নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 48190
ডাউনলোড: 2249

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 48190 / ডাউনলোড: 2249
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

পত্র - ১৫

و من دعاء لهعليه‌السلام

و كانعليه‌السلام يقول إذَا لَقِىَّ الْعَدُوَّ مُحارباً

اللَّهُمَّ إِلَيْكَ أَفْضَتِ الْقُلُوبُ، وَ مُدَّتِ الْأَعْنَاقُ، وَ شَخَصَتِ الْأَبْصَارُ، وَ نُقِلَتِ الْأَقْدَامُ، وَ أُنْضِيَتِ الْأَبْدَانُ. اللَّهُمَّ قَدْ صَرَّحَ مَكْنُونُ الشَّنَآنِ، وَ جَاشَتْ مَرَاجِلُ الْأَضْغَانِ. اللَّهُمَّ إِنَّا نَشْكُو إِلَيْكَ غَيْبَةَ نَبِيِّنَا، وَ كَثْرَةَ عَدُوِّنَا، وَ تَشَتُّتَ أَهْوَائِنَا:( رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنا وَ بَيْنَ قَوْمِنا بِالْحَقِّ وَ أَنْتَ خَيْرُ الْفاتِحِينَ ) .

শত্রুর মোকাবেলা করার পূর্বে আমিরুল মোমেনিন এ প্রার্থনা করতেন

হে আমার আল্লাহ ,তোমার দিকেই হৃদয়ের টান পড়ছে ;তোমার প্রতি মস্তক অবনত হচ্ছে ;তোমার দিকেই চক্ষু স্থির ,তোমার দিকেই পদচারণা চলছে এবং দেহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। হে আমার আল্লাহ ,গোপন শক্রতা প্রকাশ হয়ে পড়েছে এবং বিদ্বেষের পাত্র উত্তপ্ত হচ্ছে।

হে আমার আল্লাহ ,আজ আমাদের রাসূল নেই ,তোমার কাছেই ফরিয়াদ জানাই ,আমাদের শত্রু সংখ্যা অগণন এবং দুঃখ দ্বারা আমরা পরিব্যপ্ত।

হে প্রভু ,আমাদের ও আমাদের জনগণের মধ্যে তুমি সত্যের ফয়সালা করে দাও । তুমিই তো সর্বোত্তম ফয়সালাকারী (কুরআন - ৭৪৮৯) ।

পত্র - ১৬

و كان يقولعليه‌السلام

لا صْحابِهِ عِنْدَ الْحَرْبِ

لاَ تَشْتَدَّنَّ عَلَيْكُمْ فَرَّةٌ بَعْدَهَا كَرَّةٌ، وَ لاَ جَوْلَةٌ بَعْدَهَا حَمْلَةٌ، وَ أَعْطُوا السُّيُوفَ حُقُوقَهَا، وَ وَطِّنُوا لِلْجُنُوبِ مَصَارِعَهَا، وَاذْمُرُوا أَنْفُسَكُمْ عَلَى الطَّعْنِ الدَّعْسِيِّ، وَالضَّرْبِ الطِّلَحْفِي، وَ أَمِيتُوا الْأَصْوَاتَ فَإِنَّهُ أَطْرَدُ لِلْفَشَلِ. فَوَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَ بَرَأَ النَّسَمَةَ مَا أَسْلَمُوا، وَ لَكِنِ اسْتَسْلَمُوا، وَ أَسَرُّوا الْكُفْرَ، فَلَمَّا وَجَدُوا أَعْوَانا عَلَيْهِ أَظْهَرُوهُ.

যুদ্ধের সময় অনুচরদেরকে এ নির্দেশ দিতেন

ফিরে আসার উদ্দেশ্যে পশ্চাদপসারণ এবং আক্রমণের উদ্দেশ্যে পিছিয়ে যাওয়া তোমাদেরকে যেন বিচলিত না করে। তোমাদের তরবারির প্রতি ন্যায় বিচার করো। (অর্থাৎ তোমাদের তরবারিকে তার কর্তব্য পালন করতে দিয়ো) । শক্রর দেহ পতিত হবার জন্য একটা স্থান প্রস্তুত রেখো ;সজোরে বর্শা নিক্ষেপ ও পূর্ণ শক্তি দিয়ে তরবারি পরিচালনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখো। তোমাদের স্বর নিচু রেখো তাতে কাপুরুষতা স্পর্শ করতে পারবে না।

তাঁর কসম যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন ও প্রাণীকুল সৃষ্টি করেছেন ,তারা কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি ;তারা মৌখিকভাবে ইসলাম গ্রহণের কথা বলে নিরাপত্তা অর্জন করেছিলো এবং তাদের ফেতনা - ফ্যাসাদ সৃষ্টির স্বভাব গোপন করেছিলো। ফলে যখন তাদের ফেতনার সহযোগী পেয়ে গেল অমনি তারা তা প্রকাশ করেছিলো ।

পত্র - ১৭

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى مُعاوِيَةَ جَوابا عَنْ كِتابٍ مِنْهُ إلَيْهِ

وَ أَمَّا طَلَبُكَ إِلَيَّ الشَّامِ، فَإِنِّي لَمْ أَكُنْ لَأُعْطِيَكَ الْيَوْمَ مَا مَنَعْتُكَ أَمْسِ. وَ أَمَّا قَوْلُكَ: إِنَّ الْحَرْبَ قَدْ أَكَلْتِ الْعَرَبَ إِلا حُشَاشَاتِ أَنْفُسٍ بَقِيَتْ أَلاَ وَ مَنْ أَكَلَهُ الْحَقُّ فَإِلَى الْجَنَّةِ، وَ مَنْ أَكَلَهُ الْبَاطِلُ فَإِلَى النَّارِ. وَ أَمَّا اسْتِوَاؤُنَا فِي الْحَرْبِ وَالرِّجَالِ فَلَسْتَ بِأَمْضَى عَلَى الشَّكِّ مِنِّي عَلَى الْيَقِينِ، وَ لَيْسَ أَهْلُ الشَّامِ بِأَحْرَصَ عَلَى الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ عَلَى الْآخِرَةِ.

خصائص اهل البیتعليهم‌السلام

وَ أَمَّا قَوْلُكَ: إِنَّا بَنُو عَبْدِ مَنَافٍ، فَكَذَلِكَ نَحْنُ، وَ لَكِنْ لَيْسَ أُمَيَّةُ كَهَاشِمٍ، وَ لاَ حَرْبٌ كَعَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَ لاَ أَبُو سُفْيَانَ كَأَبِي طَالِبٍ، وَ لاَ الْمُهَاجِرُ كَالطَّلِيقِ وَ لاَ الصَّرِيحُ كَاللَّصِيقِ، وَ لاَ الْمُحِقُّ كَالْمُبْطِلِ، وَ لاَ الْمُؤْمِنُ كَالْمُدْغِلِ. وَ لَبِئْسَ الْخَلْفُ خَلْفٌ يَتْبَعُ سَلَفا هَوَى فِي نَارِ جَهَنَّمَ. وَ فِي أَيْدِينَا بَعْدُ فَضْلُ النُّبُوَّةِ الَّتِي أَذْلَلْنَا بِهَا الْعَزِيزَ، وَ نَعَشْنَا بِهَا الذَّلِيلَ. وَ لَمَّا أَدْخَلَ اللَّهُ الْعَرَبَ فِي دِينِهِ أَفْوَاجاً، وَ أَسْلَمَتْ لَهُ هَذِهِ الْأُمَّةُ طَوْعاً وَ كَرْهاً، كُنْتُمْ مِمَّنْ دَخَلَ فِي الدِّينِ: إِمَّا رَغْبَةً وَ إِمَّا رَهْبَةً عَلَى حِينَ فَازَ أَهْلُ السَّبْقِ بِسَبْقِهِمْ وَ ذَهَبَ الْمُهَاجِرُونَ الْأَوَّلُونَ بِفَضْلِهِمْ، فَلاَ تَجْعَلَنَّ لِلشَّيْطَانِ فِيكَ نَصِيباً، وَ لاَ عَلَى نَفْسِكَ سَبِيلاً، وَالسَّلاَمُ.

মুয়াবিয়ার একটি পত্রের প্রত্যুত্তর

তোমার পত্রে তুমি আমার কাছে দাবী করেছো। আমি যেন সিরিয়া তোমার কাছে হস্তান্তর করি। এ বিষয়ে তোমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি যে ,আমি গতকাল যা অস্বীকার করেছি আজ তা স্বীকার করে তোমাকে দিতে পারি না। তুমি বলেছ যুদ্ধ সমগ্র আরবকে গ্রাস করে ফেলেছে ,এখন শুধু শেষ নিশ্বাসটুকু বাকি আছে। এ বিষয়ে জেনে রাখো ,সত্য ও ন্যায় যাকে গ্রাস করে সে বেহেশতে স্থান লাভ করে ;আর অন্যায় ও ফেতনা যাকে গ্রাস করে সে দোযখের স্থায়ী বাসিন্দা। যুদ্ধ কৌশল ও জনবলে আমার সমকক্ষতার কথা তুমি বলেছ। এ বিষয়ে তুমি জেনে রাখো ,ইমানে সংশয় ঢোকাতে তুমি যতটুকু পারঙ্গম ;নিশ্চয়ই আমি ইমানে তার চেয়ে বেশি দৃঢ় এবং ইরাকের জনগণ পরকালের জন্য যতটুকু লোভাতুর ,সিরিয়ার জনগণ ইহকালের জন্য তার চেয়ে বেশি লোভাতুর নয়।

আহলে বাইতের বৈশিষ্ট্য

তুমি লিখেছ যে ,আমরা উভয়েই আবদ মনাফের বংশধর। তোমার একথা নিঃসন্দেহে সত্য। কিন্তু উমাইয়া কোন ক্রমেই হাশিমের সমতুল্য নয় ;হারব কোন দিক দিয়েই আবদুল মুত্তালিবের সমতুল্য নয় এবং আবু সুফিয়ান কখনো আবু তালিবের সমতুল্য নয়। সাধারণ ক্ষমাপ্রাপ্তগণ (মক্কা বিজয়ের পর) কোন অবস্থাতেই মুহাজিরগণের সমতুল্য হতে পারে না। একজন দত্তকপুত্র (পালিতপুত্র) কখনো একজন বিশুদ্ধ বংশধরের সমতুল্য হতে পারে না। কোন বিপদগামী একজন সত্যের অনুসারীর সমতুল্য হতে পারে না এবং কোন মোনাফিক ইমানদারের সমতুল্য হতে পারে না । যারা দোযখে নিক্ষিপ্ত হয়েছে তাদের অনুসরণকারী উত্তরসূরীগণ কতই না মন্দ উত্তরাধিকারী।

এছাড়াও আমাদের বংশ নবুয়তের বৈশিষ্ট্য মন্ডিত এবং এ বৈশিষ্ট্য বলে আমরা পরাক্রান্তগণকে পরাভূত করেছি ও পদদলিতগণকে ওপরে তুলে এনেছি। যখন মহিমান্বিত আল্লাহ্ আরবকে তাঁর দ্বীনের জন্য নির্বাচিত করলেন এবং মানুষ ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তাতে আত্মসমর্পণ করেছিলো তখন তুমি তাদেরই একজন ছিলে যারা লোভে অথবা ভয়ে দ্বীনে প্রবেশ করেছিলো। তুমি এমন এক সময়ে দ্বীনে প্রবেশ করেছো যখন তোমার পূর্ববর্তীগণ অনেক এগিয়ে গেছে এবং মুহাজিরগণ একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য অর্জন করে ফেলেছে।

এখন তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি ,শয়তানকে তোমার অংশীদার হতে দিয়ো না এবং তোমার নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করার সুযোগ তাকে দিয়ে না। এখানেই বিষয়টি শেষ করলাম।

____________________

১। সিফফিনের যুদ্ধ চলাকালে আমিরুল মোমেনিনের কাছে সিরিয়া প্রদেশ দাবী করার জন্য মুয়াবিয়া পুনরায় মনস্থ করলো। তার এ দাবী ছিল একটা ছল - চাতুরির কৌশল মাত্র। বিষয়টি আমর ইবনে আসের সাথে আলোচনা করলে সে মুয়াবিয়ার সাথে দ্বীমত পোষণ করে বললো , হে মুয়াবিয়া ,একটু চিন্তা করুন ,আপনার এ লেখা আলীর ওপর কোন প্রভাব ফেলবে কি ? সে কখনো আপনার এ ফাঁদে পড়বে না। ” একথা শুনে মুয়াবিয়া বললো , আমরা উভয়েই আবদ মনাফের বংশধর। আলী ও আমার মধ্যে এমন কী ব্যবধান আছে যা আলীকে আমার চেয়ে বেশি বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছে এবং আমি তাকে প্রতারিত করতে ব্যর্থ হবো ? আমর ইবনে আস বললো , যদি আপনি তাই মনে করেন। তবে লেখুন এবং দেখুন কী ফলাফল হয়। ” ফলে মুয়াবিয়া সিরিয়া প্রদেশ দাবী করে আমিরুল মোমেনিনকে এক পত্র দিয়েছিল। তার পত্রে সে একথাও লিখেছিলো , আমরা উভয়ই আবদ মনাফের বংশধর। কাজেই আমাদের একের ওপর অপরের কোন বৈশিষ্ট্য নেই। ” মুয়াবিয়ার পত্রের জবাবে আমিরুল মোমেনিন এ পত্র লিখেন এবং এতে তাঁর নিজের পূর্বপুরুষদের সাথে মুয়াবিয়ার পূর্বপুরুষের তুলনা করে তাঁর সাথে মুয়াবিয়ার সমতা অস্বীকার করেন। তারা উভয়ে আবদ মনাফের বংশধারার হলেও আবদ শামসের বংশধরগণ ছিল। চরিত্রহীন ,পাপী ,নৈতিকতা বিবর্জিত ,ধর্মত্যাগী ও মূর্তিপূজক। অপর দিকে হাশিম ছিলেন এক ইলাহর উপাসক এবং তিনি কখনো মূর্তিপূজা করতেন না।

একই গাছের বিভিন্ন শাখায় যদি একই ফুল ,ফল ও কাটা থাকে। তবেই তার সব শাখা সমান বলে মনে করা যায়। শাখা গুলোতে বিভিন্ন ফল ও ফুল হলে একে অন্যের সমতুল্য বলা যায় না। কাজেই সকল ঐতিহাসিক ও জীবনীলেখক এ বিষয়ে একমত যে ,উমাইয়া ও হাশিম ,হারব ও আবদুল মুত্তালিব এবং আবু সুফিয়ান ও আবু তালিব কোন দিক থেকেই একে অন্যের সমতুল্য ছিল না। এ পত্র লেখার পর মুয়াবিয়াও এ বিষয়ে কোন মতদ্বৈধতা করেনি। কারণ এটা সুস্পষ্ট ইতিহাস যে ,আবদ মনাফের পর হাশিমই কুরাইশদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। কাবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। এ পদ দুটি হলো - মিকায়াহ ' (হাজিদের পানি সরবরাহের তত্ত্বাবধায়ন) ও "রিফাদাহ (হাজিদের থাকা - খাবার ব্যবস্থাপনা) । ফলে হজ্জের সময় দলে দলে লোক তার কাছে এসে থাকতো। তিনি এত অতিথিপরায়ণ ও উদার ছিলেন যে লোকেরা চলে যাবার পরও অনেক দিন ধরে তার প্রশংসা করতো। তার সুযোগ্য পুত্র হলো আবদুল মুত্তালিব যার নাম ছিল শায়বাহ এবং পরিচিতি ছিল সায়্যেদুল বাছা। ” (মক্কা উপত্যকার প্রধান) । আবদুল মুত্তালিবের পুত্র আবু তালিবের কোলেই রাসূল (সা.) লালিত পালিত হয়েছিলেন এবং নবুয়ত প্রকাশের পর তাঁর শত্রুর বিরুদ্ধে বর্মের মতো ছিলেন।

বংশ মর্যাদার ব্যবধান বর্ণনার পর আমিরুল মোমেনিন তাঁর বৈশিষ্ট্যের দ্বিতীয় পয়েন্ট উল্লেখ করে বলেন যে ,তিনি একজন মুহাজির। অপরপক্ষে মুয়াবিয়া হলো তালিক ' (মক্কা বিজয়ের পর যারা সাধারণ ক্ষমা পেয়েছিল) । রাসূল (সা.) যখন বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন তিনি কুরাইশগণকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে ,তারা কিরূপ ব্যবহার পেতে চায়। তখন তারা এক বাক্যে বলেছিল যে ,তারা মহৎ পিতার মহৎ পুত্রের কাছে কল্যাণ ছাড়া আর কিছু আশা করে না। এতে রাসূল (সা.) বললেন , যাও ,তোমাদের সকলকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। ” মুয়াবিয়া ও আবু সুফিয়ান এ সাধারণ ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত ছিল (হাদীদ ,১৭ শ খণ্ড ,পৃঃ ১১৯ ;আবদুহ ,৩য় খণ্ড ,১৭)

আমিরুল মোমেনিন তাঁর বৈশিষ্ট্যের তৃতীয় পয়েন্টে উল্লেখ করেন যে ,তাঁর বংশধারা সঠিক ও স্পষ্ট এবং এতে কোন স্তরে সন্দেহের অবকাশ নেই। অপরপক্ষে মুয়াবিয়ার বংশধারায় লাসিক ’ (দত্তক বা পালিত বা পিতৃ পরিচয়হীন) রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উমাইয়া আবদে শামসের বাইজেনটাইন কৃতদাস ছিল। আবদে শামস তার বুদ্ধিমত্তা দেখে তাকে মুক্ত করে দিয়ে দত্তক হিসাবে গ্রহণ করে। এতে সে নিজেকে উমাইয়া ইবনে আবদে শামস পরিচয় দিতে থাকে (মজলিসী ,৮ম খণ্ড ,পৃঃ ৩৮৩) । তদুপরি হারবও উমাইয়ার পুত্র নয় - পালিত ক্রীতদাস। এ বিষয়ে হাদীদ ও ইস্পাহানী লিখেছেন ;

বংশধারা বিশেষজ্ঞ জাফাল ইবনে হানজালাকে মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করেছিল। সে আবদুল মৃত্তালিবকে দেখেছিল কিনা । সে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করলো আবদুল মুত্তালিব দেখতে কেমন ছিল । জাফাল উত্তরে বললো যে ,আবদুল মুত্তালিব অত্যক্ত সুন্দর ,সুপুরুষ ও সন্মানী লোক ছিলেন । তাঁর প্রশস্ত কপাল ও উজ্জ্বল মুখ মণ্ডলের কমনীয়তা মনোহর ছিল । তারপর মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করেছিল যে ,সে আবদে শামসকে দেখেছে কিনা | সে হ্যাঁ সুচক উত্তর দিল । মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করলো যে ,সে দেখতে কেমন ছিল । জাফল বললো যে ,সে দুর্বল ও বাঁকা দেহের অন্ধ ছিল যাকে তার ক্রীতদাস জাকওয়ান এখানে সেখানে ধরে ধরে নিয়ে যেত। মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করলো যে ,আবু আমার (হারবি) কি তার পুত্র ছিল ? জাফল বললো যে ,তোমরা তা বললেও কুরাইশগণ ভালোভাবে জানে হারব তার ক্রীতদাস ছিল । (হাদীদ ,১৭শ খণ্ড ,পৃঃ ২৩১ - ২৩২ ইসপাহানী ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ১২) ।

(আবদে মনাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ছিলেন কাবার তত্বাবধায়ক । তার পুত্র আবদে শামসের পুত্র উমাইয়া এবং হাশিমের পুত্র আবদুল মৃত্তালিব । এ উমাইয়া বংশেই মুয়াবিয়া এবং হাশিম বংশে আমিরুল মোমেনিন জন্মগ্রহণ করেন । আবদে মনাফের পর থেকে মক্কা ও কাবার নেতৃত্ব ছিল হাশিম বংশের । এজন্য উমাইয়াগণ সর্বদা হাশিমিদের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ ছিল । উমাইয়াগণ এ বিদ্বেষের ফলে হাশিমিদের বিরুদ্ধে কয়েকবার যুদ্ধও করেছিল । হাশিমের হাতে উমাইয়া পরাজিত হয়ে মক্কা থেকে বহিস্কৃত হয়েছিল । উমাইয়ার পুত্র হারব এবং তার পুত্র আবু সুফিয়ান ছিল রাসূলের (সা.) ঘোরতর শক্র । বংশগত শত্রুতার জের হিসাবে রাসূলের (সা.) সকল দুঃখ - কষ্টের মূল কারণ ছিল উমাইয়াগণ । রাসূলের পরেও হাশিমী বংশের সাথে উমাইয়া বংশ বিদ্বেষ ও শক্রতা পোষণ করতো এবং উমাইয়্যাগণ চিরদিন হাশিম বংশকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল । যার ফলশ্রুতিই হলো সিফাফিন ও কারাবালা । উমাইয়াগণ চিরকালই অন্যায় ,অসত্য ও অধার্মিকতার ভূমিকা পালন করেছে। পক্ষাত্তরে হাশিমগণ বংশ মর্যাদা ও ঐতিহ্য গৌরব নিয়ে ধর্মীয় নেতৃত্ব প্রদান করেছে এবং সত্য ও ন্যায়ের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত ছিল ;সাকী ,দৈনিক ইনকিলাম ,১২ই জুলাই ,১৯৯২ - বাংলা অনুবাদক)

পত্র - ১৮

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى عَبْدِاللّهِ بْنِ عَبَاسٍ وَ هُوَ عامِلُهُ عَلَى الْبَصْرَةِ

وَاعْلَمْ أَنَّ الْبَصْرَةَ مَهْبِطُ إِبْلِيسَ، وَ مَغْرِسُ الْفِتَنِ، فَحَادِثْ أَهْلَهَا بِالْإِحْسَانِ إِلَيْهِمْ، وَاحْلُلْ عُقْدَةَ الْخَوْفِ عَنْ قُلُوبِهِمْ. وَ قَدْ بَلَغَنِي تَنَمُّرُكَ لِبَنِي تَمِيمٍ، وَ غِلْظَتُكَ عَلَيْهِمْ، وَ إِنَّ بَنِي تَمِيمٍ لَمْ يَغِبْ لَهُمْ نَجْمٌ إِلا طَلَعَ لَهُمْ آخَرُ، وَ إِنَّهُمْ لَمْ يُسْبَقُوا بِوَغْمٍ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَ لاَ إِسْلاَمٍ، وَ إِنَّ لَهُمْ بِنَا رَحِما مَاسَّةً، وَ قَرَابَةً خَاصَّةً، نَحْنُ مَأْجُورُونَ عَلَى صِلَتِهَا، وَ مَأْزُورُونَ عَلَى قَطِيعَتِهَا. فَارْبَعْ أَبَا الْعَبَّاسِ، رَحِمَكَ اللَّهُ، فِيمَا جَرَى عَلَى لِسَانِكَ وَ يَدِكَ مِنْ خَيْرٍ وَ شَرِّ! فَإِنَّا شَرِيكَانِ فِي ذَلِكَ، وَ كُنْ عِنْدَ صَالِحِ ظَنِّي بِكَ، وَ لاَ يَفِيلَنَّ رَأْيِي فِيكَ، وَالسَّلاَمُ.

বসরার গভর্ণর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের প্রতি

জেনে রাখো ,বসরা এমন এক স্থান যেখানে শয়তান অবতরণ করে ও ফেতনা সংঘটিত হয়। সেখানকার জনগণকে ভালো ব্যবহার দ্বারা খুশি রেখো এবং তাদের মন থেকে ভয়ের গ্রন্থি খুলে ফেলো। আমি জানতে পেরেছি তুমি বনি তামিমের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ কর এবং তাদের সাথে রূঢ় ব্যবহার কর । বনি তামিম এমন গোত্র যাদের জন্য একটা তারকা অস্ত গেলে অন্য একটা উদিত হয়। তারা প্রাক ইসলামি বা ইসলামোত্তর কোন যুদ্ধে কখনো সীমাতিক্রম করেনি। আমাদের সাথে তাদের বিশেষ জ্ঞাতিত্ব ও আত্মীয়তা আছে। যদি আমরা জ্ঞাতিত্বের মর্যাদা রক্ষা করি তবে আমরা পুরস্কৃত হবো এবং জ্ঞাতিত্বকে অস্বীকার করলে পাপী হিসাবে বিবেচিত হবো। হে আবুল আব্বাস তোমার ওপর আল্লাহর করুণা বর্ষিত হোক ;জনগণ সম্বন্ধে ভালো মন্দ কোন কিছু করা বা বলা থেকে নিজেকে বিরত রেখো। কারণ আমি ও তুমি উভয়ে এ দায়িত্বের অংশীদার। তোমার সম্পর্কে আমার যে ভালো ধারণা রয়েছে তা প্রমাণ কর এবং আমার সে ধারণাকে ভুল বলে প্রমাণ করো না। এখানেই শেষ করলাম।

____________________

১। তালহা ও জুবায়ের বসরা পৌছলে বনি তামিম উসমানের রক্তের বদলা নেয়ার ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং ফেতনা ছড়ানোর কাজে তারা অগ্রণী ছিল। সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বসরার গভর্ণর হবার পর তাদের শক্রতার কারণে তাদের প্রতি রূঢ় ব্যবহার করতে লাগলেন ;কারণ তিনি মনে করতেন তারা রূঢ় ব্যবহার পাবার যোগ্য। কিন্তু এ গোত্রে আমিরাল মোমেনিনের কয়েকজন অনুসারী ছিল। তারা জারিয়া ইবনে কাদামার মাধ্যমে পত্র পাঠিয়ে ইবনে আব্বাসের রূঢ় আচরণের কথা আমিরুল মোমেনিনকে জানালেন। ফলে আমিরুল মোমেনিন এ পত্রে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করার জন্য ইবনে আব্বাসকে নির্দেশ দিলেন। বনি হাশিম ও বনি তামিমের জ্ঞাতিত্বের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। সে জ্ঞাতিত্ব হলো ইলিয়াস ইবনে মুদারের বংশধারা। হাশিম ছিলেন মুদ্রিকাহ ইবনে ইলিয়াসের বংশধর এবং তামিম ছিল তাবিখাহ ইবনে ইলিয়াসের বংশধর ।

পত্র - ১৯

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى بَعْضِ عُمّالِهِ

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ دَهَاقِينَ أَهْلِ بَلَدِكَ شَكَوْا مِنْكَ غِلْظَةً وَ قَسْوَةً، وَاحْتِقَارا وَ جَفْوَةً وَ نَظَرْتُ فَلَمْ أَرَهُمْ أَهْلاً لِأَنْ يُدْنَوْا لِشِرْكِهِمْ، وَ لاَ أَنْ يُقْصَوْا وَ يُجْفَوْا لِعَهْدِهِمْ، فَالْبَسْ لَهُمْ جِلْبَابا مِنَ اللِّينِ تَشُوبُهُ بِطَرَفٍ مِنَ الشِّدَّةِ، وَ دَاوِلْ لَهُمْ بَيْنَ الْقَسْوَةِ وَالرَّأْفَةِ، وَامْزُجْ لَهُمْ بَيْنَ التَّقْرِيبِ وَالْإِدْنَأِ وَالْإِبْعَادِ وَالْإِقْصَاءِ. إِنْ شَأَ اللَّهُ.

