রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ

রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ0%

রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ লেখক:
প্রকাশক: -
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ

লেখক: নূর হোসেন মজিদী
প্রকাশক: -
বিভাগ:

ভিজিট: 5935
ডাউনলোড: 889

পাঠকের মতামত:

রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 15 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 5935 / ডাউনলোড: 889
সাইজ সাইজ সাইজ
রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ

রাসূলুল্লাহর (ছ্বাঃ) আহলে বাইত ও বিবিগণ

লেখক:
প্রকাশক: -
বাংলা

ইসলামে আহলে বাইত-এর মর্যাদা

কোরআন মজীদে ও বিভিন্ন হাদীছে হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর আহলে বাইত ( আঃ)-এর দ্বীনী মর্যাদা সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে কোরআন মজীদের যে সব আয়াতে এ সম্বন্ধে পরোক্ষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ইখলাছের সাথে ও নিরপেক্ষভাবে অর্থগ্রহণ ও ব্যাখ্যা করা হলে সে সব আয়াত থেকেও হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর আহলে বাইত-এর বিশেষ দ্বীনী মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। তেমনি বিভিন্ন মুতাওয়াতির্ হাদীছেও এ সম্বন্ধে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এখানে আমরা কেবল সেই সব দলীলেরই আশ্রয় নেবো যার তাৎপর্যের ব্যাপারে দ্বিমতের অবকাশ নেই।

আহলে বাইতের (আঃ) প্রতি ভালোবাসা ফরয

এ পর্যায়ে প্রথমেই আমরা যা উল্লেখ করতে চাই তা হচ্ছে , আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসাকে মু মিনাদের জন্য ফরয করেছেন ; এরশাদ হয়েছে :

) قُلْ لا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى(

“ (হে রাসূল!) বলুন , আমি এ জন্য (আল্লাহর হেদায়াত পৌঁছে দেয়ার বিনিময়ে) তোমাদের কাছে আমার ঘনিষ্ঠতমদের জন্য ভালোবাসা ব্যতীত কোনো বিনিময় চাই না। ” (সূরাহ্ আশ্-শূরা : ২৩)

এ আয়াতে মু মিনাদের জন্য হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর স্বজনদের (قربی ) প্রতি ভালোবাসা পোষণ করাকে অপরিহার্য করা হয়েছে। কারণ , এ ব্যাপারে দ্বিমতের অবকাশ নেই যে , এতে নবী করীম (ছ্বাঃ)-এর স্বজন (قربی ) বলতে তাঁর আহলে বাইতকেই ( আঃ) বুঝানো হয়েছে। আর এতে যদি ব্যাপকতর অর্থে তাঁর আত্মীয়-স্বজন বা বানী হাশেমকে বুঝানো হয়ে থাকে তাহলেও তাঁদের মধ্যে তাঁর আহলে বাইত ( আঃ) অগ্রগণ্য।

ইসলামের সকল মাযহাব ও ফিরক্বাহর সূত্রে হযরত ফাতেমাহ্ যাহরা ’ (সালামুল্লাহি আলাইহা) এবং হযরত আলী , হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসেন ( আঃ)-এর মর্যাদা সম্পর্কে বহু হাদীছ বর্ণিত হয়েছে যার বিষয়বস্তুসমূহ মুতাওয়াতির্ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অবশ্য তা সত্ত্বেও কেউ হয়তো সে সবের তাওয়াতুর্ সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারেন , কিন্তু এ সবের মধ্যে এমন কতোগুলো বিষয় রয়েছে যা বিতর্কের উর্ধে এবং যে সব ব্যাপারে ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই মতৈক্য রয়েছে এবং বর্তমানে দু একটি নব উদ্ভূত চরমপন্থী ফিরক্বাহ্ ব্যতীত সকলেই একমত। এ সব বিতর্কাতীত বিষয়ের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এই যে , হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর উম্মাতের মধ্যে হযরত আলী ( আঃ) ছিলেন সর্বাধিক জ্ঞানী।

হযরত আলীর (আঃ) ইলমী শ্রেষ্ঠত্ব

হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ) এরশাদ করেন :

انا مدينة العلم و علی بابها

“ আমি জ্ঞানের নগরী , আর আলী তার দরযা। ”

আমরা জানি যে , কোরআন মজীদ হচ্ছে সমস্ত জ্ঞানের আধার (تبيانا لکل شيء ) । সুতরাং কোরআন মজীদের পরিপূর্ণ জ্ঞান ব্যতীত কারো পক্ষে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞানী হওয়া সম্ভবপর নয়। আর এটা অনস্বীকার্য যে , হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর ছাহাবীগণের মধ্যে তাঁর জীবদ্দশায় মাত্র হাতেগণা কয়েক জন ব্যক্তিগতভাবে পুরো কোরআন মজীদ লিপিবদ্ধ বা মুখস্ত করেছিলেন। আর যে স্বল্পসংখ্যক ছাহাবী পুরো কোরআন মজীদ লিপিবদ্ধ করে স্বীয় ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে হযরত আলী ( আঃ) ছিলেন অন্যতম।

