কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ

কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ0%

কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ লেখক:
প্রকাশক: -
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ

লেখক: মোহাম্মাদ নাজির হোসাইন
প্রকাশক: -
বিভাগ:

ভিজিট: 2126
ডাউনলোড: 437

কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 11 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 2126 / ডাউনলোড: 437
সাইজ সাইজ সাইজ
কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ

কোরআন ও হাদীসের আলোকে আহলে বাইত (আঃ)-ই নাজাতের তরী বা ত্রাণকর্তাƒ

লেখক:
প্রকাশক: -
বাংলা

উন্মুক্ত চিন্তা-ƒচতনা, নির্মোহ মন-মানসিকতা, জ্ঞানগর্ভ যুক্তি, মাযহাবগত আকীদার অন্ধবিশ্বাস ও পক্ষপাতহীন দৃষ্টিভঙ্গি মুক্ত মানসিকতা নিয়ে, বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্য„ম গ্রন্থটি অধ্যয়নের অনুরোধ করা গেল। আশা রাখছি যা “সিরা„তে মুস্তাকি„মের” পথ অনুসন্ধা„নে সহায়তা কর„বে। আমার এ গ্রন্থ সত্যাকাঙ্ক্ষী ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির হা„ত সমর্পিত „হোক আল্লাহ রাব্বুল আলামী„নের নিকট এ প্রার্থনাই করছি।

পাক-পাঞ্জাতনের উসিলায় হযরত আদম (আঃ)-এর দোয়া কবুল হয়েছিল!

আল্লাহ্ হযরত আদম (আঃ)-কে সৃষ্টির পর তাকে কিছু নাম শিক্ষা দিলেন ’ । [সূরা-বাকারা , আয়াত-৩৭]

পরে সে নামের উসিলায় হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন এবং আল্লাহ্ সেই নামের উসিলায় হযরত আদম (আঃ)-এর দোয়া কবুল করেন। আল্লাহ যে মহান ব্যক্তিগণের উসিলায় হযরত আদমর দোয়া কবুল করেছিলেন তাঁরা হলেন। (পাক-পাঞ্জাতন) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইমাম আলী , হযরত ফাতেমা যাহরা , ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (আঃ)সূত্রঃ-হৃদয় তীর্থ মদীনার পথ , পৃঃ-১৫৬ , শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী (মদীনা পাবঃ) ; তাফসীরে দুররে মানসুর , খঃ-১ , পৃঃ-১৬১ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৯৭ ; কেফায়াতুল মোওয়াহেদীন , খঃ-২ , পৃঃ-৩২ ; মানাকিব ইবনে মাগাজেলি , পৃঃ-৫৯ ; সাইয়্যেদাআল নিসা আহলুল জান্নাহ (আব্দুল আজিজ আল সানাওয়ে) , পৃঃ-১৫৯ ; সাওয়াহেদুত তানজিল , ( হাসকানী) , খঃ-১ , পৃঃ-১০১ ; কাওকাবে দুরির ফি ফাযায়েলে আলী , পৃঃ-২৮৩ , সৈয়দ মোঃ সালেহ কাশাফী , সুন্নি হানাফী , আরেফ বিল্লাহ) ; ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী , আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৪৬।

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর , তার নৈকট্য লাভের উসিলা তালাশ করো । ” (সূরা-মায়দা , আয়াত-৩৫) । উসিলার জন্য দেখুন:-কোরআনুল করীম , পৃঃ-৩২৭ , ( অনুবাদ-মাওলানা মহিউদ্দিন খান) ; সহিহুল বুখারী , খঃ-১ , হাঃ-১০০৮ , ১০০৯ , ১০১০ , ( আহলে হাদীস লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত) ; সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-১ , হাঃ-৯৪৯-৯৫০ ; ( আধুনিক) ; সহীহ্ আল বুখারী , খঃ-২ , হাঃ-৯৫৪-৯৫৫ ; ( , ফাঃ)।

মানব জাতির আমলের সাক্ষ্য

মানব জাতির আমলের সাক্ষ্য আল্লাহ , তাঁর রাসূল (সাঃ) এবং আহলে বাইত (আঃ)-এর ইমামগণও আমল দেখছেন এবং সাক্ষ্য দিবেন ।

আল্লাহ্ হলেন স্রষ্টা আর আমরা আদম সন্তান বা মানবজাতি হলাম সৃষ্টি। এই স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ্ আর এক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় এই আহলে বাইত (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন। পরে তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে ধরার বুকে মানবজাতির ভাল-মন্দ আমলের সাক্ষ্যদাতারূপে তাদেরকে মনোনীত করেছেন। মানবজাতির যাত্রা যে দিন থেকে , আহলে বাইত (আঃ)-এর সাক্ষ্য ও সেদিন থেকে চলে আসছে এবং শেষ দিন পর্যন্ত চলতে থাকবে।

আল কোরআনের ঘোষণাঃ- আর এভাবে আমি আপনাদিগকে মনোনীত করেছি মানবজাতির সাক্ষ্যদাতারূপে আর রাসূল (সাঃ) হলেন আপনাদের উপর সাক্ষ্যদাতা ” । [সূরা-বাকারা , আয়াত-১৪৩] ; আর বলুন , তোমরা আমল কর , আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ তোমাদের আমল দেখবেন ” । [সূরা-তওবা , আয়াত-১০৫]

শাওয়াহেদুত তানজিলে , হাকিম আবুল কাসম। সালিম ইবনে কায়েস থেকে বর্ণিত ইমাম আলী (আঃ) বলেছেন যে , ধরার বুকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর আমরা হলাম সাক্ষ্যদাতা আর রাসূল (সাঃ) হলেন আমাদের উপর সাক্ষ্য ” ।

তাফসীরে আইয়াসীত , ইমাম মুহাম্মদ বাকের ও ইমাম জাফর আস সাদিক (আঃ) বলেছেন যে , দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমরা মানবজাতির উপর সাক্ষ্যদাতা ও তাঁর (আল্লাহর ) প্রমাণস্ব রূপ আছি ” ।সূত্রঃ - কেফায়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ - , পৃঃ - ৬৬১ ; শাওয়াহে দুত তানযিল , খঃ - , পৃঃ - ৯২ ; তাফসীরে কুম্মী , খঃ - , পৃঃ - ৬২ ; বায়ানুস সায়াদা , খঃ - , পৃঃ - ২৭৭ ; মাজমাউল বায়ান , খঃ - , পৃঃ - ২২৪ ; রাওয়া ন যা ভেদ , খঃ - , পৃঃ - ২৮৩

নবী করিম (সাঃ)-এর সময় নবী করিম (সাঃ)-ই ছিলেন কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যাকারী ও ওয়ারিশ। উনার পর যারা এই কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা করবেন তাদেরকে পবিত্র কোরআনে রাসেখুনা ফিল ইল্ম ’ নামে ডাকা হয়েছে। নবীর পর উম্মতে মুহাম্মদীর পরিচালক হবেন , নবীজির মহান আহলে বাইতের সদস্যগণ।

আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে সমগ্র আয়াতগুলোকে দুভাগে ভাগ করেছেন , এক ভাগে রয়েছে মুহকামাত ’ ও অন্যভাগে রয়েছে মুতাশাবিহাত ’ । মুহকামাত হচ্ছে ঐ সকল আয়াত যেগুলোর অর্থ অনেকেই বুঝতে পারে । আর কতিপয় আয়াত হচ্ছে মুতাশাবিহাত যেগুলোর মর্ম আল্লাহ্ এবং রাসেখুনা ফিল ইল্মগণ ছাড়া অন্য কেউই অনুধাবন করতে পারবে না। (সূরা-আলে ইমরানের , ৭নং আয়াত দেখুন)

রাসেখুনা ফিল ইলম ’ দ্বারা নবী করিম (সাঃ) ও তার আহলে বাইত-এর সদস্যদের বুঝানো হয়েছে। আয়াসী বর্ণনা করেছেন যে , হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) বলেছেন , আমরাই হলাম রাসেখুনা ফিল ইল্ম ” (জ্ঞানের ধারক-বাহক) ।সূত্রঃ - ইয়ানাবীউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ - ৪২১ ; মাযমাউল বায়ান , খঃ - , পৃঃ - ৪১০ ; রাওয়া ন জাভেদ , খঃ - , পৃঃ - ৩৭৯ ; সামারাতুল হায়াত , খঃ - , পৃঃ - ২২৭ ; বায়ানুস সায়াদাহ , খঃ - , পৃঃ - ২৪৮ ; তাফসীরে কুম্মি , খঃ - , পৃঃ - ৯৬ ; মানাকেবে ইবনে শাহরে আশুব , খঃ - , পৃঃ - ২৮৫

পবিত্র কোরআনে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে যিকির ” নাম ডাকা হয়েছে এবং তার আ ’ ল ;-কে আহলে যিকির ” বলা হয়েছে। সেই দিক উদ্দশ্য করে কোরআনের ঘোষণা :

সুতরাং হে লোকরা তোমরা যা জানো না আহলে যিকিরকে জিজ্ঞেস কর। ” সূরা-নাহাল , আয়াত-৪৩ ; সূরা-আম্বিয়া , আয়াত-৭।

মুফাস্সেরগণের মত জ্ঞানীদের দ্বারা হযরত নবী করিম (সাঃ) -এর আহলে বাইতকে বুঝানো হয়েছে। আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে , আহলুয্ যিকির ” (জ্ঞানী ব্যক্তিরা হলেন , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) , ইমাম আলী , হযরত ফাতেমা , ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (আঃ) (কোরআনের ব্যাখ্যা সহ) জ্ঞান বুদ্ধি আর ব্যাখ্যার ভাণ্ডার , তারাই হলেন নবুয়্যতের পরিবার , রিসালাতের খনি (উম্মতের পথ প্রদর্শক) এবং ফেরেশতাদের অবতরণর স্থান। যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন যে , যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন ইমাম আলী (আঃ) বললেন: আমরাই হলাম আহলে যিকির ” (জ্ঞানের ভাণ্ডার) । ওয়াকী বিন যারাহ এবং সুফিয়ান সওরী এই বর্ণনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন।সূত্রঃ- তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১১ , পৃঃ-২৭২ ; শাওয়াহেদুত তানযীল , খঃ-১ , পৃঃ-৩৩৪ ; তাফসীরে ইবনে কাসীর , খঃ-২ , পৃঃ-৫৭০ ; রূহুল মায়ানি আলুসী বাগদাদী , খঃ-১৪ , পৃঃ-১৩৪ ; তাফসীরে কুম্মি , খঃ-৩ , প-৬৮ ; এহকাকুল হক , খঃ-৩ , পৃঃ-৪৮২ ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-২ , পৃঃ-৬৫০ ; রাওয়ান জাভেদ , খঃ-৩ , পৃঃ-২২৮ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-৬ , পৃঃ-১৫৬ ; মাজমাউল যাওয়ায়েদ , খঃ-৯ , পৃঃ-১১৬ ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-১৪ , পৃঃ-১০৮ ; ইয়ানাবীউল মাওয়াদ্দাহ , পৃঃ-৪৬ ; আর রিয়াজুন নাজরা , খঃ-২ , পৃঃ-২০৯ ; তাফসীরে ইবনে কাসীর , খঃ-১৩ , পৃঃ-১৭৭ , ( হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস)।

মহানবী (সাঃ)-কে পাঠানো হয়েছে আমাদের আত্মাকে পাক-পবিত্র করার জন্য। পবিত্রতা ব্যতিত কোরআনকে কেউই বুঝত পারবে না। সুতরাং মহানবী (সাঃ)-এর পর যারা তাঁর স্থলাভিসিক্ত হবেন তাদেরকেও অবশ্যই পবিত্র ব্যক্তিত্ব হতে হবে। ’ সেদিকে লক্ষ্য রেখে কোরআনের ঘোষণা :

আহলে বাইত-এর সদস্যগণ আল্লাহ চান আপনাদের কাছ থেকে সকল প্রকার অপবিত্রতা দূরে রাখতে এবং পূর্ণরূপে পূতপবিত্র রাখতে যতটুকু রাখার তাঁর (আল্লাহর ) ক্ষমতা আছে ” । [সূরা-আহযাব , আয়াত-৩৩]

নবীর পত্নী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন , পবিত্রতার আয়াত আমার ঘরে নাযিল হয়। মহানবী (সাঃ) হাসান , হোসেইন , আলী ও ফাতেমা (আঃ)-এর উপর একটি চাঁদর টেনে প্রার্থনা করলেন , ইয়া আল্লাহ এরাই আমার আহলে বাইত , এরাই আমার একান্ত আপনজন পরমাত্মীয়। এদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা হতে দূরে রাখুন। তখন নবীর পত্নী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বললেন , ইয়া আল্লাহর রাসূল! আমিও কি এই চাদরের ভেতরে আসতে পারি ? মহানবী (সাঃ) বললেন , না , তবে তুমি মঙ্গলের উপর আছো ” । মহানবী (সাঃ)-এর এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হল যে , নবীর স্ত্রীগণ আহলে বাইত-এর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না ” ।

