নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 48175
ডাউনলোড: 2249

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 48175 / ডাউনলোড: 2249
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

খোৎবা - ২১৬

الشكوي من قريش

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَعْدِيكَ عَلَى قُرَيْشٍ وَ مَنْ أَعَانَهُمْ؛ فَإِنَّهُمْ قَدْ قَطَعُوا رَحِمِي وَ أَكْفَئُوا إِنَائِي، وَ أَجْمَعُوا عَلَى مُنَازَعَتِي حَقّاً كُنْتُ أَوْلَى بِهِ مِنْ غَيْرِي، وَ قَالُوا: أَلاَ إِنَّ فِي اَلْحَقِّ أَنْ تَأْخُذَهُ، وَ فِي اَلْحَقِّ أَنْ تُمْنَعَهُ، فَاصْبِرْ مَغْمُوماً، أَوْ مُتْ مُتَأَسِّفاً. فَنَظَرْتُ فَإِذَا لَيْسَ لِي رَافِدٌ، وَ لاَ ذَابٌّ وَ لاَ مُسَاعِدٌ، إِلاَّ أَهْلَ بَيْتِي؛ فَضَنَنْتُ بِهِمْ عَنِ اَلْمَنِيَّةِ فَأَغْضَيْتُ عَلَى اَلْقَذَى، وَ جَرِعْتُ رِيقِي عَلَى اَلشَّجَا، وَ صَبَرْتُ مِنْ كَظْمِ اَلْغَيْظِ عَلَى أَمَرَّ مِنَ اَلْعَلْقَمِ، وَ آلَمَ لِلْقَلْبِ مِنْ وَخْزِ اَلشِّفَارِ.

فَقَدِمُوا عَلَى عُمَّالِي وَ خُزَّانِ بَيْتِ اَلْمُسْلِمِينَ اَلَّذِي فِي يَدَيَّ، وَ عَلَى أَهْلِ مِصْرٍ كُلُّهُمْ فِي طَاعَتِي وَ عَلَى بَيْعَتِي؛ فَشَتَّتُوا كَلِمَتَهُمْ، وَ أَفْسَدُوا عَلَيَّ جَمَاعَتَهُمْ، وَ وَثَبُوا عَلَى شِيعَتِي، فَقَتَلُوا طَاِئفَةً منْهُمْ غَدْراً، وَ طَاِئفَةٌ عَضُّوا عَلَى أَسْيَافِهِمْ، فَضَارَبُوا بِهَا حَتَّى لَقُوا اَللَّهَ صَادِقِينَ.

কুরাইশদের বাড়াবাড়ি সম্বন্ধে

হে আমার আল্লাহ ,আমি তোমার কাছে প্রার্থনা জানাই – তুমি যেন কুরাইশ ও তাদের সাহায্যকারীদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ কর। কারণ তারা আমার জ্ঞাতিত্বকে কেটে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে এবং আমার পেয়ালা উপুড় করে ঢেলে দিয়েছে। তারা সকলে জোট বেঁধে এমন একটা অধিকার নিয়ে আামর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায নেমেছে যাতে আমার চেয়ে বেশী প্রাধিকারভুক্ত আর কেউ নেই। তারা আমাকে বলেছিল , যদি তুমি তোমার অধিকার ফিরে পাও তবে তা ন্যায় - সঙ্গত হবে ;আর যদি তোমাকে সে অধিকার না দেয়া হয় তাও ন্যায় - সঙ্গত হবে। দুঃখ সহকারে এটা সহ্য কর অথবা শোকে নিজেকে হত্যা কর। ” আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম , আমার পরিবারের সদস্যগণ ছাড়া আমাকে সাহায্য করার মতো আর কেউ নেই। আমি তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া থেকে বিরত রইলাম। চোখে বালি পড়া অবস্থায়ও চোখ বন্ধ করে রইলাম। শ্বাসরুদ্ধকর শোকের মধ্যেও মুখের লালা গলাধঃকরণ করতে থাকলাম এবং ক্রোধের যন্ত্রণা সহ্য করতে লাগলাম যদিও এটা কলোসিনথ ’ থেকে তিক্ত ও ছুরির আঘাত হতে বেদনাদায়ক।

তারা আমার নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসার ও ট্রেজারি রক্ষককে আক্রমণ করেছে। তারা আমার অনুগত নগরবাসীগণকে আক্রমণ করেছে। তারা নগরবাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। আমার বিরুদ্ধে তাদের দলকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে এবং আমার অনুসারীদেরকে আক্রমণ করেছে। তারা ছলনা করে আমার অনুসারীদের একদলকে হত্যা করেছে এবং অপর একদল তাদের বিরুদ্ধে তরবারি ধারণ করে সত্যের খাতিরে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করেছে যে পর্যন্ত না তারা শাহাদাত বরণ করে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করেছে।

খোৎবা - ২১৭

لمامربطلحةبنعبداللهوعبدالرحمنبنعتاببنأسيدوهماقتيلانيومالجمل:

لَقَدْ أَصْبَحَ أَبُو مُحَمَّدٍ بِهَذَا اَلْمَكَانِ غَرِيباً! أَمَا وَ اَللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَكْرَهُ أَنْ تَكُونَ قُرَيْشٌ قَتْلَى تَحْتَ بُطُونِ اَلْكَوَاكِبِ! أَدْرَكْتُ وَتْرِي مِنْ بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، وَ أَفْلَتَتْنِي أَعْيَانُ بَنِي جُمَحَ، لَقَدْ أَتْلَعُوا أَعْنَاقَهُمْ إِلَى أَمْرٍ لَمْ يَكُونُوا أَهْلَهُ فَوُقِصُوا دُونَهُ.

জামালের যুদ্ধের পর যখন আমিরুল মোমেনিন তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ ও আবদুর রহমান ইবনে আত্তাব ইবনে আসিদের লাশের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি বললেনঃ

আবু মুহাম্মদ (তালহা) তার নিজের দেশ থেকে অনেক দূরে এখানে শুয়ে আছে। আল্লাহর কসম ,আমি কখনো চাই নি যে ,কুরাইশগণ এভাবে আকাশের নিচে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকুক। আবদ মানাফের বংশধরগণের কাছ থেকে আমি নিজেই প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি ,কিন্তু বনি জুমাহর প্রধানগণ আমার হাত থেকে ফসকে গেল। যে বিষয়ে তারা উপযুক্ত নয় সে বিষয়ে তারা নাক গলাতে গিয়েছিল। সুতরাং লক্ষ্যে পৌছার আগেই তাদের ঘাড় মটকে গেল।

__________________

১। বনি জুমাহর প্রধানগণের কজন হলোঃ - আবদুল্লাহ আত - তাওয়াইল ইবনে সাফওয়ান ,ইয়াহিয়া ইবনে হাকিম ,আমির ইবনে মাসুদ ও আইউব ইবনে হাবিব। এরা পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছিল। জামালের যুদ্ধে বনি জুমাহর মাত্র দুজন নিহত হয়েছিল।

খোৎবা - ২১৮

السالک الی الله

قَدْ أَحْيَا عَقْلَهُ، وَ أَمَاتَ نَفْسَهُ، حَتَّى دَقَّ جَلِيلُهُ، وَ لَطُفَ غَلِيظُهُ، وَ بَرَقَ لَهُ لاَمِعٌ كَثِيرُ اَلْبَرْقِ، فَأَبَانَ لَهُ اَلطَّرِيقَ، وَ سَلَكَ بِهِ اَلسَّبِيلَ، وَ تَدَافَعَتْهُ اَلْأَبْوَابُ إِلَى بَابِ اَلسَّلاَمَةِ، وَ دَارِ اَلْإِقَامَةِ، وَ ثَبَتَتْ رِجْلاَهُ بِطُمَأْنِينَةِ بَدَنِهِ فِي قَرَارِ اَلْأَمْنِ وَ اَلرَّاحَةِ، بِمَا اِسْتَعْمَلَ قَلْبَهُ، وَ أَرْضَى رَبَّهُ.

