নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা0%

নাহজ আল-বালাঘা লেখক:
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ: হযরত আলী (আ.)

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক: আশ-শরীফ আর-রাজী
: জেহাদুল ইসলাম
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বিভাগ:

ভিজিট: 43919
ডাউনলোড: 2028

নাহজ আল-বালাঘা
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 48 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 43919 / ডাউনলোড: 2028
সাইজ সাইজ সাইজ
নাহজ আল-বালাঘা

নাহজ আল-বালাঘা

লেখক:
প্রকাশক: র‌্যামন পাবলিশার্স
বাংলা

রাসূলের (সা.) ‘জ্ঞান নগরীর দ্বার’ আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিব ছিলেন তত্ত্বজ্ঞানী, দার্শনিক, সুলেখক ও বাগ্মী। আলঙ্কারিক শাস্ত্রে তার পান্ডিত্য ও নৈপুন্য অসাধারণ। তিনি নবুওয়াতী জ্ঞান ভান্ডার হতে সরাসরি জ্ঞান আহরণ করেন এবং সাহাবাদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী পন্ডিত ছিলেন। এতে কারো দ্বিমত নেই। আরবী কাব্যে ও সাহিত্যে তার অনন্যসাধারণ অবদান ছিল। খেলাফত পরিচালনা কালে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ (খোৎবা) দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার প্রশাসকগণকে প্রশাসনিক বিষয়ে উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখেছিলেন। এমনকি বিভিন্ন সময়ে মানুষের অনেক প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন। তার এসব বাণী কেউকেউ লিখে রেখেছিল, কেউ কেউ মনে রেখেছিল, আবার কেউ কেউ তাদের লিখিত পুস্তকে উদ্ধৃত করেছিল। মোটকথা তার অমূল্য বাণীসমূহ মানুষের কাছে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল।

আশ-শরীফ আর-রাজী আমিরুল মোমেনিন আলী ইবনে আবি তালিবের ভাষণসমূহ (খোৎবা), পত্রাবলী, নির্দেশাবলী ও উক্তিসমূহ সংগ্রহ করে “নাহজ আল-বালঘা” নামক গ্রন্থটি সঙ্কলন করেন।

খোৎবা - ৭৩

لَقَدْ عَلِمْتُمْ أَنِّي أَحَقُّ النَّاسِ بِها مِنْ غَيْرِي؛ وَ وَ اللَّهِ لَأُسْلِمَنَّ مَا سَلِمَتْ أُمُورُ الْمُسْلِمِينَ؛ وَ لَمْ يَكُنْ فِيها جَوْرٌ إ لا عَلَيَّ خَاصَّةً، الْتِمَاسا لِأَجْرِ ذَلِكَ وَ فَضْلِهِ، وَ زُهْدا فِيما تَنافَسْتُمُوهُ مِنْ زُخْرُفِهِ وَ زِبْرِجِهِ.

যখন পরামর্শক কমিটি (শূরা) উসমানের হাতে বায়াত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন আমিরুল মোমেনিন বলেনঃ

নিশ্চয়ই তোমরা জেনেছো যে ,খেলাফতের জন্য অন্য সকলের চেয়ে আমার অধিকার বেশি। আল্লাহর কসম ,যতদিন পর্যন্ত মুসলিমদের বিষয়াষয় সঠিকভাবে চলবে এবং আমি ব্যতীত অন্যদের ওপর কোন অত্যাচার - নিপীড়ন থাকবে না ততদিন আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার প্রার্থী হয়ে নিশ্চুপ থাকবো এবং খেলাফতের সকল আকর্ষণ ও প্রলোভন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখবো যা তোমরা আকুলভাবে বাসনা কর ।

খোৎবা - ৭৪

لَما بَلَغَه اتهام بَني أميّة له بِالْمُشاركة فِي دَمِّ عُثْمان:

أَوَلَمْ يَنْهَ بَنِي أُمَيَّةَ عِلْمُها بِي عَنْ قَرْفِي أَوَما وَزَعَ الْجُهَّالَ سَابِقَتِي عَنْ تُهَمَتِي وَ لَما وَ عَظَهُمُ اللَّهُ بِهِ أَبْلَغُ مِنْ لِسَانِي! أَنَا حَجِيجُ الْمَارِقِينَ، وَ خَصِيمُ الْمُرْتَابِينَ، وَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ تُعْرَضُ الْأَمْثَالُ، وَ بِما فِي الصُّدُورِ تُجَازَى الْعِبَادُ.

আমিরুল মোমেনিন যখন জানতে পারলেন যে ,উসমানের হত্যার জন্য উমাইয়াগণ তাকে দায়ী করছে তখন তিনি বলেনঃ

উমাইয়ারা আমাকে ভালোভাবেই জানে। তবুও তারা আমাকে দোষারোপ করা থেকে নিবৃত্ত থাকেনি । সকলের আগে ইসলামে প্রবেশ করা সত্ত্বেও এসব অজ্ঞ লোক আমাকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে পারেনি । আল্লাহর সতর্কবাণী আমার কথার চেয়ে অনেক সুন্দরভাবে বর্ণিত আছে। আমি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী যারা ইমান পরিত্যাগ করে এবং তাদের বিরোধী যারা সংশয়কে সাদরে গ্রহণ করে। অনিশ্চিত বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য আল্লাহর কুরআনের সামনে উপস্থাপন করার দরকার। নিশ্চয়ই ,মানুষ সে অনুযায়ী বিনিময় পাবে যা তার হৃদয়ে আছে।

খোৎবা - ৭৫

رَحِمَ اللّهُ امرَاً (عَبْدا) سَمِعَ حُكْماً فَوَعى، وَ دُعِيَ إلى رَشادٍ فَدَنا، وَ أَخَذَ بِحُجْزَةِ هادٍفَنَجا. رَاقَبَ رَبَّهُ، وَ خَافَ ذَنْبَهُ، قَدَّمَ خَالِصاً، وَ عَمِلَ صَالِحاً (ناصحاً). اكْتَسَبَ مَذْخُوراً، وَ اجْتَنَبَ مَحْذُوراً، وَ رَمى غَرَضاً، وَ أَحْرَزَ عِوَضاً. كابَرَ هَوَاهُ، وَ كَذَّبَ مُنَاهُ. جَعَلَ الصَّبْرَ مَطِيَّةَ نَجَاتِهِ، وَ التَّقْوَى عُدَّةَ وَفاتِهِ، رَكِبَ الطَّرِيقَةَ الْغَرَّأَ، وَ لَزِمَ الْمَحَجَّةَ الْبَيْضَأَ. اغْتَنَمَ الْمَهَلَ، وَ بادَرَ الْأَجَلَ، وَ تَزَوَّدَ مِنَ الْعَمَلِ.

তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক ,যে জ্ঞানের বিষয় শ্রবণ করে এবং তা মান্য করে। যখন তাকে ন্যায় পথের দিকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তখন সেদিকে সে অগ্রসর হয় । সে একজন হাদির কটিবন্ধ ধরে তাকে অনুসরণ করে এবং মুক্তির পথ খুঁজে পায়। সে সর্বদা আল্লাহকে তার চোখের সামনে রাখে এবং পাপকে ভয় করে। সে আন্তরিকতা ও পরহেজগারির সাথে আমল করে এবং স্বর্গীয় ঐশ্বর্যের পুরস্কার অর্জন করে। পাপকে সে এড়িয়ে চলে ,কল্যাণকর বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য স্থির করে এবং তদানুযায়ী বিনিময় পায়। সে তার আকাঙ্খার মোকাবেলা করে ,কামনা প্রদমিত করে। ছবরকে মুক্তির উপায় মনে করে এবং তাকওয়াকে মৃত্যুর জন্য রসদ মনে করে। সে সম্মানের পথে এগিয়ে চলে এবং সত্যের সড়কে চলাফেরা করে। সে সময়ের সদ্ব্যবহার করে ,পথ অতিক্রম করার জন্য তাড়াহুড়া করে এবং আমলে সালেহারূপ রসদ সঙ্গে নিয়ে যায়।

খোৎবা - ৭৬

إنَّ بَنِي أُمَيَّةَ لَيُفَوِّقُونَنِي تُراثَ مُحَمَّدٍصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم تَفْوِيقاً، وَ اللَّهِ لَئِنْ بَقِيتُ لَهُمْ لَأَنْفُضَنَّهُمْ نَفْضَ اللَّحّامِ الْوِذامَ التَّرِبَةَ!.

উমাইয়াদের সম্পর্কে

বনি উমাইয়া আমাকে একটু একটু করে মুহাম্মদের উত্তরাধিকার দিচ্ছে যেমন করে একটা উষ্ট্রীকে একটু দোহন করে তার শাবককে দুধ পান করতে দেয়া হয় যেন দোহনের জন্য সে প্রস্তুত হয়। আল্লাহর কসম ,যদি আমি বেঁচে থাকি তবে তাদেরকে এমনভাবে প্রত্যাখ্যান করবো । যেমন করে কসাই বালি লাগা মাংশের টুকরা থেকে বালি ঝেড়ে ফেলে।

খোৎবা - ৭৭

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ما أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، فَإ نْ عُدْتُ فَعُدْ عَلَيَّ بِالْمَغْفِرَةِ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ما وَأَيْتُ مِنْ نَفْسِي، وَ لَمْ تَجِدْ لَهُ وَفَأً عِنْدِي. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ما تَقَرَّبْتُ بِهِ إلَيْكَ بِلِسانِي ثُمَّ خَالَفَهُ قَلْبِي، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي رَمَزَاتِ الْأَلْحَاظِ، وَ سَقَطاتِ الْأَلْفَاظِ، وَ شَهَوَاتِ الْجَنَانِ، وَ هَفَواتِ اللِّسَانِ.

আমিরুল মোমেনিনের সানুনয় প্রার্থনা

হে আমার আল্লাহ! আমি আমাকে যতটা জানি তুমি তার চেয়ে বেশি জানো। যদি আমি নিজের অজ্ঞাতে কোন অপরাধ করে থাকি তবে আমায় ক্ষমা করো। যদি আমি পাপের দিকে যাই তাহলে তুমি ক্ষমার দিকে যেয়ো। হে আমার আল্লাহ আমি নিজের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা যদি তুমি অপরিপূর্ণ দেখ সেজন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমার আল্লাহ ,আমি আমার জিহ্বা দিয়ে তোমার নৈকট্য যাচনা করেছি ,কিন্তু আমার হৃদয় তাতে বাধা দিয়েছে এবং সেভাবে কাজ করেনি ;সেজন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমার আল্লাহ চোখের খেয়ানত ,কথার অসৌজন্যতা ,হৃদয়ের আকাঙ্খা ও বক্তব্যের ভুলের জন্য আমাকে ক্ষমা করে ।

খোৎবা - ৭৮

قالَهُ لِبَعْضِ أَصْحابه لِما عِزْمِ عَلَى الْمَسير إلى الخَوارج، وَ قَدْ قالَ له: يا أميرالمؤ منين إن سَرت فِي هَذا الْوَقت، خَشيت أَن لا تَظْفر بِمُرادك، مِنْ طريق عِلم النُجوم. فَقَالَعليه‌السلام :

أَتَزْعُمُ أَنَّكَ تَهْدِي إلَى السَّاعَةِ الَّتِي مَنْ سَارَ فِيها صُرِفَ عَنْهُ السُّوءُ؟ وَ تُخَوِّفُ السَّاعَةِ الَّتِي مَنْ سَارَ فِيهَا حَاقَ بِهِ الضُّرُّ؟ فَمَنْ صَدَّقَكَ بِهَذَا فَقَدْ كَذَّبَ الْقُرْآنَ، وَ اسْتَغْنَى عَنِ الاِسْتِعَانَةِ بِاللَّهِ فِي نَيْلِ الْمَحْبُوبِ وَ دَفْعِ الْمَكْرُوهِ. وَ تَبْتَغِي فِي قَوْلِكَ لِلْعَامِلِ بِأَمْرِكَ أَنْ يُولِيَكَ الْحَمْدَ دُونَ رَبِّهِ، لِأَنَّكَ بِزَعْمِكَ أَنْتَ هَدَيْتَهُ إلَى السَّاعَةِ الَّتِي نالَ فِيهَا النَّفْعَ، وَ أَمِنَ الضُّرَّ!!.

أَيُّهَا النَّاسُ، إيَّاكُمْ وَ تَعَلُّمَ النُّجُومِ إلّا ما يُهْتَدَى بِهِ فِي بَرِّ أَوْ بَحْرٍ، فَإِنَّهَا تَدْعُو إ لَى الْكَهَانَةِ، وَ الْمُنَجِّمُ كَالْكَاهِنِ، وَ الْكَاهِنُ كَالسَّاحِرِ، وَ السَّاحِرُ كَالْكَافِرِ، وَ الْكَافِرُ فِي النَّارِ، سِيرُوا عَلَى اسْمِ اللَّهِ.

খারিজিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যাত্রাকালে কেউ একজন আমিরুল মোমেনিনকে বলল , এ মূহুর্তে যাত্রা করলে ,জ্যোতিষশাস্ত্র মতে ,আমার ভয় হয় ,আপনি লক্ষ্য অর্জনে কৃতকার্য হতে পারবেন না। তখন আমিরুল মোমেনিন বলেনঃ

তুমি কি মনে কর ,তুমি বলে দিতে পার মানুষ কোন সময় বের হলে অশুভ তাকে স্পর্শ করতে পারবে না অথবা কোন সময় বের হলে সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে ,সে বিষয়ে তুমি সতর্ক করে দিতে পার ? যে কেউ জ্যোতিষশাস্ত্র বিশ্বাস করে সে কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং নিজের অভিষ্ট অর্জনেও অবাঞ্চিত বিষয় প্রতিহতকরণে আল্লাহর প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ে। তোমার এসব কথার মাধ্যমে তুমি আশা পোষণ করা যে ,যারা তোমার কথামতো কাজ করে তারা যেন আল্লাহর পরিবর্তে তোমার প্রশংসা করে ,কারণ তোমার ভুল ধারণা অনুযায়ী তুমি তাদেরকে লাভবান হওয়া অথবা ক্ষতি এড়ানোর মুহুর্ত বলে দিয়ে পরিচালিত করেছো ।

তৎপর আমিরুল মোমেনিন জনগণের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেনঃ

হে জনমণ্ডলী ! শুধু স্থলভাগে ও সমুদ্রে দিক নির্ণয় ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তারকাবিদ্যা শিক্ষা করা সম্পর্কে তোমরা হুশিয়ার থেকো। কারণ এটা মানুষকে অনুমানের দিকে ঠেলে দেয় এবং জ্যোতিষী একজন অনুমানকারী ছাড়া কিছুই নয়। এহেন অনুমানকারী যাদুকরের মতো ,যাদুকর কাফেরের মতো এবং কাফের দোযখবাসী। কাজেই আল্লাহর নামে এগিয়ে যাও।

___________________

১। খারিজিদের উত্থান দমনের জন্য নাহরাওয়ান যাত্রাকালে আফিফ ইবনে কায়েস আল - কিন্দি আমিরুল মোমেনিনকে বললো , এ ক্ষণটা ভালো নয়। এ সময়ে আপনি যাত্রা করলে পরাজিত হবেন। ” কিন্তু আমিরুল মোমেনিন তার কথায় কর্ণপাত না করে তখনই বেরিয়ে পড়লেন। সে যুদ্ধে খারিজিদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল। তাদের নয় হাজার সৈন্যের মধ্যে নয় জন পলাতক ব্যতীত সকলেই নিহত হয়েছিল।

এ খোৎবায় আমিরুল মোমেনিন জ্যোতিষশাস্ত্র মিথ্যা প্রমাণ করে তিনটি যুক্তি দেখিয়েছেনঃ প্রথমতঃ জ্যোতিষীদের অভিমত সঠিক বলে গ্রহণ করলে কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়। কারণ কুরআন বলে - বল ,আল্লাহ ব্যতীত আকাশ ও পৃথিবীতে অদৃশ্য বিষয়ে কেউ কিছু জ্ঞাত নহে। (২৭:৬৫) ।

দ্বিতীয়তঃ জ্যোতিষী তার ভুল ধারণার প্রভাবে বিশ্বাস করে যে ,ভবিষ্যৎ জানার মাধ্যমে সে তার লাভ বা ক্ষতির বিষয় জানতে পারে। সে ক্ষেত্রে সে আল্লাহ ও তার সাহায্য প্রার্থনার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। এরূপ ঔদাসীন্যতা ইমানের পথ পরিত্যাগ করা ও নাস্তিকতার সামিল যা আল্লাহর প্রতি আশা পোষণের মানসিকতা বিনষ্ট করে দেয়। তৃতীয়তঃ কোনক্রমে যদি তার কথা সঠিক হয়ে যায়। তবে সে মনে করে এটা জ্যোতিষশাস্ত্র জানার ফলে হয়েছে। ফলত সে আল্লাহর প্রশংসা করার পরিবর্তে আত্মপ্রসাদ লাভ করে এবং এহেন অনুমান ভিত্তিক কাজে দৈবক্রমে কেউ লাভবান হলে সে আল্লাহর পরিবর্তে জ্যোতিষীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

খোৎবা - ৭৯

بَعْدَ فَراغَه مِن حَرْب الجَمل

بیان الفرق بین الرجل و المرئة

مَعاشِرَ النَّاسِ، إنَّ النِّسَأَ نَواقِصُ الْإِيمَانِ، نَوَاقِصُ الْحُظُوظِ، نَوَاقِصُ الْعُقُولِ، فَأَمّا نُقْصانُ إِيمانِهِنَّ فَقُعُودُهُنَّ عَنِ الصَّلاَةِ وَ الصِّيَامِ فِي أَيَّامِ حَيْضِهِنَّ، وَ أَمَّا نُقْصانُ عُقُولِهِنَّ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ كَشَهَادَةِ الرَّجُلِ الْوَاحِدِ، وَ أَمّا نُقْصانُ حُظُوظِهِنَّ فَمَوَارِيثُهُنَّ عَلَى الْأَنْصَافِ مِنْ مَوَارِيثِ الرِّجالِ.

