নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 43945
ডাউনলোড: 2030

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 43945 / ডাউনলোড: 2030
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

খোৎবা - ১৯৫

بَعَثَهُ حِينَ لاَ عَلَمٌ قَائِمٌ، وَ لاَ مَنَارٌ سَاطِعٌ، وَ لاَ مَنْهَجٌ وَاضِحٌ. أُوصِيكُمْ، عِبَادَ اَللَّهِ، بِتَقْوَى اَللَّهِ، وَ أُحَذِّرُكُمُ اَلدُّنْيَا، فَإِنَّهَا دَارُ شُخُوصٍ، وَ مَحَلَّةُ تَنْغِيصٍ، سَاكِنُهَا ظَاعِنٌ، وَ قَاطِنُهَا بَائِنٌ، تَمِيدُ بِأَهْلِهَا مَيَدَانَ اَلسَّفِينَةِ تَقْصِفُهَا اَلْعَوَاصِفُ فِي لُجَجِ اَلْبِحَارِ، فَمِنْهُمُ اَلْغَرِقُ اَلْوَبِقُ، وَ مِنْهُمُ اَلنَّاجِي عَلَى بُطُونِ اَلْأَمْوَاجِ، تَحْفِزُهُ اَلرِّيَاحُ بِأَذْيَالِهَا، وَ تَحْمِلُهُ عَلَى أَهْوَالِهَا، فَمَا غَرِقَ مِنْهَا فَلَيْسَ بِمُسْتَدْرَكٍ، وَ مَا نَجَا مِنْهَا فَإِلَى مَهْلَكٍ عِبَادَ اَللَّهِ، اَلْآنَ فَاعْلَمُوا، وَ اَلْأَلْسُنُ مُطْلَقَةٌ، وَ اَلْأَبْدَانُ صَحِيحَةٌ، وَ اَلْأَعْضَاءُ لَدْنَةٌ، وَ اَلْمُنْقَلَبُ فَسِيحٌ، وَ اَلْمَجَالُ عَرِيضٌ، قَبْلَ إِرْهَاقِ(ازهاق) اَلْفَوْتِ، وَ حُلُولِ اَلْمَوْتِ. فَحَقِّقُوا عَلَيْكُمْ نُزُولَهُ، وَ لاَ تَنْتَظِرُوا قُدُومَهُ.

নবুয়ত ঘোষণাকালে পৃথিবীর অবস্থা সম্পর্কে

আল্লাহ রাসূলকে (সা.) এমন এক সময় প্রেরণ করেছিলেন যখন হেদায়েতের কোন চিহ্ন ছিল না ,দেশনা দেয়ার মতো কোন আলোকবর্তিকা ছিল না এবং কোন সুস্পষ্ট পথ ছিল না।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি ,তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমি তোমাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি ,এ পৃথিবী একটা অস্বস্তিকর আবাসস্থল যেখান থেকে প্রস্থান অবধারিত। যে কেউ এখানে বাস করে তাকে প্রস্থান করতেই হবে এবং যে কেউ জাগতিক বিষয় নিয়ে থাকে তাকে তা পরিত্যাগ করতেই হবে । গভীর সমুদ্রে যাত্রিবাহী নৌকা যেমন তরঙ্গের দোলায় দুলতে থাকে। তদ্রুপ মানুষ এখানে প্রতি মুহুর্তে মৃত্যুর দোলায় দুলছে। তাদের কতেক ডুবে মরে যায় এবং কতেক রক্ষা পেলেও বাতাস ও স্রোত পুনরায় তাদেরকে বিপদের মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। সুতরাং যা ডুবে যায় তা আর ফিরিয়ে আনা যায় না এবং যা কিছু রক্ষা পায় তা আবার ধ্বংসের পথে চলে যায়।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে ,এখনই তোমাদের আমলে সালেহায় ব্রতী হওয়া দরকার ;কারণ এখন তোমাদের জিহ্বা মুক্ত ,তোমাদের শরীর সুস্থ ,তোমাদের অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ সচল ,তোমাদের চলাচলের এলাকা বিশাল এবং তোমাদের দৌড়ের পথ প্রশস্ত। কাজেই সুযোগ হারাবার আগে বা মৃত্যু উপস্থিত হবার আগে সৎ আমলে প্রবৃত্ত হও। সর্বদা মনে রেখো ,মৃত্যুর উপস্থিতি একটা আকস্মিক ঘটনা এবং কখনো মনে করো না যে ,মৃত্যু কিছুকাল পরে আসবে।

খোৎবা - ১৯৬

وَ لَقَدْ عَلِمَ اَلْمُسْتَحْفَظُونَ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم أَنِّي لَمْ أَرُدَّ عَلَى اَللَّهِ وَ لاَ عَلَى رَسُولِهِ سَاعَةً قَطُّ. وَ لَقَدْ وَاسَيْتُهُ بِنَفْسِي فِي اَلْمَوَاطِنِ اَلَّتِي تَنْكُصُ فِيهَا اَلْأَبْطَالُ، وَ تَتَأَخَّرُ فِيهَا اَلْأَقْدَامُ، نَجْدَةً أَكْرَمَنِي اَللَّهُ بِهَا.

وَ لَقَدْ قُبِضَ رَسُولُ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم وَ إِنَّ رَأْسَهُ لَعَلَى صَدْرِي. وَ لَقَدْ سَالَتْ نَفْسُهُ فِي كَفِّي، فَأَمْرَرْتُهَا عَلَى وَجْهِي. وَ لَقَدْ وُلِّيتُ غُسْلَهُصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم وَ اَلْمَلاَئِكَةُ أَعْوَانِي، فَضَجَّتِ اَلدَّارُ وَ اَلْأَفْنِيَةُ؛ مَلَأٌ يَهْبِطُ، وَ مَلَأٌ يَعْرُجُ، وَ مَا فَارَقَتْ سَمْعِي هَيْنَمَةٌ مِنْهُمْ، يُصَلُّونَ عَلَيْهِ حَتَّى وَارَيْنَاهُ فِي ضَرِيحِهِ. فَمَنْ ذَا أَحَقُّ بِهِ مِنِّي حَيّاً وَ مَيِّتاً؟ فَانْفُذُوا عَلَى بَصَائِرِكُمْ، وَ لْتَصْدُقْ نِيَّاتُكُمْ فِي جِهَادِ عَدُوِّكُمْ. فَوَالَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ إِنِّي لَعَلَى جَادَّةِ اَلْحَقِّ، وَ إِنَّهُمْ لَعَلَى مَزَلَّةِ اَلْبَاطِلِ. أَقُولُ مَا تَسْمَعُونَ، وَ أَسْتَغْفِرُ اَللَّهَ لِي وَ لَكُمْ!.

রাসূলের (সা.) প্রতি আমিরুল মোমেনিনের অনুরাগ সম্পর্কে

মুহাম্মদের (সা.) সাহাবাগণের মধ্যে যারা আল্লাহর বাণীর সংরক্ষক তারা সকলেই জানে যে ,আমি কখনো আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হইনি। আল্লাহ আমাকে যে সাহস দিয়ে সম্মানিত করেছেন তদ্বারা জীবন বাজি রেখেও আমি তাকে সহায়তা করেছি এবং তাঁর দুর্যোগের মুহুর্তে আমি তাঁর পাশে ছিলাম যখন বিরুদ্ধবাদীদের বড় বড় সাহসী বীরেরাও পিছিয়ে গেছে - একপা এগুতে সাহস পায়নি।

