বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্0%

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্ লেখক:
প্রকাশক: -
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

লেখক: নূর হোসেন মজিদী
প্রকাশক: -
বিভাগ:

ভিজিট: 6833
ডাউনলোড: 1059

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 18 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 6833 / ডাউনলোড: 1059
সাইজ সাইজ সাইজ
বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

লেখক:
প্রকাশক: -
বাংলা

মৃত্যুপারের জীবন সম্পর্কে মানুষের ঔৎসুক্য চিরন্তন। এ ঔৎসুক্যের পরিপূর্ণ নিবৃত্তি জীবদ্দশায় সাধারণ মানুষের জন্য সম্ভব নয় জেনেও মানুষ কখনোই এ বিষয়ে জানার আগ্রহ পরিত্যাগ করতে পারে না। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধর্মে যেমন বিভিন্ন ধারণা দেয়া হয়েছে, তেমনি এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য ও কল্পনা। তাই এ ব্যাপারে সম্ভব সর্বাধিক মাত্রায় সঠিক ধারণার প্রয়োজনীয়তা সব সময়ই অনুভূত হয়ে আসছে।

ইসলামী মতে, সাধারণভাবে মৃত্যুপরবর্তী সময়ের দু’টি পর্যায় রয়েছে : মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময় এবং পুনরুত্থান পরবর্তী সময় অর্থাৎ শেষ বিচার ও তদ্পরবর্তী জান্নাতী বা জাহান্নামী অনন্ত জীবন। পুনরুত্থান, শেষ বিচার এবং বেহেশত বা দোযখ বাস তথা আখেরাতের ওপর ঈমান পোষণ ইসলামের মৌলিক চৈন্তিক ভিত্তি (উছূলে ‘আক্বাএদ্)-এর অন্যতম। এ কারণে এ সম্পর্কে কোরআন মজীদে বিস্তারিত বক্তব্য রয়েছে।

স্বপ্ন : বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে

বস্তুবিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নাফ্স্ সংক্রান্ত প্রশ্নসমূহের নির্ভুল জবাবদানে সক্ষম নয় , তবে এ ব্যাপারে বিচারবুদ্ধিকে সহায়তা দিতে সক্ষম। তাই এতদসংক্রান্ত কয়েকটি তথ্য বিবেচনাযোগ্য।

অবশ্য প্রকৃত ও অকাট্য বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নামে কাল্পনিক ব্যাখ্যার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ , স্বপ্নের যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হয়ে অনেকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার নামে একে মস্তিষ্কের স্বয়ংক্রিয় কর্মতৎপরতা ও স্নায়বিক উত্তেজনার ফসল বলে দাবী করেছেন। কিন্তু এ দাবীর পিছনে কোনো যুক্তি নেই এবং অভিজ্ঞতাও তা সমর্থন করে না।

প্রকৃত পক্ষে মানুষ কেবল শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্লান্ত হয়ে পড়লেই ঘুমিয়ে পড়ে না , বরং মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়লেই ঘুমিয়ে পড়ে - যে কারণে কর্মক্ষম ও কাজ করতে অভ্যস্ত ব্যক্তি কাজ না করলেও এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। কারণ , তার শরীর ক্লান্ত না হলেও জাগ্রত অবস্থায় মস্তিষ্কের কর্মতৎপরতার কারণে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে বিধায় সে ঘুমিয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ঘুমের মধ্যে তার মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে ওঠা বা উত্তেজিত হওয়ার পিছনে কোনো শারীরিক তথা বস্তুগত কারণ ধরে নেয়াটা স্রেফ্ কল্পনামাত্র ; কেবল কোনো অবস্তুগত কারণ তাকে সক্রিয় করে তোলে। তা হচ্ছে , সৃষ্টিজগতের ঐশী ব্যবস্থাধীনে তার অবস্তুগত ব্যক্তিসত্তা (নাফ্স্)কে এক অবস্তুজগতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নাফ্স্ তার সেখানকার অভিজ্ঞতাকে স্মরণে রাখার জন্যই স্বীয় ক্লান্ত মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তোলে।

যারা বলেন যে , স্বপ্ন পূর্ব-অভিজ্ঞতার স্মৃতির প্রত্যাবর্তন বা স্নায়বিক উত্তেজনার ফসল বা অপূর্ণ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রভাব তাঁদের কথা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ , মানুষ এমন অনেক স্বপ্নও দেখে যা তার অভিজ্ঞতাবহির্ভূত। যেমন : কেউ যখন স্বপ্নে নিজেকে উড়তে দেখে তখন তা তার পূর্ব-অভিজ্ঞতার প্রত্যাবর্তন নয়। তেমনি তা অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার প্রভাবও নয়। কারণ , মানুষ আকাশে ওড়ার আকাঙ্ক্ষা করলে নিজের পিঠে দু টো পাখা কল্পনা করে , কিন্তু যারা স্বপ্নে নিজেকে উড়তে দেখে তারা পাখা ছাড়াই উড়তে দেখে। এ ক্ষেত্রে বরং অনেকের অভিজ্ঞতা থেকেই স্বপ্নব্যাখ্যাকারীদের ব্যাখ্যার যথার্থতা পাওয়া যায় - যারা বলেন যে , স্বপ্নে উড়তে দেখলে সে ব্যক্তি কোনো দূরবর্তী জায়গায় , বিশেষতঃ বিদেশে সফর করবে এবং প্রায়শঃই দেখা যায় যে , ঐ রকম দূরবর্তী জায়গায় সফরের কথা সে পূর্বে কখনো কল্পনা করে নি।

