নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 43939
ডাউনলোড: 2030

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 43939 / ডাউনলোড: 2030
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

খোৎবা - ১৪১

وَ لَيْسَ لِواضِعِ الْمَعْرُوفِ فِي غَيْرِ حَقِّهِ، وَ عِنْدَ غَيْرِ أَهْلِهِ مِنَ الْحَظِّ فِيما أَتَى إِلا مَحْمَدَةُ اللِّئامِ، وَ ثَنأُ الْأَشْرارِ، وَ مَقالَةُ الْجُهّالَ، مادامَ مُنْعِما عَلَيْهِمْ، ما أَجْوَدَ يَدَهُ! وَ هُوَ عَنْ ذاتِ اللَّهِ بِخَيْلٌ!

فَمَنْ آتاهُ اللَّهُ مالاً فَلْيَصِلْ بِهِ الْقَرابَةَ، وَ لْيُحْسِنْ مِنْهُ الضِّيافَةَ، وَ لْيَفُكَّ بِهِ الْأَسِيرَ وَ الْعانِىَ، وَ لْيُعْطِ مِنْهُ الْفَقِيرَ وَ الْغارِمَ، وَ لْيَصْبِرْ نَفْسَهُ عَلَى الْحُقُوقِ وَ النَّوائِبِ ابْتِغأَ الثَّوابِ، فَإِنَّ فَوْزا بِهَذِهِ الْخِصالِ شَرَفُ مَكارِمِ الدُّنْيا، وَ دَرْكُ فَضائِلِ الْآخِرَةِ؛إِنْ شأَ اللَّهُ .

অপাত্রে উদারতা দেখানোর বিরুদ্ধে

কেউ যদি এমন লোকের প্রতি উদারতা দেখায় যার তা পাবার কোন যোগ্যতা বা দাবি নেই। তবে সে শুধু ইতর - মন্দ লোকদের প্রশংসা পায়। অবশ্য যতক্ষণ সে দিয়ে যাবে অজ্ঞ লোকেরা ততক্ষণ তাকে উদার ও দানশীল বলবে। যদিও সে আল্লাহর কাজে কৃপণ।

সুতরাং আল্লাহ যাদেরকে বিত্তবান করেছেন তাদের উচিত আত্মীয় - স্বজনদের প্রতি ,বন্দী ও দুর্দশাগ্রস্থদের প্রতি ,দরিদ্র ও ঋণগ্রস্থদের প্রতি ,অন্যের অধিকার পরিপূরণের জন্য এবং পুরস্কার দিবসের আশায় যারা অভাব - অনটনে আছে তাদের প্রতি উদারতার হাত প্রসারিত করা। নিশ্চয়ই ,এসব গুণাবলী মানুষকে ইহকালে শ্রেষ্ঠত্ব ও পরকালে আল্লাহর বিশেষ অনুকম্পার অধিকারী করে।

খোৎবা - ১৪২

في الاْسْتِسْقأِ

الکون فی خدمة الإنسان

أَلا وَ إِنَّ الْأَرْضَ الَّتِي تُقِلُّکُم(تُحْمِلُكُمْ) ، وَ السَّمأَ الَّتِي تُظِلُّكُمْ، مُطِيعَتانِ لِرَبِّكُمْ، وَ ما أَصْبَحَتا تَجُودان لَكُمْ بِبَرَكَتِهِما تَوَجُّعا لَكُمْ، وَ لا زُلْفَةً إِلَيْكُمْ، وَ لا لِخَيْرٍ تَرْجُوانِهِ مِنْكُمْ، وَ لَكِنْ أُمِرَتا بِمَنافِعِكُمْ فَأَطاعَتا، وَ أُقِيمَتا عَلى حُدُودِ مَصالِحِكُمْ فَقامَتا.

إِنَّ اللَّهَ يَبْتَلِى عِبادَهُ عِنْدَ الْأَعْمالِ السَّيِّئَةِ بِنَقْصِ الثَّمَراتِ، وَ حَبْسِ الْبَرَكاتِ، وَ إِغْلاقِ خَزائِنِ الْخَيْراتِ، لِيَتُوبَ تائِبٌ وَ يُقْلِعَ مُقْلِعٌ، وَ يَتَذَكَّرَ مُتَذَكِّرٌ، وَ يَزْدَجِرَ مُزْدَجِرٌ، وَ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ الاِسْتِغْفارَ سَبَبا لِدُرُورِ الرِّزْقِ، وَ رَحْمَةِ لِلْخَلْقِ، فَقالَ:سُبْحانَهُ ( اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كانَ غَفّاراً ( ১০) يُرْسِلِ السَّمأَ عَلَيْكُمْ مِدْراراً ( ১১) وَ يُمْدِدْكُمْ بِأَمْوالٍ وَ بَنينَ وَ يَجْعَلْ لَكُمْ جَنّاتٍ وَ يَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهارا ) .

فَرَحِمَ اللَّهُ امْرَأً اسْتَقْبَلَ تَوْبَتَهُ، وَ اسْتَقالَ خَطِيئَتَهُ، وَ بادَرَ مَنِيَّتَهُ!.

اللَّهُمَّ إِنّا خَرَجْنا إِلَيْكَ مِنْ تَحْتِ الْأَسْتارِ وَ الْأَكْنانِ، وَ بَعْدَ عَجِيجِ الْبَهائِمِ وَ الْوِلْدَانِ، راغِبِينَ فِي رَحْمَتِكَ، وَ راجِينَ فَضْلَ نِعْمَتِكَ، وَ خائِفِينَ مِنْ عَذابِكَ وَ نِقْمَتِكَ. اللَّهُمَّ فاسْقِنا غَيْثَكَ، وَ لا تَجْعَلْنا مِنَ الْقانِطِينَ، وَ لا تُهْلِكْنا بِالسِّنِينَ،«وَ لا تُؤ اخِذْنا بِما فَعَلَ السُّفَهأُ مِنّا» ؛ يا أَرْحَمَ الرّاحِمِينَ. اللَّهُمَّ إِنّا خَرَجْنا إِلَيْكَ نَشْكُو إِلَيْكَ ما لا يَخْفَى عَلَيْكَ، حِينَ أَلْجَأَتْنَا الْمَضايِقُ الْوَعْرَةُ، وَ أَجأَتْنا الْمَقاحِطُ الْمُجْدِبَةُ، وَ أَعْيَتْنَا الْمَطالِبُ الْمُتَعَسِّرَةُ، وَ تَلاحَمَتْ عَلَيْنا الْفِتَنُ الْمُسْتَصْعِبَةُ. اللَّهُمَّ إِنّا نَسْأَلُكَ أَن لا تَرُدَّنا خائِبِينَ، وَ لا تَقْلِبَنا واجِمِينَ، وَ لا تُخاطِبَنا بِذُنُوبِنا، وَ لا تُقايِسَنا بِأَعْمالِنا. اللَّهُمَّ انْشُرْ عَلَيْنا غَيْثَكَ وَ بَرَكَتِكَ وَ رِزْقَكَ وَ رَحْمَتَكَ، وَ اسْقِنا سُقْيا ناقِعَةً مُرْوِيَةً مُعْشِبَةً: تُنْبِتُ بِها ما قَدْ فاتَ، وَ تُحْيِى بِها ما قَدْ ماتَ، نافِعَةَ الْحَيا، كَثِيرَةَ الْمُجْتَنى، تُرْوِي بِهَا الْقِيعانَ، وَ تُسِيلُ الْبُطْنانَ، وَ تَسْتَوْرِقُ الْأَشْجارَ، وَ تُرْخِصُ الْأَسْعارَ؛« إِنَّكَ عَلَى ما تَشأُ قَدِيرٌ » .

বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা

সাবধান ,তোমাদের পদতলের মাটি আর মাথার ওপরের আকাশ তাদের সংরক্ষকের (আল্লাহ) প্রতি অত্যন্ত অনুগত। তারা তোমাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে বা তোমাদেরকে খাতির করে বা তোমাদের কোন কর্মে খুশি হয়ে তাদের আশীর্বাদে তোমাদের অনুকূলে প্রেরণ করে না। তোমাদের ওপর আশীবাদ প্রেরণের জন্য নির্দেশিত হলেই ওরা তা পালন করে এবং তোমাদের মঙ্গল করার জন্য আদিষ্ট হলেই ওরা তোমাদের মঙ্গল করে ।

নিশ্চয়ই ,আল্লাহ তাঁর বান্দাগণকে তাদের মন্দ আমলের জন্য পরীক্ষার্থে ফল - ফলাদি কমিয়ে দেন ,আশীর্বাদ সমূহের বর্ষণ আটকিয়ে রাখেন এবং মঙ্গলের স্রোতধারা ক্ষীণ করে দেন ,যাতে করে যে ব্যক্তি তাওবা করতে চায় সে যেন তওবা করতে পারে ,যে ব্যক্তি পাপের পথ থেকে ফিরে আসতে চায় সে যেন ফিরে আসতে পারে ,যে ব্যক্তি ভুলে যাওয়া নেয়ামতের কথা স্মরণ করতে চায় সে যেন স্মরণ করতে পারে এবং যে ব্যক্তি মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে চায় সে যেন বিরত থাকতে পারে। মহিমানিত আল্লাহ্ ক্ষমা প্রার্থনাকে জীবিকা প্রদান ও রহমত বর্ষণের উপায় হিসাবে চিহ্নিত করে বলেনঃ

তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা প্রার্থনা কর ;নিশ্চয়ই তিনি মহা ক্ষমাশীল । তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন এবং তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন সম্পদ ও সন্তান - সন্ততিতে । তিনি তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী - নালা। (কুরআন - ৭১:১০ - ১২)

যে ব্যক্তি তওবা করে পাপ পরিত্যাগ করে এবং মৃত্যুর পূর্বে সৎকর্মের প্রতি তাড়াহুড়া করে তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।

হে আল্লাহ ,আমরা পর্দা ও ঘর থেকে বের হয়ে তোমার কাছে এসেছি যখন পশু ও শিশুরা কাঁদছে ,তোমার দয়া প্রার্থনা করছে ,তোমার নেয়ামত থেকে দানের আশা পোষণ করছে এবং তোমার শাস্তির ভয়ে কম্পবান হয়ে আছে। হে আল্লাহ ,তোমার বৃষ্টি থেকে আমাদেরকে পানি পান করতে দাও এবং আমাদেরকে হতাশ করো না ,বছরের পর বছর খরায় আমাদেরকে মেরো না এবং আমাদের মাঝে মূর্খগণ যে অপরাধ করেছে তার জন্য আমাদেরকে শাস্তি দিও না ,হে রহমানুর রহিম।

হে আল্লাহ ,আমরা তোমার কাছে যে ফরিয়াদ নিয়ে এসেছি তা তোমার কাছে গুপ্ত নয়। আমরা সাতটি বিপদে নিপতিত হয়েছি। খরাজনিত দুর্ভিক্ষ আমাদেরকে তাড়না করেছে ,যন্ত্রণাদায়ক অভাব অনটন আমাদেরকে সহায় - সম্বলহীন করে দিয়েছে এবং বিপজ্জনক ফেতনা অবিরামভাবে আমাদের ওপর আপতিত হয়েছে। হে আল্লাহ ,আমরা তোমার কাছে মিনতি করি ,তুমি আমাদেরকে নিরাশ করো না ,যাতে আমাদেরকে চোখ নিচু করে ফিরে যেতে হয়। আমাদের পাপের জন্য রোষাভরে আমাদের নিবেদন প্রত্যাখ্যান করো না এবং আমাদের আমল অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করো না।

হে আল্লাহ ,তোমার দয়া ,তোমার রহমত ,তোমার নেয়ামত আমাদের ওপর বর্ষণ কর এবং আমাদেরকে আনন্দদায়ক পানীয় দাও ,আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ কর ,সবুজ শাক - সবজি দাও (যা জ্বলে গেছে এবং আমাদের তৃণভূমিকে আবার সজীব করে দাও। আমাদের বৃক্ষের সজীবতা দান করে ফলেফুলে ভরে দাও। আমাদের সমতল ভূমিকে ভিজিয়ে দাও ,নদীকে প্রবাহমান করে দাও যাতে বৃক্ষের পাতা গজায় এবং দ্রব্যমূল্য নেমে আসে। নিশ্চয়ই তুমি যা খুশী তা - ই করতে পার।

খোৎবা - ১৪৩

الحکمة من بعثة الرسل

بَعَثَ اللَّهُ رُسُلَهُ بِما خَصَّهُمْ بِهِ مِنْ وَحْيِهِ، وَ جَعَلَهُمْ حُجَّةً لَهُ عَلى خَلْقِهِ، لِئلاّ تَجِبَ الْحُجَّةُ لَهُمْ بِتَرْكِ الْإِعْذارِ إِلَيْهِمْ، فَدَعاهُمْ بِلِسانِ الصِّدْقِ إِلَى سَبِيلِ الْحَقِّ. أَلا إِنَّ اللَّهَ تَعالَى قَدْ كَشَفَ الْخَلْقَ كَشْفَةً لا أَنَّهُ جَهِلَ ما أَخْفَوْهُ مِنْ مَصُونِ أَسْرارِهِمْ وَ مَكْنُونِ ضَمائِرِهِمْ، وَ لَكِنْلِيَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً ، فَيَكُونَ الثَّوابُ جَزَأً وَ الْعِقابُ بَواءً.

خصائص الأئمة الأثنی عشر

أَيْنَ الَّذِينَ زَعَمُوا أَنَّهُمُ الرّاسِخُونَ فِى الْعِلْمِ دُونَنا، كَذِباً وَ بَغْياً عَلَيْنا، أَنْ رَفَعَنَا اللَّهُ وَ وَضَعَهُمْ، وَ أَعْطانا وَ حَرَمَهُمْ، وَ أَدْخَلَنا وَ أَخْرَجَهُمْ. بِنا يُسْتَعْطَى الْهُدَى، وَ يُسْتَجْلَى الْعَمَى. إِنَّ الْأَئِمَّةَ مِنْ قُرَيْشٍ غُرِسُوا فِى هَذا الْبَطْنِ مِنْ هاشِمٍ؛ لا تَصْلُحُ عَلَى سِواهُمْ، وَ لا تَصْلُحُ الْوُلاةُ مِنْ غَيْرِهِمْ.

التعریف باهل الضلال و عبد الملک

آثَرُوا عاجِلاً، وَ أَخَّرُوا آجِلاً، وَ تَرَكُوا صافِياً، وَ شَرِبُوا آجِناً، كَأَنِّى أَنْظُرُ إِلى فاسِقِهِمْ وَ قَدْ صَحِبَ الْمُنْكَرَ فَأَلِفَهُ وَ بَسِئَ بِهِ وَ وَافَقَهُ، حَتّى شابَتْ عَلَيْهِ مَفارِقُهُ، وَ صُبِغَتْ بِهِ خَلائِقُهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ مُزْبِدا كَالتَّيّارِ لا يُبالِى ما غَرَّقَ، أَوْ كَوَقْعِ النّارِ فِى الْهَشِيمِ لا يَحْفِلُ ما حَرَّقَ!

أَيْنَ الْعُقُولُ الْمُسْتَصْبِحَةُ بِمَصابِيحِ الْهُدى، وَالْأَبْصارُ اللاّمِحَةُ إِلَى مَنارِ التَّقْوى! أَيْنَ الْقُلُوبُ الَّتِى وُهِبَتْ لِلَّهِ وَ عُوقِدَتْ عَلَى طاعَةِ اللَّهِ! ازْدَحَمُوا عَلَى الْحُطامِ، وَ تَشاحُّوا عَلَى الْحَرامِ؛ وَ رُفِعَ لَهُمْ عَلَمُ الْجَنَّةِ وَ النّارِ فَصَرَفُوا عَنِ الْجَنَّةِ وُجُوهَهُمْ، وَ أَقْبَلُوا إِلَى النّارِ بِأَعْمالِهِمْ، وَ دَعاهُمْ رَبُّهُمْ فَنَفَرُوا وَ وَلَّوْا، وَ دَعاهُمُ الشَّيْطانُ فَاسْتَجابُوا وَ أَقْبَلُوا.

পয়গম্বর প্রেরণ এবং আহলে বাইতের মর্যাদা সম্পর্কে

মহিমান্বিত আল্লাহ পয়গম্বরগণকে মনোনীত করে তাঁর প্রত্যাদেশ দ্বারা তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিলেন। তিনি পয়গম্বরগণকে তাঁর বান্দাদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন যেন তারা কোন ওজর পেশ করতে না পারে যে ,তাদের কোন পথ প্রদর্শক (হেদায়েতকারী) ছিল না। পয়গম্বরগণ মানুষকে সত্যবাদিতার সাথে সৎ ও সঠিক পথের দিকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। মনে রেখো ,মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে সবিশেষ পরিজ্ঞাত। এমন নয় যে ,তিনি তাদের গোপন বিষয় ও অন্তরের অনুভূতি সম্পর্কে অবহিত নন। তবুও তাদের মধ্যে ভালো ও মন্দ আলাদা করার জন্য তিনি তাদের বিচার করেন যাতে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও মন্দ কাজের জন্য শাস্তি প্রদান করা যায়।