আমিরুল মোমেনিনের একজন অফিসারের প্রতি

তোমার নগরীর কৃষকগণ অভিযোগ করেছে যে ,তুমি তাদের প্রতি অবমাননাকর ও রূঢ় ব্যবহার কর। তুমি তাদের প্রতি কঠোর ও দয়ামায়াহীন হৃদয়ের আচরণ কর। এ বিষয়ে আমি চিন্তা করেছি। তাদের সাথে অঙ্গীকারের কারণে অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না। আবার কাছেও আনা যাবে না এবং কঠোর ব্যবহারও করা যাবে না। তাদের সাথে কঠোরতা ও নমতার মাঝামাঝি আচরণ করো এবং তাদের জন্য মিশ্র মনোভাব গ্রহণ করো অথবা নৈকট্য ও অন্তরঙ্গতার সাথে দূরত্ব রক্ষা করো।

পত্র - ২০

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى زِيادِ بْنِ أَبِيهِ وَ هُوَ خَلِيفَةُ عامِلِهِ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَبَاسٍ عَلَى الْبَصْرَة

وَ إِنِّي أُقْسِمُ بِاللَّهِ قَسَماً صَادِقاً، لَئِنْ بَلَغَنِي أَنَّكَ خُنْتَ مِنْ فَيْءِ الْمُسْلِمِينَ شَيْئا صَغِيرا أَوْ كَبِيراً، لَأَشُدَّنَّ عَلَيْكَ شَدَّةً تَدَعُكَ قَلِيلَ الْوَفْرِ، ثَقِيلَ الظَّهْرِ، ضَئِيلَ الْأَمْر،ِ وَالسَّلاَمُ.

বসরার গভর্ণর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের ডেপুটি জিয়াদ ইবনে আবিহর প্রতি

আমি সত্যিকারভাবে আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি ,যদি আমি জানতে পারি যে ,তুমি মুসলিমদের তহবিল কী অল্প কী বেশি আত্মসাৎ করেছো ,আমি তোমাকে এমন শাস্তি দেব যাতে তুমি খালি হাতে ,বোঝার ভারে নুজ হয়ে গ্লানিকরভাবে এ পৃথিবী ত্যাগ করে যাবে এবং এখানেই বিষয়টি শেষ ।

পত্র - ২১

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلَي زیاد أَيضا

فَدَعِ الْإِسْرَافَ مُقْتَصِداً، وَاذْكُرْ فِي الْيَوْمِ غَداً، وَ أَمْسِكْ مِنَ الْمَالِ بِقَدْرِ ضَرُورَتِكَ، وَ قَدِّمِ الْفَضْلَ لِيَوْمِ حَاجَتِكَ، أَتَرْجُو أَنْ يُعْطِيَكَ (یؤتیک) اللَّهُ أَجْرَ الْمُتَوَاضِعِينَ وَ أَنْتَ عِنْدَهُ مِنَ الْمُتَكَبِّرِينَ! وَ تَطْمَعُ - وَ أَنْتَ مُتَمَرِّغٌ فِي النَّعِيمِ تَمْنَعُهُ الضَّعِيفَ وَالْأَرْمَلَةَ - أَنْ يُوجِبَ لَكَ ثَوَابَ الْمُتَصَدِّقِينَ؟ وَ إِنَّمَا الْمَرْءُ مَجْزِيُّ بِمَا سَلَفَ وَ قَادِمٌ عَلَى مَا قَدَّمَ، وَالسَّلاَمُ.

জিয়াদের প্রতি

তোমার অমিতব্যয়িতা পরিহার করো এবং মাত্রা বজায় রেখো। প্রতিদিন পরবর্তী দিনকে স্মরণ করো। তোমার প্রয়োজনীয় অর্থ তহবিল থেকে রেখে দিয়ো এবং অবশিষ্ট অর্থ ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য পাঠিয়ে দিয়ো। তুমি কি আশা কর আল্লাহ তোমাকে নিরহংকারদের পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন যখন তুমি নিজেই তাঁর উদ্দেশ্য থেকে অকার্যকর হয়ে থাক ? তুমি কি আশা কর আল্লাহ তোমাকে সাদকা প্রদানকারীদের পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন যদিও তুমি নিজে জাকজমকে ও আরাম - আয়েশে থেকে দুঃস্থ ও বিধবাদের প্রতি কোন খেয়াল রাখো না ? নিশ্চয়ই ,প্রত্যেক মানুষ তার আমল অনুযায়ী পুরস্কৃত হবে এবং পূর্বে যা প্রেরণ করে তাই সে পাবে। বিষয়টি এখানে শেষ করলাম।

পত্র - ২২

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى عَبْدِ اللّهِ بْنِ الْعَبَاسِ

أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ الْمَرْءَ قَدْ يَسُرُّهُ دَرْكُ مَا لَمْ يَكُنْ لِيَفُوتَهُ، وَ يَسُوؤُهُ فَوْتُ مَا لَمْ يَكُنْ لِيُدْرِكَهُ فَلْيَكُنْ سُرُورُكَ بِمَا نِلْتَ مِنْ آخِرَتِكَ، وَلْيَكُنْ أَسَفُكَ عَلَى مَا فَاتَكَ مِنْهَا، وَ مَا نِلْتَ مِنْ دُنْيَاكَ فَلاَ تُكْثِرْ بِهِ فَرَحاً، وَ مَا فَاتَكَ مِنْهَا فَلاَ تَأْسَ عَلَيْهِ جَزَعاً، وَ لْيَكُنْ هَمُّكَ فِيمَا بَعْدَ الْمَوْتِ.

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের প্রতি

তোমাকে জানানো দরকার যে ,কোন কোন সময় মানুষ একটা জিনিস সংগ্রহ করে আনন্দিত হয় যা সে মোটেই হারাতে চায় না এবং কোন জিনিস হারিয়ে দুঃখ পায় যা সে আর কোন উপায়ে পাবে না। পরকালের জন্য যা সংগ্রহ করতে পার তার জন্য তোমার আনন্দ পাওয়া উচিত এবং পরকালের যা হারিয়ে ফেলছো সেজন্য দুঃখ পাওয়া উচিত। এ দুনিয়া থেকে যা সংগ্রহ কর সে জন্য খুশি হবার কিছু নেই এবং এ দুনিয়াতে যা হারাচ্ছো সে জন্যও দুঃখ পাবার তেমন কিছু নেই। মুত্যুর পর যা ঘটবে তাতে উদ্বীগ্ন হওয়া দরকার।

___________________

১ । আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস প্রায়শই বলত , রাসূলের বাণী বাদ দিলে এ কথা ছাড়া অন্য কোন কথায় আমি এত বেশি উপকার পাইনি।

পত্র - ২৩

و من كلام لهعليه‌السلام

قالَهُ قُبَيْلَ مَوْتِهِ عَلى سَبِيلِ الْوَصيَّةِ لَمَا ضَرَبَهُ ابْنُ مُلْجَمٍ لَعَنَهُ اللّهُ:

وَصِيَّتِي لَكُمْ: أَنْ لا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئاً: وَمُحَمَّدٌصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَلا تُضَيِّعُوا سُنَّتَهُ، أَقِيمُوا هذَيْنِ الْعَمُودَيْنِ، وَ أَوْقِدُوا هَذَيْنِ الْمِصْباحَيْنِ، وَ خَلاكُمْ ذَمُّ! أَنا بِالْأَمْسِ صاحِبُكُمْ، وَالْيَوْمَ عِبْرَةٌ لَكُمْ، وَ غَدا مُفارِقُكُمْ. إِنْ أَبْقَ فَأَنَا وَلِيُّ دَمِي، وَ إِنْ أَفْنَ فَالْفَنأُ مِيعادِي، وَ إِنْ أَعْفُ فَالْعَفْوُ لِي قُرْبَةٌ، وَ هُوَ لَكُمْ حَسَنَةٌ، فَاعْفُوا:( أَلا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللّهُ لَكُمْ ) . وَاللَّهِ ما فَجَأَنِي مِنَ الْمَوْتِ وارِدٌ كَرِهْتُهُ، وَ لا طالِعٌ أَنْكَرْتُهُ، وَ ما كُنْتُ إِلا كَقارِبٍ وَرَدَ، وَ طالِبٍ وَجَدَ.( وَ ما عِنْدَ اللّهِ خَيْرٌ لِلْأَبْرارِ ) .

ইবনে মুলজাম কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হবার পর মৃত্যুশয্যায় নির্দেশনামা

উইল

আমি তোমাদেরকে আমার মৃত্যুশয্যার ইচ্ছা হিসাবে নির্দেশ দিচ্ছি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না। মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। এ দুটি স্তম্ভ প্রতিষ্ঠিত করো এবং এ দুটি প্রদীপ জ্বেলে রেখো। এতে তোমরা পাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। গতকাল আমি তোমাদের সাথী ছিলাম। আজ আমি তোমাদের জন্য শিক্ষা এবং আগামীকাল তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি। যদি আমি বেঁচে থাকি তবে আমার রক্তের বদলা নেয়া বা না - নেয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র আমার এখতিয়ারভুক্ত। যদি আমি মরে যাই তবে মনে রেখো ,মৃত্যু অবধারিত ঘটনা। যদি আমি ক্ষমা করি তবে তা হবে আমার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটা উপায় এবং তোমাদের জন্য সৎ আমল। সুতরাং ক্ষমা করে দিয়ে। তোমরা কি চাও না যে ,আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন"(কুরআন - ২৪:২২) ।

আল্লাহর কসম ,এমন আকস্মিক মৃত্যুকে আমি কখনো অপছন্দ করিনি। অথবা এমন দুর্ঘটনাকে আমি ঘৃণা করি না। আমি একজন রাত্রিকালীন ভ্রমণকারীর মতো যে ভোরে ঝরনার কাছে পৌছেছে অথবা এমন একজন অনুসন্ধানকারীর মতো ,যে তার লক্ষ্য অর্জন করেছে। আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। ” (কুরআন - ৩: ১৯৮)

__________________

১। আবদুর রহমান ইবনে মুলজামের (তার ওপর আল্লাহর লানত) তরবারির আঘাত প্রাপ্ত হাবার পর মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে এ উইল ব্যক্ত করেছিলেন।

পত্র - ২৪

و من وصية لهعليه‌السلام

بِما يُعْمَلْ فِي أَمْوالِهِ كَتَبَها بَعْدَ مُنْصَرفِهِ مِنْ صِفَّينَ:

هذا ما أَمَرَ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طالِبٍ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي مالِهِ ابْتِغَأَ وَجْهِ اللَّهِ لِيُولِجَهُ بِهِ الْجَنَّةَ، وَ يُعْطِيَنِى بِهِ الْأَمَنَةَ. مِنْها: وَ إِنَّهُ يَقُومُ بِذلِكَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيِّ يَأْكُلُ مِنْهُ بِالْمَعْرُوفِ، وَ يُنْفِقُ مِنْهُ بِالْمَعْرُوفِ، فَإِنْ حَدَثَ بِحَسَنٍ حَدَثٌ وَ حُسَيْنٌ حَيُّ، قامَ بِالْأَمْرِ بَعْدَهُ، وَأَصْدَرَهُ مَصْدَرَهُ. وَ إِنَّ لِا بَنِيْ فاطِمَةَ مِنْ صَدَقَةِ عَلِيِّ مِثْلَ الَّذِي لِبَنِي عَلِيِّ، وَ إِنِّي إِنَّما جَعَلْتُ الْقِيامَ بِذلِكَ إِلَى ابْنَيْ فاطِمَةَ ابْتِغأَ وَجْهِ اللَّهِ، وَ قُرْبَةً إِلى رَسُولِ اللَّهِ،صلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم وَ تَكْرِيما لِحُرْمَتِهِ، وَ تَشْرِيفاً لِوُصْلَتِهِ.

وَ يَشْتَرِطُ عَلَى الَّذِي يَجْعَلُهُ إِلَيْهِ أَنْ يَتْرُكَ الْمالَ عَلى أُصُولِهِ، وَ يُنْفِقَ مِنْ ثَمَرِهِ حَيْثُ أُمِرَ بِهِ وَ هُدِيَ لَهُ، وَ أَنْ لا يَبِيعَ مِنْ أَوْلادِ نَخِيلِ هَذِهِ الْقُرى وَدِيَّةً حَتَّى تُشْكِلَ أَرْضُها غِراساً.

وَ مَنْ كانَ مِنْ إِمائِي -اللَّاتِي أَطُوفُ عَلَيْهِنَّ - لَها وَلَدٌ أَوْ هِيَ حامِلٌ، فَتُمْسَكُ عَلى وَلَدِها وَ هِيَ مِنْ حَظِّهِ، فَإِنْ ماتَ وَلَدُها وَ هِيَ حَيَّةٌ فَهِيَ عَتِيقَةٌ، قَدْ أَفْرَجَ عَنْهَا الرِّقُّ، وَ حَرَّرَها الْعِتْقُ.

উইল

আমিরুল মোমেনিনের সম্পদ বন্টন বিষয়ে সিফফিন থেকে ফিরে এসে লিখেছিলেন

এটা হলো তা যা আল্লাহর বান্দা আলী ইবনে আবি তালিব আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার সম্পত্তি সম্বন্ধে নির্ধারণ করেছে যার জন্য আল্লাহ তাকে বেহেশত নাসিব করে শান্তি দিতে পারেন।

আমার সম্পত্তি হাসান ইবনে আলী পরিচালনা করবে। এটা থেকে তার জীবিকার জন্য যথোপযুক্ত অংশ গ্রহণ করবে এবং অবশিষ্টাংশ জাকাত হিসাবে দান করবে। যদি হাসানের মৃত্যু হয় এবং হুসাইন বেঁচে থাকে। তবে হুসাইন তা পরিচালনা করবে। সেও হাসানের মতো জীবিকা গ্রহণ করে অবশিষ্টাংশ দান করবে। ফাতিমার দুপুত্রের দাতব্য সম্পত্তিতে আলীর অন্যান্য পুত্রদেরও সমান অধিকার থাকবে। আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি ও নৈকট্যের জন্য আমি ফাতিমার পুত্রদের পরিচালনার অধিকার দিয়েছি এবং রাসূলের জ্ঞাতিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আমি এটা করেছি।

এ সম্পত্তির পরিচালকের জন্য এটা অবশ্য কর্তব্য যে ,সে তা অবিকল রাখবে এবং এর আয় যেভাবে নির্দেশ দিয়েছি সেভাবে ব্যয় করবে । সে এ গ্রামগুলোর কোন চারাগাছ বিক্রি করতে পারবে না। যতক্ষণ তা বৃক্ষে পরিণত না হয়। আমার দাসীদের মধ্যে যদি কারো সন্তান থেকে থাকে অথবা গর্ভবতী থেকে থাকে। তবে সে সন্তানের খাতিরে থেকে যাবে এবং সে তার অংশ পাবে। যদি সন্তান মারা যায় এবং সে বেঁচে থাকে। তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে এবং কোন বন্ধন থাকবে না।

___________________

১। মদিনা ,ইয়াম্বু ও সুয়েকাতে আমিরুল মোমেনিন বহু কুপ খনন করে পানির ব্যবস্থা দ্বারা বহু পতিত ও অনুর্বর জমি চাষাবাদ করেছিলেন। এ সম্পত্তি তার নিজের। তবুও এটা তিনি মুসলিমদের জন্য ট্রাষ্ট করে পরিত্যাগ করলেন (হাদীদ ৫ম খণ্ড ,পৃঃ ১৪৬)

পত্র - ২৫

و من وصية لهعليه‌السلام

كانَ يَكْتُبُها لِمَنْ يَسْتَعْمِلْهُ عَلَى الصَّدَقاتِ

انْطَلِقْ عَلى تَقْوَى اللَّهِ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَ لا تُرَوِّعَنَّ مُسْلِماً وَ لا تَجْتازَنَّ(تحتازنّ) عَلَيْهِ كارِهاً، وَ لا تَأْخُذَنَّ مِنْهُ أَكْثَرَ مِنْ حَقِّ اللَّهِ فِي مالِهِ، فَإِذا قَدِمْتَ عَلَى الْحَيِّ فَانْزِلْ بِمائِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ تُخالِطَ أَبْياتَهُمْ، ثُمَّ امْضِ إِلَيْهِمْ بِالسَّكِينَةِ وَالْوَقارِ؛ حَتَّى تَقُومَ بَيْنَهُمْ فَتُسَلِّمَ عَلَيْهِمْ، وَ لا تُخْدِجْ بِالتَّحِيَّةِ لَهُمْ، ثُمَّ تَقُولَ: عِبادَ اللَّهِ، أَرْسَلَنِي إِلَيْكُمْ وَلِيُّ اللَّهِ وَ خَلِيفَتُهُ، لِآخُذَ مِنْكُمْ حَقَّ اللَّهِ فِي أَمْوالِكُمْ، فَهَلْ لِلَّهِ فِي أَمْوالِكُمْ، مِنْ حَقِّ فَتُؤَدُّوهُ إِلى وَلِيِّهِ. فَإنْ قالَ قائِلٌ: لا، فَلا تُراجِعْهُ، وَ إِنْ أَنْعَمَ لَكَ مُنْعِمٌ فَانْطَلِقْ مَعَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ تُخِيفَهُ أَوْ تُوعِدَهُ أَوْ تَعْسِفَهُ أَوْ تُرْهِقَهُ، فَخُذْ ما أَعْطاكَ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ؛ فَإِنْ كانَ لَهُ ماشِيَةً أَوْ إِبلٌ فَلا تَدْخُلْها إِلا بِإِذْنِهِ، فَإِنَّ أَكْثَرَها لَهُ، فَإِذا أَتَيْتَها فَلا تَدْخُلْ عَلَيْه دُخُولَ مُتَسَلِّطٍ عَلَيْهِ، وَ لا عَنِيفٍ بِهِ، وَ لا تُنَفِّرَنَّ بَهِيمَةً وَ لا تُفْزِعَنَّها، وَ لا تَسُؤَنَّ صاحِبَها فِيهَا،

وَاصْدَعِ الْمالَ صَدْعَيْنِ، ثُمَّ خَيِّرْهُ، فَإِذَا اخْتارَ فَلا تَعْرِضَنَّ لِمَا اخْتارَهُ. ثُمَّ اصْدَعِ الْباقِيَ صَدْعَيْنِ، ثُمَّ خَيِّرْهُ فَإِذَا اخْتارَ فَلا تَعْرِضَنَّ لِمَا اخْتارَهُ، فَلا تَزالُ كَذلِكَ حَتَّى يَبْقَى ما فِيهِ وَفأٌ لِحَقِّ اللَّهِ فِي مالِهِ؛ فَاقْبِضْ حَقَّ اللَّهِ مِنْهُ. فَإِنِ اسْتَقالَكَ فَأَقِلْهُ، ثُمَّ اخْلِطْهُما ثُمَّ اصْنَعْ مِثْلَ الَّذِي صَنَعْتَ أَوَّلاً حَتّى تَأْخُذَ حَقَّ اللَّهِ فِي مالِهِ. وَ لا تَأْخُذَنَّ عَوْدا وَ لا هَرِمَةً وَ لا مَكْسُورَةً وَ لا مَهْلُوسَةً، وَ لا ذاتَ عَوارٍ، وَ لا تَأْمَنَنَّ إِلا مَنْ تَثِقُ بِدِينِهِ، رافِقا بِمالِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يُوَصِّلَهُ إِلى وَلِيِّهِمْ فَيَقْسِمَهُ بَيْنَهُمْ.

وَ لا تُوَكِّلْ بِها إِلا ناصِحاً شَفِيقاً وَ أَمِيناً حَفِيظاً، غَيْرَ مُعْنِفٍ وَ لا مُجْحِفٍ، وَ لا مُلْغِبٍ وَ لا مُتْعِبٍ.ثُمَّ احْدُرْ إِلَيْنا مَا اجْتَمَعَ عِنْدَكَ، نُصَيِّرْهُ حَيْثُ أَمَرَ اللَّهُ بِهِ، فَإِذا أَخَذَها أَمِينُكَ فَأَوْعِزْ إِلَيْهِ. أَنْ لا يَحُولَ بَيْنَ ناقَةٍ وَ بَيْنَ فَصِيلِها، وَ لا يَمْصُرَ لَبَنَها فَيَضُرَّ ذلِكَ بِوَلَدِها؛ وَ لا يَجْهَدَنَّها رُكُوباً، وَلْيَعْدِلْ بَيْنَ صَواحِباتِها فِي ذلِكَ وَ بَيْنَها، وَلْيُرَفِّهْ عَلَى اللَّاغِبِ، وَلْيَسْتَأْنِ بِالنَّقِبِ وَالظَّالِعِ، وَلْيُورِدْهَا ما تَمُرُّبِهِ مِنَ الْغُدُرِ، وَ لا يَعْدِلْ بِها عَنْ نَبْتِ الْأَرْضِ إِلَى جَوَادِّ الطُّرُقِ، وَلْيُرَوِّحْها فِي السَّاعاتِ، وَ لْيُمْهِلْها عِنْدَ النِّطافِ وَالْأَعْشابِ. حَتَّى تَأْتِيَنا بِإِذْنِ اللَّهِ بُدَّنا مُنْقِياتٍ، غَيْرَ مُتْعَباتٍ وَ لا مَجْهُوداتٍ لِنَقْسِمَها عَلى كِتابِ اللَّهِ وَ سُنَّةِ نَبِيِّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم ، فَإِنَّ ذلِكَ أَعْظَمُ لِأَجْرِكَ، وَ أَقْرَبُ لِرُشْدِكَ، إِنْ شأَ اللَّهُ.

নির্দেশনামা

যাকাত ও দান সংগ্রহের জন্য যাকেই নিয়োগ করতেন তাকে আমিরুল মোমেনিন এ নির্দেশ দিতেন

আল্লাহকে ভয় করে চলো যিনি এক এবং তাঁর কোন অংশীদার নেই। কোন মুসলিমকে ভয় দেখিয়ো না। কোন মুসলিমের জমি উপেক্ষা করো না যাতে সে অসুখী হয়। তার নিকট থেকে তার সম্পত্তিতে আল্লাহর অংশের বেশি নিয়ো না। যখন তুমি কোন গোত্রের কাছে যাবে তখন তাদের ঘরে প্রবেশ করার আগে জলাধারের কাছে অবতরণ করো। তারপর মর্যাদা ও শান্তি সহকারে তাদের মাঝে যেয়ো । তারপর তাদেরকে সালাম করো এবং তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করতে অবহেলা করো না। তারপর তাদেরকে বলো হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আল্লাহর খলিফা ও রাসূলের ভাইসজেরেন্ট ( Vicegerent) আমাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন তোমাদের কাছে থেকে তোমাদের সম্পদে আল্লাহর অংশ আদায় করতে। তোমাদের সম্পদে তার কোন অংশ আছে কি ? যদি থাকে তবে তা তার ভাইসজেরেন্টের নিকট দাও। ” যদি তাদের মধ্যে কেউ 'না ' বলে তবে দাবীর পুনরাবৃত্তি করো না। যদি কেউ হ্যাঁ ” বোধক জবাব দেয়। তবে তার সঙ্গে যেয়ো কিন্তু তাকে কোন প্রকার ভয় দেখিয়ো না ,কোন ধমক দিয়ে না ,চাপ দিয়ো না এবং অত্যাচার করো না । সে স্বর্ণ বা রৌপ্য যা দেয় তা গ্রহণ করো। যদি তার গরু বা উট থেকে থাকে তবে তার অনুমতি ছাড়া তা স্পর্শ করো না ;কারণ এ গুলোর বৃহদাংশ তার। সুতরাং যখন তুমি এগুলো দেখবে তখন এমন লোকের মতো সেগুলোর কাছে যেয়ো না ,যার এদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অথবা ভদ্রতার সীমালঙ্ঘন করে তার কাছে যেয়ো না। কোন পশুকে আতঙ্কিত করো না । কোন লোককে পরিহাস করো না এবং কাউকে দুঃখ দিয়ে না।

সম্পত্তিকে দু ভাগ করো এবং মালিক যে ভাগ পছন্দ করে তা নিতে দিয়ে। সে যা পছন্দ করে ,তাতে আপত্তি করো না। তারপর অবশিষ্ট অর্ধাংশ আবার দু ভাগ করো এবং যে কোন ভাগ তাকে পছন্দ করে নিতে দিয়ো । তার পছন্দে কোন আপত্তি করো না। এভাবে ভাগ করতে থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পাওনা আদায়ের মতো অংশ থাকে। যদি সে কোন আপত্তি করে তবে তার মতো ব্যক্ত করতে দিয়ো । তারপর আলাদা করা দুটি অংশ আবার একত্রিত করে পূর্বের মতো ভাগ করতে থেকো যে পর্যন্ত না তার সম্পত্তি থেকে আল্লাহর পাওনা আদায় হয়। বৃদ্ধ ,জরাজীর্ণ ,অঙ্গহীন বা রুগ্ন পশু গ্রহণ করো না। মুসলিমের সম্পদের প্রতি যে যত্ব নেবে বলে তুমি বিশ্বাস কর তার কাছ ছাড়া অন্য কারো দায়িত্বে পশুগুলো রেখো না। এমন লোকের কাছে রাখবে যে বন্টনের জন্য নেতার কাছে সেগুলো পৌছাবে।

হিতাকাঙ্খী ,খোদাভীরু ,বিশ্বস্ত ও সতর্ক লোক ছাড়া কারো কাছে এগুলো রেখো না। যারা মুসলিমের সম্পদ অপব্যয় করে না ,দীর্ঘদিন ধরে রাখে না এবং তা রক্ষণে ক্লান্তি বা শ্রান্তি বোধ করে না তাদের কাছেই রেখো। তারপর যা সংগ্রহ কর তা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়ো। আমরা আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী সেগুলোর ব্যবস্থা নেব। যখন তোমার কোন মনোনীত ব্যক্তি পশুর দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন তাকে বলে দিয়ো যেন বাচ্চাগুলোকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা না করে এবং সম্পূর্ণ দুধ যেন দোহন করে না নেয়। কারণ এতে বাচ্চাগুলো কষ্ট পাবে। সে যেন পশুগুলোকে বাহন হিসাবে ব্যবহার না করে। এ বিষয়ে সে যেন ন্যায়ভাবে কাজ করে। উটগুলোকে সে যেন বিশ্রাম দেয় এবং যেগুলোর খুর ঘষায় ঘষায় ক্ষয় হয়েছে সেগুলোকে যেন ধীরে ধীবে চালায়। যখন কোন জলাধারের পাশ দিয়ে যাবে তখন উটগুলোকে পানি খেতে দিয়ো এবং ঘাসের জমি বাদ দিয়ে ঘাসবিহীন পথে চলো না। সময়ে সময়ে উটগুলোকে বিশ্রাম নিতে দিয়ো এবং পানি ও ঘাসের কাছে অপেক্ষা করো। এভাবে যখন পশুগুলো আমাদের কাছে পৌছাবে তখন তারা খোদার ফজলে সুস্থ - সবল ও মোটা - তাজা অবস্থায় পৌছবে। আমরা তখন এগুলোকে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী বন্টন করবো। নিশ্চয়ই ,এটা তোমার জন্য পরম পুরস্কার ও হেদায়েতের উপায় হবে ,ইনশাল্লাহ।

পত্র - ২৬

و من عهد لهعليه‌السلام

إلى بَعْضِ عُمّالِهِ، وَ قَدْ بَعَثَهُ عَلَى الصَّدَقَةِ

أَمُرُهُ بِتَقْوَى اللَّهِ فِي سَرائِرِ أَمْرِهِ وَ خَفِيَّاتِ عَمَلِهِ، حَيْثُ لا شَهِيدَ غَيْرُهُ، وَ لا وَكِيلَ دُونَهُ. وَ آمُرُهُ أَنْ لا يَعْمَلَ بِشَيْءٍ مِنْ طاعَةِ اللَّهِ فِيما ظَهَرَ فَيُخالِفَ إِلَى غَيْرِهِ فِيما أَسَرَّ، وَ مَنْ لَمْ يَخْتَلِفْ سِرُّهُ وَ عَلانِيَتُهُ وَ فِعْلُهُ وَ مَقالَتُهُ فَقَدْ أَدَّى الْأَمانَةَ وَ أَخْلَصَ الْعِبادَةَ. وَ أَمَرَهُ أَنْ لا يَجْبَهَهُمْ وَ لا يَعْضَهَهُمْ، وَ لا يَرْغَبَ عَنْهُمْ تَفَضُّلاً بِالْإِمارَةِ(الامانة) عَلَيْهِمْ، فَإِنَّهُمُ الْإِخْوانُ فِي الدِّينِ، وَالْأَعْوانُ عَلَى اسْتِخْراجِ الْحُقُوقِ.

