নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 48178
ডাউনলোড: 2249

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 48178 / ডাউনলোড: 2249
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

খোৎবা - ১৮৭

أوصِيکُم، أيُّها النَّاس، بِتَقوَي اللهِ وَ کَثرَةِ حَمدِهِ عَلَي آلائِهِ إلَيکُم، وَ نَعمائِهِ عَلَيکُم، وَ بَلائِهِ لَدَيکُم. فَکَم خَصَّکُم بِنِعمَةٍ، و تَدارَکَکُم بِرَحمَهٍ! أعوَرتُم لَهُ فَسَتَرَکُم، و تَعَرَّضتُم لِأخذِهِ فَأمهَلَکُم!

أوصِيکُم بِذِکرِ المَوتِ و إقلالِ الغَفلَةِ عَنهُ. وَ کَيفَ غَفلَتُکُم عَمَّا لَيسَ يُغفِلُکُم، وَطَمَعُکُم فِيمَن لَيسَ يُمهِلُکُم! فَکَفَي واعِظاً بِموتَي عايَنتُمُوهُم، حُمِلُوا الي قُبُورِهِم غَيرَ راکِبِينَ، و اُنزِلُوا فِيها غَيرَ نازِلِينَ، فَکَأنَّهُم لَم يَکُونُوا للدُّنيا عُمَّاراً، و کَأنًّ الاخِرَةَ لَم تَزَل لَهُم داراً. أوحَشُوا ما کانُوا يُوطِنُونَ، وَ أوطَنُوا ما کانُوا يُوحِشُونَ، واشتَغَلُوا بِما فارَقُوا، و أضاعُوا ما إلَيهِ انتَقَلُوا. لا عَن قَبِيح يَستَطِيعُونَ انتِقالاً، و لا في حَسَنٍ يَستَطِيعُون ازدِياداً. أنِسُوا بِالدُّنيا فَغَرَّتهُم، وَ وَثِقُوا بِها فَصَرَعَتهُم

فَسابِقُوا -رَحِمَکُمُ اللهُ- الَّتِي مَنازِلِکُمُ الَّتِي أُمِرتُم أن تَعمُروها، وَ الَّتِي رَغِبتُم فِيها، وَدُعيِتُم إلَيها. وَ استَتِمُّوا نِعَمَ اللهِ عَلَيکُم بِالصَّبرِ عَلَي طاعَتِهِ، و الُمجانَبَةِ لِمَعصِيَتِهِ، فَإنَّ غَداً مِنَ اليَوم قَرِيبٌ. ما أسرَعَ السَّاعات فِي اليَومِ، و أسرَعَ الأيَّامَ فِي الشَّهرِ، و أسرَعَ الشُّهُورَ في السَّنَةِ، و أسرَعَ السِّنِينَ فِي العُمُرِ!

দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কে

হে লোকসকল ,আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে ভয় করার জন্য এবং তাঁর আনুকূল্য ও পুরস্কারের জন্য উচ্ছসিত প্রশংসা কর। দেখ ,কিভাবে আনুকূল্য প্রদানের জন্য তিনি তোমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন এবং তার রহমত কিভাবে তোমাদের জন্য প্রদান করেছেন। তোমরা প্রকাশ্যে পাপে লিপ্ত হও ,আর তিনি তোমাদের পাপ ঢেকে রাখেন। তোমরা এমন আচরণ কর যা তার শাস্তিকে দ্রুত ডেকে আনে। অথচ তিনি তোমাদেরকে সময় দিচ্ছেন।

আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি মৃত্যুকে স্মরণ করার জন্য এবং এর প্রতি তোমাদের অমনোযোগিতা কমিয়ে ফেলতে। তিনি তো তোমাদের প্রতি অমনোযোগী নন ;তবে কেন তোমরা তার প্রতি অমনোযোগী হবে ? কেন তোমরা মৃত্যু - দূতের প্রত্যাশা কর যেখানে সে তোমাদেরকে একটুও সময় দেবে না। যারা তোমাদের সামনে মৃত্যুবরণ করেছে তারা কি শিক্ষক (উপদেশদাতা) হিসাবে যথেষ্ট নয় ? তোমরা তাদেরকে কবরে নিয়ে গেছো - তারা নিজেরা যেতে পারেনি ;তোমরা তাদেরকে কবরে শুইয়ে দিয়েছো - তারা নিজে থেকে তা করতে পারেনি। মনে হয় তারা যেন কখনো এ পৃথিবীতে বসবাস করেনি এবং পরকালই তাদের আবাসস্থল ছিল। তারা যে স্থানকে সরগরম করে বসবাস করতো তা নির্জন করে চলে গেল আর যে স্থানকে নির্জন মনে করতো সেখানে গিয়ে বসবাস করছে। যা পরিত্যাগ করতে হবে তা নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিল এবং যে স্থানে যেতে হবে সেই স্থানকে বেমালুম ভুলেই ছিল। এখন তারা তাদের পাপ স্খলন করতে পারছে না এবং তাদের পূণ্য এতটুকুও বাড়াতে পারছে না। তারা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এর প্রতি ঝুকে পড়েছিলো এবং দুনিয়া তাদেরকে নিদারুণভাবে বঞ্চনা করেছে। তারা দুনিয়াকে বিশ্বাস করেছিলো ;এখন দুনিয়া তাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

আল্লাহ তোমাদের প্রতি সদয় হোন। যে ঘরে চিরস্থায়ীভাবে থাকার আদেশ করা হয়েছে সেদিকে দ্রুত এগিয়ে যাবার প্রস্তুতি গ্রহণ কর। কারণ সেদিকে প্রতিনিয়ত তোমাদেরকে আহবান ও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ধৈর্য্যসহকারে আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার কর এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থেকে তোমাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ আনুকূল্য যাচনা কর। কারণ আগামীকাল ’ তোমাদের জন্য আজই রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। লক্ষ্য কর ,দিনের ঘন্টাগুলো ,মাসের দিনগুলো ,বছরের মাসগুলো এবং জীবনের বছরগুলো কত দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে।

খোৎবা - ১৮৮

فَمِنَ الْإِيمَانِ مَا يَكُونُ ثَابِتاً مُسْتَقِرّاً فِي الْقُلُوبِ، وَ مِنْهُ مَا يَكُونُ عَوَارِيَّ بَيْنَ الْقُلُوبِ وَ الصُّدُورِ،( إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ ) . فَإِذَا كَانَتْ لَكُمْ بَرَاءَةٌ مِنْ أَحَدٍ فَقِفُوهُ حَتَّى يَحْضُرَهُ الْمَوْتُ، فَعِنْدَ ذَلِكَ يَقَعُ حَدُّ الْبَرَاءَةِ.

وَ الْهِجْرَةُ قَائِمَةٌ عَلَى حَدِّهَا الْأَوَّلِ. مَا كَانَ لِلَّهِ فِي أَهْلِ الْأَرْضِ حَاجَةٌ مِنْ مُسْتَسِرِّ الْإِمَّةِ وَ مُعْلِنِهَا. لَا يَقَعُ اسْمُ الْهِجْرَةِ عَلَى أَحَدٍ إِلَّا بِمَعْرِفَةِ الْحُجَّةِ فِي الْأَرْضِ. فَمَنْ عَرَفَهَا وَ أَقَرَّ بِهَا فَهُوَ مُهَاجِرٌ. وَ لَا يَقَعُ اسْمُ الِاسْتِضْعَافِ عَلَى مَنْ بَلَغَتْهُ الْحُجَّةُ فَسَمِعَتْهَا أُذُنُهُ وَ وَعَاهَا قَلْبُهُ.

إِنَّ أَمْرَنَا صَعْبٌ مُسْتَصْعَبٌ لَا يَحْمِلُهُ إِلَّا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ امْتَحَنَ اللَّهُ قَلْبَهُ لِلْإِيمَانِ، وَ لَا يَعِي حَدِيثَنَا إِلَّا صُدُورٌ أَمِينَةٌ وَ أَحْلَامٌ رَزِينَةٌ.

أَيُّهَا النَّاسُ، سَلُونِي قَبْلَ أَنْ تَفْقِدُونِي، فَلَأَنَا بِطُرُقِ السَّمَاءِ أَعْلَمُ مِنِّي بِطُرُقِ الْأَرْضِ، قَبْلَ أَنْ تَشْغَرَ بِرِجْلِهَا فِتْنَةٌ تَطَأُ فِي خِطَامِهَا، وَ تَذْهَبُ بِأَحْلَامِ قَوْمِهَا.

দৃঢ় ও দুর্বল ইমান সম্পর্কে

কারো কারো ইমান দৃঢ় এবং হৃদয়ে তা বদ্ধমূল ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। আবার কারো কারো ইমান ক্ষণস্থায়ী হৃদয়ে তা কিছুকাল মাত্র থাকে। যদি তুমি কারো কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করার ইচ্ছা পোষণ কর তবে তার মৃত্যু পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে। কারণ নির্দোষ প্রতিপন্ন হওয়ার জন্য এটাই সময়সীমা ।

অভিবাসন (হিজরত) তার মূল অবস্থানের মতো থেকে যায়। যারা গোপনে ইমান গ্রহণ করে অথবা প্রকাশ্যে ইমানের কাজ করে ,এরূপ কারো কাছে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। এ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রমাণের স্বীকৃতি না দেয়া পর্যন্ত কারো জন্য অভিবাসন (হিজরত) প্রযোজ্য হয় না। কোন ব্যক্তি আল্লাহর প্রমাণকে সত্য ও বাস্তব বলে স্বীকৃতি দান করলে সে হবে মুহাজির (অভিবাসক) । ইসতিদ আফ (অভিবাসনের দায়িত্ব থেকে মুক্তি) তার জন্য প্রযোজ্য হবে না যার কাছে আল্লাহর প্রমাণ পৌছে এবং সে তা শোনে ও তার হৃদয়ে তা সংরক্ষণ করে

নিশ্চয়ই ,আমাদের বিষয় জটিল ও বিপদসঙ্কুল। যার হৃদয়কে আল্লাহ ইমান দ্বারা পরীক্ষা করেছেন এমন মোমিন ব্যতীত অন্য কেউ তা ধারণ করতে পারে না। বিশ্বস্ত হৃদয় ও স্বচ্ছ বোধগম্যতাবিহীন কেউ আমাদের হাদিস সংরক্ষণ করতে পারবে না।

হে লোকসকল ,আমাকে হারাবার আগে যা কিছু জানার আছে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও। নিশ্চয়ই ,আমি পৃথিবীর পথ অপেক্ষা আকাশের পথের সাথে অধিক পরিচিত এবং তৎপূর্বেই ফেতনা - ফ্যাসাদ এর পায়ের ওপর ভর দিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠবে যা মানুষকে আতঙ্কিত করবে এবং মানুষ জ্ঞান - বুদ্ধি হারা হয়ে পড়বে।

____________________

১। আমিরুল মোমেনিনের এই উক্তিগুলো হলো মুহাজির ’ ও মুসতাদ আফ ’ শব্দদ্বয়ের ব্যাখ্যা। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছেঃ

নিশ্চয়ই যারা আপন নফসের ওপর জুলুম করে তাদের মৃত্যুদানকালে ফেরেশতাগণ বলে , তোমরা কী অবস্থায় ছিলো ? তারা বলে , আমরা পৃথিবীতে দুর্বল ও অসহায় ছিলাম। ” তারা (ফেরেশতাগণ) বলে , আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না ,যাতে তোমরা হিজরত করতে পারতে ? সুতরাং এরূপ লোকের অবস্থানস্থল হলো জাহান্নাম এবং তা কত মন্দ আশ্রয়স্থল ৷ তবে যেসব দুর্বল পুরুষ ,নারী ও শিশু কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোন হেদায়েত পায় না ,আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করবেন ,কারণ আল্লাহ পাপমোচনকারী ও ক্ষমাশীল (৪ : ৯৭ - ৯৯) ।

আমিরুল মোমেনিন এখানে বুঝাতে চেয়েছেন যে ,হিজরত শুধুমাত্র রাসূলের (সা.) জীবৎকালেই বাধ্যতামূলক কাজ নয় - বরং এটা একটা স্থায়ী বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এ হিজরত বর্তমানে আল্লাহর প্রমাণ এবং সত্য দ্বীনের জন্যও বাধ্যতামূলক। সুতরাং যে ব্যক্তি মুশরিকদের মাঝে থেকেও আল্লাহর প্রমাণ অর্জন করতে পারে এবং তাতে ইমান রাখতে পারে তার জন্য হিজরত বাধ্যতামূলক নয়।

মুসতাদ আফ (দুর্বল ও অসহায়) সেই ব্যক্তি যে অবিশ্বাসীদের মাঝে বসবাস করছে এবং আল্লাহর প্রমাণ সম্বন্ধে অবহিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই ,আবার আল্লাহর প্রমাণ লাভ করার জন্য হিজরত করতেও অসমর্থ।

২। কেউ কেউ ব্যাখ্যা করেছেন যে ,আমিরুল মোমেনিন আকাশের পথ ’ বলতে দ্বীনের বিধান ও মিনহাজ এবং পৃথিবীর পথ ’ বলতে দুনিয়ার কর্মকাণ্ড বুঝিয়েছেন। বাহারানী (৪র্থ খণ্ড ,পৃঃ ২০০ - ২০১) লিখেছেনঃ

আল্লামা আল - ওয়াবারীর বর্ননায় জানা যায় যে ,আমিরুল মোমেনিনের উক্তির অর্থ হলো তার জ্ঞানের পরিধি দুনিয়ার বিষয় অপেক্ষা দ্বীনের বিষয়ে অধিক । মূল বিষয়টি বিবেচনা করলে বাহারানীর উপযুক্ত ব্যাখ্যা সঠিক বলে গ্রহণ করা যায় না। কারণ আমাকে হারাবার আগেই যা জানতে চাও জিজ্ঞেস কর ” - এ কথার কারণ হিসাবে ব্যাখ্যাধীন বাক্যটি লেখা হয়েছে। অথচ আমিরুল মোমেনিন তাঁর এ উক্তির পরেই ফেতনা ও বিদ্রোহ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এ দুটি বাক্যের মধ্যে আমি দুনিয়া অপেক্ষা দ্বীনের বিষয় বেশি জানি ” - উক্তিটি গুরুত্বহীন। আবার কারো কারো মতে ভবিষ্যদ্বাণী বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করার জন্য এ উক্তিটি করা হয়েছে। কারণ সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা সচরাচর মানুষের সাধ্যাতীত। তদুপরি ,আমিরুল মোমেনিনের চ্যালেঞ্জে স্পষ্টত বলা হয়েছে যে ,যা কিছু মানুষ জানতে চায় তা যেন জিজ্ঞেস করে। এ কথার অর্থ এমন হতে পারে না যে ,তিনি শুধু দ্বীনের বিধি - বিধান জেনে নেয়ার আহবান করেছিলেন। তার চ্যালেঞ্জে মানুষের দুঃসাধ্য ভবিষ্যৎ বিষয়াবলী জিজ্ঞেস করতেও বারণ করেননি। বরং সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে আকাশের পথ ” শব্দ দ্বারা। বিদ্রোহের উত্থান সম্পর্কে তার ভবিষ্যদ্বাণী দ্বীনের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। কাজেই একথা শুধু দ্বীনের জ্ঞানের প্রমাণ বহন করে না। শব্দের স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করে মনগড়া ব্যাখ্যা দ্বারা সঠিক ভাবধারা তুলে ধরা যায় না। প্রকৃতপক্ষে আমিরুল মোমেনিন উমাইয়া - ফেতনার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন , তোমাদের যা ইচ্ছে হয় আমাকে জিজ্ঞেস কর ;কারণ ,আমি দুনিয়ার পথ অপেক্ষা ঐশী নিয়তির পথ অধিক জানি। সুতরাং যদি তোমরা আমাকে স্মৃতিফলকে নির্ধারিত নিয়তির বিষয়েও জিজ্ঞেস কর আমি তোমাদেরকে তা বলে দিতে পারি। এমনকি যেসব বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে মারাত্মক ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিতে যাচ্ছে ,অথচ তোমরা সে বিষয়ে সন্দিহান ,তাও আমি বলে দিতে পারি। কারণ আমার চোখ সেই স্বর্গীয় দিকের সাথে বেশি পরিচিত যা ঘটনা প্রবাহ ও ফেতনার প্রতি দৃষ্টি রাখে এবং পৃথিবীতে বিরাজমান জীবনসমূহের প্রতি তত বেশি দৃষ্টি রাখে না। এই ফেতনা এত নিশ্চিত যেন চোখের সামনে উপস্থিত কোন বস্তু। তোমরা আমাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করতে পার এবং সময় হলে কী উপায়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা গড়ে তুলে ফেতনা হতে নিরাপদ থাকতে পারবে তাও জেনে নিতে পারে। ” হাদীদ (খণ্ড - ১৩ ,পৃঃ ১০৬) মন্তব্য করেছেনঃ

আমিরুল মোমেনিনের এ দাবির সমর্থন মিলে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোতে যা তিনি একবার নন ,শতবার নন ,প্রতিনিয়ত একের পর এক বলে গেছেন । এতে কোন সন্দেহ থাকে না যে ,তিনি যা বলেছিলেন তা জ্ঞানের ভিত্তিতে নিশ্চিত জেনেই বলেছেন - সম্ভাব্যতার ভিত্তিতে বলেন নি ।

আমিরুল মোমেনিনের ভবিষ্যদ্বাণী সম্পর্কে খোৎবা ৯২ এর টীকা - ২ এ কিছুটা বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো অধিক জানতে হলে হাদীদ ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ৪৭ - ৫১ এবং মারআশী ,৮ম খণ্ড ,পৃঃ ৮৭ - ১৮২ দেখার সুপারিশ করা গেল।

খোৎবা - ১৮৯

أَحْمَدُهُ شُكْراً لِإِنْعَامِهِ، وَ أَسْتَعِينُهُ عَلَى وَظَائِفِ حُقُوقِهِ، عَزِيزَ اَلْجُنْدِ، عَظِيمَ اَلْمَجْدِ. الثناء على النبي وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَ رَسُولُهُ، دَعَا إِلَى طَاعَتِهِ، وَ قَاهَرَ أَعْدَاءَهُ جِهَاداً عَنْ دِينِهِ، لاَ يَثْنِيهِ عَنْ ذَلِكَ اِجْتِمَاعٌ عَلَى تَكْذِيبِهِ، وَ اِلْتِمَاسٌ لِإِطْفَاءِ نُورِهِ.

فَاعْتَصِمُوا بِتَقْوَى اَللَّهِ، فَإِنَّ لَهَا حَبْلاً وَثِيقاً عُرْوَتُهُ، وَ مَعْقِلاً مَنِيعاً ذِرْوَتُهُ. وَ بَادِرُوا اَلْمَوْتَ وَ غَمَرَاتِهِ، وَ اِمْهَدُوا لَهُ قَبْلَ حُلُولِهِ، وَ أَعِدُّوا لَهُ قَبْلَ نُزُو لِهِ: فَإِنَّ اَلْغَايَةَ اَلْقِيَامَةُ؛ وَ كَفَى بِذَلِكَ وَاعِظاً لِمَنْ عَقَلَ، وَ مُعْتَبَراً لِمَنْ جَهِلَ! وَ قَبْلَ بُلُوغِ اَلْغَايَةِ مَا تَعْلَمُونَ مِنْ ضِيقِ اَلْأَرْمَاسِ، وَ شِدَّةِ اَلْإِبْلاَسِ، وَ هَوْلِ اَلْمُطَّلَعِ، وَ رَوْعَاتِ اَلْفَزَعِ، وَ اِخْتِلاَفِ اَلْأَضْلاَعِ، وَ اِسْتِكَاكِ اَلْأَسْمَاعِ، وَ ظُلْمَةِ اَللَّحْدِ، وَ خِيفَةِ اَلْوَعْدِ، وَ غَمِّ اَلضَّرِيحِ وَ رَدْمِ اَلصَّفِيحِ. فَاللَّهَ اَللَّهَ عِبَادَ اَللَّهِ! فَإِنَّ اَلدُّنْيَا مَاضِيَةٌ بِكُمْ عَلَى سَنَنٍ، وَ أَنْتُمْ وَ اَلسَّاعَةُ فِي قَرَنٍ، وَ كَأَنَّهَا قَدْ جَاءَتْ بِأَشْرَاطِهَا، وَ أَزِفَتْ بِأَفْرَاطِهَا، وَ وَقَفَتْ بِكُمْ عَلَى صِرَاطِهَا(سراطها) . وَ كَأَنَّهَا قَدْ أَشْرَفَتْ بِزَلاَزِلِهَا وَ أَنَاخَتْ بِكَلاَكِلِهَا وَ اِنْصَرَمَتِ(انصرفت) اَلدُّنْيَا بِأَهْلِهَا وَ أَخْرَجَتْهُمْ مِنْ حِضْنِهَا فَكَانَتْ كَيَوْمٍ مَضَى، أَوْ شَهْرٍ اِنْقَضَى، وَ صَارَ جَدِيدُهَا رَثّاً، وَ سَمِينُهَا غَثّاً. فِي مَوْقِفٍ ضَنْكِ اَلْمَقَامِ، وَ أُمُورٍ مُشْتَبِهَةٍ عِظَامٍ، وَ نَارٍ شَدِيدٍ كَلَبُهَا، عَالٍ لَجَبُهَا، سَاطِعٍ لَهَبُهَا، مُتَغَيِّظٍ زَفِيرُهَا، مُتَأَجِّجٍ سَعِيرُهَا، بَعِيدٍ خُمُودُهَا، ذَاكٍ وُقُودُهَا، مَخُوفٍ وَعِيدُهَا، عَمٍ قَرَارُهَا، مُظْلِمَةٍ أَقْطَارُهَا، حَامِيَةٍ قُدُورُهَا، فَظِيعَةٍ أُمُورُهَا.

( وَ سِيقَ اَلَّذِينَ اِتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى اَلْجَنَّةِ زُمَراً ) . قَدْ أُمِنَ اَلْعَذَابُ، وَ اِنْقَطَعَ اَلْعِتَابُ؛ وَ زُحْزِحُوا عَنِ اَلنَّارِ، وَ اِطْمَأَنَّتْ بِهِمُ اَلدَّارُ، وَ رَضُوا اَلْمَثْوَى وَ اَلْقَرَارَ. اَلَّذِينَ كَانَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي اَلدُّنْيَا زَاكِيَةً، وَ أَعْيُنُهُمْ بَاكِيَةً، وَ كَانَ لَيْلُهُمْ فِي دُنْيَاهُمْ نَهَاراً، تَخَشُّعاً وَ اِسْتِغْفَارًاً؛ وَ كَانَ نَهَارُهُمْ لَيْلاً تَوَحُّشاً وَ اِنْقِطَاعاً فَجَعَلَ اَللَّهُ لَهُمُ اَلْجَنَّةَ مَآباً، وَ اَلْجَزَاءَ ثَوَاباً( وَ كانُوا أَحَقَّ بِها وَ أَهْلَها ) فِي مُلْكٍ دَائِمٍ، وَ نَعِيمٍ قَائِمٍ. فَارْعَوْا عِبَادَ اَللَّهِ مَا بِرِعَايَتِهِ يَفُوزُ فَائِزُكُمْ، وَ بِإِضَاعَتِهِ يَخْسَرُ مُبْطِلُكُمْ. وَ بَادِرُوا آجَالَكُمْ بِأَعْمَالِكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ مُرْتَهَنُونَ بِمَا أَسْلَفْتُمْ وَ مَدِينُونَ بِمَا قَدَّمْتُمْ. وَ كَأَنْ قَدْ نَزَلَ بِكُمُ اَلْمَخُوفُ فَلاَ رَجْعَةً تَنَالُونَ وَ لاَ عَثْرَةً تُقَالُونَ. اِسْتَعْمَلَنَا اَللَّهُ وَ إِيَّاكُمْ بِطَاعَتِهِ وَ طَاعَةِ رَسُولِهِ، وَ عَفَا عَنَّا وَ عَنْكُمْ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ.

اِلْزَمُوا اَلْأَرْضَ، وَ اِصْبِرُوا عَلَى اَلْبَلاَءِ. وَ لاَ تُحَرِّكُوا بِأَيْدِيكُمْ وَ سُيُوفِكُمْ فِي هَوَى أَلْسِنَتِكُمْ، وَ لاَ تَسْتَعْجِلُوا بِمَا لَمْ يُعَجِّلْهُ اَللَّهُ لَكُمْ. فَإِنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْكُمْ عَلَى فِرَاشِهِ وَ هُوَ عَلَى مَعْرِفَةِ حَقِّ رَبِّهِ وَ حَقِّ رَسُولِهِ وَ أَهْلِ بَيْتِهِ مَاتَ شَهِيداً، وَ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اَللَّهِ، وَ اِسْتَوْجَبَ ثَوَابَ مَا نَوَى مِنْ صَالِحِ عَمَلِهِ، وَ قَامَتِ اَلنِّيَّةُ مَقَامَ إِصْلاَتِهِ لِسَيْفِهِ؛ فَإِنَّ لِكُلِّ شَيْ‏ءٍ مُدَّةً وَ أَجَلاً.

আল্লাহর ভয়ের গুরুত্ব , কবরের নির্জনতা এবং আহলে বাইতের অনুরাগীর মৃত্যু শহীদের মতো হওয়া সম্পর্কে

আল্লাহর পুরস্কারের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং তাঁর অধিকার পরিপূরণের জন্য আমি তার সাহায্য প্রার্থনা করি। তাঁর একটা শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী আছে। তার মহত্ত্ব চির অম্লান। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করার জন্য মানুষকে আহবান করেছিলেন এবং আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে তাঁর শক্রদের সাথে লড়াই করে তাদেরকে পরাভূত করেছিলেন। জনগণ তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য একজোট হয়েছিল এবং তাঁর আলো নিভিয়ে দেয়ার জন্য তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা তাকে প্রতিহত করতে পারেনি।

সুতরাং তোমরা আল্লাহর ভয় অনুশীলন কর। কারণ এর একটা রশি আছে যার পাক খুবই শক্ত এবং এর চূড়া সুউচ্চ ও অভেদ্য। আমলে সালেহা দ্বারা অনুশোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং মৃত্যু উপস্থিত হবার আগেই তার জন্য প্রস্তুত থাক। কারণ বিচার দিন হলো চূড়ান্ত অবস্থা। শিক্ষাদানের জন্য এটাই যথেষ্ট যে বুঝে এবং শিক্ষা গ্রহণের জন্য এটাই যথেষ্ট যে জানে না। কবরে পৌছার আগে কবরের সংকীর্ণতা ,একাকীত্বের দুঃখ ,পরকালের পথের ভয় ,ভীতির তীক্ষ্ম বেদনা ,হাড়গোড়ের বিচ্ছিন্নতা ,কানের বধিরতা ,কবরের অন্ধকার ,প্রতিশ্রুত শাস্তির ভয় - এসব বিষয়ে কি তোমাদের কোন ধারণা আছে ?