কিন্তু কারো কাছে পুরো কোরআন মজীদ থাকলেই বা কারো পুরো কোরআন মজীদ মুখস্ত থাকলেই যে তিনি ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হবেন তা নয়। এটা আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানতে পারি। কারণ , আরব-অনারব নির্বিশেষে আমাদের মুসলমানদের ঘরে ঘরে পুরো কোরআন মজীদ মওজূদ রয়েছে এবং আমরা তা নিয়মিত তেলাওয়াত করি ও অনেকে নিয়মিত অধ্যয়ন করি ; এছাড়া অনেকে আছেন যারা পুরো কোরআনে হাফেয , কিন্তু তাঁদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী এমন ব্যক্তি ক জন ?

অন্যদিকে যার কাছে পুরো কোরআন মজীদ গ্রন্থাকারে মওজূদ ছিলো না বা নেই অথবা মুখস্ত ছিলো না বা নেই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই এমন কারো পক্ষে ইসলামের পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

তবে কোরআন মুখস্ত থাকা বা তা নিয়মিত তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করাই ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হবার জন্য জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ , একদিকে পুরো কোরআন মজীদের জ্ঞান যথাযথভাবে বুঝতে পারার জন্য কতক পূর্বশর্ত রয়েছে যে সব পূর্বশর্ত কেবল কোরআন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের কাছ থেকে বা এতদ্বিষয়ক তথ্যসূত্রাদি থেকে অর্জন করা যেতে পারে। বর্তমান যুগে এ ধরনের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞত্বমূলক তথ্যসূত্রাদি সহজলভ্য হলেও হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর যুগে তিনি স্বয়ং ব্যতীত এ ধরনের কোনো বিশেষজ্ঞ শিক্ষক বা এতদ্বিষয়ক বিশেষজ্ঞত্বমূলক তথ্যসূত্রের অস্তিত্ব ছিলো না।

দ্বিতীয়তঃ যে সব শাস্ত্রের প্রায়োগিক দিক থাকে সে ধরনের যে কোনো শাস্ত্রেরই প্রায়োগিক দিকের বাস্তব প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ ব্যতীত সে শাস্ত্রের পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সম্ভব নয়। আর হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর যুগে কোরআন মজীদের বাস্তব প্রয়োগ করেছেন তিনি স্বয়ং।

তৃতীয়তঃ আল্লাহ্ তা আলা কোরআন মজীদ নাযিল করা ছাড়াও স্বয়ং নবী করীম (ছ্বাঃ)কে কতক বিধিবিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগের এখতিয়ার প্রদান করেন। উদাহরণস্বরূপ , তিনি বিবাহিত ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরাঘাতে হত্যার শাস্তি কার্যকর করতেন-এ ব্যাপারে মতৈক্য রয়েছে , যদিও কোরআন মজীদে এ শাস্তির উল্লেখ নেই।

[যারা মনে করেন যে , কোরআন মজীদে বিবাহিত ব্যভিচারীকে সঙ্গে সার্ (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করার শাস্তির নির্দেশ সম্বলিত আয়াত ছিলো , কিন্তু পরে সে আয়াতের তেলাওয়াত্ মানসূখ্ করা হয় ও হুকূম্ বহাল থেকে যায় , তাঁদের এ মত মোটেই ঠিক নয়। প্রকৃত পক্ষে কোরআন মজীদের অভ্যন্তরে নাসেখ্ ও মানসূখের কোনোই কার্যকরিতা নেই। বরং কোরআন মজীদ হচ্ছে নাসেখ্ ও পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব্ সমূহ হচ্ছে মানসূখ্। এ ব্যাপারে আমি আমার কোরআনের পরিচয় গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।]

তেমনি নামায পাঁচ ওয়াক্তে সতর রাক্ আত্ ফরয তিনিই নির্ধারণ করে দেন। এছাড়া তিনি কোরআন মজীদে অনুল্লেখিত এমন উত্তম জিনিসগুলোকে হালাল করে দেন ও নোংরা জিনিসগুলোকে হারাম করে দেন (সূরাহ্ আল্-আ রাফ্ : ১৫৭) ।

সুতরাং এটা সুস্পষ্ট যে , হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর পরিপূর্ণ সাহচর্য ছাড়া কারো পক্ষে ইসলামের পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সম্ভবপর ছিলো না। আর এটা সর্বজনবিদিত সত্য যে , হযরত আলী ( আঃ) ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর পুরো নবুওয়াতী যিন্দেগীর পরিপূর্ণ সাহচর্য লাভ করেছিলেন ; অন্য কেউই তাঁর মতো এ সাহচর্যের অধিকারী হন নি।