আহলে বাইতের মর্যাদা সম্পর্কে

কোথায় সেসব লোক যারা মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে দাবি করেছিল যে ,তারা আমাদের চেয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী। অথচ আল্লাহ আমাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করেছেন আর তাদেরকে হীন করেছেন ;আমাদেরকে প্রজ্ঞা দান করেছেন আর তাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত করেছেন ;আমাদেরকে জ্ঞানের নগরদূর্গে প্রবেশাধিকার দিয়েছেন আর তাদেরকে সেই নগরী থেকে বাইরে রেখেছেন। আমাদের কাছেই হেদায়েতের প্রত্যাশী হতে হবে এবং গোমরাহির অন্ধত্ব পরিবর্তন করে উজ্জ্বল আলো পেতে হলে আমাদের কাছেই আসতে হবে। নিশ্চয়ই ,ইমামগণ (আধ্যাত্মিক নেতা) কুরাইশ বংশের হাশিমি শাখা থেকেই হবে। এ নেতৃত্ব অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয় এবং অন্য কেউ এ কাজের যোগ্যও নয়।

আহলে বাইতের বিরোধীদের সম্পর্কে

তারা দুনিয়াকে আঁকড়ে ধরেছে এবং পরকালকে পরিত্যাগ করেছে। তারা স্বচ্ছ পানি পরিত্যাগ করে ঘোলাটে অপবিত্র পানি পান করেছে। তাদের মধ্য থেকে নিষ্ঠুরটিকে আমি দেখতে পাচ্ছি ,যে অনবরত হারাম (বেআইনি) কাজে লিপ্ত থাকবে ,অন্যায়কারীদের সাথে সখ্যতা করবে এবং তার চুল না পাকা পর্যন্ত এ সখ্যতা টিকে থাকবে এবং তার স্বভাব অন্যায়কারীদের রঙে রঞ্জিত হবে। সে (অন্যায়ের পথে) এগিয়ে যাবে প্রবলবেগে প্রবাহিত স্রোত থেকে নির্গত ফেনার মতো যা কখনো খেয়াল করে না যে ,কাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে অথবা খড়ের আগুনের মতো যা বুঝতে পারে না কী সে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

কোথায় সেসব মন যা হেদায়েতের প্রদীপ থেকে আলোর সন্ধান করে ? কোথায় সেসব চোখ যা তাকওয়ার মিনারের দিকে তাকায় ? কোথায় সেসব হৃদয় যা আল্লাহর প্রতি উৎসর্গীকৃত ও তার আনুগত্যের প্রতি অনুরক্ত ? তারা সকলে আসার জাগতিক বিষয়ের চারদিকে ভিড় জমিয়েছে এবং তারা হারাম বিষয় নিয়ে বিবাদে লিপ্ত। তাদের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামের ব্যানার উত্তোলিত হয়েছে কিন্তু তারা তাদের কর্মকাণ্ড দ্বারা জান্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে জাহান্নামের দিকে এগিয়ে গেছে। আল্লাহ তাদের আহবান করেছিলেন কিন্তু তারা তা অপছন্দ করে দৌড়ে পালিয়েছে। যখন শয়তান তাদের আহবান করলো তখন তারা সাড়া দিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে দৌড়ে এগিয়ে গেল।

___________________

১ । এখানে আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের প্রতি ঈঙ্গিত করা হয়েছে। সে তার অফিসার হাজ্জাজ ইবনে ইউছুফের দ্বারা চরম নৃশংসতা সংঘটিত করিয়েছিল।

খোৎবা - ১৪৪

أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّما أَنْتُمْ فِى هَذِهِ الدُّنْيا غَرَضٌ تَنْتَضِلُ فِيهِ الْمَنايا، مَعَ كُلِّ جَرْعَةٍ شَرَقٌ، وَ فِى كُلِّ أَكْلَةٍ غَصَصٌ! لا تَنالُونَ مِنْها نِعْمَةً إِلاّ بِفِراقِ أُخْرى، وَ لا يُعَمَّرُ مُعَمَّرٌ مِنْكُمْ يَوْماً مِنْ عُمُرِهِ إِلاّ بِهَدْمِ آخَرَ مِنْ أَجَلِهِ، وَ لا تُجَدَّدُ لَهُ زِيادَةٌ فِى أُكُلِهِ إِلاّ بِنَفادِ ما قَبْلَها مِنْ رِزْقِهِ؛ وَ لا يَحْيى لَهُ أَثَرٌ إِلاّ ماتَ لَهُ أَثَرٌ، وَ لا يَتَجَدَّدُ لَهُ جَدِيدٌ؛ إِلا بَعْدَ أَنْ يَخْلَقَ لَهُ جَدِيدٌ، وَ لا تَقُومُ لَهُ نابِتَةٌ إِلاّ وَ تَسْقُطُ مِنْهُ مَحْصُودَةٌ. وَ قَدْ مَضَتْ أُصُولٌ نَحْنُ فُرُوعُها، فَما بَقأُ فَرْعٍ بَعْدَ ذَهابِ أَصْلِهِ!

وَ ما أُحْدِثَتْ بِدْعَةٌ إِلاّ تُرِكَ بِها سُنَّةٌ، فَاتَّقُوا الْبِدَعَ، وَالْزَمُوا الْمَهْيَعَ، إِنَّ عَوازِمَ الْأُمُورِ أَفْضَلُها، وَ إِنَّ مُحْدِثاتِها شِرارُها.

দুনিয়া ও বিদআত সম্পর্কে

হে লোকসকল ,তোমরা এ পৃথিবীতে মৃত্যু - তীরের লক্ষ্য বস্তু। তোমাদের পানীয় বস্তুর প্রতিটি ঢোক ও খাদ্যের প্রতিটি গ্রাস শ্বাসরুদ্ধকর। এতে তোমরা একটা সুবিধা পরিত্যাগ করা ব্যতীত অন্য একটা সুবিধা পাও না এবং তোমাদের জীবন থেকে একটা দিন ঝরে না গেলে তোমরা বয়সে একটা দিনও এগিয়ে যেতে পার না। পূর্বে যা ছিল তা কমে যাওয়া ছাড়া তোমাদের খাদ্যে আর কিছুই যোগ হচ্ছে না। একটা চিহ্ন অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত অন্যটি উপস্থিত হয় না। নতুন পুরাতন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কিছু হয় না। শস্য কর্তন না করা পর্যন্ত নতুন শস্য জন্মায় না। সেই সব শিকড় চলে গেছে আমরা যাদের শাখা। মূল চলে গেলে শাখা কী করে থাকে ?

একটি সুন্নাহকে বর্জন না করা পর্যন্ত একটা বিদআত প্রচলিত হয় না। সুতরাং বিদআত থেকে দূরে থাক এবং প্রশস্ত পথে চলো। নিশ্চয়ই ,পুরাতন পরীক্ষিত পথ সর্বোত্তম এবং বিদআত মন্দ।

খোৎবা - ১৪৫

وَ قَدِ اسْتَشارَهُ عمر بن الخطاب فِي الشُخُوصِ لِقِتالِ الْفُرْسِ بِنَفْسِهِ

إِنَّ هَذا الْأَمْرَ لَمْ يَكُنْ نَصْرُهُ وَ لا خِذْلانُهُ بِكَثْرَةٍ وَ لا بِقِلَّةٍ. وَ هُوَ دِينُ اللَّهِ الَّذِى أَظْهَرَهُ، وَ جُنْدُهُ الَّذِى أَعَدَّهُ وَ أَمَدَّهُ، حَتّى بَلَغَ مَا بَلَغَ، وَ طَلَعَ حَيْثُما طَلَعَ؛ وَ نَحْنُ عَلى مَوْعُودٍ مِنَ اللَّهِ، وَاللَّهُ مُنْجِزٌ وَعْدَهُ، وَ ناصِرٌ جُنْدَهُ. وَ مَكانُ الْقَيِّمِ بِالْأَمْرِ مَكانُ النِّظامِ مِنَ الْخَرَزِ، يَجْمَعُهُ وَ يَضُمُّهُ، فَإِذَا انْقَطَعَ النِّظامُ تَفَرَّقَ وَ ذَهَبَ، ثُمَّ لَمْ يَجْتَمِعْ بِحَذافِيرِهِ أَبَداً. وَالْعَرَبُ الْيَوْمَ، وَ إِنْ كانُوا قَلِيلاً، فَهُمْ كَثِيرُونَ بِالْإِسْلامِ، عَزِيزُونَ بِالاجْتِماع، فَكُنْ قُطْباً، وَاسْتَدِرِ الرَّحى بِالْعَرَبِ، وَ أَصْلِهِمْ دُونَكَ نارَالْحَرْبِ، فَإِنَّكَ إِنْ شَخَصْتَ مِنْ هذِهِ الْأَرْضِ انْتَقَضَتْ عَلَيْكَ الْعَرَبُ مِنْ أَطْرافِها وَ أَقْطارِها حَتَّى يَكُونَ ما تَدَعُ وَرأَكَ مِنَالْعَوْراتِ أَهَمَّ إِلَيْكَ مِمّا بَيْنَ يَدَيْكَ.