কাজেই ,হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আল্লাহকে ভয় করা - ভয় কর ,কারণ এ দুনিয়া তোমাদের সাথে গতানুগতিক আচরণই করছে। কিন্তু তুমি আর বিচার - দিন এক রশিতে বাধা। যদিও দুনিয়া নানা ওজর দেখিয়ে এর পাপরাশি নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে এবং তোমাদেরকে এর পথে নিয়ে এসেছে ,যদিও এটা সকল প্রকার লোভ - লালসা নিয়ে তোমাদের দিকে এগিয়ে এসেছে এবং তোমাদেরকে সাদরে বুকে টেনে নিয়েছে ,তবুও মৃত্যুর সাথে সাথেই এটা তোমাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবে এবং এর কোল থেকে তোমাদেরকে ছুড়ে ফেলে দেবে। এটা এমনভাবে তোমাদেরকে ত্যাগ করবে ,মনে হবে যেন একটা দিন গত হয়ে গেছে অথবা একটা মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এর নতুন জিনিসগুলো যেন পুরাতন হয়ে গেছে এবং মোটাগুলো যেন চিকন হয়ে গেছে।

তারা (মৃত ব্যক্তিগণ) তখন সংকীর্ণ জায়গায় ,বড় জটিল অবস্থায় তীব্র বেদনাদায়ক আগুনে থাকবে যেখানে ক্রন্দন হবে বিলাপাময় ,শিখা দাউ দাউ করে ওঠবে ,শব্দ হবে প্রকম্পিত ,দহন হবে অতি তীব্র যা কখনো প্রশমিত হবে না। এর জ্বালানি প্রজ্বলিত ,এর ভয় শঙ্কাকুল ,এর গর্তগুলো গুপ্ত ,এর চতুর্দিক অন্ধকার ,এর পাত্রগুলো জলন্ত এবং এর প্রতিটি জিনিস ঘৃণ্য ও পুঁতি গন্ধময়।

এবং যারা তাদের প্রভুর ক্রোধকে ভয় করে তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে উদ্যানের সঙ্গীদের কথা (কুরআন - ৩৯:৭৩)

তারা (যারা প্রভুর ক্রোধকে ভয় করে) লাঞ্চনা থেকে নিরাপদ ,শাস্তি থেকে দূরে এবং আগুন থেকে তাদেরকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের বাসস্থান শান্তিপূর্ণ এবং তারা তাদের আশা - আকাঙ্খা ও থাকার স্থান নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হবে। এরা হলো সেসব লোক যারা পৃথিবীতে সৎ আমল করেছে ,তাদের চোখ ছিল অশ্রুপূর্ণ। আল্লাহর ভয়ে ও তাঁর ক্ষমা প্রার্থনায় তাদের রাত দিনের মতোই কেটেছে এবং দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকীত্বের কারণে তাদের দিন রাতের মতোই ছিল। পরিণামে তাদের পুরস্কার ও বিনিময়ের জন্য আল্লাহ বেহেশত তৈরি করেছিলেন যা তাদের চিরস্থায়ী রাজ্য ও চির - আনুকূল্য।"

তারাই সে স্থানের জন্য সবচাইতে যোগ্য ও উপযুক্ত (কুরআন - ৪৮:২৬)

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,যেদিকে মনোযোগী হলে কেউ কৃতকার্য হতে পারে সেদিকে মনোযোগী হও এবং যাতে কেউ লোকসানের সম্মুখীন হয় তা পরিহার কর। সৎ আমল নিয়ে মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও ,কারণ অতীতে যা করেছো তজ্জন্য তোমাদেরকে হিসাব দিতে হবে এবং যা কিছু সৎ আমল পূর্বাহ্নে প্রেরণ করবে তা শুধু তোমাদের নিজ নিজ হিসাবেই জমা হয়ে থাকবে। পৃথিবীতে এমনভাবে আচরণ করা যেন সেই ভীতিপ্রদ মুহুর্ত (মৃত্যু) এসে গেছে যাতে তোমরা কৃত পাপ মোচন করার জন্য সৎ আমলের আর সুযোগ পাবে না। আল্লাহ তার ও তার রাসূলের আনুগত্য করার জন্য আমাদেরকে ও তোমাদেরকে তৌফিক দান করুন এবং তার রহমতের দ্বারা আমাদেরকে ও তোমাদেরকে ক্ষমা করুন ।

মাটির সাথে লেগে থাক (অর্থাৎ সহীষ্ণু হও) ,পরীক্ষায় ধৈর্য ধারণ কর ,জিহবার সাথে সাথে (অর্থাৎ কথায় কথায়) হাত ও তরবারি নেড়ো না এবং যে বিষয়ে আল্লাহ্ ত্বরা করতে বলেন নি সে বিষয়ে তাড়াহুড়া করো না। কারণ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি শয্যায় মৃত্যুবরণ করে তখন যদি তার আল্লাহ ,রাসূল ও রাসূলের আহলে বাইতের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান থাকে। তবে সে শহীদ হিসাবে মৃত্যুবরণ করবে। তার পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহর হাতে। যেসব সৎ আমল করার জন্য তার ইচ্ছা ছিল (কিন্তু করতে পারেনি) সেসব আমলেরও পুরস্কার ও বিনিময় তাকে দেয়া হবে। নিশ্চয়ই ,প্রত্যেক জিনিসের সময় ও সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

খোৎবা - ১৯০

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَلْفَاشِي فِي اَلْخَلْقِ حَمْدُهُ، وَ اَلْغَالِبِ جُنْدُهُ، وَ اَلْمُتَعَالِي جَدُّهُ. أَحْمَدُهُ عَلَى نِعَمِهِ اَلتُّؤَامِ، وَ آلاَئِهِ اَلْعِظَامِ. اَلَّذِي عَظُمَ حِلْمُهُ فَعَفَا، وَ عَدَلَ فِي كُلِّ مَا قَضَى، وَ عَلِمَ مَا يَمْضِي وَ مَا مَضَى، مُبْتَدِعِ اَلْخَلاَئِقِ بِعِلْمِهِ، وَ مُنْشِئِهِمْ بِحُكْمِهِ، بِلاَ اِقْتِدَاءٍ وَ لاَ تَعْلِيمٍ، وَ لاَ اِحْتِذَاءٍ لِمِثَالِ صَانِعٍ حَكِيمٍ، وَ لاَ إِصَابَةِ خَطَإٍ، وَ لاَ حَضْرَةِ مَلَإٍ. وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَ رَسُولُهُ، اِبْتَعَثَهُ وَ اَلنَّاسُ يَضْرِبُونَ فِي غَمْرَةٍ وَ يَمُوجُونَ فِي حَيْرَةٍ. قَدْ قَادَتْهُمْ أَزِمَّةُ اَلْحَيْنِ وَ اِسْتَغْلَقَتْ عَلَى أَفْئِدَتِهِمْ أَقْفَالُ اَلرَّيْنِ.

فوائد التقوی

عِبَادَ اَللَّهِ! أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اَللَّهِ فَإِنَّهَا حَقُّ اَللَّهِ عَلَيْكُمْ، وَ اَلْمُوجِبَةُ عَلَى اَللَّهِ حَقَّكُمْ، وَ أَنْ تَسْتَعِينُوا عَلَيْهَا بِاللَّهِ، وَ تَسْتَعِينُوا بِهَا عَلَى اَللَّهِ: فَإِنَّ اَلتَّقْوَى فِي اَلْيَوْمِ اَلْحِرْزُ وَ اَلْجُنَّةُ، وَ فِي غَدٍ اَلطَّرِيقُ إِلَى اَلْجَنَّةِ. مَسْلَكُهَا وَاضِحٌ، وَ سَالِكُهَا رَابِحٌ، وَ مُسْتَوْدَعُهَا حَافِظٌ. لَمْ تَبْرَحْ عَارِضَةً نَفْسَهَا عَلَى اَلْأُمَمِ اَلْمَاضِينَ مِنْكُمْ وَ اَلْغَابِرِينَ، لِحَاجَتِهِمْ إِلَيْهَا غَداً. إِذَا أَعَادَ اَللَّهُ مَا أَبْدَى، وَ أَخَذَ مَا أَعْطَى، وَ سَأَلَ عَمَّا أَسْدَى، فَمَا أَقَلَّ مَنْ قَبِلَهَا، وَ حَمَلَهَا حَقَّ حَمْلِهَا! أُولَئِكَ اَلْأَقَلُّونَ عَدَداً، وَ هُمْ أَهْلُ صِفَةِ اَللَّهِسُبْحَانَهُ إِذْ يَقُولُ:( وَ قَلِيلٌ مِنْ عِبادِيَ اَلشَّكُورُ ) . فَأَهْطِعُوا بِأَسْمَاعِكُمْ إِلَيْهَا، وَ أَلِظُّوا بِجِدِّكُمْ عَلَيْهَا، وَ اِعْتَاضُوهَا مِنْ كُلِّ سَلَفٍ خَلَفاً، وَ مِنْ كُلِّ مُخَالِفٍ مُوَافِقاً. أَيْقِظُوا بِهَا نَوْمَكُمْ، وَ اِقْطَعُوا بِهَا يَوْمَكُمْ، وَ أَشْعِرُوهَا قُلُوبَكُمْ. وَ اِرْحَضُوا بِهَا ذُنُوبَكُمْ وَ دَاوُوا بِهَا اَلْأَسْقَامَ وَ بَادِرُوا بِهَا اَلْحِمَامَ وَ اِعْتَبِرُوا بِمَنْ أَضَاعَهَا، وَ لاَ يَعْتَبِرَنَّ بِكُمْ مَنْ أَطَاعَهَا أَلاَ فَصُونُوهَا وَ تَصَوَّنُوا بِهَا.

وَ كُونُوا عَنِ اَلدُّنْيَا نُزَّاهاً، وَ إِلَى اَلْآخِرَةِ وُلاَّهاً. وَ لاَ تَضَعُوا مَنْ رَفَعَتْهُ اَلتَّقْوَى، وَ لاَ تَرْفَعُوا مَنْ رَفَعَتْهُ اَلدُّنْيَا. وَ لاَ تَشِيمُوا بَارِقَهَا، وَ لاَ تَسْمَعُوا نَاطِقَهَا، وَ لاَ تُجِيبُوا نَاعِقَهَا، وَ لاَ تَسْتَضِيئُوا بِإِشْرَاقِهَا، وَ لاَ تُفْتَنُوا بِأَعْلاَقِهَا(اغلاقها) . فَإِنَّ بَرْقَهَا خَالِبٌ، وَ نُطْقَهَا كَاذِبٌ، وَ أَمْوَالَهَا مَحْرُوبَةٌ، وَ أَعْلاَقَهَا مَسْلُوبَةٌ. أَلاَ وَ هِيَ اَلْمُتَصَدِّيَةُ اَلْعَنُونُ، وَ اَلْجَامِحَةُ اَلْحَرُونُ، وَ اَلْمَائِنَةُ اَلْخَؤُونُ، وَ اَلْجَحُودُ اَلْكَنُودُ وَ اَلْعَنُودُ اَلصَّدُودُ، وَ اَلْحَيُودُ اَلْمَيُودُ. حَالُهَا اِنْتِقَالٌ، وَ وَطْأَتُهَا زِلْزَالٌ، وَ عِزُّهَا ذُلٌّ، وَ جِدُّهَا هَزْلٌ، وَ عُلْوُهَا سُفْلٌ. دَارُ حَرَبٍ وَ سَلَبٍ، وَ نَهْبٍ وَ عَطَبٍ. أَهْلُهَا عَلَى سَاقٍ وَ سِيَاقٍ، وَ لَحَاقٍ وَ فِرَاقٍ قَدْ تَحَيَّرَتْ مَذَاهِبُهَا، وَ أَعْجَزَتْ مَهَارِبُهَا، وَ خَابَتْ مَطَالِبُهَا؛ فَأَسْلَمَتْهُمُ اَلْمَعَاقِلُ، وَ لَفَظَتْهُمُ اَلْمَنَازِلُ، وَ أَعْيَتْهُمُ اَلْمَحَاوِلُ.

فَمِنْ نَاجٍ مَعْقُورٍ، وَ لَحْمٍ مَجْزُورٍ، وَ شِلْوٍ مَذْبُوحٍ، وَ دَمٍ مَسْفُوحٍ، وَ عَاضٍّ عَلَى يَدَيْهِ، وَ صَافِقٍ بِكَفَّيْهِ، وَ مُرْتَفِقٍ بِخَدَّيْهِ، وَ زَارٍ عَلَى رَأْيِهِ، وَ رَاجِعٍ عَنْ عَزْمِهِ؛ وَ قَدْ أَدْبَرَتِ اَلْحِيلَةُ، وَ أَقْبَلَتِ اَلْغِيلَةُ،( وَ لاَتَ حِينَ مَنَاصٍ ) . هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ! قَدْ فَاتَ مَا فَاتَ وَ ذَهَبَ مَا ذَهَبَ وَ مَضَتِ اَلدُّنْيَا لِحَالِ بَالِهَا،( فَما بَكَتْ عَلَيْهِمُ اَلسَّماءُ وَ اَلْأَرْضُ وَ ما كانُوا مُنْظَرِينَ ) .

আল্লাহর প্রশংসা ও ভয় সম্পর্কে

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর ;যার প্রশংসা সুবিস্তৃত ,যার সৈন্য - বাহিনী অপরাজেয় এবং যার মর্যাদা চির অম্লান। আমি তাঁর ক্রমাগত নেয়ামত ও মহা - রহমতের জন্য প্রশংসা করি। তার ক্ষমা সুমহান এবং সেজন্যই তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যা কিছু বর্তমানে ঘটছে এবং অতীতে যাকিছু ঘটেছে তার সব কিছুই তিনি জানেন। তিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সমগ্র সৃষ্টির শিল্প - কৌশল তৈরি করেছেন এবং কোন প্রকার সীমাবদ্ধতা ,শিক্ষা ,অনুকরণ ,ভুলভ্রান্তি ও সাহায্যকারী ছাড়াই নিজ থেকেই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল ,যাকে তিনি এমন সময় প্রেরণ করেছেন যখন মানুষ রসাতলে চলে গিয়েছিল এবং বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছিলো। ধ্বংসের লাগাম তাদেরকে হেঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছিলো এবং তাদের হৃদয়ে পাপের তালা স্থায়ীভাবে লেগেছিলো।

তাকওয়ার উপকারিতা

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে ভয় করার জন্য ,কারণ এটা হলো তোমাদের ওপর আল্লাহর অধিকার এবং এতে আল্লাহর ওপর তোমাদের অধিকারও বার্তায়। তোমরা এর মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে পার এবং এর সাহায্যে আল্লাহর সাক্ষাতের আশা করতে পার। নিশ্চয়ই ,ইহকালে আল্লাহর ভয় তোমাদের প্রতিরক্ষা ও ঢাল এবং পরকালে এটা বেহেশতের রাস্তা । এর পথ সুস্পষ্ট এবং যে কেউ এ পথে পদচারণা করে সে লাভবান হয়। যে কেউ এটা ধারণ করে সে একে রক্ষা করে। এটা সেসব লোকের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করে যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে এবং যারা পিছন থেকে এগিয়ে আসছে ;কারণ আগামীকাল (বিচার দিনে) তাদের এটার প্রয়োজন হবে যখন আল্লাহ তার বান্দাকে পুনরায় গ্রহণ করবে ,যা তিনি দিয়েছিলেন তা ফেরত নেবেন এবং যেসব নেয়ামত তিনি দান করেছিলেন তার হিসাব নেবেন । আহা! কত অল্প সংখ্যক লোক এটা গ্রহণ করে এবং যত লোক এটার অনুশীলন করা দরকার তার তুলনায় কত অল্প সংখ্যক এটা অনুশীলন করে। তারা সংখ্যায় অত্যল্প এবং তাদের সম্বন্ধেই মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এবং আমার বান্দাগণের অল্পই কৃতজ্ঞ (কুরআন - ৩৪:১৩)

সুতরাং তোমাদের কান খাড়া রেখে এর দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং এর জন্য তোমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা বাড়িয়ে নাও। এটাকে তোমাদের অতীতের সকল ত্রুটি - বিচ্যুতির বিকল্প করে নাও যেমন করে উত্তরাধিকারী পূর্বসূরীর স্থলাভিষিক্ত হয় এবং সকল বিরোধীর বিরুদ্ধে এটাকে সহায়তাকারী করে নাও। এর সাহায্যে নিদ্রাকে জাগরণে পরিণত কর এবং এর সাথে দিন যাপন কর। একে হৃদয়ের হাতিয়ার করে নাও ,এর সাহায্যে সকল পাপ ধুয়ে - মুছে ফেল ,এর সাহায্যে তোমাদের রোগের চিকিৎসা কর এবং একে সঙ্গে নিয়ে মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও। যারা একে অবহেলা করে তাদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা যাতে অন্যরা তোমার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারে। সাবধান ,তোমরা এর প্রতি যত্নবান হও এবং এর মাধ্যমে নিজেদের প্রতি যত্নশীল থেকো।

এ দুনিয়া হতে দূরে সরে থেকো এবং মোহাচ্ছন্ন অবস্থায় পরকালের দিকে অগ্রসর হয়ো না। আল্লাহর ভয় যাকে উচ্চমর্যাদা দান করেছে তাকে দীনহীন মনে করো না এবং দুনিয়া যাকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে তাকে মর্যাদাশালী মনে করো না। দুনিয়ার চাকচিক্যের দিকে নজর দিয়ো না ,যারা দুনিয়ার কথা বলে তাদের কথা শুনো না ,যারা দুনিয়ার দিকে আহবান করে তাদের ডাকে সাড়া দিয়ো না ,দুনিয়ার ঝলমলানি থেকে আলোর অনুসন্ধান করো না এবং এর মূল্যবান বস্তুর মাঝে মৃত্যুবরণ করো না। কারণ এর ঔজ্জ্বল্য প্রতারণাপূর্ণ (মরীচিকা) ,এর কথা মিথ্যা ,এর সম্পদ লুষ্ঠিত হয় এবং এর বস্তু সামগ্রী কেড়ে নেয়া হয় । সাবধান ,এ দুনিয়া প্রথমে আকর্ষণ করে এবং পরে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এটা এতই অবাধ্য যে ,সামনে এগুতে অস্বীকার করে। এটা মিথ্যা কথা বলে এবং তসরুফ করে ;সহজে পরিত্যাগ করে এবং অকৃতজ্ঞ। এটা পাপপূর্ণ এবং (এর প্রেমিককে) বর্জন করে। এটা আকৃষ্ট করে কিন্তু বিপদে ঠেলে দেয়। এর অবস্থা পরিবর্তনশীল ,পদক্ষেপ কম্পবান ,সম্মান অমর্যাদাকর ;এর রাশভারীভাব হাস্যকর এবং এর উচ্চতা হীনতা বৈ কিছু নয়। এটা ডাকাতি ও লুটের স্থান এবং বিনষ্ট ও ধ্বংসের স্থান। এর মানুষগুলো তাড়া খাবার জন্য ,অতিক্রম করে যাবার জন্য এবং প্রস্থান করার জন্য তাদের পায়ের ওপর দণ্ডায়মান অবস্থায় প্রস্তুত হয়ে আছে। এর পথ বিভ্রান্তকর ; এর বহির্গমন ধাঁধাপূর্ণ এবং কর্মসূচী হতাশাপূর্ণ। ফলত যারা শক্ত করে হাল ধরে তারা এটাকে তাড়িয়ে দেয় ,ঘর থেকে বাইরে নিক্ষেপ করে এবং সুচতুর ব্যক্তি একে ব্যর্থ করে দেয় ।

যারা দুনিয়ার খপ্পরে পড়েছে তাদের কতেক এখন খোড়া উটের মতো ,কতেক কর্তিত মাংশের (বেদনায়) ,কতেক হাত কচলাচ্ছে (অনুতাপে) ,কতেক গালে হাত দিয়ে রেখেছে (উদ্বীগ্নতায়) ,কতেক নিজের অভিমতকে অভিশাপ দিচ্ছে এবং কতেক তাদের সংকল্প থেকে ফিরে আসছে। কিন্তু আমলের সময় চলে গেছে এবং দুর্যোগের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে - এখন আর রক্ষা পাবার কোন সময় নেই। ” (কুরআন - ৩৮:৩) । হায়! হায়! যা হারিয়ে গেছে তা চিরতরে চলে গেছে। দুনিয়া এর স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। সুতরাং আকাশ ও পৃথিবীর কেউ তাদের জন্য অশ্রুপাত করেনি এবং তাদের তাদের অবকাশও দেয়া হয়নি (কুরান - ৪৪:২৯)

খোৎবা - ১৯১

تسمی القاصعة

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَلَّذِي لَبِسَ اَلْعِزَّ وَ اَلْكِبْرِيَاءَ، وَ اِخْتَارَهُمَا لِنَفْسِهِ دُونَ خَلْقِهِ، وَ جَعَلَهُمَا حِمًى وَ حَرَماً عَلَى غَيْرِهِ، وَ اِصْطَفَاهُمَا لِجَلاَلِهِ رأس العصيان وَ جَعَلَ اَللَّعْنَةَ عَلَى مَنْ نَازَعَهُ فِيهِمَا مِنْ عِبَادِهِ.

تکبّر الشیطان و مذمة ذلک

ثُمَّ اِخْتَبَرَ بِذَلِكَ مَلاَئِكَتَهُ اَلْمُقَرَّبِينَ، لِيَمِيزَ اَلْمُتَوَاضِعِينَ مِنْهُمْ مِنَ اَلْمُسْتَكْبِرِينَ، فَقَالَسُبْحَانَهُ وَ هُوَ اَلْعَالِمُ بِمُضْمَرَاتِ اَلْقُلُوبِ، وَ مَحْجُوبَاتِ اَلْغُيُوبِ:( إ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِنْ طِينٍ () فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ () فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ () إِلَّا إِبْلِيسَ اسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ) . اِعْتَرَضَتْهُ اَلْحَمِيَّةُ.

فَافْتَخَرَ عَلَى آدَمَ بِخَلْقِهِ. وَ تَعَصَّبَ عَلَيْهِ لِأَصْلِهِ. فَعَدُوُّ اَللَّهِ إِمَامُ اَلْمُتَعَصِّبِينَ، وَ سَلَفُ اَلْمُسْتَكْبِرِينَ، اَلَّذِي وَضَعَ أَسَاسَ اَلْعَصَبِيَّةِ، وَ نَازَعَ اَللَّهَ رِدَاءَ اَلْجَبْرِيَّةِ، وَ اِدَّرَعَ لِبَاسَ اَلتَّعَزُّزِ، وَ خَلَعَ قِنَاعَ اَلتَّذَلُّلِ. أَ لاَ تَرَوْنَ كَيْفَ صَغَّرَهُ اَللَّهُ بِتَكَبُّرِهِ، وَ وَضَعَهُ بِتَرَفُّعِهِ، فَجَعَلَهُ فِي اَلدُّنْيَا مَدْحُوراً، وَ أَعَدَّ لَهُ فِي اَلْآخِرَةِ سَعِيراً؟!

وَ لَوْ أَرَادَ اَللَّهُ أَنْ يَخْلُقَ آدَمَ مِنْ نُورٍ يَخْطَفُ اَلْأَبْصَارَ ضِيَاؤُهُ وَ يَبْهَرُ اَلْعُقُولَ رُوَاؤُهُ، وَ طِيبٍ يَأْخُذُ اَلْأَنْفَاسَ عَرْفُهُ، لَفَعَلَ. وَ لَوْ فَعَلَ لَظَلَّتْ لَهُ اَلْأَعْنَاقُ خَاضِعَةً، وَ لَخَفَّتِ اَلْبَلْوَى فِيهِ عَلَى اَلْمَلاَئِكَةِ. وَ لَكِنَّ اَللَّهَ سُبْحَانَهُ يَبْتَلِي خَلْقَهُ بِبَعْضِ مَا يَجْهَلُونَ أَصْلَهُ، تَمْيِيزاً بِالاِخْتِبَارِ لَهُمْ، وَ نَفْياً لِلاِسْتِكْبَارِ عَنْهُمْ، وَ إِبْعَاداً لِلْخُيَلاَءِ مِنْهُمْ.

فَاعْتَبِرُوا بِمَا كَانَ مِنْ فِعْلِ اَللَّهِ بِإِبْلِيسَ إِذْ أَحْبَطَ عَمَلَهُ اَلطَّوِيلَ، وَ جَهْدَهُ اَلْجَهِيدَ وَ كَانَ قَدْ عَبَدَ اَللَّهَ سِتَّةَ آلاَفِ سَنَةٍ، يُدْرَى مِنْ سِنِي اَلدُّنْيَا أَمْ مِنْ سِنِي اَلْآخِرَةِ عَنْ كِبْرِ سَاعَةٍ وَاحِدَةٍ. فَمَنْ ذَا بَعْدَ إِبْلِيسَ يَسْلَمُ عَلَى اَللَّهِ بِمِثْلِ مَعْصِيَتِهِ؟ كَلاَّ مَا كَانَ اَللَّهُسُبْحَانَهُ لِيُدْخِلَ اَلْجَنَّةَ بَشَراً بِأَمْرٍ أَخْرَجَ بِهِ مِنْهَا مَلَكاً. إِنَّ حُكْمَهُ فِي أَهْلِ اَلسَّمَاءِ وَ أَهْلِ اَلْأَرْضِ لَوَاحِدٌ. وَ مَا بَيْنَ اَللَّهِ وَ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ خَلْقِهِ هَوَادَةٌ فِي إِبَاحَةِ حِمًى حَرَّمَهُ عَلَى اَلْعَالَمِينَ.