রাসূলের (সা.) ইনতিকালের সময় তাঁর পবিত্র মাথা আমার বুকে ছিল এবং তাঁর পবিত্র নিশ্বাস আমার হাতের তালুতে লেগেছিল এবং আমি তা আমার মুখমণ্ডলে লাগিয়েছিলাম। আমি তাকে শেষ গোসল করিয়েছিলাম এবং একাজে ফেরেশতাগণ আমাকে সাহায্য করেছিল। তার ঘর ও আঙ্গিনা ফেরেশতায় পরিপূর্ণ ছিল। তাদের একদল উপরের দিকে অন্যদল নিচের দিকে আসা - যাওয়া করছিলো। তাদের কলগুঞ্জন আমি নিজ কানে শুনেছি। রাসূলকে (সা.) কবরে শায়িত করা পর্যন্ত তারা শুধু দরূদ ও সালাম পেশ করেছিল । এভাবে তার জীবৎকাল ও ইনতিকালের পর তার সাথে আমার চেয়ে অধিক সম্পর্ক ও অধিকার আর কার আছে ? সুতরাং তোমাদের বিবেক বুদ্ধি খাটাও এবং তোমাদের শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করতে তোমাদের নিয়্যত পরিশুদ্ধ কর। কারণ আমি সেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি ,যিনি ছাড়া আর কোন মা ’ বুদ নেই ,আমি সত্যের পথে আছি এবং তারা (শত্রুগণ) ভ্রান্ত পথে ও তারা বিপথগামী। আমি যা বলি তা তোমরা শোন ;আমি নিজের জন্য ও তোমাদের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করি ।

____________________

১। আমি কখনো রাসূলের (সা.) কোন আদেশ অমান্য করিনি ” - আমিরুল মোমেনিনের এ উক্তিটি ছিল তাদের প্রতি বিদ্রুপবাণ যারা রাসূলের আদেশ অমান্য করতে লজ্জাবোধ করেনি। কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে ,রাসূলকে পরীক্ষা করতেও তারা লজ্জা অনুভব করেনি। উদাহরণ স্বরূপ ,হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় যখন রাসূল (সা.) কুরাইশ মোশরেকদের সাথে আলাপ - আলোচনা করার জন্য রাজি হয়েছিলেন তখন একজন সাহাবি এত ক্ষেপে গিয়েছিল যে ,সে রাসূলের সঙ্গে তর্ক - বিতর্ক শুরু করে দিয়েছিল এবং আপনি কি আল্লাহর নবী নন। ” জিজ্ঞেস করে নবুয়তের ওপর সংশয় প্রকাশ করতে দ্বিধা করেনি। আর এহেন কথায় আবু বকর বলেছিলেনঃ

“ তোমার ওপর লানত! তার সাথে তর্ক করো না। তার কথা শোন। নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল এবং আল্লাহ তাকে ধ্বংস করবেন না ” (হাদীদ ,১০ম খণ্ড ,পৃঃ ১৮০ - ১৮৩) । মোমিন হতে হলে ইমানের শর্ত হলো - ইমান হবে সংশয়হীন ও সম্পূর্ণ সন্দেহমুক্ত। সংশয় বা সন্দেহযুক্ত হলে ইমান ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে। ইমানের শর্ত সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ

তারাই মোমিন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ইমান আনার পর কোন সন্দেহ পোষণ করে না (কুরআন - ৪৯:১৫) |

রাসূল (সা.) যখন উবাই ইবনে সলুলের জানাজা পড়তে মনস্থ করেছিলেন তখন এই একই সাহাবি বলেছিল , কিভাবে আপনি মোনাফিক সর্দারের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করতে মনস্থ করেন। ” এমনকি রাসূলের শার্ট ধরে সে তাকে টেনে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করেছিল। এ অবস্থায় রাসূলকে বলতে হয়েছিল , আল্লাহর আদেশ ছাড়া আমি কোন কাজ করি না। ” একইভাবে উসামা ইবনে জায়েদের নেতৃত্বে প্রেরিত বাহিনীতে যোগদান করার জন্য রাসূলের আদেশ উপেক্ষা করা হয়েছিল। এ সমস্ত ঘটনার মধ্যে সবচাইতে বড় ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছিল যখন রাসূল (সা.) মৃত্যু - শয্যায় থাকাকালে তাঁর উপদেশ লেখিয়ে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তখন রাসূলকে (সা.) এমনভাবে দোষারোপ করা হয়েছিল ,শরিয়তের দৃষ্টিতে তাতে ইমানের অনুপস্থিতিই প্রমাণিত হয়। তখন এই একই সাহাবি যে সব কথা বলেছিল তাতে বুঝা যায় তার সন্দেহ ছিল যে ,রাসূলের এসব আদেশ আল্লাহর প্রত্যাদেশের ওপর ভিত্তি করে নাকি তার মানসিক গোলযোগের (নাউজুবিল্লাহ) কারণে করা হয়েছিলো ।

২। একথা অস্বীকার করার কোন জো নেই যে ,শের - ই খোদা আলী ইবনে আবি তালিব প্রতিটি বিপদ সঙ্কুল সময়ে রাসূলকে (সা.) বর্মের মতো ঘিরে রেখেছিলেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ও সাহস দ্বারা তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রথমেই তিনি নিজের জীবনকে বাজি রেখেছিলেন যখন কুরাইশ কাফেরগণ রাসূলকে হত্যা করার জন্য তার ঘর ঘেরাও করে রেখেছিল এবং আলী তার বিছানায় শুয়ে ছিলেন যাতে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপর সেসব যুদ্ধে যেখানে শত্রুরা রাসূলকে (সা.) আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল সেখানে আলী আরবের নামকরা বীরদের পা স্থির রাখতে দেননি। প্রতিটি যুদ্ধেই আমিরুল মোমেনিন ইসলামের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে দৃঢ়ভাবে থাকতেন। বর্ণিত আছে যে -

ইবনে আব্বাস বলেছেন ,আলীর চারটি গুণ ছিল যা অন্য আর কারো ছিল না । প্রথমতঃ আরব ও অনারবের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহর রাসূলের সাথে সালাত আদায় করেছেন । দ্বিতীয়তঃ প্রত্যেক যুদ্ধেই তার হাতে ইসলামের ঝাণ্ডা থাকতো । তৃতীয়তঃ যখন লোকেরা রাসূলের কাছে থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতো তখনো আলী তাঁর পাশেই থাকতেন । চতুর্থতঃ আলীই রাসূলকে শেষ গোসল করিয়েছিলেন এবং তিনিই রাসূলকে কবরে শায়িত করেছিলেন (বার ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১০৯০ ; নিশাবুরী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১১১) ।

রাসূলের (সা.) জীবৎকালে ইসলামের সকল জিহাদ পর্যালোচনা করলে এতে কোন সন্দেহ থাকে না যে ,তাবুকের যুদ্ধ ব্যতীত অন্য সকল যুদ্ধে আলী যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাঁর শক্তিমত্তা ও বুদ্ধির কারণে প্রতিটি যুদ্ধে কৃতকার্যতা এসেছিল। বদরের যুদ্ধে নিহত সত্তরজন কাফেরের মধ্যে অর্ধেক আলীর তরবারিতে নিহত হয়েছিল। ওহুদের যুদ্ধে যখন মুসলিমগণ গণিমত সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো তখন তাদের জয় পরাজয়ে পরিণত হয়েছিল। শত্রুর আচমকা আক্রমণে তারা পালিয়ে গেল। তখনো আলী জিহাদকে দ্বীনের দায়িত্ব হিসাবে গ্রহণ করে নির্ভিকভাবে যুদ্ধ করে রাসূলের (সা.) প্রতিরক্ষা বিধান করেছিলেন। তাঁর এ কাজের প্রশংসা রাসূল (সা.) ও ফেরেশতাগণ করেছিলেন। খন্দকের যুদ্ধে রাসূলের পক্ষের তিন হাজার যোদ্ধার কেউ আমর ইবনে আবদাওয়াদের মুখোমুখি হতে সাহস করেনি। অবশেষে আমিরুল মোমেনিন তাকে সম্মুখ সমরে নিহত করে গ্লানিকর অবস্থা থেকে মুসলিমদের রক্ষা করেছিলেন। হুনায়েনের যুদ্ধে মুসলিমগণ তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য গর্বিত ছিল ;এ যুদ্ধে তারা ছিল সংখ্যায় দশ হাজার আর শত্রু ছিল চার হাজার। কিন্তু এ যুদ্ধেও তারা গণিমত সংগ্রহে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে সুযোগ বুঝে শক্র তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শত্রুর হঠাৎ আক্রমণে মুসলিমগণ হতবুদ্ধি ও দিশেহারা হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ

