের মতো। তাসত্ত্বেও যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য গুপ্ত বিষয়াবলী দৃশ্যমান হয়েছে ,ভ্রমণকারীর জন্য ন্যায়ের মুখ সুস্পষ্ট হয়েছে ,সমীপবর্তী হওয়ার মুহুর্ত এর মুখের ঘোমটা তুলে দিয়েছে এবং যারা অনুসন্ধান করে তাদের জন্য নিদর্শনসমূহ উদ্ভাসিত হয়েছে।

কুফাবাসীকে তিরস্কার

আমার কি হয়েছে! আমি তোমাদেরকে দেখতে পাচ্ছি। রুহ ছাড়া শরীর ও শরীর ছাড়া রুহমাত্র। তোমরা কল্যাণ ছাড়া ভক্ত ,লাভ ছাড়া ব্যবসায়ী। তোমরা জেগে থেকেও ঘুমন্ত ,উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত ,চোখ থেকেও অন্ধ ,কান থেকেও বধির এবং বাকশক্তি থেকেও মূক। আমি লক্ষ্য করেছি যে ,গোমরাহি এর কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে চতুর্দিকে শাখা - প্রশাখা ছড়িয়ে দিয়েছে। এটা নিজের ওজনে তোমাদেরকে ওজন করে এবং বিভিন্ন উপায়ে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে। এর নেতা একজন সমাজচ্যুত লোক। সে গোমরাহিতে অটল রয়েছে।

বনি উমাইয়াদের ফ্যাসাদ সম্পর্কে

সুতরাং সেদিন তোমাদের মধ্য থেকে পাতিলের তলানির মত মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। চামড়া যেভাবে ঘষে পরিষ্কার করা হয় তোমাদেরকে সেভাবে ঘষা হবে এবং শস্য যেভাবে মাড়ানো হয় তোমরাও সেভাবে দলিত হবে। কিন্তু ইমানদারগণ এমনভাবে মুক্তি পাবে যেভাবে পাখী মোটা শস্যদানাকে চিকন দানা থেকে বের করে নিয়ে আসে ।

আহলে বাইতের অনুসরনের গুরুত্ব সম্পর্কে

আচ্ছন্নতা বিপথে পরিচালিত করে এবং মিথ্যা প্রবঞ্চনা করে কোথায় তোমাদেরকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। কী কারণে তোমরা নীত হও এবং কোথায় তোমরা তাড়িত হও ? প্রতিটি কালের জন্য লিখিত দলিল আছে এবং অনুপস্থিতগণের প্রত্যেককে ফিরে যেতে হবে। সুতরাং তোমাদের উদ্ধারকারী নেতার কথা শোন এবং তোমাদের হৃদয় উপস্থিত রাখ। যদি তিনি তোমাদেরকে বলেন তবে জাগরিত থেকো। অগ্রবর্তীজন তার লোকের কাছে সত্য কথাই বলে। কাজেই (তার কথা শুনতে) বুদ্ধিমত্তা রাখতে ও মানসিকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। তিনি প্রতিটি বিষয় বিশদ ব্যাখ্যা করেছেন - একটা সূচের ছিদ্রও বাদ পড়েনি এবং ঘষে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যেমন করে

গাছের শাখা থেকে ঘষে আঠা বের করা হয়।

উমাইয়াদের রুপান্তরিত শাসন পরিচালনার মান সম্বন্ধে

এতদসত্ত্বেও এখন অন্যায় ন্যায়ের স্থান দখল করেছে এবং অজ্ঞতা ইহার বাহনে আরোহণ করেছে। ঔদ্ধত্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কল্যাণের আহবান চাপা পড়ে গেছে। সময় ক্ষুধার্ত মাংসাশী প্রাণীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং অন্যায় উটের মতো চিৎকার করছে। অপকর্মের জন্য মানুষ একে অপরের ভ্রাতা হয়েছে ,দ্বীনকে পরিত্যাগ করেছে এবং মিথ্যা বলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে কিন্তু সত্যের ব্যাপারে পরস্পরকে ঘৃণা করছে। অবস্থা যখন এমন তখন পুত্র ক্রোধের কারণ হবে (চোখের শীতলতার পরিবর্তে) এবং বৃষ্টি উত্তাপের কারণ হবে ;পাপাচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ,বুজর্গ লোকের সংখ্যা কমে যাবে। এ সময়ের মানুষ নেকড়ের মতো হবে ,শাসকগণ পশুর মতো হবে ,মধ্যবিত্তগণ অতিভোজী হবে এবং দরিদ্রগণ মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে। এ সময় সত্য কমে যাবে ,মিথ্যা উপচে পড়বে ,স্নেহ - মমতা শুধু মুখে মুখে থাকবে কিন্তু অন্তরে মানুষ কলহপ্রিয় হবে। ব্যভিচার বংশানুক্রমের চাবি হবে ,সতীত্ব দুস্প্রাপ্য হবে এবং ইসলামকে চামড়ার মতো উল্টিয়ে পরা হবে।