وَ إِنَّ لَكَ فِي هذِهِ الصَّدَقَةِ نَصِيبا مَفْرُوضاً، وَ حَقّا مَعْلُوماً، وَ شُرَكأَ أَهْلَ مَسْكَنَةٍ، وَ ضُعَفأَ ذَوِي فاقَةٍ، وَ إِنَّا مُوَفُّوكَ حَقَّكَ، فَوَفِّهِمْ حُقُوقَهُمْ، وَ إِلا تَفْعَلْ فَإِنَّكَ مِنْ أَكْثَرِ النَّاسِ خُصُوما يَوْمَ الْقِيامَةِ، وَ بُؤْسا لِمَنْ خَصْمُهُ عِنْدَ اللَّهِ الْفُقَرأُ وَالْمَساكِينُ، وَالسّائِلُونَ وَالْمَدْفُوعُونَ، وَالْغارِمُ وَابْنُ السَّبِيلِ!

وَ مَنِ اسْتَهانَ بِالْأَمانَةِ، وَ رَتَعَ فِي الْخِيانَةِ وَ لَمْ يُنَزِّهْ نَفْسَهُ وَ دِينَهُ عَنْها، فَقَدْ أَحَلَّ بِنَفْسِهِ فِي الدُّنْيَا الذُّلَّ وَالْخِزْيَ وَ هُوَ فِي الْآخِرَةِ أَذَلُّ وَ أَخْزَى. وَ إِنَّ أَعْظَمَ الْخِيانَةِ خِيانَةُ الْأُمَّةِ(الأمنة) ، وَ أَفْظَعَ الْغِشِّ غِشُّ الْأَئِمَّةِ،وَالسَّلاَمُ .

নির্দেশনামা

জাকাত ও দান সংগ্রহের জন্য প্রেরিত একজন অফিসারকে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন

তোমার গোপন বিষয় ও গোপন আমল যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ দেখে না এবং যাতে কোন সাক্ষী নেই। সে সব বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহর আনুগত্য স্বীকারে তুমি প্রকাশ্যে যা কর গোপনে যেন তার ব্যতিক্রম না হয় । যার জাহের ও বাতেনে কোন ব্যবধান নেই এবং যার কথায় ও কাজে কোন ব্যবধান নেই তার ইবাদত পবিত্র। জনগণকে অপদস্ত করো না ,তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করো না এবং সরকারি ক্ষমতার কারণে তাদের কাছ থেকে দূরে সরে থেকো না। তারা ইমানি ভাই এবং কর আদায়ে তাদেরকে সাহায্য করো।

নিশ্চয়ই ,আদায়কৃত করে (ট্যাক্সে ) তোমার একটা নির্ধারিত অংশ ও সুপরিজ্ঞাত অধিকার আছে। মনে রেখো ,এ করে অন্য অংশীদারও রয়েছে যারা দরিদ্র ,দুর্বল ও বুভুক্ষু। আমরা তোমার অধিকার রক্ষা করবো। সুতরাং তুমি তাদের অধিকার রক্ষা করো। যদি তুমি তা না কর তবে শেষ বিচারে তোমার শক্র সংখ্যা হবে অগণন। সে ব্যক্তি কতই না হতভাগা আল্লাহর দৃষ্টিতে যার শক্র অভাবগ্রস্ত ,দুঃস্থ ,ভিক্ষুক ,ঋণগ্রস্ত ও কপর্দকহীন ভ্রমণকারী।

যে বিশ্বস্ততাকে হালকাভাবে গ্রহণ করে ,বিশ্বাসঘাতী কাজে লিপ্ত হয় এবং নিজকে ও নিজের ইমানকে স্বচ্ছ রাখে না ,সে ইহকাল ও পরকালের জন্য অপদস্থতা সংগ্রহ করে। নিঃসন্দেহে ,মুসলিম উম্মার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা সব চাইতে বড় বিশ্বাসঘাতকতা এবং সব চাইতে বড় প্রবঞ্চনা হলো মুসলিম নেতার সাথে প্রবঞ্চনা করা। বিষয়টি এখানে শেষ করলাম।

পত্র - ২৭

و من عهد لهعليه‌السلام

إلى مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ - رَضِىَّ اللّهُ عَنْهُ - حينَ قَلَّدَهُ مصْرَ:

فَاخْفِضْ لَهُمْ جَناحَكَ، وَ أَلِنْ لَهُمْ جانِبَكَ، وَابْسُطْ لَهُمْ وَجْهَكَ، وَ آسِ بَيْنَهُمْ فِي اللَّحْظَةِ وَالنَّظْرَةِ، حَتَّى لا يَطْمَعَ الْعُظَمأُ فِي حَيْفِكَ لَهُمْ، وَ لا يَيْأَسَ الضُّعَفأُ مِنْ عَدْلِكَ عَلَيْهِمْ، وَ إِنَّ اللَّهَ تَعالَى يُسائِلُكُمْ مَعْشَرَ عِبادِهِ عَنِ الصَّغِيرَةِ مِنْ أَعْمالِكُمْ وَالْكَبِيرَةِ، وَالظَّاهِرَةِ وَالْمَسْتُورَةِ، فَإِنْ يُعَذِّبْ فَأَنْتُمْ أَظْلَمُ، وَ إِنْ يَعْفُ فَهُوَ أَكْرَمُ.

وَاعْلَمُوا عِبادَ اللَّهِ أَنَّ الْمُتَّقِينَ ذَهَبُوا بِعاجِلِ الدُّنْيا وَ آجِلِ الْآخِرَةِ، فَشارَكُوا أَهْلَ الدُّنْيا فِي دُنْياهُمْ، وَ لَمْ يُشارِكْهُم أَهْلَ الدُّنْيا فِي آخِرَتِهِمْ؛ سَكَنُوا الدُّنْيا بِأَفْضَلِ ما سُكِنَتْ، وَ أَكَلُوها بِأَفْضَلِ ما أُكِلَتْ، فَحَظُوا مِنَ الدُّنْيا بِما حَظِيَ بِهِ الْمُتْرَفُونَ، وَ أَخَذُوا مِنْها ما أَخَذَهُ الْجَبابِرَةُ الْمُتَكَبِّرُونَ. ثُمَّ انْقَلَبُوا عَنْها بِالزَّادِ الْمُبَلِّغِ؛ وَالْمَتْجَرِ الرَّابِحِ، أَصابُوا لَذَّةَ زُهْدِ الدُّنْيا فِي دُنْياهُمْ، وَ تَيَقَّنُوا أَنَّهُمْ جِيرانُ اللَّهِ غَدا فِي آخِرَتِهِمْ. لا تُرَدُّ لَهُمْ دَعْوَةٌ، وَ لا يَنْقُصُ لَهُمْ نَصِيبٌ مِنْ لَذَّةٍ.

فَاحْذَرُوا عِبادَ اللَّهِ الْمَوْتَ وَ قُرْبَهُ، وَ أَعِدُّوا لَهُ عُدَّتَهُ، فَإِنَّهُ يَأْتِي بِأَمْرٍ عَظِيمٍ، وَ خَطْبٍ جَلِيلٍ، بِخَيْرٍ لا يَكُونُ مَعَهُ شَرُّ أَبَدا، أَوْ شَرِّ لا يَكُونُ مَعَهُ خَيْرٌ أَبَداً. فَمَنْ أَقْرَبُ إِلَى الْجَنَّةِ مِنْ عامِلِها، وَ مَنْ أَقْرَبُ إِلَى النَّارِ مِنْ عامِلِها؟ وَ أَنْتُمْ طُرَدأُ الْمَوْتِ، إِنْ أَقَمْتُمْ لَهُ أَخَذَكُمْ، وَ إِنْ فَرَرْتُمْ مِنْهُ أَدْرَكَكُمْ وَ هُوَ أَلْزَمُ لَكُمْ مِنْ ظِلِّكُمْ! الْمَوْتُ مَعْقُودٌ بِنَواصِيكُمْ، وَالدُّنْيا تُطْوَى مِنْ خَلْفِكُمْ، فَاحْذَرُوا نارا قَعْرُها بَعِيدٌ وَ حَرُّها شَدِيدٌ، وَ عَذَابُها جَدِيدٌ. دارٌ لَيْسَ فِيها رَحْمَةٌ، وَ لا تُسْمَعُ فِيها دَعْوَةٌ، وَ لا تُفَرَّجُ فِيها كُرْبَةٌ، وَ إنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ يَشْتَدَّ خَوْفُكُمْ مِنَ اللَّهِ، وَ أَنْ يَحْسُنَ ظَنُّكُمْ بِهِ، فَاجْمَعُوا بَيْنَهُما، فَإِنَّ الْعَبْدَ إِنَّما يَكُونُ حُسْنُ ظَنِّهِ بِرَبِّهِ عَلَى قَدْرِ خَوْفِهِ مِنْ رَبِّهِ، وَ إِنَّ أَحْسَنَ النَّاسِ ظَنّا بِاللَّهِ أَشَدُّهُمْ خَوْفا لِلَّهِ.

وَاعْلَمْ- يا مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ- أَنِّي قَدْ وَلَّيْتُكَ أَعْظَمَ أَجْنادِي فِي نَفْسِي أَهْلَ مِصْرَ، فَأَنْتَ مَحْقُوقٌ أَنْ تُخَالِفَ عَلَى نَفْسِكَ، وَ أَنْ تُنافِحَ عَنْ دِينِكَ وَ لَوْ لَمْ يَكُنْ لَكَ إِلا سَاعَةٌ مِنَ الدَّهْرِ، وَ لا تُسْخِطِ اللَّهَ بِرِضا أَحَدٍ مِنْ خَلْقِهِ، فَإِنَّ فِي اللَّهِ خَلَفا مِنْ غَيْرِهِ، وَ لَيْسَ مِنَ اللَّهِ خَلَفٌ فِي غَيْرِهِ. صَلِّ الصَّلاةَ لِوَقْتِهَا الْمُؤَقَّتِ لَها، وَ لا تُعَجِّلْ وَقْتَها لِفَراغٍ، وَ لا تُؤَخِّرْها عَنْ وَقْتِها لاشْتِغالٍ، وَاعْلَمْ أَنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ عَمَلِكَ تَبَعٌ لِصَلاتِكَ. وَ مِنْ هذَا الْعَهْدِ: فَإِنَّهُ لا سَوأَ إِمامُ الْهُدى وَ إِمامُ الرَّدَى، وَ وَلِيُّ النَّبِيِّ وَ عَدُوُّ النَّبِيِّ، وَ لَقَدْ قالَ لِي رَسُولُ اللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم : «إِنِّي لا أَخافُ عَلَى أُمَّتِي مُؤْمِنا وَ لا مُشْرِكا: أَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَمْنَعُهُ اللَّهُ بِإِيمَانِهِ، وَ أَمَّا الْمُشْرِكُ فَيَقْمَعُهُ اللَّهُ بِشِرْكِهِ، وَ لكِنِّي أَخافُ عَلَيْكُمْ كُلَّ مُنافِقِ الْجَنانِ، عالِمِ اللِّسانِ، يَقُولُ ما تَعْرِفُونَ، وَ يَفْعَلُ ما تُنْكِرُونَ.»

মুহাম্মদ ইবনে আবি বকরকে মিশরের শাসনকর্তা নিয়োগ করার পর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন

জনগণের সাথে বিনম্র ব্যবহার করো ,তাদের প্রতি নিজকে কোমল করে রেখো এবং উদার মনে তাদের সাথে সাক্ষাত করো। সকল মানুষের প্রতি সমান ব্যবহার করো। তাতে বড়লোকেরা তোমার কাছ থেকে অবিচার পাওয়ার কথা বলবে না এবং হীনরা তোমার ন্যায় বিচারে হতাশ হবে না। মহিমান্বিত আল্লাহ নিশ্চয়ই তার বান্দাদের প্রতি তোমার ছোট - বড় ও প্রকাশ্য - গোপন সকল কর্মের জন্য তোমাকে প্রশ্ন করবেন। যদি তিনি তোমাকে শাস্তি দেন তবে তা তোমার অত্যাচারী আচরণের জন্য ;আর যদি তিনি তোমাকে ক্ষমা করেন তবে তা তার মহান ক্ষমাশীলতার জন্য।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,তোমরা জেনে রাখো ,খোদাভীরুগণ এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার অংশ উপভোগ করে ,আবার পরকালের হিস্যাও পায়। কারণ তারা মানুষের সাথে জাগতিক বিষয়ে অংশ গ্রহণ করে ,পক্ষান্তরে মানুষ তাদের সাথে আখিরাতের কাজে অংশগ্রহণ করে না। মানুষ দুনিয়াতে বসবাসকালে আরাম - আয়েশ ও সুস্বাদু খাদ্য খেয়ে কাটিয়ে ঔদ্ধত্য ও ব্যর্থতা সংগ্রহ করে। অপরপক্ষে খোদাভীরুগণ প্রস্থান করবে তাদের ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত রসদ সংগ্রহ করে এবং লাভজনক লেনদেন সম্পন্ন করে। তারা এ পৃথিবীতে থাকা কালেই দুনিয়া পরিত্যাগের স্বাদ উপভোগ করেছে এবং তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আসন্ন পরকালে তারা আল্লাহর নিকটবর্তী হবে যেখানে তাদের আহবান প্রতিহত করা হবে না এবং তাদের আনন্দের হিস্যাও ক্ষুদ্র করা হবে না।

সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ ,মৃত্যুকে ভয় কর এবং মৃত্যুর জন্য যা প্রয়োজন তার সবকিছু প্রস্তুত রেখো। এটা একটা বিরাট কাণ্ড ও ঘটনা হয়ে আসবে। এটা মঙ্গলজনক হয়ে আসবে যাতে কোন মন্দের লেশ থাকবে না অথবা মন্দ হয়ে আসবে যাতে কোন মঙ্গলের লেশ থাকবে না। যে বেহেশতে যাবার মতো কাজ করে তার চেয়ে বেহেশতের নিকটবর্তী আর কে আছে ? আর যে দোযখে যাবার জন্য কাজ করে তার চেয়ে দোযখের নিকটবর্তী আর কে আছে ? তোমরা মৃত্যু দ্বারা তাড়িত হবে। যদি তোমরা থাম ,মৃত্যু তোমাদেরকে ধরে ফেলবে এবং যদি তোমরা দৌড়ে পালাতে চাও তবে মৃত্যু তোমাদেরকে আটক করে ফেলবে। তোমাদের ছায়ার চেয়েও মৃত্যু অধিক সংলগ্ন। মৃত্যুকে তোমাদের কপালের চুলের সাথে বেঁধে দেয়া হয়েছে। অপরপক্ষে দুনিয়া তোমাদেরকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। সুতরাং গভীর গহবরের অগ্নিকে ভয় কর ,যে আগুনের শিখা অতীব মারাত্মক এবং যে শাস্তি অতীব পীড়াদায়ক। এটা এমন এক স্থান যেখানে কোন রেহাই দেয়া হয় না। এখানে কোন ডাক বা সহায়তার আবেদন কেউ শুনে না এবং ব্যথার কোন উপশম হয় না। যদি আল্লাহকে ভীষণ ভয় করা ও তাঁর প্রতি আশা রাখা তোমার পক্ষে সম্ভব হয় তবে উভয়ই অভ্যাসে পরিণত করো। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তিই তার প্রভুর প্রতি ততটুকু আশা পোষণ করে যতটুকু সে তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই ,সে ব্যক্তি আল্লাহর নেয়ামতেব বেশি আশা করতে পারে যে আল্লাহকে বেশি ভয় করে।

হে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ,জেনে রাখো ,আমি তোমাকে মিশরের দায়িত্ব অর্পণ করেছি। যা আমার সবচাইতে বড় শক্তি। সুতরাং তুমি তোমার কামনা - বাসনার বিরুদ্ধে কর্তব্যপরায়ণ থেকো এবং এ পৃথিবীতে এক ঘন্টা সময় পেলেও তা তোমার দ্বীনের বর্ম হিসাবে খেদমত করে ব্যয় করো। কখনো অন্যকে খুশি করার জন্য আল্লাহকে ক্ষুব্ধ করো না। মনে রেখো ,আল্লাহ এমন যিনি অন্যের রাজত্ব কেড়ে নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু অন্য কেউ তাঁর রাজত্ব কেড়ে নিতে পারে না। নির্ধারিত সময়ে সালাতে প্রবৃত্ত হয়ো। অবসর যাপনের জন্য কখনো নির্ধারিত সময়ের আগে সালাতে প্রবৃত্ত হয়ো না। অথবা ব্যস্ততার কারণে কখনো বিলম্বে সালাত করো না। স্মরণ রেখো ,তোমার প্রতিটি আমল তোমার সালাতের ওপর নির্ভর করে । জনগণকে বুঝাতে চেষ্টা করো যে ,হেদায়েতের নেতা আর ধ্বংস প্রাপ্ত নেতা সমান হতে পারে না এবং রাসূলের বন্ধু আর রাসূলের শত্রু সমান নয়। আল্লাহর রাসূল আমার কাছে বলেছিলেন , আমার লোকদের বিষয়ে আমি মুমিন আর কাফের সম্বন্ধে শঙ্কিত নই। মুমিনগণকে আল্লাহ নিজেই রক্ষা করবেন এবং কাফেরগণকে তিনি নিজেই অপদস্থ করবেন। কিন্তু তোমাদের মাঝে যারা অন্তরে মোনাফিক এবং বক্তব্যে বিজ্ঞ ও ধোপদুরস্ত তাদের নিয়ে আমি শঙ্কিত। তোমারা যা কল্যাণকর হিসাবে ধরে নাও মোনাফিকগণও সে কথা বলে ,কিন্তু তোমরা যা পছন্দ কর না তারা (মোনাফিক) তাই করে। ”

পত্র - ২৮

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى مُعاوِيَةَ جَواباً، وَ هُوَ مِنْ مَحاسِنِ الْكُتُبِ

أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ أَتانِي كِتابُكَ تَذْكُرُ فِيهِ اصْطِفأَ اللَّهِ مُحَمَّداًصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم لِدِينِهِ وَ تَأْيِيدَهُ إ يّاهُ بِمَنْ أَيَّدَهُ مِنْ أَصْحابِهِ؛ فَلَقَدْ خَبَّأَ لَنَا الدَّهْرُ مِنْكَ عَجَباٌ؛ إِذْ طَفِقْتَ تُخْبِرُنا بِبَلأِ اللَّهِ تَعالى عِنْدَنا، وَ نِعْمَتِهِ عَلَيْنا فِي نَبِيِّنا، فَكُنْتَ فِي ذلِكَ كَناقِلِ التَّمْرِ إِلى هَجَرَ وَداعِي مُسَدِّدِهِ إِلَى النِّضالِ.

وَ زَعَمْتَ أَنَّ أَفْضَلَ النّاسِ فِي الْإِسْلامِ فُلانٌ وَ فُلانٌ؛ فَذَكَرْتَ أَمْرا إِنْ تَمَّ اعْتَزَلَكَ كُلُّهُ، وَ إِنْ نَقَصَ لَمْ يَلْحَقْكَ ثَلْمُهُ. وَ ما أَنْتَ وَالْفاضِلَ وَالْمَفْضُولَ، وَالسَّائِسَ وَالْمَسوسَ! وَ ما لِلطُّلَقَأِ وَ أَبْنأِ الطُّلَقأِ، وَالتَّمْيِيزَ بَيْنَ الْمُهاجِرِينَ الْأَوَّلِينَ، وَ تَرْتِيبَ دَرَجاتِهِمْ، وَ تَعْرِيفَ طَبَقاتِهِمْ، هَيْهاتَ! لَقَدْ حَنَّ قِدْحٌ لَيْسَ مِنْها، وَ طَفِقَ يَحْكُمُ فِيها مَنْ عَلَيْهِ الْحُكْمُ لَها! أَلا تَرْبَعُ أَيُّهَا الْإِنْسانُ عَلى ظَلْعِكَ، وَ تَعْرِفُ قُصُورَ ذَرْعِكَ، وَ تَتَأَخَّرُ حَيْثُ أَخَّرَكَ الْقَدَرُ! فَما عَلَيْكَ غَلَبَةُ الْمَغْلُوبِ، وَ لا لَكَ ظَفَرُ الظّافِرِ! وَ إِنَّكَ لَذَهّابٌ فِي التِّيهِ، رَوّاغ عَنِ الْقَصْدِ.

أَلا تَرى؟ - غَيْرَ مُخْبِرٍ لَكَ، وَ لَكِنْ بِنِعْمَةِ اللَّهِ أُحَدِّثُ - أَنَّ قَوْما اسْتُشْهِدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعالَى مِنَ الْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ، وَ لِكُلِّ فَضْلٌ، حَتَّى إِذَا اسْتُشْهِدَ شَهِيدُنا قِيلَ: سَيِّدُ الشُّهَدأِ، وَ خَصَّهُ رَسُولُ اللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم بِسَبْعِينَ تَكْبِيرَةً عِنْدَ صَلاتِهِ عَلَيْهِ أَوَلا تَرى؟ أَنَّ قَوْماً قُطِّعَتْ أَيْدِيهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ -وَ لِكُلِّ فَضْلٌ- حَتَّى إِذا فُعِلَ بِواحِدِنا كَما فُعِلَ بِواحِدِهِمْ قِيلَ: «الطَّيّارُ فِي الْجَنّةِ وَ ذُو الْجَناحَيْنِ!» وَ لَوْ لا ما نَهَى اللَّهُ عَنْهُ مِنْ تَزْكِيَةِ الْمَرْءِ نَفْسَهُ لَذَكَرَ ذاكِرٌ فَضائِلَ جَمَّةً، تَعْرِفُها قُلُوبُ الْمُؤْمِنِينَ، وَ لا تَمُجُّها آذانُ السّامِعِينَ.

فَدَعْ عَنْكَ مَنْ مالَتْ بِهِ الرَّمِيَّةُ فَإِنّا صَنائِعُ رَبِّنا، وَالنَّاسُ بَعْدُ صَنائِعُ لَنا. لَمْ يَمْنَعْنا قَدِيمُ عِزِّنا وَ لا عادِيُّ طَوْلِنا عَلى قَوْمِكَ أَنْ خَلَطْناكُمْ بِأَنْفُسِنا! فَنَكَحْنا وَ أَنْكَحْنا، فِعْلَ الْأَكْفأِ، وَلَسْتُمْ هُناكَ! وَ أَنَّى يَكُونُ ذلِكَ كَذلِكَ وَ مِنَّا النَّبِيُّ وَ مِنْكُمُ الْمُكَذِّبُ، وَ مِنّا أَسَدُ اللَّهِ وَ مِنْكُمْ أَسَدُ الْأَحْلافِ، وَ مِنّا سَيِّدا شَبابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَ مِنْكُمْ صِبْيَةُ النَّارِ، وَ مِنّا خَيْرُ نِسأِ الْعالَمِينَ وَ مِنْكُمْ حَمّالَةُ الْحَطَبِ، فِي كَثِيرٍ مِمّا لَنا وَ عَلَيْكُمْ! فَإِسْلامُنا مَا قَدْ سُمِعَ، وَ جاهِلِيَّتُنا لا تُدْفَعُ، وَ كِتابُ اللَّهِ يَجْمَعُ لَنا ما شَذَّ عَنَّا، وَ هُوَقَوْلُهُ سُبْحانَه وَ تَعَالَىُ :( وَ أُولُوا الْأَرْحامِ بَعْضُهُمْ أَوْلى بِبَعْضٍ فِي كِتابِ اللّهِ ) وَ قَوْلُهُ تَعالَى:( إِنَّ أَوْلَى النّاسِ بِإِبْراهِيمَ لَلَّذِينَ اتَّبَعُوهُ وَ هذَا النَّبِيُّ وَالَّذِينَ آمَنُوا، وَاللّهُ وَلِيُّ الْمُؤْمِنِينَ ) . فَنَحْنُ مَرَّةً أَوْلَى بِالْقَرابَةِ، وَ تارَةً أَوْلَى بِالطَّاعَةِ. وَ لَمَّا احْتَجَّ الْمُهاجِرُونَ عَلَى الْأَنْصارِ يَوْمَ السَّقِيفَةِ بِرَسُولِ اللَّهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَلَجُوا عَلَيْهِمْ، فَإ نْ يَكُنِ الْفَلَجُ بِهِ فَالْحَقُّ لَنا دُونَكُمْ، وَ إِنْ يَكُنْ بِغَيْرِهِ فَالْأَنْصارُ عَلى دَعْواهُمْ. وَ زَعَمْتَ أَنِّي لِكُلِّ الْخُلَفأِ حَسَدْتُ، وَ عَلى كُلِّهِمْ بَغَيْتُ! فَإِنْ يَكُنْ ذلِكَ كَذلِكَ فَلَيْسَ الْجِنايَةُ عَلَيْكَ، فَيَكُونَ الْعُذْرُ إِلَيْكَ.وَ تِلْكَ شَكاةٌ ظاهِرٌ عَنْكَ عارُها .

وَ قُلْتَ: إِنِّي كُنْتُ أُقادُ كَما يُقادُ الْجَمَلُ الْمَخْشُوشُ حَتّى أُبايِعَ. وَ لَعَمْرُ اللَّهِ لَقَدْ أَرَدْتَ أَنْ تَذُمَّ فَمَدَحْتَ، وَ أَنْ تَفْضَحَ فَافْتَضَحْتَ! وَ ما عَلَى الْمُسْلِمِ مِنْ غَضاضَةٍ فِي أَنْ يَكُونَ مَظْلُوماً.

ما لَمْ يَكُنْ شاكّاً فِي دِينِهِ، وَ لا مُرْتابا بِيَقِينِهِ! وَ هذِهِ حُجَّتِي إِلى غَيْرِكَ قَصْدُها، وَلَكِنِّي أَطْلَقْتُ لَكَ مِنْها بِقَدْرِ ما سَنَحَ مِنْ ذِكْرِها.

ثُمَّ ذَكَرْتَ ما كانَ مِنْ أَمْرِ وَ أَمْرِى عُثْمانَ، فَلَكَ أَنْ تُجابَ عَنْ هذِهِ لِرَحِمِكَ مِنْهُ، فَأَيُّنا كانَ أَعْدى لَهُ، وَ أَهْدى إِلى مَقاتِلِهِ! أَمَنْ بَذَلَ لَهُ نُصْرَتَهُ فَاسْتَقْعَدَهُ وَاسْتَكَفَّهُ، أَم مَنِ اسْتَنْصَرَهُ فَتَراخى عَنْهُ وَ بَثَّ الْمَنُونَ إِلَيْهِ، حَتَّى أَتى قَدَرُهُ عَلَيْهِ. كَلاّ وَاللَّهِ لَ( قَدْ عَلِمُ اللّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ وَالْقائِلِينَ لِإِخْوانِهِمْ هَلُمَّ إِلَيْنا وَ لا يَأْتُونَ الْبَأْسَ إِلاّ قَلِيلاً ) . وَ ما كُنْتُ لِأَعْتَذِرَ مِنْ أَنِّي كُنْتُ أَنْقِمُ عَلَيْهِ أَحْداثا، فَإِنْ كانَ الذَّنْبُ إِلَيْهِ إِرْشادِي وَ هِدايَتِي لَهُ، فَرُبَّ مَلُومٍ لا ذَنْبَ لَهُ. (وَ قَدْ يَسْتَفِيدُ الظِّنَّةَ الْمُتَنَصِّحُ) وَ ما أَرَدْتُ( إِلا الْإِصْلاحَ مَا اسْتَطَعْتُ وَ ما تَوْفِيقِي إِلاّ بِاللّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَ إِلَيْهِ أُنِيبُ ) .