খোদা - ভীরু ও দ্বীনদারের গুণাবলী

ইমানদারগণ তাদের মনকে জীবিত রাখে এবং হৃদয়ের কামনা - বাসনাকে হত্যা করে যে পর্যন্ত না তাদের দেহ শীর্ণ হয়ে পড়ে ,ওজন পাতলা হয়ে যায় ও একটা উজ্জ্বল দুর্গতি বের হয়। এ দ্যুতি তাদেরকে পথ দেখায় এবং ন্যায়ের পথে নিয়ে যায়। বিভিন্ন দরজা তাদেরকে নিরাপত্তার দরজা ও স্থায়ী আবাসের দিকে নিয়ে যায়। তাদের পা দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। এতে তাদের অবস্থান নিরাপত্তা ও আরামে পরিণত হয়। কারণ ,তারা সৎকাজে হৃদয়কে নিয়োজিত রাখে এবং তাদের আল্লাহকে খুশি করে।

খোৎবা - ২১৯

قاله بعد تلاوته:( أَلْهاكُمُ اَلتَّكاثُرُ حَتَّى زُرْتُمُ اَلْمَقابِرَ ) .

يَا لَهُ مَرَاماً مَا أَبْعَدَهُ! وَ زَوْراً مَا أَغْفَلَهُ! وَ خَطَراً مَا أَفْظَعَهُ! لَقَدِ اِسْتَخْلَوْا مِنْهُمْ أَيَّ مُدَّكِرٍ(مذکّر) ، وَ تَنَاوَشُوهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ! أَفَبِمَصَارِعِ آبَائِهِمْ يَفْخَرُونَ! أَمْ بِعَدِيدِ اَلْهَلْكَى يَتَكَاثَرُونَ! يَرْتَجِعُونَ مِنْهُمْ أَجْسَاداً خَوَتْ، وَ حَرَكَاتٍ سَكَنَتْ. وَ لَأَنْ يَكُونُوا عِبَراً، أَحَقُّ مِنْ أَنْ يَكُونُوا مُفْتَخَراً؛ وَ لَأَنْ يَهْبِطُوا بِهِمْ جَنَابَ ذِلَّةٍ، أَحْجَى مِنْ أَنْ يَقُومُوا بِهِمْ مَقَامَ عِزَّةٍ! لَقَدْ نَظَرُوا إِلَيْهِمْ بِأَبْصَارِ اَلْعَشْوَةِ، وَ ضَرَبُوا مِنْهُمْ فِي غَمْرَةِ جَهَالَةٍ، وَ لَوِ اِسْتَنْطَقُوا عَنْهُمْ عَرَصَاتِ تِلْكَ اَلدِّيَارِ اَلْخَاوِيَةِ، وَ اَلرُّبُوعِ اَلْخَالِيَةِ، لَقَالَتْ: ذَهَبُوا فِي اَلْأَرْضِ ضُلاَّلاً، وَ ذَهَبْتُمْ فِي أَعْقَابِهِمْ جُهَّالاً، تَطَئُونَ فِي هَامِهِمْ، وَ تَسْتَنْبِتُونَ فِي أَجْسَادِهِمْ، وَ تَرْتَعُونَ فِيمَا لَفَظُوا، وَ تَسْكُنُونَ فِيمَا خَرَّبُوا؛ وَ إِنَّمَا اَلْأَيَّامُ بَيْنَكُمْ وَ بَيْنَهُمْ بَوَاكٍ وَ نَوَائِحُ عَلَيْكُمْ. أُولَئِكُمْ سَلَفُ غَايَتِكُمْ وَ فُرَّاطُ مَنَاهِلِكُمْ.

اَلَّذِينَ كَانَتْ لَهُمْ مَقَاوِمُ اَلْعِزِّ، وَ حَلَبَاتُ(جلباب) اَلْفَخْرِ، مُلُوكاً وَ سُوَقاً سَلَكُوا فِي بُطُونِ اَلْبَرْزَخِ سَبِيلاً(طریقاً) سُلِّطَتِ اَلْأَرْضُ عَلَيْهِمْ فِيهِ، فَأَكَلَتْ مِنْ لُحُومِهِمْ، وَ شَرِبَتْ مِنْ دِمَائِهِمْ؛ فَأَصْبَحُوا فِي فَجَوَاتِ قُبُورِهِمْ جَمَاداً لاَ يَنْمُونَ، وَ ضِمَاراً لاَ يُوجَدُونَ؛ لاَ يُفْزِعُهُمْ وُرُودُ اَلْأَهْوَالِ، وَ لاَ يَحْزُنُهُمْ تَنَكُّرُ اَلْأَحْوَالِ، وَ لاَ يَحْفِلُونَ بِالرَّوَاجِفِ، وَ لاَ يَأْذَنُونَ لِلْقَوَاصِفِ. غُيَّباً لاَ يُنْتَظَرُونَ، وَ شُهُوداً لاَ يَحْضُرُونَ، وَ إِنَّمَا كَانُوا جَمِيعاً فَتَشَتَّتُوا، وَ آلاَفاً فَافْتَرَقُوا، وَ مَا عَنْ طُولِ عَهْدِهِمْ، وَ لاَ بُعْدِ مَحَلِّهِمْ، عَمِيَتْ أَخْبَارُهُمْ، وَ صَمَّتْ دِيَارُهُمْ، وَ لَكِنَّهُمْ سُقُوا كَأْساً بَدَّلَتْهُمْ بِالنُّطْقِ خَرَساً، وَ بِالسَّمْعِ صَمَماً، وَ بِالْحَرَكَاتِ سُكُوناً، فَكَأَنَّهُمْ فِي اِرْتِجَالِ(ارتحال) اَلصِّفَةِ صَرْعَى سُبَاتٍ. جِيرَانٌ لاَ يَتَأَنَّسُونَ، وَ أَحِبَّاءُ(أحیاء) لاَ يَتَزَاوَرُونَ. بَلِيَتْ بَيْنَهُمْ عُرَا اَلتَّعَارُفِ، وَ اِنْقَطَعَتْ مِنْهُمْ أَسْبَابُ اَلْإِخَاءِ، فَكُلُّهُمْ وَحِيدٌ وَ هُمْ جَمِيعٌ، وَ بِجَانِبِ اَلْهَجْرِ وَ هُمْ أَخِلاَّءُ، لاَ يَتَعَارَفُونَ لِلَيْلٍ صَبَاحاً، وَ لاَ لِنَهَارٍ مَسَاءً. أَيُّ اَلْجَدِيدَيْنِ ظَعَنُوا فِيهِ كَانَ عَلَيْهِمْ سَرْمَداً، شَاهَدُوا مِنْ أَخْطَارِ دَارِهِمْ أَفْظَعَ مِمَّا خَافُوا، وَ رَأَوْا مِنْ آيَاتِهَا أَعْظَمَ مِمَّا قَدَّرُوا، فَكِلْتَا اَلْغَايَتَيْنِ مُدَّتْ لَهُمْ إِلَى مَبَاءَةٍ، فَاتَتْ مَبَالِغَ اَلْخَوْفِ وَ اَلرَّجَاءِ. فَلَوْ كَانُوا يَنْطِقُونَ بِهَا لَعَيُّوا بِصِفَةِ مَا شَاهَدُوا وَ مَا عَايَنُوا. وَ لَئِنْ عَمِيَتْ آثَارُهُمْ، وَ اِنْقَطَعَتْ أَخْبَارُهُمْ، لَقَدْ رَجَعَتْ فِيهِمْ أَبْصَارُ اَلْعِبَرِ، وَ سَمِعَتْ عَنْهُمْ آذَانُ اَلْعُقُولِ، وَ تَكَلَّمُوا مِنْ غَيْرِ جِهَاتِ اَلنُّطْقِ، فَقَالُوا:

كَلَحَتِ اَلْوُجُوهُ اَلنَّوَاضِرُ، وَ خَوَتِ اَلْأَجْسَامُ اَلنَّوَاعِمُ، وَ لَبِسْنَا أَهْدَامَ اَلْبِلَى، وَ تَكَاءَدَنَا ضِيقُ اَلْمَضْجَعِ، وَ تَوَارَثْنَا اَلْوَحْشَةَ، وَ تَهَكَّمَتْ عَلَيْنَا اَلرُّبُوعُ اَلصُّمُوتُ، فَانْمَحَتْ مَحَاسِنُ أَجْسَادِنَا، وَ تَنَكَّرَتْ مَعَارِفُ صُوَرِنَا، وَ طَالَتْ فِي مَسَاكِنِ اَلْوَحْشَةِ إِقَامَتُنَا؛ وَ لَمْ نَجِدْ مِنْ كَرْبٍ فَرَجاً، وَ لاَ مِنْ ضِيقٍ مُتَّسَعاً! فَلَوْ مَثَّلْتَهُمْ بِعَقْلِكَ، أَوْ كُشِفَ عَنْهُمْ مَحْجُوبُ اَلْغِطَاءِ لَكَ، وَ قَدِ اِرْتَسَخَتْ أَسْمَاعُهُمْ بِالْهَوَامِّ فَاسْتَكَّتْ، وَ اِكْتَحَلَتْ أَبْصَارُهُمْ بِالتُّرَاب فَخَسَفَتْ، وَ تَقَطَّعَتِ اَلْأَلْسِنَةُ فِي أَفْوَاهِهِمْ بَعْدَ ذَلاَقَتِهَا، وَ هَمَدَتِ اَلْقُلُوبُ فِي صُدُورِهِمْ بَعْدَ يَقَظَتِهَا، وَ عَاثَ فِي جَارِحَةٍ مِنْهُمْ جَدِيدُ بِلًى سَمَّجَهَا، كُلِّ وَ سَهَّلَ طُرُقَ اَلْآفَةِ إِلَيْهَا، مُسْتَسْلِمَاتٍ فَلاَ أَيْدٍ تَدْفَعُ وَ لاَ قُلُوبٌ تَجْزَعُ. لَرَأَيْتَ أَشْجَانَ قُلُوبٍ، وَ أَقْذَاءَ عُيُونٍ، لَهُمْ فِي كُلِّ فَظَاعَةٍ صِفَةُ حَالٍ لاَ تَنْتَقِلُ، وَ غَمْرَةٌ لاَ تَنْجَلِي.

فَكَمْ أَكَلَتِ اَلْأَرْضُ مِنْ عَزِيزِ جَسَدٍ، وَ أَنِيقِ لَوْنٍ، كَانَ فِي اَلدُّنْيَا غَذِيَّ تَرَفٍ، وَ رَبِيبَ شَرَفٍ! يَتَعَلَّلُ بِالسُّرُورِ فِي سَاعَةِ حُزْنِهِ، وَ يَفْزَعُ إِلَى اَلسَّلْوَةِ إِنْ مُصِيبَةٌ نَزَلَتْ بِهِ، ضَنّاً بِغَضَارَةِ عَيْشِهِ، وَ شَحَاحَةً بِلَهْوِهِ وَ لَعِبِهِ! فَبَيْنَا هُوَ يَضْحَكُ إِلَى اَلدُّنْيَا وَ تَضْحَكُ إِلَيْهِ فِي ظِلِّ عَيْشٍ غَفُولٍ، إِذْ وَطِئَ اَلدَّهْرُ بِهِ حَسَكَهُ وَ نَقَضَتِ اَلْأَيَّامُ قُوَاهُ، وَ نَظَرَتْ إِلَيْهِ اَلْحُتُوفُ مِنْ كَثَبٍ، فَخَالَطَهُ بَثٌّ لاَ يَعْرِفُهُ، وَ نَجِيُّ هَمٍّ مَا كَانَ يَجِدُهُ، وَ تَوَلَّدَتْ فِيهِ فَتَرَاتُ عِلَلٍ، آنَسَ مَا كَانَ بِصِحَّتِهِ. فَفَزِعَ إِلَى مَا كَانَ عَوَّدَهُ اَلْأَطِبَّاءُ مِنْ تَسْكِينِ اَلْحَارِّ بِالْقَارِّ، وَ تَحْرِيكِ اَلْبَارِدِ بِالْحَارِّ، فَلَمْ يُطْفِئْ بِبَارِدٍ إِلاَّ ثَوَّرَ حَرَارَةً، وَ لاَ حَرَّكَ بِحَارٍّ إِلاَّ هَيَّجَ بُرُودَةً، وَ لاَ اِعْتَدَلَ بِمُمَازِجٍ لِتِلْكَ اَلطَّبَائِعِ إِلاَّ أَمَدَّ مِنْهَا كُلَّ ذَاتِ دَاءٍ؛ حَتَّى فَتَرَ مُعَلِّلُهُ، وَ ذَهَلَ مُمَرِّضُهُ، وَ تَعَايَا أَهْلُهُ بِصِفَةِ دَائِهِ، وَ خَرِسُوا عَنْ جَوَابِ اَلسَّاِئِلينَ عَنْهُ وَ تَنَازَعُوا دُونَهُ شَجِيَّ خَبَرٍ يَكْتُمُونَهُ.

فَقَائِلٌ يَقُولُ: هُوَ لِمَا بِهِ، وَ مُمَنٍّ لَهُمْ إِيَابَ عَافِيَتِهِ، وَ مُصَبِّرٌ لَهُمْ عَلَى فَقْدِهِ، يُذَكِّرُهُمْ أُسَى اَلْمَاضِينَ مِنْ قَبْلِهِ. فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ عَلَى جَنَاحٍ مِنْ فِرَاقِ اَلدُّنْيَا، وَ تَرْكِ اَلْأَحِبَّةِ، إِذْ عَرَضَ لَهُ عَارِضٌ مِنْ غُصَصِهِ، فَتَحَيَّرَتْ نَوَافِذُ فِطْنَتِهِ وَ يَبِسَتْ رُطُوبَةُ لِسَانِهِ. فَكَمْ مِنْ مُهِمٍّ مِنْ جَوَابِهِ عَرَفَهُ فَعَيَّ عَنْ رَدِّهِ، وَ دُعَاءٍ مُؤْلِمٍ بِقَلْبِهِ سَمِعَهُ فَتَصَامَّ عَنْهُ، مِنْ كَبِيرٍ كَانَ يُعَظِّمُهُ، أَوْ صَغِيرٍ كَانَ يَرْحَمُهُ! وَ إِنَّ لِلْمَوْتِ لَغَمَرَاتٍ هِيَ أَفْظَعُ مِنْ أَنْ تُسْتَغْرَقَ بِصِفَةٍ، أَوْ تَعْتَدِلَ عَلَى عُقُولِ أَهْلِ اَلدُّنْيَا.