এর মানে হচ্ছে , হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর ছাহাবীগণের মধ্যে কোরআন মজীদ ও সুন্নাতে রাসূলের (ছ্বাঃ) তথা ইসলামের পূর্ণাঙ্গ ও পুরোপুরি নির্ভুল জ্ঞান কেবল হযরত আলী ( আঃ)-এর কাছেই ছিলো এবং ইসলামের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান পেতে হলে তাঁর দ্বারস্থ হওয়া অপরিহার্য।

হযরত ফাতেমাহ্ ও হাসান-হোসেন (আঃ)-এর মর্যাদা

অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে এ ব্যাপারে ইজমা রয়েছে এবং এ কারণে জুমু ’ আহ্ নামাযের খোত্ববাহ্ সমূহে উল্লেখ করা হয় যে , হযরত ফাতেমাহ্ (সালামুল্লাহি আলাইহা) বেহেশতে নারীদের নেত্রী (سيدة نساء اهل الجنة ) এবং হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হোসেন ( আঃ) বেহেশতে যুবকদের নেতা (سيدا شباب اهل الجنة ) ।

এ হচ্ছে এমন মর্যাদা যা হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর কোনো বিবি বা অন্য কোনো ছাহাবীর জন্য বর্ণিত হয় নি।

নামাযের দরূদে আলে মুহাম্মাদের (ছ্বাঃ) মর্যাদা

অন্যদিকে , অত্র গ্রন্থের ভূমিকায় যেমন উল্লেখ করা হয়েছে , যে কোনো নামাযের শেষ রাক্ ’ আতে বসা অবস্থায় হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর সাথে সাথে তাঁর আহলে বাইত-এর প্রতি দরূদ প্রেরণের জন্য আল্লাহ্ তা আলার কাছে আবেদন জানানো অপরিহার্য , নচেৎ নামায ছহীহ্ হবে না। বিশেষ করে হানাফী মায্হাবের অনুসারীরা এ দরূদটি এভাবে পড়ে থাকেন :

اللهم صلِّ علی محمد و علی آل محمد کما صلَّيت علی ابراهيم و علی آل ابراهيم؛ انک حميد مجيد. اللهم بارک علی محمد و علی آل محمد کما بارکت علی ابراهيم و علی آل ابراهيم؛ انک حميد مجيد

“ হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের প্রতি ছালাত্ করো ঠিক যেভাবে ছালাত্ করেছো ইবরাহীম্ ও আলে ইবরাহীমের প্রতি ; অবশ্যই তুমি পরম প্রশংসিত মহামহিম। হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের প্রতি বরকত নাযিল করো ঠিক যেভাবে বরকত নাযিল করেছো ইবরাহীম্ ও আলে ইবরাহীমের প্রতি ; অবশ্যই তুমি পরম প্রশংসিত মহামহিম। ”

এ দরূদটি দরূদে ইবরাহীমী নামে মশহূর্। এ দরূদের মধ্যে বিরাট চিন্তার খোরাক রয়েছে। তা হচ্ছে , হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর প্রতি ছালাত্ করা ও বরকত নাযিলের জন্য আবেদনের সাথে সাথে তাঁর আহলে বাইত-এর প্রতি কেবল ছালাত্ করা ও বরকত নাযিলের আবেদনই করা হয় নি , বরং হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর প্রতি ঠিক সেভাবে ছালাত্ করা ও বরকত নাযিলের জন্য আল্লাহ্ তা আলার কাছে আবেদন করা হয়েছে যেভাবে হযরত ইবরাহীম্ ( আঃ)-এর প্রতি আল্লাহ্ তা আলার পক্ষ থেকে ছালাত্ করা ও বরকত নাযিল করা হয়েছিলো। অন্যদিকে হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর আহলে বাইত-এর প্রতি ঠিক সেভাবে ছালাত্ করা ও বরকত নাযিলের জন্য আল্লাহ্ তা আলার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যেভাবে আলে ইবরাহীম্ ( আঃ)-এর প্রতি আল্লাহ্ তা আলার পক্ষ থেকে ছালাত্ করা ও বরকত নাযিল করা হয়েছিলো। এখানে সুস্পষ্ট ভাষায় হযরত রাসূলে আকরাম (ছ্বাঃ)-এর আহলে বাইতকে আলে ইবরাহীমের ( আঃ)-এর সমপর্যায়ের গণ্য করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে , আলে ইবরাহীম্ ( আঃ) কারা ছিলেন ?

এখানে আলে ইবরাহীম্ ” কথাটি যে আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয় নি , বরং পারিভাষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে সে ব্যাপারে বিতর্কের কোনোই অবকাশ নেই। কারণ , এখানে আলে ইবরাহীম্ ” বলতে নিঃশর্তভাবে হযরত ইবরাহীম্ ( আঃ)-এর পরিবার , বা সন্তানগণ বা বংশধরগণকে বুঝানো হয় নি। কারণ , তাঁর বংশধরগণের মধ্যকার নাফরমানদেরকে মুসলমানদের নামায-মধ্যস্থ দরূদে শরীক করা হবে এ প্রশ্নই ওঠে না।