খোৎবা - ১০৮

قدرة الله تعالی

كُلُّ شَيْءٍ خَاشِعٌ لَهُ وَ كُلُّ شَيْءٍ قَائِمٌ بِهِ، غِنَى كُلِّ فَقِيرٍ، وَ عِزُّ كُلِّ ذَلِيلٍ، وَ قُوَّةُ كُلِّ ضَعِيفٍ، وَ مَفْزَعُ كُلِّ مَلْهُوفٍ، مَنْ تَكَلَّمَ سَمِعَ نُطْقَهُ، وَ مَنْ سَكَتَ عَلِمَ سِرَّهُ، وَ مَنْ عَاشَ فَعَلَيْهِ رِزْقُهُ، وَ مَنْ مَاتَ فَإِلَيْهِ مُنْقَلَبُهُ. لَمْ تَرَكَ الْعُيُونُ فَتُخْبِرَ عَنْكَ، بَلْ كُنْتَ قَبْلَ الْوَاصِفِينَ مِنْ خَلْقِكَ. لَمْ تَخْلُقِ الْخَلْقَ لِوَحْشَةٍ، وَ لاَ اسْتَعْمَلْتَهُمْ لِمَنْفَعَةٍ، لاَ يَسْبِقُكَ مَنْ طَلَبْتَ، وَ لاَ يُفْلِتُكَ مَنْ أَخَذْتَ، وَ لاَ يَنْقُصُ سُلْطَانَكَ مَنْ عَصَاكَ، وَ لاَ يَزِيدُ فِي مُلْكِكَ مَنْ أَطَاعَكَ، وَ لاَ يَرُدُّ أَمْرَكَ مَنْ سَخِطَ قَضَأَكَ، وَ لاَ يَسْتَغْنِي عَنْكَ مَنْ تَوَلَّى عَنْ أَمْرِكَ، كُلُّ سِرِّ عِنْدَكَ عَلاَنِيَةٌ، وَ كُلُّ غَيْبٍ عِنْدَكَ شَهَادَةٌ. أَنْتَ الْأَبَدُ فَلاَ أَمَدَ لَكَ، وَ أَنْتَ الْمُنْتَهَى فَلاَ مَحِيصَ عَنْكَ، وَ أَنْتَ الْمَوْعِدُ فَلاَ مَنْجَى مِنْكَ إِلا إِلَيْكَ، بِيَدِكَ نَاصِيَةُ كُلِّ دَابَّةٍ، وَ إِلَيْكَ مَصِيرُ كُلِّ نَسَمَةٍ، سُبْحَانَكَ مَا أَعْظَمَ شَأْنَكَ سُبْحَانَكَ مَا أَعْظَمَ مَا نَرَى مِنْ خَلْقِكَ، وَ مَا أَصْغَرَ كُلَّ عَظِيمَةٍ فِي جَنْبِ قُدْرَتِكَ، وَ مَا أَهْوَلَ مَا نَرَى مِنْ مَلَكُوتِكَ، وَ مَا أَحْقَرَ ذَلِكَ فِيمَا غَابَ عَنَّا مِنْ سُلْطَانِكَ، وَ مَا أَسْبَغَ نِعَمَكَ فِي الدُّنْيَا، وَ مَا أَصْغَرَهَا فِي نِعَمِ الْآخِرَةِ!

صفات الملائکة

مِنْهَا :مِنْ مَلاَئِكَةٍ أَسْكَنْتَهُمْ سَمَاوَاتِكَ، وَ رَفَعْتَهُمْ عَنْ أَرْضِكَ؛ هُمْ أَعْلَمُ خَلْقِكَ بِكَ، وَ أَخْوَفُهُمْ لَكَ، وَ أَقْرَبُهُمْ مِنْكَ، لَمْ يَسْكُنُوا الْأَصْلاَبَ، وَ لَمْ يُضَمَّنُوا الْأَرْحَامَ، وَ لَمْ يُخْلَقُوا مِنْ مَأٍ مَهِينٍ، وَ لَمْ يَتَشَعَّبْهُمْ رَيْبُ الْمَنُونِ، وَ إِنَّهُمْ عَلَى مَكَانِهِمْ مِنْكَ، وَ مَنْزِلَتِهِمْ عِنْدَكَ وَ اسْتِجْمَاعِ أَهْوَائِهِمْ فِيكَ، وَ كَثْرَةِ طَاعَتِهِمْ لَكَ، وَ قِلَّةِ غَفْلَتِهِمْ عَنْ أَمْرِكَ، لَوْ عَايَنُوا كُنْهَ مَا خَفِيَ عَلَيْهِمْ مِنْكَ لَحَقَّرُوا أَعْمَالَهُمْ، وَ لَزَرَوْا عَلَى أَنْفُسِهِمْ، وَ لَعَرَفُوا أَنَّهُمْ لَمْ يَعْبُدُوكَ حَقَّ عِبَادَتِكَ، وَ لَمْ يُطِيعُوكَ حَقَّ طَاعَتِكَ.