প্রাচুর্যের দম্ভ সম্পর্কে

প্রাচুর্যের দম্ভ সম্বন্ধে আমিরুল মোমেনিন নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করে বললেনঃ

প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখে ,যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও (কুরআন - ১০২:১ - ২২) ।

তাদের লক্ষ্য অর্জন আর কতদূর। এসব লোক কতই না গাফেল এবং তাদের কর্মকাণ্ড কতই না কঠিন। শিক্ষাপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করছে না ,কিন্তু তারা দূর - দূরান্ত থেকে ঐশ্বর্য সংগ্রহ করেছে। তারা কি তাদের পূর্বপুরুষের মৃতদেহের ওপরও দম্ভ করে অথবা তারা কি মৃত লোকদেরকেও তাদের সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত করে সংখ্যাধিক্যের গর্ব অনুভব করে ? যেসব দেহ আত্মাহীন ও নিশ্চল হয়ে গেছে তারা সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। মৃত্যগণ গর্ব অপেক্ষা শিক্ষার অধিক উপযোগী। তারা সম্মান অপেক্ষা বিনয়াবনতার উৎস হিসাবে অধিক উপযোগী । তারা দুর্বল - দৃষ্টি সম্পন্ন চোখে মৃতদের দিকে তাকায় এবং অজ্ঞতার গহবরে নেমে আসে। যদি তারা জীর্ণকুটির ও শূন্য আঙ্গিনা থেকে মৃতদের জিজ্ঞেস করতো ,তবে তারা বলতো যে ,তারা পথভ্রষ্ট অবস্থায় মাটির নিচে চলে গেছে এবং তোমরাও অজ্ঞভাবে তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । তোমরা তাদের মাথার খুলি মাড়িয়ে চলো এবং তাদের শবদেহের উপর ইমারত তুলতে চাও। তোমরা তাদের চারণভূমিতে পশু চরাও এবং যে ঘর তারা খালি করেছে সে ঘরে তোমরা বাস কর। তাদের ও তোমাদের মধ্যে যে সময়ের ব্যবধান হয়েছে তাতে শোক প্রকাশ ও শোক - গান এখনো শেষ হয়নি। লক্ষ্যে পৌছার ব্যাপারে তারা তোমাদের পূর্বসুরী এবং তোমাদের পূর্বেই তারা জলাধারের কাছে পৌছেছে।

তাদের মর্যাদাকর অবস্থা ও অসামান্য গর্ব ছিল। তারা ছিল শাসক ও পদমর্যাদাধারী। এখন তারা মাটির সংকীর্ণ ফাকের মধ্যে চলে গেছে যেখানে মাটি তাদেরকে চারিদিক থেকে চেপে ধরে তাদের মাংশ খাচ্ছে ও রক্ত চুষে নিচ্ছে। তারা প্রাণহীন অবস্থায় কবরের সংকীর্ণ গর্তে পড়ে আছে। তারা আর কোন দিন ফিরে আসবে না এবং কেউ তাদেরকে আর দেখতে পাবে না । বিপদের আশঙ্কা তাদেরকে আর শঙ্কিত করবে না এবং অবস্থার অনানুকূল্য আর তাদেরকে শোকাহত করবে না। ভূমিকম্পে তাদের কিছু যায় আসে না এবং বজ্রপাতেও তারা কর্ণপাত করে না। তারা চলে গেছে এবং আর ফেরার কোন আশা করা যায় না। তারা বিদ্যমান কিন্তু অদৃশ্য। তারা ছিল ঐক্যবদ্ধ কিন্তু এখন তারা বিচ্ছিন্ন। তারা ছিল পরষ্পর বন্ধুভাবাপন্ন কিন্তু এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

তাদের হিসাব - নিকাশ অজানা এবং তাদের গৃহগুলো নিশ্চুপ। এটা সময়ের দৈর্ঘ্য বা স্থানের দূরত্বের জন্য নয়। এটা এ কারণে যে ,তাদেরকে মৃত্যুর পেয়ালা পান করানো হয়েছে। এতে তাদের সবাক মুখ নির্বাক হয়ে গেছে ,তাদের শ্রুতি বধির হয়ে গেছে এবং তারা নিশ্চল হয়ে গেছে। তারা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে আছে। তারা পরস্পরের প্রতিবেশী। কিন্তু একের প্রতি অপরের কোন মমত্ববোধ নেই। তারা একে অপরের বন্ধু কিন্তু কেউ কারো সাথে দেখা করে না। তাদের একে অপরকে জানার রশি ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন কেটে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তাদের প্রত্যেকেই এখন একাকী যদিও তারা এক সময় দলবদ্ধ ছিল এবং এখন তারা একে অপরের অপরিচিত যদিও একসময় তারা বন্ধু ছিল। রাতের অবসানে ভোর ও দিনের অবসানে সন্ধ্যা সম্বন্ধে তারা অনবহিত। প্রস্থানের পর থেকেই রাত অথবা দিন তাদের কাছে চির বিদ্যমান হয়ে গেছে। তারা দেখেছিলো যে ,তাদের স্থায়ী আবাসের বিপদ তাদের অনুমান থেকে অনেক বেশি মারাত্মক এবং তারা লক্ষ্য করেছিলো যে ,এর চিহ্নসমূহ তাদের ধারণা থেকে অনেক বৃহৎ। দুটি লক্ষ্যবস্তু (বেহেশত ও দোযখ) ভয় ও আশার নাগালের বাইরে একটা বিন্দুতে তাদেরকে টেনে নিয়ে গেছে। যদি তারা কথা বলতে পারতো। তবে তারা যা দেখেছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে বোবা হয়ে যেতো ।

যদি তাদের চিহ্ন মুছেও ফেলা হয় এবং তাদের সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয় তবুও চক্ষুষ্মানগণ যেহেতু তাদের দিকে তাকিয়েছিল। সেহেতু তাদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তারা কোন প্রকার শব্দ না করে কথা বললেও বুদ্ধিমানের কান তাদের কথা শুনতে পায়। সুতরাং তারা বলে ,

সুন্দর মুখমণ্ডল ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কোমল দেহ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আমরা জীর্ণ কাফন পরে আছি ,কবরের সংকীর্ণতা আমাদেরকে অসহায় করে রেখেছে এবং অপরিচিতি আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের নীরব বাসস্থান ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের দেহের সৌন্দর্য চলে গেছে। আমাদের সর্বজ্ঞাত বৈশিষ্ট্যসমূহ ঘৃণিত হয়ে পড়েছে। অপরিচিত স্থানে আমাদের বাস দীর্ঘায়িত হয়ে গেছে। আমরা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি এবং সংকীর্ণতা থেকে নিস্কৃতি পাচ্ছি না। এখন যদি তোমরা তোমাদের মনের মধ্যে তাদের প্রতিকৃতি অঙ্কন কর অথবা যে সব পর্দা তাদেরকে তোমাদের কাছ থেকে গোপন করে রেখেছে তা সরিয়ে ফেল তবে নিশ্চয়ই ,তোমরা দেখতে পাবে যে ,তাদের কান শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে বধির হয়ে আছে ,তাদের চোখ কোটরাগত হয়ে তাতে বালি ভরে আছে ,তাদের সক্রিয় জিহ্বা টুকরো টুকরো হয়ে আছে ,তাদের চিরজাগ্রত হৃদপিণ্ড স্পন্দনহীন হয়ে পড়ে আছে এবং তাদের প্রতিটি অঙ্গ - প্রত্যঙ্গে একটা অদ্ভুত ধ্বংস সংঘটিত হয়ে সেগুলো বিকৃত ও ক্ষমতাহীন অবস্থায় পড়ে আছে। তাদেরকে সাহায্য করার কেউ নেই এবং তাদের জন্য শোক প্রকাশ করার কেউ নেই। তাদের প্রতিটি বিপদ এমন যে ,এর অবস্থার পরবর্তন হয় না এবং দুঃখ - দুর্দশা কখনো শেষ হয় না।

আহা! কতই না মর্যাদাসম্পন্ন দেহ ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যকে এ মাটি গলাধঃকরণ করেছে। অথচ এ পৃথিবীতে থাকাকালে তারা প্রচুর আরাম আয়েশ ও সুখ - সম্ভোগ উপভোগ করেছিল এবং সম্মানের মাঝে লালিত - পালিত হয়েছে। শোকের সময়েও তারা আনন্দ - উল্লাসে ছিল। দুঃখ - দুর্দশা আপতিত হলে তারা আনন্দ - উল্লাস ও খেলা - ধুলায় সান্তুনা খুঁজে পেত। পৃথিবী তাকে (মৃত ব্যাক্তি) উপহাস করলে সেও পৃথিবীকে উপহাস করতো ,কারণ তার জীবন ছিল বিস্মরণপূর্ণ। তারপর সময় তাকে রূঢ়ভাবে পদদলিত করলো ,দিন দিন তার শক্তিমত্তা দুর্বল হয়ে পড়তে লাগলো এবং মৃত্যু তার সন্নিকট থেকে তার দিকে তাকাতে লাগলো। এরপর সে এক প্রকার শোকে অভিভূত হতে লাগলো যা জীবনে কখনো অনুভব করেনি এবং তার সুস্থ - সবল শরীর রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে লাগলো।