التحذير من عداوة الشيطان

فَاحْذَرُوا عِبَادَ اَللَّهِ عَدُوَّ اَللَّهِ أَنْ يُعْدِيَكُمْ بِدَائِهِ، وَ أَنْ يَسْتَفِزَّكُمْ بِنِدَائِهِ، وَ أَنْ يُجْلِبَ عَلَيْكُمْ بِخَيْلِهِ وَ رَجِلِهِ. فَلَعَمْرِي لَقَدْ فَوَّقَ لَكُمْ سَهْمَ اَلْوَعِيدِ، وَ أَغْرَقَ إِلَيْكُمْ بِالنَّزْعِ اَلشَّدِيدِ، وَ رَمَاكُمْ مِنْ مَكَانٍ قَرِيبٍ، فَقَالَ:( رَبِّ بِما أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي اَلْأَرْضِ وَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ) ، قَذْفاً بِغَيْبٍ بَعِيدٍ، وَ رَجْماً بِظَنٍّ غَيْرِ مُصِيبٍ، صَدَّقَهُ بِهِ أَبْنَاءُ اَلْحَمِيَّةِ وَ إِخْوَانُ اَلْعَصَبِيَّةِ، وَ فُرْسَانُ اَلْكِبْرِ وَ اَلْجَاهِلِيَّةِ. حَتَّى إِذَا اِنْقَادَتْ لَهُ اَلْجَامِحَةُ مِنْكُمْ، وَ اِسْتَحْكَمَتِ اَلطَّمَاعِيَّةُ مِنْهُ فِيكُمْ، فَنَجَمَتِ اَلْحَالُ مِنَ اَلسِّرِّ اَلْخَفِيِّ إِلَى اَلْأَمْرِ اَلْجَلِيِّ، اِسْتَفْحَلَ سُلْطَانُهُ عَلَيْكُمْ، وَ دَلَفَ بِجُنُودِهِ نَحْوَكُمْ، فَأَقْحَمُوكُمْ وَلَجَاتِ(ولجاب) اَلذُّلِّ، وَ أَحَلُّوكُمْ وَرَطَاتِ اَلْقَتْلِ، وَ أَوْطَئُوكُمْ إِثْخَانَ اَلْجِرَاحَةِ، طَعْناً فِي عُيُونِكُمْ، وَ حَزّاً فِي حُلُوقِكُمْ وَ دَقّاً لِمَنَاخِرِكُمْ وَ قَصْداً لِمَقَاتِلِكُمْ وَ سَوْقاً بِخَزَائِمِ اَلْقَهْرِ إِلَى اَلنَّارِ اَلْمُعَدَّةِ لَكُمْ فَأَصْبَحَ أَعْظَمَ فِي دِينِكُمْ حَرْجاً وَ أَوْرَى فِي دُنْيَاكُمْ قَدْحاً مِنَ اَلَّذِينَ أَصْبَحْتُمْ لَهُمْ مُنَاصِبِينَ، وَ عَلَيْهِمْ مُتَأَلِّبِينَ. فَاجْعَلُوا عَلَيْهِ حَدَّكُمْ، وَ لَهُ جِدَّكُمْ، فَلَعَمْرُ اَللَّهِ لَقَدْ فَخَرَ عَلَى أَصْلِكُمْ، وَ وَقَعَ فِي حَسَبِكُمْ، وَ دَفَعَ فِي نَسَبِكُمْ، وَ أَجْلَبَ بِخَيْلِهِ عَلَيْكُمْ، وَ قَصَدَ بِرَجِلِهِ سَبِيلَكُمْ، يَقْتَنِصُونَكُمْ بِكُلِّ مَكَانٍ، وَ يَضْرِبُونَ مِنْكُمْ كُلَّ بَنَانٍ. لاَ تَمْتَنِعُونَ بِحِيلَةٍ، وَ لاَ تَدْفَعُونَ بِعَزِيمَةٍ، فِي حَوْمَةِ ذُلّ،ٍ وَ حَلْقَةِ ضِيقٍ، وَ عَرْصَةِ مَوْتٍ وَ جَوْلَةِ بَلاَءٍ فَأَطْفِئُوا مَا كَمَنَ فِي قُلُوبِكُمْ مِنْ نِيرَانِ اَلْعَصَبِيَّةِ وَ أَحْقَادِ اَلْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّمَا تِلْكَ اَلْحَمِيَّةُ تَكُونُ فِي اَلْمُسْلِمِ مِنْ خَطَرَاتِ اَلشَّيْطَانِ وَ نَخَوَاتِهِ، وَ نَزَغَاتِهِ وَ نَفَثَاتِهِ. وَ اِعْتَمِدُوا وَضْعَ اَلتَّذَلُّلِ عَلَى رُؤُوسِكُمْ، وَ إِلْقَاءَ اَلتَّعَزُّزِ تَحْتَ أَقْدَامِكُمْ، وَ خَلْعَ اَلتَّكَبُّرِ مِنْ أَعْنَاقِكُمْ؛ وَ اِتَّخِذُوا اَلتَّوَاضُعَ مَسْلَحَةً بَيْنَكُمْ وَ بَيْنَ عَدُوِّكُمْ إِبْلِيسَ وَ جُنُودِهِ فَإِنَّ لَهُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ جُنُوداً وَ أَعْوَاناً وَ رَجِلاً وَ فُرْسَاناً. وَ لاَ تَكُونُوا كَالْمُتَكَبِّرِ عَلَى اِبْنِ أُمِّهِ مِنْ غَيْرِ مَا فَضْلٍ جَعَلَهُ اَللَّهُ فِيهِ سِوَى مَا أَلْحَقَتِ اَلْعَظَمَةُ بِنَفْسِهِ مِنْ عَدَاوَةِ اَلْحَسَدِ، وَ قَدَحَتِ اَلْحَمِيَّةُ فِي قَلْبِهِ مِنْ نَارِ اَلْغَضَبِ، وَ نَفَخَ اَلشَّيْطَانُ فِي أَنْفِهِ مِنْ رِيحِ اَلْكِبْرِ اَلَّذِي أَعْقَبَهُ اَللَّهُ بِهِ اَلنَّدَامَةَ، وَ أَلْزَمَهُ آثَامَ اَلْقَاتِلِينَ إِلَى يَوْمِ اَلْقِيَامَةِ.

تجنب الاخلاق الجاهلیّة

أَلاَ وَ قَدْ أَمْعَنْتُمْ فِي اَلْبَغْيِ وَ أَفْسَدْتُمْ فِي اَلْأَرْضِ، مُصَارَحَةً لِلَّهِ بِالْمُنَاصَبَةِ، وَ مُبَارَزَةً لِلْمُؤْمِنِينَ بِالْمُحَارَبَةِ. فَاللَّهَ اَللَّهَ فِي كِبْرِ اَلْحَمِيَّةِ وَ فَخْرِ اَلْجَاهِلِيَّةِ! فَإِنَّهُ مَلاَقِحُ اَلشَّنَئَانِ، وَ مَنَافِخُ اَلشَّيْطَانِ، اَلَّتِي خَدَعَ بِهَا اَلْأُمَمَ اَلْمَاضِيَةَ، وَ اَلْقُرُونَ اَلْخَالِيَةَ. حَتَّى أَعْنَقُوا فِي حَنَادِسِ جَهَالَتِهِ، وَ مَهَاوِي ضَلاَلَتِهِ، ذُلُلاً عَنْ سِيَاقِهِ، سُلُساً فِي قِيَادِهِ. أَمْراً تَشَابَهَتِ اَلْقُلُوبُ فِيهِ، وَ تَتَابَعَتِ اَلْقُرُونُ عَلَيْهِ، وَ كِبْراً تَضَايَقَتِ اَلصُّدُورُ بِهِ.

اجتناب الامراء المتکبرین

أَلاَ فَالْحَذَرَ اَلْحَذَرَ مِنْ طَاعَةِ سَادَاتِكُمْ وَ كُبَرَائِكُمْ! اَلَّذِينَ تَكَبَّرُوا عَنْ حَسَبِهِمْ، وَ تَرَفَّعُوا فَوْقَ نَسَبِهِمْ، وَ أَلْقَوُا اَلْهَجِينَةَ عَلَى رَبِّهِمْ، وَ جَاحَدُوا اَللَّهَ عَلَى مَا صَنَعَ بِهِمْ، مُكَابَرَةً لِقَضَائِهِ، وَ مُغَالَبَةً لِآلاَئِهِ فَإِنَّهُمْ قَوَاعِدُ أَسَاسِ اَلْعَصَبِيَّةِ، وَ دَعَائِمُ أَرْكَانِ اَلْفِتْنَةِ، وَ سُيُوفُ اِعْتِزَاءِ اَلْجَاهِلِيَّةِ. فَاتَّقُوا اَللَّهَ وَ لاَ تَكُونُوا لِنِعَمِهِ عَلَيْكُمْ أَضْدَاداً، وَ لاَ لِفَضْلِهِ عِنْدَكُمْ حُسَّاداً. وَ لاَ تُطِيعُوا اَلْأَدْعِيَاءَ اَلَّذِينَ شَرِبْتُمْ بِصَفْوِكُمْ كَدَرَهُمْ وَ خَلَطْتُمْ بِصِحَّتِكُمْ مَرَضَهُمْ، وَ أَدْخَلْتُمْ فِي حَقِّكُمْ بَاطِلَهُمْ، وَ هُمْ أَسَاسُ اَلْفُسُوقِ، وَ أَحْلاَسُ اَلْعُقُوقِ اِتَّخَذَهُمْ إِبْلِيسُ مَطَايَا ضَلاَلٍ، وَ جُنْداً بِهِمْ يَصُولُ عَلَى اَلنَّاسِ، وَ تَرَاجِمَةً يَنْطِقُ عَلَى أَلْسِنَتِهِمْ، اِسْتِرَاقاً لِعُقُولِكُمْ وَ دُخُولاً فِي عُيُونِكُمْ، وَ نَفْثاً فِي أَسْمَاعِكُمْ، فَجَعَلَكُمْ مَرْمَى نَبْلِهِ، وَ مَوْطِئَ قَدَمِهِ، وَ مَأْخَذَ يَدِهِ.

فَاعْتَبِرُوا بِمَا أَصَابَ اَلْأُمَمَ اَلْمُسْتَكْبِرِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ مِنْ بَأْسِ اَللَّهِ وَ صَوْلاَتِهِ، وَ وَقَائِعِهِ وَ مَثُلاَتِهِ، وَ اِتَّعِظُوا بِمَثَاوِي خُدُودِهِمْ، وَ مَصَارِعِ جُنُوبِهِمْ، وَ اِسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ لَوَاقِحِ اَلْكِبْرِ، كَمَا تَسْتَعِيذُونَهُ مِنْ طَوَارِقِ اَلدَّهْرِ. فَلَوْ رَخَّصَ اَللَّهُ فِي اَلْكِبْرِ لِأَحَدٍ مِنْ عِبَادِهِ لَرَخَّصَ فِيهِ لِخَاصَّةِ أَنْبِيَائِهِ وَ أَوْلِيَائِهِ؛ وَ لَكِنَّهُسُبْحَانَهُ كَرَّهَ إِلَيْهِمُ اَلتَّكَابُرَ، وَ رَضِيَ لَهُمُ اَلتَّوَاضُعَ، فَأَلْصَقُوا بِالْأَرْضِ خُدُودَهُمْ، وَ عَفَّرُوا فِي اَلتُّرَابِ وُجُوهَهُمْ. وَ خَفَضُوا أَجْنِحَتَهُمْ لِلْمُؤْمِنِينَ، وَ كَانُوا قَوْماً مُسْتَضْعَفِينَ. قَدِ اِخْتَبَرَهُمُ اَللَّهُ بِالْمَخْمَصَةِ، وَ اِبْتَلاَهُمْ بِالْمَجْهَدَةِ، وَ اِمْتَحَنَهُمْ بِالْمَخَاوِفِ، وَ مَخَضَهُمْ بِالْمَكَارِهِ. فَلاَ تَعْتَبِرُوا اَلرِّضَى وَ اَلسُّخْطَ بِالْمَالِ وَ اَلْوَلَدِ جَهْلاً بِمَوَاقِعِ اَلْفِتْنَةِ، وَ اَلاِخْتِبَارِ فِي مَوْضِعِ اَلْغِنَى وَ اَلاِقْتِدَارِ، فَقَدْ قَالَ سُبْحَانَهُ وَ تَعَالَى:( أَ يَحْسَبُونَ أَنَّما نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مالٍ وَ بَنِينَ نُسارِعُ لَهُمْ فِي اَلْخَيْراتِ بَلْ لا يَشْعُرُونَ )

فَإِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ يَخْتَبِرُ عِبَادَهُ اَلْمُسْتَكْبِرِينَ فِي أَنْفُسِهِمْ بِأَوْلِيَائِهِ اَلْمُسْتَضْعَفِينَ فِي أَعْيُنِهِمْ. تواضع الأنبياء وَ لَقَدْ دَخَلَ مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ وَ مَعَهُ أَخُوهُ هَارُونُعليهما‌السلام عَلَى فِرْعَوْنَ، وَ عَلَيْهِمَا مَدَارِعُ اَلصُّوفِ، وَ بِأَيْدِيهِمَا اَلْعِصِيُّ، فَشَرَطَا لَهُ إِنْ أَسْلَمَ بَقَاءَ مُلْكِهِ وَ دَوَامَ عِزِّهِ فَقَالَ:«أَ لاَ تَعْجَبُونَ مِنْ هَذَيْنِ يَشْرِطَانِ لِي دَوَامَ اَلْعِزِّ وَ بَقَاءَ اَلْمُلْكِ وَ هُمَا بِمَا تَرَوْنَ مِنْ حَالِ اَلْفَقْرِ وَ اَلذُّلِّ فَهَلاَّ أُلْقِيَ عَلَيْهِمَا أَسَاوِرَةٌ مِنْ ذَهَبٍ؟ » إِعْظَاماً لِلذَّهَبِ وَ جَمْعِهِ وَ اِحْتِقَاراً لِلصُّوفِ وَ لُبْسِهِ! وَ لَوْ أَرَادَ اَللَّهُسُبْحَانَهُ لِأَنْبِيَائِهِ حَيْثُ بَعَثَهُمْ أَنْ يَفْتَحَ لَهُمْ كُنُوزَ اَلذِّهْبَانِ، وَ مَعَادِنَ اَلْعِقْيَانِ، وَ مَغَارِسَ اَلْجِنَانِ، وَ أَنْ يَحْشُرَ مَعَهُمْ طُيُورَ اَلسَّمَاءِ وَ وُحُوشَ اَلْأَرَضِينَ لَفَعَلَ. وَ لَوْ فَعَلَ لَسَقَطَ اَلْبَلاَءُ، وَ بَطَلَ اَلْجَزَاءُ، وَ اِضْمَحَلَّتِ اَلْأَنْبَاءُ، وَ لَمَا وَجَبَ لِلْقَابِلِينَ أُجُورُ اَلْمُبْتَلَيْنَ، وَ لاَ اِسْتَحَقَّ اَلْمُؤْمِنُونَ ثَوَابَ اَلْمُحْسِنِينَ، وَ لاَ لَزِمَتِ اَلْأَسْمَاءُ مَعَانِيَهَا، وَ لَكِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ جَعَلَ رُسُلَهُ أُولِي قُوَّةٍ فِي عَزَائِمِهِمْ، وَ ضَعَفَةً فِيمَا تَرَى اَلْأَعْيُنُ مِنْ حَالاَتِهِمْ، مَعَ قَنَاعَةٍ تَمْلَأُ اَلْقُلُوبَ وَ اَلْعُيُونَ غِنًى، وَ خَصَاصَةٍ تَمْلَأُ اَلْأَبْصَارَ وَ اَلْأَسْمَاعَ أَذًى. وَ لَوْ كَانَتِ اَلْأَنْبِيَاءُ أَهْلَ قُوَّةٍ لاَ تُرَامُ، وَ عِزَّةٍ لاَ تُضَامُ، وَ مُلْكٍ تُمَدُّ نَحْوَهُ أَعْنَاقُ اَلرِّجَالِ، وَ تُشَدُّ إِلَيْهِ عُقَدُ اَلرِّحَالِ، لَكَانَ ذَلِكَ أَهْوَنَ عَلَى اَلْخَلْقِ فِي اَلاِعْتِبَارِ، وَ أَبْعَدَ لَهُمْ فِي اَلاِسْتِكْبَارِ(الاستکثار) ، وَ لَآمَنُوا عَنْ رَهْبَةٍ قَاهِرَةٍ لَهُمْ، أَوْ رَغْبَةٍ مَائِلَةٍ بِهِمْ، فَكَانَتِ اَلنِّيَّاتُ مُشْتَرَكَةً، وَ اَلْحَسَنَاتُ مُقْتَسَمَةً. وَ لَكِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ أَرَادَ أَنْ يَكُونَ اَلاِتِّبَاعُ لِرُسُلِهِ، وَ اَلتَّصْدِيقُ بِكُتُبِهِ، وَ اَلْخُشُوعُ لِوَجْهِهِ، وَ اَلاِسْتِكَانَةُ لِأَمْرِهِ، وَ اَلاِسْتِسْلاَمُ لِطَاعَتِهِ، أُمُوراً لَهُ خَاصَّةً، لاَ تَشُوبُهَا مِنْ غَيْرِهَا شَائِبَةٌ. وَ كُلَّمَا كَانَتِ اَلْبَلْوَى وَ اَلاِخْتِبَارُ أَعْظَمَ كَانَتِ اَلْمَثُوبَةُ وَ اَلْجَزَاءُ أَجْزَلَ.

فلسفه الحج

أَلاَ تَرَوْنَ أَنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ ، اِخْتَبَرَ اَلْأَوَّلِينَ مِنْ لَدُنْ آدَمَعليه‌السلام ، إِلَى اَلْآخِرِينَ مِنْ هَذَا اَلْعَالَمِ؛ بِأَحْجَارٍ لاَ تَضُرُّ وَ لاَ تَنْفَعُ، وَ لاَ تُبْصِرُ وَ لاَ تَسْمَعُ، فَجَعَلَهَا بَيْتَهُ اَلْحَرَامَ اَلَّذِي جَعَلَهُ لِلنَّاسِ قِيَاماً. ثُمَّ وَضَعَهُ بِأَوْعَرِ بِقَاعِ اَلْأَرْضِ حَجَراً، وَ أَقَلِّ نَتَائِقِ اَلدُّنْيَا مَدَراً، وَ أَضْيَقِ بُطُونِ اَلْأَوْدِيَةِ قُطْراً. بَيْنَ جِبَالٍ خَشِنَةٍ، وَ رِمَالٍ دَمِثَةٍ، وَ عُيُونٍ وَشِلَةٍ، وَ قُرًى مُنْقَطِعَةٍ؛ لاَ يَزْكُو بِهَا خُفٌّ، وَ لاَ حَافِرٌ وَ لاَ ظِلْفٌ. ثُمَّ أَمَرَ آدَمَعليه‌السلام وَ وَلَدَهُ أَنْ يَثْنُوا أَعْطَافَهُمْ(اغطافهم) نَحْوَهُ. فَصَارَ مَثَابَةً لِمُنْتَجَعِ أَسْفَارِهِمْ، وَ غَايَةً لِمُلْقَى رِحَالِهِمْ. تَهْوِي إِلَيْهِ ثِمَارُ اَلْأَفْئِدَةِ مِنْ مَفَاوِزِ قِفَارٍ سَحِيقَةٍ وَ مَهَاوِي فِجَاجٍ عَمِيقَةٍ، وَ جَزَائِرِ بِحَارٍ مُنْقَطِعَةٍ، حَتَّى يَهُزُّوا مَنَاكِبَهُمْ ذُلُلاً يُهَلِّلُونَ لِلَّهِ حَوْلَهُ وَ يَرْمُلُونَ عَلَى أَقْدَامِهِمْ شُعْثاً غُبْراً لَهُ قَدْ نَبَذُوا اَلسَّرَابِيلَ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ، وَ شَوَّهُوا بِإِعْفَاءِ اَلشُّعُورِ مَحَاسِنَ خَلْقِهِمُ، اِبْتِلاَءً عَظِيماً، وَ اِمْتِحَاناً شَدِيداً، وَ اِخْتِبَاراً مُبِيناً، وَ تَمْحِيصاً بَلِيغاً، جَعَلَهُ اَللَّهُ سَبَباً لِرَحْمَتِهِ، وَ وُصْلَةً إِلَى جَنَّتِهِ. وَ لَوْ أَرَادَسُبْحَانَهُ أَنْ يَضَعَ بَيْتَهُ اَلْحَرَامَ، وَ مَشَاعِرَهُ اَلْعِظَامَ، بَيْنَ جَنَّاتٍ وَ أَنْهَارٍ، وَ سَهْلٍ وَ قَرَارٍ، جَمَّ اَلْأَشْجَارِ دَانِيَ اَلثِّمَارِ، مُلْتَفَّ اَلْبُنَى، مُتَّصِلَ اَلْقُرَى، بَيْنَ بُرَّةٍ سَمْرَاءَ، وَ رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ، وَ أَرْيَافٍ مُحْدِقَةٍ، وَ عِرَاصٍ مُغْدِقَةٍ، وَ رِيَاضٍ نَاضِرَةٍ، وَ طُرُقٍ عَامِرَةٍ، لَكَانَ قَدْ صَغُرَ قَدْرُ اَلْجَزَاءِ عَلَى حَسَبِ ضَعْفِ اَلْبَلاَءِ. وَ لَوْ كَانَ اَلْإِسَاسُ اَلْمَحْمُولُ عَلَيْهَا، وَ اَلْأَحْجَارُ اَلْمَرْفُوعُ بِهَا، بَيْنَ زُمُرُّدَةٍ خَضْرَاءَ، وَ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ، وَ نُورٍ وَ ضِيَاءٍ، لَخَفَّفَ ذَلِكَ مُصَارَعَةَ(مضارعة) اَلشَّكِّ فِي اَلصُّدُورِ، وَ لَوَضَعَ مُجَاهَدَةَ إِبْلِيسَ عَنِ اَلْقُلُوبِ، وَ لَنَفَى مُعْتَلَجَ اَلرَّيْبِ مِنَ اَلنَّاسِ، وَ لَكِنَّ اَللَّهَ يَخْتَبِرُ عِبَادَهُ بِأَنْوَاعِ اَلشَّدَائِدِ، وَ يَتَعَبَّدُهُمْ بِأَنْوَاعِ اَلْمَجَاهِدِ، وَ يَبْتَلِيهِمْ بِضُرُوبِ اَلْمَكَارِهِ، إِخْرَاجاً لِلتَّكَبُّرِ مِنْ قُلُوبِهِمْ، وَ إِسْكَاناً لِلتَّذَلُّلِ فِي نُفُوسِهِمْ، وَ لِيَجْعَلَ ذَلِكَ أَبْوَاباً فُتُحاً إِلَى فَضْلِهِ، وَ أَسْبَاباً ذُلُلاً لِعَفْوِهِ.

الحث علی إجتناب من الظلم

فَاللَّهَ اَللَّهَ فِي عَاجِلِ اَلْبَغْيِ، وَ آجِلِ وَخَامَةِ اَلظُّلْمِ، وَ سُوءِ عَاقِبَةِ اَلْكِبْرِ، فَإِنَّهَا مَصْيَدَةُ إِبْلِيسَ اَلْعُظْمَى، وَ مَكِيدَتُهُ اَلْكُبْرَى، اَلَّتِي تُسَاوِرُ قُلُوبَ اَلرِّجَالِ مُسَاوَرَةَ اَلسُّمُومِ اَلْقَاتِلَةِ، فَمَا تُكْدِي أَبَداً، وَ لاَ تُشْوِي أَحَداً، لاَ عَالِماً لِعِلْمِهِ وَ لاَ مُقِلاًّ فِي طِمْرِهِ.

وَ عَنْ ذَلِكَ مَا حَرَسَ اَللَّهُ عِبَادَهُ اَلْمُؤْمِنِينَ بِالصَّلَوَاتِ وَ اَلزَّكَوَاتِ، وَ مُجَاهَدَةِ اَلصِّيَامِ فِي اَلْأَيَّامِ اَلْمَفْرُوضَاتِ، تَسْكِيناً لِأَطْرَافِهِمْ، وَ تَخْشِيعاً لِأَبْصَارِهِمْ، وَ تَذْلِيلاً لِنُفُوسِهِمْ، وَ تَخْفِضاً لِقُلُوبِهِمْ، وَ إِذْهَاباً لِلْخُيَلاَءِ عَنْهُمْ، وَ لِمَا فِي ذَلِكَ مِنْ تَعْفِيرِ عِتَاقِ اَلْوُجُوهِ بِالتُّرَابِ تَوَاضُعاً، وَ اِلْتِصَاقِ كَرَائِمِ اَلْجَوَارِحِ بِالْأَرْضِ تَصَاغُراً، وَ لُحُوقِ اَلْبُطُونِ بِالْمُتُونِ مِنَ اَلصِّيَامِ تَذَلُّلاً: مَعَ مَا فِي اَلزَّكَاةِ مِنْ صَرْفِ ثَمَرَاتِ اَلْأَرْضِ وَ غَيْرِ ذَلِكَ إِلَى أَهْلِ اَلْمَسْكَنَةِ وَ اَلْفَقْرِ. فضائل الفرائض اُنْظُرُوا إِلَى مَا فِي هَذِهِ اَلْأَفْعَالِ مِنْ قَمْعِ نَوَاجِمِ اَلْفَخْرِ، وَ قَدْعِ طَوَالِعِ اَلْكِبْرِ!.

وَ لَقَدْ نَظَرْتُ فَمَا وَجَدْتُ أَحَداً مِنَ اَلْعَالَمِينَ يَتَعَصَّبُ لِشَيْ‏ءٍ مِنَ اَلْأَشْيَاءِ إِلاَّ عَنْ عِلَّةٍ تَحْتَمِلُ تَمْوِيهَ اَلْجُهَلاَءِ، أَوْ حُجَّةٍ تَلِيطُ بِعُقُولِ اَلسُّفَهَاءِ غَيْرَكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ تَتَعَصَّبُونَ لِأَمْرٍ مَا يُعْرَفُ لَهُ سَبَبٌ وَ لاَ عِلَّةٌ أَمَّا إِبْلِيسُ فَتَعَصَّبَ عَلَى آدَمَ لِأَصْلِهِ، وَ طَعَنَ عَلَيْهِ فِي خِلْقَتِهِ، فَقَالَ:«أَنَا نَارِيٌّ وَ أَنْتَ طِينِيٌّ» . عصبية المال وَ أَمَّا اَلْأَغْنِيَاءُ مِنْ مُتْرَفَةِ اَلْأُمَمِ فَتَعَصَّبُوا لِآثَارِ مَوَاقِعِ اَلنِّعَمِ، فَ( قالُوا نَحْنُ أَكْثَرُ أَمْوالاً وَ أَوْلاداً وَ ما نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ ) . فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ مِنَ اَلْعَصَبِيَّةِ فَلْيَكُنْ تَعَصُّبُكُمْ لِمَكَارِمِ اَلْخِصَالِ وَ مَحَامِدِ اَلْأَفْعَالِ وَ مَحَاسِنِ اَلْأُمُورِ اَلَّتِي تَفَاضَلَتْ فِيهَا اَلْمُجَدَاءُ وَ اَلنُّجَدَاءُ مِنْ بُيُوتَاتِ اَلْعَرَبِ وَ يَعَاسِيبِ اَلقَبَائِلِ؛ بِالْأَخْلاَقِ اَلرَّغِيبَةِ وَ اَلْأَحْلاَمِ اَلْعَظِيمَةِ، وَ اَلْأَخْطَارِ اَلْجَلِيلَةِ وَ اَلْآثَارِ اَلْمَحْمُودَةِ. فَتَعَصَّبُوا لِخِلاَلِ اَلْحَمْدِ مِنَ اَلْحِفْظِ لِلْجِوَارِ، وَ اَلْوَفَاءِ بِالذِّمَامِ، وَ اَلطَّاعَةِ لِلْبِرِّ، وَ اَلْمَعْصِيَةِ لِلْكِبْرِ، وَ اَلْأَخْذِ بِالْفَضْلِ، وَ اَلْكَفِّ عَنِ اَلْبَغْيِ، وَ اَلْإِعْظَامِ لِلْقَتْلِ، وَ اَلْإِنْصَافِ لِلْخَلْقِ، وَ اَلْكَظْمِ لِلْغَيْظِ، وَ اِجْتِنَابِ اَلْفَسَادِ فِي اَلْأَرْضِ.