أسلوب مدیریة البیت

فَاتَّقُوا شِرارَ النِّسَأِ، وَ كُونُوا مِنْ خِيارِهِنَّ عَلَى حَذَرٍ، وَ لا تُطِيعُوهُنَّ فِي الْمَعْرُوفِ حَتّى لا يَطْمَعْنَ فِي الْمُنْكَرِ.

জামালের যুদ্ধের পর নারীর দৈহিক ক্রুটি সম্পর্কে আমিরুল মোমেনিন বলেনঃ

হে জনমণ্ডলী! ইমানে ,উত্তরাধিকারে ও আকলে (বুদ্ধিমত্তায়) নারীর কমতি রয়েছে। ইমানে কমতি এ জন্য যে ,ঋতুস্রাবে তারা সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে। আকলে কমতি এ জন্য যে ,দুজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমতুল্য। উত্তরাধিকারে কমতি হলো নারী পুরুষের অর্ধেক অংশ পায়।

সুতরাং তাদের অশুভ হাতছানি থেকে সতর্ক থেকে ;এমন কি তাদের মধ্যে যারা ভালো ,তাদের থেকেও নিজেকে রক্ষা করে চলো। কোন ভালো কাজেও তাদের মেনে চলো না ,তাহলেই তারা তোমাকে অশুভের দিকে আকর্ষণ করতে পারবে না ।

____________________

১। জামালের যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর আমিরুল মোমেনিন এ খোৎবা প্রদান করেন। একজন নারীর (আয়শা) আদেশ অন্ধভাবে অনুসরণ করার ফলে জামালের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেজন্য এ খোৎবায় নারীর দৈহিক ত্রুটি ও এর ফলাফল বর্ণিত হয়েছে। নারীকে প্রতিমাসেই ক 'দিন সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকতে হয় যা ইমানের কমতি প্রমাণ করে। যদিও ইমানের প্রকৃত অর্থ হলো হৃদয় নিংড়ানো সাক্ষ্য ও দৃঢ় - প্রত্যয় তবুও রূপকভাবে ইমান আমল ও আখলাককে বুঝায়। কারণ আমল ইমানের বহিঃপ্রকাশ। ইমাম আলী ইবনে মুসা আর - রেজা বলেছেনঃ

ইমান হচ্ছে হৃদয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ও সাক্ষ্য ,মৌখিক স্বীকৃতি ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কর্ম।

দ্বিতীয় ত্রুটি হচ্ছে - প্রকৃতিকভাবেই নারী আকলের পরিপূর্ণ প্রয়োগ করতে পারে না। সেজন্য প্রকৃতি তাদের কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আকল প্রদান করেছেন যা তাদেরকে গর্ভধারণ ,সন্তান প্রসব ,সন্তান লালনপালন ও গৃহস্থালী কাজের পথে পরিচালিত করেছে। আকলের কমতি থাকার ফলেই কুরআন বলেঃ

অতঃপর তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুজন সাক্ষী ডাক এবং যদি দুজন পুরুষ সাক্ষী না পাও তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ কর ,যাতে একজন নারী কিছু ভুলে গেলে অন্যজন তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে (কুরআন ,২ : ২৮২) ।

তৃতীয় দুর্বলতা হলো - উত্তরাধিকারে নারী পুরুষের অর্ধেক। কুরআন বলেঃ

আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন তোমাদের সন্তান - সন্ততি সম্পর্কে । পুরুষ সন্তান দুজন নারী সন্তানের সমান অংশ পাবে (কুরআন ৪ :১১) ।

নারীর প্রাকৃতিক দুর্বলতা বর্ণনার পর আমিরুল মোমেনিন তাদেরকে অন্ধভাবে অনুসরণ ও ভ্রান্তভাবে মান্য করার অকল্যাণ বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন যে ,শুধু অশুভ বিষয় নয় ,কোন ভালো বিষয়ও এমনভাবে করা উচিত যেন তারা বুঝতে না পারে যে ,এটা তাদের ইচ্ছানুযায়ী করা হয়েছে ;তারা যেন অনুধাবন করে যে ,কাজটি ভালো বলেই করা হয়েছে ,এতে তাদের সন্তোষ বা ইচ্ছার করণীয় কিছু নেই। যদি তারা বুঝতে পারে যে ,তাদের সন্তুষ্টির কারণে কাজটা করা হয়েছে তাহলে ধীরে ধীরে তাদের দাবি বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং সকল বিষয় তাদের ইচ্ছানুযায়ী সম্পাদনের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকবে যার অবধারিত ফল হবে ধ্বংস। এ বিষয়ে শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ ” লিখেছেনঃ আমিরুল মোমেনিনের এ অভিমত শতাব্দীর অভিজ্ঞতা দ্বারা স্বীকৃত।

খোৎবা - ৮০

حقیقیة الزهد

أَيُّهَا النَّاسُ، الزَّهادَةُ قِصَرُ الْأَمَلِ، وَ الشُّكْرُ عِنْدَ (عن) النِّعَمِ، وَ الْوَرَعُ عِنْدَ الْمَحَارِمِ، فَإنْ عَزَبَ ذلِكَ عَنْكُمْ فَلا يَغْلِبِ الْحَرَامُ صَبْرَكُمْ، وَ لا تَنْسَوْا عِنْدَ النِّعَمِ شُكْرَكُمْ، فَقَدْ أَعْذَرَ اللَّهُ إلَيْكُمْ بِحُجَجٍ مُسْفِرَةٍ ظَاهِرَةٍ، وَ كُتُبٍ بَارِزَةِ الْعُذْرِ وَاضِحَةٍ.

সংযম সম্পর্কে

হে লোকসকল! সংযম হলো কামনা - বাসনাকে কমিয়ে ফেলা ,আল্লাহর নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা থেকে দূরে থাকা। আল্লাহর নেয়ামত প্রাপ্তিতে শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে তোমরা ভুলে যেয়োনা। যদি শুকরিয়া জ্ঞাপনে ভুল না হয় তবে নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ তোমাদের ধৈর্যকে পরাভূত করতে পারবে না। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল প্রমাণাদি দিয়ে এবং সমুজ্জ্বল কিতাব খোলা রেখে তোমাদের ওজরখাহি করার কোন সুযোগ রাখেন নি।

খোৎবা - ৮১

فِي صِفة الدُنيا

مَا أَصِفُ مِنْ دَارٍ أَوَّلُهَا عَناءٌ، وَ آخِرُها فَناءٌ! فِي حَلاَلِها حِسابٌ، وَ فِي حَرَامِها عِقابٌ مَنِ اسْتَغْنَى فِيهَا فُتِنَ، وَ مَنِ افْتَقَرَ فِيهَا حَزِنَ، وَ مَنْ سَاعَاهَا فَاتَتْهُ، وَ مَنْ قَعَدَ عَنْهَا وَ اتَتْهُ، وَ مَنْ أَبْصَرَ بِهَا بَصَّرَتْهُ، وَ مَنْ أَبْصَرَ إِلَيْهَا أَعْمَتْهُ.

أَقُوُل: وَ إذا تأمّل المتأمل قَولهعليه‌السلام : «وَ مَنْ أَبْصر بِها بَصْرَته» وجد تَحْتُه مِنْ المَعْنى العَجيبُ وَالْغَرَضَ البَعيدُ ما لا تَبْلُغْ غايَتَه وَ لا يُدْرِكْ غَوْرِه لا سيّما إذا قرن إليه قِوْلِه: وَ مَنْ أَبْصر إليها أَعْمِتِه فَإنَّه يَجِدُ الفِرَقْ بَيْنَ «أبصر بِها» وَ «أبصر إليْها» واضحا نيّرا وَ عجيبا باهرا.

দুনিয়া ও এর মানুষ সম্পর্কে

কিভাবে আমি এ দুনিয়ার বর্ণনা দেব যার প্রারম্ভ দুঃখ - দূর্দশা এবং পরিসমাপ্তি ধ্বংসে ? এখানে সম্পাদিত হালাল কাজের জন্য জবাবদিহিতা রয়েছে এবং নিষিদ্ধ কাজের জন্য শাস্তি রয়েছে। এখানে যে ধনবান তাকে ফেতনা - ফ্যাসাদ মোকাবেলা করতে হয় ,আর যে দরিদ্র সে দুঃখ - দুর্দশায় নিপতিত। যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি লালায়িত হয় সে তা পায় না। আবার যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে দূরে সরে থাকে তার দিকে দুনিয়া এগিয়ে যায়। যদি কেউ দুনিয়ার মধ্য দিয়ে দেখতে চায়। তবে দুনিয়া তাকে দৃষ্টিদান করে। কিন্তু কারো চোখ যদি স্থিরভাবে দুনিয়ার ওপর থাকে। তবে দুনিয়া তাকে অন্ধ করে দেয় (অর্থাৎ গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট করে দেয়) ।

___________________

১। “ এ দুনিয়ার প্রারম্ভ দুঃখ - দূর্দশা আর সমাপ্তি ধ্বংসে ” - আমিরুল মোমেনিনের এ কথাটি কুরআন সমর্থিত : প্রকৃত পক্ষে আমরা দুঃখ - দূর্দশার মধ্যেই মানুষকে সৃষ্টি করেছি (৯০:৪) ।

এ কথা সত্য যে ,মায়ের সংকীর্ণ জরায়ু থেকে বিশাল মহাশূন্য পর্যন্ত মানব জীবনের পরিবর্তনের পরিসমাপ্তি ঘটে না। জীবনের প্রথম স্পন্দনে মানুষ নিজকে এমন একটা সংকীর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন বন্দিখানায় দেখতে পায় যেখানে সে না পারে অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ নাড়াতে ,না পারে পাশ পরিবর্তন করতে। এ বন্দিখানা থেকে মুক্তি লাভ করে পৃথিবীতে পদার্পণ করেই সে অগণিত দুঃখ - কষ্টে নিপতিত হয়। শুরুতেই সে কথা বলতে পারে না ,ফলে নিজের দুঃখ - বেদনা - ব্যথা কিছুই প্রকাশ করতে পারে না এবং অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে নিজের প্রয়োজন মিটাতে পারে না। শুধু তার ফোফানো কান্না আর গড়িয়ে পড়া অশ্রুজল তার প্রয়োজন ও দুঃখ - বেদনা প্রকাশ করে। এ অবস্থা অতিক্রম করে শেখার স্তরে পদার্পণ করলেই শাসন আর নির্দেশ তাকে ভীত সন্ত্রস্ত রাখে। এ অবস্থা থেকে অব্যাহতি পেতে না পেতেই পারিবারিক ও জীবিকার দুশ্চিন্তা তাকে ঘিরে ধরে। তখন কখনো পেশার সহচরদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ,কখনো শত্রুর সাথে সংঘর্ষ ,কখনো ভাগ্যের উত্থান - পতন ,কখনো রোগের আক্রমণ ,কখনো সন্তানের শোক ,কখনো বার্ধক্যের জরা - এভাবে পৃথিবীকে বিদায় জানানো পর্যন্ত দুঃখ - দুর্দশায় থাকতে হয়।

এরপর আমিরুল মোমেনিন বলেন যে ,এ পৃথিবীতে হালাল কাজের জবাবদিহিতা ও হারাম কাজের জন্য শাস্তি রয়েছে। ফলে আনন্দ - উপভোগও তার কাছে তিক্ত হয়ে পড়ে। অর্থ - সম্পদের প্রাচুর্য মানুষকে এমনভাবে উদ্বীগ্ন করে তোলে যে তার মানসিক শান্তি বিনষ্ট হয়ে পড়ে ;আবার দারিদ্র - পীড়িত হলে সে সম্পদের জন্য হাহুতাশ করে। দুনিয়ার প্রতি লালায়িত ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষার কোন শেষ নেই ;একটা পূরণ হতে না হতেই অন্যটি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এ দুনিয়া প্রতিবিম্বের মতো - এর পেছনে যতই দৌড়াবে তা ততই এগিয়ে যাবে ;আবার তাকে ত্যাগ করে যতই পিছু হটবে ,তা তোমাকে অনুসরণ করে তোমার পিছু নেবে। অর্থাৎ যদি কোন ব্যক্তি লোভ - লালসার দৃঢ়মুষ্টি থেকে নিজকে মুক্ত করে দুনিয়ার পিছু নেয়া থেকে নিজকে বিরত রাখে তবুও সে দুনিয়া থেকে বঞ্চিত হয় না। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভাসাভাসাভাবে দেখে ,এর ঘটনা প্রবাহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং এর বহুরূপী পরিবর্তন থেকে আল্লাহর শক্তি ,জ্ঞান ,বিচার শক্তি ,করুণা ,ক্ষমা এবং সংরক্ষণ ক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারে সে ব্যক্তি প্রকৃত চক্ষুষ্মান হয়। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি দুনিয়ার চাকচিক্যে ও রংঢং - এ নিজকে হারিয়ে ফেলে সে দুনিয়ার অন্ধকারে নিপতিত হয়। আল্লাহ বলেনঃ

তোমার চোখ কখনো প্রসারিত করো না তার প্রতি ,যা আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য স্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসাবে দিয়েছি ,তা দিয়ে তাদের পরীক্ষা করার জন্য । তোমার প্রতিপালকের জীবিকা উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী (কুরআন ২০:১৩১)

খোৎবা - ৮২

وَ هِي الخُطْبَة العَجيبَة و تَسْمى«الغرأ»

حقیقة صفات الله

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَلاَ بِحَوْلِهِ، وَ دَنَا بِطَوْلِهِ، مَانِحِ كُلِّ غَنِيمَةٍ وَ فَضْلٍ، وَ كَاشِفِ كُلِّ عَظِيمَةٍ وَ أَزْلٍ. أَحْمَدُهُ عَلَى عَوَاطِفِ كَرَمِهِ، وَ سَوَابِغِ نِعَمِهِ، وَ أُومِنُ بِهِ أَوَّلاً بَادِياً، وَ أَسْتَهْدِيهِ قَرِيباً هَادِياً، وَ أَسْتَعِينُهُ قَاهِراً قَادِراً، وَ أَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ كَافِياً نَاصِراً، وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداًصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم عَبْدُهُ وَ رَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ لِإِنْفَاذِ أَمْرِهِ، وَ إِنْهَأِ عُذْرِهِ وَ تَقْدِيمِ نُذُرِهِ.

الوصیة بالتقوی

أُوصِيكُمْ عِبَادَ اللَّهِ بِتَقْوَى اللَّهِ الَّذِي ضَرَبَ لَكُمُ الْأَمْثَالَ، وَوَقَّتَ لَكُمُ الْآجَالَ، وَ أَلْبَسَكُمُ الرِّيَاشَ، وَ أَرْفَغَ لَكُمُ الْمَعَاشَ، وَ أَحَاطَ (أحاطکم) بِكُمُ الْإِحْصَأَ، وَ أَرْصَدَ لَكُمُ الْجَزَأَ، وَ آثَرَكُمْ بِالنِّعَمِ السَّوَابِغِ، وَ الرِّفَدِ الرَّوَافِغِ، وَ أَنْذَرَكُمْ بِالْحُجَجِ الْبَوَالِغِ، فَأَحْصَاكُمْ عَدَداً، وَ وَظَّفَ لَكُمْ مُدَداً، فِي قَرَارِ خِبْرَةٍ، وَ دَارِ عِبْرَةٍ، أَنْتُمْ مُخْتَبَرُونَ فِيهَا، وَ مُحَاسَبُونَ عَلَيْهَا.