তারপর সে এমন অবস্থায় পতিত হয় যাতে সে চিকিৎসকের নিকট অতি পরিচিত হয়ে ওঠে। চিকিৎসকগণ ঠাণ্ডা (ঔষধ) দ্বারা গরম (রোগ) দাবিয়ে রেখে চিকিৎসা করে। কিন্তু গরম বৃদ্ধি পেলে ঠাণ্ডা বস্তু কোন কাজে আসে না। এভাবে তার রোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকগণ উপায়হীন হয়ে পড়ে ,তার সেবায় নিয়োজিতগণ ক্লান্ত হয়ে পড়ে ,তার আপনজন তার রোগের বর্ণনা দিতে বিরক্তিবোধ করে ,কেউ তার অবস্থা জিজ্ঞেস করলে জবাব এড়িয়ে যায় এবং কেউ তার সম্মুখে অবস্থার অবনতির কথা বললে রাগান্বিত হয়।

তাই কেউ কেউ তার আরোগ্যের আশা ব্যক্ত করে সান্তুনা দেয় ,কেউ কেউ তাকে হারাবার জন্য ধৈর্য ধারণ করতে উপদেশ দেয় এবং তার পূর্ববর্তীগণের প্রস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এ অবস্থায় যখন সে প্রিয়জনদের ত্যাগ করে এ পৃথিবী থেকে চির প্রস্থানের জন্য প্রস্তুত হয় তখন এমন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা তাকে ঘিরে ধরে যে ,তার সকল অনুভূতি হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে এবং তার জিহবার আদ্রতা শুকিয়ে যায়। এ সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর তার জানা থাকা সত্ত্বেও সে কিছুই উচ্চারণ করতে পারে না। এ সময় অনেকের কথা সে শোনে যা তার হৃদয়ের জন্য পীড়াদায়ক ,কিন্তু তবুও সে নিশ্চুপ হয়ে পড়ে থাকে যেন সে বধির - কারো কথা শুনতে পায় না - না জ্যেষ্ঠদের যাদের সে শ্রদ্ধা করতো ,আর না কনিষ্ঠদের যাদের সে স্নেহ করতো। মৃত্যুর যন্ত্রণা এতই কষ্টদায়ক যে ,মানুষ না পারে তা ভাষায় বর্ণনা করতে ,আর না পারে তা হৃদয়ে অনুভব করতে।

খোৎবা - ২২০

قاله عند تلاوته:( بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّـهُ أَن تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ يُسَبِّحُ لَهُ فِيهَا بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّـهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ ) .

إِنَّ اَللَّهَسُبْحَانَهُ وَ تَعَالَى جَعَلَ اَلذِّكْرَ جِلاءً لِلْقُلُوبِ، تَسْمَعُ بِهِ بَعْدَ اَلْوَقْرَةِ، وَ تُبْصِرُ بِهِ بَعْدَ اَلْعَشْوَةِ، وَ تَنْقَادُ بِهِ بَعْدَ اَلْمُعَانَدَةِ، وَ مَا بَرِحَ لِلَّهِعَزَّتْ آلاَؤُهُ فِي اَلْبُرْهَةِ بَعْدَ اَلْبُرْهَةِ، وَ فِي أَزْمَانِ اَلْفَتَرَاتِ، عِبَادٌ نَاجَاهُمْ فِي فِكْرِهِمْ، وَ كَلَّمَهُمْ فِي ذَاتِ عُقُولِهِمْ. فَاسْتَصْبَحُوا بِنُورِ يَقَظَةٍ فِي اَلْأَبْصَارِ وَ اَلْأَسْمَاعِ وَ اَلْأَفْئِدَةِ يُذَكِّرُونَ بِأَيَّامِ اَللَّهِ، وَ يُخَوِّفُونَ مَقَامَهُ، بِمَنْزِلَةِ اَلْأَدِلَّةِ فِي اَلْفَلَوَاتِ(القلوب) . مَنْ أَخَذَ اَلْقَصْدَ حَمِدُوا إِلَيْهِ طَرِيقَهُ، وَ بَشَّرُوهُ بِالنَّجَاةِ وَ مَنْ أَخَذَ يَمِيناً وَ شِمَالاً ذَمُّوا إِلَيْهِ اَلطَّرِيقَ، وَ حَذَّرُوهُ مِنَ اَلْهَلَكَةِ، وَ كَانُوا كَذَلِكَ مَصَابِيحَ تِلْكَ اَلظُّلُمَاتِ، وَ أَدِلَّةَ تِلْكَ اَلشُّبُهَاتِ.

وَ إِنَّ لِلذِّكْرِ لَأَهْلاً أَخَذُوهُ مِنَ اَلدُّنْيَا بَدَلاً، فَلَمْ تَشْغَلْهُمْ تِجَارَةٌ وَ لاَ بَيْعٌ عَنْهُ، يَقْطَعُونَ بِهِ أَيَّامَ اَلْحَيَاةِ، وَ يَهْتِفُونَ بِالزَّوَاجِرِ عَنْ مَحَارِمِ اَللَّهِ، فِي أَسْمَاعِ اَلْغَافِلِينَ، وَ يَأْمُرُونَ بِالْقِسْطِ وَ يَأْتَمِرُونَ بِهِ، وَ يَنْهَوْنَ عَنِ اَلْمُنْكَرِ وَ يَتَنَاهَوْنَ عَنْهُ. فَكَأَنَّمَا قَطَعُوا اَلدُّنْيَا إِلَى اَلْآخِرَةِ وَ هُمْ فِيهَا، فَشَاهَدُوا مَا وَرَاءَ ذَلِكَ، فَكَأَنَّمَا اِطَّلَعُوا غُيُوبَ أَهْلِ اَلْبَرْزَخِ فِي طُولِ اَلْإِقَامَةِ فِيهِ، وَ حَقَّقَتِ اَلْقِيَامَةُ عَلَيْهِمْ عِدَاتِهَا، فَكَشَفُوا غِطَاءَ ذَلِكَ لِأَهْلِ اَلدُّنْيَا، حَتَّى كَأَنَّهُمْ يَرَوْنَ مَا لاَ يَرَى اَلنَّاسُ، وَ يَسْمَعُونَ مَا لاَ يَسْمَعُونَ. فَلَوْ مَثَّلْتَهُمْ لِعَقْلِكَ فِي مَقَاوِمِهِمُ اَلْمَحْمُودَةِ، وَ مَجَالِسِهِمُ اَلْمَشْهُودَةِ، وَ قَدْ نَشَرُوا دَوَاوِينَ أَعْمَالِهِمْ. وَ فَرَغُوا لِمُحَاسَبَةِ أَنْفُسِهِمْ عَلَى كُلِّ صَغِيرَةٍ وَ كَبِيرَةٍ، أُمِرُوا بِهَا فَقَصَّرُوا عَنْهَا، أَوْ نُهُوا عَنْهَا فَفَرَّطُوا فيهَا، وَ حَمَّلُوا ثِقَلَ أَوْزَاِرِهمْ ظُهُورَهُمْ، فَضَعُفُوا عَنِ اَلاِسْتِقْلاَلِ بِهَا، فَنَشَجُوا نَشِيجاً، وَ تَجَاوَبُوا نَحِيباً، يَعِجُّونَ إِلَى رَبِّهِمْ مِنْ مَقَامِ نَدَمٍ وَ اِعْتِرَافٍ. لَرَأَيْتَ أَعْلاَمَ هُدًى، وَ مَصَابِيحَ دُجًى، قَدْ حَفَّتْ بِهِمُ اَلْمَلاَئِكَةُ، وَ تَنَزَّلَتْ عَلَيْهِمُ اَلسَّكِينَةُ، وَ فُتِحَتْ لَهُمْ أَبْوَابُ اَلسَّمَاءِ، وَ أُعِدَّتْ لَهُمْ مَقَاعِدُ اَلْكَرَامَاتِ، فِي مَقْعَدٍ اِطَّلَعَ اَللَّهُ عَلَيْهِمْ فِيهِ، فَرَضِيَ سَعْيَهُمْ، وَ حَمِدَ مَقَامَهُمْ. يَتَنَسَّمُونَ بِدُعَائِهِ رَوْحَ اَلتَّجَاوُزِ. رَهَائِنُ فَاقَةٍ إِلَى فَضْلِهِ، وَ أُسَارَى ذِلَّةٍ لِعَظَمَتِهِ، جَرَحَ طُولُ اَلْأَسَى قُلُوبَهُمْ، وَ طُولُ اَلْبُكَاءِ عُيُونَهُمْ. لِكُلِّ بَابِ رَغْبَةٍ إِلَى اَللَّهِ مِنْهُمْ يَدٌ قَارِعَةٌ(فارغة) ، يَسْأَلُونَ مَنْ لاَ تَضِيقُ لَدَيْهِ اَلْمَنَادِحُ، وَ لاَ يَخِيبُ عَلَيْهِ اَلرَّاغِبُونَ. فَحَاسِبْ نَفْسَكَ لِنَفْسِكَ، فَإِنَّ غَيْرَهَا مِنَ اَلْأَنْفُسِ لَهَا حَسِيبٌ غَيْرُكَ.

