নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 48183
ডাউনলোড: 2249

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 48183 / ডাউনলোড: 2249
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

উক্তি , উপদেশ ও প্রবাদ ৩৬১ - ৩৮০

উক্তি নং - ৩৬১

وَ قَالَعليه‌السلام : عِنْدَ تَنَاهِي الشِّدَّةِ تَكُونُ الْفَرْجَةُ، وَ عِنْدَ تَضَايُقِ حَلَقِ الْبَلاَءِ يَكُونُ الرَّخَاءُ.

অভাব চরম হলে ত্রাণ আসে ,শাস্তি চরম হলে আরাম আসে।

উক্তি নং - ৩৬২

وَ قَالَعليه‌السلام لِبَعْضِ أَصْحَابِهِ: لاَ تَجْعَلَنَّ أَكْثَرَ شُغُلِكَ بِأَهْلِكَ وَ وَلَدِكَ: فَإِنْ يَكُنْ أَهْلُكَ وَ وَلَدُكَ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يُضِيعُ أَوْلِيَاءَهُ، وَ إِنْ يَكُونُوا أَعْدَاءَ اللَّهِ فَمَا هَمُّكَ وَ شُغُلُكَ بِأَعْدَأِ اللَّهِ؟!

আমিরুল মোমেনিন তাঁর কিছু অনুচরকে বলেছেন যে ,তোমার স্ত্রী ও সন্তান - সন্ততিদের জন্য তোমার সীমিত সময়ের বেশিরভাগ ব্যয় করো না। কারণ তারা যদি আল্লাহ প্রেমিক হয়ে থাকে তবে আল্লাহ কখনো তার প্রেমিকদের অযত্নে রাখেন না। আর তারা যদি আল্লাহর শক্র হয়ে থাকে। তবে আল্লাহর শত্রুদের জন্য উদ্বীগ্ন ও ব্যস্ত থাকা তোমার উচিত হবে না।

উক্তি নং - ৩৬৩

وَ قَالَعليه‌السلام : أَكْبَرُ الْعَيْبِ أَنْ تَعِيبَ مَا فِيكَ مِثْلُهُ.

তোমার মধ্যে যে সব দোষ ত্রুটি রয়েছে তা সব চাইতে বড় দোষ ত্রুটি মনে করো।

উক্তি নং - ৩৬৪

وَ هَنَّأَ بِحَضْرَتِهِ رَجُلٌ رَجُلاً بِغُلاَمٍ، وُلِدَ لَهُ فَقَالَ لَهُ: لِيَهْنِئْكَ الْفَارِسُ؛ فَقَالَعليه‌السلام : لاَ تَقُلْ ذَلِكَ، وَ لَكِنْ قُلْ: شَكَرْتَ الْوَاهِبَ، وَ بُورِكَ لَكَ فِي الْمَوْهُوبِ، وَ بَلَغَ أَشُدَّهُ، وَ رُزِقْتَ بِرَّهُ.

এক ব্যক্তির পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে অন্য এক ব্যক্তি আমিরুল মোমেনিনের সামনে ওই ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানিয়ে বললো , একজন ঘোড় - সওয়ার পাওয়াতে তোমাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। ” এতে আমিরুল মোমেনিন বললেন , এ রকম কথা বলো না ;বলো পরমদাতা আল্লাহর কাছে তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপলক্ষ হয়েছে এবং আল্লাহ তোমাকে যা দিয়েছেন তাতে আশীবার্দ পুষ্ট হও। সে পরিপূর্ণ জীবন লাভ করুক এবং তার পূণ্য কাজে আল্লাহ তোমাকে আশীর্বাদ পুষ্ট করুন। ”

উক্তি নং - ৩৬৫

وَ بَنَى رَجُلٌ مِنْ عُمَّالِهِ بِنَأً فَخْما فَقَالَعليه‌السلام : أَطْلَعَتِ الْوَرِقُ رُؤُوسَهَا! إِنَّ الْبِنَاءَ يَصِفُ لَكَ الْغِنَى.

আমিরুল মোমেনিনের একজন আফিসার একটা রাজকীয় বাড়ি নির্মাণ করেছিল। এতে আমিরুল মোমেনিন বললেন , এটা হলো রূপার মুদ্রার মতো যা নিজের মুখ প্রকাশ করে। নিশ্চয়ই ,এ বাড়ি থেকে তোমার কুক্ষিগত সম্পদ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ”

উক্তি নং - ৩৬৬

وَ قِيلَ لَهُعليه‌السلام: لَوْ سُدَّ عَلَى رَجُلٍ بَابُ بَيْتٍ وَ تُرِكَ فِيهِ، مِنْ أَيْنَ كَانَ يَأْتِيهِ رِزْقُهُ؟ فَقَالَ عليه‌السلام: مِنْ حَيْثُ يَأْتِيهِ أَجَلُهُ.