وَ اِحْذَرُوا مَا نَزَلَ بِالْأُمَمِ قَبْلَكُمْ مِنَ اَلْمَثُلاَتِ بِسُوءِ اَلْأَفْعَالِ، وَ ذَمِيمِ اَلْأَعْمَالِ. فَتَذَكَّرُوا فِي اَلْخَيْرِ وَ اَلشَّرِّ أَحْوَالَهُمْ وَ اِحْذَرُوا أَنْ تَكُونُوا أَمْثَالَهُمْ. فَإِذَا تَفَكَّرْتُمْ فِي تَفَاوُتِ حَالَيْهِمْ، فَالْزَمُوا كُلَّ أَمْرٍ لَزِمَتِ اَلْعِزَّةُ بِهِ شَأْنَهُمْ وَ زَاحَتِ اَلْأَعْدَاءُ لَهُ عَنْهُمْ، وَ مُدَّتِ اَلْعَافِيَةُ بِهِ عَلَيْهِمْ وَ اِنْقَادَتِ اَلنِّعْمَةُ لَهُ مَعَهُمْ وَ وَصَلَتِ اَلْكَرَامَةُ عَلَيْهِ حَبْلَهُمْ مِنَ اَلاِجْتِنَابِ لِلْفُرْقَةِ، وَ اَللُّزُومِ لِلْأُلْفَةِ، وَ اَلتَّحَاضِّ عَلَيْهَا، وَ اَلتَّوَاصِي بِهَا. وَ اِجْتَنِبُوا كُلَّ أَمْرٍ كَسَرَ فِقْرَتَهُمْ، وَ أَوْهَنَ مُنَّتَهُمْ؛ مِنْ تَضَاغُنِ اَلْقُلُوبِ، وَ تَشَاحُنِ اَلصُّدُورِ، وَ تَدَابُرِ اَلنُّفُوسِ، وَ تَخَاذُلِ اَلْأَيْدِي. وَ تَدَبَّرُوا أَحْوَالَ اَلْمَاضِينَ مِنَ اَلْمُؤْمِنِينَ قَبْلَكُمْ، كَيْفَ كَانُوا فِي حَالِ اَلتَّمْحِيصِ وَ اَلْبَلاَءِ. أَ لَمْ يَكُونُوا أَثْقَلَ اَلْخَلاَئِقِ أَعْبَاءً. وَ أَجْهَدَ اَلْعِبَادِ بَلاَءً وَ أَضْيَقَ أَهْلِ اَلدُّنْيَا حَالاً. اِتَّخَذَتْهُمُ اَلْفَرَاعِنَةُ عَبِيداً فَسَامُوهُمْ سُوءَ اَلْعَذَابِ، وَ جَرَّعُوهُمُ اَلْمُرَارَ، فَلَمْ تَبْرَحِ اَلْحَالُ بِهِمْ فِي ذُلِّ اَلْهَلَكَةِ وَ قَهْرِ اَلْغَلَبَةِ، لاَ يَجِدُونَ حِيلَةً فِي اِمْتِنَاعٍ، وَ لاَ سَبِيلاً إِلَى دِفَاعٍ. حَتَّى إِذَا رَأَى اَللَّهُسُبْحَانَهُ جِدَّ اَلصَّبْرِ مِنْهُمْ عَلَى اَلْأَذَى فِي مَحَبَّتِهِ، وَ اَلاِحْتِمَالَ لِلْمَكْرُوهِ مِنْ خَوْفِهِ جَعَلَ لَهُمْ مِنْ مَضَايِقِ اَلْبَلاَءِ فَرَجاً، فَأَبْدَلَهُمُ اَلْعِزَّ مَكَانَ اَلذُّلِّ، وَ اَلْأَمْنَ مَكَانَ اَلْخَوْفِ، فَصَارُوا مُلُوكاً حُكَّاماً، وَ أَئِمَّةً أَعْلاَماً، وَ قَدْ بَلَغَتِ اَلْكَرَامَةُ مِنَ اَللَّهِ لَهُمْ مَا لَمْ تَذْهَبِ اَلْآمَالُ إِلَيْهِ بِهِمْ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانُوا حَيْثُ كَانَتِ اَلْأَمْلاَءُ مُجْتَمِعَةً، وَ اَلْأَهْوَاءُ مُؤْتَلِفَةً، وَ اَلْقُلُوبُ مُعْتَدِلَةً، وَ اَلْأَيْدِي مُتَرَادِفَةً(مترافدة) ، وَ اَلسُّيُوفُ مُتَنَاصِرَةً، وَ اَلْبَصَائِرُ نَافِذَةً، وَ اَلْعَزَائِمُ وَاحِدَةً. أَلَمْ يَكُونُوا أَرْبَاباً فِي أَقْطَارِ اَلْأَرَضِينَ، وَ مُلُوكاً عَلَى رِقَابِ اَلْعَالَمِينَ! فَانْظُرُوا إِلَى مَا صَارُوا إِلَيْهِ فِي آخِرِ أُمُورِهِمْ، حِينَ وَقَعَتِ اَلْفُرْقَةُ، وَ تَشَتَّتَتِ اَلْأُلْفَةُ، وَ اِخْتَلَفَتِ اَلْكَلِمَةُ وَ اَلْأَفْئِدَةُ، وَ تَشَعَّبُوا مُخْتَلِفِينَ، وَ تَفَرَّقُوا مُتَحَارِبِينَ، وَ قَدْ خَلَعَ اَللَّهُ عَنْهُمْ لِبَاسَ كَرَامَتِهِ، وَ سَلَبَهُمْ غَضَارَةَ نِعْمَتِهِ، وَ بَقِيَ قَصَصُ أَخْبَارِهِمْ فِيكُمْ عِبَراً لِلْمُعْتَبِرِينَ. الاعتبار بالأمم فَاعْتَبِرُوا بِحَالِ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَ بَنِي إِسْحَاقَ وَ بَنِي إِسْرَائِيلَعليه‌السلام . فَمَا أَشَدَّ اِعْتِدَالَ اَلْأَحْوَالِ، وَ أَقْرَبَ اِشْتِبَاهَ اَلْأَمْثَالِ! تَأَمَّلُوا أَمْرَهُمْ فِي حَالِ تَشَتُّتِهِمْ وَ تَفَرُّقِهِمْ، لَيَالِيَ كَانَتِ اَلْأَكَاسِرَةُ وَ اَلْقَيَاصِرَةُ أَرْبَاباً لَهُمْ، يَحْتَازُونَهُمْ عَنْ رِيفِ اَلْآفَاقِ، وَ بَحْرِ اَلْعِرَاقِ، وَ خُضْرَةِ اَلدُّنْيَا، إِلَى مَنَابِتِ(مهابّ) اَلشِّيحِ، وَ مَهَافِي اَلرِّيحِ، وَ نَكَدِ اَلْمَعَاشِ، فَتَرَكُوهُمْ عَالَةً مَسَاكِينَ إِخْوَانَ دَبَرٍ(دین) وَ وَبَرٍ(وترٍ) ، أَذَلَّ اَلْأُمَمِ دَاراً، وَ أَجْدَبَهُمْ قَرَاراً، لاَ يَأْوُونَ إِلَى جَنَاحِ دَعْوَةٍ يَعْتَصِمُونَ بِهَا، وَ لاَ إِلَى ظِلِّ أُلْفَةٍ يَعْتَمِدُونَ عَلَى عِزِّهَا. فَالْأَحْوَالُ مُضْطَرِبَةٌ، وَ اَلْأَيْدِي مُخْتَلِفَةٌ، وَ اَلْكَثْرَةُ مُتَفَرِّقَةٌ؛ فِي بَلاَءِ أَزْلٍ، وَ أَطْبَاقِ جَهْلٍ! مِنْ بَنَاتٍ مَوْؤودَةٍ، وَ أَصْنَامٍ مَعْبُودَةٍ، وَ أَرْحَامٍ مَقْطُوعَةٍ، وَ غَارَاتٍ مَشْنُونَةٍ.

فَانْظُرُوا إِلَى مَوَاقِعِ نِعَمِ اَللَّهِ عَلَيْهِمْ حِينَ بَعَثَ إِلَيْهِمْ رَسُولاً، فَعَقَدَ بِمِلَّتِهِ طَاعَتَهُمْ، وَ جَمَعَ عَلَى دَعْوَتِهِ أُلْفَتَهُمْ: كَيْفَ نَشَرَتِ اَلنِّعْمَةُ عَلَيْهِمْ جَنَاحَ كَرَامَتِهَا، وَ أَسَالَتْ لَهُمْ جَدَاوِلَ نَعِيمِهَا، وَ اِلْتَفَّتِ اَلْمِلَّةُ بِهِمْ فِي عَوَائِدِ بَرَكَتِهَا. فَأَصْبَحُوا فِي نِعْمَتِهَا غَرِقِينَ، وَ فِي خُضْرَةِ عَيْشِهَا فَكِهِينَ(فاکهین) . قَدْ تَرَبَّعَتِ اَلْأُمُورُ بِهِمْ، فِي ظِلِّ سُلْطَانٍ قَاهِرٍ، وَ آوَتْهُمُ اَلْحَالُ إِلَى كَنَفِ عِزٍّ غَالِبٍ، وَ تَعَطَّفَتِ اَلْأُمُورُ عَلَيْهِمْ فِي ذُرَى مُلْكٍ ثَابِتٍ. فَهُمْ حُكَّامٌ عَلَى اَلْعَالَمِينَ، وَ مُلُوكٌ فِي أَطْرَافِ اَلْأَرَضِينَ. يَمْلِكُونَ اَلْأُمُورَ عَلَى مَنْ كَانَ يَمْلِكُهَا عَلَيْهِمْ، وَ يُمْضُونَ اَلْأَحْكَامَ فِيمَنْ كَانَ يُمْضِيهَا فِيهِمْ! لاَ تُغْمَزُ لَهُمْ قَنَاةٌ، وَ لاَ تُقْرَعُ لَهُمْ صَفَاةٌ!

علل ذمّ الکوفیّین

أَلاَ وَ إِنَّكُمْ قَدْ نَفَضْتُمْ أَيْدِيَكُمْ مِنْ حَبْلِ اَلطَّاعَةِ، وَ ثَلَمْتُمْ حِصْنَ اَللَّهِ اَلْمَضْرُوبَ عَلَيْكُمْ، بِأَحْكَامِ اَلْجَاهِلِيَّةِ. فَإِنَّ اَللَّهَ سُبْحَانَهُ قَدِ اِمْتَنَّ عَلَى جَمَاعَةِ هَذِهِ اَلْأُمَّةِ فِيمَا عَقَدَ بَيْنَهُمْ مِنْ حَبْلِ هَذِهِ اَلْأُلْفَةِ اَلَّتِي يَنْتَقِلُونَ فِي ظِلِّهَا وَ يَأْوُونَ إِلَى كَنَفِهَا، بِنِعْمَةٍ لاَ يَعْرِفُ أَحَدٌ مِنَ اَلْمَخْلُوقِينَ لَهَا قِيمَةً، لِأَنَّهَا أَرْجَحُ مِنْ كُلِّ ثَمَنٍ، وَ أَجَلُّ مِنْ كُلِّ خَطَرٍ. وَ اِعْلَمُوا أَنَّكُمْ صِرْتُمْ بَعْدَ اَلْهِجْرَةِ أَعْرَاباً، وَ بَعْدَ اَلْمُوَالاَةِ أَحْزَاباً، مَا تَتَعَلَّقُونَ مِنَ اَلْإِسْلاَمِ إِلاَّ بِاسْمِهِ وَ لاَ تَعْرِفُونَ مِنَ اَلْإِيمَانِ إِلاَّ رَسْمَهُ. تَقُولُونَ: اَلنَّارَ وَ لاَ اَلْعَارَ! كَأَنَّكُمْ تُرِيدُونَ أَنْ تُكْفِئُوا اَلْإِسْلاَمَ عَلَى وَجْهِهِ اِنْتِهَاكاً لِحَرِيمِهِ، وَ نَقْضاً لِمِيثَاقِهِ اَلَّذِي وَضَعَهُ اَللَّهُ لَكُمْ حَرَماً فِي أَرْضِهِ، وَ أَمْناً بَيْنَ خَلْقِهِ. وَ إِنَّكُمْ إِنْ لَجَأْتُمْ إِلَى غَيْرِهِ حَارَبَكُمْ أَهْلُ اَلْكُفْرِ. ثُمَّ لاَ جَبْرَائِيلُ وَ لاَ مِيكَائِيلُ وَ لاَ مُهَاجِرُونَ وَ لاَ أَنْصَارٌ يَنْصُرُونَكُمْ إِلاَّ اَلْمُقَارَعَةَ بِالسَّيْفِ حَتَّى يَحْكُمَ اَللَّهُ بَيْنَكُمْ. وَ إِنَّ عِنْدَكُمُ اَلْأَمْثَالَ مِنْ بَأْسِ اَللَّهِ وَ قَوَارِعِهِ وَ أَيَّامِهِ وَ وَقَائِعِهِ، فَلاَ تَسْتَبْطِئُوا وَعِيدَهُ جَهْلاً بِأَخْذِهِ، وَ تَهَاوُناً بِبَطْشِهِ(بسطه) ، وَ يَأْساً مِنْ بَأْسِهِ. فَإِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ لَمْ يَلْعَنِ اَلْقَرْنَ اَلْمَاضِيَ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ إِلاَّ لِتَرْكِهِمُ اَلْأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَ اَلنَّهْيَ عَنِ اَلْمُنْكَرِ. فَلَعَنَ اَللَّهُ اَلسُّفَهَاءَ لِرُكُوبِ اَلْمَعَاصِي وَ اَلْحُلَمَاءَ لِتَرْكِ اَلتَّنَاهِي! أَلاَ وَ قَدْ قَطَعْتُمْ قَيْدَ اَلْإِسْلاَمِ، وَ عَطَّلْتُمْ حُدُودَهُ وَ أَمَتُّمْ أَحْكَامَهُ.

ثبات الامام فی الجهاد المنحرفین

أَلاَ وَ قَدْ أَمَرَنِيَ اَللَّهُ بِقِتَالِ أَهْلِ اَلْبَغْيِ وَ اَلنَّكْثِ وَ اَلْفَسَادِ فِي اَلْأَرْضِ، فَأَمَّا اَلنَّاكِثُونَ فَقَدْ قَاتَلْتُ، وَ أَمَّا اَلْقَاسِطُونَ فَقَدْ جَاهَدْتُ، وَ أَمَّا اَلْمَارِقَةُ فَقَدْ دَوَّخْتُ، وَ أَمَّا شَيْطَانُ اَلرَّدْهَةِ فَقَدْ كُفِيتُهُ بِصَعْقَةٍ سُمِعَتْ لَهَا وَجْبَةُ قَلْبِهِ وَ رَجَّةُ صَدْرِهِ، وَ بَقِيَتْ بَقِيَّةٌ مِنْ أَهْلِ اَلْبَغْيِ. وَ لَئِنْ أَذِنَ اَللَّهُ فِي اَلْكَرَّةِ عَلَيْهِمْ لَأُدِيلَنَّ مِنْهُمْ إِلاَّ مَا يَتَشَذَّرُ فِي أَطْرَافِ اَلْبِلاَدِ(الارض) تَشَذُّراً(تشذذاً) !.

أَنَا وَضَعْتُ فِي اَلصِّغَرِ بِكَلاَكِلِ(کلکل) اَلْعَرَبِ، وَ كَسَرْتُ نَوَاجِمَ قُرُونِ رَبِيعَةَ وَ مُضَرَ. وَ قَدْ عَلِمْتُمْ مَوْضِعِي مِنْ رَسُولِ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم بِالْقَرَابَةِ اَلْقَرِيبَةِ وَ اَلْمَنْزِلَةِ اَلْخَصِيصَةِ وَضَعَنِي فِي حِجْرِهِ وَ أَنَا وَلَدٌ(ولیدٌ) يَضُمُّنِي إِلَى صَدْرِهِ، وَ يَكْنُفُنِي فِي فِرَاشِهِ، وَ يُمِسُّنِي جَسَدَهُ، وَ يُشِمُّنِي عَرْفَهُ. وَ كَانَ يَمْضَغُ اَلشَّيْ‏ءَ ثُمَّ يُلْقِمُنِيهِ، وَ مَا وَجَدَ لِي كَذْبَةً فِي قَوْلٍ، وَ لاَ خَطْلَةً فِي فِعْلٍ. وَ لَقَدْ قَرَنَ اَللَّهُ بِهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم مِنْ لَدُنْ أَنْ كَانَ فَطِيماً أَعْظَمَ مَلَكٍ مِنْ مَلاَئِكَتِهِ يَسْلُكُ بِهِ طَرِيقَ اَلْمَكَارِمِ، وَ مَحَاسِنَ أَخْلاَقِ اَلْعَالَمِ لَيْلَهُ وَ نَهَارَهُ. وَ لَقَدْ كُنْتُ أَتَّبِعُهُ اِتِّبَاعَ اَلْفَصِيلِ أَثَرَ أُمِّهِ، يَرْفَعُ لِي فِي كُلِّ يَوْمٍ مِنْ أَخْلاَقِهِ عَلَماً، وَ يَأْمُرُنِي بِالاِقْتِدَاءِ بِهِ. وَ لَقَدْ كَانَ يُجَاوِرُ فِي كُلِّ سَنَةٍ بِحِرَاءَ فَأَرَاهُ، وَ لاَ يَرَاهُ غَيْرِي. وَ لَمْ يَجْمَعْ بَيْتٌ وَاحِدٌ يَوْمَئِذٍ فِي اَلْإِسْلاَمِ غَيْرَ رَسُولِ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم وَ خَدِيجَةَ وَ أَنَا ثَالِثُهُمَا. أَرَى نُورَ اَلْوَحْيِ وَ اَلرِّسَالَةِ، وَ أَشُمُّ رِيحَ اَلنُّبُوَّةِ. وَ لَقَدْ سَمِعْتُ رَنَّةَ(رنة) اَلشَّيْطَانِ حِينَ نَزَلَ اَلْوَحْيُ عَلَيْهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اَللَّهِ! مَا هَذِهِ اَلرَّنَّةُ؟ فَقَالَ:«هَذَا اَلشَّيْطَانُ قَدْ أَيِسَ مِنْ عِبَادَتِهِ إِنَّكَ تَسْمَعُ مَا أَسْمَعُ وَ تَرَى مَا أَرَى إِلاَّ أَنَّكَ لَسْتَ بِنَبِيٍّ وَ لَكِنَّكَ لَوَزِيرٌ وَ إِنَّكَ لَعَلَى خَيْرٍ.»

وَ لَقَدْ كُنْتُ مَعَهُصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم لَمَّا أَتَاهُ اَلْمَلَأُ مِنْ قُرَيْشٍ، فَقَالُوا لَهُ:يَا مُحَمَّدُ، إِنَّكَ قَدِ اِدَّعَيْتَ عَظِيماً لَمْ يَدَّعِهِ آبَاؤُكَ وَ لاَ أَحَدٌ مِنْ بَيْتِكَ وَ نَحْنُ نَسْأَلُكَ أَمْراً إِنْ أَنْتَ أَجَبْتَنَا إِلَيْهِ وَ أَرَيْتَنَاهُ عَلِمْنَا أَنَّكَ نَبِيٌّ وَ رَسُولٌ وَ إِنْ لَمْ تَفْعَلْ عَلِمْنَا أَنَّكَ سَاحِرٌ كَذَّابٌ . فَقَالَصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم :«وَ مَا تَسْأَلُونَ؟» قَالُوا:تَدْعُو لَنَا هَذِهِ اَلشَّجَرَةَ حَتَّى تَنْقَلِعَ بِعُرُوقِهَا وَ تَقِفَ بَيْنَ يَدَيْكَ. فَقَالَصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم :«إِنَّ اَللَّهَ عَلى‏ كُلِّ شَيْ‏ءٍ قَدِيرٌ فَإِنْ فَعَلَ اَللَّهُ لَكُمْ ذَلِكَ أَ تُؤْمِنُونَ وَ تَشْهَدُونَ بِالْحَقِّ؟» قَالُوا: نَعَمْ. قَالَ:«فَإِنِّي سَأُرِيكُمْ مَا تَطْلُبُونَ وَ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكُمْ لاَ تَفِيئُونَ إِلَى خَيْرٍ وَ إِنَّ فِيكُمْ مَنْ يُطْرَحُ فِي اَلْقَلِيبِ وَ مَنْ يُحَزِّبُ اَلْأَحْزَابَ» ثُمَّ قَالَصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم :«يَا أَيَّتُهَا اَلشَّجَرَةُ إِنْ كُنْتِ تُؤْمِنِينَ بِاللَّهِ وَ اَلْيَوْمِ اَلْآخِرِ، وَ تَعْلَمِينَ أَنِّي رَسُولُ اَللَّهِ فَانْقَلِعِي بِعُرُوقِكِ حَتَّى تَقِفِي بَيْنَ يَدَيَّ بِإِذْنِ اَللَّهِ» فَوَالَّذِي بَعَثَهُ بِالْحَقِّ لاَنْقَلَعَتْ بِعُرُوقِهَا وَ جَاءَتْ وَ لَهَا دَوِيٌّ شَدِيدٌ وَ قَصْفٌ كَقَصْفِ أَجْنِحَةِ اَلطَّيْرِ؛ حَتَّى وَقَفَتْ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم مُرَفْرِفَةً، وَ أَلْقَتْ بِغُصْنِهَا اَلْأَعْلَى عَلَى رَسُولِ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم وَ بِبَعْضِ أَغْصَانِهَا عَلَى مَنْكِبِي وَ كُنْتُ عَنْ يَمِينِهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَلَمَّا نَظَرَ اَلْقَوْمُ إِلَى ذَلِكَ قَالُوا عُلُوّاً وَ اِسْتِكْبَاراً فَمُرْهَا فَلْيَأْتِكَ نِصْفُهَا وَ يَبْقَى نِصْفُهَا فَأَمَرَهَا بِذَلِكَ فَأَقْبَلَ إِلَيْهِ نِصْفُهَا كَأَعْجَبِ إِقْبَالٍ وَ أَشَدِّهِ دَوِيّاً فَكَادَتْ تَلْتَفُّ بِرَسُولِ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَقَالُواكُفْراً وَ عُتُوّاً فَمُرْ هَذَا اَلنِّصْفَ فَلْيَرْجِعْ إِلَى نِصْفِهِ كَمَا كَانَ ، فَأَمَرَهُصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَرَجَعَ. فَقُلْتُ أَنَا: لاَ إِلَهَ إِلاَّ اَللَّهُ؛ إِنِّي أَوَّلُ مُؤْمِنٍ بِكَ يَا رَسُولَ اَللَّهِ وَ أَوَّلُ مَنْ أَقَرَّ بِأَنَّ اَلشَّجَرَةَ فَعَلَتْ مَا فَعَلَتْ بِأَمْرِ اَللَّهِ تَعَالَى تَصْدِيقاً بِنُبُوَّتِكَ، وَ إِجْلاَلاً لِكَلِمَتِكَ. فَقَالَ اَلْقَوْمُ كُلُّهُمْ:بَلْ ساحِرٌ كَذَّابٌ عَجِيبُ اَلسِّحْرِ خَفِيفٌ فِيهِ وَ هَلْ يُصَدِّقُكَ فِي أَمْرِكَ إِلاَّ مِثْلُ هَذَا !(يَعْنُونَنِي) .

نموذج المؤمن الکامل

وَ إِنِّي لَمِنْ قَوْمٍ لاَ تَأْخُذُهُمْ فِي اَللَّهِ لَوْمَةُ لاَئِمٍ، سِيمَاهُمْ سِيمَا اَلصِّدِّيقِينَ، وَ كَلاَمُهُمْ كَلاَمُ اَلْأَبْرَارِ، عُمَّارُ اَللَّيْلِ وَ مَنَارُ اَلنَّهَارِ. مُتَمَسِّكُونَ بِحَبْلِ اَلْقُرْآنِ؛ يُحْيُونَ سُنَنَ اَللَّهِ وَ سُنَنَ رَسُولِهِ؛ لاَ يَسْتَكْبِرُونَ وَ لاَ يَعْلُونَ، وَ لاَ يَغُلُّونَ وَ لاَ يُفْسِدُونَ. قُلُوبُهُمْ فِي اَلْجِنَانِ، وَ أَجْسَادُهُمْ فِي اَلْعَمَلِ!.