إِنَّ الْأَعاجِمَ إِنْ يَنْظُرُوا إِلَيْكَ غَدا يَقُولُوا: هذا أَصْلُ(رجل) الْعَرَبِ، فَإِذَا اقْتَطَعْتُمُوهُ اسْتَرَحْتُمْ، فَيَكُونُ ذلِكَ أَشَدَّ لِكَلْبِهِمْ عَلَيْكَ، وَ طَمَعِهِمْ فِيكَ. فَأَمّا ما ذَكَرْتَ مِنْ مَسِيرِ الْقَوْمِ إِلى قِتالِ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنَّ اللَّهَ سُبْحانَهُ هُوَ أَكْرَهُ لِمَسِيرِهِمْ مِنْكَ، وَ هُوَ أَقْدَرُ عَلَى تَغْيِيرِ ما يَكْرَهُ. وَ أَمّا ما ذَكَرْتَ مِنْ عَدَدِهِمْ، فَإِنّا لَمْ نَكُنْ نُقاتِلُ فِيما مَضَى بِالْكَثْرَةِ، وَ إِنَّما كُنّا نُقاتِلُ بِالنَّصْرِ وَالْمَعُونَةِ!

পারস্যের যুদ্ধে স্বয়ং অংশগ্রহণ করার বিষয়ে খলিফা উমর পরামর্শ চাইলে আমিরুল মোমেনিন এ খোৎবা দিয়েছিলেন

সৈন্যসংখ্যা কম বা বেশির ওপর জয় - পরাজয় নির্ভর করে না। এটা আল্লাহর দ্বীন যা তিনি অন্য সকল ধর্মের ওপরে স্থান দিয়েছেন এবং তাঁর সৈন্যবাহিনীকে সুসংহত ও বর্ধিত করে বর্তমান অবস্থায় উন্নিত করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি প্রাপ্ত। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পরিপূর্ণ করবেন এবং তার বাহিনীকে সমর্থন করবেন। একজন সরকার প্রধানের অবস্থান হলো তসবীর সূতার মতো যা তসবীর দানাগুলোকে সুসংহত ও একত্রিত রাখে। যদি সূতা ছিড়ে যায় তবে দানাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে হারিয়ে যায়। আরবরা সংখ্যায় কম হলেও ইসলামের কারণে আজ অনেক বড় এবং ঐক্যের কারণে শক্তিশালী। তোমাকে তাদের কেন্দ্রীয় শলাকার মতো থাকতে হবে ও তাদের দ্বারা চাক্কি (সরকার) ঘুরাতে হবে এবং তাদের মূল হিসাবে কাজ করতে হবে। কাজেই যুদ্ধে যাওয়া তোমার পক্ষে ঠিক হবে না ,কারণ শত্রুপক্ষ রাজধানী শূন্য অবস্থায় পেলে তা দখল করার জন্য সবদিক থেকে আক্রমণ করবে। তারা তখন এগিয়ে যাওয়া সৈন্যের মোকাবেলা করা অপেক্ষা পিছনে ফেলে যাওয়া অরক্ষিত স্থানসমূহ দখল করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে।

পারস্যবাসীরা কাল তোমাকে দেখেই বলবে , এ লোকটি আরবের প্রধান। যদি আমরা তাকে খতম করতে পারি। তবেই আমরা শান্তিতে থাকতে পারবো। ” তাদের এহেন চিন্তা তোমাকে শেষ করার উচ্চাকাঙ্খা বাড়িয়ে দেবে এবং তুমি তাদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাবে। তুমি বল যে ,তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বেরিয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাদের পরিকল্পনা তোমার চেয়ে বেশি নস্যাৎ করে দিতে পারেন এবং তিনি যা নস্যাৎ করেন তা রক্ষা করার ক্ষমতা কারো নেই। তাদের সৈন্যসংখ্যার আধিক্য সম্বন্ধে তোমার অভিমত ঠিক নয়। অতীতে আমরা সৈন্যসংখ্যার আধিক্য চিন্তা করে যুদ্ধ করিনি আমরা আল্লাহর সহায়তা ও সমর্থন সম্বল করে যুদ্ধ করেছি।

____________________

১। কাদিসিয়্যা বা নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অংশ গ্রহণের জন্য কেউ কেউ খলিফা উমরকে পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি বিষয়টি নিয়ে আমিরুল মোমেনিনের সাথে পরামর্শ করা যথার্থ মনে করলেন। ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধে না যাবার জন্য তিনি খলিফাকে উপদেশ দিলেন। অন্যরা যুক্তি দেখিয়ে বলেছিল যে ,রাসূল (সা.) শুধু সৈন্য পাঠিয়ে যুদ্ধ করেননি। তিনি নিজের আত্মীয় - স্বজন নিয়ে নিজেও যুদ্ধে যেতেন। আমিরুল মোমেনিনের পরামর্শ চাওয়ার মূল কারণ হলো ,যদি তিনি যুদ্ধে যেতে বারণ করেন তবে খলিফা তার পরামর্শের ওজর জনগণের সম্মুখে উপস্থাপন করতে পারবেন এবং তিনি যুদ্ধে যেতে পরামর্শ দিলে অন্য কোন কারণ দেখিয়ে খলিফা বিরত থাকতেন। যাহোক ,আমিরুল মোমেনিন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে খলিফাকে যুদ্ধে যেতে বারণ করেছিলেন। আমিরুল মোমেনিনের দৃষ্টিতে যুদ্ধক্ষেত্রে খলিফা উমরের উপস্থিতি ইসলাম ও উম্মাহর তেমন কোন উপকারে আসবে না ;বরং রাজধানীতে তাঁর উপস্থিতি মুসলিমগণকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

“ সরকার প্রধান জাতির অক্ষরেখা যাকে কেন্দ্র করে সরকার চলে। ” - আমিরুল মোমেনিনের এ উক্তি স্বতঃসিদ্ধ। এটা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নীতিগত বিষয়। এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিত্বের বিশেষত্ব নয়। শাসক মুসলিম হোক আর অমুসলিমই হোক ,ন্যায়পরায়ণ হোক আর স্বৈরাচারীই হোক ,ধার্মিক হোক আর পাপাচারীই হোক - রাষ্ট্রের প্রশাসনের জন্য তার উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। ভালো হোক আর মন্দ হোক রাষ্ট্রের জন্য একজন শাসকের কোন বিকল্প নেই (খোৎবা - ৪০) ।

আমিরুল মোমেনিন তার উপদেশে যেসব কথা বলেছেন তা শুধু শাসক হিসাবে উমরের প্রতি প্রযোজ্য। এটা খলিফা উমরের বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব নির্দেশক নয়। এতে কোন সন্দেহ নেই যে ,রাষ্ট্র - ক্ষমতা খলিফা উমরের হাতে ছিল। এই রাষ্ট্র - ক্ষমতা ন্যায় কী অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়েছে তা অন্য বিষয়। কর্তৃত্ব বা প্রশাসনের ক্ষমতা যেখানে থাকে জনগণের ভালো - মন্দ কর্মকাণ্ডও সেখানে কেন্দ্রীভূত থাকে। ফলে জনগণ ক্ষমতাসীনদের কাছেই ঘোরে। সেই কারণে আমিরুল মোমেনিন বলেছিলেন যে ,যদি উমর বেরিয়ে পড়ে তবে বিপুল সংখ্যক লোক যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে চলে যাবে এবং তাতে নগরীর পর নগরী অরক্ষিত হয়ে পড়লে শত্রু অতি সহজে অন্য পথে এসে তা দখল করে নেবে। আবার ,যুদ্ধক্ষেত্রে যদি সরকার প্রধানের মৃত্যু ঘটে। তবে সৈন্যগণ স্বাভাবিকভাবেই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে ,কারণ সেনাবাহিনীর ভিত্তি হলো সরকার প্রধান। ভিত্ নড়ে গেলে দেয়াল দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। আসলুল আরবী (আরবের মূল প্রধান) শব্দটি কোন বিশেষত্ব প্রকাশক শব্দ হিসাবে আমিরুল মোমেনিন ব্যবহার করেননি। তিনি তা রাষ্ট্রপ্রধান ’ হিসাবে ব্যবহার করেছেন। নিশ্চয়ই ,রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে খলিফা উমর আরবের প্রধান ছিলেন।

(১৩৩ নং খোৎবায়ও দেখা যায়। আমিরুল মোমেনিন খলিফা উমরকে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না যাবার বিষয়ে উপদেশ দিয়েছিলেন । ১১৮ নং খোৎবায় তাঁর নিজের যুদ্ধে না যাবার বিষয়ে যুক্তি প্রদর্শন করেছিলেন । এগুলো তাঁর রাষ্ট্র প্রশাসন ও যুদ্ধকৌশল সংক্রান্ত গভীর প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে । মূলত শুধু খলিফা উমর নয় অন্য খলিফাগণও কখনো বিচারের কঠিন সমস্যায় ,কখনো প্রশাসনের সমস্যায় ,কখনো দ্বীনি বিষয়ক সমস্যায় ,কখনো যুদ্ধ বিষয়ক সমস্যায় পতিত হলেই আমিরুল মোমেনিনের কাছে উপদেশ চাইতেন । তিনি নির্দ্বিধায় তাদেরকে সৎ ও সঠিক পরামর্শ দিতেন । তাঁর এহেন পরামর্শের সূত্র ধরে অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে ,খেলাফত বিষয়ে আমিরুল মোমেনিনের কোন মতদ্বৈধতা বা কোন দুঃখ ছিল না । তিনি অন্যদের খেলাফতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করতেন ।