وَ ذَكَرْتَ أَنَّهُ لَيْسَ لِي وَ لِأَصْحابِي عِنْدَكَ إِلا السَّيْفُ، فَلَقَدْ أَضْحَكْتَ بَعْدَ اسْتِعْبارٍ! مَتى أَلْفَيْتَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَنِ الْأَعْدأِ ناكِلِينَ، وَ بِالسَّيْفِ مُخَوَّفِينَ؟!فَلَبِّثْ قَلِيلاً يَلْحَقِ الْهَيْجا حَمَلْ . فَسَيَطْلُبُكَ مَنْ تَطْلُبُ، وَ يَقْرُبُ مِنْكَ ما تَسْتَبْعِدُ، وَ أَنَا مُرْقِلٌ نَحْوَكَ فِي جَحْفَلٍ مِنَ الْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ وَالتَّابِعِينَ لَهُمْ بِإِحْسانٍ، شَدِيدٍ زِحامُهُمْ، ساطِعٍ قَتامُهُمْ، مُتَسَرْبِلِينَ سِرْبالَ الْمَوْتِ؛ أَحَبُّ اللِّقأِ إِلَيْهِمْ لِقأُ رَبِّهِمْ، وَ قَدْ صَحِبَتْهُمْ ذُرِّيَّةٌ بَدْرِيَّةٌ، وَ سُيُوفٌ هاشِمِيَّةٌ، قَدْ عَرَفْتَ مَواقِعَ نِصالِها فِي أَخِيكَ وَ خالِكَ وَ جَدِّكَ وَ أَهْلِكَ( وَ ما هِيَ مِنَ الظّالِمِينَ بِبَعِيدٍ ) .

মুয়াবিয়ার পত্রের প্রত্যুত্তর

তোমার পত্র আমার কাছে পৌছেছে। পত্রে তুমি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছো যে ,আল্লাহ মুহাম্মদকে (সা.) তাঁর দ্বীনের জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং সাহাবা দ্বারা তাকে সাহায্য করেছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো ,তুমি তোমার সম্বন্ধে সব কিছু গোপন করে আমাদের জন্য আল্লাহর বিচারের কথা বলতে শুরু করেছো এবং রাসূল সম্পর্কে আমাদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করছো। তোমার এ হাস্যম্পদ কথা ওই লোকটার মতো যে হাযারে খেজুর বহন করে আনে অথবা সে লোকটার মতো যে ধনুর্বিদ্যায় তার ওস্তাদকে চ্যালেঞ্জ করে ।

তুমি মনে কর অমুক অমুক ইসলামে খুবই বিশিষ্ট ব্যক্তি। তুমি এমন বিষয়ে কথা বলছো যা সত্য হলে তাতে তোমার কিছু করণীয় নেই আর মিথ্যা হলে সে ক্রটিতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। কে ভালো ,কে মন্দ অথবা কে শাসক ,কে শাসিত এসব প্রশ্নে তোমার প্রয়োজন কী ? প্রথম মুহাজিরগণের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা এবং তাদের অবস্থান বা পদবী নির্ধারণে সাধারণ ক্ষমার অন্তর্ভূক্ত লোক ও তাদের পুত্রগণের কাজ কী ? কী আফসোস ,একটা নকল তীর আসল তীরের শব্দ সৃষ্টি করছে এবং যার বিচার হবার কথা সে আজ বিচারকের আসনে বসে আছে। হে লোক ,তুমি কেন নিজের পঙ্গুত্ব দেখ না এবং নিজের গণ্ডির মধ্যে থাক না। তুমি কেন নিজের হীনতা ও ত্রুটি অনুধাবন কর না এবং নিয়তি তোমাকে যেখানে রেখেছে সেখানে থাক না। পরাজিতের পরাজয়ে বা বিজয়ীর বিজয়ে তুমি ধর্তব্য নও। তুমি বিভ্রান্তিতে ঘুরে বেড়াচ্ছো এবং ন্যায় পথ ছেড়ে পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়েছো।

তুমি কি এটা অনুধান করতে পার না ? আমি তোমাকে কোন খবর দিচ্ছি না ;আমি শুধু আল্লাহর রহমত তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে ,আনসার ও মুহাজেরদের অনেকেই মহিমান্বিত আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকেই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কিন্তু আমাদের একজন যখন শাহাদত বরণ করেছিল তখন তাকে শহীদদের প্রধান বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাসূল তার দাফনের সময় সত্তর বার তকবির (আল্লাহু আকবার) ধ্বনি করে তাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছিলেন। তুমি জানো না যে ,আল্লাহর রাস্তার অনেকেই তাদের হাত হারিয়েছিল এবং তারা সকলেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। কিন্তু আমাদের একজন যখন তার হাত হারিয়েছিল তখন তার নাম রাখা হয়েছিল , বেহেশতের উড়ন্ত ব্যক্তি ” এবং দুই পাখা বিশিষ্ট ব্যক্তি ৷ ” আত্ম - প্রশংসা যদি আল্লাহ নিষিদ্ধ না করতেন। তবে আমি আমাদের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে অনেক কিছু লিখতাম যা মুমিনগণের ভালোভাবে জানা আছে এবং যা মুমিন শ্রোতাগণ কখনো ভুলে যাবে না।

যাদের তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট তাদের সঙ্গে কথা না বলাই ভাল। আমরা হলাম সরাসরি আল্লাহর নেয়ামত ও রহমতের গ্রহীতা । অপরপক্ষে অন্যরা আমাদের কাছ থেকে তা পেয়ে থাকে। তোমাদের চেয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের সুপ্রতিষ্ঠিত সম্মান ও সুপরিজ্ঞাত প্রাধান্য সত্ত্বেও আমরা তোমাদের সাথে মেলামেশা ও বিবাহ বন্ধন করা থেকে বিরত থাকিনি। আমরা তোমাদেরকে সমান মনে করতাম। যদিও বাস্তবে তোমরা তা ছিলে না। আর কী করেই বা তোমরা আমাদের সমান হবে যেখানে আমাদের মাঝে রয়েছে আল্লাহর রাসূল আর তোমাদের মাঝে তার বিরোধীরা ;আমাদের মাঝে আল্লাহর সিংহ আর তোমাদের মাঝে আল্লাহ - বিরোধী দলের সিংহ ,আমাদের মাঝে বেহেশতের যুবকদের দু জন মনিব আর তোমাদের মাঝে দোযখের সন্তান ;আমাদের মাঝে জগতের সেরা নারী । আর তোমাদের মাঝে জ্বালানী কাঠ বহনকারিনী ;এভাবে আমাদের রয়েছে হাজারো বৈশিষ্ট্য আর তোমাদের রয়েছে অসংখ্য দোষ - ত্রুটি ও হীনতা ।

আমাদের ইসলাম সুপরিজ্ঞাত এবং আমাদেরকে প্রাক - ইসলামি কালেও কেউ অস্বীকার করতে পারেনি। যা অবশিষ্ট রয়েছে তা মহিমান্বিত আল্লাহর কথায় উল্লেখ করা যায়ঃ

“ আল্লাহর কিতাব অনুসারে রক্ত - সম্পর্কীয় আত্নীয়গণ একে অপরের জন্য অধিকতর ঘনিষ্ট ” (কুরআন - ৩৩.৬) |

মহিমান্বিত আল্লাহ আরো বলেছেনঃ

“ নিশ্চয়ই ,মানুষের মধ্যে তারাই ইব্রাহীম ও এ নবীর (মুহাম্মদ) সব চাইতে নিকটবর্তী যারা তাঁকে অনুসরণ করে ও বিশ্বাস করে ;এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনগণের অভিভাবক ” (কুরআন - ৩:৬৮) এভাবে আমরা জ্ঞাতিত্ব ও আনুগত্য উভয় দিকেই তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সকিফায় (বনু সায়দার) যখন মুহাজিরগণ আল্লাহর রাসূলের জ্ঞাতিত্বের কথা বলে আনসারদের সাথে প্রতিযোগিতা করে কৃতকার্য হয়েছিল তখন সে অধিকার আমাদের তোমাদের নয়। একথা স্বীকার না করলে আনসারদের বক্তব্য সঠিক বলে প্রতিষ্ঠিত হবে। তুমি মনে কর যে ,আমি প্রত্যেক খলিফার প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ ছিলাম এবং তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলাম। তোমার এ ধারণা সঠিক হলেও এটা তোমার বিরুদ্ধে কোন অপরাধ নয় এবং সেহেতু এতে তোমাকে ব্যাখ্যা দেয়ার মতো কিছু নেই।

তুমি বলেছো যে ,আমাকে উটের মতো নাকে দড়ি দিয়ে আবু বকরের কাছে আনুগত্যের শপথ গ্রহণের জন্য টেনে - হেচড়ে নিয়ে গেছে। চিরন্তন আল্লাহর কসম ,তুমি এ কথা দ্বারা আমাকে তীব্রভাবে গালাগালি করার ইচ্ছা পোষণ করেছো। প্রকৃতপক্ষে তোমার একথা দ্বারা আমার প্রশংসা ব্যক্ত করেছো। আমাকে অপদস্থ করতে গিয়ে তুমি নিজেই অপদস্ত হয়েছে। একজন মুসলিম অত্যাচারের শিকার হলে তাতে তার কি কোন অবমাননা হয় ?

একজন মুসলিমের পক্ষে দ্বীনে সন্দেহ পোষণ করা বা তার দৃঢ় ইমানে ফাটল ধরা প্রকৃতপক্ষে অবমাননাকর। আমার এ যুক্তি অন্যদের জন্য হলেও তোমার বেলায় প্রযোজ্য বলে ব্যক্ত করলাম।

তারপর তুমি উসমান ও আমার মর্যাদা সম্পর্কে লিখেছো। এ বিষয়ে তুমি একটা উত্তর পেতে পার ;কারণ উসমান তোমার জ্ঞাতি। সুতরাং এখন তুমি আমাকে বল ,তোমাদের মধ্যে কে উসমানের প্রতি বেশি শক্র ভাবাপন্ন ছিল এবং উসমানের হত্যা সংঘটিত করায় কার ভূমিকা বেশি ছিল। অথবা তুমি আমাকে বল ,কে তাকে সমর্থন দিতে গেলে অন্যজন তা থামিয়ে দিয়েছে ;অথবা কে সে ব্যক্তি যাকে সে সাহায্যের জন্য আহবান করেছিল ;কিন্তু সে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল এবং তার মৃত্যুকে এগিয়ে নিয়ে এসেছিল ? না ,না ;আল্লাহর কসমঃ

আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে কারা বাধা দেয় এবং তাদের ভ্রাতৃগণকে বলে ,আমাদের সঙ্গে আসো এরা অল্পই যুদ্ধে অংশ নেয় (কুরআন - ৩৩:১৮) ।

তার বিদা তের জন্য আমার ওজর দেখিয়ে আমি তাকে তিরস্কার করতে যাচ্ছি না। কারণ তার প্রতি আমার উত্তম পরামর্শ ও হেদায়েত যদি পাপ হয়ে থাকে তবে প্রায়শই যে ব্যক্তিকে দোষারোপ করা হয় তার কোন পাপ নেই। প্রবাদে আছে কখনো কখনো উপদেষ্টার একমাত্র পুরস্কার হলো মন্দের সন্দেহ।

আমি সংস্কার ছাড়া কোন কিছুই আশা করিনি যা আমি করতে সমর্থ এবং আমার হেদায়েত আল্লাহর প্রতি আহবান ছাড়া অন্য কিছু নয় ;আমি তাঁর ওপর নির্ভর করি এবং তাঁর প্রতি আমার প্রত্যাবর্তন (কুরআন - ১১:৮৮)

তুমি লিখেছো আমি ও আমার অনুসারীদের জন্য তোমার তরবারি রয়েছে। তোমার এ কথায় ক্রন্দনরত লোকও হাসবে। তুমি কি কখনো দেখেছো আবদুল মুত্তালিবের বংশ যুদ্ধ থেকে পালিয়ে গেছে ? অথবা তরবারিকে ভয় পেয়েছে ? "হামাল যুদ্ধে যোগদান করা পর্যন্ত অপেক্ষা কর ” । সহসাই তুমি যাকে খুঁজছো (যুদ্ধ) সে তোমাকে খুঁজবে ,তুমি যাকে দূরে ভাবছো সে তোমার কাছে পৌছবে। সহসাই আমি মুহাজির ও আনসার বাহিনী নিয়ে তোমার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাব এবং যারা তাদের অনুসরণ করবে তারা সকলেই ধার্মিক। তাদের সংখ্যা হবে বিশাল এবং তাদের পায়ের আঘাতের ধুলি চতুর্দিক অন্ধকার করে দেবে। তারা তাদের কাফন পরিহিত থাকবে এবং তাদের ঐকান্তিক আকাঙ্খা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত। তাদের সাথে থাকবে বদরীদের বংশধর এবং তাদের হাতে থাকবে হাশিমীদের তরবারি ,যে তরবারির কাটা তোমার ভাই ,মামা ,দাদা ও জ্ঞাতি - গোষ্ঠীর বেলায় তুমি নিজেই প্রত্যক্ষ করেছো ।

তারা অন্যায়কারীদের থেকে বেশি দূরে নয় (কুরআন - ১১:৮৩)

____________________

১। আবু উমামাহ আল বাহিলী ও আবু মুসলিম আল খাওলানীর মাধ্যমে মুয়াবিয়া কুফায় দু খানা পত্র প্রেরণ করেছিল। সে পত্র দু টির প্রত্যুত্তরে আমিরুল মোমেনিন উক্ত পত্র লিখেছিলেন। আবু উমামার মাধ্যমে প্রেরিত পত্রে মুয়াবিয়া রাসূলের প্রেরণ ও ধর্ম প্রচার সম্বন্ধে এমনভাবে লিখেছিলো যেন আমিরুল মোমেনিন তা জানতেন না বা বুঝতে পারেননি। সে জন্য তিনি মুয়াবিয়ার কথাকে হাযারে খেজুর আনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এটা একটা আরবি প্রবাদ। হাযার বাহরাইনের নিকটবর্তী একটা শহর। এখানে প্রচুর খেজুর ফলে। সত্যুরাং এ স্থলে খেজুর নিয়ে আসা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। রাসূল সম্বন্ধে লেখার পর মুয়াবিয়া তিনজন খলিফার গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখেছিলঃ

সাহাবাগণের মধ্যে সব চাইতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ছিলেন প্রথম খলিফা যিনি মুসলিমগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং যারা ইসলাম পরিত্যাগ করে যাচ্ছিল তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন । তার পরে দ্বিতীয় খলিফা বিজয়ী হয়ে শহরসমূহের গোড়া পত্তন করেছিলেন। এবং কাফেরদের অপমানিত করেছিলেন । তারপর তৃতীয় খলিফা এলেন যিনি অত্যাচারের শিকার হলেন । তিনি ধর্মের প্রসার ঘটিয়েছিলেন এবং দূর - দূরান্তরে আল্লাহর বাণী বিস্তার করেছিলেন (মিনকারী ,পৃঃ ৮৬ - ৮৭ ;রাব্বিহী ,৪র্থ খণ্ড ,পৃঃ ৩৩৪ - ৩৩৫ ;হাদীদ ,১৫শ খণ্ড , পৃঃ১৮৬)

আমিরুল মোমেনিনকে এসব লেখার পিছনে মুয়াবিয়ার একটা সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র ছিল। সে ভেবেছিল তার কথায় আমিরুল মোমেনিন মানসিক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পূর্বের খলিফা সম্বন্ধে কটুক্তি ও অবজ্ঞাকর উক্তি করলে তা সিরিয়া ও ইরাকের জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের ক্ষেপিয়ে তুলবে। বস্তুতঃ সে অনেক আগ থেকেই সিরিয়ার মানুষের কাছে প্রচার করে বেড়াচ্ছিল যে ,আমিরুল মোমেনিন মানুষকে উসমানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল ,তালহা ও জুবায়েরকে হত্যা করিয়েছিল ,আয়শাকে তার ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল এবং হাজার হাজার মুসলিমের রক্তপাত ঘটিয়েছিল। আমিরুল মোমেনিন তার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে এমন জবাব দিয়েছিলেন যাতে তার হীনতা ,ইসলামের প্রতি শক্রিতা ,পরাজিত হয়ে সাধারণ ক্ষমায় ইসলাম গ্রহণ করা ,মুহাজিরগণ সর্বতোভাবে তার চেয়ে উন্নত ইত্যাদি ব্যক্ত করেছিলেন। তাতে সে আমিরুল মোমেনিনের লেখা কাউকে দেখাতেও সাহস করেনি ।

এরপর আমিরুল মোমেনিন হাশিম বংশের বিশেষ মর্যদার কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন যে ,অনেক লোক রাসূলের সঙ্গে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে শাহাদত বরণ করেছিল। কিন্তু হামজার শাহাদত বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। রাসূল নিজেই হামজার জন্য শোক প্রকাশ করেছিলেন। এ বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত আছে। রাসূল (সা.) চৌদ্দবার হামজার জানাযা করেছিলেন। তাতে সত্তরবার তকবির (আল্লাহু আকবর) দিয়েছিলেন। রাসূল তাকে শহীদগণের প্রধান বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। একইভাবে বিভিন্ন জিহাদে অনেকেরই হাত কাটা গিয়েছিল। উদাহরণ স্বরূপ বদর যুদ্ধে ,কুবায়েব ইবনে ইসাফ আল আনসারী ও মু ’ আজ ইবনে জাবাল এবং ওহুদ যুদ্ধে আমর ইবনে আল জামুহ আস - সালামী ও উবায়েদ (আতিক) ইবনে তাঈহান তাদের হাত হারিয়েছিল। কিন্তু মুতাহ যুদ্ধে জাফর ইবনে আবি তালিব যখন তার হাত হারালো রাসূল তাকে বেহেশতের উড়ন্ত মানুষ ” ও দুপাখা বিশিষ্ট ” বলে নামকরণ করলেন। এরপর আমিরুল মোমেনিন তাঁর নিজের বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করলেন। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। হাদিসবেত্তা আহমদ ইবনে হাম্বল (হিঃ ১৬৪ ২৪১) ,আহম্মদ ইবনে আলী নাসাঈ (হিঃ ২১৫ ৩০৩) এবং অন্যানারা বলেনঃ

আলী ইবনে আবি তালিবের বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে যত হাদিস বর্ণিত আছে তার সংখ্যা সকল সাহাবা অপেক্ষা অধিক (নিশাবুরী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১০৭: বার ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১১১৫ হাম্বলী ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৩১৯ ,আছীর ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৩৯৯ ;আসকালানী ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ৫৭. আসকালানী ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ৩৩৯) ।

আহলুল বাইতের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমিরুল মোমেনিন বলেন , আমরা সরাসরি আল্লাহর আনুকূল্যের গ্রহীতা আর অন্যরা আমাদের কাছ থেকে আনুকূল্য পেয়ে থাকে। ” এর চেয়ে বেশী মযর্দাপূর্ণ অবস্থা আর কিছু হতে পারে না। হাদীদ লিখেছেনঃ

আমিরুল মোমেনিন মূলতঃ যা বুঝাতে চেয়েছেন তা হলো - তাঁরা কোন মানুষের দায়িত্বাধীন নন ,কারণ আল্লাহ সরাসরি তাঁদের ওপর তাঁর রহমত প্রদান করে থাকেন । অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁদের মধ্যে বেসান মধ্যস্থতাকারী নেই । অপরপক্ষে অন্য সকল লোক তাঁদের দায়িত্বাধীন এবং তাঁরা হলেন মহিমান্বিত আল্লাহ ও মানুষের মধ্যস্থতাকারী। আমিরুল মোমেনিনের উক্তি বাহ্যিকভাবে শাব্দিক অর্থে যা আছে তাই । কিন্তু নিগুঢ় তত্ত্বপূর্ণ অর্থ হলো - আহলুল বাইত আল্লাহর অনুগত বান্দা এবং অন্য সকলকে অবশ্যই তাঁদের অনুগত অনুসারী হতে হবে।(হাদীদ ,১৫শ ,পৃঃ১৯৪) ।

কাজেই যারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রথম গ্রহীতা এবং অন্যদের জন্য সে নেয়ামতের উৎস তাদের সঙ্গে অন্য কারো তুলনা হতে পারে না। সামাজিক সংশ্রবের কারণে অন্য কেউ তাদের সমকক্ষ হতে পারে না। সে ক্ষেত্রে যারা সত্য ও ন্যায়ের বিরোধিতা করে তাদের সঙ্গে সমকক্ষতার কোন প্রশ্নই উঠে না। সে কারণে আমিরুল মোমেনিন উভয় দিকের চিত্র মুয়াবিয়ার সামনে তুলে ধরেছেনঃ

রাসূল আমাদের মধ্য থেকে এসেছিলেন আর তোমার পিতা আবু সুফিয়ান ছিল তাঁর বিরুদ্ধবাদীদের নেতা। হামজা ছিলেন আমাদের মধ্য থেকে এবং রাসূল তাকে আল্লাহর সিংহ ’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন ;আর তোমার নানা উৎবা ইবনে রাবিয়াহ আসাদুল আহলাফ ’ (রাসূলের বিরুদ্ধে মিত্র শক্তির সিংহ) বলে গর্ব করতো ।

বদর যুদ্ধে উৎবা যখন হামজার মুখোমুখি হলো তখন হামজা বললেন , আমি আবদুল মুত্তালিবের পুত্র হামজা। আমি আল্লাহ ও তার রাসূলের সিংহ। ” এতে উৎবা বললো , আমি আসাদুল আহলাফ (তোমাদের বিরুদ্ধে মিত্র শক্তির সিংহ) । কোন কোন টীকাকার লিখেছেন আসাদুল আহলাফ ” - এ কুখ্যাত উপাধি খন্দকের যুদ্ধে আবু সুফিয়ানের ছিল।

২ । তারপর আমিরুল মোমেনিন তাদের বৈশিষ্ট্য হিসাবে বললেন যে ,বেহেশতের যুবকদের সর্দার তাদের মধ্যেই রয়েছে। অপরপক্ষে দোযখের যুবকরা মুয়াবিয়াদের বংশোদ্ভূত। এ বিষয়ে রাসূল (সা.) বলেছেন , হাসান ও হুসাইন বেহেশতের যুবকদের নেতা। ” অপরপক্ষে উকবাহ ইবনে আবি মুইয়াত সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছিলেন , তুমি ও তোমার সন্তানগণের জন্য দোযখ নির্ধারিত। ”

৩ । অতঃপর আমিরুল মোমেনিন তাদের বৈশিষ্ট্য হিসাবে বললেন যে জগতের সকল নারীর নেত্রী (ফাতিমাতুজ জোহরা) তাদের মধ্যেই রয়েছে। অপরপক্ষে মুয়াবিয়াদের মাঝে রয়েছে জ্বালানী কাষ্ঠ কুড়ানি মহিলা। আমিরুল মোমেনিন ,উমর ইবনে খাত্তাব ,আবু হুজায়ফা ইবনে ইয়েমেন ,সা ’ দ খুদরী ,আবু হুরায়রাহ প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে ,রাসূল (সা.) বলেছিলেনঃ

নিশ্চয়ই ,ফাতিমা বেহেশতের সকল নারীর নেত্রী এবং হাসান ও হুসাইন বেহেশতের যুবকদের নেতা। কিন্তু তাদের পিতা (আলী) তাদেরও নেতা।(তিরমিয়ী ,৫ম খণ্ড , পৃঃ৬৫৬ ও ৬৬১ ;হাম্বল , ৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৩ ,৬২ ,৬৪.ও ৮২ ;মাজাহ ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৫৬ নিশাবুরী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১৬৭: শাফী ,৯ম খণ্ড ,পৃঃ ১৮৩ ,১৮৪ ,২০১: হিন্দি ,১৩শ খণ্ড ,পৃঃ ১২৭ ,১২৮ বার ,৪র্থ খণ্ড ,পৃঃ ১৮৯৫: আছীর ,৫ম খণ্ড ,পৃঃ ৫৭৪ ;বাগদাদী , ১ম খণ্ড ,পৃঃ ১৪০ ,৬ষ্ঠ খণ্ড ,পৃঃ ৩৭২ ,১০ খণ্ড ,পৃঃ ২৩০: আসাকীরা ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ৩৬৫)

ইমরান ইবনে হুসাইন ও আবু ছালাবাহ আল - খুশনী থেকে বর্ণিত আছে যে ,রাসূল (সা.) ফাতিমাকে বলেছিলেনঃ হে আমার প্রাণপ্রিয় কন্যা ,তুমি কি এ সংবাদ শুনে খুশি হবে না যে ,তুমি রমণীকুলের সম্রাজ্ঞী ? ফাতিমা বললেন ,পিতা ,তাহলে ইমরানের কন্যা মরিয়ামের কী হবে ? রাসূল (সা.) বললেন ,সে তার যুগে শ্রেষ্ঠ রমণী আর তুমি তোমার যুগ থেকে অনাদিকাল পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ । নিশ্চয়ই ,আল্লাহর কসম ,আমি ইহজগত ও পরজগতের নেতার সাথে তোমার বিয়ে দিয়েছি । মোনাফিক ছাড়া আর কেউ তার প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ করবে না | (ইসফাহানী ,২য় খণ্ড ,পৃঃ ৩২: বার ,৪র্থ খণ্ড ,পৃঃ ১৮৯৫) |

আয়শা থেকে বর্ণিত আছে যে ,রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ হে ফাতিমা ,তুমি কি শুনে খুশি হবে না যে ,তুমি আমার উম্মতের সকল নারীর শ্রেষ্ঠ ,মুমিন নারীগণের নেত্রী এবং জগতের সকল নারীর শ্রেষ্ঠ (বুখারী ,৮ম খণ্ড ,পৃঃ ৭৯: নিশাবুরী ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ১৪২ - ১৪৪ ,মাজাহ ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৫১৮ হাম্বল ,৬ষ্ঠ খণ্ড ,পৃঃ ২৮ - ২ ,নিশাবুরী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১৫৬) ।

অপরপক্ষে মুয়াবিয়ার বংশে ছিল হীনা ও দুশ্চরিত্রা রমণী। এমনকি জ্বালানী কাঠ কুড়ানি রমণীও ছিল যেমন ,উন্মে জামিলা যার কথা কুরআনেও অভিসম্পাত হিসাবে এসেছে (কুরআন - ১১১ : ৪ ;নিশাবুরী ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১০৭ ;বার ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ১১১৫ ;হাম্বলী ,১ম খণ্ড ,পৃঃ ৩১৯ ;আছীর ,৩য় খণ্ড ,পৃঃ ৩৯৯ ;আসকালানী ,৭ম খণ্ড ,পৃঃ ৩৩৯ ;আসকালানী ,৭ খণ্ড ,পৃঃ ৫৭) ।

৪ । এটা একটা আরবি প্রবাদ বাক্য। এর কাহিনী হলো - মালিক ইবনে জুহায়েরকে হামাল ইবনে বদর যুদ্ধক্ষেত্রে একথা বলে ধমকিয়ে আক্রমণ করে হত্যা করেছিল। মূল ছন্দটা ছিল , হামাল যুদ্ধক্ষেত্রে পৌছা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা কর ,তবেই দেখতে পাবে মৃত্যু কত সহজ। ”

পত্র - ২৯

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى أَهْلِ الْبَصْرَةِ

وَ قَدْ كانَ مِنِ انْتِشارِ حَبْلِكُمْ(خیلکم) وَ شِقاقِكُمْ ما لَمْ تَغْبَوْا عَنْهُ، فَعَفَوْتُ عَنْ مُجْرِمِكُمْ، وَ رَفَعْتُ السَّيْفَ عَنْ مُدْبِرِكُمْ، وَ قَبِلْتُ مِنْ مُقْبِلِكُمْ، فَإِنْ خَطَتْ بِكُمُ الْأُمُورُ الْمُرْدِيَةُ، وَ سَفَهُ الْآرأِ الْجائِرَةِ إِلى مُنابَذَتِي وَ خِلافِي، فَها أَنَا ذا قَدْ قَرَّبْتُ جِيَادِي وَ رَحَلُتْ رِكَابِي، وَ لَئِنْ أَلْجَأْتُمُونِي إِلَى الْمَسِيرِ إِلَيْكُمْ لَأُوقِعَنَّ بِكُمْ وَقْعَةً لاَ يَكُونُ يَوْمُ الْجَمَلِ إِلَيْهَا إِلا كَلَعْقَةِ لاَعِقٍ؛ مَعَ أَنِّي عَارِفٌ لِذِي الطَّاعَةِ مِنْكُمْ فَضْلَهُ، وَلِذِي النَّصِيحَةِ حَقَّهُ، غَيْرُ مُتَجَاوِزٍ مُتَّهَما إِلَى بَرِيِّ، وَ لاَ نَاكِثا إِلَى وَفِيِّ.