وصف الدنیا

فَإِنَّ الدُّنْيَا رَنِقٌ مَشْرَبُهَا، رَدِغٌ مَشْرَعُهَا، يُونِقُ مَنْظَرُهَا، وَ يُوبِقُ مَخْبَرُهَا. غُرُورٌ حَائِلٌ، وَ ضَوْءٌ آفِلٌ، وَ ظِلُّ زَائِلٌ، وَ سِنَادٌ، مَائِلٌ حَتَّى إِذَا أَنِسَ نَافِرُهَا، وَ اطْمَأَنَّ نَاكِرُهَا، قَمَصَتْ بِأَرْجُلِهَا، وَ قَنَصَتْ بِأَحْبُلِهَا (أجبلها) وَ أَقْصَدَتْ بِأَسْهُمِهَا، وَ أَعْلَقَتِ الْمَرْءَ أَوْهَاقَ الْمَنِيَّةِ قَائِدَةً لَهُ إِلَى ضَنْكِ الْمَضْجَعِ، وَ وَحْشَةِ الْمَرْجِعِ وَ مُعَايَنَةِ الْمَحَلِّ وَ ثَوَابِ الْعَمَلِ. وَ كَذَلِكَ الْخَلَفُ يِعَقْبِ السَّلَفِ، لاَ تُقْلِعُ الْمَنِيَّةُ اخْتِرَاماً وَ لاَ يَرْعَوِي الْبَاقُونَ اجْتِرَاماً، يَحْتَذُونَ مِثَالاً، وَ يَمْضُونَ أَرْسَالاً، إِلَى غَايَةِ الاِنْتِهَأِ وَ صَيُّورِ الْفَنَاءِ.

وصف القیامة

حَتَّى إِذَا تَصَرَّمَتِ الْأُمُورُ وَ تَقَضَّتِ الدُّهُورُ وَ أَزِفَ النُّشُورُ أَخْرَجَهُمْ مِنْ ضَرَائِحِ الْقُبُورِ وَ أَوْكَارِ الطُّيُورِ وَ أَوْجِرَةِ السِّبَاعِ وَ مَطَارِحِ الْمَهَالِكِ سِرَاعا إِلَى أَمْرِهِ مُهْطِعِينَ إِلَى مَعَادِهِ رَعِيلاً صُمُوتا قِيَاما صُفُوفا يَنْفُذُهُمُ الْبَصَرُ وَ يُسْمِعُهُمُ الدَّاعِي عَلَيْهِمْ لَبُوسُ الاِسْتِكَانَةِ وَ ضَرَعُ الاِسْتِسْلاَمِ وَ الذِّلَّةِ قَدْ ضَلَّتِ الْحِيَلُ وَ انْقَطَعَ الْأَمَلُ وَ هَوَتِ الْأَفْئِدَةُ كَاظِمَةً وَ خَشَعَتِ الْأَصْوَاتُ مُهَيْنِمَةً وَ أَلْجَمَ الْعَرَقُ وَ عَظُمَ الشَّفَقُ وَ أُرْعِدَتِ الْأَسْمَاعُ لِزَبْرَةِ الدَّاعِي إِلَى فَصْلِ الْخِطَابِ وَ مُقَايَضَةِ الْجَزَأِ وَ نَكَالِ الْعِقَابِ وَ نَوَالِ الثَّوَابِ.

صفات عبادالله و حالاتهم

عِبَادٌ مَخْلُوقُونَ اقْتِدَاراً، وَ مَرْبُوبُونَ اقْتِسَاراً، وَ مَقْبُوضُونَ احْتِضَاراً، وَ مُضَمَّنُونَ أَجْدَاثاً، وَ كَائِنُونَ رُفَاتاً، وَ مَبْعُوثُونَ أَفْرَاداً، وَ مَدِينُونَ جَزَأً، وَ مُمَيَّزُونَ حِسَاباً. قَدْ أُمْهِلُوا فِي طَلَبِ الْمَخْرَجِ وَ هُدُوا سَبِيلَ الْمَنْهَجِ؛ وَ عُمِّرُوا مَهَلَ الْمُسْتَعْتِبِ وَ كُشِفَتْ عَنْهُمْ سُدَفُ الرِّيَبِ، وَ خُلُّوا لِمِضْمَارِ الْجِيَادِ وَ رَوِيَّةِ الاِرْتِيَادِ وَ أَنَاةِ الْمُقْتَبِسِ (المقتبین) الْمُرْتَادِ (المقتبین)، فِي مُدَّةِ الْأَجَلِ وَ مُضْطَرَبِ الْمَهَلِ.

أمثال حکمیّة

فَيَالَهَا أَمْثَالاً صَائِبَةً وَ مَوَاعِظَ شَافِيَةً لَوْ صَادَفَتْ قُلُوبا زَاكِيَةً وَ أَسْمَاعا وَاعِيَةً وَ آرَأً عَازِمَةً وَ أَلْبَابا حَازِمَةً فَاتَّقُوا اللَّهَ تَقِيَّةَ مَنْ سَمِعَ فَخَشَعَ وَ اقْتَرَفَ فَاعْتَرَفَ وَ وَجِلَ فَعَمِلَ وَ حَاذَرَ فَبَادَرَ وَ أَيْقَنَ فَأَحْسَنَ وَ عُبِّرَ فَاعْتَبَرَ وَ حُذِّرَ فَحَذِرَ وَ زُجِرَ فَازْدَجَرَ وَ أَجَابَ فَأَنَابَ وَ رَاجَعَ فَتَابَ، وَ اقْتَدَى فَاحْتَذَى وَ أُرِيَ فَرَأَى فَأَسْرَعَ طَالِبا وَ نَجَا هَارِبا فَأَفَادَ ذَخِيرَةً وَ أَطَابَ سَرِيرَةً وَ عَمَرَ مَعَادا وَ اسْتَظْهَرَ زَادا لِيَوْمِ رَحِيلِهِ وَ وَجْهِ سَبِيلِهِ وَ حَالِ حَاجَتِهِ وَ مَوْطِنِ فَاقَتِهِ وَ قَدَّمَ أَمَامَهُ لِدَارِ مُقَامِهِ، فَاتَّقُوا اللَّهَ عِبَادَ اللَّهِ جِهَةَ مَا خَلَقَكُمْ لَهُ وَ احْذَرُوا مِنْهُ كُنْهَ مَا حَذَّرَكُمْ مِنْ نَفْسِهِ وَ اسْتَحِقُّوا مِنْهُ مَا أَعَدَّ لَكُمْ بِالتَّنَجُّزِ لِصِدْقِ مِيعَادِهِ وَ الْحَذَرِ مِنْ هَوْلِ مَعَادِهِ.

طرق الإتعاظ

مِنْهَا: جَعَلَ لَكُمْ أَسْمَاعاً لِتَعِيَ مَا عَنَاهَا، وَ أَبْصَاراً لِتَجْلُوَ عَنْ عَشَاهَا، وَ أَشْلاَءً جَامِعَةً لِأَعْضَائِهَا، مُلاَئِمَةً لِأَحْنَائِهَا فِي تَرْكِيبِ صُوَرِهَا، وَ مُدَدِ عُمُرِهَا، بِأَبْدَانٍ قَائِمَةٍ بِأَرْفَاقِهَا، وَ قُلُوبٍ رَائِدَةٍ لِأَرْزَاقِهَا فِي مُجَلِّلاَتِ نِعَمِهِ وَ مُوجِبَاتِ مِنَنِهِ وَ حَوَاجِزِ عَافِيَتِهِ وَ قَدَّرَ لَكُمْ أَعْمَارا سَتَرَهَا عَنْكُمْ، وَ خَلَّفَ لَكُمْ عِبَراً مِنْ آثَارِ الْمَاضِينَ قَبْلَكُمْ، مِنْ مُسْتَمْتَعِ خَلاَقِهِمْ وَ مُسْتَفْسَحِ خَنَاقِهِمْ. أَرْهَقَتْهُمُ الْمَنَايَا دُونَ الْآمَالِ، وَ شَذَّبَهُمْ عَنْهَا تَخَرُّمُ الْآجَالِ لَمْ يَمْهَدُوا فِي سَلاَمَةِ الْأَبْدَانِ

وَ لَمْ يَعْتَبِرُوا فِي أُنُفِ الْأَوَانِ فَهَلْ يَنْتَظِرُ أَهْلُ بَضَاضَةِ الشَّبَابِ إِلا حَوَانِيَ الْهَرَمِ؟ وَ أَهْلُ غَضَارَةِ الصِّحَّةِ إِلا نَوَازِلَ السَّقَمِ؟ وَ أَهْلُ مُدَّةِ الْبَقَأِ إِلا آوِنَةَ (اوبة) الْفَنَأِ؟ مَعَ قُرْبِ الزِّيَالِ (الزّوال)، وَ أُزُوفِ الاِنْتِقَالِ، وَ عَلَزِ الْقَلَقِ وَ أَلَمِ الْمَضَضِ، وَ غُصَصِ الْجَرَضِ وَ تَلَفُّتِ الاِسْتِغَاثَةِ بِنُصْرَةِ الْحَفَدَةِ وَ الْأَقْرِبَأِ. وَ الْأَعِزَّةِ وَ الْقُرَنَأِ! فَهَلْ دَفَعَتِ الْأَقَارِبُ؟! أَوْ نَفَعَتِ النَّوَاحِبُ؟!

الاعتبار بالموت

وَ قَدْ غُودِرَ فِي مَحَلَّةِ الْأَمْوَاتِ رَهِيناً، وَ فِي ضِيقِ الْمَضْجَعِ وَحِيداً، قَدْ هَتَكَتِ الْهَوَامُّ جِلْدَتَهُ، وَ أَبْلَتِ النَّوَاهِكُ جِدَّتَهُ، وَ عَفَتِ الْعَوَاصِفُ آثَارَهُ، وَ مَحَا الْحَدَثَانُ مَعَالِمَهُ، وَ صَارَتِ الْأَجْسَادُ شَحِبَةً بَعْدَ بَضَّتِهَا، وَ الْعِظَامُ نَخِرَةً بَعْدَ قُوَّتِهَا، وَ الْأَرْوَاحُ مُرْتَهَنَةً بِثِقَلِ أَعْبَائِهَا، مُوقِنَةً بِغَيْبِ أَنْبَائِهَا، لاَ تُسْتَزَادُ مِنْ صَالِحِ عَمَلِهَا وَ لاَ تُسْتَعْتَبُ مِنْ سَيِّئِ زَلَلِهَا! أَوَلَسْتُمْ أَبْنَأَ الْقَوْمِ وَ الْآبَأَ وَ إِخْوَانَهُمْ وَ الْأَقْرِبَأَ تَحْتَذُونَ أَمْثِلَتَهُمْ، وَ تَرْكَبُونَ قِدَّتَهُمْ، وَ تَطَئُونَ جَادَّتَهُمْ فَالْقُلُوبُ قَاسِيَةٌ عَنْ حَظِّهَا، لاَهِيَةٌ عَنْ رُشْدِهَا، سَالِكَةٌ فِي غَيْرِ مِضْمَارِهَا! كَأَنَّ الْمَعْنِيَّ سِوَاهَا، وَ كَأَنَّ الرُّشْدَ فِي إِحْرَازِ دُنْيَاهَا. وَ اعْلَمُوا أَنَّ مَجَازَكُمْ عَلَى الصِّرَاطِ (السّراط) وَ مَزَالِقِ دَحْضِهِ وَ أَهَاوِيلِ زَلَلِهِ، وَ تَارَاتِ أَهْوَالِهِ.

نموذج من التقوی

فَاتَّقُوا اللَّهَ عِبَادَ اللَّهِ تَقِيَّةَ ذِي لُبِّ شَغَلَ التَّفَكُّرُ قَلْبَهُ، وَ أَنْصَبَ الْخَوْفُ بَدَنَهُ، وَ أَسْهَرَ التَّهَجُّدُ غِرَارَ نَوْمِهِ، وَ أَظْمَأَ الرَّجَأُ هَوَاجِرَ يَوْمِهِ وَ ظَلَفَ الزُّهْدُ شَهَوَاتِهِ وَ أَوْجَفَ الذِّكْرُ بِلِسَانِهِ وَ قَدَّمَ الْخَوْفَ لِأَمَانِهِ وَ تَنَكَّبَ الْمَخَالِجَ عَنْ وَضَحِ السَّبِيلِ وَ سَلَكَ أَقْصَدَ الْمَسَالِكِ إِلَى النَّهْجِ الْمَطْلُوبِ وَ لَمْ تَفْتِلْهُ فَاتِلاَتُ الْغُرُورِ، وَ لَمْ تَعْمَ عَلَيْهِ مُشْتَبِهَاتُ الْأُمُورِ. ظَافِرا بِفَرْحَةِ الْبُشْرَى وَ رَاحَةِ النُّعْمَى فِي أَنْعَمِ نَوْمِهِ وَ آمَنِ يَوْمِهِ وَ قَدْ عَبَرَ مَعْبَرَ الْعَاجِلَةِ حَمِيدا وَ قَدَّمَ زَادَ الْآجِلَةِ سَعِيداً وَ بَادَرَ مِنْ وَجَلٍ وَ أَكْمَشَ فِي مَهَلٍ وَ رَغِبَ فِي طَلَبٍ وَ ذَهَبَ عَنْ هَرَبٍ وَ رَاقَبَ فِي يَوْمِهِ غَدَهُ، وَ نَظَرَ قُدُماً أَمَامَهُ. فَكَفَى بِالْجَنَّةِ ثَوَاباً وَ نَوَالاً، وَ كَفَى بِالنَّارِ عِقَاباً وَ وَبَالاً! وَ كَفَى بِاللَّهِ مُنْتَقِماً وَ نَصِيراً! وَ كَفَى بِالْكِتَابِ حَجِيجاً وَ خَصِيماً!

التحذیر من وساوس الشیطان

أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ الَّذِي أَعْذَرَ بِمَا أَنْذَرَ، وَ احْتَجَّ بِمَا نَهَجَ، وَ حَذَّرَكُمْ عَدُوّا نَفَذَ فِي الصُّدُورِ خَفِيّاً، وَ نَفَثَ فِي الْآذَانِ نَجِيّاً، فَأَضَلَّ وَ أَرْدَى، وَ وَعَدَ فَمَنَّى وَ زَيَّنَ سَيِّئَاتِ (النیّات) الْجَرَائِمِ، وَ هَوَّنَ مُوبِقَاتِ الْعَظَائِمِ، حَتَّى إِذَا اسْتَدْرَجَ قَرِينَتَهُ، وَ اسْتَغْلَقَ رَهِينَتَهُ، أَنْكَرَ مَا زَيَّنَ، وَ اسْتَعْظَمَ مَا هَوَّنَ، وَ حَذَّرَ مَا أَمَّنَ.

عجائب خَلْقة الْإنْسَانِ

أَمْ هَذَا الَّذِي أَنْشَأَهُ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْحَامِ، وَ شُغُفِ الْأَسْتَارِ، نُطْفَةً دِهَاقاً (دفاقاً - ذهاقاً)، وَ عَلَقَةً مِحَاقاً وَ جَنِيناً وَ رَاضِعاً، وَ وَلِيداً وَ يَافِعاً، ثُمَّ مَنَحَهُ قَلْباً حَافِظاً، وَ لِسَاناً لاَفِظاً، وَ بَصَراً لاَحِظاً، لِيَفْهَمَ مُعْتَبِراً، وَ يُقَصِّرَ مُزْدَجِراً. حَتَّى إِذَا قَامَ اعْتِدَالُهُ، وَ اسْتَوَى مِثَالُهُ، نَفَرَ مُسْتَكْبِراً، وَ خَبَطَ سَادِراً، مَاتِحاً فِي غَرْبِ هَوَاهُ،كَادِحاً سَعْياً لِدُنْيَاهُ، فِي لَذَّاتِ طَرَبِهِ وَ بَدَوَاتِ أَرَبِهِ؛ ثُمَّ لاَ يَحْتَسِبُ رَزِيَّةً، وَ لاَ يَخْشَعُ تَقِيَّةً، فَمَاتَ فِي فِتْنَتِهِ غَرِيراً، وَ عَاشَ فِي هَفْوَتِهِ يَسِيراً (اسیراً) لَمْ يُفِدْ عِوَضاً (غرضاً) وَ لَمْ يَقْضِ مُفْتَرَضاً. دَهِمَتْهُ فَجَعَاتُ الْمَنِيَّةِ فِي غُبَّرِ (غبرة) جِمَاحِهِ وَ سَنَنِ مِرَاحِهِ.