তাদের এ ধারণা সঠিক নয় । অন্য খলিফাত্রয়ের তুলনায় আমিরুল মোমেনিন অনেক বেশি জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন । না হয় তিনি জ্ঞান - নগরীর দুয়ার ” হবেন কেন ? এবং সে দুয়ারে সকলকেই যেতে হয় । অপরপক্ষে ,শত্রু - মিত্র নির্বিশেষে যে কেউ পরামর্শ চায় তাকে সৎ ও সঠিক পরামর্শ দেয়া তাঁর সহজাত নীতি । এটা রাসূলের আখলাক । ঘোরতর শত্রু আবু জেহেল ,আবু সুফিয়ানদের কাছেও রাসূল (সা.) আল - আমীন ” ছিলেন । এটা বিশ্বস্ততার প্রতীক । কাজেই বিরোধী লোককেও সৎপরামর্শ দেয়া বিশ্বস্ততার প্রতীক । খোৎবা নং ১১৮ ,১৩৩ ও ১৪৫ একত্রে পড়লে দেখা যাবে আমিরুল মোমেনিন নিজের জন্য যে মত পোষণ করতেন উমরের বেলায়ও একই মত পোষণ করেছেন । এসব পরামর্শের সূত্র ধরে খেলাফত বিষয়ে আমিরুল মোমেনিনের ঐকমত্য সাব্যস্ত করা সঠিক হবে না । এ বিষয়ে বিশদ গবেষণার অবকাশ রয়েছে। এ গবেষণার জন্য গাদীরে খুমে ১৪ জিলহজ্জে (বিদায় হজ্জের পর) রাসূলের ভাষণ ,তার পরবর্তী একাশি দিনের ঘটনা প্রবাহ ,রাসূল (সা.) মৃত্যু শয্যায় থাকাকালের ঘটনাবলী রাষ্ট্রায়িত্বকরণসহ অন্যান্য ঘটনাবলী ,উমরের সময়ের ঘটনাবলী ,ফাতিমার মৃত্যুর ঘটনাবলী পর্যালোচনা করতে হবে - বাংলা অনুবাদক)

খোৎবা - ১৪৬

الغایة من بعثة النبیصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم

فَبَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّداصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم ، بِالْحَقِّ لِيُخْرِجَ عِبادَهُ مِنْ عِبَادَةِ الْأَوْثانِ إِلى عِبادَتِهِ، وَ مِنْ طاعَةِ الشَّيْطانِ إِلى طاعَتِهِ، بِقُرْآنٍ قَدْ بَيَّنَهُ وَ أَحْكَمَهُ، لِيَعْلَمَ الْعِبادُ رَبَّهُمْ إِذْ جَهِلُوهُ، وَ لِيُقِرُّوا بِهِ بَعْدَ إِذْ جَحَدُوهُ، وَ لِيُثْبِتُوهُ بَعْدَ إِذْ أَنْكَرُوهُ، فَتَجَلَّى لَهُمْسُبْحانَهُ فِي كِتابِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونُوا رَأَوْهُ بِما أَراهُمْ مِنْ قُدْرَتِهِ، وَخَوَّفَهُمْ مِنْ سَطْوَتِهِ، وَ كَيْفَ مَحَقَ مَنْ مَحَقَ بِالْمَثُلاتِ. وَاحْتَصَدَ مَنِاحْتَصَدَ بِالنَّقِماتِ.

الإخبار عن المستقبل

وَ إِنَّهُ سَيَأْتِى عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِي زَمانٌ لَيْسَ فِيهِ شَىْءٌ أَخْفَى مِنَ الْحَقِّ، وَ لا أَظْهَرَ مِنَالْباطِلِ، وَ لا أَكْثَرَ مِنَالْكَذِبِ عَلى اللَّهِ وَ رَسُولِهِ، وَ لَيْسَ عِنْدَ أَهْلِ ذلِكَ الزَّمَانِ سِلْعَةٌ أَبْوَرَ مِنَ الْكِتابِ إِذا تُلِىَ حَقَّ تِلاوَتِهِ، وَ لا أَنْفَقَ مِنْهُ إِذا حُرِّفَ عَنْ مَواضِعِهِ. وَ لا فِي الْبِلادِ شَىْءٌ أَنْكَرَ مِنَ الْمَعْرُوفِ، وَ لا أَعْرَفَ مِنَ الْمُنْكَرِ! فَقَدْ نَبَذَ الْكِتابَ حَمَلَتُهُ، وَ تَناساهُ، حَفَظَتُهُ، فَالْكِتابُ يَوْمَئِذٍ وَ أَهْلُهُ مَنْفِيّانِ طَرِيدانِ، وَ صاحِبانِ مُصْطَحِبانِ فِي طَرِيقٍ واحِدٍ لا يُؤْوِيهِما مُؤْوٍ. فَالْكِتابُ وَ أَهْلُهُ فِى ذلِكَ الزَّمانِ فِي النّاسِ وَلَيْسا فِيهِمْ، وَ مَعَهُمْ! وَلَيْسا مَعَهُمْ، لِأَنَّ الضَّلالَةَ لا تُوافِقُ الْهُدى، وَ إِنِ اجْتَمَعا. فَاجْتَمَعَ الْقَوْمُ عَلَى الْفُرْقَةِ وَ افْتَرَقُوا عَنِ الْجَماعَةِ، كَأَنَّهُمْ أَئِمَّةُ الْكِتابِ وَ لَيْسَ الْكِتابُ إِمامَهُمْ، فَلَمْ يَبْقَ عِنْدَهُمْ مِنْهُ إِلا اسْمُهُ، وَ لا يَعْرِفُونَ إِلاّ خَطَّهُ وَزَبْرَهُ. وَ مِنْ قَبْلُ ما مَثَّلُوا بِالصّالِحِينَ كُلَّ مُثْلَةٍ، وَسَمَّوْا صِدْقَهُمْ عَلَى اللَّهِ فِرْيَةً، وَجَعَلُوا فِي الْحَسَنَةِ الْعُقُوبَةَ السَّيِّئَةِ. وَ إِنَّما هَلَكَ مَنْ كانَ قَبْلَكُمْ بِطُولِ آمالِهِمْ، وَ تَغَيُّبِ آجالِهِمْ، حَتَّى نَزَلَ بِهِمُ الْمَوْعُودُ الَّذِي تُرَدُّ عَنْهُ الْمَعْذِرَةُ، وَ تُرْفَعُ عَنْهُ التَّوْبَةُ، وَ تَحُلُّ مَعَهُ الْقارِعَةُ وَالنِّقْمَةُ.

خصوصیات اهل البیتعليهم‌السلام

أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّهُ مَنِ اسْتَنْصَحَ اللَّهَ وُفِّقَ، وَمَنِ اتَّخَذَ قَوْلَهُ دَلِيلاً هُدِى«لِلَّتِي هِيَ أَقُومُ» ؛ فإِنَّ جارَ اللَّهِ آمِنٌ، وَ عَدُوَّهُ خَائِفٌ؛ وَ إِنَّهُ لا يَنْبَغِى لِمَنْ عَرَفَ عَظَمَةَ اللَّهِ أَنْ يَتَعَظَّمَ، فَإِنَّ رِفْعَةَ الَّذِينَ يَعْلَمُونَ ما عَظَمَتُهُ أَنْ يَتَواضَعُوا لَهُ، وَ سَلامَةَ الَّذِينَ يَعْلَمُونَ ما قُدْرَتُهُ أَنْ يَسْتَسْلِمُوا لَهُ، فَلا تَنْفِرُوا مِنَ الْحَقِّ نِفارَ الصَّحِيحِ مِنَ الْأَجْرَبِ، وَالْبارِئِ مِنْ ذِى السَّقَمِ. وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ لَنْ تَعْرِفُوا الرُّشْدَ حَتَّى تَعْرِفُوا الَّذِى تَرَكَهُ، وَ لَنْ تَأْخُذُوا بِمِيثاقِ الْكِتابِ حَتَّى تَعْرِفُوا الَّذِى نَقَضَهُ، وَ لَنْ تَمَسَّكُوا بِهِ حَتَّى تَعْرِفُوا الَّذِى نَبَذَهُ.