আল্লাহ তোমাদেরকে তো বহুক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন এবং হুনায়েনের দিনেও যখন তোমরা তোমাদের সংখ্যাধিক্যের জন্য উৎফুল্ল ছিলে ;কিন্তু এই সংখ্যাধিক্য তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়েছিল ও পরে তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে গিয়েছিলে (কুরআন - ৯:২৫) ।

এ যুদ্ধেও আমিরুল মোমেনিন পর্বতের মতো দৃঢ় থেকে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করে বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ

অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মোমিনগণের ওপর প্রশাক্তি বর্ষণ করেন এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন যা তোমরা দেখনি...... (কুরআন - ৯:২৬) |

খোৎবা - ১৯৭

العلم الالهی

يَعْلَمُ عَجِيجَ اَلْوُحُوشِ فِي اَلْفَلَوَاتِ، وَ مَعَاصِيَ اَلْعِبَادِ فِي اَلْخَلَوَاتِ، وَ اِخْتِلاَفَ اَلنِّينَانِ فِي اَلْبِحَارِ اَلْغَامِرَاتِ، وَ تَلاَطُمَ اَلْمَاءِ بِالرِّيَاحِ اَلْعَاصِفَاتِ. وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً نَجِيبُ اَللَّهِ، وَ سَفِيرُ وَحْيِهِ، وَ رَسُولُ رَحْمَتِهِ.

قیمة التقوی

أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اَللَّهِ اَلَّذِي اِبْتَدَأَ خَلْقَكُمْ، وَ إِلَيْهِ يَكُونُ مَعَادُكُمْ، وَ بِهِ نَجَاحُ طَلِبَتِكُمْ، وَ إِلَيْهِ مُنْتَهَى رَغْبَتِكُمْ، وَ نَحْوَهُ قَصْدُ سَبِيلِكُمْ، وَ إِلَيْهِ مَرَامِي مَفْزَعِكُمْ. فَإِنَّ تَقْوَى اَللَّهِ دَوَاءُ دَاءِ قُلُوبِكُمْ، وَ بَصَرُ عَمَى أَفْئِدَتِكُمْ، وَ شِفَاءُ مَرَضِ أَجْسَادِكُمْ(اجسامکم) ، وَ صَلاَحُ فَسَادِ صُدُورِكُمْ، وَ طُهُورُ دَنَسِ أَنْفُسِكُمْ، وَ جِلاَءُ عَشَا(غشاء) أَبْصَارِكُمْ، وَ أَمْنُ فَزَعِ جَأْشِكُمْ، وَ ضِيَاءُ سَوَادِ ظُلْمَتِكُمْ. فَاجْعَلُوا طَاعَةَ اَللَّهِ شِعَاراً دُونَ دِثَارِكُمْ، وَ دَخِيلاً دُونَ شِعَارِكُمْ، وَ لَطِيفاً بَيْنَ أَضْلاَعِكُمْ، وَ أَمِيراً فَوْقَ أُمُورِكُمْ، وَ مَنْهَلاً لِحِينِ وُرُودِكُمْ، وَ شَفِيعاً لِدَرَكِ طَلِبَتِكُمْ، وَ جُنَّةً لِيَوْمِ فَزَعِكُمْ، وَ مَصَابِيحَ لِبُطُونِ قُبُورِكُمْ، وَ سَكَناً لِطُولِ وَحْشَتِكُمْ، وَ نَفَساً لِكَرْبِ مَوَاطِنِكُمْ. فَإِنَّ طَاعَةَ اَللَّهِ حِرْزٌ مِنْ مَتَالِفَ مُكْتَنِفَةٍ، وَ مَخَاوِفَ مُتَوَقَّعَةٍ، وَ أُوَارِ نِيرَانٍ مُوقَدَةٍ. فَمَنْ أَخَذَ بِالتَّقْوَى عَزَبَتْ عَنْهُ اَلشَّدَائِدُ بَعْدَ دُنُوِّهَا، وَ اِحْلَوْلَتْ لَهُ اَلْأُمُورُ بَعْدَ مَرَارَتِهَا، وَ اِنْفَرَجَتْ عَنْهُ اَلْأَمْوَاجُ بَعْدَ تَرَاكُمِهَا، وَ أَسْهَلَتْ لَهُ اَلصِّعَابُ بَعْدَ إِنْصَابِهَا، وَ هَطَلَتْ عَلَيْهِ اَلْكَرَامَةُ بَعْدَ قُحُوطِهَا، وَ تَحَدَّبَتْ عَلَيْهِ اَلرَّحْمَةُ بَعْدَ نُفُورِهَا وَ تَفَجَّرَتْ عَلَيْهِ اَلنِّعَمُ بَعْدَ نُضُوبِهَا وَ وَبَلَتْ عَلَيْهِ اَلْبَرَكَةُ بَعْدَ إِرْذَاذِهَا. فَاتَّقُوا اَللَّهَ اَلَّذِي نَفَعَكُمْ بِمَوْعِظَتِهِ، وَ وَعَظَكُمْ بِرِسَالَتِهِ، وَ اِمْتَنَّ عَلَيْكُمْ بِنِعْمَتِهِ. فَعَبِّدُوا أَنْفُسَكُمْ لِعِبَادَتِهِ، وَ اُخْرُجُوا إِلَيْهِ مِنْ حَقِّ طَاعَتِهِ.

خصائص الاسلام

ثُمَّ إِنَّ هَذَا اَلْإِسْلاَمَ دِينُ اَللَّهِ اَلَّذِي اِصْطَفَاهُ لِنَفْسِهِ، وَ اِصْطَنَعَهُ عَلَى عَيْنِهِ، وَ أَصْفَاهُ خِيَرَةَ خَلْقِهِ، وَ أَقَامَ دَعَائِمَهُ عَلَى مَحَبَّتِهِ. أَذَلَّ اَلْأَدْيَانَ بِعِزَّتِهِ، وَ وَضَعَ اَلْمِلَلَ بِرَفْعِهِ، وَ أَهَانَ أَعْدَاءَهُ بِكَرَامَتِهِ، وَ خَذَلَ مُحَادِّيهِ بِنَصْرِهِ، وَ هَدَمَ أَرْكَانَ اَلضَّلاَلَةِ بِرُكْنِهِ. وَ سَقَى مَنْ عَطِشَ مِنْ حِيَاضِهِ، وَ أَتْأَقَ اَلْحِيَاضَ بِمَوَاتِحِهِ، ثُمَّ جَعَلَهُ لاَ اِنْفِصَامَ لِعُرْوَتِهِ، وَ لاَ فَكَّ لِحَلْقَتِهِ، وَ لاَ اِنْهِدَامَ لِأَسَاسِهِ، وَ لاَ زَوَالَ لِدَعَائِمِهِ، وَ لاَ اِنْقِلاَعَ لِشَجَرَتِهِ، وَ لاَ اِنْقِطَاعَ لِمُدَّتِهِ، وَ لاَ عَفَاءَ لِشَرَائِعِهِ، وَ لاَ جَذَّ لِفُرُوعِهِ، وَ لاَ ضَنْكَ لِطُرُقِهِ، وَ لاَ وُعُوثَةَ لِسُهُولَتِهِ، وَ لاَ سَوَادَ لِوَضَحِهِ، وَ لاَ عِوَجَ لاِنْتِصَابِهِ، وَ لاَ عَصَلَ فِي عُودِهِ، وَ لاَ وَعَثَ لِفَجِّهِ، وَ لاَ اِنْطِفَاءَ لِمَصَابِيحِهِ، وَ لاَ مَرَارَةَ لِحَلاَوَتِهِ. فَهُوَ دَعَائِمُ أَسَاخَ فِي اَلْحَقِّ أَسْنَاخَهَا، وَ ثَبَّتَ لَهَا آسَاسَهَا، وَ يَنَابِيعُ غَزُرَتْ عُيُونُهَا، وَ مَصَابِيحُ شَبَّتْ نِيرَانُهَا، وَ مَنَارٌ اِقْتَدَى بِهَا سُفَّارُهَا، وَ أَعْلاَمٌ قُصِدَ بِهَا فِجَاجُهَا، وَ مَنَاهِلُ رَوِيَ بِهَا وُرَّادُهَا. جَعَلَ اَللَّهُ فِيهِ مُنْتَهَى رِضْوَانِهِ، وَ ذِرْوَةَ دَعَائِمِهِ، وَ سَنَامَ طَاعَتِهِ؛ فَهُوَ عِنْدَ اَللَّهِ وَثِيقُ اَلْأَرْكَانِ، رَفِيعُ اَلْبُنْيَانِ، مُنِيرُ اَلْبُرْهَانِ، مُضِي‏ءُ اَلنِّيرَانِ، عَزِيزُ اَلسُّلْطَانِ، مُشْرِفُ(مشرق) اَلْمَنَارِ، مُعْوِذُ اَلْمَثَارِ(المثال) . فَشَرِّفُوهُ وَ اِتَّبِعُوهُ، وَ أَدُّوا إِلَيْهِ حَقَّهُ وَ ضَعُوهُ مَوَاضِعَهُ.