الإعتبار بالموت

فَظَلَّ سَادِراً، وَ بَاتَ سَاهِراً، فِي غَمَرَاتِ الْآلاَمِ، وَ طَوَارِقِ الْأَوْجَاعِ وَ الْأَسْقَامِ، بَيْنَ أَخٍ شَقِيقٍ، وَ وَالِدٍ شَفِيقٍ، وَ دَاعِيَةٍ بِالْوَيْلِ جَزَعاً، وَ لاَدِمَةٍ لِلصَّدْرِ قَلَقاً؛ وَ الْمَرْءُ فِي سَكْرَةٍ مُلْهِثَةٍ، وَ غَمْرَةٍ كَارِثَةٍ، وَ أَنَّةٍ مُوجِعَةٍ، وَ جَذْبَةٍ مُكْرِبَةٍ، وَ سَوْقَةٍ مُتْعِبَةٍ. ثُمَّ أُدْرِجَ فِي أَكْفَانِهِ مُبْلِساً (مُبْلِساً)، وَ جُذِبَ مُنْقَاداً سَلِساً، ثُمَّ أُلْقِيَ عَلَى الْأَعْوَادِ رَجِيعَ وَصَبٍ، وَ نِضْوَ سَقَمٍ، تَحْمِلُهُ حَفَدَةُ الْوِلْدَانِ، وَ حَشَدَةُ الْإِخْوَانِ، إِلَى دَارِ غُرْبَتِهِ، وَ مُنْقَطَعِ زَوْرَتِهِ، وَ مُفْرَدِ وَحْشَتِهِ. حَتَّى إِذَا انْصَرَفَ الْمُشَيِّعُ، وَ رَجَعَ الْمُتَفَجِّعُ (مفجّ)، أُقْعِدَ فِي حُفْرَتِهِ نَجِيّا لِبَهْتَةِ السُّؤَالِ، وَ عَثْرَةِ الاِمْتِحَانِ. وَ أَعْظَمُ مَا هُنَالِكَ بَلِيَّةً نُزُولُ الْحَمِيمِ، وَ تَصْلِيَةُ الْجَحِيمِ، وَ فَوْرَاتُ السَّعِيرِ، وَ سَوْرَاتُ الزَّفِيرِ، لاَ فَتْرَةٌ مُرِيحَةٌ، وَ لاَ دَعَةٌ مُزِيحَةٌ، وَ لاَ قُوَّةٌ حَاجِزَةٌ، وَ لاَ مَوْتَةٌ نَاجِزَةٌ وَ لاَ سِنَةٌ مُسَلِّيَةٌ، بَيْنَ أَطْوَارِ الْمَوْتَاتِ، وَ عَذَابِ السَّاعَاتِ! إِنَّا بِاللَّهِ عَائِذُونَ!.

العبرة بصیر المضین

عِبَادَ اللَّهِ أَيْنَ الَّذِينَ عُمِّرُوا فَنَعِمُوا، وَ عُلِّمُوا فَفَهِمُوا، وَ أُنْظِرُوا فَلَهَوْا، وَ سُلِّمُوا فَنَسُوا! أُمْهِلُوا طَوِيلاً، وَ مُنِحُوا جَمِيلاً، وَ حُذِّرُوا أَلِيماً، وَ وُعِدُوا جَسِيماً (جمیلاً)! احْذَرُوا الذُّنُوبَ الْمُوَرِّطَةَ، وَ الْعُيُوبَ الْمُسْخِطَةَ. أُولِي الْأَبْصَارِ وَ الْأَسْمَاعِ، وَ الْعَافِيَةِ وَ الْمَتَاعِ، هَلْ مِنْ مَنَاصٍ أَوْ خَلاَصٍ؟ أَوْ مَعَاذٍ أَوْ مَلاَذٍ أَوْ فِرَارٍ أَوْ مَحَارٍ؟ أَمْ لاَ؟ «فَأَنّى تُؤْفَكُونَ» أَمْ أَيْنَ تُصْرَفُونَ! أَمْ بِمَا ذَا تَغْتَرُّونَ! وَ إِنَّمَا حَظُّ أَحَدِكُمْ مِنَ الْأَرْضِ، ذَاتِ الطُّوْلِ وَ الْعَرْضِ، قِيدُ قَدِّهِ، مُتَعَفِّراً عَلَى خَدِّهِ! الْآنَ عِبَادَ اللَّهِ وَ الْخِنَاقُ مُهْمَلٌ، وَ الرُّوحُ مُرْسَلٌ فِي فَيْنَةِ الْإِرْشَادِ، وَ رَاحَةِ الْأَجْسَادِ، وَ بَاحَةِ الاِحْتِشَادِ، وَ مَهَلِ الْبَقِيَّةِ، وَ أُنُفِ الْمَشِيَّةِ، وَ إِنْظَارِ التَّوْبَةِ، وَ انْفِسَاحِ الْحَوْبَةِ، قَبْلَ الضَّنْكِ وَ الْمَضِيقِ، وَ الرَّوْعِ وَ الزُّهُوقِ، وَ قَبْلَ قُدُومِ الْغَائِبِ الْمُنْتَظَرِ وَ إِخْذَةِ الْعَزِيزِ الْمُقْتَدِرِ.

وَ فِي الخُبر: أِنَّهُ ع لَما خُطِبَ بِهذِه الخُطْبَة اقشعْرت لَها الجُلُود، وَ بِكت العُيون وِ رَجِفْتُ الْقُلوب، و من الناس من یسمی هذه الخطبة : «الغراء»

খোৎবাতুল ঘাররা (ব্রিলিয়্যান্ট ভাষণ)

প্রতিষ্ঠিত প্রশংসা আল্লাহর ,যিনি সবকিছু থেকে সুউচ্চ - মহান এবং তাঁর নেয়ামতের মাধ্যমে সৃষ্টির অতি নিকটবর্তী । তিনিই সকল পুরস্কার ও সম্মান দাতা এবং সকল দুর্যোগ ও দুঃখ - কষ্ট মোচনকারী। তাঁর লাগাতার রহমত ও প্রাচুর্যপূর্ণ নেয়ামতের জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি।

আমি তাঁর প্রতি ইমান আনি যেহেতু তিনিই আদি এবং তিনিই একমাত্র সত্য। আমি তার কাছে হেদায়েত যাচনা করি ,যেহেতু তিনিই নিকটতম এবং তিনিই সৎপথ প্রদর্শক। আমি তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি ,যেহেতু তিনিই সর্বশক্তিমান এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ পরাভূতকারী। আমি তাঁর ওপর নির্ভর করি ,যেহেতু তিনিই অভাব মোচনকারী এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ পরিপোষক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তাঁকে পাঠিয়েছিলেন তাঁর আদেশ পৃথিবীতে জারি করার জন্য ও ওজর খতম করার জন্য এবং অনন্ত শাস্তি সম্পর্কে সতর্কাদেশ প্রদান করার জন্য।

তাকওয়ার আদেশ

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে ভয় করার জন্য ,যিনি উপমা উপস্থাপন করেছেন এবং তোমাদের জীবনকে যিনি নির্ধারিত সময়ের গণ্ডিতে বেঁধে দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে পোষাকের আবরণ দিয়েছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য জীবিকা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে তাঁর জ্ঞান দ্বারা ঘিরে রেখেছেন। তাঁর কাছে নির্ধারিত পুরস্কার রয়েছে। তিনি তোমাদেরকে বিস্তৃত রহমত ও অগণিত নেয়ামত দান করেছেন ,সুদূর প্রসারি প্রমাণাদি দ্বারা তিনি তোমাদেরকে সতর্ক করেছেন এবং তিনি সংখ্যা দ্বারা তোমাদেরকে গণনা করেছেন। এ পরীক্ষাস্থলে ও শিক্ষণ ঘরে তিনি তোমাদের বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

দুনিয়া সম্পর্কে সতর্কাদেশ

তোমরা এ দুনিয়াতে পরীক্ষার সম্মুখীন এবং দুনিয়া সম্বন্ধে তোমাদেরকে হিসাব - নিকাশ দিতে হবে। নিশ্চয়ই ,এ দুনিয়া দূষিত ও ময়লাযুক্ত পানির স্থল এবং কর্দমযুক্ত পানীয়র উৎস। এর বহির্ভাগ হৃদয়কাড়া আকর্ষণীয় এবং অভ্যন্তরভাগ ধ্বংসাত্মক। এটা ছলনাময়ী প্রবঞ্চনা ,ক্ষণস্থায়ী প্রতিবিম্ব এবং বাঁকা স্তম্ভ। দুনিয়ার অবজ্ঞাকারী যখন একে পছন্দ করতে শুরু করে এবং যে এর সাথে পরিচিত নয় সে যখন এতে সন্তোষ অনুভব করে তখন দুনিয়া তাকে ফাঁদে আবদ্ধ করে ,তাকে এর তীরের লক্ষ্যস্থল করে নেয় এবং তার ঘাড়ে মৃত্যু - দড়ি বেঁধে তাকে সংকীর্ণ কবর ও ভীতিকর বাসস্থানে নিয়ে যায় এবং এভাবে তার কাজের বিনিময় প্রদান করে। এ অবস্থা বংশ পরম্পরায় চলতে থাকে। না মৃত্যু থেমে থাকে তাদের বিচ্ছিন্ন করা থেকে ,না জীবিতরা বিরত থাকে পাপে লিপ্ত হওয়া থেকে।

মৃত্যু ও কেয়ামত

তারা একে অপরের সমকক্ষ হতে চেষ্টা করছে এবং দল বেঁধে চূড়ান্ত লক্ষ্য ও মৃত্যুর মিলনস্থলের দিকে এগিয়ে চলছে যে পর্যন্ত না সকল বিষয়ের পরিসমাপ্তি ঘটে ,দুনিয়া মরে যায় এবং কেয়ামত নিকটবর্তী হয়। আল্লাহ তাদেরকে কবরের কোণ থেকে ,পাখীর বাসা থেকে ,পশুর গর্ত থেকে এবং মৃত্যুর স্থল থেকে বের করে আনবেন। তারা তাঁর আদেশের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায় এবং দলের পর দল নিশ্চুপ হয়ে সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় তাদের জন্য নির্ধারিত চূড়ান্ত গন্তব্য স্থানের দিকে দৌড়ে যায়। তারা আল্লাহর দৃষ্টিসীমার মধ্যে থাকবে এবং যারা তাদেরকে ডাকবে তাদের সকলের ডাক শুনবে। তারা অসহায়ত্বের পোশাক পরবে এবং অমর্যাদা ও হীনাবস্থা তাদের ঢেকে রাখবে। এ সময় সকল তদবির শেষ হয়ে যাবে ,সকল আকাঙ্খা তিরোহিত হয়ে যাবে ,সকল চিত্ত শান্তভাবে ডুবে থাকবে ,গলার স্বর নুয়ে পড়বে ,ঘামে মুখমণ্ডল ভিজে যাবে ,ভীতি বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ বিচারের জন্য ও কর্মের বিনিময়ে পুরস্কার অথবা শাস্তির জন্য ঘোষকের বীজসম স্বরে কানে তালা লেগে যাবে।

জীবনের সীমাবদ্ধতা

আল্লাহ তার ক্ষমতার প্রমাণ হিসাবে মানুষ সৃষ্টি করেছেন ,তীব্র অনুশোচনায় তাদের মৃত্যুর ব্যবস্থা করেছেন এবং তাদেরকে কবরে রাখার ব্যবস্থা করেছেন। যেখানে তারা শুকনো খাবারের ছোট্ট টুকরার মতো হয়ে যায়। এরপর তাদের একজন একজন করে জীবন ফিরিয়ে দেয়া হবে ,তাদের (কর্মের) বিনিময় দেয়া হবে এবং প্রত্যেকের আমলের হিসাব নিয়ে পৃথক পৃথক করে দেয়া হবে। তাদেরকে মুক্তিপথ অনুসন্ধানের সময় দেয়া হয়েছিল ,সত্য পথ দেখানো হয়েছিল এবং বেঁচে থাকার ও নেয়ামত অনুসন্ধান করার হায়াত (সময়) দেয়া হয়েছিল। তাদের জন্য সংশয়ের অন্ধকার দূরীভূত করা হয়েছিল এবং জীবৎকালে প্রশিক্ষণের জন্য মুক্তভাবে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল যাতে তারা বিচারের দিনের দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে ,যাতে সুচিন্তিতভাবে উদ্দেশ্য স্থির করে অনুসন্ধান করতে পারে ,যাতে সুফল সংগ্রহের প্রয়োজনীয় সময় পায় ও পরবর্তী বাসস্থানের জন্য রসদ সংগ্রহ করতে পারে।

তাকওয়া ব্যতীত সুখ নেই

এসব উপমা ও কার্যকর মৃদু ভর্ৎসনা কতই না উপযোগী হতো যদি তা পবিত্র হৃদয় ,খোলা কান ,দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গী ও তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা গৃহীত হতো। সেই ব্যক্তির মতো আল্লাহকে ভয় কর ,যে সদোপদেশ শুনলে মাথা নত করে ,পাপ করলে স্বীকার করে ,ভয় অনুভব কিরলে পরহেজগারি করে ,বুঝতে পারলে সৎ আমলের দিকে দ্রুত এগিয়ে যায় ,বিশ্বাস করলে মুত্তাকি হয় ,শিক্ষা গ্রহণ (দুনিয়া থেকে) করতে বললে শিক্ষা গ্রহণ করে ,মন্দ কাজ না করতে বললে তা থেকে দূরে সরে থাকে ,(কোন বিষয়ে) ধমক দিলে (তা থেকে) বিরত থাকে ,(আল্লাহর) ডাকে সাড়া দিয়ে (তাঁর প্রতি) বুকে পড়ে ,পুনরায় মন্দ কাজ করলে তওবা করে ,অনুসরণ করলে পুরোপুরিভাবে অনুকরণ করে এবং (ন্যায় ও সত্য পথ) দেখানো হলে তা দেখে।

এ ধরনের লোক সত্যের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে এবং (জাগতিক মন্দ থেকে) দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পায়। এরা নিজের জন্য রসদ (সৎ আমল) সংগ্রহ করে ,নিজেদের বাতেনকে পবিত্র করে ,পরকালের জন্য নির্মাণ করে এবং তাদের ভ্রমণ ,অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে যাত্রা পথের রসদ সংগ্রহ করে। এরা (পরকালের) আবাস স্থলের জন্য পূর্বেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রেরণ করে। হে আল্লাহর বান্দাগণ ,তিনি কেন তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার কারণ চিন্তা করে আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁকে ততটুকু ভয় কর যতটুক (ভয় করতে) তিনি তোমাদের বলেছেন। তাঁর প্রতিশ্রুতির সত্যতার প্রতি আস্থা রেখে ও বিচার দিবসের ভয় পোষণ করে নিজেদেরকে তার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তোল ।

আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে

তিনি তোমাদের জন্য কান তৈরি করে দিয়েছেন যাতে তোমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধারণ করে রাখতে পার এবং অন্ধত্বের স্থলে দৃষ্টি দানের জন্য চক্ষু তৈরি করেছেন। তিনি ছোট ছোট অংশের সমাহার করে তোমাদের অঙ্গ - প্রত্যঙ্গসমূহ তৈরি করেছেন। এসব অঙ্গ - প্রত্যঙ্গের বক্রতা ও নির্মাণশৈলীর আকর বয়সের সাথে সুসমন্বিত। দেহ এদেরকে ধারণ করে রেখেছে ও হৃদপিণ্ড এদের খাদ্য যোগান দিতে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। অন্যান্য বড় বড় নেয়ামত ছাড়াও তিনি তোমাদের দেহে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। তিনি তোমাদের বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদের শিক্ষার জন্য অতীত জনগণের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করেছেন। সেসব লোক তাদের হিস্যা পূর্ণ উপভোগ করেছিল এবং তারা সম্পূর্ণ বাধা - বিঘ্নহীন ছিল। মৃত্যু তাদেরকে পরাভূত করেছিল এবং তাদের কামনা - বাসনা পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুর হস্ত তাদেরকে আলাদা করে দিয়েছিল। শরীর সুস্থ থাকা কালে তারা নিজেদের রসদ সংগ্রহ করেনি এবং যৌবনে দ্বিধাগ্রস্থ অবস্থায় তারা শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