বসরার জনগণের প্রতি

তোমাদের মধ্যে যে অনৈক্য ও বিচ্ছিন্নতা রয়েছে তা তোমাদের কাছে গোপন নয়। তোমাদের মধ্যকার অন্যায়কারীগণকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি এবং যারা পলায়ন করেছিল তাদের ওপর থেকে আমার তরবারি সম্বরণ করে রেখেছিলাম। তোমাদের মধ্য থেকে যারা আমার কাছে এসেছিল তাদের প্রত্যেককে আমি গ্রহণ করেছিলাম। যদি তোমাদের বিভ্রান্তি ও মূর্খতাপূর্ণ খেয়াল আর বিধ্বস্তকারী বিষয়াদির ফলে তোমরা আমার প্রতি আঙ্গিকার ভঙ্গ কর এবং আমার বিরোধিতা কর তবে শুনে রাখো ,আমি আমার অশ্বকে প্রস্তুত রেখেছি এবং আমার উটগুলো জিন পরানো অবস্থায় আছে। যদি তোমাদের দিকে ধাবিত হতে আমাকে বাধ্য কর তা হলে এমনভাবে আমি আসব যাতে জামালের যুদ্ধকে তোমরা অতিক্ষুদ্র খণ্ড যুদ্ধ মনে করবে। তোমাদের যারা আমার অনুগত তাদের উচ্চ মর্যাদা সম্বন্ধে আমি জানি। কাজেই অকৃত্রিমদের সাথে অপরাধীর এবং বিশ্বাসীর সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর অধিকার এক হতে পারে না ।

পত্র - ৩০

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى مُعاوِيَةَ

فَاتَّقِ اللَّهَ فِيمَا لَدَيْكَ، وَانْظُرْ فِي حَقِّهِ عَلَيْكَ، وَارْجِعْ إِلَى مَعْرِفَةِ مَا لاَ تُعْذَرُ بِجَهَالَتِهِ، فَإِنَّ لِلطَّاعَةِ أَعْلاَما وَاضِحَةً، وَ سُبُلاً نَيِّرَةً، وَ مَحَجَّةً نَهْجَةً، وَ غَايَةً مُطَّلَبَةً(مطلوبة) ، يَرِدُهَا الْأَكْيَاسُ، وَ يُخَالِفُهَا الْأَنْكَاسُ؛ مَنْ نَكَبَ عَنْهَا جَارَ عَنِ الْحَقِّ، وَ خَبَطَ فِي التِّيهِ، وَ غَيَّرَ اللَّهُ نِعْمَتَهُ، وَ أَحَلَّ بِهِ نِقْمَتَهُ. فَنَفْسَكَ نَفْسَكَ! فَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَكَ سَبِيلَكَ، وَ حَيْثُ تَنَاهَتْ بِكَ أُمُورُكَ، فَقَدْ أَجْرَيْتَ إِلَى غَايَةِ خُسْرٍ، وَ مَحَلَّةِ كُفْرٍ، وَ اِنَّ نَفْسَكَ قَدْ أَوْلَجَتْكَ شَرّاً، وَ أَقْحَمَتْكَ غَيّاً، وَ أَوْرَدَتْكَ الْمَهَالِكَ، وَ أَوْعَرَتْ عَلَيْكَ الْمَسَالِكَ.

মুয়াবিয়ার প্রতি

তুমি ঐশ্বর্যের যে পাহাড় গড়ে তুলেছো সেজন্য আল্লাহকে ভয় কর এবং সে ঐশ্বর্যে তোমার প্রকৃত অধিকার কতটুকু তা নির্ধারণ কর। সেসব বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হয়ে বুঝতে চেষ্টা কর যেসব বিষয়ে অজ্ঞতার ওজর দেখিয়ে পার পেতে পারবে না। নিশ্চয়ই ,আনুগত্যের পথ অনুসরণের জন্য সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে ,উজ্জ্বল পথ রয়েছে ,সোজা রাস্তা রয়েছে এবং রয়েছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য। বিচক্ষণগণ আনুগত্যের দিকে এগিয়ে যায় আর হীনমন্যগণ সে দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। যে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে ন্যায় থেকে সরে গিয়ে বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়। তার ওপর থেকে আল্লাহ তাঁর রহমত তুলে নিয়ে যান এবং আল্লাহর শাস্তি তাকে ঘিরে ধরে। সুতরাং তোমার নিজের জন্য সাবধান হও । আল্লাহ তোমাকে তোমার পথ ও তোমার কর্মকাণ্ডের প্রান্তিক সীমা দেখিয়ে দিয়েছেন। তুমি অতি দ্রুত বেগে ক্ষতি ও বেইমানির অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছো । তোমার অহমবোধ তোমাকে পাপের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে তুমি পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হচ্ছো ,ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছো এবং সত্য পথে যেতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ।

পত্র - ৩১

و من وصية لهعليه‌السلام

لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّعليه‌السلام ، كَتَبَها إلَيْهِ «بِحاضِرِينَ» مُنْصَرِفا مِنْ صِفِّينَ:

مِنَ الْوَالِدِ الْفَانِ، الْمُقِرِّ لِلزَّمَانِ، الْمُدْبِرِ الْعُمُرِ، الْمُسْتَسْلِمِ لِلدَّهْرِ، الذّامِ لِلدُّنْيَا، السَّاكِنِ مَسَاكِنَ الْمَوْتَى، الظَّاعِنِ عَنْهَا غَدا، إِلَى الْمَوْلُودِ الْمُؤَمِّلِ مَا لاَ يُدْرِكُ، السَّالِكِ سَبِيلَ مَنْ قَدْ هَلَكَ، غَرَضِ الْأَسْقَامِ وَ رَهِينَةِ الْأَيَّامِ وَ رَمِيَّةِ الْمَصَائِبِ، وَ عَبْدِ الدُّنْيَا، وَ تَاجِرِ الْغُرُورِ، وَ غَرِيمِ الْمَنَايَا، وَ أَسِيرِ الْمَوْتِ، وَ حَلِيفِ الْهُمُومِ، وَ قَرِينِ الْأَحْزَانِ، وَ نُصُبِ الْآفَاتِ، وَ صَرِيعِ الشَّهَوَاتِ، وَ خَلِيفَةِ الْأَمْوَاتِ.

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ فِيمَا تَبَيَّنْتُ مِنْ إِدْبَارِ الدُّنْيَا عَنِّي وَ جُمُوحِ الدَّهْرِ عَلَيَّ، وَ إِقْبَالِ الْآخِرَةِ إِلَيَّ، مَا يَزَعُنِي عَنْ ذِكْرِ مَنْ سِوَايَ، وَالاِهْتِمَامِ بِمَا وَرَائِي، غَيْرَ أَنِّي حَيْثُ تَفَرَّدَ بِي - دُونَ هُمُومِ النَّاسِ - هَمُّ نَفْسِي، فَصَدَقَنِي رَأْيِي، وَ صَرَفَنِي عَنْ هَوَايَ، وَ صَرَّحَ لِي مَحْضُ أَمْرِي، فَأَفْضَى بِي إِلَى جِدِّ لاَ يَكُونُ فِيهِ لَعِبٌ، وَ صِدْقٍ لاَ يَشُوبُهُ كَذِبٌ. وَجَدْتُكَ بَعْضِي، بَلْ وَجَدْتُكَ كُلِّي، حَتَّى كَأَنَّ شَيْئاً لَوْ أَصَابَكَ أَصَابَنِي، وَ كَأَنَّ الْمَوْتَ لَوْ أَتَاكَ أَتَانِي، فَعَنَانِي مِنْ أَمْرِكَ مَا يَعْنِينِي مِنْ أَمْرِ نَفْسِي، فَكَتَبْتُ إِلَيْكَ كِتَابِي مُسْتَظْهِراً بِهِ إِنْ أَنَا بَقِيتُ لَكَ أَوْ فَنِيتُ.

فَإِنِّي أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ -أَيْ بُنَيَّ - وَ لُزُومِ أَمْرِهِ، وَ عِمَارَةِ قَلْبِكَ بِذِكْرِهِ وَالاِعْصَامِ بِحَبْلِهِ. وَ أَيُّ سَبَبٍ أَوْثَقُ مِنْ سَبَبٍ بَيْنَكَ وَ بَيْنَ اللَّهِ إِنْ أَنْتَ أَخَذْتَ بِهِ! أَحْيِ قَلْبَكَ بِالْمَوْعِظَةِ، وَ أَمِتْهُ بِالزَّهَادَةِ، وَ قَوِّهِ بِالْيَقِينِ، وَ نَوِّرْهُ بِالْحِكْمَةِ وَ ذَلِّلْهُ بِذِكْرِ الْمَوْتِ، وَ قَرِّرْهُ بِالْفَنَأِ، وَ بَصِّرْهُ فَجَائِعَ الدُّنْيَا، وَ حَذِّرْهُ صَوْلَةَ الدَّهْرِ، وَ فُحْشَ تَقَلُّبِ اللَّيَالِي وَالْأَيَّامِ، وَاعْرِضْ عَلَيْهِ أَخْبَارَ الْمَاضِينَ، وَ ذَكِّرْهُ بِمَا أَصَابَ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ مِنَ الْأَوَّلِينَ، وَ سِرْ فِي دِيَارِهِمْ وَ آثَارِهِمْ، فَانْظُرْ فِيمَا فَعَلُوا، وَ عَمَّا انْتَقَلُوا، وَ أَيْنَ حَلُّوا وَ نَزَلُوا! فَإِنَّكَ تَجِدُهُمْ قَدِ انْتَقَلُوا عَنِ الْأَحِبَّةِ، وَ حَلُّوا دِيَارَ الْغُرْبَةِ، وَ كَأَنَّكَ عَنْ قَلِيلٍ قَدْ صِرْتَ كَأَحَدِهِمْ، فَأَصْلِحْ مَثْوَاكَ، وَ لاَ تَبِعْ آخِرَتَكَ بِدُنْيَاكَ؛ وَدَعِ الْقَوْلَ فِيمَا لاَ تَعْرِفُ، وَالْخِطَابَ فِيمَا لَمْ تُكَلَّفْ، وَ أَمْسِكْ عَنْ طَرِيقٍ إِذَا خِفْتَ ضَلاَلَتَهُ، فَإِنَّ الْكَفَّ عِنْدَ حَيْرَةِ الضَّلاَلِ خَيْرٌ مِنْ رُكُوبِ الْأَهْوَالِ.

وَ أْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ تَكُنْ مِنْ أَهْلِهِ، وَأَنْكِرِ الْمُنْكَرَ بِيَدِكَ وَ لِسَانِكَ، وَ بَايِنْ مَنْ فَعَلَهُ بِجُهْدِكَ، وَ جَاهِدْ فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ، وَ لاَ تَأْخُذْكَ فِي اللَّهِ لَوْمَةُ لاَئِمٍ، وَ خُضِ الْغَمَرَاتِ لِلْحَقِّ حَيْثُ كَانَ وَ تَفَقَّهْ فِي الدِّينِ وَ عَوِّدْ نَفْسَكَ الصَّبْرَ عَلَى الْمَكْرُوهِ، وَ نِعْمَ الْخُلُقُ التَّصَبُرُ فِي الْحَقِّ! وَ أَلْجِئْ نَفْسَكَ فِي الأمُورِ كُلِّهَا إِلَى إِلَهِكَ فَإِنَّكَ تُلْجِئُهَا إِلَى كَهْفٍ حَرِيزٍ، وَ مَانِعٍ عَزِيزٍ. وَ أَخْلِصْ فِي الْمَسْأَلَةِ لِرَبِّكَ، فَإِنَّ بِيَدِهِ الْعَطَأَ وَالْحِرْمَانَ، وَ أَكْثِرِ الاِسْتِخَارَةَ، وَ تَفَهَّمْ وَصِيَّتِي، وَ لاَ تَذْهَبَنَّ عَنْها صَفْحا، فَإِنَّ خَيْرَ الْقَوْلِ مَا نَفَعَ. وَاعْلَمْ أَنَّهُ لاَ خَيْرَ فِي عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ، وَ لاَ يُنْتَفَعُ بِعِلْمٍ لاَ يَحِقُّ تَعَلُّمُهُ.

أَيْ بُنَيَّ، إِنِّي لَمَّا رَأَيْتُنِي قَدْ بَلَغْتُ سِنّاً، وَ رَأَيْتُنِي أَزْدَادُ وَهْناً، بَادَرْتُ بِوَصِيَّتِي إِلَيْكَ، وَ أَوْرَدْتُ خِصَالاً مِنْهَا قَبْلَ أَنْ يَعْجَلَ بِي أَجَلِي دُونَ أَنْ أُفْضِيَ إِلَيْكَ بِمَا فِي نَفْسِي، أَوْ أَنْ أُنْقَصَ فِي رَأْيِي كَمَا نُقِصْتُ فِي جِسْمِي، أَوْ يَسْبِقَنِي إِلَيْكَ بَعْضُ غَلَبَاتِ الْهَوَى، وَ فِتَنِ الدُّنْيَا، فَتَكُونَ كَالصَّعْبِ النَّفُورِ. وَ إِنَّمَا قَلْبُ الْحَدَثِ كَالْأَرْضِ الْخَالِيَةِ، مَا أُلْقِيَ فِيهَا مِنْ شَيْءٍ قَبِلَتْهُ. فَبَادَرْتُكَ بِالْأَدَبِ قَبْلَ أَنْ يَقْسُوَ قَلْبُكَ، وَ يَشْتَغِلَ لُبُّكَ، لِتَسْتَقْبِلَ بِجِدِّ رَأْيِكَ مِنَ الْأَمْرِ مَا قَدْ كَفَاكَ أَهْلُ التَّجَارِبِ بُغْيَتَهُ وَ تَجْرِبَتَهُ، فَتَكُونَ قَدْ كُفِيتَ مَؤ ونَةَ الطَّلَبِ وَ عُوفِيتَ مِنْ عِلاَجِ التَّجْرِبَةِ، فَأَتَاكَ مِنْ ذَلِكَ مَا قَدْ كُنَّا نَأْتِيهِ، وَاسْتَبَانَ لَكَ مَا رُبَّمَا أَظْلَمَ عَلَيْنَا مِنْهُ.

أَيْ بُنَيَّ، إِنِّي وَ إِنْ لَمْ أَكُنْ عُمِّرْتُ عُمُرَ مَنْ كَانَ قَبْلِي، فَقَدْ نَظَرْتُ فِي أَعْمَالِهِمْ، وَ فَكَّرْتُ فِي أَخْبَارِهِمْ، وَ سِرْتُ فِي آثَارِهِمْ؛ حَتَّى عُدْتُ كَأَحَدِهِمْ؛ بَلْ كَأَنِّي بِمَا انْتَهَى إِلَيَّ مِنْ أُمُورِهِمْ قَدْ عُمِّرْتُ مَعَ أَوَّلِهِمْ إِلَى آخِرِهِمْ، فَعَرَفْتُ صَفْوَ ذَلِكَ مِنْ كَدَرِهِ، وَ نَفْعَهُ مِنْ ضَرَرِهِ، فَاسْتَخْلَصْتُ لَكَ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ نَخِيلَهُ(جلیله) ، وَ تَوَخَّيْتُ لَكَ جَمِيلَهُ، وَ صَرَفْتُ عَنْكَ مَجْهُولَهُ، وَ رَأَيْتُ حَيْثُ عَنَانِي مِنْ أَمْرِكَ مَا يَعْنِي الْوَالِدَ الشَّفِيقَ، وَ أَجْمَعْتُ عَلَيْهِ مِنْ أَدَبِكَ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ وَ أَنْتَ مُقْبِلُ الْعُمُرِ، وَ مُقْتَبَلُ الدَّهْرِ، ذُو نِيَّةٍ سَلِيمَةٍ، وَ نَفْسٍ صَافِيَةٍ.

وَ أَنْ أَبْتَدِئَكَ بِتَعْلِيمِ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَ جَلَّ وَ تَأْوِيلِهِ، وَ شَرَائِعِ الْإِسْلاَمِ وَ أَحْكَامِهِ، وَ حَلاَلِهِ وَ حَرَامِهِ، لاَ أُجَاوِزُ ذَلِكَ بِكَ إِلَى غَيْرِهِ. ثُمَّ أَشْفَقْتُ أَنْ يَلْتَبِسَ عَلَيْكَ مَا اخْتَلَفَ النَّاسُ فِيهِ مِنْ أَهْوَائِهِمْ وَ آرَائِهِمْ مِثْلَ الَّذِي الْتَبَسَ عَلَيْهِمْ، فَكَانَ إِحْكَامُ ذَلِكَ عَلَى مَا كَرِهْتُ مِنْ تَنْبِيهِكَ لَهُ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ إِسْلاَمِكَ إِلَى أَمْرٍ لاَ آمَنُ عَلَيْكَ فيهِ الْهَلَكَةَ، وَ رَجَوْتُ أَنْ يُوَفِّقَكَ اللَّهُ فِيهِ لِرُشْدِكَ، وَ أَنْ يَهْدِيَكَ لِقَصْدِكَ، فَعَهِدْتُ إِلَيْكَ وَصِيَّتِي هَذِهِ.

وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ، أَنَّ أَحَبَّ مَا أَنْتَ آخِذٌ بِهِ إِلَيَّ مِنْ وَصِيَّتِي تَقْوَى اللَّهِ وَالاِقْتِصَارُ عَلَى مَا فَرَضَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، وَالْأَخْذُ بِمَا مَضَى عَلَيْهِ الْأَوَّلُونَ مِنْ آبَائِكَ وَالصَّالِحُونَ، مِنْ أَهْلِ بَيْتِكَ، فَإِنَّهُمْ لَمْ يَدَعُوا أَنْ نَظَرُوا لِأَنْفُسِهِمْ كَمَا أَنْتَ نَاظِرٌ، وَ فَكَّرُوا كَمَا أَنْتَ مُفَكِّرٌ، ثُمَّ رَدَّهُمْ آخِرُ ذَلِكَ إِلَى الْأَخْذِ بِمَا عَرَفُوا وَالْإِمْسَاكِ عَمَّا لَمْ يُكَلَّفُوا، فَإِنْ أَبَتْ نَفْسُكَ أَنْ تَقْبَلَ ذَلِكَ دُونَ أَنْ تَعْلَمَ كَمَا عَلِمُوا فَلْيَكُنْ طَلَبُكَ ذَلِكَ بِتَفَهُّمٍ وَ تَعَلُّمٍ، لاَ بِتَوَرُّطِ الشُّبُهَاتِ، وَ(عُلُوِّ) الْخُصُومَاتِ، وَابْدَأْ - قَبْلَ نَظَرِكَ فِي ذَلِكَ - بِالاِسْتِعَانَةِ بِإِلَهِكَ، وَالرَّغْبَةِ إِلَيْهِ فِي تَوْفِيقِكَ، وَ تَرْكِ كُلِّ شَائِبَةٍ أَوْلَجَتْكَ فِي شُبْهَةٍ، أَوْ أَسْلَمَتْكَ إِلَى ضَلاَلَةٍ. فَاِذا أَيْقَنْتَ أَنْ قَدْ صَفَا قَلْبُكَ فَخَشَعَ، وَ تَمَّ رَأْيُكَ فَاجْتَمَعَ، وَ كَانَ هَمُّكَ فِي ذَلِكَ هَمّا وَاحِدا، فَانْظُرْ فِيمَا فَسَّرْتُ لَكَ، وَ إِنْ أَنْتَ لَمْ يَجْتَمِعْ لَكَ مَا تُحِبُّ مِنْ نَفْسِكَ وَ فَرَاغِ نَظَرِكَ وَ فِكْرِكَ، فَاعْلَمْ أَنَّكَ إِنَّمَا تَخْبِطُ الْعَشْوَاءَ، وَ تَتَوَرَّطُ الظَّلْمَاءَ. وَ لَيْسَ طَالِبُ الدِّينِ مَنْ خَبَطَ وَ لا مِنْ خَلَطَ، وَالْإِمْسَاكُ عَنْ ذَلِكَ أَمْثَلُ.

فَتَفَهَّمْ يَا بُنَيَّ، وَصِيَّتِي، وَاعْلَمْ أَنَّ مَالِكَ الْمَوْتِ هُوَ مَالِكُ الْحَيَاةِ، وَ أَنَّ الْخَالِقَ هُوَ الْمُمِيتُ، وَ أَنَّ الْمُفْنِيَ هُوَ الْمُعِيدُ، وَ أَنَّ الْمُبْتَلِيَ هُوَ الْمُعَافِي، وَ أَنَّ الدُّنْيَا لَمْ تَكُنْ لِتَسْتَقِرَّ إِلا عَلَى مَا جَعَلَهَا اللَّهُ عَلَيْهِ مِنَ النَّعْمَاءِ وَالاِبْتِلاَءِ وَالْجَزَأِ فِي الْمَعَادِ، وَ مَا شَأَ مِمَّا لاَ نَعْلَمُ. فَإِنْ أَشْكَلَ عَلَيْكَ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ فَاحْمِلْهُ عَلَى جَهَالَتِكَ بِهِ، فَإِنَّكَ أَوَّلُ مَا خُلِقْتَ بِهِ جَاهِلاً ثُمَّ عُلِّمْتَ، وَ مَا أَكْثَرَ مَا تَجْهَلُ مِنَ الْأَمْرِ وَ يَتَحَيَّرُ فِيهِ رَأْيُكَ، وَ يَضِلُّ فِيهِ بَصَرُكَ، ثُمَّ تُبْصِرُهُ بَعْدَ ذَلِكَ! فَاعْتَصِمْ بِالَّذِي خَلَقَكَ، وَرَزَقَكَ وَسَوَّاكَ، فَلْيَكُنْ لَهُ تَعَبُّدُكَ، وَ إِلَيْهِ رَغْبَتُكَ، وَ مِنْهُ شَفَقَتُكَ.

وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ، أَنَّ أَحَدا لَمْ يُنْبِئْ عَنِ اللَّهِسُبْحَانَهُ كَمَا أَنْبَأَ عَنْهُ الرَّسُولُصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم فَارْضَ بِهِ رَائِداً، وَ إِلَى النَّجَاةِ قَائِداً، فَإِنِّي لَمْ آلُكَ نَصِيحَةً، وَ إِنَّكَ لَنْ تَبْلُغَ فِي النَّظَرِ لِنَفْسِكَ - وَ إِنِ اجْتَهَدْتَ - مَبْلَغَ نَظَرِي لَكَ.

وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ، أَنَّهُ لَوْ كَانَ لِرَبِّكَ شَرِيكٌ لَأَتَتْكَ رُسُلُهُ، وَ لَرَأَيْتَ آثَارَ مُلْكِهِ وَ سُلْطَانِهِ، وَ لَعَرَفْتَ أَفْعَالَهُ وَ صِفَاتَهِ، وَ لَكِنَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ - كَمَا وَصَفَ نَفْسَهُ - لاَ يُضَادُّهُ فِي مُلْكِهِ أَحَدٌ، وَ لاَ يَزُولُ أَبَدا، وَ لَمْ يَزَلْ. أَوَّلٌ قَبْلَ الْأَشْيَأِ بِلاَ أَوَّلِيَّةٍ، وَ آخِرٌ بَعْدَ الْأَشْيَأِ بِلاَ نِهَايَةٍ. عَظُمَ عَنْ أَنْ تَثْبُتَ رُبُوبِيَّتُهُ بِإِحَاطَةِ قَلْبٍ أَوْ بَصَرٍ. فَإِذَا عَرَفْتَ ذَلِكَ فَافْعَلْ كَمَا يَنْبَغِي لِمِثْلِكَ أَنْ يَفْعَلَهُ فِي صِغَرِ خَطَرِهِ، وَ قِلَّةِ مَقْدِرَتِهِ، وَ كَثْرَةِ عَجْزِهِ، و عَظِيمِ حَاجَتِهِ إِلَى رَبِّهِ، فِي طَلَبِ طَاعَتِهِ، وَالرَّهْبَةِ مِنْ عُقُوبَتِهِ، وَالشَّفَقَةِ مِنْ سُخْطِهِ، فَإِنَّهُ لَمْ يَأْمُرْكَ إِلا بِحَسَنٍ، وَ لَمْ يَنْهَكَ إِلا عَنْ قَبِيحٍ.

يَا بُنَيَّ إِنِّي قَدْ أَنْبَأْتُكَ عَنِ الدُّنْيَا وَ حَالِهَا، وَ زَوَالِهَا وَانْتِقَالِهَا، وَ أَنْبَأْتُكَ عَنِ الْآخِرَةِ وَ مَا أُعِدَّ لِأَهْلِهَا فِيهَا وَ ضَرَبْتُ لَكَ فِيهِمَاالْأَمْثَالَ لِتَعْتَبِرَ بِهَا وَ تَحْذُوَ عَلَيْهَا. إِنَّمَا مَثَلُ مَنْ خَبَرَ الدُّنْيَا كَمَثَلِ قَوْمٍ سَفْرٍ نَبَا بِهِمْ مَنْزِلٌ جَدِيبٌ، فَأَمُّوا مَنْزِلاً خَصِيباً، وَ جَنَابا مَرِيعاً. فَاحْتَمَلُوا وَعْثَاءَ الطَّرِيقِ، وَ فِرَاقَ الصَّدِيقِ وَ خُشُونَةَ السَّفَرِ، وَ جُشُوبَةَ المَطْعَمِ، لِيَأْتُوا سَعَةَ دَارِهِمْ، وَ مَنْزِلَ قَرَارِهِمْ، فَلَيْسَ يَجِدُونَ لِشَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ أَلَما، وَ لاَ يَرَوْنَ نَفَقَةً فِيهِ مَغْرَما، وَ لاَ شَيْءَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِمَّا قَرَّبَهُمْ مِنْ مَنْزِلِهِمْ، وَ أَدْنَاهُمْ مِنْ مَحَلِّهِمْ. وَ مَثَلُ مَنِ اغْتَرَّ بِهَا كَمَثَلِ قَوْمٍ كَانُوا بِمَنْزِلٍ خَصِيبٍ فَنَبَا بِهِمْ إِلَى مَنْزِلٍ جَدِيبٍ، فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ إِلَيْهِمْ وَ لاَ أَفْظَعَ عِنْدَهُمْ مِنْ مُفَارَقَةِ مَا كَانُوا فِيهِ، إِلَى مَا يَهْجُمُونَ عَلَيْهِ، وَ يَصِيرُونَ إِلَيْهِ.