একব্যক্তি আমিরুল মোমেনিনকে জিজ্ঞেস করলো , যদি কোন লোককে ঘরে আটক করে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় তবে সে কোথা থেকে জীবিকা পাবে। ” আমিরুল মোমেনিন বললেন , বদ্ধ ঘরে যেখান থেকে যে উপায়ে মৃত্যু তার কাছে পৌছে। ”

উক্তি নং - ৩৬৭

وَ عَزَّى قَوْما عَنْ مَيِّتٍ مَاتَ لَهُمْ فَقَالعليه‌السلام : إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ لَيْسَ لَكُمْ بَدَأَ، وَ لاَ إِلَيْكُمُ انْتَهَى، وَ قَدْ كَانَ صَاحِبُكُمْ هَذَا يُسَافِرُ فَعُدُّوهُ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، فَإِنْ قَدِمَ عَلَيْكُمْ وَ إِلا قَدِمْتُمْ عَلَيْهِ.

এক ব্যক্তির মৃত্যুতে সাস্তুনা দিতে গিয়ে আমিরুল মোমেনিন বললেন , এ বিষয়টি (মৃত্যু) তোমার লোকটি থেকে শুরুও হয়নি শেষও হয়নি। তোমার লোকটি পূর্বেই পরিভ্রমণ শুরু করেছে ,কাজেই এখনো সে পরিভ্রমণে আছে একথা ভাবাই উত্তম। হয় সে পুনরায় তোমাদের মাঝে যোগ দেবে ,না হয় তোমরা গিয়ে তার সঙ্গে যোগ দিবে।

উক্তি নং - ৩৬৮

وَ قَالَعليه‌السلام : أَيُّهَا النَّاسُ، لِيَرَكُمُ اللَّهُ مِنَ النِّعْمَةِ وَجِلِينَ، كَمَا يَرَاكُمْ مِنَ النِّقْمَةِ فَرِقِينَ! إِنَّهُ مَنْ وُسِّعَ عَلَيْهِ فِي ذَاتِ يَدِهِ، فَلَمْ يَرَ ذَلِكَ اسْتِدْرَاجاً فَقَدْ أَمِنَ مَخُوفاً، وَ مَنْ ضُيِّقَ عَلَيْهِ فِي ذَاتِ يَدِهِ فَلَمْ يَرَ ذَلِكَ اخْتِبَاراً فَقَدْ ضَيَّعَ مَأْمُولاً.

হে লোক সকল ,তোমাদের দুঃখের সময় তোমরা যেভাবে আল্লাহকে ভয় কর সুখের সময়ও তোমরা সেভাবে ভয় করবে। এটাই তিনি দেখতে চান। নিশ্চয়ই ,যাকে জীবনের সুখ - স্বাচ্ছন্দ্য দেয়া হয়েছে সে যদি এটাকে ধীর শাস্তি মনে না করে নিজকে নিরাপদ মনে করে তবে সে প্রতিশ্রুত পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে।

উক্তি নং - ৩৬৯

وَ قَالَعليه‌السلام : يَا أَسْرَى الرَّغْبَةِ أَقْصِرُوا، فَإِنَّ الْمُعَرِّجَ عَلَى الدُّنْيَا لاَ يَرُوعُهُ مِنْهَا إِلا صَرِيفُ أَنْيَابِ الْحِدْثَانِ. أَيُّهَا النَّاسُ، تَوَلَّوْا مِنْ أَنْفُسِكُمْ تَأْدِيبَهَا، وَ اعْدِلُوا بِهَا عَنْ ضَرَاوَةِ عَادَاتِهَا.

হে কামনা - বাসনার দাস ,কামনা - বাসনা পরিত্যাগ কর। যে এতে নিজকে বিলীন করে দিয়েছে সে দুঃখ - বেদনা ছাড়া কিছুই পায় না। হে জনমণ্ডলী ,নিজেদের প্রশিক্ষণ নিজেরা গ্রহণ কর এবং তোমাদের স্বাভাবিক অনুরাগের (দুনিয়ার প্রতি) নির্দেশনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।

উক্তি নং - ৩৭০

وَ قَالَعليه‌السلام : لاَ تَظُنَّنَّ بِكَلِمَةٍ خَرَجَتْ مِنْ أَحَدٍ سُوءاً، وَ أَنْتَ تَجِدُ لَهَا فِي الْخَيْرِ مُحْتَمَلاً.