النعم الالهیّة

سُبْحَانَكَ خَالِقا وَ مَعْبُودا، بِحُسْنِ بَلاَئِكَ عِنْدَ خَلْقِكَ، خَلَقْتَ دَارا، وَ جَعَلْتَ فِيهَا مَأْدُبَةً، مَشْرَبا وَ مَطْعَما وَ أَزْوَاجا وَ خَدَما وَ قُصُورا وَ أَنْهَارا وَ زُرُوعا وَ ثِمَارا. ثُمَّ أَرْسَلْتَ دَاعِيا يَدْعُو إِلَيْهَا فَلاَ الدَّاعِيَ أَجَابُوا، وَ لاَ فِيمَا رَغَّبْتَ رَغِبُوا، وَ لاَ إِلَى مَا شَوَّقْتَ إِلَيْهِ اشْتَاقُوا، أَقْبَلُوا عَلَى جِيفَةٍ قَدِ افْتَضَحُوا بِأَكْلِهَا، وَ اصْطَلَحُوا عَلَى حُبِّهَا.

اخطار العشق المجازی

وَ مَنْ عَشِقَ شَيْئا أَعْشَى بَصَرَهُ، وَ أَمْرَضَ قَلْبَهُ، فَهُوَ يَنْظُرُ بِعَيْنٍ غَيْرِ صَحِيحَةٍ، وَ يَسْمَعُ بِأُذُنٍ غَيْرِ سَمِيعَةٍ، قَدْ خَرَقَتِ الشَّهَوَاتُ عَقْلَهُ، وَ أَمَاتَتِ الدُّنْيَا قَلْبَهُ، وَ وَلَّهَتْ عَلَيْهَا نَفْسُهُ، فَهُوَ عَبْدٌ لَهَا وَ لِمَنْ فِي يَدَيْهِ شَيْءٌ مِنْهَا، حَيْثُمَا زَالَتْ زَالَ إِلَيْهَا، وَ حَيْثُمَا أَقْبَلَتْ أَقْبَلَ عَلَيْهَا؛ لاَ يَنْزَجِرُ مِنَ اللَّهِ بِزَاجِرٍ، وَ لاَ يَتَّعِظُ مِنْهُ بِوَاعِظٍ، وَ هُوَ يَرَى الْمَأْخُوذِينَ عَلَى الْغِرَّةِ - حَيْثُ لاَ إِقَالَةَ وَ لاَ رَجْعَةَ - كَيْفَ نَزَلَ بِهِمْ مَا كَانُوا يَجْهَلُونَ، وَجَأَهُمْ مِنْ فِرَاقِ الدُّنْيَا مَا كَانُوا يَأْمَنُونَ، وَقَدِمُوا مِنَ الْآخِرَةِ عَلَى مَا كَانُوا يُوعَدُونَ. فَغَيْرُ مَوْصُوفٍ مَا نَزَلَ بِهِمْ.

احوال ما قبل الموت

اجْتَمَعَتْ عَلَيْهِمْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ وَ حَسْرَةُ الْفَوْتِ، فَفَتَرَتْ لَهَا أَطْرَافُهُمْ، وَ تَغَيَّرَتْ لَهَا أَلْوَانُهُمْ، ثُمَّ ازْدَادَ الْمَوْتُ فِيهِمْ وُلُوجا فَحِيلَ بَيْنَ أَحَدِهِمْ وَ بَيْنَ مَنْطِقِهِ، وَ إِنَّهُ لَبَيْنَ أَهْلِهِ يَنْظُرُ بِبَصَرِهِ، وَ يَسْمَعُ بِأُذُنِهِ - عَلَى صِحَّةٍ مِنْ عَقْلِهِ وَ بَقَأٍ مِنْ لُبِّهِ - يُفَكِّرُ فِيمَ أَفْنَى عُمُرَهُ، وَ فِيمَ أَذْهَبَ دَهْرَهُ، وَ يَتَذَكَّرُ أَمْوَالاً جَمَعَهَا، أَغْمَضَ فِي مَطَالِبِهَا، وَ أَخَذَهَا مِنْ مُصَرَّحَاتِهَا وَ مُشْتَبِهَاتِهَا، قَدْ لَزِمَتْهُ تَبِعَاتُ جَمْعِهَا، وَ أَشْرَفَ عَلَى فِرَاقِهَا، تَبْقَى لِمَنْ وَرَأَهُ يَنْعَمُونَ فِيهَا، وَ يَتَمَتَّعُونَ بِهَا، فَيَكُونُ الْمَهْنَأُ لِغَيْرِهِ، وَ الْعِبْءُ عَلَى ظَهْرِهِ. وَ الْمَرْءُ قَدْ غَلِقَتْ رُهُونُهُ بِهَا، فَهُوَ يَعَضُّ يَدَهُ نَدَامَةً عَلَى مَا أَصْحَرَ لَهُ عِنْدَ الْمَوْتِ مِنْ أَمْرِهِ، وَ يَزْهَدُ فِيمَا كَانَ يَرْغَبُ فِيهِ أَيَّامَ عُمُرِهِ، وَ يَتَمَنَّى أَنَّ الَّذِي كَانَ يَغْبِطُهُ بِهَا وَ يَحْسُدُهُ عَلَيْهَا قَدْ حَازَهَا دُونَهُ! فَلَمْ يَزَلِ الْمَوْتُ يُبَالِغُ فِي جَسَدِهِ حَتَّى خَالَطَ لِسَانُهُ سَمْعَهُ، فَصَارَ بَيْنَ أَهْلِهِ لاَ يَنْطِقُ بِلِسَانِهِ، وَ لاَ يَسْمَعُ بِسَمْعِهِ، يُرَدِّدُ طَرْفَهُ بِالنَّظَرِ