অন্যদিকে স্নায়বিক উত্তেজনা সুশৃঙ্খল পূর্বস্মৃতিকে এলোমেলোভাবে উপস্থাপন করতে পারে , সুবিন্যস্তভাবে নয় ; পূর্ব-অভিজ্ঞতাবিহীন একটি সুশৃঙ্খল মধুর স্বপ্ন তৈরী করার তো প্রশ্নই ওঠে না।

শুধু তা-ই নয় , অভিজ্ঞতায় দেখা যায় , অনেক ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি স্বপ্ন দেখছে তাকে সহসাই কেউ ডাক দিয়ে বা ধাক্কা দিয়ে জাগ্রত করার চেষ্টা করলে সে নিজেকে সংশ্লিষ্ট স্বপ্নদৃশ্যের ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত ছুটে আসতে এবং নিজেকে নিজের শরীরে প্রবেশ করতে দেখে। বিশেষ করে নিজেকে নিজের শরীরে প্রবেশ করতে দেখার কাজটি প্রায়জাগ্রত অবস্থায় ঘটে থাকে। অর্থাৎ স্বপ্নদর্শনকারীর অবস্তুগত শরীর (নাফ্স্) তার বস্তুদেহে প্রবেশ করার পর পরই বস্তুদেহ মোটামুটি চেতনা ফিরে পায়।

জাগ্রত ব্যক্তির নাফ্স্ কি শরীর থেকে বের হতে পারে ?

অনেকে আধ্যাত্মিক সাধনা বলে জাগ্রত অবস্থায়ই স্বীয় দেহ থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন (অর্থাৎ তাঁর নাফ্স্ বা আত্মা তাঁর দেহ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে) এবং দূরবর্তী কোথাও পরিভ্রমণ শেষে পুনরায় ফিরে এসে দেহে প্রবেশ করেছেন - এ মর্মে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। এ সব ক্ষেত্রে ব্যক্তির দেহ থেকে তার অবস্তুগত ব্যক্তিসত্তা বেরিয়ে যাবার পর দেহ ঘুমন্ত অবস্থা বা প্রায় মৃত অবস্থা লাভ করে , এমনকি তার শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তচলাচলও এতোই কমে যায় যে , দৃশ্যতঃ মনে হয় যে , তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তাতে প্রাণের চিহ্ন প্রায় স্থগিত হয়ে যায়। বলা হয় যে , দেহ থেকে বেরিয়ে যাবার প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সাহসের কারণেই তা সম্ভবপর হয়। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার দেহের ক্ষতি হবার আশঙ্কাকে উপেক্ষা করার কারণেই এভাবে দেহ থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরূপ অবস্থায় সে দূরবর্তী কোনো স্থানে গিয়ে সেখানকার ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করেছে এবং ফিরে এসে দেহে প্রবেশের পর তার হুবহু বর্ণনা দিয়েছে , আর যাচাই করার ফলে তা যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

এ ধরনের বর্ণনার সত্যতা সম্পর্কে শতকরা একশ ’ ভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের অনেক ঘটনার বর্ণনা সাম্প্রতিক কালের (বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের) - যখন যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতির কারণে এ ব্যাপারে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বর্ণনা চালিয়ে দেয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার ছিলো। তাছাড়া বিচারবুদ্ধির বিশ্লেষণ ও আরো কতক ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে এ ধরনের কাজ অসম্ভব বলে মনে হয় না।

বস্তুতঃ মানুষ যখন জাগ্রত থাকে এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকে তখন তার মনোযোগের বেশীর ভাগই তার শরীরের প্রতি নিবদ্ধ থাকে যাতে তার শরীর ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং তার কাজকর্মে ভুল না হয়। আর মনোযোগের বিষয়টি পুরোপুরি নাফসের কাজ এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইন্দ্রিয়নিচয় নাফসের মনোযোগের অনুবর্তিতা করে মাত্র। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকার সময় শরীরের ক্ষতি না হওয়ার বা শরীরের দ্বারা ভুল কাজ সম্পাদিত না হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণেই নাফসের পক্ষে শরীরকে ঘুমাবার সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়। তাই দেখা যায় , ভয়-ভীতির পরিস্থিতিতে বা কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে শরীর ও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়া সত্ত্বেও মানুষ না ঘুমিয়ে জেগে থাকার চেষ্টা করে এবং নিয়মিত অভ্যাসের তুলনায় অনেক দেরীতে বা খুব কম সময়ের জন্য অথবা খুব হাল্কাভাবে ঘুমায় ; এটা নাফসের সিদ্ধান্তের ফলেই হয়ে থাকে।