এসব লোক কি তাদের যৌবনে পিঠ - নুজ্ব বৃদ্ধ বয়সের জন্য অপেক্ষা করেছে ? তারা কি সুস্বাস্থ্যের সময় রোগ - ক্লিষ্ট অবস্থার জন্য অপেক্ষা করেছে ? তারা কি জীবৎকালে মৃত্যু - মুহুর্তের দিকে ফিরে তাকিয়ে দেখেছে ? যখন প্রস্থানের সময় নিকটবর্তী হয়ে গেল ,তীব্র শোক - দুঃখ - বেদনা - ভোগান্তি ও মুখের লালা শুকানো শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় যাত্রাকাল হাতের কাছে এলো ,বন্ধু - বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের সাহায্য চাওয়ার সময় হলো এবং (যন্ত্রণায়) বিছানায় এপোশ ওপাশ করতে লাগলো ,তখন কি নিকটজন মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পেরেছিল ? তখন কি শোক প্রকাশকারিনী মহিলারা তাদের কোন কল্যাণ করতে পেরেছিল ? বরং তারা তাদেরকে সংকীর্ণ কবরে আটকে রেখে কবরস্থানের একাকীত্বে পরিত্যাগ করেছে।

সেখানে বিষাক্ত প্রাণী তাদের চামড়া ছিন্ন - ভিন্ন করে ফেলেছে এবং দুঃখ - দুর্দশায় তাদের সজীবতা বিনষ্ট হয়ে গেছে। ঝড় তাদের আলামত (হদিস) বিলুপ্ত করে দিয়েছে এবং দুর্যোগ তাদের চিহ্ন মুছে ফেলেছে। তাদের সতেজ শরীর ও হাড় পচে গলে গেছে। রূহ (আত্মা) সমূহ পাপের বোঝা বয়ে চলেছে এবং গায়েব সম্পর্কে তাদের একীণ হয়েছে। কিন্তু এখন আর কোন নেক আমল যোগ করা অথবা তওবা দ্বারা কোন বাদ আমল ক্ষালন করার সুযোগ নেই। তোমরা কি এসব মৃত লোকদের পিতা ,পুত্র ,ভ্রাতা ও আত্মীয় - স্বজন নও ? তোমরা কি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না ? তোমরা কি তাদের পথে যাবে না ? কিন্তু তোমাদের হৃদয়ে এখনো সাড়া জাগে নি। এখনো তোমরা হেদায়েত থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে। এবং ভুল পথে চলছো। তোমরা এমনভাবে চলছো মনে হয় যেন এসব কথা তোমাদের বলা হচ্ছে না - অন্য কাউকে বলা হচ্ছে এবং তোমরা যেন মনে কর সঠিক পথ হচ্ছে দুনিয়ার সম্পদ স্তুপীকৃত করা।

বিচার দিনের প্রস্তুতি সম্পর্কে

এবং জেনে রাখো ,তোমাদেরকে সিরাতের পথ অতিক্রম করতে হবে যেখানে পদক্ষেপ হবে কম্পমান ,পা ফসকে পড়বে এবং প্রত্যেক পদক্ষেপে বিপদের আশঙ্কা থাকবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ ,সেসব জ্ঞানী লোকের মত আল্লাহকে ভয় কর যারা পরকালের চিন্তায় অন্য সব বিষয় পরিত্যাগ করেছে ,আশা যাদেরকে দিবাভাগে পিপাসু রাখে ,বর্জন যাদের আকাঙ্খাকে কুঁকড়ে দিয়েছে এবং আল্লাহর জেকের যাদের জিহবাকে সদা সঞ্চরমান করেছে। বিপদের আভাস দেখা দেয়ার আগেই তারা ভয়ে ভীত থাকে। তারা বন্ধুর পথ এড়িয়ে সুস্পষ্ট পথে চলে। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা সংক্ষিপ্ত পথ অনুসরণ করে ,ধোকা তাদের চিন্তাকে বিকৃত করে না এবং (কোন বিষয়ের) অস্পষ্টতা তাদের চোখকে অন্ধ করে না।

তারা প্রশংসনীয়ভাবে এ পৃথিবীর পথ অতিক্রম করে যায়। তারা নেক আমল নিয়ে পরকালে পৌছায়। তারা (পাপের) ভয়ে (পূণ্যের দিকে) দ্রুত চলে। (জীবনের) স্বল্প সময়ে তারা দ্রুত অগ্রসর হয়। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আত্মনিয়োগ করে এবং পাপ থেকে দৌড়ে পালায়। আজই তারা আগামীকালের জন্য মনোযোগী হয় এবং তাদের চিন্তা - চেতনায় ভবিষ্যৎ প্রতিভাত হয়। নিশ্চয়ই ,বেহেশত প্রকৃষ্ট পুরস্কার এবং দোযখ শাস্তি ও ভোগান্তির স্থল। আল্লাহ্ প্রকৃষ্ট প্রতিশোধ গ্রহণকারী ও সাহায্যকারী এবং কুরআন প্রকৃষ্ট যুক্তি ও (বাতিলের সাথে) সংঘর্ষকারী।

শয়তান সম্পর্কে সতর্কোপদেশ

আমি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি। আল্লাহকে ভয় করতে যিনি তাঁর সতর্কবাণী দ্বারা সকল ওজর দূরীভূত করেছেন এবং তাঁর প্রদর্শিত (সত্য) পথের সকল প্রমাণাদি (হেদায়েতের) পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সেই শক্র সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন ,যে গোপনভাবে হৃদয়ে প্রবেশ করে গোপনে কানের ভেতর কথা বলে এবং বিভ্রান্ত করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। এ শক্র তোমাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় ,ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী করে রাখে ,খারাপ ও অন্যায় কাজকে আকর্ষণীয় করে দেখায় এবং জঘন্য পাপকেও সহজ করে দেখায়। যখন তার প্রতারণা ও অঙ্গীকার শেষ হয় তখন সে তার অনুচরদের যা ভাল বলেছিল ,যা সহজ বলেছিল ও যা নিরাপদ বলেছিল তাতে দোষ খুঁজে বের করে ভয় দেখাতে শুরু করে ।

মানুষ সৃষ্টি সম্পর্কে

চিন্তা করো মানুষের কথা ,যাদের আল্লাহ বেগে স্খলিত বীর্য থেকে অন্ধকার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন। এরপর আকার বিহীন জমাট বাধা রক্ত ,এরপর ভ্রণ ,এরপর দুগ্ধপোষ্য শিশু ,এরপর কিশোর এবং এরপর পূর্ণবয়স্ক যুবকে পরিণত করেছেন। তিনি তাকে স্মৃতিশক্তিসহ হৃদয় ,কথা বলার জন্য জিহ্বা এবং দেখার জন্য চোখ দান করেছেন যাতে সে (চার পাশের যা কিছু আছে তা থেকে) শিক্ষা গ্রহণ করে ও বুঝতে পারে এবং (আল্লাহর) আদেশ পালন করে ও পাপ থেকে বিরত থাকে।

যখন সে স্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং তার গঠন উন্নতি লাভ করে তখন সে আত্ম - গর্বে পতিত হয় ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। সে অসংখ্য আকাঙ্খায় জড়িয়ে পড়ে ,দুনিয়ার আনন্দের জন্য তার কামনা - বাসনা পূরণে ডুবে যায় এবং তার (হীন প্রবৃত্তিসম্পন্ন) লক্ষ্য অর্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন সে কোন পাপকে ভয় করে না এবং কোন আশঙ্কাতেই ভীত হয় না। সে পাপে আচ্ছন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তার ক্ষণকালীন জীবন সে গোমরাহিতে অতিবাহিত করে। সে কোন পুরস্কার অর্জন করে না এবং কোন দায়িত্বও পরিপূর্ণ করে না। ভোগ - বিলাসের মধ্যেই জীবনঘাতী পীড়া তাকে হতবুদ্ধি ও পরাভূত করে। সে শোকে ,দুঃখে ,ব্যথা ও বেদনায় বিনিদ্র রজনী যাপন করে। সহোদর ভাই ,স্নেহশীল পিতা ,বিলাপরত মায়ের এবং ক্রন্দনরত বোনের উপস্থিতিতে সে পাগল - করা অস্বস্তি ,সংজ্ঞাহীনতা ,চিৎকার ,শ্বাসরুদ্ধকর ব্যথা ও মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরায় ।

তারপর তাকে কাফন পরিয়ে দেয়া হয় এবং সে সম্পূর্ণ শান্ত ও অন্যের অনুগত হয়ে যায়। তারপর তাকে কাঠের তক্তায় করে এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় যেন সে দারুণভাবে দুর্দশাগ্রস্থ ও পীড়া কবলিত। যুবকেরা ও সাহায্যকারী ভ্রাতাগণ তাকে তার একাকীত্বের ঘরে নিয়ে যায় যেখানে সকল দর্শনার্থীর সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর যারা সঙ্গে গিয়েছিলো ও যারা বিলাপ করেছিলো তারা চলে এলে ভয়ঙ্কর প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও বিপজ্জনক পরীক্ষার জন্য তাকে কবরে বসানো হয়। সে স্থানের বড় দুর্যোগ হচ্ছে গরম পানি ও দোযখে প্রবেশ – অনন্ত আগুনের শিখা ও অগ্নিচ্ছটার প্রচণ্ডতা। এ অবস্থার কোন বিরাম নেই ,আরামের জন্য কোন বিরতি নেই ,হস্তক্ষেপ করার কোন ক্ষমতা নেই ,প্রবোধ দেয়ার জন্য মৃত্যু নেই এবং ব্যথা ভুলিয়ে দেয়ার জন্য নিদ্রা নেই। সে বরং প্রতি পলে অনুপলে মৃত্যুর মুহুর্ত কাটায়। আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি।

মৃতদের কাছ থেকে গ্রহণীয় শিক্ষা

হে আল্লাহর বান্দাগণ! তারা আজ কোথায় যারা দীর্ঘ বয়স পর্যন্ত বেঁচে থেকে আল্লাহর নেয়ামত ভোগ করেছিলো। তাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো এবং তারা শিখেছিলো ,তাদের সময় দেয়া হয়েছিলো এবং তারা বৃথা সময় নষ্ট করেছিলো ,তাদেরকে সুস্থ রাখা হয়েছিলো এবং তারা কর্তব্য ভুলে গিয়েছিলো ;তারা দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলো ,জীবনযাপনের সুব্যবস্থা পেয়েছিলো ,দুঃখময় শাস্তির বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিলো এবং বিপুল পুরস্কারের ওয়াদা করা হয়েছিলো। সুতরাং পাপ পরিত্যাগ কর ,যা তোমাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় এবং অসৎ আমল পরিত্যাগ কর ,যা আল্লাহর রোষে তোমাদের নিপতিত করে ।

হে লোকসকল ,তোমাদের যাদের চোখ আছে ,কান আছে ,স্বাস্থ্য আছে ও সম্পদ আছে - তারা বলতো কোথাও কি কোন আত্মরক্ষার স্থল ,কোন নিরাপদ আশ্রয় ,আত্মগোপন করার স্থান বা পালিয়ে যাবার স্থান আছে ? না ,নাই। যদি না থাকে তবে কিরূপে তোমরা মুখ ফেরাও ” (কুরআন - ৬ : ৯৫ ,১০ : ৩৪ ,৩৫ : ৩ ,৪০ : ৬২) এবং কোথায় তোমরা সরে যাচ্ছে ? কী জিনিসের দ্বারা তোমরা প্রতারিত হয়েছো ? নিশ্চয়ই ,এ বিশাল পৃথিবীতে তোমাদের অংশ হলো শরীরের মাপে এক টুকরা জমি যেখানে তোমরা চির শায়িত থাকবে। কাজেই বর্তমানটা তোমাদের আমলের এক সুবর্ণ সুযোগ ।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,যেহেতু তোমাদের ঘাড় ফাঁস মুক্ত ,রূহ প্রতিবন্ধকহীন এবং যেহেতু এখনো হেদায়েতের পথ অন্বেষণ করার সময় আছে ,তোমাদের শরীর সুস্থ আছে ,তোমরা দলবদ্ধভাবে জড়ো হতে পার ,তোমাদের সম্মুখে বাকি জীবন পড়ে আছে ,তোমরা ইচ্ছা করলেই সৎ আমলের সুযোগ আছে ,তওবা করার সুযোগ আছে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা আছে ;সেহেতু তোমরা আল্লাহর রজ্জু ধরো। সংকীর্ণ অবস্থায় পতিত হবার আগে ,দুঃখ - দূর্দশা অথবা ভয় ও দুর্বলতায় স্পর্শ করার আগে ,অপেক্ষমান মৃত্যু হাজির হবার আগে এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহ কর্তৃক অবরুদ্ধ হবার আগে তোমরা সৎ আমল করো ।

খোৎবা - ৮৩

فِي ذِكر عمرو بْن العاص

عَجَبا لاِبْنِ النَّابِغَةِ ! يَزْعُمُ لِأَهْلِ الشَّامِ أَنَّ فِيَّ دُعَابَةً، وَ أَنِّي امْرُوٌ تِلْعَابَةٌ أُعَافِسُ وَ أُمَارِسُ ! لَقَدْ قَالَ بَاطِلاً وَ نَطَقَ آثِماً أَمَا - وَ شَرُّ الْقَوْلِ الْكَذِبُ - إِنَّهُ لَيَقُولُ فَيَكْذِبُ، وَ يَعِدُ فَيُخْلِفُ، وَ يُسْأَلُ فَيَبْخَلُ، وَ يَسْأَلُ فَيُلْحِفُ، وَ يَخُونُ الْعَهْدَ، وَ يَقْطَعُ الْإِلَّ؛ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْحَرْبِ فَأَيُّ زَاجِرٍ وَ آمِرٍ هُوَ ! مَا لَمْ تَأْخُذِ السُّيُوفُ مَآخِذَهَا، فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ كَانَ أَكْبَرُ مَكِيدَتِهِ أَنْ يَمْنَحَ الْقَوْمَ ( القوم ) سَبَّتَهُ أَمَا وَ اللَّهِ إِنِّي لَيَمْنَعُنِي مِنَ اللَّعِبِ ذِكْرُ الْمَوْتِ، وَ إِنَّهُ لَيَمْنَعُهُ مِنْ قَوْلِ الْحَقِّ نِسْيَانُ الْآخِرَةِ، إِنَّهُ لَمْ يُبَايِعْ مُعَاوِيَةَ حَتَّى شَرَطَ أَنْ يُؤْتِيَهُ أَتِيَّةً، وَ يَرْضَخَ لَهُ عَلَى تَرْكِ الدِّينِ رَضِيخَةً

আমর ইবনে আ স সম্পর্কে

নাবিঘার পুত্রের কথা শুনে আমার বিস্ময় লাগলো। সে শ্যামবাসীদের কাছে আমার সম্পর্কে বলে বেড়াচ্ছে যে ,আমি একজন ভাড় এবং আমি কৌতুক আর ঠাট্টা বিদ্রুপে নিয়োজিত। সে ভুল বলছে এবং পাপ - কথা বলছে। সাবধান ,সেটাই নিকৃষ্টতম কথা যা অসত্য । সে কথা বললে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। সে যখন যাচনা করে তখন তাতে লেগেই থাকে ,কিন্তু তার কাছে কেউ কিছু চাইলে সে কৃপণের মত হাত গুটায়। সে বিশ্বাসঘাতকতা করে ওয়াদা ভঙ্গ করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে। যুদ্ধে সে হ্যাঁক - ডাক দিয়ে আদেশ - নির্দেশ দেয়। কিন্তু তার এ হ্যাঁক - ডাক তরবারি কার্যকর হবার পূর্ব পর্যন্তই চলে। যুদ্ধ শুরু হলে সে যখন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয় তখন তার বড় চাতুরী হলো উলঙ্গ হয়ে যাওয়া। আল্লাহর কসম ,মৃত্যুর স্মরণ আমাকে ক্রীড়া - কৌতুক থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। অপরপক্ষে পরকালের বিস্মৃতি তাকে সত্য কথা বলা থেকে বিরত রেখেছে। সে বিনা স্বার্থে মুয়াবিয়ার আনুগত্য স্বীকার করেনি ,পূর্বেই মুয়াবিয়াকে রাজি করিয়েছিলো যে ,তাকে উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে এবং ধর্ম ত্যাগের জন্য মুয়াবিয়াও তাকে পুরস্কৃত করেছিলো।

____________________

১ । আমিরুল মোমেনিন। এখানে মিশর বিজয়ী আমর ইবনে আসের সাহসের বহরের প্রতি ইঙ্গিত করে একথা বলেছেন। ঘটনাটি হলো ,সিফফিনের যুদ্ধের এক পর্যায়ে সে আমিরুল মোমেনিনের মুখোমুখি হয়েছিল। আমিরুল মোমেনিন তাকে লক্ষ্য করে তরবারি তুলতেই সে উলঙ্গ হয়ে গেল। এতে আমিরুল মোমেনিন মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং সে রক্ষা পেয়ে গেল। আরবের বিখ্যাত কবি আল - ফারাজদাক এ সম্পর্কে বলেছেনঃ

অমর্যাদাকর চালাকি দ্বারা জীবন রক্ষায়

নেই কোন সুনাম ,

যা করেছে আমর ইবনে আ স একদিন

করে তার গুপ্তাঙ্গ প্রদর্শন।

জীবন রক্ষার এহেন চাতুরী সর্বপ্রথম ওহুদের যুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল। ওহুদের যুদ্ধে তালহা ইবনে আবি তালহা আমিরুল মোমেনিনের মুখোমুখি হলে তিনি আঘাত হানতে যাবেন । এসময়ে সে ভয়ে উলঙ্গ হয়ে গিয়েছিল এবং আমিরুল মোমেনিন তাকে আঘাত না করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। আমারের পর বুশর ইবনে আবি আরতাত আমিরুল মোমেনিনের মুখোমুখি হলে একই উপায়ে জীবন রক্ষা করেছিল।

খোৎবা - ৮৪

و فیها صفات ثمانٍ من صفات الجلال

وَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ: الْأَوَّلُ لاَ شَيْءَ قَبْلَهُ، وَ الْآخِرُ لاَ غَايَةَ لَهُ لاَ تَقَعُ الْأَوْهَامُ لَهُ، عَلَى صِفَةٍ، وَ لاَ تُعْقَدُ الْقُلُوبُ مِنْهُ عَلَى كَيْفِيَّةٍ، وَ لاَ تَنَالُهُ التَّجْزِئَةُ وَ التَّبْعِيضُ، وَ لاَ تُحِيطُ بِهِ الْأَبْصَارُ وَ الْقُلُوبُ.