فِي وُجُوهِهِمْ، يَرَى حَرَكَاتِ أَلْسِنَتِهِمْ، وَ لاَ يَسْمَعُ رَجْعَ كَلاَمِهِمْ. ثُمَّ ازْدَادَ الْمَوْتُ الْتِيَاطاً بِهِ، فَقُبِضَ بَصَرُهُ كَمَا قُبِضَ سَمْعُهُ، وَ خَرَجَتِ الرُّوحُ مِنْ جَسَدِهِ، فَصَارَ جِيفَةً بَيْنَ أَهْلِهِ، قَدْ أَوْحَشُوا مِنْ جَانِبِهِ وَ تَبَاعَدُوا مِنْ قُرْبِهِ، لاَ يُسْعِدُ بَاكِيا، وَ لاَ يُجِيبُ دَاعِياً. ثُمَّ حَمَلُوهُ إِلَى مَخَطِّ فِي الْأَرْضِ فَأَسْلَمُوهُ فِيهِ إِلَى عَمَلِهِ، وَ انْقَطَعُوا عَنْ زَوْرَتِهِ.

ضفة البعث و النشور

حَتَّى إِذَا بَلَغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ، وَ الْأَمْرُ مَقَادِيرَهُ، وَ أُلْحِقَ آخِرُ الْخَلْقِ بِأَوَّلِهِ، وَ جَأَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ مَا يُرِيدُهُ، مِنْ تَجْدِيدِ خَلْقِهِ، أَمَادَ السَّمَأَ وَ فَطَرَهَا، وَ أَرَجَّ الْأَرْضَ وَ أَرْجَفَهَا، وَ قَلَعَ جِبَالَهَا وَ نَسَفَهَا، وَدَكَّ بَعْضُهَا بَعْضا مِنْ هَيْبَةِ جَلاَلَتِهِ، وَ مَخُوفِ سَطْوَتِهِ، وَ أَخْرَجَ مَنْ فِيهَا فَجَدَّدَهُمْ بَعْدَ إِخْلاَقِهِمْ، وَ جَمَعَهُمْ بَعْدَ تَفَرُّقِهِمْ، ثُمَّ مَيَّزَهُمْ لِمَا يُرِيدُهُ مِنْ مَسْأَلَتِهِمْ عَنْ خَفَايَا الْأَعْمَالِ وَ خَبَايَا الْأَفْعَالِ، وَ جَعَلَهُمْ فَرِيقَيْنِ، أَنْعَمَ عَلَى هَؤُلاَءِ، وَ انْتَقَمَ مِنْ هَؤُلاَءِ. فَأَمَّا أَهْلُ الطَّاعَةِ فَأَثَابَهُمْ بِجِوَارِهِ، وَ خَلَّدَهُمْ فِي دَارِهِ، حَيْثُ لاَ يَظْعَنُ النُّزَّالُ، وَ لاَ يَتَغَيَّرُ لَهُمُ الْحَالُ، وَ لاَ تَنُوبُهُمُ اپلْأَفْزَاعُ، وَ لاَ تَنَالُهُمُ الْأَسْقَامُ، وَ لاَ تَعْرِضُ لَهُمُ الْأَخْطَارُ، وَ لاَ تُشْخِصُهُمُ الْأَسْفَارُ. وَ أَمَّا أَهْلُ الْمَعْصِيَةِ فَأَنْزَلَهُمْ شَرَّ دَارٍ، وَ غَلَّ الْأَيْدِيَ إِلَى الْأَعْنَاقِ، وَ قَرَنَ النَّوَاصِيَ بِالْأَقْدَامِ، وَ أَلْبَسَهُمْ سَرَابِيلَ الْقَطِرَانِ، وَ مُقَطَّعَاتِ النِّيرَانِ، فِي عَذَابٍ قَدِ اشْتَدَّ حَرُّهُ، وَ بَابٍ قَدْ أُطْبِقَ عَلَى أَهْلِهِ، فِي نَارٍ لَهَا كَلَبٌ وَ لَجَبٌ وَ لَهَبٌ سَاطِعٌ، وَ قَصِيفٌ هَائِلٌ، لاَ يَظْعَنُ مُقِيمُهَا، وَ لاَ يُفَادَى أَسِيرُهَا، وَ لاَ تُفْصَمُ كُبُولُهَا، لاَ مُدَّةَ لِلدَّارِ فَتَفْنَى، وَ لاَ أَجَلَ لِلْقَوْمِ فَيُقْضَى.