পাঠকদের জন্য সূরা , আহযাবের-৩৩ নং আয়াতের সূত্র উল্লেখ করছি , যেখানে , এই আয়াত আহলে বাইত-এর শানে অবতীর্ণ হয়েছে। (আলী , ফাতেমা , হাসান , হোসাইন (আঃ)-এর শানে) ।সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৭ , হাঃ-৬০৪৩ (ই , ফাঃ) ; সহীহ তিরমিযী , খঃ-৬ , হাঃ-৩৮৭১ , ৩৭৮৭ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নূরুল কোরআন , খঃ-২২ , পৃঃ-১৫ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) ; তাফসীরে মারেফুল কোরআন , খঃ-৭ , পৃঃ-১৩২ , ( ইফাঃ , মুফতি মোঃ সফি) ; তাফসীরে মাদানী , খঃ-৮ , পৃঃ-১৩-১৫ (আহলে হাদীস লাইব্রেরী) ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-১০ , পৃঃ-৩৩ , ৩৪ , ( , ফাঃ) ; সহীহ তিরমিজী , খঃ-৫ , হাঃ-৩১৪৩-৩১৪৪ ; খঃ-৬ , হাঃ-৩৭২৫ , ৩৮০৮ (ই , সেন্টার) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৭৬ (এমদাদীয়া) ; শেখ আব্দুর রহিম গ্রন্থাবলী , খঃ-১ , পৃঃ-৩০৮ (বাংলা একাডমী) ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৬ (শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী) ; তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ-৫ , পৃঃ-১৯০ , ( মিশর) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-৩ , পৃঃ- ৪৮৪ , ( মিশর) ; তাফসীরে কাসসাফ , খঃ-১ , পৃঃ-১৯৭ , ( মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৪ , পৃঃ-১৮২ (মিশর) ; তাফসীরে এতকোন , খঃ-৪ , পৃঃ-২৪০ (মিশর) ; তাফসীরে কাবীর. খঃ-২ , পৃঃ-৭০০ (মিশর) ; তাফসীরে সালবি , খঃ-৩ , পৃঃ-২২৮ (মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-২২ , পৃঃ-৮ (মিশর) ; ফাতহুল কাদীর সাওকানী , খঃ-৪ , পৃঃ-২৭৯ ; উসুদুল ঘাবা , ইবনে আসির (মিশর) খঃ-২ , পৃঃ-১২ , খঃ-৫ , পৃঃ-৫২১ ; সহীহ্ তিরমিজী , খঃ-৫ , পৃঃ-৩ (মিশর) ; ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৭৪ (উর্দ্দু) , পৃঃ-১০৭ , ( ইস্তামবুল) ; মানাকেবে খাওয়ারেজমি , পৃঃ-২৩ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-১১৭ ; সুনানে বায়হাকী , খঃ-২ , পৃঃ-১৪৯ ; ইমাম নাসাঈ , পৃঃ-১৪৯ ; মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-১০৭ ; আল ইসাবা , খঃ-২ , পৃঃ-৫০২ ; তাবরানি , খঃ-১ , পৃঃ-৬৫ ; আস সিরাতুল হালবিয়া , খঃ- ১৩ , পৃঃ-২১২ ; তারিখে ইবনে আসাকির , খঃ-১ , পৃঃ-১৬৫ ; আহকামুল কোরআন , খঃ-২ , পৃঃ-১৬৬ (ইবনুল আরাবি) ; কানযুল উম্মাল (মুত্তাকী হিন্দি) , খঃ-৫ , পৃঃ-৯৬ ; তারিখে তাবারি , খঃ-৫ , পৃঃ-৩১।

উম্মুল মোমিনীন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে , এটা আমার মসজিদ এতে যে কোন হায়য অবস্থার মহিলা (স্ত্রীগণ) ও যে কোন ব্যক্তি (সাহাবারা) যার উপর গোসল ফরজ তাদের জন্য পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু আমার জন্য ও আমার পবিত্র আহলে বাইত (আলী , ফাতেমা , হাসান , হোসাইন)-দের উপর যে কোন অবস্থায় তাঁরা আমার মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন , সর্তক হয়ে যাও! আমি তোমাদেরকে তাঁদের নাম বলে দিয়েছি , যাতে করে তোমরা গুমরাহ্ না হয় যাও। (কারণ তাঁরা সব সময় পাক-পবিত্র)সূত্র:-বায়হাকী-আস সুনানুল কুবরা , খঃ-৭ , পৃঃ-৬৫ , হাঃ- ১৩১৭৮ ; হিন্দি , কানযুল উম্মাল , খঃ-১২ , পৃঃ-১০১ , হাঃ-৩৪১৮৩ ; ইবনে আসাকির , তারিখে দামেশ্ক আল কাবির , খঃ-১৪ , পৃঃ-১৬৬ ; ইবনে কাসীর , ফসুলুম মিনাস সিরাহ্ , খঃ-১ , পৃঃ-২৭৩ ; আল্লামা সয়ুতী-খাসায়িসুল কুবরা , খঃ-২ , পৃঃ-৪২৪ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৫৬২ (উর্দ্দু) ; মারাজাল বাহরাইন ফি মানাকেবে আল হাসনাইন , পৃঃ-৪৮ (ডাঃ তাহেরুল কাদ্বরী) ।

কামালিয়াত অর্জনের পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের চরিত্র ও আদব কায়দা হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ , মডেল। তাঁদের মহানুভব অবস্থান ও আধ্যাত্মিক উচ্চপদমর্যাদার প্রতি কোরআন বিশেষ গুরুত্ব নির্দেশ করেছে যাতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ তাঁদের উজ্জল উদাহরণসমূহ অনুসরণ করে এবং মহানবী (সাঃ)-এর পর শরীয়তের আইন ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত তথ্যাদি ও পথ নির্দেশের জন্য কোরআন ও আহলে বাইতকে ” মেনে চলে । তাঁরা হচ্ছেন সেই ব্যক্তিত্ব বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য যারা ইসলামের বাস্তব নমুনা এবং মতামত ও চিন্তার মতদ্বৈধতা নিরসনের বিষয় ঐক্যমত্যের প্রতীক।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-ই আল্লাহ পাকের মজবুত রজ্জু বা রশি

আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়িয়ে ধর পরস্পর বিচ্ছিন্ন (ফেরকাবন্দী) হইও না। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-১০৩)

হযরত ইমাম বাকের (আঃ) বলেছেন যে , হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-ই আল্লাহ্ পাকের মজবুত রজ্জু যাঁকে আল্লাহ তায়ালা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার আদেশ দিয়েছেন ” (অনুসরণ করার জন্য) ।সূত্রঃ- ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৩৯ ; রুহুল মায়ানী আলুসী বাগদাদী , খঃ-৪ , পৃঃ-১৬ ; নুরুল আবসার , পৃঃ-১০২ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-৯০ (মিশর) ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ-৩ , পৃঃ-১৭৮ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-২ , পৃঃ-৪৮২ ; রাহওয়ানে যাভেদ , খঃ-১ , পৃঃ-৪৬৭ ; তাফসীরে কুম্মী , খঃ-১ , পৃঃ-১০৬ ; শাওয়াহেদুত তানযিল , খঃ-১ , পৃঃ-১৩০ ; তাফসীরে ফুরাত , পৃঃ-১৪ ; গায়াতুল মারাম , পৃঃ-২৪২।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যেরূপ আল্লাহর নিকট প্রিয়তম ও সম্মানিত ছিলেন বা আছেন। ঠিক তদ্রুপ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) র আহলে বাইতগণও প্রিয়তম ও সম্মানীত।