খোৎবাতুল কাসিআহ

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর যিনি সম্মান ও মর্যাদার ভূষণে ভূষিত এবং এটা তিনি তাঁর বান্দার পরিবর্তে নিজের জন্যই নির্ধারিত করেছেন। এই সম্মান ও মর্যাদাকে তিনি অন্যের জন্য অপ্রবেশ্য ও অবৈধ করেছেন। তিনি তার মহিমান্বিত জাতের জন্য এটা নির্ধারণ করেছেন এবং যে কেউ এ বিষয়ে তার সাথে প্রতিযোগিতা করবে তার প্রতি লানত দিয়েছেন।

ইবলিসের আত্মম্ভরিতা সম্পর্কে

তিনি তার ফেরেশতাগণকে এসব গুণাবলী সম্বন্ধে পরীক্ষায় ফেললেন যাতে তাদের মধ্যে কারা বিনয়ী আর কারা দুর্বিণীত তা পরখ করা যায়। হৃদয়ে যা লুক্কায়িত ও অদৃশ্যে যা বিরাজমান সে বিষয়ে জ্ঞাত আল্লাহ বলেনঃ

... নিশ্চয়ই আমি কর্দম থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। যখন আমি তাকে সুষম করবো এবং তাতে আমার রুহ সঞ্চার করবো , তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো । তখন ফেরেশতাগণ সকলেই সিজদাবনত হলো , কেবল ইবলিস ব্যতীত , সে অহংকার করলো , ফলে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হলো।(কুরআন - ৩৮ ; ৭১ - ৭৪) ইবলিসের অসার দম্ভ তার পথে বাধা হয়ে দাড়ালো।

সুতরাং সে নিজের সৃষ্টি ও মূল উৎস বিষয়ে গর্ব অনুভব করে আদমের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করলো। এভাবেই আল্লাহর এ শত্রু দাম্ভিক ও উদ্ধতগণের নেতা হলো। এ ইবলিসই বিরোধিতার গোড়া পত্তন করেছিলো , মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহর সাথে কলহে লিপ্ত হয়েছিলো , ঔদ্ধত্যের পোষাক পরিধান করেছিলো এবং বিনম্রতার আবরণ অপসারিত করেছিলো। তোমরা কি দেখ না অসাড় দম্ভ ও কল্পিত মর্যাদার গর্ব করার ফলে আল্লাহ তাকে কিভাবে অপমান ও মর্যাদাহীন করেছেন ? আল্লাহ তাকে ইহকালে পরিত্যাগ করেছেন এবং পরকালে তার জন্য জ্বলন্ত অনল প্রস্তুত রেখেছেন।

যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে আদমকে এমন নূর থেকে সৃষ্টি করতে পারতেন যার তাজাল্লি চোখ ধাঁধিয়ে দিত , যার সৌন্দর্য সকলকে বিহ্বল করে দিত এবং যার সুগন্ধ শ্বাস - প্রশ্বাসে অনুভূত হতো ; যদি তিনি এমনটি করতেন তবে ফেরেশতাগণের পরীক্ষা সহজতর হতো। কিন্তু মহিমান্বিত আল্লাহ তার বান্দাগণকে এমন জিনিস দ্বারা পরীক্ষা করলেন যার আসল প্রকৃতি তারা জানে না যাতে তারা পরখ করে ভালো মন্দ ব্যবধান করতে পারে এবং যাতে তারা তাদের দম্ভ দূরীভূত করে আত্মম্ভরিতা ও আত্ম - প্রশংসা থেকে দূরে থাকতে পারে।

শয়তানের সাথে আল্লাহ যে ব্যবহার করেছেন তা থেকে তোমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। এক মুহুর্তের আত্মম্ভরিতার কারণে তার সকল মহৎ আমল ও ইবাদত তিনি বাতিল করে দিয়েছেন - যদিও সে ছয় হাজার বছর আল্লাহর ইবাদত করেছিলো - এটা ইহকাল অথবা পরকাল গণনা করে কিনা জানা নেই। শয়তানের পরে একই রকম অবাধ্যতা দেখিয়ে তোমাদের কেউ কি আল্লাহ থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে ? মোটেই কেউ না । মহিমান্বিত আল্লাহ যে কারণে বেহেশত থেকে একজন ফেরেশতাকে বহিস্কার করেছেন সে কাজ করলে তিনি কোন মানুষকে বেহেশতে প্রবেশ করতে দেবেন না। আকাশ ও ভূমণ্ডলের সকলের প্রতি তাঁর আদেশ সমভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহর সঙ্গে কারো এমন কোন বন্ধুত্ব নেই যে জন্য তিনি কাউকে কোন অবাঞ্চিত বিষয়ে লাইসেন্স দিয়েছেন এবং অন্য কারো জন্য তা অবৈধ করেছেন।

শয়তানের বিরুদ্ধে সতর্কতা সম্পর্কে

সুতরাং তোমরা ভয়ে থেকো পাছে শয়তান তার রোগ তোমাদের মাঝে সংক্রমণ করে দেয় অথবা তার আহবানের মাধ্যমে তোমাদেরকে বিপথগামী করে দেয় অথবা তার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তোমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ আমার জীবনের শপথ , সে তোমাদের বিরুদ্ধে তার ধনুকে শর যোজনা করেছে , শক্তভাবে ধনুকে টঙ্কার তুলেছে এবং নিকটবর্তী অবস্থান থেকে তোমাদের প্রতি লক্ষ্য স্থির করেছে। সে বলেছিলঃ

হে আমার প্রভু , যার কারণে আপনি আমাকে পরিত্যাগ করে ধ্বংসে নিপতিত করেছেন , নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে ভ্রান্তির পথে পরিচালিত করবো এবং নিশ্চয়ই আমি তাদের সকলকে বিপথে নিয়ে যাব (কুরআন - ১৫:৩৯)

যদিও অজানা ভবিষ্যৎ বিষয়ে অনুমান করে শয়তান এ উক্তি করেছিলো। তবুও অসাড় দম্ভের পুত্রগণ , ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ভ্রাতাগণ এবং অহমিকা ও অধৈৰ্য্যের অশ্বারোহীগণ তার কথা সত্য বলে প্রমাণিত করেছে ; অন্ততঃপক্ষে তোমাদের মধ্য হতে অবাধ্যরা যখন তার সামনে মাথা নত করে , তোমাদের সম্বন্ধে তার লোভ শক্তিলাভ করে এবং যা ছিল গুপ্ত তা স্পষ্ট হয়ে পড়ে , তোমাদের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এসে যায় ও তার বাহিনী নিয়ে কুচকাওয়াজ করে তোমাদের দিকে এগিয়ে আসে। তৎপর তারা তোমাদেরকে অসম্মানের গর্তে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল , জবাই করার যাতাকল নিক্ষেপ করেছিল , তোমাদেরকে পদদলিত করেছিল , বর্শা দ্বারা চোখে আঘাত করে তোমাদেরকে আহত করেছিল , তোমাদের গলা কেটে দিয়েছিল , তোমাদের নাক ছিড়ে ফেলেছিল , তোমাদের অঙ্গ - প্রতঙ্গ ভেঙ্গে ফেলেছিল এবং তার নিয়ন্ত্রণ - রশিতে তোমাদেরকে বেঁধে জ্বলন্ত আগুনের দিকে নিয়ে গেল। এভাবে সে তোমাদের দ্বীনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হলো এবং তোমাদের দুনিয়াদারিতে ফেতনা - শিখা প্রজ্বলনকারী হিসাবে পরিগণিত হলো। যে সকল শত্রুর বিরুদ্ধে তোমরা সৈন্য চালনা কর , শয়তান তাদের চেয়ে অধিক ঘোরতর শক্র ।

সুতরাং শয়তানের বিরুদ্ধে তোমাদের সমুদয় শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োগ করা উচিত। কারণ আল্লাহর কসম , সে তোমাদের মূল উৎসের প্রতি দম্ভোক্তি করেছিল , তোমাদের মর্যাদা সম্পর্কে প্রশ্নের অবতারণা করেছিল এবং তোমাদের বংশধারার ওপর বাজে মন্তব্য করেছিল। সে তার সৈন্যবাহিনীসহ তোমাদের দিকে অগ্রসর হয়েছিল এবং তোমাদের পথের দিকে তার পদাতিক বাহিনী নিয়ে এসেছিল। তারা প্রতিটি স্থান থেকে তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করছে এবং তারা তোমাদের আঙ্গুলের প্রতিটি জোড়ায় আঘাত করছে। তোমরা কোন উপায়েই আত্মরক্ষা করতে সমর্থ নও এবং কোন সংকল্প দ্বারাই তাদের প্রতিহত করতে পারছে না। তোমরা অসম্মানের কুয়াশায় ঘেরা , দুর্দশার জালে আবদ্ধ , মৃত্যুর মাঠে রয়েছে এবং মহাবিপদের পথে রয়েছো ।

সুতরাং তোমাদের হৃদয়ের গুপ্ত ঔদ্ধত্যের আগুন ও অসহীষ্ণুতার শিখা নিভিয়ে ফেল। একজন মুসলিমের হৃদয়ে এহেন আত্মম্ভরিতা শুধুমাত্র শয়তানের প্ররোচনায় ও কুমন্ত্রণায় হতে পারে। বিনয়ী হবার জন্য মনস্থির কর , আত্মশ্লাঘাকে পদদলিত কর এবং তোমাদের স্কন্ধ হতে আত্মম্ভরিতা দূরে ছুড়ে ফেল। বিনয়কে তোমরা তোমাদের শত্রু অর্থাৎ শয়তান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে গ্রহণ করা। নিশ্চয়ই , সকল জনগোষ্ঠীতেই তার যোদ্ধা , সহায়তাকারী , পদাতিক ও অশ্বারোহী রয়েছে। তোমরা সেই লোকের মতো হয়ো না , যে আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত কোন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী না হয়েও নিজ মায়ের পুত্রের (অর্থাৎ ভাই) ওপর শ্রেষ্ঠত্ব উদ্ভাবন করে। এসব লোকের হৃদয়ে সর্বদা ঈর্ষা ও ক্রোধের আগুন প্রজ্জ্বলিত থাকে যা তাকে আত্মম্ভরিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবির দিকে ঠেলে দেয়। শয়তান তার আত্মম্ভরিতা নিজের নাকে ছুড়ে মেরেছিল এবং তাতে আল্লাহ তাকে গভীর আক্ষেপে ফেললেন এবং শেষ বিচার দিন পর্যন্ত সকল হত্যাকারীর পাপের জন্য তাকে দায়ী করলেন।

জাহেলী যুগের আচরণ পরিহার সম্পর্কে

সাবধান , এ পৃথিবীতে আল্লাহর প্রকাশ্য বিরোধিতা করে যেসব বিদ্রোহ ও ফেতনা সংঘটিত হচ্ছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কারণে মোমিনগণকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে , তোমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রামে লিপ্ত হও । আত্মশ্লাঘা ও আসার দম্ভ অনুভব না করে আল্লাহকে ভয় কর!! আল্লাহকে! কারণ , এটাই শক্রতার মূল এবং শয়তানের নকশা যা দিয়ে শয়তান অতীতেও মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে। ফলে তারা অজ্ঞতার অন্ধকারে পতিত হয়েছিল এবং তার দ্বারা পরিচালিত হয়েও তার নেতৃত্ব মেনে নিয়ে গোমরাহির অতল গহবরে ডুবে গিয়েছিল। যুগের পর যুগ , শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে গেছে , কিন্তু আত্মশ্লাঘা বিষয়ে মানুষের হৃদয় একই রকম রয়ে গেছে - মানুষের হৃদয় আত্মম্ভরিতায় ভরপুর হয়ে আছে।

আত্মম্ভরী নেতাকে মান্য করা সম্পর্কে

সাবধান , তোমরা সেসব নেতা ও প্রবীণদের মান্য করতে সতর্কতা অবলম্বন করো যারা নিজেদের কৃতিত্বে আত্মম্ভরিতা অনুভব করে এবং নিজেদের বংশ মর্যাদা নিয়ে গৌরব করে। তারা সকল বিষয়ের দায় - দায়িত্ব আল্লাহর প্রতি নিক্ষেপ করে , আল্লাহ তাদের জন্য যা করেছেন সেজন্য তাঁর সাথে কলহে লিপ্ত হয় , তার রায়ের প্রতিবাদ করে এবং তার নেয়ামত সম্বন্ধে তর্কের অবতারণা করে। নিশ্চয়ই , তারা একঘুয়েমির ভিত্তিমূল , ফেতনার প্রধান স্তম্ভ এবং প্রাক - ইসলামি যুগের বংশ - গৌরবকারীদের তরবারি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর ; তোমাদের ওপর তাঁর আনুকূল্যের বিরোধিতা করো না এবং তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামতের জন্য ঈর্ষান্বিত হয়ে না। ইসলামের দাবিদারদের মধ্যে যাদের ময়লাযুক্ত পানি তোমরা তোমাদের পরিষ্কার পানির সাথে পান কর , যাদের পীড়া তোমরা তোমাদের সুস্থতার সাথে মিশ্রন কর এবং যাদের ভ্রান্তি তোমরা তোমাদের সঠিক ও ন্যায় বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে ফেল , তাদের মান্য করো না।

তারা পাপের ভিত্তিমূল এবং অবাধ্যতার শক্তিবর্ধক। শয়তান তাদেরকে গোমরাহির বাহক ও সৈন্যে পরিণত করেছে যাদের সাহায্যে সে মানুষকে আক্রমণ করে। তারা ব্যাখ্যাকারক যাদের মাধ্যমে সে কথা বলে যাতে তোমাদের বুদ্ধিমত্তা চুরি করা যায় এবং তোমাদের চোখ ও কানে প্রবেশ করা যায়। এভাবে সে তোমাদেরকে তার তীরের শিকার করে নেয় এবং তার পদচারণার ভূমি ও শক্তির উৎস করে নেয়।

অতীতে যেসব লোক ব্যর্থ হয়ে গেছে তাদের ওপর কিভাবে সে আল্লাহর রোষ ও শাস্তি এনেছিল তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর। তাদের কাত হয়ে গালের ওপর শুয়ে থাকা (মৃত্যু) থেকে উপদেশ গ্রহণ কর এবং আত্মশ্লাঘার বিপদ থেকে রক্ষা পাবার জন্য আল্লাহর করুণা ভিক্ষা কর যেভাবে দুর্যোগের সময় তাঁর নিরাপত্তা যাচনা কর । নিশ্চয়ই , আল্লাহ যদি কাউকে আত্মশ্লাঘা ও গর্ব করার অনুমতি দিতেন তবে তার মনোনীত পয়গম্বরগণ ও তাদের স্থলাভিষিক্তগণকেই তা দিতেন। কিন্তু মহিমান্বিত আল্লাহ তাদের জন্য আত্মম্ভরিতাকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন এবং তাদের বিনয়কে পছন্দ করেছেন। সুতরাং তাঁরা মাটিতে মাথা নত করেছে , তাদের মুখমণ্ডলকে ধূলা - ধুসরিত করেছে , মোমিনদের জন্য নিজদেরকে বক্র করেছে (অর্থাৎ সেজদায় পড়েছে) এবং নিজেরা সর্বদা বিনয়ী হয়ে থেকেছে। আল্লাহ তাদেরকে দারিদ্র ও ক্ষুধা দ্বারা , যন্ত্রণাদায়ক বিপদাপদ ও ভীতি দ্বারা , দুঃখ ও দুর্দশা দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন। সুতরাং সম্পদ ও সন্তানসন্ততি দেখে তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি কী অসন্তুষ্টি নির্ণয় করো না। কারণ সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান থাকাকালে তোমাদের পাপ সমূহের কথা তোমরা বেমালুম ভুলে থাক। মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ

কী! তারা কি মনে করে যে , আমরা তাদেরকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান - সন্ততি দান করি বলে তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি ? না , তারা বুঝে না । ( কুরআন - ২৩:৫৫ - ৫৬)

নিশ্চয়ই , মহিমান্বিত আল্লাহ আত্মম্ভরি বান্দাগণকে তাঁর প্রিয়জনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন যারা তাদের চোখে হীন। যখন ইমরানের পুত্র মুসা তাঁর ভ্রাতা হারুনকে সঙ্গে নিয়ে মোটা পশমি কাপড় পরে লাঠি হাতে ফেরাউনের কাছে গিয়েছিল এবং বলেছিল যে , যদি সে আত্মসমর্পণ করে তবে তার রাজ্য রক্ষা পাবে এবং তার সম্মান অব্যাহত থাকবে। কিন্তু ফেরাউন তার লোকদের দিকে তাকিয়ে বললো , তোমাদের কি অবাক লাগছে না যে , এ দুব্যক্তি আমার রাজত্ব রক্ষা পাবার ও সম্মান অব্যাহত থাকার নিশ্চয়তা দিচ্ছে ? অথচ দেখ , এ দুজন কত দরিদ্র ও হীনাবস্থা সম্পন্ন। এ রকম নিশ্চয়তা প্রদানকারী হলে তারা তাদের হাতে স্বর্ণের বালা পরে আসেনি কেন ? ফেরাউন তার বিপুল ঐশ্বর্য ও সম্পদের কারণে গর্বিত হয়ে পশমি পোষাককে তুচ্ছ মনে করেছিল।

মহিমান্বিত আল্লাহ ইচ্ছা করলে সমস্ত জাগতিক সম্পদ , স্বর্ণের খনি , সুসজ্জিত বাগান ও সমস্ত পশুপাখী তার মনোনীত পয়গম্বরগণের চারপাশে জড়ো করতে পারতেন। যদি তিনি তা করতেন তবে পরীক্ষা করার কোন সুযোগ থাকতো না , বিনিময় প্রদানের সুযোগ থাকতো না এবং পরকালের সুসংবাদের প্রয়োজন হতো না। তদুপরি যারা তার বাণী গ্রহণ করেছে , তাদেরকে বিচারের পর প্রতিদান দেয়া যেতো না , মোমিনগণ তাদের সৎ আমলের জন্য পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য হতেন না এবং এসব শব্দাবলীর কোন অর্থই থাকতো না। কিন্তু মহিমান্বিত আল্লাহ্ তাঁর পয়গম্বরগণকে বাহ্যিকভাবে দুর্বল করেছেন কিন্তু সংকল্পে সুদৃঢ় করেছেন এবং অভাব - অনটনের যন্ত্রণা দিয়েছেন। অথচ হৃদয় - ভরা পরিতৃপ্তি দিয়েছেন। যদি পয়গম্বরগণ অনাক্রমণ্য ক্ষমতার অধিকারী হতেন , অপ্রতিরোধ্য সম্মানের অধিকারী হতেন এবং অপরাজেয় রাজত্বের অধিকারী হতেন তাহলে শিক্ষা গ্রহণ করা মানুষের জন্য সহজতর হতো এবং আত্মশ্লাঘা অনুভব করা মানুষের পক্ষে কষ্টসাধ্য হতো। তখন মানুষ ভয়ে অথবা লোভে ইমান আনতো এবং তাদের আমল ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের নিয়্যত (উদ্দেশ্য) একই রকম হতো। সুতরাং মহিমান্বিত আল্লাহ চাইলেন যে , মানুষ একবিন্দু লোভ - লালসা ব্যতিরেকে আন্তরিকভাবে তাঁর পয়গম্বরকে অনুসরণ করুক , তার কিতাবকে স্বীকার করুক , তার কাছে আনত হোক , তার আদেশ মান্য করুক এবং তার অনুগত হয়ে থাকুক যাতে একবিন্দুও খাদ থাকবে না। পরীক্ষা ও দুঃখ - দুর্দশা যতই কঠোর হবে পুরস্কার ও বিনিময় ততই বিশাল হবে।

হজ্বের দর্শন

তোমরা কি দেখ না , মহিমান্বিত আল্লাহ আদম হতে শুরু করে সকলকে পাথর দ্বারা পরীক্ষা করেছেন ; যে পাথর কোন উপকার বা ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং এটা দেখেও না , শোনেও না। সেসব পাথর তিনি তাঁর পবিত্র গৃহে লাগিয়ে তাকে নিরাপদ আশ্রয় করলেন। পৃথিবীর সবচাইতে এবড়ো থেবড়ো প্রস্তরময় এলাকার উচ্চভূমিতে তা স্থাপন করলেন ; যেখানে মাটির পরিমাণ খুবই কম সেই এলাকা পাথুরে পাহাড়ের মাঝে অত্যন্ত সংকীর্ণ উপত্যকা যেখানে সমতলভূমি বালিময় , কোন পানির ঝরনা ছিল না এবং লোকবসতি ছিল বিরল। সে এলাকায় উট , ঘোড়া , গরু , ভেড়া পালন করা যেত না।

তারপর তিনি আদম ও তার পুত্রগণকে তার দিকে তাদের দৃষ্টি ফেরাতে আদেশ দিলেন। এভাবে চারণভূমির অনুসন্ধানে তা তাদের ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো এবং তাদের বাহন - পশু পাবার জন্য মিলনস্থলে পরিণত হলো যাতে দূরের পানিবিহীন মরুভূমি , নিচু উপত্যকা ও সমুদ্রের বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল থেকে মানুষ এখানে চলে আসে। বিনয় স্বরূপ তাদের স্কন্ধ নাড়ায় , তাদের উপস্থিতির শ্লোগান দেয় , এলোমেলো চুল ও ধুলি - ধুসরিত মুখমণ্ডল নিয়ে তওয়াফ করে , তাদের কাপড় পিঠে নিক্ষেপ করে (এহরাম বাঁধা) এবং চুল কেটে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলে। এটা ছিল মহাপরীক্ষা , চরম দুঃখ - দুর্দশা , প্রকাশ্য বিচার ও পরম পরিশুদ্ধি। আল্লাহ এটাকে তার রহমতের পথ এবং বেহেশতের সোপান করেছেন ।

মহিমান্বিত আল্লাহ যদি তাঁর পবিত্র ঘর ও মহান নিদর্শনাবলী বৃক্ষরাজী সুশোভিত এলাকায় , স্রোতস্বিনী এলাকায় , নরম সমতল ভূমি এলাকায় , ফলে - ফুলে পরিপূর্ণ এলাকায় , ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় , সোনালী গমের এলাকায় , হৃদয়গ্রাহী উদ্যান ও বাগান এলাকায় , শস্য - শ্যামল এলাকায় , জল - প্রাচুর্য সমতল এলাকায় , ফলের বাগান ও জনকোলাহলপূর্ণ রাস্তা এলাকায় স্থাপন করতেন তবে হালকা পরীক্ষার জন্য বিনিময়ও কমে যেতো। যদি এ পবিত্র ঘরের ভিত ও পাথর যেভাবে আছে সেভাবে না হয়ে সবুজ মর্মর বা লালচুনি পাথরের হতো এবং তা থেকে আলো বিছুরিত হয়ে পড়তো তবে তা মানুষের অন্তরের সংশয় কমিয়ে দিতো , অন্তর থেকে শয়তানের কর্মকাণ্ড দূরীভূত হতো এবং মানুষের মধ্যে সন্দেহ স্ফীত করে তুলতো না। কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর বান্দাগণকে বিবিধ বিপদাপদের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা করেন। তিনি চান অভাব - অনটনের মাঝেও বান্দাগণ তার ইবাদত করুক এবং তাদেরকে তিনি দুঃখ - দুর্দশায় নিপতিত করেন। এসব কিছুই তাদের হৃদয় থেকে আত্মশ্লাঘা বিদূরিত করার জন্য , তাদেরকে বিনয়ী করে তোলার জন্য এবং তার দয়া ও ক্ষমা সহজতর করার উপায় হিসেবে বিবেচিত ।

বিদ্রোহ ও জুলুম সম্পর্কে সতর্কাদেশ

আল্লাহকে ভয় করা!! আল্লাহকে! বিদ্রোহের ইহকালীন পরিণাম আর জুলুমের পরকালীন পরিণাম ও আত্মশ্লাঘার কুফল সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করা। কারণ এগুলো হলো শয়তানের মারাত্মক ফাঁদ ও তার মস্তবড় প্রবঞ্চনা যা প্রাণঘাতী বিষের মতো মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে। তার এ ফাঁদ কখনো ব্যর্থ হয় না - না সুশিক্ষিত ব্যক্তির কাছে তার জ্ঞানের জন্য আর না। দরিদ্র ব্যক্তির কাছে তার ছিন্ন বস্ত্রের জন্য। এটা এমন এক বিষয় যা থেকে আল্লাহ তাঁর সেসব বান্দাকে নিরাপদ রাখে যারা সালাত , সিয়াম , ও যাকাত দ্বারা মোমিন কোমল মুখ ধুলা - ধূসরিত করে , বিনয়াবনত হয়ে মাটিতে সেজদায় পড়ে থাকলে , উপোসের কারণে পেট পিঠের সঙ্গে লেগে গেলে , আল্লাহর ভয়ে চোখ কোটরাগত হয়ে গেলেই এসব অর্জিত হয়। এসব আমল গর্বের চেহারা কুঁকড়ে দেবে এবং আত্মশ্লাঘাকে দাবিয়ে রাখবে।

আমি লক্ষ্য করে দেখেছি , কোন কারণ ছাড়াই তোমরা আত্মশ্লাঘা অনুভব কর যা অজ্ঞতা ছাড়া কিছু নয় অথবা তোমরা এমন কিছু নিয়ে আত্মম্ভরিতা কর যার কোন মূল্য নেই। শয়তান নিজের মূলোৎস নিয়ে আদমের ওপর গর্ব করে বলেছিল আমি আগুনের তৈরি। আর আদম মাটির তৈরি। ” একইভাবে সমাজের ধনীশ্রেণি তাদের ঐশ্বর্যের জন্য আত্মশ্লাঘা অনুভব করে। আল্লাহ বলেনঃ

তারা আরো বলতো , আমরা ধনে - জনে সমৃদ্ধশালী ; সুতরাং আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না (কুরআন - ৩৪:৩৫)

যদি তোমরা কোনক্রমেই আত্মশ্লাঘাকে এড়াতে না পার তবে সৎগুণের জন্য , প্রশংসনীয় আমলের জন্য , আকর্ষণীয় আচরণের জন্য , উচুস্তরের চিন্তার জন্য , সম্মানজনক অবস্থানের জন্য এবং কল্যাণ সাধনের জন্য গর্ববোধ করো। প্রতিবেশীর সংরক্ষণ , চুক্তি পরিপূরণ , ধার্মিকদের আনুগত্য , উদ্ধগণের বিরোধিতা , অন্যের প্রতি সদয় হওয়া , বিদ্রোহ থেকে বিরত থাকা , রক্তপাত থেকে সরে থাকা , ন্যায় বিচার করা , ক্রোধ সংবরণ করা , পৃথিবীতে ফেতনা সৃষ্টি না করা – এসব প্রশংসনীয় অভ্যাসের জন্য তোমরা আত্মগর্ব অনুভব করতে পারে। তোমাদের পূর্ববর্তীগণের ওপর তাদের কুকর্মের জন্য যেসব বিপদ ও দুর্যোগ আপতিত হয়েছিল তা স্মরণ করে ভয় কর । মনে রেখো , ভাল অথবা খারাপ অবস্থায় তাদের যা ঘটেছিল , তোমাদের বেলায় যেন তা না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থেকো।

সেসব লোকের উভয় অবস্থা সম্পর্কে তোমরা চিন্তা কর। যে কাজ তাদের অবস্থানকে সম্মানজনক করেছিল তার সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত কর। যে সব কাজের জন্য শত্রু তাদের কাছ থেকে দূরে সরেছিল , নিরাপত্তা তাদের ওপর ছড়িয়েছিল , ধনৈশ্বর্য তাদের কাছে মাথা নত করেছিল এবং এর ফলশ্রুতিতে তারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিল। এসব বিষয় ছিল বিচ্ছিন্নতা থেকে সরে থাকা , ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং একে অপরকে এর প্রতি আহবান করা ও উপদেশ দেয়া। যেসব বিষয় পূর্ববর্তীগণের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছিল এবং তাদের শক্তি খর্ব করে দিয়েছিল , তোমরা তা থেকে সাবধান থেকো। এসব বিষয় হলো ঘৃণা - বিদ্বেষ ও পাপ , একে অপরের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয়া এবং অন্যের সাহায্য ও সহায়তায় হাত গুটিয়ে রাখা ।

তোমাদের পূর্বে যেসব মোমিন গত হয়ে গেছে তাদের অবস্থা একবার চিন্তা কর। তারা কতই না দুঃখ - কষ্ট ও পরীক্ষার মধ্যে দিন কাটিয়েছে। তারা কি মানুষের মধ্যে গুরুদায়িত্ব বহনকারী ও দারিদ্র পীড়িত ছিল না ? ফেরাউন তাদেরকে দাসে পরিণত করেছিল। তাদের ওপর কঠোর শাস্তি ও নিদারুণ ভোগান্তি আরোপ করেছিল। তারা ক্রমাগত ধ্বংসাত্মক অবমাননা ও বন্দিদশায় জীবন কাটিয়েছিল। তারা পলায়নের কোন পথ খুঁজে পায়নি এবং আত্মরক্ষারও কোন উপায় বের করতে পারেনি। যখন মহিমান্বিত আল্লাহ দেখলেন যে , তারা তার মহব্বতে বিপদাপদ সহ্য করছে এবং তাঁর ভয়ে দুঃখ - কষ্ট বরণ করে যাচ্ছে , তখন তিনি তাদেরকে এই পরীক্ষামূলক দুর্দশা হতে মুক্তির সুযোগ করে দিলেন। সুতরাং তিনি তাদের অবমাননাকে সম্মানে এবং ভয়কে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করলেন। ফলত তারা শাসনকারী বাদশা ও বিশিষ্ট নেতায় পরিণত হলো। আল্লাহর আনুকূল্য তাদের ওপর এত পরিমাণ বর্ষিত হলো যা তারা আশাও করতে পারেনি।

লক্ষ্য কর , তারা কিরূপ ছিল যখন তাদের মধ্যে একতা ছিল , তাদের ঐকমত্য ছিল , তাদের একের হৃদয় অন্যের প্রতি কোমল ছিল , তাদের হাত একে অপরকে সাহায্য করতো , তাদের একের তরবারি অন্যের সহায়তার জন্য উন্মুক্ত ছিল , তাদের দৃষ্টি শ্যেন ছিল এবং তাদের লক্ষ্যস্থল এক ছিল। তারা কি এ পৃথিবীতে প্রভুত্ব করেনি এবং সারা পৃথিবী শাসন করেনি ? তারপর দেখ , তাদের কী অবস্থা হয়েছিল যখন তারা শেষের দিকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো , তাদের ঐক্যে ফাটল ধরলো , তাদের কথায় ও হৃদয়ে মতানৈক্য দেখা দিলো , তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়লো এবং বিক্ষিপ্তভাবে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়লো। তখন আল্লাহ তাদের কাছ থেকে তাঁর সম্মানের পরিচ্ছদ তুলে নিয়ে গেলেন এবং তার নেয়ামত দ্বারা সৃষ্ট ঐশ্বর্য থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করলেন। তাদের কাহিনী শুধুমাত্র যারা হেদায়েত গ্রহণ করে তাদের শিক্ষার জন্য রয়ে গেল ।