زهد النبیصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم

قَدْ حَقَّرَ الدُّنْيَا وَ صَغَّرَهَا، وَ أَهْوَنَ بِهَا وَ هَوَّنَهَا، وَ عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ زَوَاهَا عَنْهُ اخْتِيَارا، وَ بَسَطَهَا لِغَيْرِهِ احْتِقَارا، فَأَعْرَضَ عَنِ الدُّنْيَا بِقَلْبِهِ، وَ أَمَاتَ ذِكْرَهَا عَنْ نَفْسِهِ، وَ أَحَبَّ أَنْ تَغِيبَ زِينَتُهَا عَنْ عَيْنِهِ لِكَيْلاَ يَتَّخِذَ مِنْهَا رِيَاشا، أَوْ يَرْجُوَ فِيهَا مَقَاما، بَلَّغَ عَنْ رَبِّهِ مُعْذِرا، وَ نَصَحَ لاِمَّتِهِ مُنْذِراً، وَ دَعَا إِلَى الْجَنَّةِ مُبَشِّراً و خَوَّفَ مِنَ النَّارِ مُخَذِّراً.

خصائص اهل البیتعليهم‌السلام

نَحْنُ شَجَرَةُ النُّبُوَّةِ وَ مَحَطُّ الرِّسَالَةِ، وَ مُخْتَلَفُ الْمَلاَئِكَةِ، وَ مَعَادِنُ الْعِلْمِ، وَ يَنَابِيعُ الْحُكْمِ، نَاصِرُنَا وَ مُحِبُّنَا يَنْتَظِرُ الرَّحْمَةَ، وَ عَدُوُّنَا وَ مُبْغِضُنَا يَنْتَظِرُ السَّطْوَةَ.

আল্লাহর কুদরত , ফেরেশতা , আল্লাহর নেয়ামত , মৃত্যু , বিচার দিবস , রাসূল (সা.) ও আহলে বাইত সম্পর্কে

আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে

সকল কিছু আল্লাহর অনুগত এবং সকল কিছুই তাঁর দ্বারা অস্তিত্ববান। তিনি দরিদ্রের সন্তুষ্টি ,নিচ - এর মর্যাদা ,দুর্বলের শক্তি এবং মজলুমের আশ্রয়স্থল। যে কেউ কথা বলে তিনি শোনেন এবং যে নিশ্চুপ থাকে তিনি তার গুপ্ত বিষয় জানেন। জীবিত সব কিছুর জীবিকা তার হাতে এবং মৃত্যুর পর সকলেই তার কাছে প্রত্যাবর্তন করে।

হে আল্লাহ! চোখ তোমাকে দেখেনি যাতে তোমার সম্বন্ধে অবহিত হওয়া যায় ,কিন্তু তোমার সৃষ্টির বর্ণনাকারীদের পূর্বেও তুমি বিদ্যমান ছিলো। তুমি তোমার নিঃসঙ্গতার কারণে মাখলুক সৃষ্টি করনি এবং কোন লাভের আশায় তাদেরকে কর্ম সম্পাদনের ক্ষমতা দাওনি। যাকে তুমি ধর সে একটুও এগুতে পারে না ,আর যাকে তুমি আটকে ফেলো সে কিছুতেই পালাতে পারে না। কেউ তোমাকে অমান্য করলে তোমার কর্তৃত্ব একটুও খর্ব হয় না এবং কেউ তোমার অনুগত হলে তোমার শক্তি একটুও বৃদ্ধি পায় না। কেউ তোমার বিচারে সংক্ষুব্ধ হলে তা ফিরিয়ে দিতে পারে না এবং কেউ তোমার আদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও তোমাকে ছাড়া চলতে পারে না। প্রতিটি গুপ্ত বিষয় তোমার কাছে উন্মুক্ত এবং তোমার জন্য প্রত্যেক অনুপস্থিতই উপস্থিত।