আল্লাহর জেকের সম্পর্কে

আল্লাহর জেকের সম্বন্ধে আমিরুল মোমেনিন নিম্নোক্ত আয়াতদ্বয় পাঠ করে বললেনঃ

সেসব গৃহে যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন ,সকাল ও সন্ধ্যায়। তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে ;সেসব লোক ,যাদেরকে ব্যবসা - বাণিজ্য ও ক্রয় - বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে বিরত রাখে না ,তারা ভয় করে সেদিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে । (কুরআন - ২৪:৩৬ - ৩৭)

এরপর আমিরুল মোমেনিন বললেনঃ

নিশ্চয় মহিমান্বিত আল্লাহ তার জেকেরকে মানুষের হৃদয়ের জন্য আলো করে দিযেচেন যদ্বারা মানুষ বধিরতা সত্ত্বেও শুনতে পায় ,অন্ধত্ব সত্ত্বেও দেখতে পায় এবং অদম্যতা সত্ত্বেও অনুগত হয়। যে সময়গুলোতে কোন নবী ছিলেন না সে সময়গুলোতে আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতে এ ধরনের লোকের এলহামের দ্বারা মনের মাধ্যমে গোপনে কথা বলতেন। তারা তাদের জাগ্রত কান ,চক্ষু ও হৃদয়ের সাহায্যে অন্যদেরকে আল্লাহর জেকেরের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং নির্জন স্থানের পথের দিশারীর মতো অন্যদেরকে আল্লাহর ভয় স্মরণ করিয়ে দিতেন। যে কেউ মধ্যপথ অবলম্বন করতো তারা তার পথের প্রশংসা করতো এবং তাকে হেদায়েতের স্রোতধারা প্রদান করতো। আর যদি কেউ ডানে ও বায়ে যেতো তারা তার পথের নিন্দা করতো এবং ধ্বংস সম্বন্ধে তাকে ভয় দেখাতো। এভাবে তারা অন্ধকারের প্রদীপ ও বিভ্রান্তির দেশনা হিসাবে কাজ করেছিল।

কিছু কিছু লোক আছে যারা জাগতিক কর্মকান্ডের পরিবর্তে আল্লাহর জেকেরে এমনভাবে মগ্ন যে ,ব্যবসা - বাণিজ্য কোন কিছুই তাদেরকে এ ধ্যান থেকে ফিরিয়ে আনতে পারছে না। তারা আল্লাহর জেকেরে জীবন কাটিয়ে দেয়। তারা গাফেলগণের হৃদয়ে আল্লাহ্ কর্তৃক ঘোষিত হারাম বিষয়াবলী সম্পর্কে সতর্কাদেশ ঢুকিয়ে দেয়। তারা নিজেরা ন্যায়বিচার করে এবং অন্যদেরকেও ন্যায়বিচার করার আদেশ দেয়। তারা নিজেদেরকে হারাম বিষয় থেকে বিরত রাখে এবং অন্যদেরকেও বারণ করে। তাদের অবস্থা এমন যেন তারা এ পৃথিবী ভ্রমণ শেষ করে পরকালে পাড়ি জমিয়েছে এবং এ পৃথিবীর বাইরে যা আছে তারা যেন তা দেখতে পায়। ফলে কবরের সংকীর্ণ ফাঁকে দীর্ঘ অবস্থানে ও বিচার দিনে যা ঘটবে সে বিষয়ে তারা অবগত আছে। সুতরাং পৃথিবীর মানুষের জন্য এসব বিষয়ের পর্দা তারা অপসারণ করে দেয় যেন মানুষ তা দেখতে পায় যা তারা দেখেছিল এবং মানুষ তা শুনতে পায় যা তারা শুনেছিল।

যদি তোমরা মনের মধ্যে তাদের প্রশংসনীয় অবস্থা ও সুপরিচিত আসনের ছবি আঁক তবে দেখতে পাবে তারা তাদের আমলের রেকর্ড খুলে বসে আছে এবং ছোট - বড় সব কিছুর হিসাব মিলিয়ে দেখছে যে ,যা তাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তার কতটুকু করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তার কতটুকুতে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের কোন খারাপ আমল থাকলে তার ভার তারা নিজেদের পিঠেই অনুভব করে এবং এ ভার বহনে নিজেকে খুব দুর্বল মনে করে। এতে তারা ভীষণভাবে কাঁদতে শুরু করে এবং কেঁদে কেঁদে একে অপরের কাছে বলাবলি করে। তারা আল্লাহর দরবারে বিলাপ করে নিজের দোষ স্বীকার করে এবং খালেছ অন্তরে তওবা করে। এরা হলো হেদায়েতের প্রতীক ও অন্ধকারের প্রদীপ । ফেরেশতাগণ এদের চারদিকে ঘিরে থাকে ,এদের ওপর শান্তি নেমে আসে ,আকাশের দরজা। এদের জন্য খোলা থাকে এবং যে স্থানের বিষয়ে আল্লাহ। এদেরকে অবহিত করেছিলেন সে স্থান সম্মানিত অবস্থায় এদের জন্য নির্ধারিত থাকে। তারা আল্লাহকে ডাকে এবং ক্ষমার হাওয়ায় নিশ্বাস গ্রহণ করে। তারা আল্লাহর নেয়ামতের চির - মুখাপেক্ষী এবং তার মহত্ত্বের কাছে হীনাবস্থায় থাকে। তাদের শোকের দৈর্ঘ্য তাদের হৃদয়কে ব্যথাতুর করেছে এবং তাদের কান্নার দৈর্ঘ্য তাদের চোখকে ব্যথাতুর করেছে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতিটি দরজায় তারা আঘাত করে। তারা তাঁরই কাছে যাচনা করে - দান যাকে নিঃস্ব করে না এবং যার কাছে যাচনা করে কেউ নিরাশ হয় না।

সুতরাং তোমরা নিজের জন্যই নিজের হিসাব মিলিয়ে নাও ,কারণ অন্যের হিসাব মিলিয়ে দেখার জন্য অন্য একজন রয়েছেন।

খোৎবা - ২২১

التحذیر من الغرور

قاله عند تلاوه:( يا أَيُّهَا اَلْإِنْسانُ ما غَرَّكَ بِرَبِّكَ اَلْكَرِيمِ ) .