يَا بُنَيَّ، اجْعَلْ نَفْسَكَ مِيزَاناً فِيمَا بَيْنَكَ وَ بَيْنَ غَيْرِكَ، فَأَحْبِبْ لِغَيْرِكَ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ، وَاكْرَهْ لَهُ مَا تَكْرَهُ لَهَا، وَ لاَ تَظْلِمْ كَمَا لاَ تُحِبُّ أَنْ تُظْلَمَ، وَ أَحْسِنْ كَمَا تُحِبُّ أَنْ يُحْسَنَ إِلَيْكَ، وَاسْتَقْبِحْ مِنْ نَفْسِكَ مَا تَسْتَقْبِحُ مِنْ غَيْرِكَ، وَارْضَ مِنَ النَّاسِ بِمَا تَرْضَاهُ لَهُمْ مِنْ نَفْسِكَ، وَ لاَ تَقُلْ مَا لاَ تَعْلَمُ وَ إِنْ قَلَّ مَا تَعْلَمُ، وَ لاَ تَقُلْ مَا لاَ تُحِبُّ أَنْ يُقَالَ لَكَ. وَاعْلَمْ أَنَّ الْإِعْجَابَ ضِدُّ الصَّوَابِ وَ آفَةُ الْأَلْبَابِ، فَاسْعَ فِي كَدْحِكَ، وَ لاَ تَكُنْ خَازِنا لِغَيْرِكَ، وَ إِذَا أَنْتَ هُدِيتَ لِقَصْدِكَ فَكُنْ أَخْشَعَ مَا تَكُونُ لِرَبِّكَ.

وَاعْلَمْ أَنَّ أَمَامَكَ طَرِيقا ذَا مَسَافَةٍ بَعِيدَةٍ، وَ مَشَقَّةٍ شَدِيدَةٍ، وَ أَنَّهُ لاَ غِنَى بِكَ فِيهِ عَنْ حُسْنِ الاِرْتِيَادِ، وَ قَدْرِ بَلاَغِكَ مِنَ الزَّادِ مَعَ خِفَّةِ الظَّهْرِ، فَلاَ تَحْمِلَنَّ عَلَى ظَهْرِكَ فَوْقَ طَاقَتِكَ فَيَكُونَ ثِقْلُ ذَلِكَ وَبَالاً عَلَيْكَ، وَ إِذَا وَجَدْتَ مِنْ أَهْلِ الْفَاقَةِ مَنْ يَحْمِلُ لَكَ زَادَكَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَيُوَافِيكَ بِهِ غَدا حَيْثُ تَحْتَاجُ إِلَيْهِ فَاغْتَنِمْهُ وَ حَمِّلْهُ إِيَّاهُ، وَ أَكْثِرْ مِنْ تَزْوِيدِهِ وَ أَنْتَ قَادِرٌ عَلَيْهِ، فَلَعَلَّكَ تَطْلُبُهُ فَلاَ تَجِدُهُ، وَاغْتَنِمْ مَنِ اسْتَقْرَضَكَ فِي حَالِ غِنَاكَ لِيَجْعَلَ قَضَأَهُ لَكَ فِي يَوْمِ عُسْرَتِكَ. وَاعْلَمْ أَنَّ أَمَامَكَ عَقَبَةً كَؤُوداً، الْمُخِفُّ فِيهَا أَحْسَنُ حَالاً(أمرا) مِنَ الْمُثْقِلِ، وَالْمُبْطِئُ عَلَيْهَا أَقْبَحُ حَالاً مِنَ الْمُسْرِعِ، وَ أَنَّ مَهْبَطَها بِكَ لاَ مَحَالَةَ إِمَّا عَلَى جَنَّةٍ أَوْ عَلَى نَارٍ، فَارْتَدْ لِنَفْسِكَ قَبْلَ نُزُولِكَ، وَ وَطِّئِ الْمَنْزِلَ قَبْلَ حُلُولِكَ،«فَلَيْسَ بَعْدَ الْمَوْتِ مُسْتَعْتَبٌ» ، وَ لاَ إِلَى الدُّنْيَا مُنْصَرَفٌ.

وَاعْلَمْ أَنَّ الَّذِي بِيَدِهِ خَزَائِنُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قَدْ أَذِنَ لَكَ فِي الدُّعَاء،ِ وَ تَكَفَّلَ لَكَ بِالْإِجَابَةِ، وَ أَمَرَكَ أَنْ تَسْأَلَهُ لِيُعْطِيَكَ، وَ تَسْتَرْحِمَهُ لِيَرْحَمَكَ، وَ لَمْ يَجْعَلْ بَيْنَكَ وَ بَيْنَهُ مَنْ يَحْجُبُهَ عَنْكُ، وَ لَمْ يُلْجِئْكَ إِلَى مَنْ يَشْفَعُ لَكَ إِلَيْهِ، وَ لَمْ يَمْنَعْكَ إِنْ أَسَأْتَ مِنَ التَّوْبَةِ، وَ لَمْ يُعَاجِلْكَ بِالنِّقْمَةِ وَ لَمْ يُعَيِّرْكَ بِالْإِنَابَةِ وَ لَمْ يَفْضَحْكَ حَيْثُ الْفَضِيحَةُ بِكَ أَوْلَى، وَ لَمْ يُشَدِّدْ عَلَيْكَ فِي قَبُولِ الْإِنَابَةِ، وَ لَمْ يُنَاقِشْكَ بِالْجَرِيمَةِ، وَ لَمْ يُؤْيِسْكَ مِنَ الرَّحْمَةِ، بَلْ جَعَلَ نُزُوعَكَ عَنِ الذَّنْبِ حَسَنَةً، وَ حَسَبَ سَيِّئَتَكَ وَاحِدَةً، وَ حَسَبَ حَسَنَتَكَ عَشْرا، وَ فَتَحَ لَكَ بَابَ الْمَتَابِ، وَ بَابَ الاِسْتِعْتَابِ؛ فَإِذَا نَادَيْتَهُ سَمِعَ نِدَاكَ، وَ إِذَا نَاجَيْتَهُ عَلِمَ نَجْوَاكَ، فَأَفْضَيْتَ إِلَيْهِ بِحَاجَتِكَ، وَ أَبْثَثْتَهُ ذَاتَ نَفْسِكَ، وَ شَكَوْتَ إِلَيْهِ هُمُومَكَ، وَاسْتَكْشَفْتَهُ كُرُوبَكَ، وَاسْتَعَنْتَهُ عَلَى أُمُورِكَ. وَ سَأَلْتَهُ مِنْ خَزَائِنِ رَحْمَتِهِ مَا لاَ يَقْدِرُ عَلَى إِعْطَائِهِ غَيْرُهُ، مِنْ زِيَادَةِ الْأَعْمَارِ، وَ صِحَّةِ الْأَبْدَانِ، وَ سَعَةِ الْأَرْزَاقِ. ثُمَّ جَعَلَ فِي يَدَيْكَ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِهِ، بِمَا أَذِنَ لَكَ فِيهِ مِنْ مَسْأَلَتِهِ، فَمَتَى شِئْتَ اسْتَفْتَحْتَ بِالدُّعَأِ أَبْوَابَ نِعْمَتِهِ(نِعَمِهِ) ، وَاسْتَمْطَرْتَ شَآبِيبَ رَحْمَتِهِ، فَلاَ يُقَنِّطَنَّكَ إِبْطَأُ إِجَابَتِهِ، فَإِنَّ الْعَطِيَّةَ عَلَى قَدْرِ النِّيَّةِ. وَ رُبَّمَا أُخِّرَتْ عَنْكَ الْإِجَابَةُ لِيَكُونَ ذَلِكَ أَعْظَمَ لِأَجْرِ السَّائِلِ، وَ أَجْزَلَ لِعَطَأِ الْآمِلِ، وَ رُبَّمَا سَأَلْتَ الشَّيْءَ فَلاَ تُؤْتَاهُ، وَ أُوتِيتَ خَيْرا مِنْهُ عَاجِلاً أَوْ آجِلاً، أَوْ صُرِفَ عَنْكَ لِمَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ، فَلَرُبَّ أَمْرٍ قَدْ طَلَبْتَهُ فِيهِ هَلاَكُ دِينِكَ لَوْ أُوتِيتَهُ، فَلْتَكُنْ مَسْأَلَتُكَ فِيمَا يَبْقَى لَكَ جَمَالُهُ، وَ يُنْفَى عَنْكَ وَبَالُهُ؛ فَالْمَالُ لاَ يَبْقَى لَكَ وَ لاَ تَبْقَى لَهُ.

وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ أَنَّكَ إِنَّمَا خُلِقْتَ لِلاْخِرَةِ لاَ لِلدُّنْيَا، وَ لِلْفَنَأِ لاَ لِلْبَقَأِ، وَ لِلْمَوْتِ لاَ لِلْحَيَاةِ؛ وَ أَنَّكَ فِي مَنْزِلِ قُلْعَةٍ، وَ دَارِ بُلْغَةٍ، وَ طَرِيقٍ إِلَى الْآخِرَةِ، وَ أَنَّكَ طَرِيدُ الْمَوْتِ الَّذِي لاَ يَنْجُو مِنْهُ هَارِبُهُ، وَ لاَ يَفُوتُهُ طَالِبُهُ، وَ لاَ بُدَّ أَنَّهُ مُدْرِكُهُ، فَكُنْ مِنْهُ عَلَى حَذَرٍ أَنْ يُدْرِكَكَ وَ أَنْتَ عَلَى حَالٍ سَيِّئَةٍ قَدْ كُنْتَ تُحَدِّثُ نَفْسَكَ مِنْهَا بِالتَّوْبَةِ فَيَحُولَ بَيْنَكَ وَ بَيْنَ ذَلِكَ، فَإِذَا أَنْتَ قَدْ أَهْلَكْتَ نَفْسَكَ.

يَا بُنَيَّ، أَكْثِرْ مِنْ ذِكْرِ الْمَوْتِ وَ ذِكْرِ مَا تَهْجُمُ عَلَيْهِ، وَ تُفْضِي بَعْدَ الْمَوْتِ إِلَيْهِ، حَتَّى يَأْتِيَكَ وَ قَدْ أَخَذْتَ مِنْهُ حِذْرَكَ، وَ شَدَدْتَ لَهُ أَزْرَكَ، وَ لاَ يَأْتِيَكَ بَغْتَةً فَيَبْهَرَكَ، وَ إِيَّاكَ أَنْ تَغْتَرَّ بِمَا تَرَى مِنْ إِخْلاَدِ أَهْلِ الدُّنْيَا إِلَيْهَا، وَ تَكَالُبِهِمْ عَلَيْهَا، فَقَدْ نَبَّأَكَ اللَّهُ عَنْهَا، وَ نَعَتْ هِيَ لَكَ عَنْ نَفْسِهَا، وَ تَكَشَّفَتْ لَكَ عَنْ مَسَاوِيهَا.

فَإِنَّمَا أَهْلُهَا كِلاَبٌ عَاوِيَةٌ، وَ سِبَاعٌ ضَارِيَةٌ، يَهِرُّ بَعْضُهَا بَعْضا، وَ يَأْكُلُ عَزِيزُهَا ذَلِيلَهَا، وَ يَقْهَرُ كَبِيرُهَا صَغِيرَهَا، نَعَمٌ مُعَقَّلَةٌ وَ أُخْرَى مُهْمَلَةٌ قَدْ أَضَلَّتْ عُقُولَهَا، وَ رَكِبَتْ مَجْهُولَهَا، سُرُوحُ عَاهَةٍ بِوَادٍ وَعْثٍ، لَيْسَ لَهَا رَاعٍ يُقِيمُهَا، وَ لاَ مُسِيمٌ يُسِيمُهَا، سَلَكَتْ بِهِمُ الدُّنْيَا طَرِيقَ الْعَمَى، وَ أَخَذَتْ بِأَبْصَارِهِمْ عَنْ مَنَارِ الْهُدَى، فَتَاهُوا فِي حَيْرَتِهَا، وَ غَرِقُوا فِي نِعْمَتِهَا، وَاتَّخَذُوهَا رَبّا، فَلَعِبَتْ بِهِمْ وَ لَعِبُوا بِهَا، وَ نَسُوا مَا وَرَاءَهَا. رُوَيْدا يُسْفِرُ الظَّلاَمُ، كَأَنْ قَدْ وَرَدَتِ الْأَظْعَانُ؛ يُوشِكُ مَنْ أَسْرَعَ أَنْ يَلْحَقَ! وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ، أَنَّ مَنْ كَانَتْ مَطِيَّتُهُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ، فَإِنَّهُ يُسَارُ بِهِ وَ إِنْ كَانَ وَاقِفاً، وَ يَقْطَعُ الْمَسَافَةَ وَ إِنْ كَانَ مُقِيماً وَادِعاً.

وَاعْلَمْ يَقِينا أَنَّكَ لَنْ تَبْلُغَ أَمَلَكَ، وَ لَنْ تَعْدُوَ أَجَلَكَ، وَ أَنَّكَ فِي سَبِيلِ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ. فَخَفِّضْ فِي الطَّلَبِ، وَ أَجْمِلْ فِي الْمُكْتَسَبِ، فَإِنَّهُ رُبَّ طَلَبٍ قَدْ جَرَّ إِلَى حَرَبٍ؛ وَ لَيْسَ كُلُّ طَالِبٍ بِمَرْزُوقٍ، وَ لاَ كُلُّ مُجْمِلٍ بِمَحْرُومٍ. وَ أَكْرِمْ نَفْسَكَ عَنْ كُلِّ دَنِيَّةٍ وَ إِنْ سَاقَتْكَ إِلَى الرَّغَائِبِ، فَإِنَّكَ لَنْ تَعْتَاضَ بِمَا تَبْذُلُ مِنْ نَفْسِكَ عِوَضاً. وَ لاَ تَكُنْ عَبْدَ غَيْرِكَ وَ قَدْ جَعَلَكَ اللَّهُ حُرّاً. وَ مَا خَيْرُ خَيْرٍ لاَ يُنَالُ إِلا بِشَرِّ، وَ يُسْرٍ لاَ يُنَالُ إِلا بِعُسْرٍ؟! وَ إِيَّاكَ أَنْ تُوجِفَ بِكَ مَطَايَا الطَّمَعِ، فَتُورِدَكَ مَنَاهِلَ الْهَلَكَةِ وَ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَلا يَكُونَ بَيْنَكَ وَ بَيْنَ اللَّهِ ذُو نِعْمَةٍ فَافْعَلْ، فَإِنَّكَ مُدْرِكٌ قَسْمَكَ، وَ آخِذٌ سَهْمَكَ، وَ إِنَّ الْيَسِيرَ مِنَ اللَّهِ -سُبْحَانَهُ - أَعْظَمُ وَ أَكْرَمُ مِنَ الْكَثِيرِ مِنْ خَلْقِهِ وَ إِنْ كَانَ كُلُّ مِنْهُ. وَ تَلاَفِيكَ مَا فَرَطَ مِنْ صَمْتِكَ أَيْسَرُ مِنْ إِدْرَاكِكَ مَافَاتَ مِنْ مَنْطِقِكَ، وَ حِفْظُ مَا فِي الْوِعَأِ بِشَدِّ الْوِكَأِ، وَ حِفْظُ مَا فِي يَدَيْكَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ طَلَبِ مَا فِي يَدَيْ غَيْرِكَ. وَ مَرَارَةُ الْيَأْسِ خَيْرٌ مِنَ الطَّلَبِ إِلَى النَّاسِ، وَالْحِرْفَةُ مَعَ الْعِفَّةَ خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى مَعَ الْفُجُورِ، وَالْمَرْءُ أَحْفَظُ لِسِرِّهِ، وَ رُبَّ سَاعٍ فِيمَا يَضُرُّهُ! مَنْ أَكْثَرَ أَهْجَرَ، وَ مَنْ تَفَكَّرَ أَبْصَرَ، قَارِنْ أَهْلَ الْخَيْرِ تَكُنْ مِنْهُمْ، وَ بَايِنْ أَهْلَ الشَّرِّ تَبِنْ عَنْهُمْ، بِئْسَ الطَّعَامُ الْحَرَامُ، وَ ظُلْمُ الضَّعِيفِ أَفْحَشُ الظُّلْمِ! إِذَا كَانَ الرِّفْقُ خُرْقا كَانَ الْخُرْقُ رِفْقاً. رُبَّمَا كَانَ الدَّوَاءُ دَاءً وَالدَّاءُ دَوَاءً. وَ رُبَّمَا نَصَحَ غَيْرُ النَّاصِحِ وَ غَشَّ الْمُسْتَنْصَحُ، وَ إِيَّاكَ وَالاِتِّكَالَ عَلَى الْمُنَى فَإِنَّهَا بَضَائِعُ النَّوْكَى، وَالْعَقْلُ حِفْظُ التَّجَارِبِ، وَ خَيْرُ مَا جَرَّبْتَ مَا وَعَظَكَ. بَادِرِ الْفُرْصَةَ قَبْلَ أَنْ تَكُونَ غُصَّةً، لَيْسَ كُلُّ طَالِبٍ يُصِيبُ، وَ لاَ كُلُّ غَائِبٍ يَؤُوبُ. وَ مِنَ الْفَسَادِ(المفسدة) إِضَاعَةُ الزَّادِ، وَ مَفْسَدَةُ الْمَعَادِ. وَ لِكُلِّ أَمْرٍ عَاقِبَةٌ، سَوْفَ يَأْتِيكَ مَا قُدِّرَ لَكَ. التَّاجِرُ مُخَاطِرٌ وَ رُبَّ يَسِيرٍ أَنْمَى مِنْ كَثِيرٍ! لاَ خَيْرَ فِي مُعِينٍ مَهِينٍ، وَ لاَ فِي صَدِيقٍ ظَنِينٍ. سَاهِلِ الدَّهْرَ مَا ذَلَّ لَكَ قَعُودُهُ، وَ لاَ تُخَاطِرْ بِشَيْءٍ رَجَأَ أَكْثَرَ مِنْهُ، وَ إِيَّاكَ أَنْ تَجْمَحَ بِكَ مَطِيَّةُ اللَّجَاجِ.

احْمِلْ نَفْسَكَ مِنْ أَخِيكَ عِنْدَ صَرْمِهِ عَلَى الصِّلَةِ، وَ عِنْدَ صُدُودِهِ عَلَى اللَّطَفِ وَالْمُقَارَبَةِ، وَ عِنْدَ جُمُودِهِ عَلَى الْبَذْلِ، وَ عِنْدَ تَبَاعُدِهِ عَلَى الدُّنُوِّ، وَ عِنْدَ شِدَّتِهِ عَلَى اللِّينِ، وَ عِنْدَ جُرْمِهِ عَلَى الْعُذْرِ، حَتَّى كَأَنَّكَ لَهُ عَبْدٌ وَ كَأَنَّهُ ذُو نِعْمَةٍ عَلَيْكَ. وَ إِيَّاكَ أَنْ تَضَعَ ذَلِكَ فِي غَيْرِ مَوْضِعِهِ، أَوْ أَنْ تَفْعَلَهُ بِغَيْرِ أَهْلِهِ. لاَ تَتَّخِذَنَّ عَدُوَّ صَدِيقِكَ صَدِيقاً فَتُعَادِيَ صَدِيقَكَ، وَامْحَضْ أَخَاكَ النَّصِيحَةَ، حَسَنَةً كَانَتْ أَوْ قَبِيحَةً، وَ تَجَرَّعِ الْغَيْظَ فَإِنِّي لَمْ أَرَ جُرْعَةً أَحْلَى مِنْهَا عَاقِبَةً، وَ لاَ أَلَذَّ مَغَبَّةً. وَ لِنْ لِمَنْ غَالَظَكَ فَإِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ يَلِينَ لَكَ، وَ خُذْ عَلَى عَدُوِّكَ بِالْفَضْلِ فَإِنَّهُ أَحْلَى الظَّفَرَيْنِ، وَ إِنْ أَرَدْتَ قَطِيعَةَ أَخِيكَ فَاسْتَبِقْ لَهُ مِنْ نَفْسِكَ بَقِيَّةً يَرْجِعُ إِلَيْهَا إِنْ بَدَا لَهُ ذَلِكَ يَوْما مَا، وَ مَنْ ظَنَّ بِكَ خَيْرا فَصَدِّقْ ظَنَّهُ، وَ لاَ تُضِيعَنَّ حَقَّ أَخِيكَ اتِّكَالاً عَلَى مَا بَيْنَكَ وَ بَيْنَهُ، فَإِنَّهُ لَيْسَ لَكَ بِأَخٍ مَنْ أَضَعْتَ حَقَّهُ. وَ لاَ يَكُنْ أَهْلُكَ أَشْقَى الْخَلْقِ بِكَ، وَ لاَ تَرْغَبَنَّ فِيمَنْ زَهِدَ عَنْكَ، وَ لاَ يَكُونَنَّ أَخُوكَ أَقْوَى عَلَى قَطِيعَتِكَ مِنْكَ عَلَى صِلَتِهِ، وَ لاَ يَكُونَنَّ عَلَى الْإِسَأَةِ أَقْوَى مِنْكَ عَلَى الْإِحْسَانِ. وَ لاَ يَكْبُرَنَّ عَلَيْكَ ظُلْمُ مَنْ ظَلَمَكَ، فَإِنَّهُ يَسْعَى فِي مَضَرَّتِهِ وَ نَفْعِكَ، وَ لَيْسَ جَزَأُ مَنْ سَرَّكَ أَنْ تَسُوءَهُ.

وَاعْلَمْ يَا بُنَيَّ، أَنَّ الرِّزْقَ رِزْقَانِ: رِزْقٌ تَطْلُبُهُ، وَ زِرْقٌ يَطْلُبُكَ، فَإِنْ أَنْتَ لَمْ تَأْتِهِ أَتَاكَ. مَا أَقْبَحَ الْخُضُوعَ عِنْدَ الْحَاجَةِ، وَالْجَفَأَ عِنْدَ الْغِنَى! إِنَّمَا لَكَ مِنْ دُنْيَاكَ، مَا أَصْلَحْتَ بِهِ مَثْوَاكَ، وَ إِنْ جَزَعْتَ عَلَى مَا تَفَلَّتَ مِنْ يَدَيْكَ، فَاجْزَعْ عَلَى كُلِّ مَا لَمْ يَصِلْ إِلَيْكَ. اسْتَدِلَّ عَلَى مَا لَمْ يَكُنْ بِمَا قَدْ كَانَ فَإِنَّ الْأُمُورَ أَشْبَاهٌ، وَ لاَ تَكُونَنَّ مِمَّنْ لاَ تَنْفَعُهُ الْعِظَةُ إِلا إِذَا بَالَغْتَ فِي إِيلاَمِهِ، فَإِنَّ الْعَاقِلَ يَتَّعِظُ بِالْآدَبِ، وَالْبَهَائِمَ لاَ تَتَّعِظُ إِلا بِالضَّرْبِ. اْطرَحْ عَنْكَ وَارِدَاتِ الْهُمُومِ بِعَزَائِمِ الصَّبْرِ وَ حُسْنِ الْيَقِينِ. مَنْ تَرَكَ الْقَصْدَ جَارَ. وَ الصَّاحِبُ مُنَاسِبٌ وَ الصَّدِيقُ مَنْ صَدَقَ غَيْبُه، وَ الْهَوَى شَرِيكُ الْعَمَى وَ رُبَّ بَعِيدٍ أَقْرَبُ مِنْ قَرِيبٍ، وَ قَرِيبٍ أَبْعَدُ مِنْ بَعِيدٍ، وَ الْغَرِيبُ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَبِيبٌ. مَنْ تَعَدَّى الْحَقَّ ضَاقَ مَذْهَبُهُ، وَ مَنِ اقْتَصَرَ عَلَى قَدْرِهِ كَانَ أَبْقَى لَهُ. وَ أَوْثَقُ سَبَبٍ أَخَذْتَ بِهِ سَبَبٌ بَيْنَكَ وَ بَيْنَ اللَّهِسُبْحَانَهُ . وَ مَنْ لَمْ يُبَالِكَ فَهُوَ عَدُوُّكَ. قَدْ يَكُونُ الْيَأْسُ إِدْرَاكا إِذَا كَانَ الطَّمَعُ هَلاَكا، لَيْسَ كُلُّ عَوْرَةٍ تَظْهَرُ وَ لاَ كُلُّ فُرْصَةٍ تُصَابُ وَ رُبَّمَا أَخْطَأَ الْبَصِيرُ قَصْدَهُ وَ أَصَابَ الْأَعْمَى رُشْدَهُ. أَخِّرِ الشَّرَّ فَإِنَّكَ إِذَا شِئْتَ تَعَجَّلْتَهُ وَ قَطِيعَةُ الْجَاهِلِ تَعْدِلُ صِلَةَ الْعَاقِلِ، مَنْ أَمِنَ الزَّمَانَ خَانَهُ وَ مَنْ أَعْظَمَهُ أَهَانَهُ، لَيْسَ كُلُّ مَنْ رَمَى أَصَابَ. إِذَا تَغَيَّرَ السُّلْطَانُ تَغَيَّرَ الزَّمَانُ. سَلْ عَنِ الرَّفِيقِ قَبْلَ الطَّرِيقِ وَ عَنِ الْجَارِ قَبْلَ الدَّارِ. إِيَّاكَ أَنْ تَذْكُرَ مِنَ الْكَلاَمِ مَا يَكُونُ مُضْحِكاً، وَ إِنْ حَكَيْتَ ذَلِكَ عَنْ غَيْرِكَ.

إِيَّاكَ وَ مُشَاوَرَةَ النِّسَأِ فَإِنَّ رَأْيَهُنَّ إِلَى أَفْنٍ، وَ عَزْمَهُنَّ إِلَى وَهْنٍ. وَ اكْفُفْ عَلَيْهِنَّ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ بِحِجَابِكَ إِيَّاهُنَّ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحِجَابِ أَبْقَى عَلَيْهِنَّ وَ لَيْسَ خُرُوجُهُنَّ بِأَشَدَّ مِنْ إِدْخَالِكَ مَنْ لاَ يُوثَقُ بِهِ عَلَيْهِنَّ وَ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَلا يَعْرِفْنَ غَيْرَكَ فَافْعَلْ وَ لاَ تُمَلِّكِ الْمَرْأَةَ مِنْ أَمْرِهَا مَا جَاوَزَ نَفْسَهَا، فَإِنَّ الْمَرْأَةَ رَيْحَانَةٌ وَ لَيْسَتْ بِقَهْرَمَانَةٍ وَ لاَ تَعْدُ بِكَرَامَتِهَا نَفْسَهَا وَ لاَ تُطْمِعْهَا فِي أَنْ تَشْفَعَ لِغَيْرِهَا وَ إِيَّاكَ وَ التَّغَايُرَ فِي غَيْرِ مَوْضِعِ غَيْرَةٍ، فَإِنَّ ذَلِكَ يَدْعُو الصَّحِيحَةَ إِلَى السَّقَمِ، وَ الْبَرِيئَةَ إِلَى الرِّيَبِ.

وَ اجْعَلْ لِكُلِّ إِنْسَانٍ مِنْ خَدَمِكَ عَمَلاً تَأْخُذُهُ بِهِ، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَ اَنْ لا يَتَوَاكَلُوا فِي خِدْمَتِكَ. وَ أَكْرِمْ عَشِيرَتَكَ، فَإِنَّهُمْ جَنَاحُكَ الَّذِي بِهِ تَطِيرُ، وَ أَصْلُكَ الَّذِي إِلَيْهِ تَصِيرُ، وَ يَدُكَ الَّتِي بِهَا تَصُولُ. اسْتَوْدِعِ اللَّهَ دِينَكَ وَ دُنْيَاكَ، وَ اسْأَلْهُ خَيْرَ الْقَضَأِ لَكَ فِي الْعَاجِلَةِ وَ الْآجِلَةِ، وَ الدُّنْيَا وَ الْآخِرَةِ،وَ السَّلاَمُ .