তাই এরশাদ হচ্ছে : অবশ্যই আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের নিয়ে নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেছেন। হে ঈমানদারগণ তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করতে থাক। ” (সূরা-আহযাব , আয়াত-৫৬)

উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার উপর কিভাবে দরুদ পাঠ করতে হবে ? উত্তরে নবীজি বলেন :

আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ , ওয়া আলে মুহাম্মাদ ” অতঃপর তিনি বলেন : দেখ , তোমরা যেন আমার উপর লেজ কাটা দরুদ না পড়। সাহাবারা বললেন লেজকাটা কেমন ? নবীজি উত্তরে বলেন , আমার আহলে বাইত (আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-কে বাদ দিয়ে শুধু আমার উপর দরুদ পড়া যেমন “ আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ” বলে চুপ থাকা। আমার আলকে ’ অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে।সূত্রঃ- সালাওয়াত , ( মূল-আলী খামসেই ক্বাযভিনি , অনুবাদ-মুহাম্মাদ ইরফানুল হক) ; আল মুরাজয়াত , পৃঃ-৫৭-৫৮ ; মুসনাদে আহমদ , খঃ-৫ , পৃঃ-৩৫৩ ; যাখাইরুল উকবা , পৃঃ-১৯ ; ইয়া নাবিউল মাওয়াদ্দাত , পৃঃ-৭ ; কানযুল উম্মাল , খঃ-১ , পৃঃ-১২৪ ; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা , পৃঃ-৮৭ , ৭৭১ ; জাজবায়ে বেলায়েত , পৃঃ-১৫৪ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ-৮ , পৃঃ-৩৬৯ ; ফাজায়েলুল খামছা , খঃ-১ , পৃঃ-২০৯ ; তাফসীরে নূরুস সাকালাইন , খঃ-৪ , পৃঃ-৩০৫ ; তাফসীরে নমূনা , খঃ-১৭ , পৃঃ-৪২১।

এ প্রসঙ্গ ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন , ইয়া! আহলে বাইতে রাসূল! আপনাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে , যে ব্যক্তি নামাজ আপনাদের উপর দরুদ না পড়বে তার নামাজই কবুল হবে না। ”সূত্রঃ - ইবনে হাজার মাক্কীর - সাওয়ায়েকে মোহরেকা পৃঃ - ৮৮

হযরত ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন , মহানবী (সাঃ) বলেছেন , দু আ ও নামাযসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে , উপরের দিকে যায় না , যতক্ষণ না নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি দরুদ প্রেরণ করা না হয়।সূত্রঃ- মাদারেজুন নবুয়াত , খঃ-২ , পৃঃ-১০৬ , ( , ফা:) ; জামে আত তিরমিযি , খঃ -২ , হাঃ-৪৫৮ , ( , সঃ) ; সহীহ তিরমিযি , পৃঃ-১৭২ , হাঃ-৪৮৯ , ( সকল খণ্ড একত্রে , তাজ কোং)।

পাঠকদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন ? মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইত (আঃ)-দের উপর নামাজে দরুদ না পড়লে , নামাজ কবুল হবে না ” । তাই নামাজের মধ্যে একটি শর্ত হচ্ছে , তাঁদের (মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের) উপর দরুদ পড়তে হবে। যাঁদের উপর দরুদ না পড়লে নামাজই কবুল হয় না। তাদেরকে যদি আমরা না চিনি বা না জানি , তাহলে নামাজে দরুদ পড়লেও তা কোন উপকারে আসবে কি ? একটু চিন্তা করুন !!!...... ।

আল্লাহ্ ধরার বুকে কিছু সংখ্যক গৃহকে সম্মানিত করে তাঁর বান্দাকে তাঁর পবিত্রতার গুণ কীর্তন করার নির্দেশ দান করেছেন

এরশাদ হচ্ছে : সেই সকল গৃহ যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তার নাম স্মরণ করতে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন , সকাল ও সন্ধ্যায় তাহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। ” (সূরা-নূর , আয়াত-৩৬)

হযরত আনাস বিন মালিক এবং হযরত বুরাইদা বর্ণনা করেছেন যে , আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এই আয়াত পাক পাঠ করলে , হযরত আবু বকর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! এই গৃহগুলি কাথায়! হযরত নবী (সাঃ) বললেন , এটা আল্লাহর নবীগণের গৃহসমহূ । তারপর তিনি (আবু বকর) জিজ্ঞেস করলেনঃ হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর গৃহগুলি ও কি এতে অন্তর্ভুক্ত ? আল্লাহর রাসূল বলেনঃ অবশ্যই এর মধ্যে তাদের গৃহগুলিও অন্তর্ভুক্ত এবং ইহা ঐসব গৃহগুলির চেয়েও অতি উত্তম এবং সমুন্নত ” ।সূত্রঃ - তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ - , পৃঃ - ৫০ ; মাজমাউল বয়ান , খঃ - , পৃঃ - ১৪৪ ; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন , খঃ - , পৃঃ - ২৫৮ ; জাজবায় ে বেলায় েত , পৃঃ - ১৪২ ; মুরা জয়াত , পৃঃ - ৩০৮ ; শাওয়াহে দুত তানযিল , খঃ - , পৃঃ - ৪০৯ ; গায়াতুল মারাম , পৃঃ - ৩০৮

আরো এরশাদ হচ্ছে: হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথী হয়ে যাও ” । (সূরা-তওবা , আয়াত-১১৯)

আল্লাহ্ আমাদেরকে সত্যবাদীদের সাথে থাকতে বলছেন কারণ কি ? ঈমান আনা যথেষ্ট নয় , কারণ সত্যবাদীদের সাথে থাকলে ঈমান সতেজ ও মজবুত থাকবে । তাই এখন আমরা সত্যবাদীদের কোথায় পাবো ? আসুন যে পবিত্র কোরআনে সত্যবাদীদের সাথে থাকার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে , সেই কোরআনই আমরা খুঁজি সত্যবাদী কারা।

একদা নাজরানের খ্রিস্টানদের একটি দল পাদ্রীসহ রাসূল (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন। তারা হযরত ঈসা (আঃ) সম্পর্কে নবীজির সাথে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হন নবীজির কোন যুক্তিই তারা মানছিলেন না। তখন নবীজির প্রতি কোরআনের এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়:

আপনার নিকট যথাযথ জ্ঞান আসার পরও যে কেউ এই বিষয়ে তর্ক করবে , সন্দেহ করবে তাদের বলুন : আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমরা তোমাদের পুত্রদের , আমরা আমাদের নারীদের এবং তোমরা তোমাদের নারীদের এবং আমরা আমাদের নাফসদের (সত্তাদের) ডাকি তোমরা তোমাদের নাফসদের (সত্তাদের) কে ডাক। অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লা ’ নত (অভিসম্পাত) বর্ষিত হোক। ” (সূরা-আলে ইমরান , আয়াত-৬১)