أَدْحَضُ مَسْئُولٍ حُجَّةً، وَ أَقْطَعُ مُغْتَرٍّ مَعْذِرَةً، لَقَدْ أَبْرَحَ جَهَالَةً بِنَفْسِهِ. يَا أَيُّهَا اَلْإِنْسَانُ، مَا جَرَّأَكَ عَلَى ذَنْبِكَ، وَ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ، وَ مَا أَنَّسَكَ بِهَلَكَةِ نَفْسِكَ؟ أَ مَا مِنْ دَائِكَ بُلُولٌ، أَمْ لَيْسَ مِنْ نَوْمَتِكَ يَقَظَةٌ، أَ مَا تَرْحَمُ مِنْ نَفْسِكَ مَا تَرْحَمُ مِنْ غَيْرِكَ؟ فَلَرُبَّمَا تَرَى اَلضَّاحِيَ مِنْ حَرِّ اَلشَّمْسِ فَتُظِلُّهُ، أَوْ تَرَى اَلْمُبْتَلَى بِأَلَمٍ يُمِضُّ جَسَدَهُ فَتَبْكِي رَحْمَةً لَهُ! فَمَا صَبَّرَكَ عَلَى دَائِكَ، وَ جَلَّدَكَ عَلَى مُصَابِكَ(مصائبک) ، وَ عَزَّاكَ عَنِ اَلْبُكَاءِ عَلَى نَفْسِكَ وَ هِيَ أَعَزُّ اَلْأَنْفُسِ عَلَيْكَ! وَ كَيْفَ لاَ يُوقِظُكَ خَوْفُ بَيَاتِ نِقْمَةٍ، وَ قَدْ تَوَرَّطْتَ بِمَعَاصِيهِ مَدَارِجَ سَطَوَاتِهِ!.

فَتَدَاوَ مِنْ دَاءِ اَلْفَتْرَةِ فِي قَلْبِكَ بِعَزِيمَةٍ، وَ مِنْ كَرَى اَلْغَفْلَةِ فِي نَاظِرِكَ بِيَقَظَةٍ، وَ كُنْ لِلَّهِ مُطِيعاً، وَ بِذِكْرِهِ آنِساً. وَ تَمَثَّلْ فِي حَالِ تَوَلِّيكَ عَنْهُ إِقْبَالَهُ عَلَيْكَ، يَدْعُوكَ إِلَى عَفْوِهِ، وَ يَتَغَمَّدُكَ بِفَضْلِهِ، وَ أَنْتَ مُتَوَلٍّ عَنْهُ إِلَى غَيْرِهِ. فَتَعَالَى مِنْ قَوِيٍّ مَا أَكْرَمَهُ(احکمه) ! وَ تَوَاضَعْتَ مِنْ ضَعِيفٍ مَا أَجْرَأَكَ عَلَى مَعْصِيَتِهِ! وَ أَنْتَ فِي كَنَفِ سِتْرِهِ مُقِيمٌ، وَ فِي سَعَةِ فَضْلِهِ مُتَقَلِّبٌ. فَلَمْ يَمْنَعْكَ فَضْلَهُ، وَ لَمْ يَهْتِكْ عَنْكَ سِتْرَهُ، بَلْ لَمْ تَخْلُ مِنْ لُطْفِهِ مَطْرَفَ عَيْنٍ فِي نِعْمَةٍ يُحْدِثُهَا لَكَ، أَوْ سَيِّئَةٍ يَسْتُرُهَا عَلَيْكَ، أَوْ بَلِيَّةٍ يَصْرِفُهَا عَنْكَ. فَمَا ظَنُّكَ بِهِ لَوْ أَطَعْتَهُ! وَ اَيْمُ اَللَّهِ لَوْ أَنَّ هَذِهِ اَلصِّفَةَ كَانَتْ فِي مُتَّفِقَيْنِ فِي اَلْقُوَّةِ، مُتَوَازِيَيْنِ فِي اَلْقُدْرَةِ، لَكُنْتَ أَوَّلَ حَاكِمٍ عَلَى نَفْسِكَ بِذَمِيمِ اَلْأَخْلاَقِ ،وَ مَسَاوِئِ اَلْأَعْمَالِ.

وَ حَقّاً أَقُولُ! مَا اَلدُّنْيَا غَرَّتْكَ، وَ لَكِنْ بِهَا اِغْتَرَرْتَ، وَ لَقَدْ كَاشَفَتْكَ اَلْعِظَاتِ، وَ آذَنَتْكَ عَلَى سَوَاءٍ. وَ لَهِيَ بِمَا تَعِدُكَ مِنْ نُزُولِ اَلْبَلاَءِ بِجِسْمِكَ، وَ اَلنَّقْصِ(النقص) فِي قُوَّتِكَ، أَصْدَقُ وَ أَوْفَى مِنْ أَنْ تَكْذِبَكَ، أَوْ تَغُرَّكَ. وَ لَرُبَّ نَاصِحٍ لَهَا عِنْدَكَ مُتَّهَمٌ وَ صَادِقٍ مِنْ خَبَرِهَا مُكَذَّبٌ. وَ لَئِنْ تَعَرَّفْتَهَا فِي اَلدِّيَارِ اَلْخَاوِيَةِ وَ اَلرُّبُوعِ اَلْخَالِيَةِ، لَتَجِدَنَّهَا مِنْ حُسْنِ تَذْكِيرِكَ، وَ بَلاَغِ مَوْعِظَتِكَ بِمَحَلَّةِ اَلشَّفِيقِ عَلَيْكَ، وَ اَلشَّحِيحِ بِكَ وَ لَنِعْمَ دَارُ مَنْ لَمْ يَرْضَ بِهَا دَاراً، وَ مَحَلُّ مَنْ لَمْ يُوَطِّنْهَا مَحَلاًّ! وَ إِنَّ اَلسُّعَدَاءَ بِالدُّنْيَا غَداً هُمُ اَلْهَارِبُونَ مِنْهَا اَلْيَوْمَ.

إِذَا رَجَفَتِ اَلرَّاجِفَةُ، وَ حَقَّتْ بِجَلاَئِلِهَا اَلْقِيَامَةُ، وَ لَحِقَ بِكُلِّ مَنْسَكٍ أَهْلُهُ وَ بِكُلِّ مَعْبُودٍ عَبَدَتُهُ، وَ بِكُلِّ مُطَاعٍ أَهْلُ طَاعَتِهِ، فَلَمْ يُجْزَ فِي عَدْلِهِ وَ قِسْطِهِ يَوْمَئِذٍ خَرْقُ بَصَرٍ فِي اَلْهَوَاءِ، وَ لاَ هَمْسُ قَدَمٍ فِي اَلْأَرْضِ إِلاَّ بِحَقِّهِ، فَكَمْ حُجَّةٍ يَوْمَ ذَاكَ دَاحِضَةٌ، وَ عَلاَئِقِ عُذْرٍ مُنْقَطِعَةٌ! فَتَحَرَّ مِنْ أَمْرِكَ مَا يَقُومُ بِهِ عُذْرُكَ، وَ تَثْبُتُ بِهِ حُجَّتُكَ وَ خُذْ مَا يَبْقَى لَكَ مِمَّا لاَ تَبْقَى لَهُ؛ وَ تَيَسَّرْ لِسَفَرِكَ؛ وَ شِمْ بَرْقَ اَلنَّجَاةِ؛ وَ اِرْحَلْ مَطَايَا اَلتَّشْمِيرِ.