ইসমাঈলের বংশধর , ইসহাকের পুত্রগণ ও ইসরাঈলের পুত্রদের কাহিনী থেকেও তোমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তাদের কর্মকাণ্ড ও তাদের উদাহরণে কতই না মিল রয়েছে। তাদের বিভেদ ও অনৈক্য সম্পর্কে চিন্তা করে দেখ , কিভাবে পারস্যের কিসরাস ও রোমের সিজার তাদের প্রভু হয়ে গিয়েছিল। তারা তাদেরকে চারণভূমি থেকে , ইরাকের নদীবাহিত এলাকা থেকে এবং উর্বর এলাকা থেকে কন্টকময় বনাঞ্চলে , উত্তপ্ত বায়ু এলাকায় ও জীবিকা নির্বাহের কষ্টসাধ্য এলাকায় তাড়িয়ে দিয়েছিল। এভাবে তারা উটের রাখলে পরিণত হলো। তাদের ঘর ছিল নিকৃষ্টতম এবং খরা - পীড়িত অঞ্চলে ছিল তাদের বসতি। তাদেরকে রক্ষা করার জন্য একটা বাক্যও উচ্চারণ করার মতো কেউ ছিল না । তাদেরকে স্নেহচ্ছায়া দেয়ার মতো কেউ ছিল না যাকে তারা বিশ্বাস করতে পারতো। তাদের অবস্থা ছিল দুর্দশাপূর্ণ। তারা বিভক্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাতে তাদের হাতগুলোও ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা মহাযন্ত্রণা ও অজ্ঞতার অন্ধকারে নিপতিত হয়েছিল। তারা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতো , মূর্তি পূজা করতো , জ্ঞাতিত্বের কোন মূল্য দিত না এবং ডাকাতি ও লুণ্ঠন করতো।

এখন তাদের ওপর আল্লাহর রহমতের প্রতি লক্ষ্য করে দেখ। তিনি তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে একজন নবী প্রেরণ করলেন যিনি তাদেরকে আনুগত্যের অঙ্গীকারে আবদ্ধ করলেন এবং তার আহবানে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করলেন। দেখ , কিভাবে আল্লাহর নেয়ামত তাদের ওপর বিস্তৃত হলো এবং তাঁর রহমতের স্রোতধারা কিভাবে প্রবাহিত হলো যাতে তারা ঐশ্বর্যশালী হয়ে গেলো। ফলে তারা সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করেছে। তাদের কর্মকাণ্ড একজন ক্ষমতাশালী শাসকের হেফাজতে সংরক্ষিত হলো এবং তারা একটা শক্তিশালী দেশের অধিবাসীর মর্যাদা লাভ করলো। তারা দুনিয়ার শাসক হয়ে গেলো। আগে যারা তাদেরকে শাসনা করতো তারা তাদের শাসক হলো এবং আগে যারা তাদেরকে আদেশ দিত তাদেরকে তারা আদেশ দিলো। তারা এত শক্তিশালী হলো যে - কখনো বর্শা পরীক্ষা করতে হয়নি এবং তরবারি কোষমুক্ত করার প্রয়োজন পড়ে নি।

কুফার লোকজনদেরকে তিরস্কার

সাবধান , তোমরা আনুগত্যের রশি থেকে তোমাদের হাত সরিয়ে নিয়েছে এবং প্রাক - ইসলামি নিয়ম - কানুন দ্বারা তোমাদের চারপাশের ঐশীদুর্গ ভেঙ্গে ফেলেছো। নিশ্চয়ই , এটা মহিমান্বিত আল্লাহর পরম দয়া যে , তিনি মায়া - মমতার রশি দ্বারা তাদের মধ্যে একতা সৃষ্টি করেছেন যার ছায়ায় তারা চলাফেরা করে ও আশ্রয় গ্রহণ করে। এ আশীর্বাদের মূল্য পৃথিবীতে কেউ অনুধাবন করে না। কারণ এটা যে কোন ঐশ্বর্য হতে মূল্যবান এবং যে কোন সম্পদ হতে উচুমানের। তোমরা ইসলাম গ্রহণ করার পরও এখন আবার আরব - বেদুইনদের অবস্থার দিকে ফিরে যাচ্ছো এবং একবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখন আবার বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ছো। এখন তোমরা শুধুমাত্র ইসলামের নাম ছাড়া আর কিছুই ধরে রাখনি এবং লোক দেখানো ছাড়া ইমানের আর কিছুই জান না। তোমরা বল , আগুন , - হ্যাঁ , তা কোন লজ্জাকর অবস্থা নয় , মনে হয় , ইসলামের সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য এবং এর ভ্রাতৃত্বের অঙ্গীকার ভঙ্গ করার জন্য তোমরা ইসলামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছো। অথচ এই ভ্রাতৃত্ববোধকে আল্লাহ তোমাদের কাছে পবিত্র আমানত হিসাবে এবং তাঁর পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে শান্তির উৎস হিসাবে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে নিশ্চিত থাক যে , তোমরা ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি ঝুকে পড়লে অবিশ্বাসীগণ তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে। তখন কিন্তু জিব্রাইল , মিকাইল , মুহাজির বা আনসার কেউ তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না। তখন শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানি শোনা যাবে এবং যে পর্যন্ত আল্লাহ্ দয়াপরবশ হয়ে একটা ফয়সালা করে দেন সে পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।

নিশ্চয়ই , তোমাদের হাতের কাছে আল্লাহর ক্রোধ , শাস্তি , চরম দুর্দশা ও ঘটনা - প্রবাহের অনেক নিদর্শন রয়েছে। সুতরাং তার প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না , তাঁর শাস্তির প্রতি উদাসীন হয়ো না , তার ক্রোধকে হালকা করে দেখো না এবং তার রোষকে ত্বরান্বিত করো না। কারণ মহিমান্বিত আল্লাহ অতীতে কাউকে ধ্বংস করেননি যে পর্যন্ত তারা অন্যকে সৎ আমল করতে বারণ করেছে এবং অসৎ আমল করতে উৎসাহিত করেছে। বস্তুত আল্লাহ অজ্ঞগণকে তাদের পাপের জন্য এবং জ্ঞানীগণকে পাপে বাধা না দেওয়ার জন্য ধ্বংস করেছিলেন। সাবধান , তোমরা ইসলামের শিকল ভঙ্গ করছো , এর সীমালঙ্ঘন করছো এবং এর আদেশ বিনষ্ট করছো ।

পথচ্যুতদের সাথে যুদ্ধ সম্পর্কে

সাবধান , নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে আদেশ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে যারা বিদ্রোহ করে , যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে ও যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে। অঙ্গীকার ভঙ্গকারীদের সাথে আমি জিহাদ করেছি , সত্যত্যাগীদের বিরুদ্ধে আমি জিহাদ ঘোষণা করেছি এবং যারা ইমানের বন্ধন থেকে বেরিয়ে গেছে তাদেরকে আমি দারুণ অসম্মানে রেখেছি। নরকের শয়তানের বিরুদ্ধেও আমি হায়দরি হাঁকের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং এতে তার হৃদয়ের আর্তনাদ ও বুকের কম্পন শ্রুত হচ্ছিলো। শুধুমাত্র বিদ্রোহীদের একটা ক্ষুদ্র অংশ বাকি রয়েছে। যদি আল্লাহ আমাকে একটা মাত্র সুযোগ প্রদান করেন তবে আমি তাদেরকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ছাড়বো। তখন শুধু শহরতলীগুলোতে ছড়ানো ছিটানো সামান্য সংখ্যক অন্যায়কারী থেকে যেতে পারে।

ইমাম আলীর (আ.) শৌর্য - বীর্য ও মর্যাদা

আমার বাল্যকালেও আমি আরবের প্রসিদ্ধ লোকদের বুক মাটিতে লাগিয়েছিলাম এবং রাবিয়াহ ও মুদার গোত্রের সূচালো শিং ভেঙ্গে দিয়েছিলাম (অর্থাৎ গোত্রপ্রধানকে পরাজিত করেছিলাম) । আল্লাহর রাসূলের (সা.) সাথে আমার নিকট জ্ঞাতিত্ব ও বিশেষ আত্মীয়তার কারণে আমার মর্যাদা সম্পর্কে নিশ্চয়ই তোমরা জ্ঞাত আছো । যখন আমি শিশু ছিলাম তখনই তিনি আমার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আমাকে তাঁর পবিত্র বুকে চেপে ধরতেন , তার বিছানায় তার পাশে শোয়াতেন , আমাকে তার কাছে টেনে নিতেন এবং তাতে তাঁর পবিত্র শরীরের ঘ্রাণ আমি নিয়েছি। অনেক সময় তিনি কিছু চিবিয়ে আমার মুখে পুরে দিতেন। তিনি আমার কথায় কখনো কোন মিথ্যা পাননি এবং আমার কোন কাজে দুর্বলতা পাননি।

তাঁর শিশুকাল থেকেই আল্লাহ একজন শক্তিধর ফেরেশতাকে নিয়োজিত করে রেখেছিলেন যাতে তাকে উচ্চমানের স্বভাব ও উন্নত আচরণের পথে নিয়ে যায়। সে সময় থেকেই আমি তাকে অনুসরণ করে চলতাম যেভাবে একটা উষ্ট্র - শাবক। তার মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। প্রতিদিন তিনি ব্যানার আকারে তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য আমাকে দেখাতেন এবং তা অনুসরণ করতে আমাকে আদেশ দিতেন। প্রতি বছর তিনি হেরা পাহাড়ে নির্জনবাসে যেতেন। সেখানে আমি ব্যতীত আর কেউ তাকে দেখেনি। সে সময় আল্লাহর রাসূল (সা.) ও খাদিজার ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ইসলামের অস্তিত্ব ছিল না এবং সে সময় এ দুজনের পর আমিই ছিলাম তৃতীয়।

আল্লাহর প্রত্যাদেশ ও বাণীর তাজাল্লি আমি দেখতাম এবং নবুয়তের ঘ্রাণ প্রাণভরে গ্রহণ করতাম। যখন আল্লাহর রাসূলের ওপর অহি নাজিল হয়েছিল তখন আমি শয়তানের বিলাপ শুনেছিলাম। আমি বললাম , হে আল্লাহর রাসূল , এ বিলাপ কিসের ? উত্তরে তিনি বললেন , শয়তান যে পূজিত হবার সকল আশা - ভরসা হারিয়ে ফেলেছে এটা তারই বিলাপ। হে আলী , আমি যা কিছু দেখি , তুমিও তা - ই দেখ , এবং আমি যা কিছু শুনি , তুমিও তা - ই শোন ; ব্যবধান শুধু এটুকু যে , তুমি নবী নও , তুমি স্থলাভিষিক্ত (Vicegerent ) এবং নিশ্চয়ই তুমি দ্বীনের পথে রয়েছো। ”

আমি তখনো তার সাথে ছিলাম যখন একদল কুরাইশ তাঁর কাছে এসে বললো , হে মুহাম্মদ , তুমি এমন এক বিরাট দাবি উত্থাপন করেছে যা তোমার পূর্ব - পুরুষদের কেউ বা তোমার বংশের কেউ কোন দিন করেনি। আমরা এখন তোমাকে একটা বিষয় জিজ্ঞেস করি ; যদি এর সঠিক উত্তর দিতে পার এবং আমাদেরকে তা দেখাতে পার তবে আমরা বিশ্বাস করবো তুমি একজন নবী ও রাসূল , অন্যথায় আমরা মনে করবো তুমি একজন জাদুকর ও মিথ্যাবাদী। ” আল্লাহর রাসূল বললেন , কী তোমরা জিজ্ঞেস করতে চাও ? তারা বললো , এ গাছটিকে মূলসহ উঠে এসে তোমার সামনে থামতে বলো। ” রাসূল (সা.) বললেন , নিশ্চয়ই , আল্লাহ্ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। যদি আল্লাহ্ তোমাদের ইচ্ছা পূরণ করেন তবে কি তোমরা ইমান আনবে ও সত্যের সাক্ষ্য দেবে ? তারা বললো , হ্যা ” । রাসূল (সা.) বললেন তোমরা যা চেয়েছো। আমি তোমাদেরকে তা দেখাবো , কিন্তু আমি জানি , তোমরা সত্যের প্রতি ঝুকবে না এবং তোমাদের মধ্যে অনেক রয়েছে যারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে , আর অনেকে আমার বিরুদ্ধে দলগঠন করবে ” । তারপর রাসূল (সা.) বললেন , ওহে গাছ , যদি তুমি আল্লাহ ও বিচার দিনে বিশ্বাস কর , এবং যদি তুমি জান যে , আমি আল্লাহর রাসূল তাহলে আল্লাহর হুকুমে তোমার মূলসহ উঠে এসে আমার সম্মুখে দাড়াও। ” সেই আল্লাহর কসম যিনি রাসূলকে (সা.) সত্যসহ প্রেরণ করেছেন , গাছটি বিরাট গুঞ্জন করে এবং পাখীর পাখার মতো ঝাপটা মেরে মূলসহ আল্লাহর রাসূলের সম্মুখে এসে থমকে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় গাছটির ক ’ টি ডাল আমার কাঁধ স্পর্শ করেছিল এবং আমি তখন রাসূলের (সা.) ডান পার্শ্বে ছিলাম।

যখন মানুষ এ অবস্থা দেখলো তখন তারা বললো , এখন গাছের অর্ধাংশকে তোমার কাছে থাকতে বল এবং অপর অর্ধাংশকে স্বস্থানে চলে যেতে বলো। ” আল্লাহর রাসূল বলা মাত্রই গাছ তা - ই করলো। গাছটির অর্ধাংশ হর্ষোৎফুল্ল অবস্থায় গুঞ্জন করতে করতে স্বস্থানে চলে গেল এবং অপর অর্ধাংশ রাসূলকে (সা.) প্রায় স্পর্শ করেছিল। তখন লোকেরা চিৎকার করে বললো , গাছের এই অর্ধাংশ অপর অর্ধেকের কাছে যেতে বল এবং পূর্ববৎ হয়ে যেতে বল। ” আল্লাহর রাসূল আদেশ দেয়া মাত্রই গাছটি তা করলো। তারপর আমি বললাম , হে আল্লাহর রাসূল , আমিই প্রথম যে আপনাকে বিশ্বাস করে এবং আমি স্বীকার করি যে , মহিমান্বিত আল্লাহর হুকুমে এইমাত্র গাছটি যা করলে তা শুধু আপনার নবুয়তের স্বীকৃতি ও আপনার বাণীর উচ্চমর্যাদা দানের নিদর্শন স্বরূপ। একথা বলার পর লোকেরা অবিশ্বাস ও বিদ্রোহ করে বললো , জাদু ; মিথ্যা ; এটা এক বিস্ময়কর জাদু ; সে এতে অতি সুদক্ষ। একমাত্র এ লোকটি (আমাকে দেখায়ে) তোমাকে ও তোমার কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দিতে পারে। ”

পরিপূর্ণ মোমিনের নিদর্শন

নিশ্চয়ই , আমি সেসব লোকের দলভুক্ত যারা আল্লাহর ব্যাপারে কারো কোন নিন্দা বা তিরস্কারের তোয়াক্কা করে না। তাদের চেহারা সত্যবাদীর চেহারা এবং তাদের বক্তব্য দ্বীনদারের বক্তব্য। তারা আল্লাহর ধ্যানে রাত্রিকালে জাগরণ করে এবং দিবাভাগ হেদায়েতের আলোক - বর্তিকা হিসাবে কাটায়। তারা কুরআনের রজ্জু , শক্ত করে ধরে এবং আল্লাহ ও রাসূলের (সা.) আদেশ - নিষেধ পুনরুজ্জীবিত করে। তারা আত্মম্ভরিতা করে না , আত্মবঞ্চনায় প্রবৃত্ত হয় না , পরস্বহরণ করে না এবং ফেতনা সৃষ্টি করে না। তাদের হৃদয় থাকে বেহেশতে এবং দেহ থাকে কল্যাণকর আমলে ব্যস্ত ।

____________________

১। অতীত লোকদের উত্থান - পতনের ঘটনা প্রবাহের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে একটা বিষয় দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে ওঠবে যে ,তাদের উত্থান - পতন ভাগ্যের পরিণাম বা কোন দৈবদুর্বিপাক নয়। এটা ছিল তাদের কৃতকর্ম ও আমলের ফল। তাদের ওপর আপতিত ঘটনাবলী তাদের প্রকাশ্য জুলুম ও পাপ কাজের বিনিময় ,যা তাদের জন্য ধ্বংস ডেকে এনেছে। অপরপক্ষে দ্বীনের আমল ও শান্তিপূর্ণ বসবাস সর্বদা সৌভাগ্য ও কৃতকার্যতা বয়ে আনে। যদি বারংবার একই আমল ও অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটে। তবে তার পরিণতিও একই রকম হবে। কারণ ভালো কাজের ফল ভালো আর মন্দ কাজের ফল মন্দ। এ রকম না হলে অতীত ঘটনাবলী বর্ণনা করে মজলুম দুর্দশাগ্রস্তের হৃদয়ে আশার সঞ্চার সম্ভব হতো না এবং জালেম ও স্বৈরাচারের কর্মকান্ডের কুফল সম্পর্কে সতর্ক করা সম্ভব হতো না। তাই এটা স্বতঃসিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে ,অতীতের ঘটনাবলী পরবর্তীগণের জন্য একটা উত্তম শিক্ষা গ্রহণের বিষয়। সেই কারণেই আমিরুল মোমেনিন পারস্য ও রোম সম্রাটদের হাতে বনি ইসমাঈল ,বনি ইসহাক ও বনি ইসরাঈলগণের দুঃখ - দুর্দশার বর্ণনা দিয়েছিলেন।

হজরত ইব্রাহীমের (আ.) জ্যেষ্ঠপুত্র হজরত ইসমাঈলের বংশধরগণকে বনি ইসমাঈল এবং কনিষ্ঠপুত্র হজরত ইসহাকের বংশধরগণকে বনি ইসহাক বলা হয়। এ দুটি বংশধারা পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করে। তাদের আদিবাস ছিল প্যালেষ্টাইনের কেনান অঞ্চলে । ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রীস নদীর সমতল এলাকা থেকে হিজরত করে হজরত ইব্রাহীম কেনান অঞ্চলে বসতিস্থাপন করেন। হজরত ইব্রাহীম তার পুত্র ইসমাঈল ও তার মাতা হাজেরাকে হিজাজ অঞ্চলে নির্বাসন দিলে তথায় হজরত ইসমাঈল বসতি স্থাপন করেন। হিজাজ অঞ্চলে বসবাসরত জুরহাম গোত্রের সাইয়্যেদাহ বিনতে মুদাদ নামী এক মহিলাকে হজরত ইসমাঈল বিয়ে করেছিলেন এবং সাইয়্যেদাহ থেকেই ইসমাঈলের বংশ বিস্তার লাভ করে। হজরত ইব্রাহীমের কণিষ্ঠ পুত্র ইসহাক কেনান অঞ্চলে বসবাস করতেন। তার পুত্রের নাম ছিল। ইয়াকুব (ইসরাঈল) । ইয়াকুব তার মামাতো বোন লিয়াকে বিয়ে করেছিলেন এবং লিয়ার মৃত্যুর পর তার বোনকে বিয়ে করেন। এ দুবোন থেকেই ইয়াকুবের বংশ বিস্তার লাভ করে যারা বনি ইসরাঈল নামে পরিচিত। ইয়াকুবের এক পুত্রের নাম ছিল ইউসুফ (যোসেফ) যিনি একটা দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবেশী দেশ মিশরে পৌছে দাসত্ব ও বন্দিদশা থেকে ঘটনাক্রমে শাসক হয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।

এরপর তিনি তার জ্ঞাতি - গোষ্ঠি ও আত্মীয় - স্বজনদেরকে মিশরে নিয়ে যান এবং এভাবে মিশরে বনি ইসরাঈলের বসতি গড়ে উঠেছিল। কিছুকাল তারা সেখানে সুনাম ও সম্মানের সাথে ছিল। কিন্তু কালক্রমে স্থানীয় লোকদের ঘৃণা ও অবজ্ঞা তাদের প্রতি নিক্ষপ্ত হতে লাগলো এবং তারা সকল প্রকার জুলুমের শিকার হতে লাগলো। তাদের প্রতি অত্যাচার এতটুকু পর্যন্ত পৌছেছিলো যে ,পুত্র সন্তানকে হত্যা করা হতো এবং কন্যাগণকে ক্রীতদাসীরূপে রেখে দেয়া হতো। চারশত বছর এভাবে জুলুম আর দুঃখ - দুর্দশা পোহানোর পর তাদের অবস্থার পরিবর্তন হলো ,লাঞ্ছনার অবসান হলো এবং গোলামির শিকল ভেঙ্গেছিল যখন আল্লাহ মুসাকে (আ.) প্রেরণ করলেন। মুসা তাদেরকে নিয়ে মিশর ত্যাগ করে চলে যাচ্ছিলেন ,কিন্তু ফেরাউনকে ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ তাদেরকে নীল নদের দিকে নিয়ে গেলেন। তাদের সম্মুখে ছিল নীল নদের অথৈ পানি আর পিছনে ছিল ফেরাউনের বিশাল বাহিনী। এতে তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়লো ,কিন্তু নির্ভয়ে পানিতে নেমে পড়তে আল্লাহ মুসাকে আদেশ দিলেন। যখন মুসা এগিয়ে গিয়ে পানিতে পা রাখলেন অমনি নদাঁতে অনেক পথ হয়ে গেল। সে পথ দিয়ে মুসা বনি ইসরাঈলগণকে নিয়ে নদী অতিক্রম করে চলে গেলেন। ফেরাউন সে পথ ধরে মুসার পিছু এগিয়ে গেল ,কিন্তু নদীর মাঝখানে পৌছা মাত্রই পানি ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনীকে গিলে ফেললো এবং তারা সকলেই পানিতে তলিয়ে মারা গেল। তাদের সম্পর্কে কুরআন বলেঃ

এবং স্মরণ করা সে সময়ের কথা যখন আমরা ফেরাউনের হাত থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করেছিলাম ,যারা তোমাদেরকে নিদারুণ নিপীড়ন করতো ,তোমাদের পুত্রগণকে কতল করতো এবং তোমাদের নারীগণকে জীবিত রাখতো এবং তা ছিল তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে একটা মহা পরীক্ষা (২:৪৯) ।

যা হোক ,মিশরের সীমানা অতিক্রম করে তারা তাদের মাতৃভূমি প্যালেস্টাইনে প্রবেশ করেছিল এবং সেখানে নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে লাগলো। আল্লাহ তাদের হীন ও অমর্যাদাকর অবস্থা পরিবর্তন করে তাদেরকে প্রতাপ ও শাসন ক্ষমতা প্রদান করলেন। আল্লাহ বলেনঃ

যে সম্প্রদায়কে দুর্বল গণ্য করা হতো তাদেরকে আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমের অধিকারী করেছিলাম এবং বনি ইসরাঈল সম্বন্ধে তোমার প্রভুর শুভ বাণী সত্যে পরিণত হলো ,যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের শিল্প ও প্রাসাদ আমরা ধ্বংস করেছিলাম (কুরআন - ৭:১৩৭) ।

শাসনের সিংহাসনের অধিকারী হয়ে ঐশ্বর্য ও সুখ - শান্তি পাওয়ার পর বনি ইসরাঈলগণ তাদের অসম্মান ও অমর্যাদাপূর্ণ দাসত্বের কথা ভুলে গিয়েছিল। তাদের দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পরিবর্তে তারা খোদাদ্রোহী হয়ে গিয়েছিল। তারা নির্লজ্জের মতো পাপ ও অসদাচরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল এবং সর্বদা ফেতনা ও মন্দ কাজে লিপ্ত থাকতো। তারা মিথ্যা যুক্তি দেখিয়ে হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল করেছিল। আল্লাহর আদেশে যেসব নবী তাদেরকে সত্যপথে এনে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল তারা তাদেরকে অমান্য করেছিল ,এমন কি তাদের কাউকে হত্যাও করেছিল। তাদের পাপ কর্মের স্বাভাবিক পরিণামে শাস্তি তাদেরকে পাকড়াও করেছিল। ফলত বেবিলনের (ইরাক) শাসনকর্তা নেবুচাদনেজার খৃষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন আক্রমণ করে সত্তর হাজার বনি - ইসরাঈলকে হত্যা করেছিল এবং তাদের সকল নগরী ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে জীবিতদেরকে তার সাথে ধরে নিয়ে ক্রীতদাসে পরিণত করে গ্রানিকর জীবনযাপনে বাধ্য করেছিল। এ ধ্বংসযজ্ঞের পর যদিও মনে হয়েছিল যে ,তারা আর কোনদিন তাদের হৃত মর্যাদা ও ক্ষমতা ফিরে পাবে না ,তবুও আল্লাহ তাদেরকে পুনরায় একটা সুযোগ দিয়েছিলেন। নেবুচাদনেজারের মৃত্যুর পর শাসন ক্ষমতা বেলশাজারের হাতে গিয়েছিল। সে জনগণের ওপর সর্বপ্রকার জুলুম শুরু করেছিল। তার অত্যাচার - অবিচারে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ পারস্যের শাসনকর্তার সাথে গোপনে যোগাযোগ করে বেলশাজারের অত্যাচার থেকে তাদেরকে রক্ষা করার জন্য তাকে অনুরোধ করেছিল। সে সময়ে পারস্যের শাসনকর্তা মহামতি সাইরাস ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের অনুরোধে বেলশাজারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন। ফলে বনি ইসরাঈলের কাঁধ থেকে দাসত্বের জোয়াল সরে গিয়েছিল এবং তাদেরকে ফিলিস্তিনে ফিরে যাবার অনুমতি দেয়া হয়েছিল । এভাবে সত্তর বছর পরাধীনতার পর তারা মাতৃভূমিতে পদার্পণ করে সরকার গঠন করতে সমর্থ হয়েছিল। যদি তারা তাদের অতীত দুঃখ - কষ্ট ও ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতো। তবে তারা পূর্ববৎ পাপে লিপ্ত হতো না যা তাদেরকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেছিল। কিন্তু এ জনগোষ্ঠীর মানসিক ও চারিত্রিক অবস্থা এমন ছিল যে ,এরা যখনই স্বাধীনতা ও উন্নতি লাভ করতো আমনি ভোগ - বিলাস ও ঐশ্বর্যের নেশায় দ্বীনের নিয়মকানুন বিসর্জন দিতো ;নবীদের উপহাস করতো ;এমনকি নবীকে হত্যা করা পর্যন্ত তাদের কাছে তেমন কিছু মনে হতো না। তাদের রাজা হেরোড তার প্রেয়সীকে খুশি করার জন্য হজরত ইয়াহিয়ার (জোন) মাথা দ্বীখণ্ডিত করে তাকে উপহার দিয়েছিল। এ নিষ্ঠুর ও পাপ কাজের জন্য একটা লোক উচ্চবাচ্য করেনি। তাদের এহেন নৈতিক অধঃপতন ও হিংস্রতা চলাকালেই ঈসা (আ.) আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে পাপ কাজ পরিত্যাগ করে সদাচরণের দিকে আহবান করলেন। কিন্তু তারা তাকে নানাভাবে অত্যাচার করেছিল এবং অনেক দুঃখ দিয়েছিল। এমনকি তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টা পর্যন্ত করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের সকল কৌশল নস্যাৎ করে ঈসাকে (আ.) রক্ষা করলেন। যখন তাদের অবাধ্যতা ও পাপকার্য এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ,হেদায়েত গ্রহণের সকল ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছিল তখন আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন। রোম (বাইজান্টিয়া) রাজ্যের শাসনকর্তা ভেসপাসিয়ানাস তার পুত্র তিতাসকে সিরিয়া আক্রমণের জন্য প্রেরণ করেছিল। সে জেরুজালেম অবরোধ করে বাড়ি - ঘর সব ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং উপাসনালয়ের দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছিল। ফলে হাজার হাজার বনি ইসরাঈল বাড়ি - ঘর ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিল এবং হাজার হাজার লোক অন্নাভাবে মৃত্যুবরণ করেছিল। অবশিষ্টরা তরবারির নিচে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। পলাতক বনি ইসরাঈলগণের অধিকাংশ হিজাজ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল। কিন্তু মুহাম্মদকে (সা.) নবি হিসাবে গ্রহণ না করায় তাদের একতা চিরতরে বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং তারা সম্মানজনক জীবন ও মর্যাদা আর কখনো লাভ করতে পারেনি।