بعثة النبیّ و مشکلات الجاهلیة

ثُمَّ إِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ بَعَثَ مُحَمَّداًصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم بِالْحَقِّ حِينَ دَنَا مِنَ اَلدُّنْيَا اَلاِنْقِطَاعُ، وَ أَقْبَلَ مِنَ اَلْآخِرَةِ اَلاِطِّلاَعُ، وَ أَظْلَمَتْ بَهْجَتُهَا بَعْدَ إِشْرَاقٍ، وَ قَامَتْ بِأَهْلِهَا عَلَى سَاقٍ، وَ خَشُنَ مِنْهَا مِهَادٌ، وَ أَزِفَ مِنْهَا قِيَادٌ، فِي اِنْقِطَاعٍ مِنْ مُدَّتِهَا، وَ اِقْتِرَابٍ مِنْ أَشْرَاطِهَا، وَ تَصَرُّمٍ مِنْ أَهْلِهَا، وَ اِنْفِصَامٍ مِنْ حَلْقَتِهَا، وَ اِنْتِشَارٍ مِنْ سَبَبِهَا، وَ عَفَاءٍ مِنْ أَعْلاَمِهَا، وَ تَكَشُّفٍ مِنْ عَوْرَاتِهَا، وَ قِصَرٍ مِنْ طُولِهَاً. جَعَلَهُ اَللَّهُ بَلاَغاً لِرِسَالَتِهِ، وَ كَرَامَةً لِأُمَّتِهِ، وَ رَبِيعاً لِأَهْلِ زَمَانِهِ، وَ رِفْعَةً لِأَعْوَانِهِ، وَ شَرَفاً لِأَنْصَارِهِ.

القیم الاخلاقیة و خصائص القرآن

ثُمَّ أَنْزَلَ عَلَيْهِ اَلْكِتَابَ نُوراً لاَ تُطْفَأُ مَصَابِيحُهُ، وَ سِرَاجاً لاَ يَخْبُو تَوَقُّدُهُ، وَ بَحْراً لاَ يُدْرَكُ قَعْرُهُ، وَ مِنْهَاجاً لاَ يُضِلُّ نَهْجُهُ، وَ شُعَاعاً لاَ يُظْلِمُ ضَوْؤُهُ، وَ فُرْقَاناً لاَ يُخْمَدُ بُرْهَانُهُ، وَ تِبْيَاناً لاَ تُهْدَمُ(تنهدم) أَرْكَانُهُ، وَ شِفَاءً لاَ تُخْشَى أَسْقَامُهُ وَ عِزّاً لاَ تُهْزَمُ أَنْصَارُهُ، وَ حَقّاً لاَ تُخْذَلُ أَعْوَانُهُ. فَهُوَ مَعْدِنُ اَلْإِيمَانِ وَ بُحْبُوحَتُهُ، وَ يَنَابِيعُ اَلْعِلْمِ وَ بُحُورُهُ، وَ رِيَاضُ اَلْعَدْلِ وَ غُدْرَانُهُ، وَ أَثَافِيُّ اَلْإِسْلاَمِ وَ بُنْيَانُهُ، وَ أَوْدِيَةُ اَلْحَقِّ وَ غِيطَانُهُ. وَ بَحْرٌ لاَ يَنْزِفُهُ اَلْمُسْتَنْزِفُونَ، وَ عُيُونٌ لاَ يُنْضِبُهَا اَلْمَاتِحُونَ، وَ مَنَاهِلُ لاَ يَغِيضُهَا اَلْوَارِدُونَ، وَ مَنَازِلُ لاَ يَضِلُّ نَهْجَهَا اَلْمُسَافِرُونَ، وَ أَعْلاَمٌ لاَ يَعْمَى عَنْهَا اَلسَّائِرُونَ، وَ آكَامٌ(امام) لاَ يَجُوزُ عَنْهَا اَلْقَاصِدُونَ. جَعَلَهُ اَللَّهُ رِيّاً لِعَطَشِ اَلْعُلَمَاءِ، وَ رَبِيعاً لِقُلُوبِ اَلْفُقَهَاءِ، وَ مَحَاجَّ لِطُرُقِ اَلصُّلَحَاءِ، وَ دَوَاءً لَيْسَ بَعْدَهُ دَاءٌ وَ نُوراً لَيْسَ مَعَهُ ظُلْمَةٌ، وَ حَبْلاً وَثِيقاً عُرْوَتُهُ، وَ مَعْقِلاً مَنِيعاً ذِرْوَتُهُ، وَ عِزّاً لِمَنْ تَوَلاَّهُ، وَ سِلْماً لِمَنْ دَخَلَهُ، وَ هُدًى لِمَنِ اِئْتَمَّ بِهِ، وَ عُذْراً لِمَنِ اِنْتَحَلَهُ، وَ بُرْهَاناً لِمَنْ تَكَلَّمَ بِهِ، وَ شَاهِداً لِمَنْ خَاصَمَ بِهِ، وَ فَلْجاً لِمَنْ حَاجَّ بِهِ، وَ حَامِلاً لِمَنْ حَمَلَهُ، وَ مَطِيَّةً لِمَنْ أَعْمَلَهُ، وَ آيَةً لِمَنْ تَوَسَّمَ، وَ جُنَّةً لِمَنِ اِسْتَلْأَمَ، وَ عِلْماً لِمَنْ وَعَى، وَ حَدِيثاً لِمَنْ رَوَى، وَ حُكْماً لِمَنْ قَضَى.

আল্লাহর জ্ঞান , ইসলাম , রাসূল (সা.) ও পবিত্র কুরআন সম্পর্কে

আল্লাহর জ্ঞান

গভীর অরণ্যে পশুর চিৎকার ,নির্জনবাসীর পাপ ,গভীর সমুদ্রে মাছের চলাফেরা ,বিক্ষুব্ধ বাতাসে পানির উচ্ছাস - এসব কিছুই আল্লাহ জানেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ আল্লাহর মনোনীত ,তার প্রত্যাদেশের বাহক এবং তার করুণার বাণীবাহক।

তাকওয়ার মূল্য

আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি। সেই আল্লাহকে ভয় করার জন্য যিনি তোমাদেরকে প্রথম সৃষ্টি করেছেন ,যার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন ,যার হাতে তোমাদের লক্ষ্যসমূহের সফলতা ,যাকে পাবার জন্য তোমাদের সকল আকাঙ্খা নিঃশেষিত ,যার দিকে তোমাদের সিরাতুল মোস্তাকিন এবং যিনি (প্রতিরক্ষা প্রার্থনার জন্য) তোমাদের ভয়ের লক্ষ্য। নিশ্চয়ই ,শারীরিক রোগের চিকিৎসা ,তোমাদের বক্ষে লুক্কায়িত পাপের বিশোধক ,তোমাদের হৃদয়কে দূষণমুক্ত করার পরিশোধক ,তোমাদের চোখের আচ্ছন্নতার জন্য আলো ,তোমাদের হৃদয়ে ভয়ের জন্য সাস্তুনা এবং তোমাদের অজ্ঞতার অন্ধকারের জন্য উজ্জ্বলতা। সুতরাং আল্লাহর আনুগত্যকে জীবনের পথ হিসাবে গ্রহণ করো ।