فَالْتَمِسُوا ذلِكَ مِنْ عِنْدِ أَهْلِهِ، فَإِنَّهُمْ عَيْشُ الْعِلْمِ، وَ مَوْتُ الْجَهْلِ. هُمُ الَّذِينَ يُخْبِرُكُمْ حُكْمُهُمْ عَنْ عِلْمِهِمْ، وَصَمْتُهُمْ عَنْ مَنْطِقِهِمْ، وَ ظاهِرُهُمْ عَنْ باطِنِهِمْ؛ لا يُخالِفُونَ الدِّينَ، وَ لا يَخْتَلِفُونَ فِيهِ، فَهُوَ بَيْنَهُمْ شاهِدٌ صادِقٌ، وَ صامِتٌ ناطِقٌ.

রাসূল (সা.) - কে প্রেরণের উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ এবং আহলে বাইত সম্পর্কে

আল্লাহ মুহাম্মদকে (সা.) সত্য সহকারে প্রেরণ করেছিলেন যাতে তিনি মানুষকে মূর্তি পূজা থেকে আল্লাহর ইবাদত এবং শয়তানের আনুগত্য থেকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। তিনি তাকে কুরআনসহ প্রেরণ করেছেন যা তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং মজবুত করেছিলেন যাতে মানুষ তাদের রবকে জানতে পারে যেহেতু তারা তার সম্বন্ধে অজ্ঞ ;যাতে তারা তাকে স্বীকার করে যেহেতু তারা তাঁকে অস্বীকার করেছিলো ;যাতে তারা তাঁকে গ্রহণ করে যেহেতু তারা তাঁকে পরিত্যাগ করেছিলো। মহিমান্বিত আল্লাহ কুরআনের প্রত্যাদেশের মাধ্যমে তার কুদরত তাদেরকে দেখিয়ে দিলেন এবং তার শাস্তির ভয় তাদেরকে বুঝিয়ে দিলেন (যদিও তারা তাকে দেখতে পায়নি) । যাদেরকে ইহকালে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন তাদেরকে কিভাবে তার শাস্তির মাধ্যমে ধ্বংস করেছিলেন এবং যা তিনি বিনষ্ট করতে চেয়েছিলেন তা কিভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছিলেন - এসব কিছু কুরআনের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে

নিশ্চয়ই ,আমার পরে এমন এক সময় আসবে যখন ন্যায়পরায়ণতার চেয়ে অধিক গোপনীয় আর কিছু হবে না ,অন্যায়ের চেয়ে প্রকাশ্য আর কিছু হবে না এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের (সা.) বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার চেয়ে অধিক প্রবাহমান আর কিছু হবে না। এ সময়কার মানুষের কাছে কুরআন অপেক্ষা মূল্যহীন আর কিছু হবে না ;তারা আবৃত্তির কারণে কুরআন আবৃত্তি করবে। কুরআনকে তার অবস্থান থেকে সরিয়ে ফেলা অপেক্ষা মূল্যবান কাজ তাদের কাছে আর কিছু থাকবে না । (অর্থাৎ কুরআনের প্রকৃত দর্শন থেকে দূরে সরে যাওয়া) । শহরগুলোতে ধার্মিকতা অপেক্ষা বেশি ঘৃণিত আর কিছু থাকবে না এবং পাপ অপেক্ষা বেশি গ্রহণীয় আর কিছু থাকবে না। (সেই সময়) কুরআন যাদের কাছে থাকবে তারা তা ছুড়ে ফেলে দেবে এবং হাফিজগণ তা ভুলে যাবে। এসময়ে কুরআন ও এর লোকেরা (অনুসারী) বিতাড়িত ও নির্বাসিত হবে। তারা একই পথে থেকে একে অপরের সঙ্গী হবে কিন্তু কেউ তাদেরকে আশ্রয় দেবে না। ফলে এ সময় কুরআন ও এর লোকেরা (অনুসারী) জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে ,কারণ গোমরাহি কখনো হেদায়েতের সাথে থাকতে পারে না। মানুষ বিভিন্ন মতাবলম্বী দলে বিভক্ত হয়ে দলবদ্ধ হবে এবং তারা সমাজবদ্ধতা থেকে কেটে পড়বে। মনে হবে যেন তারা কুরআনের নেতা হয়ে গেছে ,কুরআন তাদের নেতা নয়। কুরআনের নাম ছাড়া আর কোন কিছুই তাদের কাছে থাকবে না এবং তারা কুরআনের বর্ণমালা ছাড়া আর কিছুই জানবে না। তৎপূর্বে তারা ধার্মিকগণের ওপর নানা প্রকার বিপদ আপতিত করবে ,আল্লাহ সম্পর্কে ধার্মিকগণের সত্য অভিমতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে এবং ধার্মিকতার জন্য পাপের শাস্তি আরোপ করবে। যারা তোমাদের পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছে ,অশেষ কামনা - বাসনা ও মৃত্যুকে ভুলে থাকার কারণে তাদের সকল ওজর প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ,তওবা অগ্রাহ্য হয়েছে এবং তারা শাস্তি ভোগ করে প্রতিদান পাচ্ছে।

আহলে বাইত সম্পর্কে

হে লোকসকল ,যারা আল্লাহর কাছে উপদেশ চায় তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত হয় এবং যারা তার বাণীকে দেশনা হিসাবে গ্রহণ করে তারা সিরাতুল মুস্তাকিমে প্রতিষ্ঠিত হয় ,কারণ আল্লাহর প্রেমিকগণ নিরাপত্তার মধ্যে থাকে এবং তাঁর বিরোধীরা ভীতির মধ্যে থাকে। যারা আল্লাহর মহত্ত্ব সম্বন্ধে জানে তারা নিজেকে অতিক্ষুদ্র মনে করে। যারা আল্লাহর মহত্ত্ব ও কুদরত সম্বন্ধে জানে তাদের মহত্ত্ব আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্যেই প্রকাশ পায়। তোমরা সত্য থেকে এমনভাবে দূরে সরে যেয়োনা যেমন করে সুস্থলোক কুণ্ঠ রোগীর কাছ থেকে সরে পড়ে।

জেনে রাখো ,তোমরা কখনো হেদায়েতের দিশা পাবে না। যদি তোমরা হেদায়েত পরিত্যাগকারীকে না চেন। তোমরা কখনো কুরআনের অঙ্গীকার মেনে চলতে পারবে না। যদি তোমরা তা ভঙ্গকারীদের না চেন। তোমরা কখনো কুরআনের সঙ্গে লেগে থাকতে পারবে না। যদি তোমরা তা বর্জনকারীকে না চেন। এসব বিষয় তাদের কাছে অনুসন্ধান কর যারা এগুলোর স্বত্বাধিকারী ,কারণ তারা হলো জ্ঞানের জীবনঝরনা ও অজ্ঞতার মৃত্যু। তারা সেসব লোক যাদের আদেশ তোমাদের কাছে তাদের জ্ঞানের পরিধি প্রকাশ করবে ,তাদের নীরবতা বাকশক্তি ব্যক্ত করবে এবং তাদের জাহেরি অবস্থা তাদের বাতেনের বহিঃপ্রকাশ করবে। তারা কখনো দ্বীনের বিরোধিতা করে না এবং দ্বীন সম্বন্ধে একে অপরের সাথে মতদ্বৈধতা করে না। তাদের মধ্যে দ্বীন হলো একটা সত্যবাদী সাক্ষী ও নীরব বক্তা।

খোৎবা - ১৪৭

كُلُّ واحِدٍ مِنْهُما يَرْجُو الْأَمْرَ لَهُ، وَ يَعْطِفُهُ عَلَيْهِ دُونَ صاحِبِهِ، لا يَمُتّانِ إِلَى اللَّهِ بِحَبْلٍ، وَ لا يَمُدَّانِ إِلَيْهِ بِسَبَبٍ.كُلُّ واحِدٍ مِنْهُما حامِلُ ضَبِّ لِصاحِبِهِ، وَ عَمّا قَلِيلٍ يَكْشِفُ قِناعُهُ بِهِ! وَاللَّهِ لَئِنْ أَصابُوا الَّذِي يُرِيدُونَ لَيَنْتَزِعَنَّ هَذا نَفْسَ هَذا، وَلَيَأْتِيَنَّ هَذا عَلَى هَذا. قَدْ قامَتِ الْفِئَةُ الْباغِيَةُ، فَأَيْنَ الْمُحْتَسِبُونَ! قَدْ سُنَّتَ لَهُمُ السُّنَنُ، وَ قُدِّمَ لَهُمُ الْخَبَرُ. وَ لِكُلِّ ضَلَّةٍ عِلَّةٌ، وَلِكُلِّ ناكِثٍ شُبْهَةٌ. وَاللَّهِ لا أَكُونُ كَمُسْتَمِعِ اللَّدْمِ، يَسْمَعُ النّاعِيَ، وَ يَحْضُرُ الْباكِيَ ثُمَّ لا يَعْتَبِرُ!.