কোন লোকের কথায় সামান্যতম মঙ্গল নিহিত থাকলেও তা মন্দ কথা মনে করো না ।

উক্তি নং - ৩৭১

وَ قَالَعليه‌السلام : إِذَا كَانَتْ لَكَ إِلَى اللَّهِ سُبْحَانَهُ حَاجَةٌ فَابْدَأْبِمَسْأَلَةِ الصَّلاَةِ عَلَى رَسُولِهِصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم ، ثُمَّ سَلْ حَاجَتَكَ؛ فَإِنَّ اللَّهَ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يُسْأَلَ حَاجَتَيْنِ، فَيَقْضِيَ إِحْدَاهُمَا وَ يَمْنَعَ الْأُخْرَى.

মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে হলে তোমরা প্রথমে রাসূল (সা.) ও তার আহলুল বাইতের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করো ,তারপর যা যাচনা করার তা করো। কারণ পরম দয়ালু আল্লাহ দুটি অনুরোধের মধ্যে যেটি রাসূল (সা.) ও তার আহলুল বাইতের প্রতি দরুদ ও সালামকৃত সেটি পূরণ করেন এবং অন্য সব যাচনা বাতিল করে দেন।

উক্তি নং - ৩৭২

وَ قَالَعليه‌السلام : مَنْ ضَنَّ بِعِرْضِهِ فَلْيَدَعِ الْمِرَاءَ.

যে ব্যক্তি অন্যের সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত তার উচিত ঝগড়া - বিবাদ হতে বিরত থাকা ।

উক্তি নং - ৩৭৩

قَالَعليه‌السلام : مِنَ الْخُرْقِ الْمُعَاجَلَةُ قَبْلَ الْإِمْكَانِ، وَ الْأَنَاةُ بَعْدَ الْفُرْصَةِ.

কোন বিষয়ে যথাযথ সময়ের পূর্বে তড়িঘড়ি করা এবং যথাযথ সুযোগ উপেক্ষা করে বিলম্ব করা বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

উক্তি নং - ৩৭৪

وَ قَالَعليه‌السلام : لاَ تَسْأَلْ عَمَّا لاَ يَكُونُ، فَفِي الَّذِي قَدْ كَانَ لَكَ شُغُلٌ.

যা ঘটতে পারে না সে বিষয় জিজ্ঞেস করে সময় নষ্ট করো না ,কারণ যা ঘটেছে তা নিয়ে উদ্বীগ্ন থাকার যথেষ্ট সুযোগ আছে।

উক্তি নং - ৩৭৫

وَ قَالَعليه‌السلام : الْفِكْرُ مِرْآةٌ صَافِيَةٌ، وَ الاِعْتِبَارُ مُنْذِرٌ نَاصِحٌ. وَ كَفَى أَدَبا لِنَفْسِكَ تَجَنُّبُكَ مَا كَرِهْتَهُ لِغَيْرِكَ.

কল্পনা একটা স্বচ্ছ আয়না এবং পারিপার্শ্বিক সবকিছু হতে শিক্ষা গ্রহণ করলে উপদেশ পাবে ও সতর্ক হতে পারবে। নিজের উন্নতি সাধনের জন্য এটাই যথেষ্ট যে ,অন্যের মধ্যে যে সব মন্দ দেখতে পাও তা নিজের মধ্য থেকে দূর করে দাও।

উক্তি নং - ৩৭৬

وَ قَالَعليه‌السلام : الْعِلْمُ مَقْرُونٌ بِالْعَمَلِ: فَمَنْ عَلِمَ عَمِلَ؛ وَ الْعِلْمُ يَهْتِفُ بِالْعَمَلِ، فَإِنْ أَجَابَهُ وَ إِلا ارْتَحَلَ عَنْهُ.

জ্ঞান আমলের সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং যে জ্ঞানী তাকে আমল করতে হবে। জ্ঞানের সঙ্গে আমল না করলে জ্ঞান বিদূরিত হয়ে পড়ে।