এ আনুগত্য শুধু বাহ্যিকভাবে নয় - তোমাদের বাতেনকেও এই আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করো। এই আনুগত্যকে প্রাত্যহিক কর্মসূচির পরিবর্তে বাতেনি অভ্যাসে পরিণত করো। এটাকে অন্তরের অন্তঃস্থলে বদ্ধমূল করো ,সকল কর্মকান্ডে দেশনা হিসাবে গ্রহণ করো ,বিচার দিনে জলাধার হিসাবে মনে করো। তোমাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য এটা মধ্যস্থতাকারী। এটা তোমাদের ভয়ের দিনের (হাশর) আশ্রয়স্থল ,কবরের অন্ধকারে বাতি ,দীর্ঘ একাকীত্বের সময়ের সাথী এবং চির আবাসস্থলের বিপদে রক্ষী। নিশ্চয়ই ,আল্লাহর আনুগত্য চতুর্দিক থেকে আগত দুর্যোগের বিরুদ্ধে ও জলন্ত আগুনের শিখার বিরুদ্ধে একটা প্রতিরক্ষা ।

সুতরাং যে কেউ আল্লাহর ভয়কে আয়ত্ত্বাধীন করে ;বিপদাপদ তার কাছে এসেও দূরে সরে যায় ,তার কর্মকাণ্ড তিক্ততার পর মধুর হয়ে পড়ে ,বিপদের ঢল তার ওপর পড়তে এসে থেমে যায় ,অসুবিধা সংঘটিত হবার পর তার কাছে সহজ হয়ে যায় ,দুর্ভিক্ষ কবলিত হবার পর তার ওপর দ্রুত নেয়ামত বর্ষিত হয় ,আশা হারিয়ে ফেলার পর তার ওপর দয়া ও আনুকূল্যের ঝরনাধারা প্রবাহিত হয় ,হতাশ হবার পর তার ওপর বৃষ্টির মতো আশীর্বাদ নেমে আসে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর যিনি তাঁর সদোপদেশ দ্বারা তোমাদের উপকার করেন ,যিনি তাঁর রাসূলের মাধ্যমে তোমাদের শিক্ষা দেন এবং তাঁর আনুকূল্য দ্বারা তোমাদেরকে কৃতার্থ করেন। তাঁর ইবাদতে নিজেকে মশগুল কর এবং তাঁকে মান্য না করার অপরাধ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত কর।

ইসলাম সম্বন্ধে

এ ইসলাম এমন এক দ্বীন যা আল্লাহ নিজের জন্য মনোনীত করেছেন ,তার চোখের সম্মুখে এটাকে উন্নত করেছেন ,তাঁর সৃষ্টির মধ্যে এটাকে সর্বোৎকৃষ্ট করেছেন এবং তাঁর প্রেমের ওপর এর স্তম্ভ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইসলামকে সম্মান প্রদান করে অন্য ধর্মকে তিনি মর্যাদাহীন করেছেন। ইসলামের মহত্ত্বের কাছে তিনি সকল সম্প্রদায়কে অপমানিত করেছেন। তিনি তার করুণা দ্বারা ইসলামের শক্রকে হীন করেছেন এবং তার সমর্থন দ্বারা এর বিরুদ্ধবাদীকে একাকী করেছেন। ইসলামের স্তম্ভ দ্বারা তিনি গোমরাহির ভিত্তি বিচূর্ণ করেছেন। ইসলামের জলাধার থেকে তৃষ্ণার্তের তৃষ্ণা নিবারণের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাদের দ্বারা সেই জলাধার পূর্ণ করিয়েছেন যারা পানি নিয়েছে।

তিনি ইসলামকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যে ,এর মৌলিক অংশ ভঙ্গ করা যায় না ,এর জোড়াসমূহ পৃথক করা যায় না ,এর নির্মাণ কখনো পতিত হয় না ,এর স্তম্ভ কখনো বিনষ্ট হয় না ,এর গাছের কখনো মূলোৎপাটন করা যায় না ,এর সময় কখনো শেষ হয় না ,এর বিধি - বিধান কখনো অতীত হয় না ,এর একটি ক্ষুদ্র ডালও কাটা যায় না ,এর কোন অংশ। কখনো সংকীর্ণ হয় না ;এর সহজ - সরলতা কখনো কষ্টকর অবস্থায় রূপান্তরিত হয় না ,এর ব্যাখ্যা কখনো অজ্ঞতার অন্ধকার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয় না ,এর সোজা পথ কখনো বক্র হয় না ,এর কাঠে কোন বক্রতা নেই ,এর বিশাল পথে কোন সংকীর্ণতা নেই ,এর বাতি কখনো নিভে না এবং এর মধুরতায় কোন তিক্ততা নেই।

এটা এমন এক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত ,মহিমান্বিত আল্লাহ সত্যবাদিতাকে যার ভিত্তি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ এর ভিত্তিকে মজবুত করে দিয়েছেন এবং এমন উৎস থেকে একে প্রবাহিত করেছেন যার স্রোতধারা চিরদিন জলপূর্ণ থাকে। তিনি একে এমন এক প্রদীপ করেছেন যার আলো চির দেদীপ্যমান এবং এ আলোক - বর্তিকা থেকে ভ্রমণকারীগণ চিরদিন পথের দেশনা (হেদায়েত) পাবে। এর নির্দশনগুলো এমন যার মাধ্যমে এর রাজপথের দিশা পাওয়া যায় এবং জলাধারের দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। মহিমান্বিত আল্লাহ ইসলামে তাঁর সর্বোচ্চ সন্তোষ বিধান করেছেন। এটা তাঁর স্তম্ভের সর্বোচ্চ চূড়া এবং তাঁর আনুগত্যের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা। সুতরাং আল্লাহর কাছে ইসলামের স্তম্ভ মজবুত ,এর নির্মাণ সুউচ্চ ,এর প্রমাণ জলন্ত ,এর আগুন শিখাপূর্ণ ,এর কৃতিত্ব শক্তিশালী ,এর আলোকবর্তিকা উচ্চ এবং এর ধ্বংস দুঃসাধ্য। কাজেই ইসলামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ,ইসলামকে অনুসরণ করা ,এর প্রতি দায়িত্ব পরিপূর্ণ করা এবং যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়া তোমাদের একান্ত উচিত।

রাসূল (সা.) এবং জাহেলিয়াত সম্পর্কে

তারপর মহিমান্বিত আল্লাহ মুহাম্মদকে (সা.) এমন এক সময় সত্যসহ প্রেরণ করলেন যখন পৃথিবীর ধ্বংস নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল এবং পরকাল হাতের কাছে এসে পড়েছিল ;যখন পৃথিবীর ঔজ্জ্বল্য গাঢ় অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছিলো ,পৃথিবী এর অধিবাসীদের জন্য বিপদ সঙ্কুল হয়ে পড়েছিল ,এর উপরিভাগ রুক্ষ ও কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং এর ধ্বংস নিকটবর্তী হয়ে পড়েছিল। এটা ছিল পৃথিবীর জীবনকাল শেষে ধ্বংসের চিহ্ন উপস্থিতির সময় ,পৃথিবীর অধিবাসীগণের নির্মুল হবার সময় ,এর বন্ধন ছিন্ন হবার সময় ,এর কর্মকাণ্ড পরিত্যাগের সময় ,এর হেদায়েতের চিহ্নসমূহ নিশ্চিহ্ন হবার সময় ,এর গোপন তথ্য ফাঁস করার সময় এবং এর দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনার সময়। এ সময় তার বাণী পৌছে দেয়ার জন্য আল্লাহ রাসূলকে (সা.) দায়িত্ব অর্পণ করলেন এবং এটা তার জনগণের জন্য সম্মানের পথ হয়ে গেল। তাঁর সময়কার মানুষের জন্য এটা প্রস্ফুটন কাল হয়ে গেল ;তাঁর সমর্থকদের জন্য মর্যাদার উৎস এবং তার সাহায্যকারীদের জন্য হয়ে গেল মহাসম্মান ।