মহানবী (সাঃ) ইমাম হাসান , ইমাম হোসেইন , হযরত ফাতেমা ও ইমাম আলী (আঃ) -কে ডাকলেন এবং ইমাম হোসেইনকে কোলে নিলেন , ইমাম হাসানের হাত ধরলেন এবং হযরত ফাতেমা , নবীজির পিছনে এবং ইমাম আলী , হযরত ফাতেমার পিছনে হাটছিলেন। মহানবী (সাঃ) তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন , হে আমার মিশনের সদস্যগণ আমি যখন অভিসম্পাতের জন্য প্রার্থনা করব , তখন তোমরা আমিন ’ বলবে ।

এখানে বিশেষভাব উল্লেখ্য যে , আল্লাহর পছন্দসই ধর্ম ইসলামের সত্যতা নিরূপণের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মহানবী (সাঃ) আর কাউকেও সঙ্গে নিলেন না , শুধু আহলে বাইত (হযরত আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-গণকেই নিলেন। যেমন আল্লাহর পছন্দসই ধর্ম সত্য ও পবিত্র , ঠিক তেমনি সাক্ষ্যও সত্য ও পবিত্র হতে হবে , তাই তিনি আহলে বাইত (হযরত আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-গণকেই সাথে নিলেন। কারণ তাঁহারাই ছিলেন প্রকৃত সত্যবাদী (সিদ্দিক আকবার) ।

মোবাহালার মাঠে নাজরানের পাদ্রী এই সত্যবাদী পাক-পাঞ্জাতনকে ” দেখে ভীত হয়ে খ্রিস্টানদের বলেন , আমি তাঁদের চেহারাতে এমন জ্যোতি দেখতে পাচ্ছি , যদি তাঁরা এই পাহাড়কে সরে যেতে বলে তাহলে তা সরে যাবে । সুতরাং তাঁদের সাথে মোবাহালা (অভিসম্পাতের) প্রার্থনা করো না। তাঁরা যে জিজিয়া কর ধার্য্য করেন তা মেনে নাও।সূত্রঃ-তাফসীরে মাযহারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩১২ (ইফা) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-৬ , পৃঃ-১৯-২২ (ইফাঃ) ; তাফসীরে ইবনে কাসীর , খঃ-২ , পৃঃ-৪৭৭ (ইফাঃ) ; তাফসীরে মাজদী , খঃ-২ , পৃঃ-৯৪ (ইফাঃ) ; তাফসীরে কানযুল ঈমান (আহম্মদ রেজাখা বেরেলভী) , পৃঃ-১২২ ; তাফসীরে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , খঃ-৩ , পৃঃ-২৭০ ; কোরানুল কারিম (মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-১৮১ ; কোরআন শরিফ (আশরাফ আলী থানভী) , পৃঃ-৯০ , ( মীনা বুক হাউস) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৬ , হাঃ-৬০০২ , ( ইফাঃ) ; সহীহ্ তিরমিজী , খঃ-৫ , হাঃ-২৯৩৭ (ই , সেন্টার) ; বোখারী (হামিদিয়া) , খঃ-৫ , পৃঃ-২৮২ ; মেশকাত(এমদাদীয়া) , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৭৫ ; কাতেবীনে ওহি , পৃঃ-১৬৫ (ইফাঃ) ; আশারা মোবাশশারা , পৃঃ-১৬২ (এমদাদীয়া) ; মাসিক মদীনা , ( সেপ্টেম্বর-২০০০) , পৃঃ-৬ ; মাসিক সুরেশ্বর (এপ্রিল-২০০০) , পৃঃ-৭ ; শেখ আব্দুর রহীম গ্রন্থাবলী , পৃঃ-৩০৮ , ( বাংলা একাডমী) ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ-২ , পৃঃ-৪৯৮ ; তাফসীরে দুরেরে মানসুর , খঃ-৬ , পৃঃ-৩৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-৩ , পৃঃ-২৯৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে কাশশাফ , খঃ-১ , পৃঃ-৩৬৮ , ( বৈরুত) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-৪ , পৃঃ-১০৪ , ( মিশর) ; তাফসীরে কাবীর (ফাখরে রাজী) , খঃ-২ , পৃঃ-৬৯৯ , ( মিশর) ।

অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে খ্রিষ্টানরা আহলে বাইত (পাক-পাঞ্জতন)-কে চিনে গেলেন কিন্তু আজ আমরা নিজেকে শ্রেষ্ঠ নবী (সাঃ)-এর উম্মত বলে দাবি করি কিন্তু আহলে বাইতকে ঠিক মত চিনি না , জানি না। আবার অনেককে এমনও পাওয়া যায় , যারা এখন পর্যন্ত আহলে বাইত-এর নামও শুনেন নাই। আর অনুসরণ করার তো প্রশ্নই আসে না। উক্ত আয়াতটি দ্বারা এটা প্রমাণিত হলো যে , মহানবীর (সাঃ) পর যারা তাঁর উত্তরসূরি হবেন তাঁরা পাক পবিত্র-মাসুম ও প্রকৃত সত্যবাদী হবেন।

আহলে বাইত - এর মুয়াদ্দাত ও অনুসরণ ফরজ

পবিত্র কোরআনে , মহানবী (সাঃ)-এর আহলে বাইত-এর মুয়াদ্দাত ও অনুসরণ ফরজ করা হয়েছে ।

মহানবী (সাঃ) যে রেসালাতের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন , আল্লাহ তার বান্দার কাছ থেকে তাঁর রেসালাতের পারিশ্রমিক বাবদ মহানবী (সাঃ) -এর আহলে বাইত-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ফরয করে দিয়েছেন। যদি আমরা আহলে বাইতকে প্রাণাধিক ভালো না বাসি , আনুগত্য না করি , তাহলে আল্লাহর হুকুম অকার্যকর থেকে যাবে বা মানা হবে না , তাই হুকুম হচ্ছে।

বলুন , আমি আমার রিসালাতের পারিশ্রমিক তোমাদের কাছে কিছুই চাই না , শুধু আমার কুরবা (আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন)-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) ব্যতিত। (সূরা-শুরা , আয়াত-২৩) ।

হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে , যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাঁরা আপনার নিকট আত্মীয় ? যাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছে। উত্তরে নবী (সাঃ) বললেন-আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্য) । ”সূত্রঃ- কোরআন শরীফ (শুরা , ২৩) (আশরাফ আলী থানভী) , পৃঃ-৬৯২ ; তাফসীরে মাজহারী , খঃ-১১ , পৃঃ-৬৩ (ই , ফাঃ) ; তাফসীরে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) , খঃ-২৫ , পৃঃ-৬৭ ; মাদারেজুন নাবুয়াত , খঃ-৩ , পৃঃ-১১৭ , শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেস দেহলভী তাফসীরে দূররে মানসুর , খঃ-৬ , পৃঃ-৭ (মিশর) ; তাফসীরে যামাখশারী , খঃ-২ , পৃঃ-৩৯৯ , ( মিশর) ; তাফসীরে তাবারী , খঃ-২৫ , পৃঃ-২৫ (মিশর) ; তাফসীরে কাশশাফ , খঃ-৩ , পৃঃ-৪০২ ; খঃ-৪ , পৃঃ-২২০ (মিশর) ; তাফসীরে কাবীর , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৬ (মিশর) ; তাফসীরে বায়যাভী , খঃ-৪ , পৃঃ-১২৩ (মিশর) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-৪ , পৃঃ-১১২ (মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ (মিশর) ; তাফসীরে নাসাফী , খঃ-৪ , পৃঃ-১০৫ (মিশর) ; তাফসীরে আবু সাউদ , খঃ-১ , পৃঃ-৬৬৫ ; তাফসীরে জামে উল বায়ান , ( তাবারী) , খঃ-২৫ , পৃঃ-৩৩ ; তাফসীরে আল আকাম , খঃ-২ , পৃঃ-১২১ ; তাফসীরে বাহরুল মুহিয়াত (ইবনে হাইয়্যান) , খঃ-৯ , পৃঃ- ৪৭৬ ; তাফসীরে বিহার আল মাদিদ (ইবনে আজি) , খঃ-৫ , পৃঃ-৪৩১ ; তাফসীরে আবু সাউদ , খঃ-৬ , পৃঃ-৮০ ; তাফসীরে কাবীর , খঃ-১৩ , পৃঃ-৪৩২ ; তাফসীরে বাইদাবী , খঃ-৫ , পৃঃ-১৫৩ ; তাফসীরে আল নাসাফী , খঃ-৩ , পৃঃ-২৮০ ; তাফসীরে আল নিশাবুরি , খঃ-৬ , পৃঃ-৪৬৭ ; ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-১৭৩ , ( উর্দ্দু) ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-১০২ , ৫৮৭ , ( উর্দ্দু) ।

আরো এরশাদ হচ্ছে: বলুন , যে পারিশ্রমিকেই আমি তোমাদের কাছ চেয়ে থাকি না কেন , তা তো তোমাদেরই জন্য। ” (সূরা-সাবা , আয়াত-৪৭)

হযরত আবু বকর (রাঃ) ও সে কথাটি বলেছেন যে , মহানবী (সাঃ)-এর সন্তুষ্টি তাঁর আহলে বাইতের ভালবাসার মধ্যে নিহিত। সূত্রঃ- সহীহ্ বোখারী , খঃ-৬ , হাঃ-৩৪৪৭ , ৩৪৭৯ , ( ই. ফাঃ) ; তাফসীরে ইবনে কাসির , খঃ-১৬ , পৃঃ-৫২৬ ; ( হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী , আহলে হাদীস)।

আল্লামা যামাখশারী ও আল্লামা ফাখরে রাজী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রখ্যাত দুজন তাফসীরকারক ” ও বিজ্ঞ আলেম , তারা তাদের সুবিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থদ্বয় আল কাশশাফ ও আল কাবীর ” তাফসিরদ্বয়ে এভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন যখন উক্ত আয়াত নাযিল হলো (সূরা-শুরা-আয়াত-২৩) তখন রাসূল (সাঃ) বলেন:-

(১) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে শহিদী মর্যাদা পায়। (২) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে নাজাত প্রাপ্ত হয় ইহজগৎ ত্যাগ করে । (৩) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে তওবাকারী হিসাবে ইহজগৎ ত্যাগ করে। (৪) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে পূর্ণ ঈমানের সঙ্গে ইহজগৎ ত্যাগ করে । (৫) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , তাকে মালোকুল মউত , মুনকীর ও নকীর ফেরেশতারা সুসংবাদ দেয়। (৬) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , তাকে এমন ভাবে বেহেশতে নিয়ে যাওয়া হবে যেমন বিবাহের দিন কন্যা তার শ্বশুরালয়ে যায়। (৭) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , তার কবরে জান্নাত মুখী দু টি দরজা খুলে দেয়া হবে। (৮) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , আল্লাহ তার কবরকে রহমতের ফেরেশতাদের জিয়ারতের স্থানের মর্যাদা দেন। (৯) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের ভালবাসা নিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে , সে নবীর সুন্নত ও খাঁটি-মুসলমানদের দলভুক্ত হয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করলো।

(*) সাবধান যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , কিয়ামতের দিনে তার কপালে লেখা থাকবে সে আল্লাহ পাকের রহমত হতে বঞ্চিত। (*) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে কাফের হয়ে মারা যায়। (*) যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে বেহেশতের সুগন্ধও পাবে না।

সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন , ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার আ ’ ল ” আহলে বাইত , কারা ? নবীজি বললেন , আলী , ফাতেমা , হাসান , ও হোসেইন , তিনি আরো বলেন , আল্লাহর কসম যার হস্তে আমার জীবন , যে ব্যক্তি আমার আহলে বাইতকে শত্রু মনে করবে , সে জাহান্নামী। ”সূত্রঃ- তাফসীরে কাবির , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৫ , ( মিশর) ; তাফসীরে আল কাশশাফ ওয়াল বায়ান , খঃ-৩ , পৃঃ-৬৭ , ( মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ , ( মিশর) ; এহইয়াউল মাইয়াত , পৃঃ-৬ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৪১৮ ; সাওয়ায়েক মোহরিরকা , পৃঃ-১০৪ ; ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৫৫ , ৫৯৯।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের চির শত্রু বনী উমাইয়াদের প্রাপাগাণ্ডায় , আহলে বাইতের ভক্তদের বা প্রেমিকদের রাফেযী ” নামে ডাকা হতো।

এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী বলেন , যদি কেবল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালবাসা রাখলেই মানুষ রাফেযী হয়ে যায় , তবে বিশ্ব জগতের সমস্ত জ্বীন ও মানব সাক্ষী থাকুক , আমিও রাফেযী।সূত্রঃ- কোরআনুল করিম-(মাওলানা মহিউদ্দিন খান) , পৃঃ-১২১৫ ; শেইখ সুলাইমান কান্দুযী-ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৫৭৭ ; ওবাইদুল্লাহ ওমরিতসারী-আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৮৮৬।

আহলে সুন্নাতের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা জালাল উদ্দিন সূয়ুতী বর্ণনা করেন যে , পবিত্র কোরআন ও নবী (সাঃ)-এর হাদীস হতে এটা প্রমাণিত হয় যে , আহলে বাইত আলী , ফাতেমা , হাসান ও হোসাইন (আঃ)-এর মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) দ্বীনের ফরায়েজে গণ্য ; সুতরাং ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এটার সমর্থনে এরূপ সনদ দিয়েছেন যে , ইয়া আহলে বাইত-এ রাসূল , আল্লাহ তাঁর নাজিল করা পবিত্র কোরআনে আপনাদের মুয়াদ্দাতকে ফরজ করেছেন , যারা নামাজে আপনাদের উপর দরুদ পড়বে না , তাদের নামাজই কবুল হবে না ” ।সূত্রঃ- ইবনে হাজার মাক্কীর , সাওয়ায়েকুল মুহরে কা , পৃঃ-১০৩।