উক্তি নং - ৩৭৭

وَ قَالَعليه‌السلام : يَا أَيُّهَا النَّاسُ، مَتَاعُ الدُّنْيَا حُطَامٌ مُوبِئٌ فَتَجَنَّبُوا مَرْعَاهُ! قُلْعَتُهَا أَحْظَى مِنْ طُمَأْنِينَتِهَا، وَ بُلْغَتُهَا أَزْكَى مِنْ ثَرْوَتِهَا (اثراثها). حُكِمَ عَلَى مُكْثِريهابِالْفَاقَةِ، وَ أُعِينَ مَنْ غَنِيَ عَنْهَا بِالرَّاحَةِ (بالرّحمة). وَ مَنْ رَاقَهُ زِبْرِجُهَا أَعْقَبَتْ نَاظِرَيْهِ كَمَهاً، وَ مَنِ اسْتَشْعَرَ الشَّغَفَ بِهَا مَلَأَتْ ضَمِيرَهُ أَشْجَانا، لَهُنَّ رَقْصٌ عَلَى سُوَيْدَأِ قَلْبِهِ، هَمُّ يَشْغَلُهُ، وَ هَمُّ يَحْزُنُهُ، كَذَلِكَ حَتَّى يُؤْخَذَ بِكَظَمِهِ فَيُلْقَى بِالْفَضَأِ، مُنْقَطِعا أَبْهَرَاهُ، هَيِّنا عَلَى اللَّهِ فَنَاؤُهُ، وَ عَلَى الْإِخْوَانِ إِلْقَاؤُهُ، وَ إِنَّمَا يَنْظُرُ الْمُؤْمِنُ إِلَى الدُّنْيَا بِعَيْنِ الاِعْتِبَارِ، وَ يَقْتَاتُ مِنْهَا بِبَطْنِ الاِضْطِرَارِ، وَ يَسْمَعُ فِيهَا بِأُذُنِ الْمَقْتِ وَ الْإِبْغَاضِ، إِنْ قِيلَ أَثْرَى قِيلَ أَكْدَى! وَ إِنْ فُرِحَ لَهُ بِالْبَقَأِ، حُزِنَ لَهُ بِالْفَنَاءِ! هَذَا وَ لَمْ يَأْتِهِمْ يَوْمٌ فِيهِ يُبْلِسُونَ.

হে মানুষ ,এ দুনিয়ার সম্পদ উচ্ছিষ্টের মত যা মহামারির সৃষ্টি করে। সুতরাং এ চারণ ভূমি থেকে দূরে সরে থাক। এতে শান্তিতে থাকা অপেক্ষা এটাকে ত্যাগ করা অনেক ভালো এবং এর সম্পদরাজী অপেক্ষা পারিতোষিক অংশ অনেক বেশি সুখকর।

এখানে যারা সম্পদশালী পরকালে তারা হবে দুর্দশাগ্রস্ত। তাদের জন্যই রয়েছে পরকালের সুখ - শান্তি যারা দুনিয়া থেকে দূরে সরে থাকতে পেরেছে। এর চাকচিক্যে কোন লোক আকৃষ্ট হলে তার দুচোখে ধাঁধা লাগে। যদি কেউ এর প্রতি আগ্রাহান্বিত হয়ে পড়ে তবে তার হৃদয় দুঃখপূর্ণ হয় এবং ক্রমেই কালিমালিপ্ত হয়ে পড়ে। এর কিছু তাকে উদ্বীগ্ন করে আর কিছু তাকে বেদনা দেয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সে এ অবস্থায় থাকে। সে শূন্যে নিক্ষিপ্ত হয় এবং তার হৃদয়ের ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে পড়ে। তার মৃত্যু ঘটানো ও তার সহচরীগণ দ্বারা তাকে কবরে শায়িত করা আল্লাহর পক্ষে বড় সহজ কাজ ।

মোমেনগণ এ দুনিয়াকে এমন চোখে দেখে যাতে শিক্ষা গ্রহণ করা যায় এবং নিতান্ত প্রয়োজন পরিমাণ খাদ্য এ দুনিয়া থেকে গ্রহণ করে। সে ঘৃণা আর শক্রতার কান দিয়ে দুনিয়ার কথা শোনে। কারো সম্পর্কে যদি বলা হয় যে ,সে ধনী হয়ে গেছে তখন একথা বলা যায়। সে দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে। জীবনে যে আনন্দে কাটায় মৃত্যুতে সে শোকাভিভূত হয়। যদিও সে দিনটি এখনো আসে নি যেদিন তারা দারুণভাবে হতাশাগ্রস্ত হবে তবুও প্রকৃত অবস্থা এমনই।

উক্তি নং - ৩৭৮

وَ قَالَعليه‌السلام : إِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ وَضَعَ الثَّوَابَ عَلَى طَاعَتِهِ، وَ الْعِقَابَ عَلَى مَعْصِيَتِهِ، زِيَادَةً لِعِبَادِهِ عَنْ نِقْمَتِهِ، وَ حِيَاشَةً لَهُمْ إِلَى جَنَّتِهِ.