পবিত্র কুরআন এবং নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে

তৎপর আল্লাহ আলোকবর্তিকা স্বরূপ তাঁর কাছে কিতাব নাজেল করেন যার শিখা কখনো নির্বাপিত হয় না এবং যার ঔজ্জ্বল্য কখনো কমে না। এটা এমন এক সমুদ্র যার গভীরতা নির্ণয় করা যায় না ,এমন এক পথ যা অনুসরণ করলে কখনো গোমরাহ হয় না ,এমন এক রশ্মি যা কখনো স্নান হয় না ,(ভাল ও মন্দ নির্ণয়ে) এমন এক যুক্তি যা কখনো দুর্বল হয় না ,এমন এক ব্যাখ্যাকারক যার ভিত্তি বিনষ্ট হয় না ,এমন এক চিকিৎসা যাতে রোগের আর ভয় থাকে না ,এমন এক সম্মান যার সমর্থক কখনো পরাজিত হয় না এবং এমন এক সত্য যার সাহায্যকারী কখনো পরিত্যক্ত হয় না। সুতরাং এটা ইমানের খনি ও কেন্দ্রবিন্দু ,জ্ঞানের উৎস ও সমুদ্র ,ন্যায় বিচারের বাগান ও জলাধার ,ইসলামের ভিত্তিপ্রস্তর ও ইমারত ,সত্যের উপত্যকা ও সমতল ভূমি এবং এ সমুদ্র হতে পানি নিয়ে নিঃশেষ করা যায় না। এ ঝর্ণার পানি নিয়ে এটাকে শুকানো যায় না ,এ জলাধার কেউ নিঃশেষ করতে পারে না ,এ পথের পথিক কখনো দিকভ্রান্ত হয় না ,এ পথে পদচারী নিদর্শন দেখতে ব্যর্থ হয় না এবং এ উচুস্থানে অবস্থানকারী কখনো ডুবে যায় না।

আল্লাহ্ কুরআনকে এমন করে দিয়েছেন যা জ্ঞানপিপাসুর তৃষ্ণা নিবারক ,ফেকাহবিদদের হৃদয়ের জন্য সৌন্দর্য এবং ন্যায়পরায়ণদের জন্য রাজপথ । এটা এমন চিকিৎসা যারপর আর রোগ থাকে না ,এমন দ্যুতি যাতে আর অন্ধকার থাকে না ,এমন রশি যা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে ,এমন দুর্গ যার চূড়া ধ্বসে পড়ে না। এটা তার জন্য মহাসম্মান যে এটাকে ভালোবাসে ,তার জন্য শান্তি যে এতে প্রবেশ করে ,তার জন্য হেদায়েত যে এটাকে অনুসরণ করে ,তার জন্য ক্ষমা যে এটাকে গ্রহণ করে ,তার জন্য যুক্তি যে যুক্তিবাদী ,তার জন্য সাক্ষী যে এর সাথে বিবাদ করে ,তার জন্য কৃতকার্যতা যে এর সাহায্যে যুক্তি দেখায় ,তার জন্য বাহন যে এটা বহন করে ,তার জন্য পরিবহণ যে এটা আমল করে ,তার জন্য নিদর্শন যে পথ অনুসন্ধান করে ,তার জন্য বর্ম যে নিজকে গোমরাহি থেকে রক্ষা করতে চায় ,তার জন্য জ্ঞান যে মনোযোগ দিয়ে শোনে ,তার জন্য একটা সুন্দর কাহিনী যে বর্ণনা করে এবং তার জন্য চূড়ান্ত রায় যে বিচার করে।

খোৎবা - ১৯৮

أهمیة الصلاة و فوائد ها

تَعَاهَدُوا أَمْرَ اَلصَّلاَةِ، وَ حَافِظُوا عَلَيْهَا، وَ اِسْتَكْثِرُوا مِنْهَا، وَ تَقَرَّبُوا بِهَا. فَإِنَّهَا( كانَتْ عَلَى اَلْمُؤْمِنِينَ كِتاباً مَوْقُوتاً ) . أَ لاَ تَسْمَعُونَ إِلَى جَوَابِ أَهْلِ اَلنَّارِ حِينَ سُئِلُوا:( ما سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ () قالُوا: لَمْ نَكُ مِنَ اَلْمُصَلِّينَ ) . وَ إِنَّهَا لَتَحُتُّ اَلذُّنُوبَ حَتَّ اَلْوَرَقِ، وَ تُطْلِقُهَا إِطْلاَقَ اَلرِّبَقِ، وَ شَبَّهَهَا رَسُولُ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم بِالْحَمَّةِ(الجمّة) تَكُونُ عَلَى بَابِ اَلرَّجُلِ، فَهُوَ يَغْتَسِلُ مِنْهَا فِي اَلْيَوْمِ وَ اَللَّيْلَةِ خَمْسَ مَرَّاتٍ، فَمَا عَسَى أَنْ يَبْقَى عَلَيْهِ مِنَ اَلدَّرَنِ؟ وَ قَدْ عَرَفَ حَقَّهَا رِجَالٌ مِنَ اَلْمُؤْمِنِينَ اَلَّذِينَ لاَ تَشْغَلُهُمْ عَنْهَا زِينَةُ مَتَاعٍ، وَ لاَ قُرَّةُ عَيْنٍ مِنْ وَلَدٍ وَ لاَ مَالٍ. يَقُولُ اَللَّهُسُبْحَانَهُ :( رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّـهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ ) . وَ كَانَ رَسُولُ اَللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم نَصِباً بِالصَّلاَةِ بَعْدَ اَلتَّبْشِيرِ لَهُ بِالْجَنَّةِ لِقَوْلِ اَللَّهِسُبْحَانَهُ :( وَ أْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَ اِصْطَبِرْ عَلَيْها ) ، فَكَانَ يَأْمُرُ بِهَا أَهْلَهُ وَ يَصْبِرُ عَلَيْهَا نَفْسَهُ.

أهمیة الزکاة

ثُمَّ إِنَّ اَلزَّكَاةَ جُعِلَتْ مَعَ اَلصَّلاَةِ قُرْبَاناً لِأَهْلِ اَلْإِسْلاَمِ، فَمَنْ أَعْطَاهَا طَيِّبَ اَلنَّفْسِ بِهَا، فَإِنَّهَا تُجْعَلُ لَهُ كَفَّارَةً، وَ مِنَ اَلنَّارِ حِجَازاً وَ وِقَايَةً. فَلاَ يُتْبِعَنَّهَا أَحَدٌ نَفْسَهُ، وَ لاَ يُكْثِرَنَّ عَلَيْهَا لَهَفَهُ فَإِنَّ مَنْ أَعْطَاهَا غَيْرَ طَيِّبِ اَلنَّفْسِ بِهَا، يَرْجُو بِهَا مَا هُوَ أَفْضَلُ مِنْهَا، فَهُوَ جَاهِلٌ بِالسُّنَّةِ، مَغْبُونُ اَلْأَجْرِ، ضَالُّ اَلْعَمَلِ طَوِيلُ اَلنَّدَمِ.

أداء الامانة

ثُمَّ أَدَاءَ اَلْأَمَانَةِ، فَقَدْ خَابَ مَنْ لَيْسَ مِنْ أَهْلِهَا، إِنَّهَا عُرِضَتْ عَلَى اَلسَّمَاوَاتِ اَلْمَبْنِيَّةِ، وَ اَلْأَرَضِينَ اَلْمَدْحُوَّةِ، وَ اَلْجِبَالِ ذَاتِ اَلطُّولِ اَلْمَنْصُوبَةِ، فَلاَ أَطْوَلَ وَ لاَ أَعْرَضَ، وَ لاَ أَعْلَى وَ لاَ أَعْظَمَ مِنْهَا.وَ لَوِ اِمْتَنَعَ شَيْ‏ءٌ بِطُولٍ أَوْ عَرْضٍ أَوْ قُوَّةٍ أَوْ عِزٍّ لاَمْتَنَعْنَ؛ وَ لَكِنْ أَشْفَقْنَ مِنَ اَلْعُقُوبَةِ، وَ عَقَلْنَ مَا جَهِلَ مَنْ هُوَ أَضْعَفُ مِنْهُنَّ، وَ هُوَ اَلْإِنْسَانُ،( إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا ) .

إِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ وَ تَعَالَى لاَ يَخْفَى عَلَيْهِ مَا اَلْعِبَادُ مُقْتَرِفُونَ فِي لَيْلِهِمْ وَ نَهَارِهِمْ. لَطُفَ بِهِ خُبْراً، وَ أَحَاطَ بِهِ عِلْماً، أَعْضَاؤُكُمْ شُهُودُهُ وَ جَوَارِحُكُمْ جُنُودُهُ، وَ ضَمَائِرُكُمْ عُيُونُهُ، وَ خَلَوَاتُكُمْ عِيَانُهُ.

সালাত , জাকাত এবং আমানদারী সম্পর্কে

সালাতের গুরুত্ব এবং উপকারিতা

সালাতে নিজকে ব্রত করো এবং এতে দৃঢ় থেকো ;যত বেশি পারো সালাত কায়েম করো এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অনুসন্ধান করো।

নির্ধারিত সময়ের সালাত মোমিনদের জন্য অত্যাবশ্যক । (কুরআন - ৪ : ১০৩) তোমরা কি দোযখবাসীদের জিজ্ঞাসার জবাব শুনতে পাওনিঃ

কিসে তোমাদেরকে সাকারে (জাহান্নামের অপর নাম) নিক্ষেপ করেছে ? তারা বললো ,আমরা মুসল্লী ছিলাম না । (কুরআন - ৭৪:৪২ - ৪৩)

নিশ্চয়ই ,বাতাস যেভাবে গাছের পাতা ঝরায় সালাত সেভাবে পাপকে ঝরিয়ে দেয় এবং গরুর ঘাড় থেকে যেভাবে রশি সরিয়ে ফেলা হয় সেভাবে পাপকে সরিয়ে দেয়। আল্লাহর রাসূল সালাতকে দৈনিক পাঁচবার গরম পানিতে গোসলের সাথে তুলনা করতেন। এরপরও কি কারো গায়ে ময়লা থাকতে পারে ? সেসব মোমিন কর্তৃক এর দায়িত্ব স্বীকৃত হয়েছে যাদেরকে ঐশ্বর্যের প্রাচুর্য বা সন্তান - সন্ততির কারণে চোখের শীতলতা সালাত থেকে ফিরিয়ে নিতে পারেনি। মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ

সেসব লোক ,যাদেরকে ব্যবসা - বাণিজ্য এবং ক্রয় - বিক্রয় আল্লাহর জেকের থেকে ,সালাত কায়েম এবং জাকাত থেকে বিরত রাখে না ,তারা ভয় করে সে দিনকে যে দিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি উল্টে যাবে । (কুরআন - ২৪:৩৭)

আল্লাহর রাসূল বেহেশতের নিশ্চয়তা পাওয়ার পরও সালাত কায়েম করতেন। কারণ মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাত কায়েমের আদেশ দাও এবং নিজেও তাতে অবিচল থাক । (কুরআন - ২০:১৩২)

জাকাত সম্পর্কে

অতঃপর সালাতের সাথে জাকাতও আরোপিত হয়েছে ত্যাগ হিসাবে । যে জাকাত আদায় করে তার আত্মা পবিত্রতা লাভ করে। কারণ এটা বিশোধক হিসাবে কাজ করে এবং দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাবার বর্ম হিসাবে কাজ করে। সুতরাং জাকাত প্রদানের পর এর প্রতি কোনরূপ আসক্তি অনুভব করো না এবং এর কারণে শোকাহতও হয়ে না। আত্মার বিশুদ্ধির নিয়্যত ব্যতীত জাকাত প্রদান করলে প্রাপ্য অপেক্ষা অধিক কিছু আশা করা হয়। নিশ্চয়ই ,সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি জাকাতের জন্য কোন পুরস্কার পাবে না ;তার সকল আমল নষ্ট হয়ে যায় এবং তার তওবা বৃথা যায়।

আমানতদারী সম্পর্কে

যে কেউ আল্লাহর আমানতের (কুরআন) প্রতি দায়িত্ব পরিপূরণে অমনোযোগী হবে সে হতাশাগ্রস্থ হবে। শক্তিশালী আকাশ ,বিশাল পৃথিবী ও সুউচ্চ পর্বতের সম্মুখে কুরআনকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু কেউ তা অপেক্ষা শক্তিশালী ,বিশাল অথবা উচ্চ প্রমাণিত হয়নি। ওরা কুরআনের প্রতি দায়িত্ব পরিপূরণে ব্যর্থতার ভয়ে ভীত হয়ে গেল এবং লক্ষ্য করেছিল যে ,একটা দুর্বল সত্তা এ গুরুদায়িত্ব অনুধাবন করতে পারেনি - এরা হলো মানুষ। মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ

আমি তো আসমান ,জমিন ও পর্বতমালার প্রতি এ আমানত অর্পণ করেছিলাম ,ওরা এটা বহন করতে অস্বীকার করলো এবং তাতে শঙ্কিত হলো ,কিন্তু মানুষ তা বহন করলো ,সে তো অতিশয় জালিম ,অতিশয় অজ্ঞ । (কুরআন - ৩৩:৭২)

নিশ্চয়ই ,আল্লাহ মহিমান্বিত। মানুষ দিনে অথবা রাতে যা করে তার কোন কিছুই তার কাছে গোপন থাকে না। তিনি সবকিছু বিস্তারিত জানেন এবং তাঁর জ্ঞানে সবকিছু ধারণ করা আছে। তোমাদের বাতেন তার চোখের মতো কাজ করে (যা তোমাদের পাপকে পাহারা দেয়) এবং তোমাদের একাকীত্ব তার কাছে প্রকাশ্য ।

খোৎবা - ১৯৯

سیاسیة معاویة الماکرة

وَ اَللَّهِ مَا مُعَاوِيَةُ بِأَدْهَى مِنِّي، وَ لَكِنَّهُ يَغْدِرُ وَ يَفْجُرُ. وَ لَوْ لاَ كَرَاهِيَةُ اَلْغَدْرِ لَكُنْتُ مِنْ أَدْهَى اَلنَّاسِ، وَ لَكِنْ كُلُّ غُدَرَةٍ فُجَرَةٌ، وَ كُلُّ فُجَرَةٍ كُفَرَةٌ.«وَ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يُعْرَفُ بِهِ يَوْمَ اَلْقِيَامَةِ» .

وَ اَللَّهِ مَا أُسْتَغْفَلُ بِالْمَكِيدَةِ وَ لاَ أُسْتَغْمَزُ بِالشَّدِيدَةِ.