তুমি চিরন্তন ,তোমার কোন অন্ত নেই। তুমিই সর্বোচ্চ লক্ষ্য এবং তোমার আয়ত্ত থেকে কোন নিস্কৃতি নেই। তুমিই প্রতিশ্রুত প্রত্যাবর্তন স্থল এবং তোমার দিকে যাওয়া ব্যতীত কোন নিস্তার নেই। বান্দার চূর্ণকুন্তল তোমার হাতের মুঠোয় এবং প্রতিটি জীবিত সত্তার প্রত্যাবর্তন তোমারই কাছে। সকল গৌরব তোমার। তোমার সৃষ্টির যা কিছু আমরা দেখি তা কত বিশাল ,কিন্তু এ বিশালত্ব তোমার কুদরতের কাছে কতই না ক্ষুদ্র। তোমার রাজ্য ,যা আমরা লক্ষ্য করি ,কত বিস্ময়কর কিন্তু তোমার কর্তৃত্বের যেটুকু আমাদের কাছে গুপ্ত তার তুলনায় কত নগণ্য। এ পৃথিবীতে তোমার নেয়ামত কত ব্যাপক কিন্তু আখেরাতের নেয়ামতের তুলনায় তা কত তুচ্ছ।

ফেরেশতা সম্পর্কে

হে আল্লাহ ,তুমি ফেরেশতাদেরকে তোমার আসমানে বসত করার ব্যবস্থা করেছ এবং তোমার পৃথিবীর অনেক উর্দ্ধে তাদেরকে স্থাপন করেছ । তোমার সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞান তাদেরই আছে এবং তোমার সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে তারাই তোমাকে সর্বাপেক্ষা বেশি ভয় করে এবং তারাই তোমার সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী। তারা কখনো কারো ঔরসে বা কারো গর্ভাশয়ে ছিল না এবং তাদেরকে নাপাক পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়নি। সময়ের উত্থান - পতনের কারণে তারা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েনি। তারা তোমার থেকে আলাদা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে এবং তাদের নির্দিষ্ট মর্যাদায় তোমার নিকটে অবস্থান করে। তাদের সকল আকাঙ্খা তোমাকে কেন্দ্র করে। তারা অত্যধিক পরিমাণে তোমার ইবাদত করে । তোমার আদেশের প্রতি তাদের কোন গাফলতি নেই। যদি তারা দেখে যে ,তোমার সম্পর্কে কিছু সংগুপ্ত রয়ে গেছে। তবে তারা মনে করে তাদের আমল কম হয়েছে এবং তখন তারা আত্মসমালোচনা করে এবং অনুধাবন করতে পারে যে ,যতটুকু ইবাদত তোমার প্রাপ্য ছিল ততটুকু তারা করেনি। অথবা তোমাকে যতটুকু মান্য করা উচিত ছিল ততটুকু তারা করেনি।

আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে

তুমি মহিমান্বিত ,তুমি স্রষ্টা ,তুমি উপাস্য তোমার বান্দাদের প্রতি সুবিচারের কারণে। তুমি বেহেশত সৃষ্টি করে তাতে তৃপ্তিদায়ক উপভোগ্য বস্তু ,পানীয় ,খাদ্য ,সুদর্শন সঙ্গিনী বা সঙ্গী ,চাকর - চাকরানি ,মনোরম স্থান ,স্রোতস্বিনী ,বাগান ও ফল দিয়েছো। তারপর তুমি তোমার বার্তাবাহক প্রেরণ করেছো। বেহেশতের দিকে আমন্ত্রণ জানাতে কিন্তু মানুষ আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেয়নি। যেদিকে অনুপ্রাণিত হতে তুমি বলেছিলে তারা সেদিকে অনুপ্রাণিত হয়নি। যেদিকে আগ্রহ দেখাতে তুমি ইচ্ছা! করেছিলে তারা সেদিকে আগ্রহ দেখায়নি। তারা মৃত লাশের (এ দুনিয়া) ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ,তা খেয়ে লজ্জিত হলো এবং তার প্রেমে ঐক্যবদ্ধ হলো ।

কৃত্তিম ভালবাসা সম্পর্কে সতর্কিকরণ

যখন কেউ কোন কিছুকে ভালোবাসে তখন সেটা তাকে অন্ধ করে দেয় এবং তার হৃদয়কে পীড়িত করে। তখন দেখে কিন্তু অসুস্থ চোখ দিয়ে ;শোনে কিন্তু রুদ্ধ কান দিয়ে। আকাঙ্খা তার বুদ্ধিমত্তাকে বিনষ্ট করে দেয় এবং দুনিয়া তার হৃদয়কে মৃত করে দেয় ,কারণ তার মন সদাসর্বদা দুনিয়ার আশায় লিপ্ত থাকে। ফলে সে দুনিয়ার গোলাম হয়ে পড়ে এবং তাদেরও গোলাম হয়ে যায় দুনিয়াতে যাদের অংশীদারিত্ব আছে। দুনিয়া যেদিকে মুখ ফেরায় সেও সেদিকে মুখ ফেরায় এবং দুনিয়া যেদিকে অগ্রসর হয় সেও সেদিকে অগ্রসর হয়। আল্লাহর কাছ থেকে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কোন বাধাদানকারী দ্বারা সে বাধাপ্রাপ্ত হয় না এবং কোন ধর্মোপদেশকারীর কাছ থেকে নসিহত গ্রহণ করে না । সে তাদেরকেই দেখে যারা গাফলতিতে ধৃত হয়েছে যেখান থেকে পশ্চাদপসরণ বা প্রত্যাবর্তন নেই। এ দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে তারা উপেক্ষা করেছিল কিন্তু তা তাদের ঘটেছে। অথচ সময়মতো বিচ্ছিন্ন হলে তারা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে পারতো। তারা পরকালে প্রতিশ্রুত ফল লাভ করেছে। সেখানে যা ঘটেছে তা বর্ণনাতীত।