হযরত আলী (আঃ) থেকে বর্ণিত , যিনি বীজ হতে চারা গজান ও আত্মা সৃষ্টি করেন , সেই আল্লাহর কসম , নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল আমাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে , প্রকৃত মুমিন ছাড়া আমাক কেউ ভালবাসবেনা এবং মুনাফিকগণ ছাড়া কেউ আমার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করবে না ’ ।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) র সাহাবাগণ , ইমাম আলীর প্রতি ভালবাসা অথবা ঘৃণা দ্বারা কোন লোকের ঈমান ও নিফাক পরখ করতেন। আবু যার গিফারী , আবু সাঈদ খুদরী , আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ , জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে , আমরা সাহাবাগণ আলী ইবনে আবি তালিবের প্রতি ঘৃণা দ্বারা মুনাফিকদের খুঁজে বের করতাম ’ ।সূত্র:-সহীহ্ মুসলীম , খঃ-১ , হাঃ-১৪৪ , ( , ফাঃ) ; জামে আত তিরমিযী , খঃ -৬ , হাঃ- ৩৬৫৪-৩৬৫৫ (ই , সেন্টার) ; মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৪১ (এমদাদীয়া) ; কাতবীনে ওহি , পৃঃ-২১২ , ( , ফাঃ) ; আশারা মোবাশশারা , পৃঃ-১৯৭ (এমদাদীয়া) ; হযরত আলী , পৃঃ-১৪ (এমদাদীয়া)।

কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে , যাঁদের উপর দরুদ শরিফ না পড়লে নামাজ কবুল হয় না , (আহযাব-৫৬) যাঁদের আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে , (শুরা-২৩) । সেই পাক পবিত্র আহলে বাইত-এর প্রথম সদস্য হযরত আলী (আঃ)-এর সাথে মহানবী (সাঃ)-এর ইহজগৎ ত্যাগ করার পর , কতইনা জালিমের মত ব্যবহার করা হয়েছে তা এখন পাঠকদের সামনে তুলে ধরবো:

৪১ হিজরিতে আমির মুয়াবিয়া যখন কোরআন পরিপন্থি আইন রাজতন্ত্র কায়েম করলো , তখন মুসলিম সাম্রাজ্যের ৭০ হাজারেরও অধিক মসজিদ জুম্মার খোৎবায় হযরত আলী ও রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)-এর উপর অভিসম্পাত প্রদানের হুকুম কার্যকর করে , তার আদেশটি ছিল এরূপ , আল্লাহর কসম। কখনও আলীকে অভিসম্পাত দেয়া বন্ধ হবে না যতদিন শিশুগণ যুবক এবং যুবকগণ বৃদ্ধে পরিণত না হয়। সারা দুনিয়ায় আলীর ফজিলত বর্ণনাকারী আর কেউ থাকবে না , মুয়াবিয়া নিজে এবং তার গভর্নররা মসজিদে , রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র রওজা মোবারকের পার্শ্বে মিম্বরে রাসূলে দাড়িয়ে , তাঁর প্রিয় আহলে বাইতদের অভিসম্পাত দেয়া হতো , হযরত আলীর সন্তানরা ও নিকট আত্মীয়রা তা শুনতে বাধ্য হতেন , আর নীরবে অশ্রুপাত করতেন। কারণ তারা নিরীহ (মাজলুম) ছিলেন। ” মুয়াবিয়া তার সমস্ত প্রদেশের গভর্নরদের উপর এ নির্দেশ জারি করে , যেন সকল মসজিদের খতীবগণ মিম্বরে রাসূল (সাঃ)-এর উপরে দাঁড়িয়ে , আলীর উপর অভিসম্পাত করাকে যেন তাদের দায়িত্ব মনে করেন।

পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে , তিনি সেই আলী , যিনি মহানবী (সাঃ) -এর স্থলাভিষিক্ত ও সর্বপ্রথম নবুয়্যতের সাক্ষ্য প্রদানকারী (শোয়ারা-২১৪) । আল্লাহ যাদেরকে পবিত্র কোরআনে পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন (আহযাব -৩৩) এবং যাদের আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা ব্যতিত ঈমান পরিপূর্ণ হয় না , (শুরা-২৩) নামাজে নবীজির সাথে যাঁদের উপর দরুদ শরিফ ও সালাম না পাঠালে নামাজ কবুল হয় না , (আহযাব-৫৬) । ”

সেই আহলে বাইত (আঃ)-কে অভিসম্পাত-এর প্রথা প্রচলন করে কি মুয়াবিয়া জঘন্য অপরাধ (মুনাফেকি) করে নি ? প্রায় ৮৩ বৎসরেরও অধিক সময় ধরে মুসলিম জাহানের প্রতিটি মসজিদে আহলে বাইত (আঃ) ও আহলে বাইত-এর প্রধান সদস্য হযরত আলী (আঃ)-কে অভিসম্পাত-এর প্রথা এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল যে , যখন ওমর বিন আব্দুল আজিজ-এর শাসনামল শুরু হলো , তখন তিনি এই জঘন্য পাপ ও বেঈমানী কর্মকাণ্ড রহিত করেন। ” তখন রাসূল (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ) বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠি (মুনাফিকগণ) চারদিকে নিম্নোক্ত বাক্য উচ্চারণ করে হৈ চৈ এর রব তুললো।

ওমর বিন আব্দুল আজিজ , সুন্নাত তরক করে দিলেন ’ , (রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত-এর প্রধান সদস্য আলী (আঃ)-কে অভিসম্পাত দেওয়া) !

অতঃপর ওমর বিন আব্দুল আজিজ , জুমার খোৎবা থেকে মুয়াবিয়ার প্রতিষ্ঠিত (রাসূল (সাঃ)-এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ)-এর প্রধান সদস্য আলী (আঃ)-কে) অভিসম্পাতের অংশটি পরিবর্তন করে , পবিত্র কোরআনের এ আয়াতটি পাঠের আদেশ দেন।

নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদেরককে সুবিচার এবং সৌজন্যের নির্দেশ দেন আর নির্দেশ দেন , নিকট আত্মীয়দের দান করার আর বারণ করেন অশ্লীল জঘন্য কাজ ও সীমালংঘন করতে। তিনি তোমাদেরকে সদুপদেশ দেন যাতে তোমরা উপদশ গ্রহণ কর ” । (সূরা-নাহল , আয়াত-৯০) ।