মহিমান্বিত আল্লাহ আনুগত্যের জন্য পুরস্কার আর পাপের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করেছেন যেন মানুষ শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারে এবং বেহেশতে যেতে পারে ।

উক্তি নং - ৩৭৯

وَ قَالَعليه‌السلام : يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يَبْقَى فِيهِمْ مِنَ الْقُرْآنِ إِلا رَسْمُهُ وَ مِنَ الْإِسْلاَمِ إِلا اسْمُهُ، وَ مَسَاجِدُهُمْ يَوْمَئِذٍ عَامِرَةٌ مِنَ الْبِنَاءِ، خَرَابٌ مِنَ الْهُدَى، سُكَّانُهَا وَ عُمَّارُهَا شَرُّ أَهْلِ الْأَرْضِ، مِنْهُمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ، وَ إِلَيْهِمْ تَأْوِي الْخَطِيئَةُ، يَرُدُّونَ مَنْ شَذَّ عَنْهَا فِيهَا وَ يَسُوقُونَ مَنْ تَأَخَّرَ عَنْهَا إِلَيْهَا. يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ: فَبِي حَلَفْتُ، لَأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ فِتْنَةً اَتْرُكُ الْحَلِيمَ فِيهَا حَيْرَانَ، وَ قَدْ فَعَلَ، وَ نَحْنُ نَسْتَقِيلُ اللَّهَ عَثْرَةَ الْغَفْلَةِ.

এমন সময় আসবে যখন লেখা ছাড়া কুরআনের আর কিছুই থাকবে না ;নাম ছাড়া ইসলামের আর কিছুই থাকবে না। সে সময় মানুষ মসজিদগুলোকে বড় বড় ইমারতে পরিণত করায় ব্যস্ত থাকবে ,কিন্ত তাতে কোন হেদায়েত থাকবে না। যারা এর মধ্যে থাকবে এবং যারা এতে যাবে তারা পৃথিবীতে নিকৃষ্টতম হবে। তাদের থেকে ফেতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং সকল বিভ্রান্তি তাদের দিকেই ফিরে যাবে। যদি কেউ তাদের থেকে দূরে সরে থাকে তবে তাকে টেনে নিয়ে আসবে এবং যদি কেউ তাদের থেকে ফিরে যায়। তবে তাকে ধাক্কা দিয়ে পুনরায় সামিল করা হবে। হাদিসে কুদসিতে মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন , আমি আমার সত্তার শপথ করে বলছি ,এমন অমঙ্গল আমি তাদের ওপর আপতিত করবো যাতে ধৈর্যশীলগণও হতভম্ব হয়ে যাবে। ” অবহেলার মাধ্যমে এহেনভাবে পতন থেকে রক্ষা পাবার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।

উক্তি নং - ৩৮০

وَ رُوِيَ أَنَّهُعليه‌السلام قَلَّمَا اعْتَدَلَ بِهِ الْمِنْبَرُ إِلا قَالَ أَمَامَ الْخُطْبَةِ: أَيُّهَا النَّاسُ، اتَّقُوا اللَّهَ، فَمَا خُلِقَ امْرُؤٌ عَبَثا فَيَلْهُوَ، وَ لاَ تُرِكَ سُدًى فَيَلْغُوَ! وَ مَا دُنْيَاهُ الَّتِي تَحَسَّنَتْ لَهُ بِخَلَفٍ مِنَ الْآخِرَةِ الَّتِي قَبَّحَهَا سُوءُ النَّظَرِ عِنْدَهُ، وَ مَا الْمَغْرُورُ الَّذِي ظَفِرَ مِنَ الدُّنْيَا بِأَعْلَى هِمَّتِهِ كَالْآخَرِ الَّذِي ظَفِرَ مِنَ الْآخِرَةِ بِأَدْنَى سُهْمَتِهِ.

বর্ণিত আছে যে ,আমিরুল মোমেনিন সর্বদা মেহরাবে উঠেই খোৎবা প্রদানের পূর্বে এ বাণী প্রদান করতেনঃ হে জনমণ্ডলী ,আল্লাহকে ভয় কর। মানুষকে তিনি অকারণে সৃষ্টি করেননি যে ,সে নিজকে যেনতেন ভাবে কাটিয়ে দেবে । তিনি মানুষকে এমন অযত্ন - রক্ষিত রাখেননি যে ,সে কাণ্ডজ্ঞানহীন বাজে কাজ করে যাবে। এ দুনিয়া তার কাছে যতই মনোমুগ্ধকর মনে হোক না কেন তা কখনো পরকালের স্থানাপন্ন হতে পারে না। সাহসিকতার মাধ্যমে যে এ জগতে কৃতকার্য হয়েছে সে পরকালের কৃতকার্যতার তুলনায় সামান্যতমও অজর্ন করতে পারেনি।