মৃত্যু পূর্ববর্তী অবস্থা সম্পর্কে

মৃত্যুর যন্ত্রণা আর দুনিয়া হারাবার শোক তাদেরকে ঘিরে ধরেছে। ফলে তাদের অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ অসাড় ও চেহারা বদল হয়ে গেছে। মৃত্যু তার যন্ত্রণা তাদের ওপর বৃদ্ধি করে। কতক লোকের বেলায় মৃত্যু তার ও তার কথা বলার শক্তির মাঝে এসে দাঁড়ায় যদিও সে তখন তার লোকজনের মাঝেই শুয়ে থাকে ,চোখ দিয়ে তাকায় ,কান দিয়ে শুনে এবং তার বোধশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা অটুট থাকে। তখন সে চিন্তা করে কিভাবে তার জীবন নষ্ট করেছিলো এবং কী আমল করে তার সময় কেটেছিলো। সে তার সঞ্চিত সম্পদকে স্মরণ করে যা আহরণে সে নিজেকে অন্ধ করে রেখেছিলো এবং তা আহরণে ন্যায় - অন্যায় বিচার বিবেচনা করেনি। এখন সম্পদ আহরণের পরিণাম তাকে পাকড়াও করেছে। সে তা ত্যাগ করার প্রস্তুতি নেয় এবং এগুলো তার পরবর্তীগণের জন্য থাকবে। তারা এগুলো ভোগ করবে ও উপকৃত হবে। তার পরিত্যক্ত সম্পদ পরবর্তীগণের জন্য সহজলভ্য ,কিন্তু তা আহরণের সকল দায় - দায়িত্ব তার ঘাড়ে এবং সে এসব দায় - দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে না। তার মৃত্যুর সময় তার অতীত কর্মকাণ্ড যখন তার সামনে তুলে ধরা হবে তখন সে লজ্জায় নিজের হাত কামড়াবে। জীবনে ব্যগ্রভাবে যা সে কামনা করেছিল মৃত্যুর সময় সেগুলোকে ঘৃণা করবে এবং মনে মনে আক্ষেপ করবে যে ,সম্পদের কারণে যারা তাকে ঈর্ষা করেছিল তাদের সম্পদ স্তুপীকৃত হয়ে সে যদি নিঃস্ব হতো।

মৃত্যু তার শরীরকে ক্রমান্বয়ে আক্রমণ করতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে তার কানও জিহবার মতো হয়ে যাবে (অকেজো হয়ে যাবে) । সুতরাং সে তার লোকজনের মাঝেই বাকশক্তিহীন ও শ্রবণ শক্তিহীন অবস্থায় পড়ে থাকবে। সে তার দৃষ্টিকে তাদের মুখের ওপর ঘুরাবে ,তাদের মুখের নড়া - চড়া লক্ষ্য করবে: কিন্তু তাদের কথা শুনতে পাবে না। তারপর মৃত্যু তার প্রভাব আরো বৃদ্ধি করে দেবে এবং তাতে তার দৃষ্টিও কেড়ে নেয়া হবে কান ও জিহবার মতো এবং তার রুহ দেহ থেকে প্রস্থান করবে। তখন সে তার প্রিয়জনদের কাছে একটা লাশে পরিণত হবে। তারা তার অনুপস্থিতি অনুভব করবে এবং তার কাছ থেকে চলে যাবে। সে আর কখনো শব্বানুগামীদের সাথে যোগ দিতে পারবে না অথবা কোন আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। তারপর তারা তাকে বহন করে নিয়ে যাবে এবং মাটির অভ্যন্তরে একটা ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে ফেলে চলে যাবে ,যেখানে সে তার কাজ - কর্মের ফল ভোগ করবে। এরপর আর কোনদিন তার সাথে কেউ দেখা করতে যাবে না ।