الدعوة إلی قبول الموعظة

منها: فَاتَّعِظُوا عِبَادَ اللَّهِ بِالْعِبَرِ النَّوَافِعِ وَ اعْتَبِرُوا بِالْآيِ السَّوَاطِعِ، وَ ازْدَجِرُوا بِالنُّذُرِ الْبَوَالِغِ وَ انْتَفِعُوا بِالذِّكْرِ وَ الْمَوَاعِظِ، فَكَأَنْ قَدْ عَلِقَتْكُمْ مَخَالِبُ الْمَنِيَّةِ وَ انْقَطَعَتْ مِنْكُمْ عَلاَئِقُ الْأُمْنِيَّةِ وَ دَهِمَتْكُمْ مُفْظِعَاتُ الْأُمُورِ، وَ السِّيَاقَةُ إِلَى الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ، فَ( كُلُّ نَفْسٍ مَعَها سائِقٌ وَ شَهِيدٌ ) : سَائِقٌ يَسُوقُهَا إِلَى مَحْشَرِهَا؛ وَ شَاهِدٌ يَشْهَدُ عَلَيْهَا بِعَمَلِهَا.

صِفَةِ الْجَنَّةِ

دَرَجَاتٌ مُتَفَاضِلاَتٌ، وَ مَنَازِلُ مُتَفَاوِتَاتٌ، لاَ يَنْقَطِعُ نَعِيمُهَا، وَ لاَ يَظْعَنُ مُقِيمُهَا، وَ لاَ يَهْرَمُ خَالِدُهَا، وَ لاَ يَبْأَسُ (بیأس) سَاكِنُهَا.

আল্লাহর উৎকর্ষ সম্পর্কে

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে ,আল্লাহ ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। তিনি এক এবং তার কোন অংশীদার নেই। তিনিই আদি - তাঁর পূর্বে কোন কিছু নেই। তিনিই অন্ত - তাঁর কোন পরিসীমা নেই। কল্পনা তার কোন গুণাবলীকে ধারণ করতে পারে না। তার স্বরূপ সম্বন্ধে হৃদয়ের কোন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। কোন বিশ্লেষণ ও বিভাজন তার প্রতি প্রযোজ্য হতে পারে না। চোখ ও হৃদয় তাকে উপলব্ধি করতে পারে না।

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,আল্লাহর নির্দেশ ও আয়াতসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। সতর্কবাণী সম্পর্কে সাবধান হও । আদেশ ও উপদেশাবলী থেকে লাভবান হও । মনে রেখো ,মৃত্যুর থাবা সতত তোমাকে চাপ দিচ্ছে এবং তোমার আশা - আকাঙ্খা থেকে তোমাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেল বে । কী কঠিন অবস্থাই না তোমার উপর আপতিত হবে এবং তুমি সে দিকেই এগিয়ে চলেছো যেখানে প্রত্যেককে যেতে হয় - তার নাম মৃত্যু। প্রত্যেক ব্যক্তির সাথে থাকবে একজন চালক ও একজন সাক্ষী (কুরআন - ৫০ : ২১ ) । চালক তাকে পুনরুজীবনের দিকে ধাবিত করবে এবং সাক্ষী তার কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে।

বেহেশতে অনেক উচ্চ শ্রেণি এবং থাকার বিবিধ স্থান আছে। এর নেয়ামত কখনো শেষ হবে না। এর সীমানা ভ্রমণ করে শেষ করা যাবে না এবং এ থেকে কেউ নিস্ক্রান্ত হবে না। যে কেউ এখানে প্রবেশ করবে। সে কখনো বৃদ্ধ হবে না এবং এখানে কেউ কোন অভাব অনুভব করবে না।

খোৎবা - ৮৫

قَدْ عَلِمَ السَّرَائِرَ وَ خَبَرَ الضَّمَائِرَ لَهُ الْإِحَاطَةُ بِكُلِّ شَيْءٍ وَ الْغَلَبَةُ لِكُلِّ شَيْءٍ وَ الْقُوَّةُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ

فَلْيَعْمَلِ الْعَامِلُ مِنْكُمْ فِي أَيَّامِ مَهَلِهِ قَبْلَ إِرْهَاقِ أَجَلِهِ، وَ فِي فَرَاغِهِ قَبْلَ أَوَانِ شُغُلِهِ، وَ فِي مُتَنَفَّسِهِ قَبْلَ أَنْ يُؤْخَذَ بِكَظَمِهِ، وَ لْيُمَهِّدْ لِنَفْسِهِ وَ قَدَمِهِ، وَ لْيَتَزَوَّدْ مِنْ دَارِ ظَعْنِهِ لِدَارِ إِقَامَتِهِ. فَاللَّهَ اللَّهَ أَيُّهَا النَّاسُ،، فِيمَا اسْتَحْفَظَكُمْ (أحفظکم) مِنْ كِتَابِهِ، وَ اسْتَوْدَعَكُمْ مِنْ حُقُوقِهِ، فَإِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ لَمْ يَخْلُقْكُمْ عَبَثاً، وَ لَمْ يَتْرُكْكُمْ سُدًى وَ لَمْ يَدَعْكُمْ فِي جَهَالَةٍ وَ لاَ عَمىً قَدْ سَمَّى آثَارَكُمْ، وَ عَلِمَ أَعْمَالَكُمْ، وَ كَتَبَ آجَالَكُمْ. وَ أَنْزَلَ عَلَيْكُمُ «الْكِتَابَ تِبْيانا لِكُلِّ شَيْءٍ». وَ عَمَّرَ فِيكُمْ نَبِيَّهُ أَزْمَاناً، حَتَّى أَكْمَلَ لَهُ وَ لَكُمْ فِيمَا أَنْزَلَ مِنْ كِتَابِهِ -دِينَهُ الَّذِي رَضِيَ لِنَفْسِهِ وَ أَنْهَى إِلَيْكُمْ عَلَى لِسَانِهِ- مَحَابَّهُ مِنَ الْأَعْمَالِ وَ مَكَارِهَهُ، وَ نَوَاهِيَهُ وَ أَوَامِرَهُ، وَ أَلْقَى إِلَيْكُمُ الْمَعْذِرَةَ، وَ اتَّخَذَ عَلَيْكُمُ الْحُجَّةَ، وَ قَدَّمَ إِلَيْكُمْ بِالْوَعِيدِ، وَ أَنْذَرَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذابٍ شَدِيدٍ. فَاسْتَدْرِكُوا بَقِيَّةَ أَيَّامِكُمْ، وَ اصْبِرُوا لَهَا أَنْفُسَكُمْ فَإِنَّهَا قَلِيلٌ فِي كَثِيرِ الْأَيَّامِ الَّتِي تَكُونُ مِنْكُمْ فِيهَا الْغَفْلَةُ، وَ التَّشَاغُلُ عَنِ الْمَوْعِظَةِ؛ وَ لاَ تُرَخِّصُوا لِأَنْفُسِكُمْ، فَتَذْهَبَ بِكُمُ الرُّخَصُ مَذَاهِبَ الظَّلَمَةِ، وَ لاَ تُدَاهِنُوا فَيَهْجُمَ بِكُمُ الْإِدْهَانُ عَلَى الْمَعْصِيَةِ

عِبَادَ اللَّهِ إِنَّ أَنْصَحَ النَّاسِ لِنَفْسِهِ أَطْوَعُهُمْ لِرَبِّهِ؛ وَ إِنَّ أَغَشَّهُمْ لِنَفْسِهِ أَعْصَاهُمْ لِرَبِّهِ؛ وَ الْمَغْبُونُ مَنْ غَبَنَ نَفْسَهُ، وَ الْمَغْبُوطُ مَنْ سَلِمَ لَهُ دِينُهُ، «وَ السَّعِيدُ مَنْ وُعِظَ بِغَيْرِهِ»، وَ الشَّقِيُّ مَنِ انْخَدَعَ لِهَوَاهُ وَ غُرُورِهِ وَ اعْلَمُوا أَنَّ «يَسِيرَ الرِّيَأِ شِرْكٌ» وَ مُجَالَسَةَ أَهْلِ الْهَوَى مَنْسَاةٌ لِلْإِيمَانِ وَ مَحْضَرَةٌ لِلشَّيْطَانِ جَانِبُوا الْكَذِبَ فَإِنَّهُ مُجَانِبٌ لِلْإِيمَانِ. الصَّادِقُ عَلَى شَفَا مَنْجَاةٍ وَ كَرَامَةٍ وَ الْكَاذِبُ عَلَى شَرَفِ مَهْوَاةٍ وَ مَهَانَةٍ وَ لاَ تَحَاسَدُوا فَإِنَّ الْحَسَدَ يَأْكُلُ الْإِيمَانَ «كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ»، «وَ لاَ تَبَاغَضُوا فَإِنَّهَا الْحَالِقَةُ»؛ وَ اعْلَمُوا أَنَّ الْأَمَلَ يُسْهِي الْعَقْلَ، وَ يُنْسِي الذِّكْرَ. فَأَكْذِبُوا الْأَمَلَ فَإِنَّهُ غَرُورٌ، وَ صَاحِبُهُ مَغْرُورٌ

পরকালের জন্য প্রস্তুতি ও আল্লাহর আদেশ পালন সম্পর্কে

আল্লাহ সকল গুপ্ত বিষয় সম্বন্ধে অবহিত এবং অন্তরের অনুভূতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল আছেন। তিনি সবকিছুকে পরিবৃত করে আছেন। সবকিছুর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা রয়েছে।

তোমাদের প্রত্যেকের উচিত মৃত্যুর আগমনের পূর্বেই যা কিছু করণীয় তা করা ,অবসর সময় অবহেলায় নষ্ট না করা এবং শ্বাসরুদ্ধ হবার আগেই এ যাত্রা বিরতির স্থল থেকে স্থায়ী আব্বাসের জন্য রসদ সংগ্রহ করা।

আল্লাহকে স্মরণ কর ,হে জনমণ্ডলী ,তিনি তার কিতাবে যা বলেছেন তৎপ্রতি যত্নবান হও এবং তোমাদের প্রতি তাঁর যে হক রয়েছে তা সম্পন্ন কর। নিশ্চয়ই ,আল্লাহ তোমাদের অহেতুক সৃষ্টি করেননি এবং লাগামহীনভাবে ছেড়েও দেননি ;আবার অজ্ঞতা ও অন্ধকারে রেখেও দেননি। কী তোমাদের রেখে যাওয়া উচিত। তিনি তা সংজ্ঞায়িত করেছেন ,তোমাদেরকে তোমাদের আমল শিক্ষা দিয়েছেন ,তোমাদের মৃত্যুকে নির্ধারিত করেছেন এবং সবকিছুর ব্যাখ্যাসহ কিতাব" (কুরআন - ১৬ : ৮৯) নাজেল করেছেন। তিনি তাঁর রাসূলকে দীর্ঘ সময় তোমাদের মাঝে রেখেছিলেন যে পর্যন্ত না কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের জন্য তাঁর বাণী তথা তাঁর মনোনীত দ্বীন পরিপূর্ণ করেছিলেন। তিনি তাঁর রাসূলের মাধ্যমে সৎ আমল ও বদ আমল এবং তার আদেশ ও নিষেধের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি তোমাদের সম্মুখে তার প্রমাণাদি রেখেছেন এবং তোমাদের ওপর তাঁর ওজর নিঃশেষ করেছেন।

তিনি তোমাদের সম্মুখে তার সতর্কবাণী রেখেছেন এবং কঠোর শাস্তির বিষয়েও তোমাদেরকে সতর্ক করেছেন। সুতরাং তোমাদের বাকি দিনগুলোতে পূর্ণভাবে প্রয়াশ্চিত্ত কর এবং সবুর অভ্যাস কর । যতটুকু সময় তুমি আল্লাহর আদেশ - নিষেধের প্রতি অমনোযোগিতা ও বিস্মৃতির মধ্যে কাটিয়েছো ,সে তুলনায় অবশিষ্ট সময় খুবই অল্প। তোমার নিজের জন্য সময় রেখো না - রাখলে তা তোমাকে অন্যায়কারীদের পথে ঠেলে নিয়ে যাবে। কখনো অলস হয়ে না। কারণ অলসতা তোমাকে পাপাচারিতার দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ ,সে ব্যক্তি সর্বোত্তম আত্ম - উপদেষ্টা যে আল্লাহর অতি অনুগত এবং সে ব্যক্তি সব চাইতে বড় আত্ম - প্রবঞ্চক যে আল্লাহর অনুগত নয়। সে ব্যক্তিই সব চাইতে বেশি প্রবঞ্চিত যে নিজেকে প্রবঞ্চনা করে। সে ব্যক্তি অতীব ঈর্ষণীয় যার ইমান নিরাপদ। ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে অন্যদের কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণ করে এবং ভাগ্যাহত সে যে কামনা - বাসনার শিকার হয়। মনে রেখো ,ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মোনাফেকিও শিরকের সামিল এবং আকাঙ্খা - পূজারীর সঙ্গ ইমানের বিস্মৃতির চাবিকাঠি ও শয়তানের আসন ।

মিথ্যার বিরুদ্ধে নিজেকে সতর্ক রেখো ,কারণ মিথ্যা ইমানের বিপরীত। একজন সত্যবাদী মুক্তি ও মর্যাদার শিখরে। অপরপক্ষে একজন মিথ্যাবাদী অমর্যাদা ও হীনতার শেষ সীমায়। কখনো ঈর্ষাপরায়ণ হয়ো না। কারণ হিংসা ইমানকে খেয়ে ফেলে ;যেভাবে আগুন শুকনো কাঠকে খেয়ে ফেলে। বিদ্বেষপরায়ণ হয়ো না। কারণ বিদ্বেষ সদগুণ মোছক। জেনে রাখো ,কামনা বুদ্ধিমত্তাকে লোপ করে এবং স্মৃতিতে বিস্মরণ ঘটায়। কামনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা তোমাদের উচিত ,কারণ এটা এক প্রকার ছলনা এবং যার কামনা আছে সে ধোকায় লিপ্ত ।

খোৎবা - ৮৬

أحب عباد الله إلیه

عِبَادَ اللَّهِ، إِنَّ مِنْ أَحَبِّ عِبَادِ اللَّهِ إِلَيْهِ عَبْداً أَعَانَهُ اللَّهُ عَلَى نَفْسِهِ فَاسْتَشْعَرَ الْحُزْنَ، وَ تَجَلْبَبَ الْخَوْفَ فَزَهَر مِصْبَاحُ الْهُدَى فِي قَلْبِهِ، وَ أَعَدَّ الْقِرَى لِيَوْمِهِ النَّازِلِ بِهِ، فَقَرَّبَ عَلَى نَفْسِهِ الْبَعِيدَ، وَ هَوَّنَ الشَّدِيدَ. نَظَرَ فَأَبْصَرَ (فأقصر)، وَ ذَكَرَ فَاسْتَكْثَرَ، وَ ارْتَوَى مِنْ عَذْبٍ فُرَاتٍ سُهِّلَتْ لَهُ مَوَارِدُهُ، فَشَرِبَ نَهَلاً، وَ سَلَكَ سَبِيلاً جَدَداً. قَدْ خَلَعَ سَرَابِيلَ الشَّهَوَاتِ، وَ تَخَلَّى مِنَ الْهُمُومِ، إِلا هَمّا وَاحِدا انْفَرَدَ بِهِ، فَخَرَجَ مِنْ صِفَةِ الْعَمَى وَ مُشَارَكَةِ أَهْلِ الْهَوَى، وَ صَارَ مِنْ مَفَاتِيحِ أَبْوَابِ الْهُدَى وَ مَغَالِيقِ أَبْوَابِ الرَّدَى. قَدْ أَبْصَرَ طَرِيقَهُ وَ سَلَكَ سَبِيلَهُ، وَ عَرَفَ مَنَارَهُ، وَ قَطَعَ غِمَارَهُ.