একইভাবে পারস্যের শাসক আরব এলাকা আক্রমণ করেছিল এবং সেসব স্থানের অধিবাসীদেরকে পদানত করেছিল। শাপুর ইবনে হুরমুজ ষোল বছর বয়সে চার হাজার যোদ্ধা নিয়ে পারস্য সীমানায় বসবাসরত আরবদের আক্রমণ করেছিল। তারপর বাহরাইন ,কাতিফ ও হাজার এলাকার দিকে অগ্রসর হয়ে বনি তামিম ,বনি বকর ইবনে ওয়াইল ও বনি আবদুল কায়েস ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং সত্তর হাজার আরবের স্কন্ধ কেটে ফেলেছিল। সেজন্য পরবর্তীতে সে যুল - আকতাফ ” নামে পরিচিত হয়েছিল। সে আরবদেরকে তাঁবুতে বাস করতে বাধ্য করেছিল ,মাথায় লম্বা চুল রাখতে বাধ্য করেছিল ,সাদা কাপড় পরা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল এবং জিনবীহীন ঘোড়ায় চড়ার বিধান করে দিয়েছিল। এরপর সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে এবং ইস্পাহান ও পারস্যের অন্যান্য স্থানে তার হাজার হাজার লোকের বসতি স্থাপন করে দিয়েছিল এবং সেইসব এলাকার অধিবাসীকে বনাঞ্চল ,অনুর্বর ও পানি - বিহীন অঞ্চলের দিকে তাড়িয়ে দিয়েছিল যেখানে তারা অতিকষ্টে জীবিকা নির্বাহ করতো। এভাবে আরবের জনগণ তাদের অনৈক্য ও বিভেদের জন্য দীর্ঘকাল অন্যের অত্যাচারের শিকার ছিল। অবশেষে মহিমান্বিত আল্লাহ রাসূলকে (সা.) প্রেরণ করলেন এবং গ্রানিকর অবস্থা থেকে তাদেরকে সম্মানজনক ও উন্নত অবস্থায় ফিরিয়ে আনলেন।

২। আলী ইবনে আবি তালিব ,আবু আইউব আল - আনসারী ,জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল - আনসারী ,আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ,আম্মার ইবনে ইয়াসির ,আবু সাঈদ আল - খুদরী ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত আছে যে ,রাসূল (সা.) আলী ইবনে আবি তালিবকে আদেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি বায়াত ভঙ্গকারী (নাকিছিন্ন) ,সত্যত্যাগী (কাসিতিন) ও ইমান পরিত্যাগকারীদের (মারিকিন) সাথে জিহাদ করেন (নিশাবুরী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১৩৯ ;বার ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১১১৭ ;আছীর ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৩২ - ৩৩ ;শাফী ,৬ষ্ঠ খণ্ড ,পৃঃ ১৮ ;সুয়ুতী ,২য় খণ্ড ,পৃঃ ১৩৮ ;শাফী ,৫ খণ্ড ,পৃঃ ১৮৬ ;৬ষ্ঠ খণ্ড ,পৃঃ ২৩৫ ;৭ম খণ্ড ,পৃঃ ২৩৮ ;হিন্দি ,৬ষ্ঠ খণ্ড ,পৃঃ ৭২ ,৮২ ,৮৮ ,১৫৫ ,২১৫ ,৩১৯ ,৩৯১ ,৩৯২ ;বাগদাদী ,৮ম খণ্ড ,পৃঃ ৩৪০ ;১৩ শ খণ্ড ,পৃঃ ১৮৬ – ১৮৭ ;আসাকীর ,৫ম খণ্ড ,পূঃ ৪১ ;কাছীর ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ৩০৪ - ৩০৬ ;শাফী ,২য় খণ্ড ,পৃঃ ২৪০ ;জুরকানী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৩১৬ - ৩১৭ ;বাগদাদী ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৩৮৬) ।

ইবনে আবিল হাদীদ লিখেছেন , সহী রাবিদের রেওয়াৎ হতে যথাযথভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে ,রাসূল (সা.) বলেছেন ,তার অবর্তমানে আলী সেসব লোকের সাথে জিহাদ করবে যারা বায়াত ভঙ্গকারী ,সত্যত্যাগী ও লোক সিফফিনে তার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করেছিল তারা সত্যত্যাগী ,নাহরাওয়ানের যুদ্ধে তার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণকারী খারিজিগণ ছিল ইমান পরিত্যাগকারী বা ইমানের সীমালঙ্ঘনকারী ” (১৩খণ্ড পৃঃ ১৮৩) । এই তিনটি দলের প্রথম দল সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ

যারা তোমার বায়াত গ্রহণ করে তারা তো আল্লাহর বায়াত গ্রহণ করে । আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর । সুতরাং যে তা ভঙ্গ করে সে পরিণামে নিজেরই ক্ষতি করে। দ্বিতীয় দল সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ

এবং সত্যত্যাগীগণ দোষাখের ইন্ধন হবে (কুরআন - ৭২:১৫)

তৃতীয় দল সম্পর্কে ইবনে আবিল হাদীদ ৬টি প্রধান সহী হাদিস গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে ,বিশিষ্ট সাহাবাগণের রেওয়াৎ থেকে দেখা যায়। যুল - খুওয়াই সিরাহ (খারিজিদের নেতা যুছ - ছুদাইয়াহ হুরকাস ইবনে জুহায়র আত - তামিমীর ডাক নাম) সম্বন্ধে রাসূল (সা.) বলেছিলেনঃ

এ লোকটির অধঃস্তন বংশধরগণ কুরআন তেলায়াত করবে ,কিন্তু তা তাদের গলার নিচে যাবে না (অর্থাৎ অ্যামল করবে না) ;তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজকদেরকে জীবিত রাখবে। তারা ইসলামের শিক্ষার প্রতি এত দ্রুত অবলোকন করবে: যেভাবে তীর তাঁর শিকারের দিকে ছুটে যায় (অর্থাৎ ইসলামি শিক্ষাকে হালকাভাবে দেখবে। এবং তাতে কোন মনোযোগ থাকবে না ) । যদি আমি তাদেরকে দেখতাম। তবে আদ জাতির মত তাদেরকে হত্যা করতাম (হাদীদ ,১৩শ খণ্ড ,পৃঃ ১৮৩: বুখারী ,মাজাহ ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৫৯ - ৬২: নাসাঈ ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৬৫ - ৬৬ আনাস ,২য় খণ্ড ,পৃঃ ২০৪ - ২০৫: কুন্তি ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১৩১ - ১৩২ ;আশাছ ,৪র্থ খণ্ড ,পৃঃ ২৪১ - ২৪৬ নিশাবুরী ,২য় খণ্ড ,পৃঃ ১৪৫ - ১৫৪ ,৪র্থ খণ্ড ,পৃঃ ৫৩১ ,হাম্বল ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৮৮ ১৪০ ,১৪৭ ;৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৫৬ - ৬৫. শাফী ,৮ম খণ্ড ,পৃঃ ১৭০ - ১৭১) ।

৩। দোযখের শয়তান বলতে যুছ - ছুদাইয়াকে বুঝানো হয়েছে (যার পূর্ণ নাম ২নং টীকায় বর্ণিত হয়েছে) । সে নাহরাহওয়ানের যুদ্ধে বজ্রপাতে নিহত হয়েছিল। রাসূল (সা.) তার মৃত্যু সম্বন্ধে পূর্বেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। নাহরাওয়ানের যুদ্ধে খারিজিগণকে ধ্বংস করার পর আমিরুল মোমেনিন অনুসন্ধান করতে বের হয়েছিলেন ,কিন্তু কোথায়ও তার লাশ দেখা গেল না । ইতোমধ্যে রায়ান ইবনে সাবিরাহ একটা খালের পাড়ে পায়তাল্লিশটি লাশ গর্তের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখলো। সেই লাশগুলো তুলে আনার পর যুছ - ছুদাইয়ার মৃত দেহ দেখা গেল। তার কাঁধের মাংশপিন্ডের জন্য তাকে যুছ - ছুদাইয়া বলা হতো। তার লাশ দেখে আমিরুল মোমেনিন বলে ওঠলেন , আল্লাহ মহান ,আমি মিথ্যা বলিনি বা ভুল বলিনি ” (হাদীদ ,১৩শ খণ্ড ,পৃঃ ১৮৩ - ১৮৪ ;)

খোৎবা - ১৯২

یصف فیها المتقین

رُوِيَ أَنَّ صَاحِباً لِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عليه‌السلام يُقَالُ لَهُ هَمَّامٌ كَانَ رَجُلًاً عَابِداًً، فَقَالَ لَهُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ صِفْ لِيَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ. فَتَثَاقَلَ عليه‌السلام عَنْ جَوَابِهِ ثُمَّ قَالَ: يَا هَمَّامُ، اتَّقِ اللَّهَ وَ أَحْسِنْ فَ«إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَ الَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ». فَلَمْ يَقْنَعْ هَمَّامٌ بِهَذَا الْقَوْلِ حَتَّى عَزَمَ عَلَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَ أَثْنَى عَلَيْهِ وَ صَلَّى عَلَى النَّبِيِّ صلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم ثُمَّ قَالَ عليه‌السلام :

سیماء المتّقین

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ اللَّهَسُبْحَانَهُ وَ تَعَالَى خَلَقَ الْخَلْقَ حِينَ خَلَقَهُمْ غَنِيّاً عَنْ طَاعَتِهِمْ، آمِناً مِنْ مَعْصِيَتِهِمْ، لِأَنَّهُ لَا تَضُرُّهُ مَعْصِيَةُ مَنْ عَصَاهُ، وَ لَا تَنْفَعُهُ طَاعَةُ مَنْ أَطَاعَهُ. فَقَسَمَ بَيْنَهُمْ مَعَايِشَهُمْ، وَ وَضَعَهُمْ مِنَ الدُّنْيَا مَوَاضِعَهُمْ. فَالْمُتَّقُونَ فِيهَا هُمْ أَهْلُ الْفَضَائِلِ: مَنْطِقُهُمُ الصَّوَابُ، وَ مَلْبَسُهُمُ الِاقْتِصَادُ، وَ مَشْيُهُمُ التَّوَاضُعُ. غَضُّوا أَبْصَارَهُمْ عَمَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ، وَ وَقَفُوا أَسْمَاعَهُمْ عَلَى الْعِلْمِ النَّافِعِ لَهُمْ. نُزِّلَتْ أَنْفُسُهُمْ مِنْهُمْ فِي الْبَلَاءِ كَالَّتِي نُزِّلَتْ فِي الرَّخَاءِ. وَ لَوْ لَا الْأَجَلُ الَّذِي كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ لَمْ تَسْتَقِرَّ أَرْوَاحُهُمْ فِي أَجْسَادِهِمْ طَرْفَةَ عَيْنٍ، شَوْقاً إِلَى الثَّوَابِ وَ خَوْفاً مِنَ الْعِقَابِ. عَظُمَ الْخَالِقُ فِي أَنْفُسِهِمْ فَصَغُرَ مَا دُونَهُ فِي أَعْيُنِهِمْ، فَهُمْ وَ الْجَنَّةُ كَمَنْ قَدْ رَآهَا، فَهُمْ فِيهَا مُنَعَّمُونَ، وَ هُمْ وَ النَّارُ كَمَنْ قَدْ رَآهَا فَهُمْ فِيهَا مُعَذَّبُونَ. قُلُوبُهُمْ مَحْزُونَةٌ وَ شُرُورُهُمْ مَأْمُونَةٌ، وَ أَجْسَادُهُمْ نَحِيفَةٌ وَ حَاجَاتُهُمْ خَفِيفَةٌ وَ أَنْفُسُهُمْ عَفِيفَةٌ. صَبَرُوا أَيَّاماً قَصِيرَةً أَعْقَبَتْهُمْ رَاحَةً طَوِيلَةً. تِجَارَةٌ مُرْبِحَةٌ يَسَّرَهَا لَهُمْ رَبُّهُمْ. أَرَادَتْهُمُ الدُّنْيَا فَلَمْ يُرِيدُوهَا، وَ أَسَرَتْهُمْ فَفَدَوْا أَنْفُسَهُمْ مِنْهَا.

لیالی المتّقین

أَمَّا اللَّيْلَ فَصَافُّونَ أَقْدَامَهُمْ تَالِينَ لِأَجْزَاءِ الْقُرْآنِ يُرَتِّلُونَهَا تَرْتِيلًا. يُحَزِّنُونَ بِهِ أَنْفُسَهُمْ وَ يَسْتَثِيرُونَ بِهِ دَوَاءَ دَائِهِمْ. فَإِذَا مَرُّوا بِآيَةٍ فِيهَا تَشْوِيقٌ رَكَنُوا إِلَيْهَا طَمَعاً، وَ تَطَلَّعَتْ نُفُوسُهُمْ إِلَيْهَا شَوْقاً، وَ ظَنُّوا أَنَّهَا نُصْبَ أَعْيُنِهِمْ. وَ إِذَا مَرُّوا بِآيَةٍ فِيهَا تَخْوِيفٌ أَصْغَوْا إِلَيْهَا مَسَامِعَ قُلُوبِهِمْ، وَ ظَنُّوا أَنَّ زَفِيرَ جَهَنَّمَ وَ شَهِيقَهَا فِي أُصُولِ آذَانِهِمْ، فَهُمْ حَانُونَ عَلَى أَوْسَاطِهِمْ، مُفْتَرِشُونَ لِجِبَاهِهِمْ وَ أَكُفِّهِمْ وَ رُكَبِهِمْ، وَ أَطْرَافِ أَقْدَامِهِمْ، يَطْلُبُونَ إِلَى اللَّهِتَعَالَى فِي فَكَاكِ رِقَابِهِمْ.

نهار المتقین

وَ أَمَّا النَّهَارَ فَحُلَمَاءُ عُلَمَاءُ، أَبْرَارٌ أَتْقِيَاءُ. قَدْ بَرَاهُمُ الْخَوْفُ بَرْيَ الْقِدَاحِ يَنْظُرُ إِلَيْهِمُ النَّاظِرُ فَيَحْسَبُهُمْ مَرْضَى وَ مَا بِالْقَوْمِ مِنْ مَرَضٍ؛ وَ يَقُولُ: لَقَدْ خُولِطُوا! وَ لَقَدْ خَالَطَهُمْ أَمْرٌ عَظِيمٌ! لَا يَرْضَوْنَ مِنْ أَعْمَالِهِمُ الْقَلِيلَ، وَ لَا يَسْتَكْثِرُونَ الْكَثِيرَ. فَهُمْ لِأَنْفُسِهِمْ مُتَّهِمُونَ، وَ مِنْ أَعْمَالِهِمْ مُشْفِقُونَ إِذَا زُكِّيَ أَحَدٌ مِنْهُمْ خَافَ مِمَّا يُقَالُ لَهُ، فَيَقُولُ:أَنَا أَعْلَمُ بِنَفْسِي مِنْ غَيْرِي وَ رَبِّي أَعْلَمُ بِي مِنِّي بِنَفْسِي اللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا يَقُولُونَ، وَ اجْعَلْنِي أَفْضَلَ مِمَّا يَظُنُّونَ، وَ اغْفِرْ لِي مَا لَا يَعْلَمُونَ .

علامات المتقین

فَمِنْ عَلَامَةِ أَحَدِهِمْ أَنَّكَ تَرَى لَهُ قُوَّةً فِي دِينٍ، وَ حَزْماً فِي لِينٍ، وَ إِيمَاناً فِي يَقِينٍ، وَ حِرْصاً فِي عِلْمٍ، وَ عِلْماً فِي حِلْمٍ وَ قَصْداً فِي غِنًى، وَ خُشُوعاً فِي عِبَادَةٍ، وَ تَجَمُّلًا فِي فَاقَةٍ، وَ صَبْراً فِي شِدَّةٍ، وَ طَلَباً فِي حَلَالٍ، وَ نَشَاطاً فِي هُدًى، وَ تَحَرُّجاً عَنْ طَمَعٍ. يَعْمَلُ الْأَعْمَالَ الصَّالِحَةَ وَ هُوَ عَلَى وَجَلٍ. يُمْسِي وَ هَمُّهُ الشُّكْرُ، وَ يُصْبِحُ وَ هَمُّهُ الذِّكْرُ. يَبِيتُ حَذِراً وَ يُصْبِحُ فَرِحاً؛ حَذِراً لِمَا حُذِّرَ مِنَ الْغَفْلَةِ، وَ فَرِحاً بِمَا أَصَابَ مِنَ الْفَضْلِ وَ الرَّحْمَةِ. إِنِ اسْتَصْعَبَتْ عَلَيْهِ نَفْسُهُ فِيمَا تَكْرَهُ لَمْ يُعْطِهَا سُؤْلَهَا فِيمَا تُحِبُّ. قُرَّةُ عَيْنِهِ فِيمَا لَا يَزُولُ، وَ زَهَادَتُهُ فِيمَا لَا يَبْقَى، يَمْزُجُ الْحِلْمَ بِالْعِلْمِ، وَ الْقَوْلَ بِالْعَمَلِ. تَرَاهُ قَرِيباً أَمَلُهُ، قَلِيلًا زَلَلُهُ، خَاشِعاً قَلْبُهُ، قَانِعَةً نَفْسُهُ، مَنْزُوراً أَكْلُهُ، سَهْلًا أَمْرُهُ، حَرِيزاً دِينُهُ، مَيِّتَةً شَهْوَتُهُ، مَكْظُوماً غَيْظُهُ. الْخَيْرُ مِنْهُ مَأْمُولٌ، وَ الشَّرُّ مِنْهُ مَأْمُونٌ. إِنْ كَانَ فِي الْغَافِلِينَ كُتِبَ فِي الذَّاكِرِينَ، وَ إِنْ كَانَ فِي الذَّاكِرِينَ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ. يَعْفُو عَمَّنْ ظَلَمَهُ، وَ يُعْطِي مَنْ حَرَمَهُ، وَ يَصِلُ مَنْ قَطَعَهُ، بَعِيداً فُحْشُهُ، لَيِّناً قَوْلُهُ، غَائِباً مُنْكَرُهُ حَاضِراً مَعْرُوفُهُ، مُقْبِلًا خَيْرُهُ مُدْبِراً شَرُّهُ فِي الزَّلَازِلِ وَقُورٌ وَ فِي الْمَكَارِهِ صَبُورٌ وَ فِي الرَّخَاءِ شَكُورٌ لَا يَحِيفُ عَلَى مَنْ يُبْغِضُ وَ لَا يَأْثَمُ فِيمَنْ يُحِبُّ يَعْتَرِفُ بِالْحَقِّ قَبْلَ أَنْ يُشْهَدَ عَلَيْهِ لَا يُضِيعُ مَا اسْتُحْفِظَ وَ لَا يَنْسَى مَا ذُكِّرَ وَ لَا يُنَابِزُ بِالْأَلْقَابِ وَ لَا يُضَارُّ بِالْجَارِ وَ لَا يَشْمَتُ بِالْمَصَائِبِ، وَ لَا يَدْخُلُ فِي الْبَاطِلِ، وَ لَا يَخْرُجُ مِنَ الْحَقِّ. إِنْ صَمَتَ لَمْ يَغُمَّهُ صَمْتُهُ، وَ إِنْ ضَحِكَ لَمْ يَعْلُ صَوْتُهُ، وَ إِنْ بُغِيَ عَلَيْهِ صَبَرَ حَتَّى يَكُونَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي يَنْتَقِمُ لَهُ. نَفْسُهُ مِنْهُ فِي عَنَاءٍ، وَ النَّاسُ مِنْهُ فِي رَاحَةٍ أَتْعَبَ نَفْسَهُ لِآخِرَتِهِ وَ أَرَاحَ النَّاسَ مِنْ نَفْسِهِ. بُعْدُهُ عَمَّنْ تَبَاعَدَ عَنْهُ زُهْدٌ وَ نَزَاهَةٌ، وَ دُنُوُّهُ مِمَّنْ دَنَا مِنْهُ لِينٌ وَ رَحْمَةٌ. لَيْسَ تَبَاعُدُهُ بِكِبْرٍ وَ عَظَمَةٍ، وَ لَا دُنُوُّهُ بِمَكْرٍ وَ خَدِيعَةٍ.

قَالَ:فَصَعِقَ هَمَّامٌ صَعْقَةً كَانَتْ نَفْسُهُ فِيهَا .

فَقَالَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَعليه‌السلام : أَمَا وَ اللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَخَافُهَا عَلَيْهِ. ثُمَّ قَالَ: أَ هَكَذَا تَصْنَعُ الْمَوَاعِظُ الْبَالِغَةُ بِأَهْلِهَا؟فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ : فَمَا بَالُكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ، فَقَالَ عليه‌السلام : وَيْحَكَ إِنَّ لِكُلِّ أَجَلٍ وَقْتاً لَا يَعْدُوهُ وَ سَبَباً لَا يَتَجَاوَزُهُ فَمَهْلًا لَا تَعُدْ لِمِثْلِهَا فَإِنَّمَا نَفَثَ الشَّيْطَانُ عَلَى لِسَانِكَ!.

পরহেজগারের গুণাবলী ও তাকওয়া অবলম্বন সম্পর্কে

বর্ণিত আছে যে ,হাম্মাম নামক আমিরুল মোমেনিনের এক সহচর সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। তিনি একদিন বললেন , হে আমিরুল মোমেনিন পরহেজগার লোকদের সম্পর্কে এভাবে একটু বর্ণনা করুন যেন আমি তাদেরকে দেখতে পাই। ” আমিরুল মোমেনিন জবাব এড়িয়ে গিয়ে বললেন , হে হাম্মাম ,আল্লাহকে ভয় কর এবং সৎকর্মশীল হও । নিশ্চয়ই ,আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ।(কুরআন - ১৬ : ১২৮) । ” হাম্মাম এতে সন্তুষ্ট না হয়ে আমিরুল মোমেনিনকে কিছু বলতে অনুরোধ করলেন। এতে তিনি মহিমান্বিত আল্লাহর প্রশংসা ও তার রহমত প্রার্থনা করলেন এবং রাসূলের (সা.) - ওপর সালাম পেশ করে বললেনঃ

পরহেজগার ব্যক্তির গুণাবলী

এবার শোন ,সর্বশক্তিমান ও মহিমান্বিত আল্লাহ সৃষ্টি - জগতের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। বান্দার আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন বলে তিনি সৃষ্টি করেননি অথবা তাদের পাপ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য তিনি সৃষ্টি করেননি। কারণ কোন পাপীর পাপ তার কোন ক্ষতি করতে পারে না বা কারো আনুগত্য তার কোন উপকারে আসে না। তিনি সর্বত্র তাদের জীবনোপকরণ ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং দুনিয়াতে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কাজেই ,খোদা - ভীরুগণ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাদের কথা - বার্তা যথার্থ ,তাদের পোষাক - পরিচ্ছদ মাত্রাবদ্ধ এবং তাদের চাল - চলন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাদের জন্য আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন সেসবের প্রতি তাদের চোখ বন্ধ এবং যে জ্ঞান তাদের উপকারে আসে তার প্রতি তারা কান - খাড়া রাখে। পরীক্ষার সময় তারা এমনভাবে থাকে যেন তারা আরাম - আয়েশে রয়েছে। যদি প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত না থাকতো তাহলে তাদের আত্মা পুরস্কারের আশায় ও শাস্তির ভয়ে এক মুহুর্তের জন্যও তাদের দেহে অবস্থান করতো না। তাদের হৃদয়ে স্রষ্টার মহত্ত্ব গেড়ে বসে আছে এবং স্রষ্টার মহত্ত্ব ছাড়া সব কিছুই তাদের দৃষ্টিতে নগণ্য। এ জন্য বেহেশত তাদের কাছে অতি নগণ্য যদিও তারা এর সুখ ভোগ করছে এবং দোযখও তাদের কাছে অতি নগণ্য যদিও তারা এর শাস্তি ভোগ করছে। তাদের হৃদয় শোকাহত ,তারা পাপ থেকে সংরক্ষিত ,তাদের দেহ কৃশ ,তাদের অভাব - অনটন নেই বললেই চলে এবং তাদের আত্মা পবিত্র। তারা অল্প সময়ের দুঃখ - কষ্ট সহ্য করে চিরস্থায়ী আরাম - আয়েশ অর্জন করে। এটা অত্যন্ত উপকারী লেনদেন যা আল্লাহ তাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। দুনিয়া তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে ,কিন্তু তারা দুনিয়ার দিকে ভ্রক্ষেপও করে না। দুনিয়া তাদেরকে ঘিরে ধরে ,কিন্তু তারা নিজেদেরকে মুক্তিপণ দিয়ে বিনিময়ে দুনিয়া থেকে মুক্ত হয়ে গেছে।

পরহেজগার ব্যক্তির রাত্রিযাপন

রাত্রিকালে তারা পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে সুপরিমিত উপায়ে কুরআন তেলাওয়াত করে ;এতে তাদের হৃদয়ে শোকের সৃষ্টি হয় এবং এতে তারা তাদের রোগের চিকিৎসা অনুসন্ধান করে। যখন তারা বেহেশত সম্বন্ধে কোন আয়াত পড়ে তখন তারা বেহেশতের জন্য লোভী হয়ে পড়ে এবং তাদের আত্মা এমনভাবে তার প্রতি ঝুকে পড়ে যেন তারা তাকে সম্মুখে দেখতে পায়। আবার যখন তারা দোযখের ভয় সংক্রান্ত আয়াত তেলাওয়াৎ করে তখন তারা এমনভাবে হৃদয়ের কান পেতে রাখে যেন তারা দোযখের শব্দ ও ক্রন্দন শুনতে পাচ্ছে। তারা রুকু করে ,সেজদাবনত হয়ে মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে সনির্বন্ধ মিনতি জানায়।