বিচার দিন সম্পর্কে

যা কিছু স্থিরীকৃত হয়ে লিখিত আছে তা শেষ প্রান্তে না পৌছা পর্যন্ত ,কর্মকাণ্ড পূর্বনির্ধারিত সীমা সম্পূর্ণ না করা পর্যন্ত ,পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীগণের সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং যা কিছু আল্লাহ ইচ্ছা! করেন তাঁর সৃষ্টির পুনরুত্থান আকারে তা সংঘটিত না হওয়া পর্যন্ত সে এভাবে পড়ে থাকবে। তখন তিনি আকাশকে প্রবলভাবে কম্পিত করে বিচূর্ণ করবেন। তিনি পৃথিবীকে কম্পিত ও আলোড়িত করবেন। তিনি পর্বতসমূহকে সমূলে উৎক্ষিপ্ত করে বিচ্ছিন্ন করবেন। ওরা তাঁর মহত্ত্বের আতঙ্কে ও মহিমার ভয়ে একে অপরকে ধ্বংস করবে ।

তিনি এর ভেতরে যারা আছে তাদের প্রত্যেককে বের করে আনবেন। তিনি তাদেরকে ছিন্ন - ভিন্ন হওয়ার পরও সজীব ও সতেজ করবেন এবং তাদেরকে বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে একত্রিত করবেন। তারপর তাদের গোপন কর্মকাণ্ড ও অপ্রকাশিত আমলসমূহের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের একদিকে সরিয়ে রাখবেন। এরপর তিনি তাদেরকে দুটি দলে বিভক্ত করবেন - একদলকে পুরস্কৃত করবেন এবং অন্যদলকে শাস্তি প্রদান করবেন। যারা তাঁর অনুগত ছিল তিনি তাদেরকে তাঁর নৈকট্য দ্বারা পুরস্কৃত করবেন এবং চিরদিনের জন্য তাদেরকে তার ঘরে রাখবেন যেখান থেকে কোন অবস্থানকারী বের হয়ে আসে না। সেখানে তাদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না ,ভীতি তাদেরকে স্পর্শ করবে না ,রোগ - ব্যাধি তাদেরকে আক্রমণ করবে না ,কোন বিপদাপদ তাদেরকে প্রভাবিত করবে না এবং একস্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করতে তাদেরকে বাধ্য করা হবে না।

অপরপক্ষে পাপী লোকদেরকে তিনি নিকৃষ্টতম স্থানে বসবাস করতে দেবেন। তাদের হাত ঘাড়ের সাথে বাধবেন ,কপালের কেশগুচ্ছ পায়ের সাথে বাধবেন ,আলকাতরার জামা পরাবেন এবং অগ্নিশিখা দ্বারা কেটে বানানো পোষাক পরাবেন। তারা আগুনে শাস্তি ভোগরত থাকবে যার উত্তাপ প্রচণ্ড ,দরজা বন্ধ এবং ভেতরে বিভৎস চিৎকার ,উত্থিত অগ্নি - শিখা ও ভীত - সন্ত্রস্ত কণ্ঠ। এর ভেতরে যারা আছে তারা বেরিয়ে আসতে পারে না ,এর বন্দীকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করা যায় না এবং এর শিকল কাটা যায় না। এ ঘরের জন্য কোন নির্ধারিত সময় - কাল নেই যাতে শাস্তি শেষ হতে পারে এবং এ জীবনের কোন শেষ নেই যাতে মৃত্যুবরণ করতে পারে।

রাসূলের (সা.) দুনিয়াবিমুখিতা সম্পর্কে

তিনি দুনিয়াকে ঘৃণাভরে দেখতেন এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট মনে করতেন। তিনি এটাকে অবজ্ঞেয় মনে করতেন এবং ঘৃণা করতেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে ,আল্লাহ ইচ্ছাকৃতভাবে দুনিয়াকে তাঁর কাছ থেকে দূরে রেখেছেন এবং তা তিনি ঘৃণ্য আকারে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সে জন্য তিনি মনেপ্রাণে দুনিয়া থেকে দূরে ছিলেন ,মন থেকে এর স্মৃতি মুছে ফেলেছিলেন এবং প্রার্থনা করতেন দুনিয়ার আকর্ষণ যেন তাঁর দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকে যাতে এর কোন পোষাক তাকে পরতে না হয়। তিনি পাপের বিরুদ্ধে আল্লাহর ওজর জ্ঞাপন করেছিলেন ,মানুষকে সতর্ককারী হিসাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং শুভ সংবাদ জ্ঞাপনকারী হিসাবে মানুষকে বেহেশতের দিকে আহবান করেছিলেন।

আহলে বাইত সম্পর্কে

আমরা নবুয়তের সাজারাহ ,ঐশীবাণীর অবস্থানস্থল ,ফেরেশতাগণের অবতরণ স্থল ,জ্ঞানের আকর ও প্রজ্ঞার উৎস। আমাদের সমর্থক ও প্রেমিকগণ আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং আমাদের শত্রু ও যারা আমাদেরকে ঘৃণা করে তারা আল্লাহর রোষে নিপতিত।