সিফফিন হতে ফেরার পথে হাযিরিন নামক স্থানে ক্যাম্প করার পর হাসান ইবনে আলীর উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন

এ পত্র এমন পিতার ,যিনি সহসাই মৃত্যুবরণ করবেন ,যিনি সময়ের কষ্টের সারবত্তা স্বীকার করেন ,যিনি জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ,যিনি সময়ের দুর্দশার কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছেন ,যিনি দুনিয়ার পাপরাশিকে অনুধ্যান করতে পারেন ,যিনি মৃতের আবাসস্থলে বাস করছেন এবং যিনি যেকোন দিন পৃথিবী হতে প্রস্থানের অপেক্ষায় আছেন।

এমন পুত্রের প্রতি যিনি যা অর্জিত হয়নি তা পাবার আকুল আকাঙ্খা করে ,যিনি পদচারণা করছেন তাদের পথে যারা মরে গেছে ,যিনি যন্ত্রণার শিকার ,যিনি সময়ের উদ্বীগ্নতার সাথে সম্পৃক্ত ,যিনি দুর্দশার লক্ষ্য ,যিনি দুনিয়ার বঞ্চনার শিকার ,যিনি নৈতিকতার কাছে বন্দি ,যিনি শোক ও কষ্টের আত্মীয় এবং মৃতদের উত্তরসূরী।

এ দুনিয়াকে আমা হতে ফিরিয়ে দিয়ে আমি যা শিখতে পেরেছি এখন তুমি তা জেনে রাখো। আমার ওপর সময়ের আক্রমণ ও আমার প্রতি পরকালের আগমনই আমার নিজকে ছাড়া অন্য কাউকে স্মরণ করা বা অন্য কিছু চিন্তা না করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু যখন অন্যদের কথা ত্যাগ করে আমার নিজের উদ্বীগ্নতার মধ্যে ডুবে যাই তখন আমার জ্ঞান - বুদ্ধি আমাকে আমার কামনা - বাসনা থেকে রক্ষা করে। আমার বিবেক আমার কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা করে এবং আমাকে দৃঢ়তার দিকে পরিচালিত করে যাতে কোন চাতুরি ও মিথ্যা দ্বারা কলুষিত হবার কিছু নেই। এখানে আমি তোমাকে আমার অংশ হিসাবে দেখেছিলাম। কিন্তু অন্য বিষয়ে তোমাকে আমার সম্পূর্ণ হিসাবে দেখেছিলাম। তাতে তোমার ওপর কিছু আপতিত হলে মনে হতো যেন আমার ওপর আপতিত হয়েছে এবং যদি তোমার কাছে মৃত্যু আসে তবে মনে হতো যেন আমার কাছে এসেছে। ফলে তোমার কর্মকাণ্ড আমার বলে মনে হতো। যেমন করে আমার বিষয়াবলী আমার বলে মনে হতো। সুতরাং আমি তোমাকে এ লেখাটা দিয়েছি যাতে তুমি সাহায্য পেতে পারো ,আমি বেঁচে থাকি আর না থাকি।

আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহকে ভয় করতে ,হে আমার পুত্র ,তার আদেশ মেনে চলতে ,তার জেকেরে তোমার হৃদয় পূর্ণ রাখতে এবং তাঁর আশায় লেগে থাকতে। কোন কিছুর সাথে সম্পর্ক এত বিশ্বস্ত নয় যা আল্লাহ ও তোমার মধ্যকার সম্পর্কের বেলায় ,যদি তুমি তা ধরে রাখ। উপদেশ দ্বারা হৃদয়কে প্রাণচঞ্চল কর ,আত্মোৎসর্গ দ্বারা এটাকে হত্যা কর ,দৃঢ় ইমান দ্বারা এর শক্তি যোগাও ,প্রজ্ঞার দ্বারা একে ঔজ্জ্বল্য দান কর ,নৈতিকতার প্রতি এটাকে বিশ্বাসী কর ,মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে এটাকে অবদমিত কর ,দুনিয়ার দুর্ভাগ্য এটাকে দেখিয়ে দাও ,কালের কর্তৃত্বে দিবা ও রাত্রির পরিবর্তন দেখিয়ে এটাকে ভীত কর , অতীত লোকদের ঘটনাবলী স্মরণ করিয়ে এটাকে ভীত কর। অতীত লোকদের শহরে ভ্রমণ কর এবং লক্ষ্য কর তারা কী করেছিল ,কী রেখে চলে গেছে ,কোথায় তারা গেছে এবং কোথায় তারা আছে। তুমি দেখবে তারা বন্ধু - বান্ধব সব রেখে একাকীত্বে চলে গেছে। সহসাই তুমিও তাদের মতো চলে যাবে। সুতরাং তোমার থাকার স্থানের পরিকল্পনা কর এবং দুনিয়ার কাছে পরকালের জিন্দেগিকে বিক্রি করো না । যা তুমি জান না সে বিষয়ে আলোচনা পরিহার করো এবং যে বিষয়ে তুমি সম্পৃক্ত নও সে বিষয়ে কথা বলো না। যে পথে গেলে পথভ্রষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে তা থেকে দূরে থেকো। কারণ যে পথে ভয় থাকে সে পথে না চলাই উত্তম।

কল্যাণকর কাজ করতে অন্যদেরকে বলো। তাতে তুমি সুলোকদের মাঝে থাকতে পারবে। তোমার কর্মে ও বক্তব্যে পাপ থেকে অন্যদের বিরত রেখো। যারা পাপ করে তাদের থেকে দূরে থাকার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করো। আল্লাহর জন্য সংগ্রাম করো। যেহেতু এটা তার প্রাপ্য। যারা গালাগালি করে তাদের গালি যেন তোমাকে আল্লাহর ব্যাপারে নিবৃত্ত না করে। যে কোন বিপদই হোক না কেন ন্যায়ের খাতিরে ঝাঁপিয়ে পড়ো ,অন্তর্দৃষ্টি দ্বীনের বিধানের মধ্যে আবদ্ধ রেখো। কষ্ট সহ্য করার অভ্যাস করো ;কারণ ন্যায়ের ব্যাপারে ধৈর্য চরিত্রের একটি উত্তম বৈশিষ্ট্য। তোমার সকল কাজে নিজকে আল্লাহর ওপর সোপর্দ করো ;কারণ এতে তুমি এক শক্তিশালী রক্ষাকর্তা ও নিরাপদ আশ্রয় পাবে। শুধুমাত্র তোমার প্রভুর কাছে যাচনা করো ;কারণ দেয়া না - দেয়া শুধুমাত্র তারই হাতে। আল্লাহর কাছে যত পার মঙ্গল প্রার্থনা করো। আমার উপদেশ বুঝতে চেষ্টা করো এবং এর প্রতি অমনোযোগী হয়ো না ;কারণ সর্বোত্তম বাণী তা যা হতে উপকার পাওয়া যায়। মনে রেখো ,যে জ্ঞান কোন উপকারে আসে না তাতে কোন কল্যাণ নেই এবং জ্ঞান উপাকারে না আসলে তা অর্জনের কোন যৌক্তিকতা নেই।

হে আমার পুত্র ,যখন আমি লক্ষ্য করলাম যে ,আমি যথেষ্ট বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছি এবং ক্রমেই আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি তখনই আমি তাড়াতাড়ি করে তোমার জন্য আমার উইল করা মনস্থ করে তার বিশেষ বিশেষ পয়েন্টগুলো লিখলাম পাছে আমি যা তোমার কাছে প্রকাশ করতে চাই তার পূর্বেই অতর্কিতে মৃত্যু আমাকে পাকড়াও করে অথবা আমার দেহের মতো বুদ্ধিমত্তাও দুর্বল হয়ে পড়ে অথবা তোমার আবেগ অথবা দুনিয়ার ফেতনা তোমাকে অদম্য উট - শাবকের মতো করে তোলে। নিশ্চয়ই ,একজন যুবকের হৃদয় আকর্ষিত ভূমির মত। এতে যে কোন বীজ বপন করা যায়। সুতরাং আমি তোমার মনকে ঢেলে - ছেচে যথাযথভাবে তৈরী করার জন্য তড়িঘড়ি করে লিখলাম যাতে তোমার হৃদয় অনমনীয় হবার আগে অথবা তোমার মন অন্য কিছুতে পূর্ণ হবার আগে তুমি তোমার জ্ঞান - বুদ্ধির মাধ্যমে অন্যদের অভিজ্ঞতার ফসল আয়ত্ত করতে পার এবং এসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পার। এতে তুমি অভিজ্ঞতার অনুসন্ধানের কষ্ট ও পরীক্ষা - নিরীক্ষার বিপদ এড়িয়ে যেতে পারবে। এভাবে আমরা যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা তুমি জানতে পারছো। এমনকি আমরা যে সব জিনিস হারিয়ে ফেলেছি তাও তোমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

হে আমার পুত্র ,যদিও আমি আমার পূর্ববর্তীগণের বয়সে এখনো উপনীত হইনি তবুও আমি তাদেরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাদের জীবনের ঘটনা প্রবাহের ওপর গভীর চিন্তা করেছি। আমি তাদের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ভ্রমণ করেছি। বস্তুতঃ তাদের যেসব কর্মকাণ্ড আমি জ্ঞাত হয়েছি তাতে মনে হলো যেন আমি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের সাথে ছিলাম। সে জন্যই আমি অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা এবং ক্ষতি হতে উপকার আলাদা করতে সমর্থ হয়েছি। সেসব বিষয়ের সর্বোত্তম অংশ তোমার জন্য বেছে নিয়েছি এবং তাদের উত্তম পয়েন্টগুলো তোমার জন্য সংগ্রহ করেছি এবং তাদের অপ্রয়োজনীয় অংশটুকু বাদ দিয়ে দিয়েছি। একজন জীবিত পিতার যতটুকু করা দরকার আমি তোমার কর্মকাণ্ডের জন্য ততটুকু চিন্তা করি এবং তোমাকে প্রশিক্ষণ দেয়াই আমার লক্ষ্য। আমি মনে করি এটাই যথার্থ সময় যেহেতু তুমি বয়ঃপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছো এবং এ দুনিয়ার মঞ্চে নতুন। অপরদিকে তোমার নিয়্যত ন্যায়পরায়ণ ও হৃদয় স্বচ্ছ।

আল্লাহর কিতাব থেকে তোমার শিক্ষা শুরু করা দরকার। তিনি সর্বশক্তির আধার ও মহামহিম। তার কিতাবের ব্যাখ্যা ,এর আদেশ - নিষেধ ,হালাল - হারাম এবং ইসলামের বিধি - বিধানের বাইরে আমি যাব না। তারপরও আমার ভয় হয় অন্য লোকেরা যেভাবে তাদের কামনা - বাসনা ও ভিন্ন মতের কারণে বিভ্রান্ত হয়েছে তুমিও তেমনটি হও কিনা। সুতরাং তোমাকে সতর্ক করা আমার অপছন্দীয় হলেও আমার এ অবস্থানকে শক্ত করা আমি ভালো মনে করি। কারণ আমার দৃষ্টিতে যে অবস্থা তোমার ধ্বংস থেকে নিরাপদ নয় সে অবস্থার দিকে তোমাকে যেতে দিতে পারি না। আমি আশা করি সরল - সঠিক পথে চলতে আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন এবং তোমার স্থির সংকল্পে তিনি তোমাকে পথপ্রদর্শন করবেন । ফলে আমার এ উইল তোমার জন্য লিখলাম ।

বৎস ,জেনে রাখো ,আমার এ উইল থেকে যা তুমি গ্রহণ করলে। আমি সব চাইতে খুশি হবো তা হলো - আল্লাহকে ভয় করা ,আল্লাহ তোমার উপর যা অত্যাবশ্যকীয় করেছেন তাতে নিজকে আবদ্ধ রাখা এবং তোমার পূর্ব - পুরুষদের আমল অনুসরণ করা ও তোমার আহলুল বাইতের আমলে প্রতিষ্ঠিত থাকা । কারণ তারা কখনো তাদের পথে বিভ্রান্ত হয়নি এবং তাদের কর্মকাণ্ড সঠিক ও আলোকপূর্ণ ছিল। তাদের চিন্তা শক্তি দায়িত্ব পালনের দিকে তাদেরকে পরিচালিত করেছে এবং যা তাদের জন্য করণীয় ছিল না তা থেকে তাদেরকে বিরত রেখেছে। জ্ঞানার্জন ছাড়া যদি তোমার হৃদয় এটা গ্রহণ করতে না চায়। তবে তোমার প্রথম অনুসন্ধান বোধগম্যতা ও শিক্ষার মাঝে হতে হবে - সংশয়ে পতিত হয়ে বা ঝগড়ায় জড়িয়ে হবে না। এ অনুসন্ধান চালাবার পূর্বে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং অনুসন্ধানের উপযুক্ততা অর্জনের জন্য তার কাছে নিজকে সমর্পণ করো এবং সেসব বিষয় থেকে নিজকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নিতে হবে যা তোমাকে সন্দেহ ও বিভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করে। যখন তুমি নিশ্চিত হবে যে ,তোমার হৃদয় স্বচ্ছ ও বিনয়ী হয়েছে এবং তোমার চিন্তা শক্তি একটা বিষয়ের এক বিন্দুতে (আহলুল বাইত) স্থির হয়েছে তখন আমি যা ব্যাখ্যা করেছি তুমি তা দেখতে পাবে। কিন্তু সে সন্দর্শনের শান্তি যদি তুমি লাভ করতে সমর্থ না হও তবে জেনে রাখো ,তুমি শুধু অন্ধ উষ্ট্রীর মতো মাটিতে পদাঘাত করছো এবং অন্ধকারে নিপতিত হচ্ছো অথচ একজন দ্বীনের অনুসন্ধানকারী অন্ধকারে নিপতিত হয় না বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না। এমন হলে এ পথ পরিহার করাই উত্তম ।

বৎস ,আমার উপদেশ মেনে চলো এবং মনে রেখো যিনি মৃত্যুর প্রভু তিনি জীবনেরও প্রভু এবং স্রষ্টা মৃত্যুর কারণও ঘটান। যিনি জীবন ধ্বসংকারী তিনিই আবার জীবন সংরক্ষণকারী এবং যিনি রোগে নিপতিত করেন তিনি আরোগ্য দানকারী। এ পৃথিবী সে পথেই চলছে যেভাবে আল্লাহ্ তৈরী করছেন। এতে তিনি আনন্দ ,বিচার ,শেষ বিচারের পুরস্কার ইত্যাদি তাঁর ইচ্ছানুযায়ী দিয়েছেন এবং তুমি তা জান না। যদি তুমি এ উপদেশের কোন কিছু বুঝতে না পার তবে মনে করো এটা তোমার অজ্ঞতার কারণে হচ্ছে। কারণ যখন তুমি জন্মগ্রহণ করেছিলে তখন তুমি অজ্ঞ ছিলে। তারপর তুমি জ্ঞান লাভ করেছিলো। এমন অনেক বিষয় আছে যে বিষয়ে তুমি অনবহিত এবং এসবে তোমার দৃষ্টি বিস্মিত হয়ে যায় এবং তোমার চক্ষু বিচলিত হয়ে যায়। তারপর তুমি তা দেখ। সুতরাং তার প্রতি বুকে থাক যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন ,তোমাকে আহার দিচ্ছেন এবং তোমাকে সুস্থ রেখেছেন। তোমার ইবাদত তাঁরই জন্য হবে ,তোমার একাগ্রতা তার প্রতি থাকবে এবং তাকেই ভয় করবে।

বৎস ,জেনে রাখো ,রাসূল (সা.) যেভাবে মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী গ্রহণ করেছিলেন সেভাবে আর কেউ পায়নি। সুতরাং তোমার মুক্তির জন্য তাকেই নেতা ও অগ্রণী হিসাবে মনে রেখো। নিশ্চয়ই ,তোমাকে উপদেশ দিতে আমি আমার চেষ্টার ত্রুটি করবো না এবং নিশ্চয়ই তুমি চেষ্টা করেও সে অন্তদৃষ্টি তোমার কল্যাণের জন্য লাভ করতে পারবে না। যা আমি তোমাকে দিতে পারবো ।

বৎস ,জেনে রাখো ,তোমার প্রভুর কোন অংশীদার নেই। যদি থাকতো তবে তার নবীও তোমার কাছে আসতো এবং সে ক্ষেত্রে তুমি তার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা ,কাজ ও গুণাবলী জানতে পারতে। কিন্তু তিনি এক মাবুদ যেহেতু তিনি নিজেই তাঁর বর্ণনা করেছেন। তাঁর কর্তৃত্বে কেউ আপত্তি উত্থাপন করার নেই। তিনি অনাদি অতীত থেকে অনন্ত ভবিষ্যতে আছেন। তিনি সকল কিছুর পূর্বে আছেন এবং তাঁর কোন প্রারম্ভ নেই। তিনি সব কিছুর পরেও থাকবেন ,তার কোন শেষ নেই। তিনি এত মহৎ যে চোখ আর হৃদয়ের সীমায় তাঁর মহত্ত্ব প্রমাণ করা যায় না। যদি তুমি এটা বুঝে থাক তবে তোমার উচিত হবে সে লোকের মতো আমল করা যে হীন অবস্থা ,কতৃত্বহীনতা ,অক্ষমতা ও আনুগত্যের জন্য এবং তাঁর শাস্তির ভয়ে ,তার রোষের আশঙ্কায় সন্ত্রস্ত থাকে। তিনি তোমাকে ধার্মিকতা ছাড়া অন্য কিছুর আদেশ দেবেন না এবং পাপ ছাড়া অন্য কিছুতে বারণ করবেন না।

বৎস ,আমি তোমাকে এ দুনিয়ার অবস্থা ,এর ধ্বংস এবং এর বিদায় সম্বন্ধে অবহিত করেছি। পরকালেও দুনিয়ার মানুষের জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি তোমাকে তাও অবহিত করেছি। আমি তোমার কাছে এর নীতিগর্ভ রূপক কাহিনী পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বর্ণনা করেছি। যাতে তুমি তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পার এবং সেমতো আমল করতে পার। যারা দুনিয়াকে বুঝতে পেরেছে তাদের উদাহরণ হলো সেসব পর্যটকের মতো যারা খারাপীড়িত স্থান থেকে শস্য - শ্যামল ও ফল - ফলাদিপূর্ণ স্থানে যাত্রা করে। তারপর তারা তাদের কাঙ্খিত শস্যপূর্ণ স্থানে পৌছার ও থাকার জন্য পথের কষ্ট সহ্য করে ,বন্ধুবান্ধবের বিচ্ছেদ বেদনা সহ্য করে ,ভ্রমণের কষ্ট ও অন্নকষ্ট সহ্য করে। ফলতঃ এসবে তারা কোন বেদনা অনুভব করে না এবং এতে কোন ব্যয়কে অপচয় মনে করে না। তাদের কাছে সে জিনিস ছাড়া অধিক প্রিয় কিছু নেই যা তাদেরকে তাদের লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যায় এবং তাদের আবাসস্থলের কাছে নিয়ে যায়। অপরপক্ষে যারা এ দুনিয়া দ্বারা প্রতারিত হয় তাদের উদহারণ হলো সেসব লোকের মতো যারা শস্যপূর্ণ স্থান থেকে বিরক্ত হয়ে খরাপীড়িত এলাকায় চলে গেছে। ফলে তাদের কাছে সে স্থান ত্যাগ করা অপেক্ষা বিস্বাদের আর কিছু নেই যেখানে তাদের যেতেই হবে।

বৎস ,অন্য লোক ও তোমার মাঝে নিজেকেই আচরণের মাপ কাঠি নির্ধারণ করো। এভাবে তুমি নিজের জন্য যা আশা কর অন্যের জন্যেও তা আশা করো এবং নিজের জন্য যা ঘৃণা কর অন্যের জন্যও তা ঘৃণা করো। কখনো অত্যাচার করো না যেহেতু তুমি কখনো অত্যাচারিত হতে চাও না। অন্যের কল্যাণ করো যেহেতু তুমি অন্যের থেকে কল্যাণ পেতে চাও। তোমার নিজের জন্য যা মন্দ মনে কর অন্যের জন্যও তা মন্দ মনে করো। অন্যদের কাছ থেকে সে রকম ব্যবহার গ্রহণ করো তোমার কাছ থেকে তারা যে রকম ব্যবহার গ্রহণ করে। যা তুমি জান না সে বিষয়ে কথা বলো না ,এমনকি যা তুমি অল্প জান সে বিষয়েও না। তোমার কাছে যা বলা তুমি পছন্দ কর না সে রকম কথা অন্যদেরও তুমি বলো না। মনে রেখো ,আত্ম - প্রশংসা শোভনতার বিপরীত এবং মনের জন্য একটা দুযোগ। সুতরাং তোমার সংগ্রাম বৃদ্ধি কর এবং অন্যের উত্তরাধিকারাধীন সম্পদের ট্রেজারার হয়ে না। যখন তুমি ন্যায় পথে পরিচালিত হবে তখন যতটুকু পার আল্লাহর কাছে আনত হয়ো। মনে রেখো ,তোমার সম্মুখে অনেক দূরত্বের ও কষ্টের রাস্তা রয়ে গেছে এবং সে রাস্তা তুমি এড়িয়ে যেতে পারবে না। তোমর বোঝা হালকা করে সে রাস্তার রসদ নিয়ে যাও । তোমর ক্ষমতার বেশি বোঝা পিঠে নিয়ো না। তাতে ওজন তোমার জন্য ফেতনা হয়ে দাঁড়াবে। যখন কোন অভাবি লোকের দেখা পাবে তখনই সুযোগ হাত ছাড়া না করে তাকে তোমার বোঝা বহন করতে দিয়ো এবং বিচার দিনে অবশ্যই তুমি তা ফেরত পাবে। সে রসদ তুমি তোমার সাধ্য মতো রেখে দিয়ো কারণ পরে তা তোমার প্রয়োজন হবে। যদি কোন লোক তোমার কাছ থেকে কর্জ করতে ইচ্ছা করে এবং তোমার প্রয়োজনে ফেরত দিতে রাজি হয় তবে এ সুযোগ হাত ছাড়া করো না।

বৎস ,জেনে রাখো ,তোমার সামনে একটা দূরতিক্রম্য উপত্যকা রয়েছে। এতে ভারী বোঝা সম্পন্ন লোকের চেয়ে হালকা বোঝা সম্পন্ন লোক অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় থাকবে। দ্রুতগামীদের চেয়ে ধীরগামীরা খারাপ অবস্থায় পড়বে। এ পথে তোমার প্রান্তিক স্থান হলো বেহেশত ;না হয় দোযখ। সুতরাং বসে পড়ার আগে পরীক্ষা দাও এবং নেমে যাবার আগে স্থান তৈরি করা। কারণ মৃত্যুর পর কোন প্রকার প্রস্তুতি নিতে পারবে না এবং এ দুনিয়ায় ফিরেও আসতে পারবে না।

মনে রেখো ,যিনি স্বর্গমর্ত্যের সমুদয় সম্পদের মালিক তিনি তোমাকে তার কাছে প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তোমার প্রার্থনা কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি তোমাকে আদেশ দিয়েছেন তার কাছে যাচনা করতে যাতে তিনি তোমাকে দিতে পারেন এবং তার দয়া ভিক্ষা করতে যাতে তিনি তোমার ওপর তার রহমত বর্ষণ করতে পারেন। তোমার আর তাঁর মধ্যে তিনি কোন কিছু রাখেননি যাতে তার ও তোমার মধ্যে পর্দা হতে পারে। তোমার ও তার মধ্যে কোন মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন তিনি রাখেননি এবং যদি তুমি ভুল কর তিনি তওবা করতে তোমাকে বারণ করেননি। তিনি শাস্তি প্রদানে তাড়াহুড়া করেন না। তিনি তওবা করার জন্য বিদ্রুপ করেন না এবং যখন হৃতমান করা যথার্থ হয়ে পড়ে তখন তা না করে ছাড়েন না। তওবা কবুল করতে কখনো তিনি কঠোরতা অবলম্বন করেন না। তোমার পাপ সম্পর্কে কখনো কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন না। তার দয়া থেকে তিনি কখনো নিরাশ করেন না। বরং পাপ থেকে বিরত থাকাকে তিনি পূণ্য হিসাবে গ্রহণ করেন। তোমার একটা পাপকে একটা হিসাব করেন ;অপরপক্ষে একটা পূণ্যকে দশটা হিসাবে গণনা করেন। তিনি তোমার জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন। কাজেই যখনই তুমি তাঁকে ডাক তিনি তোমার ডাক শুনতে পান এবং যা তুমি ফিসফিস করে বলো তিনি তাও শুনতে পান। তুমি তাঁর সন্মুখে তোমার অভাব উপস্থাপন কর ,নিজকে তাঁর সম্মুখে উম্মোচিত কর ,তোমার দুঃখের বিষয়ে অভিযোগ কর ,তোমার কষ্ট দূরীভূত করার জন্য বিনীত প্রার্থনা কর ,তোমার কাজে তার সাহায্য যাচনা কর এবং তাঁর রহমতের ভাণ্ডার থেকে পাওয়ার প্রার্থনা কর ,যেমন - দীর্ঘায়ু ,সুস্বাস্থ্য ও রেজেক বৃদ্ধি। তারপর তিনি তাঁর ভাণ্ডারের চাবি তোমার হাতে দেবেন। অর্থাৎ তার কাছে যাচনা করার পথ তোমাকে প্রদর্শন করবেন। সুতরাং যেখানে ইচ্ছা ,সালাতের দ্বারা তার আনুকূল্যের দরজা খোল এবং তাঁর রহমতের বারিধারা তোমার উপর পতিত হতে দাও। তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর হতে বিলম্ব হলে হতাশ হয়ো না। কারণ প্রার্থনার মঞ্জুরী তোমার নিয়্যতের মাপকাঠিতে হয়। কখনো কখনো প্রার্থনা বিলম্বে মঞ্জুর হয়। এটা যাচনাকারীর অধিক পুরস্কার ও উন্নত দানের উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। কখনো তুমি হয়ত একটা জিনিস যাচনা করেছো তা তোমাকে দেয়া হয়নি। তুমি দেখবে পরবর্তীকালে হয় তোমাকে যাচনাকৃত জিনিসটি অপেক্ষা উত্তম কিছু দেয়া হয়েছে ,না হয় তোমার কাছে থেকে এমন কিছু সরিয়ে নিয়ে গেছে যা সরিয়ে নেয়া প্রকৃত পক্ষেই তোমার জন্য কল্যাণকর ছিল। কাজেই প্রভুর কাছে এমন কিছু চাইতে হবে যার সৌন্দর্য স্থায়ী হবে এবং যার বোঝা তোমার কাছ থেকে দূরে থাকে। সম্পদের বিষয়টি ধরা যাক - এটা তোমার জন্য স্থায়ী নয় এবং তুমি এর জন্য বেঁচেও থাকবে না ।

বৎস ,মনে রেখো ,পরকালের জন্য তোমাকে সৃষ্টিকরা হয়েছে - ইহকালের জন্য নয়। তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দুনিয়া থেকে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার জন্য - স্থায়ীভাবে থাকার জন্য নয় - মৃত্যুর জন্য - জীবত থাকার জন্য নয়। তুমি এমন এক স্থানে আছে যা তোমার নয় - এটা প্রস্তুতি নেয়ার ঘর এবং পরকালের দিকের একটা পথ। তোমাকে মৃত্যু দ্বারা পাকড়াও করা হবে এবং এ থেকে পালিয়ে নিস্তার পাবার কোন উপায় নেই। কারণ যে কাউকে পরাভূত করতে মৃত্যু ক্ষমতাবান। সুতরাং সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এজন্য যে পাপাবস্থায় মৃত্যু যেন তোমাকে পরাভূত না করে এবং তওবা করার বিষয় চিন্তা করার সময় তা যেন বাধার সৃষ্টি না করে। এমনটি হলে তুমি নিজকেই ধ্বংস করবে।

পুত্র আমার! মৃত্যুকে বেশি করে স্মরণ করো। মৃত্যু আসার পর হঠাৎ তোমাকে কোন স্থানে চলে যেতে হবে সে বিষয়ে সর্বদা চিন্তা করো। এরূপ করলে তোমার প্রস্তুতির কারণে মৃত্যুর হঠাৎ আগমন তোমার কাছে দুঃখজনক হবে না। সাবধান ,জাগতিক আকর্ষণের শিক্ষার দ্বারা তুমি প্রতারিত হয়ে না। এ বিষয়ে আল্লাহ সতর্ক করে দিয়েছেন।