পরহেজগার ব্যক্তির দিনাতিপাত

দিবাভাগে তারা সহীষ্ণু ,প্রাজ্ঞ ,পরহেজগার ও খোদা - ভীরু। আল্লাহর ভয় তাদেরকে তীরের মতো কৃশ করে ফেলেছে। যে কেউ তাদের দিকে তাকালে তাদেরকে মনে করবে রুগ্ন ,আসলে তা নয়। কেউ কেউ মনে করবে তারা পাগল ;আসলে আল্লাহর ভয় তাদেরকে পাগল করে দিয়েছে। তারা তাদের অল্প সৎ আমলে সন্তুষ্ট হয় না এবং তাদের সৎ আমলকে বৃহৎ কিছু মনে করে না। তারা সর্বদা নিজেদেরকে দোষারোপ করে এবং তাদের কাজের জন্য ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। যদি তাদের কাউকে প্রশংসা করা হয় তখন সে বলে , আমি আমার নিজকে অন্যদের চেয়ে বেশি জানি এবং আমার প্রভু আমাকে তদপেক্ষা বেশি জানেন। হে আল্লাহ ,তারা যেরূপ বলে আমার সাথে সেরূপ ব্যবহার করো না ,তারা আমার সম্পর্কে যা চিন্তা করে তা অপেক্ষা আমাকে ভালো করে দাও এবং আমার যে সব দোষের কথা তারা জানে না। সে সব অপরাধ আমাকে ক্ষমা করে দাও ।

পরহেজগার ব্যক্তির আলামত

এসব লোকের বৈশিষ্ট্য হলো - তারা দ্বীনে শক্তিশালী ,কোমলতার সাথে দৃঢ় - সংকল্প ,ইমানে সুদৃঢ় ,জ্ঞানার্জনে আগ্রহী ,ঐশ্বর্যে নমনীয় ,ইবাদতে আসক্ত ,উপোসে তৃপ্ত ,দুঃখ - কষ্টে ধৈর্যশীল ,হালালের প্রত্যাশী ,হেদায়েতে আনন্দিত এবং লোভ - লালসার প্রতি ঘৃণাশীল। তারা ধার্মিকতার কাজ করে ,কিন্তু তবুও ভীত - সন্ত্রস্ত থাকে। সন্ধ্যায় তারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং ভোরে আল্লাহর জেকেরের জন্য উদ্বীগ্ন থাকে। তারা ভয়ের মধ্যে রাত্রিযাপন করে পাছে আল্লাহকে ভুলে রাত্রি চলে যায় এবং ভোরে আনন্দে উত্থিত হয় কারণ আল্লাহর নেয়ামত ও রহমত লাভ করেছে। যদি তারা নিজে কোন কিছু সহ্য করতে অস্বীকার করে তা শত চেষ্টা করেও তাদের কাছে আসতে পারে না। চিরস্থায়ী বিষয় হলো তাদের চোখের শীতলতা। ইহকালের কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয় বলে তারা তা থেকে দূরে সরে থাকে। তারা ধৈর্য সহকারে অন্যের থেকে জ্ঞান আহরণ করে এবং আমল সহকারে বক্তব্য পেশ করে।

তোমরা দেখতে পাবে ,তাদের আশা - আকাঙ্খা অতি পরিমিত ,দোষ - ত্রুটি নগণ্য ,হৃদয় ভয়ে কম্পিত ,আত্মা তৃপ্ত ,খোরাক সামান্য ও সাধারণ ,দ্বীন নিরাপদ ,লালসা মৃত এবং ক্রোধ প্রদমিত। তাদের কাছ থেকে শুধু মঙ্গল আর কল্যাণই আশা করা যায়। তাদের কাছ থেকে মন্দ কিছু পাবার ভয় নেই। যারা আল্লাহকে ভুলে থাকে তাদের মাঝেও তারা আল্লাহর জেকেরকারী ;আবার যারা আল্লাহর জেকেরকারী তাদের মাঝে তারা আল্লাহকে ভুলে থাকে না। অবিচারকারীদের প্রতিও তারা ক্ষমাশীল এবং যারা তাদেরকে বঞ্চিত করে তাদেরকেও তারা প্রদান করে। তাদের প্রতি যারা অসদাচরণ করে তাদের প্রতি তারা সদাচরণ করে ।

অশোভন উক্তি তাদের কাছে পাওয়া যায় না ,তাদের গলার স্বর কোমল ,তাদের মাঝে মন্দের কোন অস্তিত্ব নেই ,সৎগুণ সদা বিরাজমান ,কল্যাণে তারা অগ্রণী এবং ফেতনা তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দুর্যোগের সময় তারা মর্যাদাশীল ,দুঃখ - দুর্দশায় ধৈর্যশীল এবং সুসময়ে তারা কৃতজ্ঞচিত্ত। যাকে তারা ঘৃণা করে তার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে না এবং যাকে তারা ভালোবাসে তার খাতিরে পাপ করে না। প্রমাণ দাঁড় করানোর আগেই তারা সত্যকে স্বীকৃতি দেয়। তারা কখনো আমানতের খেয়ানত করে না এবং যা স্মরণ রাখা দরকার তা কখনো ভুলে যায় না। তারা কখনো অন্যকে গাল - মন্দ করে না ,প্রতিবেশীর কোন ক্ষতি সাধন করে না ,অন্যের দুর্ভাগ্যে আনন্দ অনুভব করে না ,কখনো বিভ্রান্তিতে পা দেয় না এবং ন্যায় ও সত্য হতে কখনো সরে যায় না ।

যদি তারা নীরব থাকে তবে তাদের নীরবতা তাদেরকে শোকাহত করে না ,যদি তারা হাসে তবে অট্টহাসি দেয় না এবং তাদের প্রতি কেউ অন্যায় করলে আল্লাহ্ কর্তৃক প্রতিশোধ গ্রহণ করা পর্যন্ত তারা ধৈর্যধারণ করে থাকে। তারা নিজের কারণেই দুর্দশাগ্রস্থ ,কিন্তু অন্যরা তাদের কাছ থেকে উপকার পায়। তারা পরকালীন জীবনের খাতিরে নিজেকে অভাব - অনটনে রেখেছে এবং মানুষ তাদের কাছ থেকে নিরাপদ অনুভব করে। কঠোর তপস্যা ও পবিত্রতা দ্বারা তারা অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং নমনীয়তা ও দয়া দ্বারা তারা তাদের নিকটবর্তী হয়। আত্মশ্লাঘার কারণে তারা অন্যদের কাছ থেকে দূরে থাকে না আবার বঞ্চনা ও প্রতারণা করার জন্য তারা কারো নিকটবর্তী হয় না।

বর্ণিত আছে যে ,আমিরুল মোমেনিনের বক্তব্য শুনে হাম্মাম মুর্ছিত হয়ে পড়েছিল এবং মৃত্যুবরণ করেছিল। তখন আমিরুল মোমেনিন বললেন ,আল্লাহর কসম ,এ ভয়েই আমি প্রথমে তার অনুরোধ এড়িয়ে গিয়েছিলাম। মনে দাগ কাটতে সক্ষম উপদেশ ভাবগ্রাহী হৃদয়ে এভাবেই ফলপ্রসূ হয়। কেউ একজন বললো , হে আমিরুল মোমেনিন ,আপনার উপদেশ হাম্মামের ওপর যেরূপ ফলপ্রসূ হয়েছে ,আপনার ওপর সেরূপ হয়নি কেন ? আমিরুল মোমেনিন বললেন ,তোমার ওপর লানত ;মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে যা এগিয়েও আনা যায় না ,পিছিয়েও নেয়া যায় না এবং মৃত্যুর কারণও পরিবর্তন করা যায় না। দেখ ,এ ধরনের কথা ,যা শয়তান তোমার জিহ্বায় রেখেছে ,আর কখনো পুনরাবৃত্তি করো না ।

____________________

১। ইবনে আবিল হাদীদ উল্লেখ করেছেন যে ,এই হাম্মামই হলো হাম্মাম ইবনে শুরাইয়াহ। কিন্তু আল্লামা মজলিসী বলেন যে ,এ হাম্মাম হলো হাম্মাম ইবনে উবাদাহ।

২। এ লোকটি হলো আবদুল্লাহ ইবনে আল - কাওয়া যে ছিল খারিজি আন্দোলনের পুরোধা এবং আমিরুল মোমেনিনের বিরুদ্ধবাদী ।

খোৎবা - ১৯৩

سیماء المنافقین

نَحْمَدُهُ عَلَى مَا وَفَّقَ لَهُ مِنَ اَلطَّاعَةِ، وَ ذَادَ عَنْهُ مِنَ اَلْمَعْصِيَةِ، وَ نَسْأَلُهُ لِمِنَّتِهِ تَمَاماً، وَ بِحَبْلِهِ اِعْتِصَاماً. وَ نَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَ رَسُولُهُ، خَاضَ إِلَى رِضْوَانِ اَللَّهِ كُلَّ غَمْرَةٍ، وَ تَجَرَّعَ فِيهِ كُلَّ غُصَّةٍ. وَ قَدْ تَلَوَّنَ لَهُ اَلْأَدْنَوْنَ، وَ تَأَلَّبَ عَلَيْهِ اَلْأَقْصَوْنَ وَ خَلَعَتْ إِلَيْهِ اَلْعَرَبُ أَعِنَّتَهَا، وَ ضَرَبَتْ إِلَى مُحَارَبَتِهِ بُطُونَ رَوَاحِلِهَا، حَتَّى أَنْزَلَتْ بِسَاحَتِهِ عَدَاوَتَهَا، مِنْ أَبْعَدِ اَلدَّارِ، وَ أَسْحَقِ اَلْمَزَارِ.

أُوصِيكُمْ عِبَادَ اَللَّهِ بِتَقْوَى اَللَّهِ، وَ أُحَذِّرُكُمْ أَهْلَ اَلنِّفَاقِ، فَإِنَّهُمُ اَلضَّالُّونَ اَلْمُضِلُّونَ، وَ اَلزَّالُّونَ اَلْمُزِلُّونَ، يَتَلَوَّنُونَ أَلْوَاناً، وَ يَفْتَنُّونَ اِفْتِنَاناً. وَ يَعْمِدُونَكُمْ بِكُلِّ عِمَادٍ وَ يَرْصُدُونَكُمْ(یسدّونکم) بِكُلِّ مِرْصَادٍ قُلُوبُهُمْ دَوِيَّةٌ، وَ صِفَاحُهُمْ نَقِيَّةٌ. يَمْشُونَ اَلْخَفَاءَ وَ يَدِبُّونَ اَلضَّرَاءَ. وَصْفُهُمْ دَوَاءٌ وَ قَوْلُهُمْ شِفَاءٌ، وَ فِعْلُهُمُ اَلدَّاءُ اَلْعَيَاءُ. حَسَدَةُ اَلرَّخَاءِ، وَ مُؤَكِّدُو(مولّدوا) اَلْبَلاَءِ، وَ مُقْنِطُو اَلرَّجَاءِ. لَهُمْ بِكُلِّ طَرِيقٍ صَرِيعٌ، وَ إِلَى كُلِّ قَلْبٍ شَفِيعٌ، وَ لِكُلِّ شَجْوٍ دُمُوعٌ. يَتَقَارَضُونَ اَلثَّنَاءَ، وَ يَتَرَاقَبُونَ اَلْجَزَاءَ إِنْ سَأَلُوا أَلْحَفُوا، وَ إِنْ عَذَلُوا كَشَفُوا، وَ إِنْ حَكَمُوا أَسْرَفُوا. قَدْ أَعَدُّوا لِكُلِّ حَقٍّ بَاطِلاً، وَ لِكُلِّ قَائِمٍ مَائِلاً، وَ لِكُلِّ حَيٍّ قَاتِلاً، وَ لِكُلِّ بَابٍ مِفْتَاحاً، وَ لِكُلِّ لَيْلٍ مِصْبَاحاً. يَتَوَصَّلُونَ إِلَى اَلطَّمَعِ بِالْيَأْسِ لِيُقِيمُوا بِهِ أَسْوَاقَهُمْ، وَ يُنْفِقُوا بِهِ أَعْلاَقَهُمْ. يَقُولُونَ فَيُشَبِّهُونَ، وَ يَصِفُونَ فَيُمَوِّهُونَ. قَدْ هَوَّنُوا اَلطَّرِيقَ(الدّین) ، وَ أَضْلَعُوا اَلْمَضِيقَ، فَهُمْ لُمَةُ اَلشَّيْطَانِ، وَ حُمَةُ اَلنِّيرَانِ:( أُولئِكَ حِزْبُ اَلشَّيْطانِ أَلا إِنَّ حِزْبَ اَلشَّيْطانِ هُمُ اَلْخاسِرُونَ ) .

মোনাফিকের বর্ণনা

আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি তার অনুগত থাকার তৌফিক দেবার জন্য ,তার অবাধ্যতা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তার নেয়ামতের জন্য ও তাঁর রশি ধারণ করার ক্ষমতা প্রদান করার জন্য। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ (সা.) তার বান্দা ও রাসূল। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকল দুঃখকষ্ট বরণ করে নিয়েছিলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সকল শোক সহ্য করেছিলেন। তার নিকট আত্মীয়গণ নিজেদেরকে পরিবর্তন করে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল এবং দূরবর্তী আত্মীয়গণ দলবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ;আরবরা তার বিরুদ্ধে ঘোড়ার লাগাম ঢিলা করে দিয়েছিল (অর্থাৎ দ্রুত তাঁর বিরুদ্ধে দলবদ্ধ হয়েছিল) । তাদের বাহনের পেটে আঘাত করে তারা তাঁর বিরুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়েছিল। অবস্থা এমন হয়েছিল যে ,দূর দূরান্ত থেকে শত্রু তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর দোরগোড়ায় উপস্থিত হয়েছিল।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি ,তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং মোনাফেক সম্পর্কে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি। কারণ তারা নিজেরা গোমরাহ এবং অন্যদেরকেও গোমরাহ করে। তারা নিজেরা আছাড় খেয়েছে এবং অন্যদেরকেও আছাড় খাওয়াতে চায়। তারা বহুরূপী এবং বহু পথ অবলম্বন করে। তারা তোমাকে তাদের অনুসারী করতে ওৎ পেতে থাকে এবং সকল প্রকারের সহায়তা নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসে। তাদের মুখমণ্ডল পরিচ্ছন্ন হলেও হৃদয় রোগাক্রান্ত। তারা গোপনে চলাফেরা করে এবং রুগ্নের মতো পদচারণা করে। তাদের কথা চিকিৎসার মতো কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দুরারোগ্য ব্যাধির মতো। তারা অন্যের আরাম - আয়েশে ঈর্ষাপরায়ণ ;তারা অন্যের দুঃখ - কষ্ট বৃদ্ধি করে এবং আশা - ভরসা বিনষ্ট করে। তাদের শিকার প্রতিটি পথে পড়ে আছে ;প্রতিটি হৃদয়ে তারা প্রবেশ করতে পারে এবং শোকাহত মানুষের জন্য তারা লোক - দেখানো (মিথ্যা) অশ্রু ফেলে।

তারা একে অপরের প্রশংসা করে এবং একে অপরের কাছ থেকে পুরস্কার আশা করে। যখন তারা কোন কিছু যাচনা করে তখন তা পেতে জেদ ধরে ;যখন তারা কাউকে দোষারোপ করে তখন তার সম্মানহানী করে এবং যখন তারা রায় প্রদান করে তখন তাতে বাড়াবাড়ি করে। প্রতিটা সত্যের জন্য তারা একটা ভুল পথ অবলম্বন করে এবং প্রতিটা সরল - সহজ পথের জন্য তারা বক্রপথ উদ্ভাবনকারী। প্রতিটা জীবিত ব্যক্তির জন্য তারা এক একটা হত্যাকারী। প্রতিটা রুদ্ধদ্বারের জন্য তারা এক একটা চাবি এবং প্রতিটা বাতির জন্য তারা এক একটা নির্বাপণকারী। তারা কামনা করে কিন্তু হতাশার সাথে যাতে তাদের বাজার ঠিক থাকে এবং তাদের পণ্য সহজে জনপ্রিয় হয়। যখন তারা কথা বলে তখন সংশয় সৃষ্টি করে ;যখন তারা বর্ণনা করে তখন অতিরঞ্জিত করে। প্রথমে তারা সহজ পথের কথা বলে কিন্তু পরে তা সংকীর্ণ করে ফেলে। সংক্ষেপে ,তারা হলো শয়তানের দল এবং আগুনের ইন্ধন।

শয়তান তাদেরকে পেয়ে বসেছে । সুতরাং তারা আল্লাহর জেকের ভুলে গেছে ,তারা শয়তানের দলভুক্ত ;সাবধান ,নিশ্চয়ই শয়তানের দল ক্ষতিগ্রস্থ (সূরা মোজাদেলাহ , আয়াত: ১৯) ।

খোৎবা - ১৯৪

آیات الله البئنة

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ اَلَّذِي أَظْهَرَ مِنْ آثَارِ سُلْطَانِهِ، وَ جَلاَلِ كِبْرِيَائِهِ، مَا حَيَّرَ مُقَلَ اَلْعُقُولِ مِنْ عَجَائِبِ قُدْرَتِهِ، وَ رَدَعَ خَطَرَاتِ هَمَاهِمِ اَلنُّفُوسِ عَنْ عِرْفَانِ كُنْهِ صِفَتِهِ. وَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اَللَّهُ، شَهَادَةَ إِيمَانٍ وَ إِيقَانٍ، وَ إِخْلاَصٍ وَ إِذْعَانٍ. وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَ رَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ وَ أَعْلاَمُ اَلْهُدَى دَارِسَةٌ، وَ مَنَاهِجُ اَلدِّينِ طَامِسَةٌ، فَصَدَعَ بِالْحَقِّ؛ وَ نَصَحَ لِلْخَلْقِ، وَ هَدَى إِلَى اَلرُّشْدِ، وَ أَمَرَ بِالْقَصْدِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم

معرفة الله

وَ اِعْلَمُوا، عِبَادَ اَللَّهِ، أَنَّهُ لَمْ يَخْلُقْكُمْ عَبَثاً وَ لَمْ يُرْسِلْكُمْ هَمَلاً، عَلِمَ مَبْلَغَ نِعَمِهِ عَلَيْكُمْ، وَ أَحْصَى إِحْسَانَهُ إِلَيْكُمْ، فَاسْتَفْتِحُوهُ وَ اِسْتَنْجِحُوهُ، وَ اُطْلُبُوا إِلَيْهِ وَ اِسْتَمْنِحُوهُ(واستمیحوه) ، فَمَا قَطَعَكُمْ عَنْهُ حِجَابٌ وَ لاَ أُغْلِقَ عَنْكُمْ دُونَهُ بَابٌ وَ إِنَّهُ لَبِكُلِّ مَكَانٍ وَ فِي كُلِّ حِينٍ وَ أَوَانٍ، وَ مَعَ كُلِّ إِنْسٍ وَ جَانٍّ؛ لاَ يَثْلِمُهُ اَلْعَطَاءُ وَ لاَ يَنْقُصُهُ اَلْحِبَاءُ، وَ لاَ يَسْتَنْفِدُهُ سَائِلٌ، وَ لاَ يَسْتَقْصِيهِ نَائِلٌ، وَ لاَ يَلْوِيهِ شَخْصٌ عَنْ شَخْصٍ، وَ لاَ يُلْهِيهِ صَوْتٌ عَنْ صَوْتٍ، وَ لاَ تَحْجُزُهُ هِبَةٌ عَنْ سَلْبٍ، وَ لاَ يَشْغَلُهُ غَضَبٌ عَنْ رَحْمَةٍ، وَ لاَ تُولِهُهُ رَحْمَةٌ عَنْ عِقَابٍ، وَ لاَ يُجِنُّهُ اَلْبُطُونُ عَنِ اَلظُّهُورِ، وَ لاَ يَقْطَعُهُ اَلظُّهُورُ عَنِ اَلْبُطُونِ. قَرُبَ فَنَأَى، وَ عَلاَ فَدَنَا، وَ ظَهَرَ فَبَطَنَ، وَ بَطَنَ فَعَلَنَ، وَ دَانَ وَ لَمْ يُدَنْ. لَمْ يَذْرَأِ اَلْخَلْقَ بِاحْتِيَالٍ، وَ لاَ اِسْتَعَانَ بِهِمْ لِكَلاَلٍ.

ذکر القیامة

أُوصِيكُمْ، عِبَادَ اَللَّهِ، بِتَقْوَى اَللَّهِ، فَإِنَّهَا اَلزِّمَامُ وَ اَلْقِوَامُ، فَتَمَسَّكُوا بِوَثَائِقِهَا، وَ اِعْتَصِمُوا بِحَقَائِقِهَا، تَؤُلْ بِكُمْ إِلَى أَكْنَانِ اَلدَّعَةِ وَ أَوْطَانِ اَلسَّعَةِ، وَ مَعَاقِلِ(مناقل) اَلْحِرْزِ وَ مَنَازِلِ(منال) اَلْعِزِّ فِي«يَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ اَلْأَبْصَارُ» وَ تُظْلِمُ لَهُ اَلْأَقْطَارُ وَ تُعَطَّلُ فِيهِ صُرُومُ اَلْعِشَارِ. وَ يُنْفَخُ فِي اَلصُّورِ، فَتَزْهَقُ كُلُّ مُهْجَةٍ، وَ تَبْكَمُ كُلُّ لَهْجَةٍ، وَ تَذِلُّ اَلشُّمُّ اَلشَّوَامِخُ، وَ اَلصُّمُّ اَلرَّوَاسِخُ، فَيَصِيرُ صَلْدُهَا سَرَاباً رَقْرَقاً، وَ مَعْهَدُهَا قَاعاً سَمْلَقاً، فَلاَ شَفِيعٌ يَشْفَعُ، وَ لاَ حَمِيمٌ يَنْفَعُ، وَ لاَ مَعْذِرَةٌ تَدْفَعُ.

আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও বিচার দিনের বর্ণনা

আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শনাবলী

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর কুদরতের অত্যাশ্চার্যের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা ও মহত্ত্বের বাস্তবতা এভাবে প্রকাশ করেছেন যে ,চক্ষুষ্মান ব্যক্তির চোখে ধাঁধা লেগে যায় এবং তাঁর গুণাবলীর বাস্তবতার প্রশংসা করতে জ্ঞান স্থবির হয়ে পড়ে। আমি ইমানের বলেনিশ্চয়তা ,আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ,আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা ’ বুদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ,মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল যাকে তিনি এমন এক সময় পাঠিয়েছিলেন যখন হেদায়েতের চিহ্ন বিলোপ হয়ে গিয়েছিল এবং দ্বীনের পথ উৎসাদিত করেছিল। সুতরাং তিনি সত্যকে প্রকাশ্যে সকলের সম্মুখে ছেড়ে দিলেন ,জনগণকে উপদেশ দিলেন ,ন্যায়ের দিকে তাদেরকে পরিচালিত করলেন এবং মধ্যপন্থী হতে তাদেরকে আদেশ দিলেন। তিনি ও তার আহলে বাইতের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক ।

খোদা পরিচিতি

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,জেনে রাখো ,তিনি বিনা কারণে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেননি এবং তোমাদেরকে মুক্তভাবে ছেড়েও দেননি। তোমাদের ওপর তার রহমতের পরিমাণ তিনি জানেন এবং তাঁর নেয়ামতের পরিমাণও তিনি জানে। কাজেই ,কৃতকার্যতার জন্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাঁর দরবারে প্রার্থনা কর। তার কাছে যাচনা কর এবং তার দয়া ভিক্ষা কর। কোন পর্দা তার কাছ থেকে তোমাদেরকে গোপন করতে পারবে না এবং কোন দরজা বন্ধ করে তার হাত থেকে রক্ষা পাবে না। তিনি সর্বত্র আছেন এবং প্রতি পলে অনুপলে তিনি আছেন। প্রতিটি মানুষ ও জিনের সঙ্গে তিনি আছেন। দান করা তার প্রকৃতি বিরুদ্ধ নয় এবং দান করলে তাঁর কোন কিছুতে কমতি দেখা দেয় না। ভিক্ষুকের দল তাঁর কিছুই নিঃশেষ করতে পারে না এবং দান করে তার ঐশ্বর্য কখনো শেষ হয় না।

একজন আহবান করলে তাঁর দৃষ্টি অন্যদের ওপর থেকে সরে যায় না ;একজনের স্বর তাঁর কাছে অন্যদের স্বরকে আশ্রুত রাখে না এবং একজনের প্রতি নেয়ামত মঞ্জুরী অন্যদের প্রতি না - মঞ্জুর করতে তাকে বারিত করে না। কারো প্রতি তার দয়া অন্যদেরকে শাস্তি প্রদান থেকে তাকে বিরত রাখে না । তাঁর গুপ্তাবস্থা তার স্বপ্রকাশকে বারিত করে না এবং স্বপ্রকাশ গুপ্তাবস্থাকে প্রতিহত করতে পারে না। তিনি নিকটবর্তী এবং একই সময়ে তিনি দূরবর্তী। তিনি সমুচ্চ এবং একই সময়ে নিচু। তিনি প্রকাশ্য এবং গুপ্ত। তিনি গুপ্ত তবুও সুপরিচিত (সুজ্ঞাত) । তিনি ঋণ প্রদান করেন কিন্তু কোন ঋণই গ্রহণ করেন না। তিনি নমুনা একে কোন কিছু সৃষ্টি করেননি এবং ক্লান্তির কারণে কারো কোন সাহায্য গ্রহণ করেননি।

বিচার দিনের বর্ণনা

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি ,তোমরা আল্লাহকে ভয় কর । কারণ এটা দ্বীনের প্রধান রজ্জু। এর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং এর বাস্তবতাকে আঁকড়ে ধরো। এটা তোমাদেরকে বিচার দিনে সুখের বাসস্থানে ,নিরাপদ অবস্থানে এবং মহাসম্মানের ঘরে নিয়ে যাবে ,তখন তোমাদের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে যাবে (কুরআন - ১৪:৪২) । যখন চতুর্দিক অন্ধকারময় হবে ,যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রির ক্ষুদ্রদলকে মুক্তভাবে চরে খাবার অনুমতি দেয়া হবে এবং যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে তখন সকল জীবিত প্রাণী মরে যাবে ,সকল কণ্ঠস্বর বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে ,উচু পর্বতমালা ও কঠিন শিলাখণ্ড চূর্ণ - বিচূর্ণ হয়ে উড়ন্ত বালিতে পরিণত হবে। তখন কোন মধ্যস্থতাকারী থাকবে না ,বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য কোন আত্মীয় - স্বজন থাকবে না এবং কোন প্রকার ওজর গ্রাহ্য করা হবে না ।