وَ اسْتَمْسَكَ مِنَ الْعُرَى بِأَوْثَقِهَا وَ مِنَ الْحِبَالِ بِأَمْتَنِهَا، فَهُوَ مِنَ الْيَقِينِ عَلَى مِثْلِ ضَوْءِ الشَّمْسِ قَدْ نَصَبَ نَفْسَهُ لِلَّهِ سُبْحَانَهُ فِي أَرْفَعِ الْأُمُورِ، مِنْ إِصْدَارِ كُلِّ وَارِدٍ عَلَيْهِ، وَ تَصْيِيرِ كُلِّ فَرْعٍ إِلَى أَصْلِهِ. مِصْبَاحُ ظُلُمَاتٍ كَشَّافُ عَشَوَاتٍ (غشوات) مِفْتَاحُ مُبْهَمَاتٍ، دَفَّاعُ مُعْضِلاَتٍ، دَلِيلُ فَلَوَاتٍ يَقُولُ فَيُفْهِمُ، وَ يَسْكُتُ فَيَسْلَمُ. قَدْ أَخْلَصَ لِلَّهِ فَاسْتَخْلَصَهُ. فَهُوَ مِنْ مَعَادِنِ دِينِهِ وَ أَوْتَادِ أَرْضِهِ قَدْ أَلْزَمَ نَفْسَهُ الْعَدْلَ فَكَانَ أَوَّلَ عَدْلِهِ نَفْيُ الْهَوَى عَنْ نَفْسِهِ يَصِفُ الْحَقَّ وَ يَعْمَلُ بِهِ لاَ يَدَعُ لِلْخَيْرِ غَايَةً إِلا أَمَّهَا وَ لاَ مَظِنَّةً إِلا قَصَدَهَا، قَدْ أَمْكَنَ الْكِتَابَ مِنْ زِمَامِهِ فَهُوَ قَائِدُهُ وَ إِمَامُهُ، يَحُلُّ حَيْثُ حَلَّ ثَقَلُهُ، وَ يَنْزِلُ حَيْثُ كَانَ مَنْزِلُهُ.

أدعیاء إلعلم

وَ آخَرُ قَدْ تَسَمَّى عَالِماً وَ لَيْسَ بِهِ، فَاقْتَبَسَ جَهَائِلَ مِنْ جُهَّالٍ، وَ أَضَالِيلَ مِنْ ضُلَّالٍ، وَ نَصَبَ لِلنَّاسِ أَشْرَاكاً مِنْ حَبَائِلِ (حبال) غُرُورٍ، وَ قَوْلِ زُورٍ، قَدْ حَمَلَ الْكِتَابَ عَلَى آرَائِهِ (رأیة)؛ وَ عَطَفَ الْحَقَّ عَلَى أَهْوَائِهِ، يُؤْمِنُ النَّاسَ مِنَ الْعَظَائِمِ، وَ يُهَوِّنُ كَبِيرَ الْجَرَائِمِ. يَقُولُ أَقِفُ عِنْدَ الشُّبُهَاتِ، وَ فِيهَا وَقَعَ؛ وَ يَقُولُ: أَعْتَزِلُ الْبِدَعَ، وَ بَيْنَهَا اضْطَجَعَ؛ فَالصُّورَةُ صُورَةُ إِنْسَانٍ، وَ الْقَلْبُ قَلْبُ حَيَوَانٍ، لاَ يَعْرِفُ بَابَ الْهُدَى فَيَتَّبِعَهُ، وَ لاَ بَابَ الْعَمَى فَيَصُدَّ عَنْهُ. وَ ذَلِكَ مَيِّتُ الْأَحْيَأِ!

خصائص اهل البیتعليهم‌السلام

«فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ»؟ وَ «أَنَّى تُؤْفَكُونَ»؟ وَ الْأَعْلاَمُ قَائِمَةٌ، وَ الْآيَاتُ وَاضِحَةٌ، وَ الْمَنَارُ مَنْصُوبَةٌ، فَأَيْنَ يُتَاهُ بِكُمْ وَ كَيْفَ تَعْمَهُونَ وَ بَيْنَكُمْ عِتْرَةُ نَبِيِّكُمْ! وَ هُمْ أَزِمَّةُ الْحَقِّ، وَ أَعْلاَمُ الدِّينِ، وَ أَلْسِنَةُ الصِّدْقِ! فَأَنْزِلُوهُمْ بِأَحْسَنِ مَنَازِلِ الْقُرْآنِ، وَ رِدُوهُمْ وُرُودَ الْهِيمِ الْعِطَاشِ. أَيُّهَا النَّاسُ، خُذُوها عَنْ خَاتَمِ النَّبِيِّينَصلى‌الله‌عليه‌وآله‌وسلم «إنَّهُ يَمُوتُ مَنْ مَاتَ مِنَّا وَ لَيْسَ بِمَيِّتٍ وَ يَبْلَى مَنْ بَلِىَ مِنَّا وَ لَيْسَ بِبَالٍ» فَلا تَقُولُوا بِما لا تَعْرِفُونَ فَإ نَّ أَكْثَرَ الْحَقِّ فِيمَا تُنْكِرُونَ.

وَ اعْذِرُوا مَنْ لاَ حُجَّةَ لَكُمْ عَلَيْهِ وَ أَنَا هُوَ. أَلَمْ أَعْمَلْ فِيكُمْ بِالثَّقَلِ الْأَكْبَرِ! وَ أَتْرُكْ فِيكُمُ الثَّقَلَ الْأَصْغَرَ قَدْ رَكَزْتُ فِيكُمْ رَايَةَ الْإِيمَانِ وَ وَقَفْتُكُمْ عَلَى حُدُودِ الْحَلاَلِ وَ الْحَرَامِ، وَ أَلْبَسْتُكُمُ الْعَافِيَةَ مِنْ عَدْلِى وَ فَرَشْتُكُمُ الْمَعْرُوفَ مِنْ قَوْلِى وَ فِعْلِى، وَ أَرَيْتُكُمْ كَرائِمَ الْأَخْلاَقِ مِنْ نَفْسِى فَلاَ تَسْتَعْمِلُوا الرَّأْىَ فِيما لا يُدْرِكُ قَعْرَهُ الْبَصَرُ، وَ لا يَتَغَلْغَلُ إِلَيْهِ الْفِكَرُ.

الاخبر الغیبی عن عاقبة بنی امیة

وَ مِنْها:حَتَّى يَظُنَّ الظَّانُّ أَنَّ الدُّنْيَا مَعْقُولَةٌ عَلَى بَنِى أُمَيَّةَ؛ تَمْنَحُهُمْ دَرَّها، وَ تُورِدُهُمْ صَفْوَها، وَ لا يُرْفَعُ عَنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ سَوْطُها وَ لا سَيْفُها، وَ كَذَبَ الظَّانُّ لِذَلِكَ. بَلْ هِىَ مَجَّةٌ مِنْ لَذِيذِ الْعَيْشِ يَتَطَعَّمُونَها بُرْهَةً، ثُمَّ يَلْفِظُونَها جُمْلَةً!.

মোমিনের গুণাবলী , বেইমানের বৈশিষ্ট্য , রাসূলের ইতরাহ ও বনি উমাইয়া সম্পর্কে

মোমিনের গুণাবলী

হে আল্লাহর বান্দাগণ ,সে ব্যক্তি আল্লাহর সব চাইতে প্রিয় যাকে তিনি কামনা - বাসনা প্রদমিত করার ক্ষমতা অর্পণ করেছেন যাতে তার বাতেন শোক - বিহবল ও জাহের ভীত - সন্ত্রস্ত থাকে। তার হৃদয়ে হেদায়েতের প্রদীপ সমুজ্জ্বল। সে সেদিনের আপ্যায়নোপকরণ সংগ্রহ করেছে যে দিনটি অবশ্যম্ভাবী (মৃত্যু) । যা দূরে তা সে নিকটে মনে করে এবং যা কঠিন তা সে সহজ মনে করে। সে দৃষ্টিপাত করে ও উপলব্ধি করে ;সে আল্লাহর জেকের করে ও আমলকে প্রসারিত করে। সে মিঠা পানি পান করে যার উৎসের দিকে তার পথ সহজ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সে পরিতৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত পান করে এবং সমতল পথ অবলম্বন করে। সে একটা (আল্লাহর সন্তোষ) ছাড়া অন্য সকল আকাঙ্খার আচ্ছাদন খুলে ফেলে দিয়েছে এবং সকল উদ্বেগ থেকে মুক্ত হয়েছে। সে কুপথে পরিচালিত হওয়া থেকে নিরাপদ এবং যারা কামনা - বাসনার অনুসারী সে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করেছে। সে হেদায়েতের দুয়ারের চাবিতে পরিণত হয়েছে এবং ধ্বংসের দুয়ারের তলায় পরিণত হয়েছে। সে তার পথ দেখেছে এবং সেপথেই হেঁটে যাচ্ছে। সে তার হেদায়েতের আলামত ও চিহ্নকে চিনেছে এবং গভীর জলাশয় অতিক্রম করেছে। সে বিশ্বস্ততম অবলম্বন ও শক্ততম রজ্জু ধরেছে। সে দৃঢ় প্রত্যয়ের এমন স্তরে যা সূর্যের দীপ্তির মত। সে নিজেকে মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য নিয়োজিত করেছে এবং মহত্তম কর্মের জন্য সে যে কোন পরিস্থিতির মোকাবেলা ও যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সদা প্রস্তৃত। সে অন্ধকারের প্রদীপ । সে সকল প্রকার অন্ধত্ব অপনোদনকারী ,গুপ্ত বিষয়ের চাবি ,জটিলতা অপসারণকারী এবং বিশাল মরুভূমিতে পথ প্রদর্শক। যখন সে কথা বলে তখন তা বুঝিয়ে বলে। আবার যখন সে চুপ থাকে তখন তা নিরাপদ বলেই করে। সে সবকিছু শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই করে। ফলে আল্লাহও তাকে নিজের করে নেয়। সে আল্লাহর দ্বীনের খনি ও তার জমিনের পেরেক স্বরূপ। সে ন্যায়কে নিজের জন্য ফরজ করে নিয়েছে।

তার ন্যায়ের প্রথম পদক্ষেপ হলো সে হৃদয় থেকে সকল কামনা বিদূৱীত করেছে। সে ন্যায়ের বর্ণনা যেভাবে করে ঠিক সেভাবে আমল করে। যা কিছু কল্যাণকর তা তার লক্ষ্য এড়ায় না এবং কুরআনের কোন স্থান তার দৃষ্টির আড়াল হয় না। সুতরাং কুরআন তার পরিচালক ও ইমাম। অর্থাৎ সে সর্বদা কুরআনের সাথে থাকে ,কখনো পৃথক হয় না। তার দৈনন্দিন কাজ কর্মেও সে কুরআনকে অনুসরণ করে।

বেইমানের বৈশিষ্ট্য

অপরপক্ষে ,অন্য প্রকৃতিরও মানুষ আছে যে নিজেকে জ্ঞানী মনে করে ,আসলে সে তা নয়। সে অজ্ঞদের কাছ থেকে অজ্ঞতা এবং পথভ্রষ্টদের কাছ থেকে ভ্রষ্টতা কুড়িয়ে নেয়। সে মানুষের জন্য মিথ্যা বক্তৃতা ও প্রতারণার দড়ি দিয়ে ফাঁদ পাতে। সে নিজের অভিমত অনুযায়ী কুরআনকে এবং কামনাবাসনার বশবর্তী হয়ে ন্যায়কে গ্রহণ করে। সে মহাপাপকে নিরাপদ এবং লঘু পাপকে গুরুতর অপরাধ বলে মানুষকে বুঝায়। সংশয়ে ডুবে থেকে সে বলে যে ,সে সংশয়ের ব্যাখ্যার জন্য অপেক্ষা করছে । সে বলে যে ,সে বিদআত থেকে দূরে থাকে অথচ সে বিদআতে নিমগ্ন রয়েছে। তার আকৃতি মানুষের মতো কিন্তু তার চিত্তবৃত্তি পশুর মতো। হেদায়েতের দরজা তার অচেনা। কাজেই সে সৎপথ অনুসরণ করতে পারে না। এসব লোক জীবস্মৃত।

রাসূলের (সা.) ইতরাহ সম্পর্কে

“ সুতরাং কোথায় তোমরা চলছো। ” (কুরআন - ৮১ : ২৬) এবং তোমরা কিভাবে বিপথগামী হচ্ছে। ” (কুরআন - ৬ : ৯৫ ,১০ : ৩৪ ,৩৫ : ৩ ,৪০ : ৬২) । হেদায়েতের প্রতীক - চিহ্নসমূহ দণ্ডায়মান ,সদগুণাবলীর লক্ষণসমূহ সুস্পষ্ট এবং আলোর পথের মিনার নির্ধারিত। তোমাদেরকে কোন বিপথে নেয়া হচ্ছে এবং কিভাবে তোমরা অন্ধত্বের দিকে যাচ্ছে ,যেখানে তোমাদের মাঝে রাসূলের আহলুল বাইত রয়েছে ? তারা হলেন ন্যায়ের লাগাম ,দ্বীনের প্রতীক ও সত্যের জিহবা । তোমরা কুরআনকে যতটুকু মর্যাদা দাও তাদেরকেও ততটুকু মর্যাদা দিও এবং তৃষ্ণার্তা উট যেভাবে পানির ঝরনার দিকে ছুটে যায় ,হেদায়েতের তৃষ্ণা মিটানোর জন্য তোমরাও সেভাবে তাদের দিকে যেয়ো।

হে জনমণ্ডলী ,খাতেমুন নবীর বাণী তোমরা স্মরণ করা। তিনি বলেছেন , আমাদের মধ্যে থেকে যে কেউ মৃত্যুবরণ করে সে মৃত নয় এবং আমাদের মধ্য থেকে যে কেউ ক্ষয়প্রাপ্ত (মৃত্যুর পর) হয় সে প্রকৃতপক্ষে ক্ষয়প্রাপ্ত নয়। যে বিষয় তোমরা বুঝ না সে বিষয়ে কথা বলো না ,কারণ তোমরা যা অস্বীকার কর তাতে অধিকাংশ সত্য ও ন্যায় আছে। যার বিরুদ্ধে তোমাদের কোন যুক্তি নেই ,তার যুক্তি গ্রহণ করা। ” রাসূল (সা.) এখানে যার কথা বলেছেন আমিই তো সে ব্যক্তি। আমি কি তোমাদের সম্মুখে ছাকালুল - আকবরের (কুবআনের) আমল করিনি ? আমি কি তোমাদের ছাকালুল - আছগরের (আহলুল বাইতের) অন্তর্ভুক্ত নই ? আমি তোমাদের ইমানের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছি। এবং তোমাদের হালাল ও হারামের সীমারেখা শিখিয়ে দিয়েছি। আমি আমার ন্যায় বিচার দ্বারা তোমাদেরকে নিরাপত্তার পোষাক পরিয়ে দিয়েছি। এবং আমার কথা ও কর্ম দ্বারা তোমাদের জন্য সৎকাজের কার্পেট ছড়িয়ে দিয়েছি। আমি নিজের মাধ্যমে তোমাদেরকে উন্নত আচরণ দেখিয়েছি। যা চোখে দেখা যায় না অথবা মনে ধারণ করা যায় না ,সে বিষয়ে কল্পনার আশ্রয় গ্রহণ করো না।