মুয়াবিয়ার শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে

আল্লাহর কসম ,মুয়াবিয়া আমার চেয়ে বেশি চতুর নয় ,কিন্তু সে প্রবঞ্চনা করে ও কুকর্মে লিপ্ত হয়। যদি আমি প্রবঞ্চনাকে ঘৃণা না করতাম তবে সকল মানুষ থেকে চালাক হতাম। কিন্তু (প্রকৃত বিষয় হলো) প্রতিটি প্রবঞ্চনাই পাপ এবং প্রতিটি পাপই আল্লাহর অবাধ্যতা। প্রত্যেক প্রবঞ্চক ব্যক্তিই শেষ বিচারে একটা ঝাণ্ডা বহন করবে যাতে তাকে সহজে চেনা যাবে।

আল্লাহর কসম ,কোন কৌশল দ্বারা আমাকে ভুলিয়ে রাখতে পারবে না এবং দুঃখ - কষ্ট দ্বারা আমাকে পরাজিত করতে পারবে না।

____________________

১। যে সব লোক দ্বীনি ও নীতিজ্ঞান সম্বন্ধে অজ্ঞ ,দ্বীনের বিধি - বিধানের ধার ধারে না এবং শাস্তি ও পুরস্কারের ধারণা যাদের নেই তারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য উপায় ও ওজরের কোন অভাব অনুভব করে না। তারা প্রতিক্ষেত্রেই কৃতকার্যতার পথ খুঁজে বের করে নেয়। কিন্তু যখন মানবতাবোধ অথবা ইসলাম অথবা নীতিজ্ঞানের আরোপিত সীমা বা দ্বীনের বিধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় তখন কৌশল ও উপায় অনুসন্ধানের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং তাদের কর্মকান্ডের সম্ভাব্যতাও সীমিত হয়ে পড়ে। মুয়াবিয়ার প্রভাব ও প্রতিপত্তি ছিল এ ধরনের কৌশলেরই ফল যার জন্য সে যে কোন উপায় অবলম্বনে হালাল - হারাম ও ন্যায় - অন্যায় - কোন কিছুই চিন্তা করে দেখতো না ;এমন কি বিচার দিনের ভয়ও তাকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। ইসফাহানী তার চরিত্র সম্বন্ধে লিখেছেনঃ

সর্বদা উদ্দেশ্য হাসিল করাই ছিল তার লক্ষ্য । উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সে হালাল হারামের ধার ধারতো না । সে দ্বীনের তোয়াক্কা করতো না এবং আল্লাহর শাস্তির কথা কখনো চিন্তা করতো না । তার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য সে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করতো এবং সকল প্রকার প্রতারণা - প্রবঞ্চনা ও ফন্দি - ফিকিরে লিপ্ত থাকতো। যখন সে দেখলো আমিরুল মোমেনিনকে যুদ্ধে জড়িয়ে না ফেললে তার স্বার্থসিদ্ধি হবে না। তখন সে তালহা ও জুবায়েরকে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল । এ উপায়ে সে কৃতকার্য হতে না পেরে সিরিয়দেরকে প্ররোচিত করে সিফাফনের গৃহযুদ্ধ সংঘটিত করেছিল । আম্মার শহীদ হবার কারণে রাসূলের (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী যখন প্রমাণিত হলো যে ,মুয়াবিয়া বিদ্রোহী ও বাতিল পথে রয়েছে তখনই সে লোক নিয়োজিত করে প্রচার করতে লাগলো যে ,আম্মারের মৃত্যুর জন্য আলীই দায়ী ;কারণ তিনি আম্মারকে যুদ্ধক্ষেত্রে এনেছেন। অন্য এক উপলক্ষে সে ব্যাখ্যা করেছিল , বিদ্রোহী দল ” বলতে রাসূল (সা.) প্রতিশোধ গ্রহণকারী দল। ” এটাই ছিল রাসূলের (সা.) কথার মর্ম। এসব ধূর্ততার পথ অবলম্বন করেও যখন সে জয়ের আশা হারিয়ে ফেললো তখন সে বর্শার মাথায় কুরআন তুলে ধরার ফন্দি আঁটলো । যদি সে সত্যিকার অর্থে কুরআন মানতো তাহলে যুদ্ধ আরম্ভ হবার আগেই সে কুরআন অনুযায়ী তার দাবি উত্থাপন করতো । আবু মুসা আল - আশারীর সঙ্গে চাতুরী করে আমর ইবনে আ ’ স যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল তার সঙ্গে কুরআনের কোন সংশ্রব নেই। এহেন কুরআন বিরোধী প্রতারণার জন্য আমরকে শাস্তি দেয়া তো দূরের কথা একটা কটু কথাও মুয়াবিয়া বলেনি । বরং মুয়াবিয়া আমরের গর্হিত কাজের প্রশংসা করে পুরস্কার স্বরূপ তাকে মিশরের গভর্ণর করেছিল ।

অপরপক্ষে আমিরুল মোমেনিনের আচরণ ছিল দ্বীনের বিধি - বিধান ও নীতিজ্ঞানবোধের সুউচ্চ নমুনা। বিরূপ অবস্থাতেও তিনি সত্য ও ন্যায়পরায়ণতার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতেন এবং তাঁর পবিত্র জীবনকে ফন্দি - ফিকির ও প্রবঞ্চনার মতো নোংরামি দ্বারা কলুষিত করেননি। তিনি ইচ্ছা করলে ধূর্ততা দিয়ে ধূর্ততার মোকাবেলা করতে পারতেন এবং মুয়াবিয়ার নির্লজ্জ কর্মকান্ডের জবাব একইভাবে দিতে পারতেন। উদাহরণ স্বরূপ ,মুয়াবিয়া পানির অভাবে দুর্বল হয়ে পরাজয় বরণ করে। আমিরুল মোমেনিন মুয়াবিয়ার সৈন্যদেরকে হটিয়ে দিয়ে ফোরাতকুল দখল করে নিয়েছিলেন। জালিম মুয়াবিয়ার সৈন্যদের প্রতি আমিরুল মোমেনিন। একই আচরণ করে পানি বন্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি এহেন অমানবিক ও নীতিশাস্ত্র বিবর্জিত কাজ করে তার হাত কলুষিত করেননি যদিও তিনি জানতেন যে ,পানি বন্ধ করে দিলে শক্রকে সহজে পরাজিত করা যায়। মুয়াবিয়ার মতো লোকেরাই এমন অমানবিক কাজকে কূটনীতি বা যুদ্ধ - কৌশল বা প্রশাসনিক দক্ষতা বলে আখ্যায়িত করে থাকে। কিন্তু আমিরুল মোমেনিন কখনো কূট - কৌশল ও জালিয়াতি দ্বারা নিজের শক্তি বৃদ্ধির কথা চিন্তা করেননি। তাই তার কিছু সংখ্যক অনুচর। যখন তাকে উপদেশ দিল যে ,উসমানের সময়কার অফিসারদের চাকরি বহাল রাখতে ,তালহা ও জুবায়েরকে কুফা ও বসরার গভর্ণর নিয়োগ করে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতে এবং মুয়াবিয়াকে সিরিয়ার সরকার দিয়ে দিতে তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দ্বীনের বিধানকে জাগতিক সুবিধার উর্দ্ধে স্থান দিয়ে মুয়াবিয়া সম্পর্কে প্রকাশ্যে নিম্নরূপ ভাষণ দিয়েছিলেনঃ

মুয়াবিয়া যে অবস্থায় আছে যদি আমি তাকে সে অবস্থায় থাকতে দেই। তবে আমি তাদেরই একজন হবো যারা মানুষকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। ” (কুরআন - ১৮:৫১) । যারা আপাত কৃতকার্যতার মূল্য দেয়। অথচ চিন্তা করে না যে ,কী উপায়ে কৃতকার্যতা অর্জিত হয়েছে - আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবো না । মানুষ সেসব লোককে সমর্থন দেয় যারা ধূর্ততা ও প্রবঞ্চনার আশ্রয় গ্রহণ করে কৃতকার্য হয় এবং তাদেরকে ভালো প্রশাসক ,বুদ্ধিমান রাজনীতিবিদ ,বুদ্ধিবৃত্তিক মেধাবি ইত্যাদিতে আখ্যায়িত করে । পক্ষান্তরে যারা ইসলামের প্রত্যাদেশ ও ঐশী নির্দেশের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে ,ধূর্ততা ও জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে অন্যায়ভাবে জয়লাভ করার চেয়ে পরাজয়কে বেশী পছন্দ করে ,মানুষ তাদেরকে রাজনীতিতে অজ্ঞ ও দূরদর্শীতায় দুর্বল বলে আখ্যায়িত করে । তারা একবার ভেবেও দেখে না যে ,যে ব্যক্তি ন্যায়নীতি মেনে চলে তার পথে কী বাধা রয়েছে যা তাকে কৃতকার্যতার কাছাকাছি পৌছা সত্ত্বেও অগ্রসর হতে বারিত করেছে।