আল্লাহকে ভুলে থাকা সম্পর্কে

আল্লাহকে ভুলে থাকা সম্বন্ধে আমিরুল মোমেনিন কুরআনের নিম্নের আয়াত তেলাওয়াত করলেনঃ হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্বন্ধে বিভ্রান্ত করলো । (কুরআন - ৮২:৬)

তারপর আমিরুল মোমেনিন বলতে লাগলেনঃ

এ আয়াতে যাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে তাদের কোন যুক্তি থাকতে পারে না এবং তাদের ওজর খুবই প্রতারণাপূর্ণ। তারা নিজেদেরকে অজ্ঞতার মাঝে নিমজ্জিত করে রেখেছে।

হে মানুষ! কিসে তোমাদেরকে এত সাহসী করে তুলেছে যে ,তোমরা পাপে লিপ্ত হও ;কিসে তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রতারণা করেছে ;নিজেদের ধ্বংসে কিসে তোমাদেরকে আনন্দ দান করছে ? তোমাদের রোগের কি কোন চিকিৎসা নেই ? তোমাদেরকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার কি কিছুই নেই ? অন্যদের প্রতি তোমাদের যেরূপ দরদ রয়েছে নিজেদের প্রতি কি তোমাদের সেরূপ দরদ নেই ? সাধারণত কাউকে রৌদ্রতাপে দেখলে তোমরা তাকে ছায়া দ্বারা ঢেকে দাও অথবা কাউকে বেদনাকাতর বা শোকাহত দেখলে তার প্রতি মমত্ববোধের কারণে নিজেরা কেঁদে ফেল। নিজেদের রোগের ব্যাপারে কিসে তোমাদেরকে ধৈর্য্যশীল করেছে ? কিসে তোমাদেরকে নিজেদের দুর্দশায় দৃঢ়চিত্ত করে রাখলো ? তোমার নিজের জীবন তোমার কাছে অন্য যে কোন জীবন হতে মূল্যবান হওয়া সত্ত্বেও কিসে তোমাদেরকে নিজের জীবনের জন্য ক্রন্দনে বারিত করলো ? রাত্রিকালে তোমাদের ওপর মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে - এ ভয়ে কেন তোমরা জাগরিত থাক না ? তোমাদের পাপের কারণে তোমরা আল্লাহর রোষের পথে শুয়ে থাক - এ কথা কি তোমরা বুঝ না ?

তোমাদের হৃদয়ের অসাড়তার রোগ দৃঢ়সংকল্প দ্বারা চিকিৎসা কর এবং গাফলতির নিদ্রা চোখের জাগরণ দ্বারা চিকিৎসা কর। আল্লাহর প্রতি অনুগত হও এবং তার জেকেরকে ভালোবাস। সর্বদা মনে রেখো ,তিনি তোমাদের দিকে এগিয়ে আসেন আর তোমরা দৌড়ে পালিয়ে যাও। তিনি তার ক্ষমার দিকে তোমাদেরকে আহবান করছেন এবং তার পরম দয়ার কারণে তোমাদের অপরাধ গোপন করে রেখেছেন ,আর তোমরা তার দিকে না গিয়ে অন্যদের দিকে দৌড়ে যাচ্ছো। নিশ্চয়ই ,মহিমান্বিত আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও পরম করুণাময়। তোমরা কতই না দুর্বল ও হীনাবস্থা সম্পন্ন ,অথচ তার নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করে এবং তাঁর অসীম দয়ার মধ্যে জীবনের পরিবর্তনসমূহ অতিক্রম করেও কী করে তার অবাধ্য হতে সাহস কর ? তিনি তোমাদের ওপর থেকে তার নিরাপত্তা ও দয়া কখনো সরিয়ে নেন না। বস্তুত তাঁর দয়া ব্যতীত একটি মুহুর্তও তোমরা থাকতে পার না - হতে পারে এটা তার কোন নেয়ামত যা তিনি তোমাদেরকে দান করছেন অথবা কোন পাপ যা তিনি গোপন করে রেখেছেন অথবা কোন দুর্যোগ যা তিনি তোমাদের ওপর থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করতে তাহলে তাঁর সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কেমন হতো ? আল্লাহর কসম ,এ অবস্থা যদি এমন দু ’ ব্যক্তির মধ্যে হতো। যারা ক্ষমতায় ও শক্তিতে সমান (একজন অমনোযোগী ও অপরজন তোমাদের ওপর নেয়ামত বর্ষণ করেই যাচ্ছে) তাহলে তোমরা নিজেরাই তোমাদের অসদাচরণ ও মন্দকাজগুলো সাব্যস্ত করতে পারতে ।

আমি সত্যিকারভাবে বলছি যে ,দুনিয়া তোমাদেরকে প্রতারণা করেনি - তোমরা নিজেরাই এর দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে । দুনিয়া তোমাদের প্রতি পর্দা উন্মোচন করে রেখেছে এবং সবকিছু সমভাবে ফাঁস করে রেখেছে। তাসত্ত্বেও তোমাদের ওপর সংঘটিতব্য বিপদ ও তোমাদের ক্ষমতার ধ্বংসের কথা পূর্বাহ্নেই বলে দেয়া হয়েছে। দুনিয়া তার কথায় অতি সত্যবাদী ,প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বস্ত ,মিথ্যা কথা বলেনি বা তোমাদেরকে প্রতারণাও করেনি। অনেকেই তোমাদেরকে দুনিয়া সম্পর্কে উপদেশ দিয়েছে কিন্তু তোমরা তাদেরকে দোষারোপ করেছে ;অনেকেই দুনিয়া সম্পর্কে তোমাদেরকে সত্য কথা বলেছে কিন্তু তোমরা তাদের বিরোধিতা করেছো। জীর্ণ কুটির ও অবহেলিত বাসস্থান দ্বারা যদি তোমরা দুনিয়াকে বুঝ। তবে তোমাদের বুঝ পরবত ও শিক্ষা গ্রহণের সুদূরপ্রসারী ক্ষমতা দ্বারা দেখতে পাবে যে ,এটা এমন একজনের মতো যে তোমাদের প্রতি দয়াবান ও তোমাদেরকে সতর্ক করে দেয়। যে ব্যক্তি দুনিয়াকে আবাসস্থল হিসাবে পছন্দ করে না তার জন্য এটা উত্তম আবাসস্থল। যে ব্যক্তি দুনিয়াকে বসবাসের স্থায়ী আবাস মনে করে না তার জন্য এটা উত্তম বাসস্থান। যারা আজ দুনিয়া থেকে দৌড়ে পালায় তারাই আগামীকাল দ্বীনদার বলে বিবেচিত হবে।

ভূমিকম্প সংঘটিত হলে ,কেয়ামত এসে পড়লে প্রতিটি ইবাদত স্থানের মানুষ উহার সাথে থাকবে ,প্রত্যেক আসক্ত ব্যক্তি তার আসক্তির বস্তুর সাথে থাকবে এবং প্রত্যেক অনুসারী তার নেতার সাথে থাকবে। সেদিন চোখের প্রতিটি উন্মিলন ও প্রতিটি পদশব্দ আল্লাহর ন্যায় বিচারের মাধ্যমে যতটুকু প্রাপ্য হবে ততটুকু পাবে। সেদিন অনেক যুক্তি ও ওজর নাকচ হয়ে যাবে।

সুতরাং তোমরা এখনই এমন পথ অবলম্বন কর যাতে তোমাদের যুক্তি প্রমাণিত হয় এবং ওজর গৃহীত হয়। এ দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী বস্তু থেকে সেটুকু গ্রহণ কর যেটুকু পরকালে তোমাদের জন্য থাকবে ,তোমাদের যাত্রার রসদ হবে ,মুক্তির উজ্জ্বলতা আনবে এবং তোমাদের দুঃখ উপশমের জন্য প্রস্তুত থাকবে ।