বনি উমাইয়া সম্পর্কে

যতদিন পর্যন্ত মানুষ মনে করবে যে ,পৃথিবী উমাইয়াদের করতলে ,সকল নেয়ামত তাদের ওপর বর্ষিত ,স্বচ্ছ সরবরের পানি ব্যবহারের অধিকার শুধু তাদের ,ততদিন পর্যন্ত উমাইয়াদের চাবুক ও তরবারি মানুষের মাথার ওপর থেকে সরবে না। উমাইয়ারা যদি মনে করে থাকে যে ,তারা চিরস্থায়ীভাবে মানুষের ওপর অত্যাচার - উৎপীড়ন চালিয়ে যেতে পারবে ,তাহলে তাদের সে চিন্তা ভুল। জীবনের আনন্দের কয়েক ফোটা মাত্র তারা অল্প সময়ের জন্য পান করতে পারবে এবং পরীক্ষণেই তারা সবকিছু বমি করে ফেলবে।

____________________

১। রাসূলের (সা.) এ বাণী থেকে নিশ্চিত প্রমাণিত হয় যে ,আহলুল বাইতের সদস্যদের জীবনে কখনো পরিসমাপ্তি আসে না এবং দৃশ্যত মৃত্যু তাদের বেঁচে থাকার মধ্যে কোন ব্যবধান সৃষ্টি করে না। কিন্তু মানুষের বুদ্ধিমত্তা সে জীবনের অবস্থা ও ঘটনাবলী অনুধাবন করতে সক্ষম হয় না। আমাদের জ্ঞান - জগতের বাইরে অনেক সত্য রয়েছে যা মানুষের মন এখনো বুঝতে পারে না। কবরের সংকীর্ণ স্থানে যেখানে একটু নিশ্বাস ফেলা সম্ভব নয় ;কে বলতে পারে সেখানে কী করে মুনকার নকিরের প্রশ্নের জবাব দেয়া হয় ? একইভাবে ,আল্লাহর রাস্তায় যারা শহীদ হয়েছে তাদের জীবনের অর্থ কী ? যদিও আমাদের দৃষ্টিতে তারা মৃত তবুও কুরআন বলেঃ

যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত বলো না ,তারা জীবিত ,কিন্তু তোমরা তা অনুধাবন করতে পার না (২ :১৫৪) । যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে করো না । বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের কাছ থেকে জীবিকাপ্রাপ্ত (৩ :১৬৯) ।

যেখানে সাধারণ শহীদদের মৃত বলতে ও মনে করতে কুরআনে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে সেসব মহান ব্যক্তিত্ব যারা আল্লাহর দ্বীনের জন্য তরবারির নিচে মাথা ও বিষের পেয়ালা হাতে রেখেছেন ,তারা অনাদি জীবনের অধিকারী হবেন। এতে দ্বীমত করার কিছু নেই। তাদের দেহ সম্বন্ধে আমিরুল মোমেনিন বলেছেন যে ,কালের অতিক্রমণে তা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না ;তারা যে অবস্থায় শহীদ হয়েছেন সে অবস্থায় থাকেন। এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই ,কারণ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন পূর্বে সংরক্ষিত মৃতদেহ এখনো রয়েছে। এটা যখন মানুষের পক্ষে সম্ভব সেক্ষেত্রে সর্বশক্তিমান আল্লাহ যাদের চিরস্থায়ী জীবন দান করেছেন তাদের বেলায় লয় রোধ করা কি তার ক্ষমতা বহিঃর্ভূত ? বদরের যুদ্ধের শহীদদের সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেনঃ

তাদেরকে তাদের ক্ষতস্থান থেকে নির্গত রক্তসহ দাফন করো ,কারণ বিচার - দিনে যখন তারা উত্থিত হবে তখন তাদের গলা দিয়ে রক্ত বের হবে।

২। ছাকালুল আকবর বলতে কুরআন এবং ছাকালুল আছগর বলতে আহলুল বাইতকে বুঝানো হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেনঃ

নিশ্চয়ই ,আমি তোমাদের মাঝে ছাকালায়েন (দুটো মহামূল্যবান জিনিস) রেখে যাচ্ছি।

ছাকালায়েন বলতে রাসূল (সা.) কুরআন ও আহলুল বাইতকে বুঝিয়েছেন। ছাকাল শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণকারীর অত্যাবশ্যকীয় জিনিসপত্র ;মূল্যবান বস্তু। এ পৃথিবী মানুষের জন্য ভ্রমণ স্থান ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ভ্রমণে ছাকালায়েন এত অত্যাবশ্যকীয় যে ,এ দুটো মূল্যবান বস্তু ছাড়া ভ্রমণ পথে দুঃখ - কষ্ট ভোগ করতে হবে এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যও ব্যাহত হয়ে যাবে।

ইবনে হাজার আল - হায়তামী ,(পৃঃ ৯০) লিখেছেন ,

রাসূল (সা.) কুরআন ও তাঁর আহলুল বাইতকে ছোকালায়েন বলেছেন কারণ ছাকাল অর্থ হলো পবিত্র ,সৎ ও সংরক্ষিত বস্তু এবং এ দুটো প্রকৃতপক্ষে তা - ই। এদের প্রতিটি ঐশী জ্ঞানের ভাণ্ডার ,গুপ্ত বিষয়সমূহের উৎস এবং দ্বীনের নির্দেশিত বিধান । সে জন্য রাসূল (সা.) তাদেরকে অনুসরণ করতে ,তাদের আচল (দামান) ধরে রাখতে এবং তাদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন । আহলুল বাইতের প্রধান সদস্য হলেন ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব । তিনি রাসূলের (সা.) কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞান লাভ করায় অতি উচুস্তরের অন্তদৃষ্টি ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন । তাঁর জ্ঞানের সনদ রাসূল (সা.) নিজেই দিয়ে বলেছেন , আমি জ্ঞানের মহানগরী এবং আলী তার দরজা ।

খোৎবা - ৮৭

أَمَّا بَعْدُ، فَإنَّ اللَّهَ لَمْ يَقْصِمْ (یفصم) جَبَّارِى دَهْرٍ قَطُّ إلّا بَعْدَ تَمْهِيلٍ وَ رَخَأٍ؛ وَ لَمْ يَجْبُرْ عَظْمَ أَحَدٍ مِنَ الْأُمَمِ إلا بَعْدَ أَزْلٍ وَ بَلأٍ؛ وَ فِى دُونِ مَا اسْتَقْبَلْتُمْ مِنْ عَتْبٍ وَ مَا اسْتَدْبَرْتُمْ مِنْ خَطْبٍ مُعْتَبَرٌ وَ ما كُلُّ ذِى قَلْبٍ بِلَبِيبٍ، وَ لا كُلُّ ذِى سَمْعٍ بِسَمِيعٍ، وَ لا كُلُّ ذِى نَاظِرٍ بِبَصِيرٍ. فَيَا عَجَبا! وَ ما لِىَ لا أَعْجَبُ مِنْ خَطَإِ هَذِهِ الْفِرَقِ عَلَى اخْتِلاَفِ حُجَجِهَا فِى دِينِها؟! لا يَقْتَصُّونَ أَثَرَ نَبِىِّ، وَ لا يَقْتَدُونَ بِعَمَلِ وَصِىِّ، وَ لا يُؤْمِنُونَ بِغَيْبٍ، وَ لا يَعِفُّونَ عَنْ عَيْبٍ، يَعْمَلُونَ فِى الشُّبُهَاتِ، وَ يَسِيرُونَ فِى الشَّهَوَاتِ. الْمَعْرُوفُ فِيهِمْ ما عَرَفُوا، وَ الْمُنْكَرُ عِنْدَهُمْ مَا أَنْكَرُوا، مَفْزَعُهُمْ فِى الْمُعْضِلاَتِ إلَى أَنْفُسِهِمْ، وَ تَعْوِيلُهُمْ فِى الْمُبَهَّماتِ (المبهمات) عَلَى آرَائِهِمْ، كَأَنَّ كُلَّ امْرِئٍ مِنْهُمْ إمامُ نَفْسِهِ، قَدْ أَخَذَ مِنْها فِيما يَرَى بِعُرًى ثِقاتٍ (وثیقات - موثقات)، وَ أَسْبابٍ مُحْكَمَاتٍ.

উম্মাহর বিভেদ ও দলাদলি সম্পর্কে

নিশ্চয়ই ,আল্লাহ এ পৃথিবীতে কোন স্বেচ্ছাচারীর ঘাড় মটকাননি যে পর্যন্ত না তাকে শোধরানোর সময় ও সুযোগ দিয়েছেন এবং কোন উন্মাহর ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাননি যে পর্যন্ত না তিনি তাদের ওপর দুর্যোগ ও দুঃখ - দূর্দশা আরোপ করেছেন। যে ভোগান্তি ও দুর্ভাগ্য তোমাদের জীবনে ঘটেছে তা তোমাদের শিক্ষার জন্য যথেষ্ট । কিন্তু প্রত্যেক মানুষ হৃদয় থাকা সত্ত্বেও বুদ্ধিমান নয় ,প্রত্যেক কানের শ্রুতিশক্তি নেই এবং প্রত্যেক চোখ দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন নয়।

হায়! আফসোস ,এসব দলের ভুল ভ্রান্তি দেখে আমার আশ্চর্য না হবার কোন কারণ নেই ,কারণ তারা তাদের দ্বীনে পরিবর্তন এনেছে ,তারা তাদের নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে না এবং নবীর প্রতিনিধির আমল অনুসরণ করে না। তারা গায়েবের প্রতি ইমান আনে না এবং আয়েব (দোষ - ত্রুটি) থেকে নিজেদেরকে সারিয়ে রাখে না। তারা সংশয়ের মধ্যে কাজ করে এবং কামনা - বাসনার পথে পরিচালিত হয়। শুভ হলো সেটা যেটাকে তারা ভাল মনে করে এবং মন্দ হলো সেটা যেটাকে তারা মন্দ মনে করে । তারা মনে করে দুর্দশার সমাধান তাদের নিজেদের হাতে। তারা বিশ্বাস করে যে ,সন্দেহজ্জনক বিষয়সমূহ তাদের মতানুযায়ী নিষ্পত্তি হবে। মনে হয় তাদের প্রত্যেকেই যেন ইমাম। যে কোন বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয় তারা মনে করে বিশ্বস্ত বরাত - সূত্র ও মজবুত উৎস থেকে তারা তা পেয়েছে।

খোৎবা - ৮৮

أَرْسَلَهُ عَلَى حِينِ فَتْرَةٍ مِنَ الرُّسُلِ، وَ طُولِ هَجْعَةٍ مِنَ الْأُمَمِ وَ اعْتِزَامٍ مِنَ الْفِتَنِ، وَ انْتِشَارٍ مِنَ الْأُمُورِ، وَ تَلَظِّ مِنَ الْحُرُوبِ، وَ الدُّنْيَا كَاسِفَةُ النُّورِ، ظَاهِرَةُ الْغُرُورِ؛ عَلَى حِينِ اصْفِرَارٍ مِنْ وَرَقِهَا، وَ إيَاسٍ مِنْ ثَمَرِهَا، وَ اغْوِرَارٍ مِنْ مَائِها، قَدْ دَرَسَتْ مَنَارُ الْهُدَى، وَ ظَهَرَتْ أَعْلاَمُ الرَّدَى، فَهِىَ مُتَجَهِّمَةٌ لِأَهْلِها، عَابِسَةٌ فِى وَجْهِ طَالِبِها. ثَمَرُها الْفِتْنَةُ، وَ طَعَامُها الْجِيفَةُ وَ شِعَارُها الْخَوْفُ وَ دِثَارُهَا السَّيْفُ.

فَاعْتَبِرُوا عِبَادَ اللَّهِ، وَ اذْكُرُوا تِيكَ الَّتِي آبَاؤُكُمْ وَ إِخْوَانُكُمْ بِهَا مُرْتَهَنُونَ، وَ عَلَيْها مُحَاسَبُونَ وَ لَعَمْرِى مَا تَقَادَمَتْ بِكُمْ وَ لاَ بِهِمُ الْعُهُودُ، وَ لاَ خَلَتْ فِيمَا بَيْنَكُمْ وَ بَيْنَهُمُ الْأَحْقَابُ وَ الْقُرُونُ (الدّهور)، وَ ما أَنْتُمُ الْيَوْمَ مِنْ يَوْمَ كُنْتُمْ فِي أَصْلاَبِهِمْ بِبَعِيدٍ. وَ اللَّهِ مَا أَسْمَعَكُمُ (أسماعکم) الرَّسُولُ شَيْئاً إلا وَ ها أَنَا ذَا مُسْمِعُكُمُوهُ، وَ مَا أَسْمَاعُكُمُ الْيَوْمَ بِدُونِ أَسْمَاعِكُمْ بِالْأَمْسِ، وَ لاَ شُقَّتْ لَهُمُ الْأَبْصَارُ، وَ لاَ جُعِلَتْ لَهُمُ الْأَفْئِدَةُ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، إِلا وَ قَدْ أُعْطِيتُمْ مِثْلَهَا فِي هَذَا الزَّمَانِ (الأوان).

وَ وَ اللَّهِ مَا بُصِّرْتُمْ بَعْدَهُمْ شَيْئا جَهِلُوهُ، وَ لاَ أُصْفِيْتُمْ بِهِ وَ حُرِمُوهُ، وَ لَقَدْ نَزَلَتْ بِكُمُ الْبَلِيَّةُ جَائِلاً خِطَامُهَا، رِخْوا بِطَانُهَا، فَلاَ يَغُرَّنَّكُمْ مَا أَصْبَحَ فِيهِ أَهْلُ الْغُرُورِ، فَإِنَّمَا هُوَ ظِلُّ مَمْدُودٌ، إِلَى أَجَلٍ مَعْدُودٍ.

রাসূল (সা.) সম্পর্কে

অন্যান্য নবীদের মিশন শেষ হবার পর আল্লাহ রাসূলকে (সা.) প্রেরণ করেছেন যখন মানুষ দীর্ঘদিন যাবত তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল ;পাপাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল ;সকল বিষয় সংহতিহীন ও যুদ্ধোনলের শিখাধীন ছিল ;পৃথিবী তার ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলেছিল ;চতুর্দিকে খোলাখুলি প্রতারণা ও প্রবঞ্চনা বিরাজ করছিলো ;গাছের পাতা হলুদ হয়ে গিয়েছিল ;ফল পাবার কোন আশা ছিল না ;পানি মাটির নিচে চলে গিয়েছিল ;হেদায়েতের মিনার অদৃশ্য হয়ে পড়েছিল এবং ধ্বংসের চিহ্নসমূহ দৃষ্টিগোচর হচ্ছিলো। সে সময় পৃথিবী তার অধিবাসীর জন্য কঠোর হয়ে পড়েছিল এবং অনুসন্ধানকারীর প্রতি ভ্রকুটি করতো। এর ফল ছিল পাপ ও খাদ্য ছিল মৃতদেহ। এর অন্তর্বাস ছিল ভয় এবং বহিরাভরণ ছিল তরবারি।

সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ ,তোমাদের পিতা ও ভ্রাতা যে সকল পাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছিল এবং যে জন্য তাদেরকে জবাবদিহিতায় পড়তে হয়েছে তা স্মরণ কর এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর। আমার জীবনের কসম ,তোমাদের বর্তমান সময় থেকে তাদের সময় খুব বেশি দিন আগের নয় - এখনো শতাব্দী পার হয়ে যায়নি - এটাও বেশি দিন আগের কথা নয় যে ,তোমরা তাদের ঔরসে ছিলে।

আল্লাহর কসম ,রাসূল (সা.) তাদেরকে যা বলেছিলেন ,আমিও আজ তোমাদেরকে তা - ই বলছি ;তোমরা আজ যা কিছু শুনছো ,তারা গতকাল তাই শুনেছিল। তাদের জন্য যে চোখ খোলা হয়েছিল ,যে হৃদয় তাদের জন্য সেদিন তৈরি করা হয়েছিল ,ঠিক তাই আজ তোমাদের জন্য দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম ,এমন কিছু আজ তোমাদেরকে বলা হচ্ছে না ,যা তারা জানত না এবং এমন কিছু তোমাদের দেয়া হচ্ছে না ,যা থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। নিশ্চয়ই ,তোমরা এমন একটা চরম বিপর্যয়ে কষ্ট পাবে (যা উল্লীর মতো) যার নাকের দড়ি নড়বড়ে ও গলার দড়ি ছিড়ে গেছে। সুতরাং এ প্রতারকরা যেন কোন অবস্থাতেই তোমাদের ধোকায় ফেলতে না পারে ,কারণ এটা একটা ক্ষণস্থায়ী দীর্ঘছায়া।