তালহা , জুবায়ের ও বসরার জনগণ সম্পর্কে

এ দুজনের প্রত্যেকেই (তালহা ও জুবায়ের) নিজের জন্য খেলাফতের আকাঙ্খা পোষণ করে এবং দুজনেই জনগণকে নিজের দিকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করছে। তারা আল্লাহর নিকট্য প্রাপ্তির কোন পথ অবলম্বন করেনি এবং তার দিকে অগ্রসর হবার কোন উপায়ও করেনি। তারা উভয়ে একে অপরের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে। সহসাই এ বিষয়ের ওপর তাদের পরানো ঘোমটা খুলে যাবে। আল্লাহর কসম ,যদি তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে তবে একজন অপরজনকে হত্যা করবে এবং একজন অপরজনকে সদলে নির্মূল করবে। বিদ্রোহী দল গজিয়ে উঠেছে। কোথায় সদগুণ সন্ধানীগণ ;কারণ সৎপথ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাদেরকে এ সংবাদও দেয়া হয়েছে। প্রতিটি গোমরাহির জন্য কারণ রয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য মিথ্যা ওজর রয়েছে। আল্লাহর কসম ,আমি সেই ব্যক্তির মতো হবো না ,যে শোকাকুল মানুষের কণ্ঠস্বর শোনে ,মৃত্যুর সংবাদ বহনকারীর কথা শোনে এবং শোককারীর সাক্ষাত করে। অথচ তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না ।

খোৎবা - ১৪৮

أَيُّهَا النَّاسُ، كُلُّ امْرِئٍ لاقٍ ما يَفِرُّ مِنْهُ فِي فِرارِهِ. وَالْأَجَلُ مَساقُ النَّفْسِ، وَالْهَرَبُ مِنْهُ مُوافاتُهُ. كَمْ أَطْرَدْتُ الْأَيّامَ أَبْحَثُها عَنْ مَكْنُونِ هَذا الْأَمْرِ فَأَبَى اللَّهُ إِلا إِخْفَأَهُ. هَيْهاتَ! عِلْمٌ مَخْزُونٌ!

وصایا امیر المؤمنینعليه‌السلام

أَمّا وَصِيَّتِي: فَاللَّهَ لا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئا، وَ مُحَمَّداًصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَلا تُضَيِّعُوا سُنَّتَهُ. أَقِيمُوا هَذَيْنِ الْعَمُودَيْنِ، وَأَوْقِدُوا هَذَيْنِ الْمِصْباحَيْنِ، وَ خَلاكُمْ ذَمُّ مَا لَمْ تَشْرُدُوا. حَمَلَ كُلُّ امْرِئٍ مِنْكُمْ مَجْهُودَهُ، وَ خُفَّفَ عَنِ الْجَهَلَةِ رَبُّ رَحِيمٌ، وَدِينٌ قَوِيمٌ، وَ إِمامٌ عَلِيمٌ. أَنَا بِالْأَمْسِ صاحِبُكُمْ، وَ أَنَا الْيَوْمَ عِبْرَةٌ لَكُمْ، وَ غَدا مُفارِقُكُمْ! غَفَرَاللَّهُ لِي وَلَكُمْ! إِنْ تَثْبُتِ الْوَطْأَةُ فِي هَذِهِ الْمَزَلَّةِ فَذاكَ، وَ إِنْ تَدْحَضِ الْقَدَمُ فَإِنّا كُنّا فِي أَفْيأِ أَغْصانٍ، وَ مَهابِّ رِياحٍ، وَ تَحْتَ ظِلِّ غَمامٍ، اضْمَحَلَّ فِي الْجَوِّ مُتَلَفَّقُها، وَ عَفا فِي الْأَرْضِ مَخَطُّها. وَ إِنَّما كُنْتُ جاراً جاوَرَكُمْ بَدَنِي أَيَّاماً، وَسَتُعْقَبُونَ مِنِّي جُثَّةً خَلاءً، ساكِنَةً بَعْدَ حَراكٍ، وَ صامِتَةً بَعْدَ نُطوقٍ. لِيَعِظْكُمْ هُدُوِّى وَ خُفُوتُ إِطْراقِي وَ سُكُونُ أَطْرافِى، فَإِنَّهُ أَوْعَظُ لِلْمُعْتَبِرِينَ مِنَ الْمَنْطِقِ الْبَلِيغِ وَالْقَوْلِ الْمَسْمُوعِ، وَداعِي لَكُمْ وَداعُ امْریءٍ مُرْصِدٍ لِلتَّلاقِى! غَدا تَرَوْنَ أَيّامِى، وَ يُكْشَفُ لَكُمْ عَنْ سَرائِرِى، وَ تَعْرِفُونَنِى بَعْدَ خُلُوِّ مَكانِى، وَ قِيامِ غَيْرِى مَقامِى.

মৃত্যুর পূর্বক্ষণে প্রদত্ত ভাষণ

হে লোকসকল ,প্রত্যেক ব্যক্তিই তার সাক্ষাত পাবে যা সে দৌড়ে পালিয়ে এড়িয়ে যেতে চায় (অর্থাৎ প্রত্যেকের মৃত্যু ঘটবে) । মৃত্যু এমন এক স্থান যেদিকে জীবন তাড়িত হচ্ছে। এর হাত থেকে দৌড়ে পালানো মানেই একে আঁকড়ে ধরা। এ বিষয়ের গুপ্ত রহস্য অনুসন্ধান করার জন্য কত দিনই না। আমি কাটিয়েছি ,কিন্তু আল্লাহ এ রহস্য উদঘাটনের অনুমতি দেননি। আহা! এটা হলো একটা সংরক্ষিত গুপ্ত জ্ঞান।

হযরত আলী (আ.) এর ওসিয়ত

তোমাদের প্রতি আমার শেষ ওসিয়ত হলো আল্লাহ সম্বন্ধে ,তার কোন অংশীদার আছে বলে বিশ্বাস করো না এবং মুহাম্মদ (সা.) সম্বন্ধে আমার ওসিয়ত হলো তার সুন্নাহর প্রতি কোনরূপ অশ্রদ্ধা ও অবহেলা প্রদর্শন করো না। এ দুটি স্তম্ভকে ধরে রেখো এবং এ দুটি বাতি জ্বলিয়ে দিও। এ দুটো থেকে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত কোন পাপ তোমাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না। তোমাদের প্রত্যেককেই তার নিজের (পাপের) বোঝা বহন করতে হবে। অজ্ঞদের জন্য এ বোঝা হালকা করা হয়েছে। আল্লাহ পরম দয়ালু। ইমান সহজ সরল। রাসূল (সা.) জ্ঞানের আধার। গতকাল আমি তোমাদের সাথী ছিলাম। আজ আমি তোমাদের জন্য শিক্ষা গ্রহণের বিষয়বস্তু হয়েছি। এবং আগামীকাল আমি তোমাদেরকে পরিত্যাগ করবো। আল্লাহ আমাকে ও তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। এ পিচ্ছিল স্থানে যদি পা সুদৃঢ় রাখতে পার তবেই উত্তম। কিন্তু পা যদি ফসকে যায়। তবেই সর্বনাশ । এ পদস্থলনের কারণ হলো শাখার ছায়া তলে না থাকা বাতাসের প্রবাহ ও মেঘের শামিয়ানার স্তর অনেক উর্ধ - আকাশে যার চিহ্নমাত্রও এ পৃথিবীতে দেখা যায় না। আমি তোমাদের প্রতিবেশী ছিলাম। আমার দেহ কিছুদিন তোমাদের সঙ্গী ছিল এবং সহসাই তোমরা আমার চলমান দেহকে স্থির ,নিশ্চল ও শূন্য অবস্থায় দেখতে পাবে। এ ভাষণের পর আমি নিশ্চুপ হয়ে যাব। সুতরাং আমার এ নীরবতা ,মুদ্রিত চক্ষু ,অঙ্গ - প্রত্যঙ্গের নিশ্চলতা ও দেহের অসাড়তা তোমাদের জন্য উপদেশ যোগাবে ,কারণ যারা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের জন্য এর চেয়ে বড় কোন উপদেশ আর হতে পারে না। আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রস্থান করে এমন একজনের কাছে যাচ্ছি। যার সাক্ষাতের জন্য আমি অধিক আগ্রহী। আগামীকাল তোমরা আমার দিনগুলোর (জীবনের কর্মকান্ডের) প্রতি লক্ষ্য করে দেখবে তখন আমার বাতেন তোমাদের কাছে প্রকাশ পাবে। আমার স্থান শূন্য হবার পর সেখানে অন্য কেউ অধিষ্ঠিত হলে তোমরা আমাকে বুঝতে পারবে।

খোৎবা - ১৪৯

وَأَخَذُوا يَمِيناً وَ شِمَالاً ظَعْناً فِي مَسَالِكِ الْغَيِّ، وَ تَرْكاً لِمَذَاهِبِ الرُّشْدِ. فَلاَ تَسْتَعْجِلُوا مَا هُوَ كَائِنٌ مُرْصَدٌ، وَ لاَ تَسْتَبْطِئُوا مَا يَجِي ءُ بِهِ الْغَدُ. فَكَمْ مِنْ مُسْتَعْجِلٍ بِمَا إِنْ أَدْرَكَهُ وَدَّ أَنَّهُ لَمْ يُدْرِكْهُ. وَ مَا أَقْرَبَ الْيَوْمَ مِنْ تَبَاشِيرِ غَدٍ! يَا قَوْمِ هَذَا إِبَّانُ وُرُودِ كُلِّ مَوْعُودٍ، وَ دُنُوُّ مِنْ طَلْعَةِ مَا لاَ تَعْرِفُونَ.