দুনিয়ার নৈতিক চরিত্র তোমাকে অবহিত করা হয়েছে এবং এর কুকুরের মতো অথবা মাংসাশী হিংসুক প্রাণীর মতো ,যারা একে অপরকে ঘৃণা করে। এদের শক্তিশালীরা দুর্বলকে খেয়ে ফেলে এবং বড়গুলো ছোটগুলোকে পদদলিত করে। এদের কতেক বাধা গরুর মতো ,আর কতেক বন্ধনহীন গরুর মতো যারা দিগ্নিদিগ জ্ঞান হারা হয়ে অজানার উদ্দেশ্যে ছুটছে। তারা অসমতল উপত্যকায় ভ্রাম্যমান দুযোগগ্রস্থ দল। তাদের চারণভূমিতে নিয়ে যাওয়া অথবা বাধা দেয়ার মতো কোন রাখাল নেই। এ দুনিয়া তাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে এবং হেদায়েতের রশ্মি থেকে তাদের চোখ ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সে জন্য তারা বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং দুনিয়ার আনন্দে ডুবে আছে। তারা দুনিয়াকে খোদা মনে করে এবং দুনিয়ার বাইরের সব কিছু ভুলে এর সাথে খেলা করে। অন্ধকারাচ্ছন্নতা ক্রমশ দূরীভূত হয়ে যাচ্ছে। এখন এটা এরূপ যেন ভ্রমণকারী মানুষ নিচে নেমে যাচ্ছে এবং দ্রুতগামী (আজরাইল) সহসা মোলাকাত করবে। হে বৎস ,জেনে রাখো ,রাত ও দিনের বাহনে যারা চড়ে বেড়াচ্ছে তাদের প্রত্যেকেই দিবারাত্র দ্বারা তাড়িত হচ্ছে যদিও সে স্থির রয়েছে বলে দেখা যায় এবং সে একই স্থানে থেকে দূরত্ব অতিক্রম করে চলছে।

নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো ,তুমি তোমার আকাঙ্খা পূরণ করতে পারবে না এবং নির্দিষ্ট জীবন অতিক্রান্ত করতে পারবে না। তোমার পূর্বে যারা ছিল তুমি তাদের পথেই আছো । সুতরাং চাহিদায় নমনীয় ও অর্জনে মধ্যপন্থী হও । কারণ অনেক সময় চাহিদা বঞ্চনার দিকে নিয়ে যায়। জীবিকার প্রত্যেক অনুসন্ধানকারী এটা পায় না এবং কোন মধ্যপন্থী অনুসন্ধানকারী বঞ্চিত হয় না। প্রতিটি নীচ জিনিস থেকে নিজকে দূরে সরিয়ে রেখো যদিও বা এসব নীচ জিনিস তোমাকে তোমার ইন্সিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারে ;কারণ তুমি নিজের যে সম্মান ব্যয় কর তা আর ফিরে পাবে না। অন্যের গোলাম হয়ে না ;কারণ আল্লাহ তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছেন। যে ভালো ’ মন্দের মাধ্যমে অর্জিত হয় তাতে কোন কল্যাণ নেই এবং গর্হিতপস্থায় কষ্টের মাধ্যমে যে আয়েশ অর্জিত হয় তাতেও কোন কল্যাণ নেই। সাবধান ,লোভীরা যেন তোমাকে নিয়ে ধ্বংসের ঝরনায় নামিয়ে না দিতে পারে। যদি তুমি তাদের কাছ থেকে নিজকে সংযত রাখতে পার তবে তোমার নিজের ও আল্লাহর মাঝে আর কোন সম্পদশালী থাকবে না। কাজেই সংযত থেকে তাতে তোমার জন্য যা নির্ধারিত তা দেখতে পাবে এবং তোমার অংশ তুমি পাবে। যদিও সবকিছু আল্লাহর কাছ থেকেই প্রাপ্ত তবুও মনে রেখো ,মহিমান্বিত আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি সামান্য কিছু পাওয়া তাঁর বান্দার কাছ থেকে অনেক পাওয়া অপেক্ষা অনেক বেশি মর্যাদাশীল।

যা তুমি নীরব থেকে হারিয়েছো তা সঠিক করে নেয়া অনেক সহজতর ,কথা বলে যা হারিয়েছো তা অর্জন করা অপেক্ষা । কোন পাত্রে যা থাকে ঢাকনা লাগিয়ে দিলে তা থেকে যায়। তোমার হাতে যা আছে তা রক্ষা করা অন্যের হাতে যা আছে তা চাওয়া অপেক্ষা উত্তম ও পছন্দনীয়। অন্যের কাছে যাচনা করা অপেক্ষা নৈরাশ্যের তিক্ততা অনেক ভালো। সততার সাথে কায়িক শ্রম করা জ্বালাময় জীবনের সম্পদ অপেক্ষা অনেক ভালো। একজন লোক তার বাতেনের সর্বোত্তম প্রহরী। অনেক সময় যা তার জন্য ক্ষতিকর মানুষ তার জন্য সংগ্রাম করে । যে বেশি কথা বলে সে বোকার মতো কথা বলে । যে ভেবে দেখে সে উপলব্ধি করতে পারে। ধার্মিক লোকদের সাথে মেলামেশা করো ;তাতে তুমিও তাদের একজন হয়ে যাবে। পাপী লোক থেকে দূরে সরে থেকো ,তাতে তুমি নিরাপদ থাকতে পারবে। হারাম খাদ্য নিকৃষ্টতম বস্তু। দুর্বলের প্রতি অত্যাচার নিকৃষ্টতম অত্যাচার। কোমলতা যেখানে অচল সেখানে কঠোরতাই কোমলতা। অনেক সময় চিকিৎসাই পীড়া আর পীড়াই চিকিৎসা। অনেক সময় অশুভাকাঙ্খী সঠিক উপদেশ দেয় এবং শুভাকাঙ্খীও প্রতারণা করে। আশার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না ,কারণা আশা হচ্ছে বোকাদের প্রধান অবলম্বন। কারো অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা জ্ঞানের পরিচায়ক। তোমার সর্বোৎকৃষ্ট অভিজ্ঞতা হলো তা ,যা তোমাকে শিক্ষা দেয়। অবসর শোকে রূপান্তরিত হবার আগে এর সৎব্যবহার করো। যাচনাকারীরা যা চায় তা পায় না এবং কোন প্রস্থানকারী আর ফিরে আসে না। বিচার দিনের ব্যবস্থা না করা এবং পাপ অর্জন করা মানেই হলো ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়া। প্রত্যেক বিষয়ের একটা পরিণতি আছে। যা তোমার জন্য নির্ধারিত তা সহসাই তোমার কাছে আসবে। একজন ব্যবসায়ী ঝুকি গ্রহণ করবেই। অনেক সময় ক্ষুদ্রও বৃহৎ পরিমাণ অপেক্ষা উপকারী। ইতর লোকের সাহায্য ও সন্দিহান বন্ধুত্বে কোন মঙ্গল আশা করা যায় না। দুনিয়া যতক্ষণ তোমার মুষ্টিগত থাকে ততক্ষণ শুধু এর বিরুদ্ধে অভিযোগী হয়ো। কোন কিছু বেশির আশায় নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলো না। সাবধান থেকো ,না হয় শক্রতার অনুভূতি তোমাকে পরাভূত করবে।

তোমার ভ্রাতার সঙ্গে এমনভাবে থেকো ,যখন সে তোমার জ্ঞাতিত্ব অস্বীকার করে তখন তুমি তার জ্ঞাতিত্ব স্বীকার করো। যখন সে ফিরে আসে তার প্রতি সদয় থেকে এবং তার কাছে গিয়ে বসে। যখন সে দিতে না চায় তখন তার জন্য ব্যয় করো। যখন সে বেরিয়ে যেতে চায়। তখন তাকে থাকার জন্য অনুরোধ করো। যখন সে কঠোর হয় তখন তুমি কোমল হয়ে যেয়ো। যখন সে ভুল করে তখন তার ওজর বের করার চিন্তা এমনভাবে করো যেন তুমি তার একজন দাস এবং সে তোমার সদাশয় প্রভু। কিন্তু এসব যেন অযথা না হয় সে দিকে যত্নবান হয়ো এবং কোন অবাঞ্চিত ব্যক্তির প্রতি এরূপ আচরণ করো না। তোমার বন্ধুর শক্রকে কখনো বন্ধু মনে করো না। এটা তোমার বন্ধুকে ক্ষেপিয়ে তুলবে। তোমার ভাইকে সত্য ও সঠিক উপদেশ দিয়ো - এটা ভালো হোক আর তিক্তই হোক। ক্রোধকে গিলে ফেলো কারণ পরিণামে এর চেয়ে মধুর আর কোন কিছু আমি দেখিনি এবং এর চেয়ে আনন্দদায়ক ও ফলদায়ক আর কিছু নেই। যে তোমার প্রতি কঠোর তার প্রতি কোমল থেকো। কারণ এতে সে শীঘ্রই তোমার প্রতি কোমল হয়ে যেতে পারে। আনুকূল্যের সাথে তোমার শত্রুর প্রতি ব্যবহার করো। এতে দুটো কৃতকার্যতার ফল তুমি পাবে - একটা হলো প্রতিশোধের কৃতকার্যতা এবং অপরটা হলো আনুকূল্য করার কৃতকার্যতা। যদি তুমি মনে কর কোন বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব ছিন্ন করবে। তবে তোমার দিক থেকে তাকে কিছু সুযোগ দিয়ো যাতে সে পুনরায় কখনো যেন বন্ধুত্ব পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। যদি কেউ তোমার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করে তবে তা সত্য প্রমাণ করো। তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার সম্পর্ক বিবেচনা করে তার স্বার্থের প্রতি কোন অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। কারণ তার স্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা করলে সে তোমার ভাই থাকবে না। তোমার ঘরের লোকেরা যেন তোমার দ্বারা দুর্দশাগ্রস্থ না হয়। যে তোমার দিক থেকে ফিরে চলে গেছে তার কাছেও যেয়ো না। তোমার ভ্রাতা যেন তোমার জ্ঞাতিত্ব অস্বীকারে ততটুকু দৃঢ় না হয় যতটুকু দৃঢ়তা তুমি তার জ্ঞাতিত্বে রাখবে। তুমি সর্বদা তার প্রতি মঙ্গলকর কাজে মন্দকে অতিক্রম করে চলবে। যে ব্যক্তি তোমাকে অত্যাচার করে তার অত্যাচার বড় একটা কিছু মনে করো না। কারণ সে শুধুমাত্র নিজের ক্ষতি ও তোমার উপকারেই প্রবৃত্ত আছে। যে তোমাকে খুশি করে তার পুরস্কার যেন তাকে অখুশি করার মধ্যে না হয়।

বৎস আমার! জেনে রাখো ,জীবিকা দু প্রকার - এক প্রকার জীবিকা যা তুমি অনুসন্ধান কর এবং অন্যপ্রকার জীবিকা যা তোমাকে অনুসন্ধান করে। শেষোক্তটা এমন যে ,যদি তুমি তার কাছে পৌছতে না পার তবে তা তোমার কাছে পৌছবে। প্রয়োজনের সময় কুঁকড়ে পড়া এবং সম্পদ পেলে কঠোর হওয়া কতই না মন্দ। এ দুনিয়া থেকে তোমার শুধু সেটুকু পাওয়া উচিত যা দিয়ে তুমি তোমার স্থায়ী আবাস সাজাতে পার। যা তোমার হাতছাড়া হয়ে গেছে তার যদি তুমি জের টান তা হলে যা মোটেই তোমার কাছে আসেনি তার আশা করো। যা ঘটে গেছে এবং যা এখনো ঘটেনি এ দুটোর মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো ,কারণ ঘটনাপ্রবাহ প্রায় একই রকম। কষ্ট না দিলে উপদেশ যাদের কোন উপকারে আসে না তাদের মতো হয়ে না ,কারণ জ্ঞানীগণ শিক্ষা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে আর পশুরা আঘাত করলে শিখে। ইমানের পবিত্রতা ও ধৈর্যের দৃঢ়তা দ্বারা উদ্বীগ্নতা ও অস্থিরতার আক্রমণ থেকে নিজকে রক্ষা করো। যে মধ্যপথ পরিহার করে সে সীমালঙ্ঘন করে। সহচর আত্মীয়ের মতো। সে ব্যক্তিই বন্ধু যার অনুপস্থিতি বন্ধুত্বের প্রমাণ করে। কামনা (খাহেশ) দুঃখের অংশীদার। অনেক সময় নিকটবর্তীগণ দূরবর্তীগণ অপেক্ষা দূরের হয়ে পড়ে আবার দূরবর্তী নিকটবর্তী অপেক্ষাও নিকটতর হয়। সেই ব্যক্তি আগন্তুক যার কোন বন্ধু নেই। যে ব্যক্তি অধিকার লঙ্ঘন করে সে নিজের পথ সংকীর্ণ করে। যে নিজের অবস্থায় স্থির থাকে। সে তার পথেও স্থির। যা তোমরা নিজেদের ও মহিমান্বিত আল্লাহর মধ্যে গ্রহণ করেছো তা সর্বাপেক্ষা বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী। যে তোমার স্বার্থের বিষয়ে উদাসীন সে তোমার শত্রু। যখন লোভ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তখন বঞ্চনা হয় অর্জন। প্রত্যেক ত্রুটি - বিচূতি পুনরীক্ষণ করা যায় না এবং প্রত্যেক সুযোগ - সুবিধা বারবার আসে না। অনেক সময় চক্ষুম্মান লোকও পথ হারায়ে ফেলে আবার অন্ধলোক সঠিক পথের সন্ধান পায়। মন্দ কাজে সর্বদা বিলম্ব করো কারণ তোমার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন সময় তুমি এর প্রতি ক্ষিপ্রগতিতে যেতে পারবে। অজ্ঞদের জ্ঞাতিত্বের প্রতি অবজ্ঞা জ্ঞানীদের জ্ঞাতিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সমান। যে কেউ দুনিয়াকে নিরাপদ মনে করবে তার সাথেই দুনিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করবে। যে দুনিয়াকে মহৎ মনে করবে সে দুনিয়া দ্বারা অবনমিত হবে। যারা তীর ছেড়ে তাদের সকলেই লক্ষ্যভেদ করতে পারে না। যখন কর্তৃত্ব বদল হয় তখন সময়ও বদল হয়ে যায়। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করো এবং বাড়ি করার আগে প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা করো। সাবধান ,তোমার বক্তব্যে এমন কিছু বলো না যাতে অন্যরা উপহাস করবে ;এমনকি তা যদি অন্য কারো বক্তব্যও হয়।

নারীর সাথে কোন বিষয়ে পরামর্শ করো না। কারণ তারা দূরদৃষ্টিতে দুর্বল এবং তাদের দৃঢ়চিত্ততা নেই। ঘোমটা দিয়ে তাদের চোখ বন্ধ করে দিয়ো ,কারণ ঘোমটা দেয়ার বাধ্য বাধকতা তাদেরকে দীর্ঘদিন ধরে রাখবে। তাদের সাথে কোন অবিশ্বস্ত লোকের সাক্ষাত করতে দেয়া আর তাদের বাইরে আসতে দেয়া সমার্থবোধক। তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে না জানা যদি তুমি ব্যবস্থা করতে পার তবে তাই করো ,কারণ নারী হলো ফুল - প্রশাসক নয়। তার নিজের বাইরে তাকে সম্মান দিয়ে না। অন্যের জন্য মধ্যস্থতা করায় তাকে উৎসাহিত করো না। নারীর প্রতি অযথা সন্দেহ পোষণ করো না। এতে একজন সঠিক নারীও খারাপ হয়ে যায় এবং সতী নারীও বিপথগামী হয়ে যায়।

তোমার অধীনস্থ সকল কর্মচারীর কাজ নির্ধারণ করে দিয়ো যাতে তাদেরকে আলাদাভাবে দায়ী করা যায়। এ রকম করলে তারা একজনের কাজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। তোমার আত্মীয়স্বজন ও জ্ঞাতিগণকে সম্মান প্রদর্শন করো ;কারণ তারা হলো তোমার পাখা যা দিয়ে তুমি উড়বে ,তোমার আসল ভিত্তি যে দিকে তুমি ফিরে যাবে এবং তোমার হাত যা দিয়ে তুমি আক্রমণ করবে। তোমার দ্বীন ও দুনিয়াকে আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়ো এবং নিকটের ও দূরের - ইহকাল ও পরকালে যা তোমার জন্য সর্বোত্তম তা নির্ধারণ করার জন্য প্রার্থনা করো। এখানেই শেষ করলাম ।

___________________

১ বাহারানী (৫ম খণ্ড ,পৃঃ ২) লিখেছেন যে ,আমিরুল মোমেনিন এ উপদেশাবলী তাঁর পুত্র ইবনে হানাফিয়াকে লিখেছেন। অপরপক্ষে শরীফ রাজী লিখেছেন যে ,এ উপদেশাবলী ইমাম হাসানের জন্য লিখেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আমিরুল মোমেনিন আরো একটা উপদেশ পত্র লিখেছিলেন যার কিয়দংশ এখানেও উল্লেখিত হয়েছে। সেটা ছিল ইমাম হাসানকে সম্বোধন করে (আশরাফ ,পৃঃ ১৫৭ - ১৫৯ ,মজলিসী ,পৃঃ ১৯৬ - ১৯৮)

আমিরুল মোমেনিনের এ উপদেশাবলীর তাত্ত্বিক দিক লক্ষ্য করলে প্রতীয়মান হয় যে ,এটা মুহাম্মদ হানাফিয়াকেই লেখা হয়েছিল। ইমাম হাসানকে তিনি মনোমতো করে গড়ে তুলেছিলেন। তদুপরি রাসূলের (সা.) সংস্পর্শের কারণে ইসলামের বাহ্যিক ও গুপ্ত বিষয়সমুহ তিনি অবহিত ছিলেন। তার প্রতি মওলা আলী (আ.) বহুবার ইঙ্গিত করেছেন যা এ গ্রন্থেও উল্লেখিত হয়েছে। তদুপরি সিফফিনের যুদ্ধের সময় ইমাম হাসান বয়ঃপ্রাপ্ত ছিলেন। কাজেই এ উপদেশাবলী হানাফিয়ার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস । - বাংলা অনুবাদক

আমরা একজন মহৎ পিতার উপদেশাবলী সম্বলিত পত্র দেখলাম। কিন্তু মুয়াবিয়া তার দুশ্চরিত্র পুত্র ইয়াজিদকে খলিফা বানানোর জন্য বিভিন্ন অপকৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কতিপয় লোকের বায়াত ইয়াজিদের নামে গ্রহণ করতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি মৃত্যুশয্যায় থাকাকালে ইয়াজিদ দামস্কের বাইরে মৃগয়ারত ছিল। সে কারণে তিনি ইয়াজিদের জন্য যে উপদেশনামা লিখে দিয়েছিলেন তা ১৯৯২ সনের ৪ জুলাই ,দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল যা নিন্মে উদ্ধৃত করা হলোঃ

প্রিয় বৎস! আমি তোমার পথের সব কাঁটা অপসারণ করে পথ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিয়েছি ,অঢেল ধন - সম্পদ জমা করে রেখেছি । তোমার প্রতি আমার উপদেশ ,আমার এসব উপকারের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তুমি হেজাজবাসীদের প্রতি দয়াপ্রবণ থাকবে ,তারা তোমার আসল ভিত্তি । যারা তোমার কাছে আসবে তাদের প্রতি উত্তম ব্যবহার করবে । ইরাকবাসীদের প্রতিও অনুগ্রহ করবে। তারা প্রতিদিন নয়া শাসনকর্তা দাবী করলে তা - ই করবে । সিরিয়দেরকে তোমার উপদেষ্টা নিয়োগ করো দুশমনের সাথে মোকাবেলা করতে হলে সিরিয়দের সাহায্য গ্রহণ করো কামিয়াবা হবার পর সিরিয়দেরকে তাদের শহরে ফেরত আনবে কেননা অন্য স্থানে অধিক অবস্থানের ফলে তাদের নৈতিক পরিবর্তন হবার আশঙ্কা থাকে । তোমার চারজন প্রধান শত্রু এখনো রয়ে গেল । এরা হলো - হুসাইন ইবনে আলী ,আবদুল্লাহ ইবনে উমর ,আবদুর রহমান ইবনে আবুবকর ও আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের । এদের মধ্যে হুসাইন তোমার জন্য অধিক বিপদজনক।

পত্র - ৩২

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى مُعاوِيَةَ

وَ أَرْدَيْتَ جِيلاً مِنَ النَّاسِ كَثِيراً؛ خَدَعْتَهُمْ بِغَيِّكَ، وَ أَلْقَيْتَهُمْ فِي مَوْجِ بَحْرِكَ، تَغْشَاهُمُ الظُّلُمَاتُ، وَ تَتَلاَطَمُ بِهِمُ الشُّبُهَاتُ، فَجَازُوا عَنْ وِجْهَتِهِمْ، وَ نَكَصُوا عَلَى أَعْقَابِهِمْ، وَ تَوَلَّوْا عَلَى أَدْبَارِهِمْ، وَ عَوَّلُوا عَلَى أَحْسَابِهِمْ، إِلا مَنْ فَأَ مِنْ أَهْلِ الْبَصَائِرِ، فَإِنَّهُمْ فَارَقُوكَ بَعْدَ مَعْرِفَتِكَ، وَ هَرَبُوا إِلَى اللَّهِ مِنْ مُوَازَرَتِكَ، إِذْ حَمَلْتَهُمْ عَلَى الصَّعْبِ، وَ عَدَلْتَ بِهِمْ عَنِ الْقَصْدِ. فَاتَّقِ اللَّهَ يَا مُعَاوِيَةُ فِي نَفْسِكَ وَ جَاذِبِ الشَّيْطَانَ قِيَادَكَ، فَإِنَّ الدُّنْيَا مُنْقَطِعَةٌ عَنْكَ، وَ الْآخِرَةَ قَرِيبَةٌ مِنْكَ،وَ السَّلاَمُ .

মুয়াবিয়ার প্রতি

তুমি একটা বিরাট জন গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছো যাদের তুমি তোমার বিভ্রান্তি দ্বারা প্রতারিত করেছো। তুমি তাদেরকে তোমার সমুদ্রের স্রোতে নিপতিত করেছো যেখানে অন্ধকার তাদের ঢেকে ফেলেছে এবং অমঙ্গলের আশঙ্কা তাদেরকে ঘিরে ধরেছে। ফলে তারা ন্যায় পথ থেকে সরে গিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে তাদের অতীতের দিকে ফিরে গেছে। তাদের মধ্যে কতিপয় জ্ঞানী লোক যারা তোমাকে বুঝতে পেরেছে তারা তোমাকে ত্যাগ করে সৎপথে রয়েছে এবং তারা তোমার সাহায্য ত্যাগ করে আল্লাহর দিকে ধাবিত হচ্ছে যদিও তুমি তাদের কষ্ট দিচ্ছ এবং তাদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করছো। সুতরাং হে মুয়াবিয়া ,আল্লাহকে তোমার নিজের জন্য ভয় কর এবং শয়তানের হাত থেকে তোমার লাগাম খুলে নিয়ে আস। মনে রেখো ,এ দুনিয়া সহসাই তোমার কাছ থেকে কেটে পড়বে এবং পরকাল অতি সন্নিকটে । এখানেই শেষ করলাম ।

পত্র - ৩৩

و من كتاب لهعليه‌السلام

إلى قُثَمِ بْنِ ألْعَبَاسِ وَ هُوَ عامِلُهُ عَلى مَكَّةَ

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ عَيْنِي -بِالْمَغْرِبِ- كَتَبَ إِلَيَّ يُعْلِمُنِي أَنَّهُ وُجِّهَ إِلَى الْمَوْسِمِ أُنَاسٌ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ، الْعُمْيِ الْقُلُوبِ، الصُّمِّ الْأَسْمَاعِ، الْكُمْهِ الْأَبْصَارِ، الَّذِينَ يَلْتَمِسُونَالْحَقَّ بِالْبَاطِلِ، وَ يُطِيعُونَ الْمَخْلُوقَ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ، وَ يَحْتَلِبُونَ الدُّنْيَا دَرَّهَا بِالدِّينِ وَ يَشْتَرُونَ عَاجِلَهَا بِآجِلِ الْأَبْرَارِ الْمُتَّقِينَ؛ وَ لَنْ يَفُوزَ بِالْخَيْرِ إِلا عَامِلُهُ، وَ لاَ يُجْزَى جَزَأَ الشَّرِّ إِلا فَاعِلُهُ. فَأَقِمْ عَلَى مَا فِي يَدَيْكَ قِيَامَ الْحَازِمِ الصَّلِيبِ (المصیب)، وَ النَّاصِحِ اللَّبِيبِ، التَّابِعِ لِسُلْطَانِهِ، الْمُطِيعِ لِإِمَامِهِ. وَ إِيَّاكَ وَ مَا يُعْتَذَرُ مِنْهُ، وَ لاَ تَكُنْ عِنْدَ النَّعْمَأِ بَطِراً وَ لاَ عِنْدَ الْبَأْسَأِ فَشِلاً، وَ السَّلاَمُ.

মক্কার গভর্ণর কুছাম ইবনে আব্বাসের প্রতি

পশ্চিমে নিয়োজিত আমার গুপ্তচর আমাকে লিখে পাঠিয়েছে যে ,সিরিয়ার কিছু লোক হজ্জের জন্য প্রেরিত হয়েছে ,যাদের হৃদয় অন্ধকারাচ্ছন্ন ,কর্ণ বধির এবং যারা দূরদৃষ্টি বিবর্জিত। তারা সত্যের সাথে মিথ্যার তালগোল পাকিয়ে ফেলে ,আল্লাহ অবাধ্য ব্যক্তিকে মেনে চলে ,দ্বীনের নামে দুনিয়ার ফয়দা লুট করে এবং ধার্মিক ও খোদাভীরুদের পুরস্কার পরিত্যাগ করে দুনিয়ার সুখের ব্যবসায় করে। মঙ্গলের জন্য কাজ না করলে কেউ তা অর্জন করতে পারে না এবং পাপ না করলে কেউ পাপের শাস্তি পায় না। সুতরাং তোমার কর্তব্যে তুমি এমন একজন বুদ্ধিমান ,অভিজ্ঞ ,শুভাকাঙ্খী ও জ্ঞানবানের মতো আচরণ করো যে তার উপরস্থকে মান্য করে এবং যে তার ইমামের অনুগত। তোমার ব্যাখ্যা দেয়ার মতো যা আছে তা আমি এড়িয়ে যেতে চাই। সম্পদ বাড়িয়ে তুলো না এবং দুঃখ - কষ্টে সাহস হারিয়ে ফেলো না। এখানে বিষয়টি শেষ করলাম ।

___________________

১। মুয়াবিয়া হজ্জের সময় মক্কায় কিছু লোক প্রেরণ করেছিল। তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন তারা মক্কার শান্তিপূর্ণ অবস্থায় এ বলে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যে ,আলী ইবনে আবি তালিব উসমানকে হত্যা করার জন্য জনগণকে প্ররোচিত করেছিল। এ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য তাকওয়া ও খোদাভীরুতা প্রদর্শন করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে তাদের নির্দেশ দিয়েছিল । এতে সেসব লোক মুয়াবিয়ার চরিত্র মহৎ বলে প্রচার করে এবং উসমানের মৃত্যুর জন্য আমিরুল মোমেনিনকে দায়ী করে প্রচার চালাতে থাকে। তারা মুয়াবিয়ার আচরণের মহত্ত্ব ,দানশীলতা ও দয়ার নানা প্রকার গল্প ছড়াতে লাগলো। এ সংবাদ আমিরুল মোমেনিন জানতে পেরে উপরোক্ত পত্র লিখেছেন ।