এখন পাঠকদের জন্য সেই সূত্র উল্লেখ করছি , যেখান হযরত আলী (আঃ)-কে অভিসম্পাত দেওয়া হতো।সূত্রঃ- খিলাফতের ইতিহাস , পৃঃ-১৩৯ , ( ইফাঃ) ; আরব জাতির ইতিহাস , পৃঃ-১২২ , ১৬৮ , ( বাংলা একাডমী) ; খেলাফত ও রাজতন্ত্র , পৃঃ-১৪২ , ১৪৯ ; মাসিক জিজ্ঞাসা , পৃঃ-১৩-১৭ (আগস্ট , সেপ্টেম্বরও , ৯৫) ; জামে আত তিরমিজী , খঃ-৬ , হা:-৩৬৬২ (ই , সেন্টার) ; কারবালা ও মুয়াবিয়া (সৈয়দ গালাম মোরশেদ) , পৃঃ-৪৬-৪৮ ; কারবালা , পৃঃ-২১৪ (মুহাম্মাদ বরকত উল্লাহ) ; ইসলামের ইতিহাস (কে আলী) , পৃঃ , ২৮১ ; ইসলামের ইতিহাস , পৃঃ-১৪৭ , ১৪৯ (সৈয়দ মাহমুদুল হাসান) ; শাহাদাতে আহলে বাইয়ত , পৃঃ-১৪৩-১৪৬ (খানকাহ আবুল উলাইয়াহ) ; সহীহ্ মুসলিম , খঃ-৭ , হা:-৬০৪১ , ৬০৪৯ (ই , সেন্টার) ; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া , খঃ-৭ , পৃঃ-৩৪১ , খঃ-৮ , পৃঃ-৫০ , ৫৫ ; তারিখে তাবারি , খঃ-৪ , পৃঃ-১২২ , ১৯০ , ২০৭ ; আল কামিল , খঃ- ৩ , পৃঃ-২০৩ , ২৪২ ; জামেউস সিরাত , পৃঃ-৩৬৬ (ইমাম ইবনে হাযম) ; তাতহিরুল জিনান ওয়াল লিসান (ইবনে হাজার মার্কিক) , পৃঃ-৪ , পৃঃ-৮ ; আত তাকারীর লিত-তিরমিজি , পৃঃ-১৯ (মাওলানা মাহমুদুল হাসান) ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ- ২ , পৃঃ-৫০ , ৩০৬।

হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন , রাসূল (সাঃ) বলেছেন , যে ব্যক্তি আলীক অভিসম্পাত দিল , সে যেন আমাকেই অভিসম্পাত দিলো ” (আর যে ব্যক্তি মহানবী (সাঃ)-কে অভিসম্পাত দিল , সে এবং তার সঙ্গীরা নিশ্চিত জাহান্নামী , যা আমরা পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে পড়েছি , তাই নয় কি ?)।সূত্রঃ- মেশকাত , খঃ-১১ , হাঃ-৫৮৪২ ; ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খঃ-২ , পৃঃ-৫০৪ ; মুয়াদ্দাতুল কুরবা , পৃঃ-৪৪ ; মুসনাদে হাম্বাল , খঃ-৬ , পৃঃ-৩২৩ ,; মুস্তাদরাকে হাকেম , খঃ-৩ , পৃঃ-১৩০ ; সুনানে নাসাঈ , খঃ-৫ , পৃঃ-১৩৩ ; মাজমা আজ জাওয়াইদ , খঃ- ৯ , পৃঃ-১৩০।

রাসূল (সাঃ) বলেছেন , সাবধান! যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , কিয়ামতের দিন তার কপালে লেখা থাকবে , সে আল্লাহপাকের রহমত হতে বঞ্চিত। যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে কাফের হয়ে মারা যায়। যে ব্যক্তি আলে মুহাম্মাদের শত্রুতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করে , সে বেহেশতের সুগন্ধও পাবে না। ”সূত্রঃ- তাফসীরে আল কাশশাফ ওয়াল বায়ান , খঃ-৩ , পৃঃ-৬৭ ,( মিশর) ; তাফসীরে কাবির , খঃ-২৭ , পৃঃ-১৬৫ , ( মিশর) ; তাফসীরে কুরতুবি , খঃ-১৬ , পৃঃ-২২ , ( মিশর) ; এহইয়াউল মাইয়াত , পৃঃ-৬ ; আরজাহুল মাতালেব , পৃঃ-৪১৮ ; সাওয়ায়েক মোহরিকা , পৃঃ-১০৪ ; ইয়া-নাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃঃ-৫৫ , ৫৯৯।

শুধু তাই নয়! ওমর বিন আব্দুল আজিজ , হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর কাছ থেকে অবৈধ ভাবে কেড়ে নেওয়া সেই বাগে ফিদাক বাগান ” ও ফেরত দেন আহলে বাইতের সদস্যদের কাছে। যেটা এতদিন বনী উমাইয়ার পান্ডারা ভোগ করছিল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজগুলো করেছিলেন ওমর বিন আব্দুল আজিজ।(দেখুন:- খাতুনে জান্নাত ফাতেমা যাহরা , পৃঃ-১০৯ , ১১০ , ১১২ , ১১৯ (রাহমানিয়া লাইঃ) হযরত ফাতেমা যাহরা , পৃঃ-১৭৭ , ১৮০ , ১৮৯ , ১৯০ (হামিদিয়া লাইঃ) হযরত ফাতেমা জাহরা ,পৃঃ- ,৫৯ , ৬১ , ৬২ , ৬৭ , ৬৮ (তাজ কোং) তারিখে খোলফা , পৃঃ-১১৯ ; হযরত আবু বকর (রাঃ) পৃঃ-৮৬-৯১ , (মুহাম্মদ হুসাইন হায়কাল) (আধুঃ) ; নাহাজ আল বালাগা (অনুবাদ , জেহাদুল ইসলাম) , পৃঃ , ৩৬৪-৩৭৫ , ২০০১ ,ইং ; মারেফাতে ইমামাত ও বেলায়েত পৃঃ-১২৭-১৩৮ ; মোহাম্মাদ নাজির হোসেইন।

তাই এখন ভাবুন , যারা আহলে বাইত (আঃ)-এর ফজিলত বর্ণনা করেন না , তারা মুয়াবিয়া ও এজিদ দ্বারা কোরআন পরিপন্থি রাজতন্ত্র , রাজা-বাদশাদের অনুসারী বা ভক্ত। যা বর্তমান অনেক দেশে অব্যাহত রয়েছে , যে যার অনুসারী সে তারই পদ্ধতিকে অনুসরণ করবে , এটাই বাস্তব। উম্মতে মুহাম্মাদী আর কতদিন বিভ্রান্তি ও অজ্ঞতার বেড়াজালে নিজেদেরকে আবদ্ধ করে রাখবেন ? তাই , কোরআন ও হাদীস-এর ভিত্তিতে একটু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখুন , বিবেককে জাগ্রত করুন , দেখবেন সত্য বেরিয়ে আসবে। মনে রাখবেন অন্ধ বিশ্বাসের নাম ধর্ম নয় , সত্যকে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে উপলব্ধি করার নামই হচ্ছে ধর্ম।