أَلاَ وَإِنَّ مَنْ أَدْرَكَهَا مِنَّا يَسْرِي فِيهَا بِسِرَاجٍ مُنِيرٍ، وَ يَحْذُو فِيهَا عَلَى مِثَالِ الصَّالِحِينَ، لِيَحُلَّ فِيهَا رِبْقا وَ يُعْتِقَ فِيهَا رِقّاً، وَ يَصْدَعَ شَعْباً، وَ يَشْعَبَ صَدْعاً. فِي سُتْرَةٍ عَنِ النَّاسِ لاَ يُبْصِرُ الْقَائِفُ أَثَرَهُ وَ لَوْ تَابَعَ نَظَرَهُ. ثُمَّ لَيُشْحَذَنَّ فِيهَا قَوْمٌ شَحْذَ الْقَيْنِ النَّصْلَ. تُجْلَى بِالتَّنْزِيلِ أَبْصَارُهُمْ، وَ يُرْمَى بِالتَّفْسِيرِ فِي مَسَامِعِهِمْ، وَ يُغْبَقُونَ كَأْسَ الْحِكْمَةِ بَعْدَ الصَّبُوحِ!.

وَ طَالَ الْأَمَدُ بِهِمْ لِيَسْتَكْمِلُوا الْخِزْيَ، وَ يَسْتَوْجِبُوا الْغِيَرَ؛ حَتَّى إِذَا اخْلَوْلَقَ الْأَجَلُ، وَاسْتَرَاحَ قَوْمٌ إِلَى الْفِتَنِ، وَاشْتَالُوا عَنْ لَقَاحِ حَرْبِهِمْ، لَمْ يَمُنُّوا عَلَى اللَّهِ بِالصَّبْرِ، وَ لَمْ يَسْتَعْظِمُوا بَذْلَ أَنْفُسِهِمْ فِي حَقِّ؛ حَتَّى إِذَا وَافَقَ وَارِدُ الْقَضَأِ انْقِطَاعَ مُدَّةِ الْبَلاَءِ، حَمَلُوا بَصَائِرَهُمْ عَلَى أَسْيَافِهِمْ، وَ دَانُوا لِرَبِّهِمْ بِأَمْرِ وَاعِظِهِمْ.

حَتَّى إِذَا قَبَضَ اللَّهُ رَسُولَهُصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم رَجَعَ قَوْمٌ عَلَى الْأَعْقَابِ، وَغَالَتْهُمُ السُّبُلُ، وَاتَّكَلُوا عَلَى الْوَلاَئِجِ، وَ وَصَلُوا غَيْرَ الرَّحِمِ، وَ هَجَرُوا السَّبَبَ الَّذِي أُمِرُوا بِمَوَدَّتِهِ، وَ نَقَلُوا الْبِنَأَ عَنْ رَصِّ أَسَاسِهِ، فَبَنَوْهُ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ. مَعَادِنُ كُلِّ خَطِيئَةٍ، وَ أَبْوَابُ كُلِّ ضَارِبٍ، فِي غَمْرَةٍ. قَدْ مَارُوا فِي الْحَيْرَةِ، وَ ذَهَلُوا فِي السَّكْرَةِ، عَلَى سُنَّةٍ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ: مِنْ مُنْقَطِعٍ إِلَى الدُّنْيَا رَاكِنٍ، أَوْ مُفَارِقٍ لِلدِّينِ مُبَايِنٍ.

ভবিষ্যৎ ঘটনাবলী ও মোনাফিকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে

তারা ডানে ও বামে তাকিয়ে প্রবলবেগে পাপের পথে প্রবেশ করে এবং হেদায়েতের পথ পরিত্যাগ করে। যা কিছু ঘটতে যাচ্ছে বা ঘটার অপেক্ষায় আছে তার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করো না এবং আগামীকাল তোমাদের জন্য যা কিছু বয়ে নিয়ে আসবে তা বিলম্বিত করার আশা পোষণ করো না। কারণ অনেক লোক কোন কিছু দ্রুত ঘটার জন্য তাড়াহুড়া করে ,কিন্তু যখন তা ঘটে যায় তখন তারা বলে এটা না ঘটা তো ভালো ছিল। আজকের দিন আগামীকাল প্রত্যুষের কত নিকটবর্তী । হে লোকসকল ,প্রতিটি প্রতিশ্রুত ঘটনা ঘটার সময় এটাই এবং প্রতিটি বিষয়ের উপস্থিতির সময় এটাই যা তোমরা জান না।

আমাদের মধ্য থেকে যে কেউ সেই দিনগুলোতে থাকবে সে প্রদীপ্ত প্রদীপ নিয়ে জনগণের মধ্যে চলাফেরা করবে এবং ধার্মিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে যাতে গেরো খুলে যায় ,ঝগড়া - বিবাদ ভুলে যায় ,(অন্যায়ে) ঐক্যবদ্ধগণ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং (ন্যায়ের পথে) বিচ্ছিন্নগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। সে জনগণ থেকে গোপন থাকবে। সদম্ভ অনুসন্ধানকারীগণ তাদের তীক্ষ দৃষ্টি নিয়ে পশ্চাদ্ধাবন করেও তার পদচিহ্ন দেখতে পাবে না। এরপর একদল লোক এমনভাবে (জ্ঞানে) সূতীক্ষ হয়ে ওঠবে যেমন করে কামার তরবারি ধারালো করে। তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রত্যাদেশ দ্বারা সমুজ্জ্বল হবে ,(সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম) ব্যাখ্যা তাদের কানে ধ্বনিত হবে এবং সকাল - সন্ধ্যায় তাদেরকে জ্ঞানের পানীয় দেয়া হবে।

তাদের সময় দীর্ঘায়িত হয়েছিল এজন্য যে ,তারা যেন অমর্যাদাকর অবস্থা পরিসমাপ্ত করতে পারে এবং তারা যেরূপ উত্থান - পতন বা ভাগ্য বিপর্যয়ের উপযুক্ত তদ্রুপ সময় যেন উপস্থিত হয় ;এ সময়ের শেষ ভাগে একদল লোক ফেতনা - ফ্যাসাদের দিকে ঝুকে পড়ে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। ধার্মিকগণ আল্লাহর প্রতি কোন দায় - দায়িত্ব দেখায় নি কিন্তু নীরবে সবকিছু সহ্য করেছিল এবং নিজেদেরকে সত্যবাদিতার প্রতি ঐকান্তিকভাবে নিয়োজিত রাখার জন্য উল্লসিত হয়ে পড়েনি। পরিণামে পূর্ব নির্ধারণ অনুসারে পরীক্ষার সময় শেষ হয়ে গেল। তারপর তারা তাদের মতামত অন্যদের কাছে প্রচার করলো এবং তাদের নেতার আদেশানুযায়ী আল্লাহর নৈকট্য অনুসন্ধান করলো।

যখন আল্লাহ রাসূলকে (সা.) নিজের কাছে নিয়ে গেলেন তখন একদল লোক তাদের পুরানো পথে ফিরে গিয়েছিলো। গোমরাহির পথ তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিলো এবং তারা গোপন চক্রান্তকারীদের প্রতারণাপূর্ণ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো। তারা আত্মীয় - স্বজন অপেক্ষা অন্যদের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছিল এবং যাদেরকে ভালোবাসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল সেসব জ্ঞাতিকে পরিত্যাগ করেছিল। তারা ইমারতকে তার শক্তিশালী ভিত্তি থেকে সরিয়ে নিয়ে অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপন করেছিল। তারা সকল ত্রুটি - বিচূতির উৎসমূল এবং তারা ছিল অন্ধকারে দরজা হাতড়ানোওয়ালা। তারা প্রচণ্ড বিস্ময়ে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করছিলো এবং ফেরাউনের লোকদের মতো মদমত্ত হয়েছিলো। তারা দুনিয়ার দিকে ঝুকে পড়েছিল এবং এর ওপর নির্ভর করছিলো। তারা ইমান থেকে দূরে সরে গিয়েছিলো এবং ইমানকে সরিয়ে দিয়েছিলো ।