অবশ্য নাফসের পক্ষে শরীরের সহনক্ষমতার একটা সুনির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত তাকে জাগ্রত রাখা সম্ভব হয়। তবে শরীরের ক্লান্ত-শ্রান্ত অবস্থায় তার পক্ষে ইন্দ্রিয়নিচয় থেকে পুরোপুরি সেবা লাভ করা সম্ভব হয় না। তাই দেখা যায় যে , সে সব কিছু ঠিকমতো দেখতে পায় না , সব শব্দ বা কথা ঠিকমতো শুনতে পায় না , সব স্পর্শ ঠিকমতো অনুভব করতে পারে না। কিন্তু যখন সে ঘুমিয়ে পড়ে তখন স্বপ্ন দেখলে তা অধিকতর সুস্পষ্টরূপে দেখতে পায় এবং স্বপ্নে যে সব কথা শোনে তা অধিকতর সুস্পষ্টরূপে শুনতে পায়। অর্থাৎ জাগ্রত অবস্থায় নাফসের মনোযোগের সিংভাগ শরীরের প্রতি নিবদ্ধ রাখতে হলেও ঘুমন্ত অবস্থায় তার আর দরকার না থাকায় স্বপ্নলোকে নাফসের অবস্তুগত ইন্দ্রিয়নিচয় অধিকতর ভালোভাবে কাজ করে। তবে ঘুমের সময় নাফ্স্ আর জাগ্রত অবস্থার ন্যায় স্বাধীন থাকে না , বরং তাকে ঐশী ব্যবস্থাপনাধীন আালামে বারযাখের একটি অংশে নিয়ে যাওয়া হয় বিধায় তার পক্ষে বস্তুজগতের অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু আত্মিক সাধনাবলে কারো নাফ্স্ যদি খুবই সাহসী ও নির্ভয় হয়ে উঠতে পারে সে ক্ষেত্রে জাগ্রত অবস্থায় তার পক্ষে সাময়িকভাবে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া ও বস্তুজগতে বিচরণ করা অসম্ভব না-ও হতে পারে।

জাদুবিদ্যা : নাফসের শক্তির নিদর্শন

নাফসের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধির একটা দৃষ্টান্ত হচ্ছে জাদুবিদ্যা। এখানে আমরা জাদুবিদ্যা বলতে আধুনিক কালের বস্তুবিজ্ঞান ও বিভিন্ন কলাকৌশলের আশ্রয় নিয়ে যে সব ম্যাজিক দেখানো হয় তার কথা বলছি না , বরং মানসিক শক্তির দ্বারা লোকদেরকে সম্মোহিত করে কাল্পনিক দৃশ্য ও ঘটনা দেখানো অথবা কোনো কাজ করতে বাধ্য করার কথা বলছি।

প্রকৃত জাদুকর বর্তমান যুগে হয়তো আদৌ নেই , তবে অতীতে ছিলো এবং জাদু ও জাদুকরের কথা কোরআন মজীদেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মনোবিজ্ঞানীদের দ্বারা রোগীর চিকিৎসার জন্য রোগীকে সম্মোহিত করা ও জাদুকরের দ্বারা কৃত সম্মোহনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে এই যে , মনোরোগী স্বীয় সুস্থতার লক্ষ্যে মনোবিজ্ঞানীর নির্দেশিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বেচ্ছায় সম্মোহিত হয় , কিন্তু জাদুকর কেবল স্বীয় মানসিক শক্তির বলে অনিচ্ছুক ব্যক্তিকে সম্মোহিত করে।

অতীতে ভারত উপমহাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে জাদুচর্চা ছিলো এবং জাদুশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে আসামের কামরূপ-কামাখ্যা বিখ্যাত ছিলো। জাদুশিক্ষার পর তার চূড়ান্ত পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে যা শোনা যেতো তা হচ্ছে , জাদু শিক্ষাকারী ব্যক্তিকে অমাবস্যার রাতে জনবিচ্ছিন্ন শ্মশানে সারারাত রাত কাটাতে হতো ; সে যদি নির্ভয়ে সেখানে একাকী রাত কাটাতে পারতো তাহলে প্রমাণিত হতো যে , সে জাদু আয়ত্ত করতে পেরেছে।

আসলে শ্মশানে ভয়ের কিছু আছে কিনা সে বিতর্কে না গিয়েও বলা চলে যে , এ ধরনের জায়গায় একা যেতে এমনিতেই মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি হয় , তা সে ভয়ের পিছনে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকুক বা না-ই থাকুক। এমতাবস্থায় অমাবস্যার ঘুরঘুট্টি অন্ধকারের মধ্যে এহেন জায়গায় সারা রাত কাটানোর জন্য লৌহকঠিন মানসিক শক্তির প্রয়োজন। নাফসের এ শক্তিই অন্য মানুষের মনকে প্রভাবিত করে তাকে সম্মোহিত করতে পারে।

সাপুড়ে যেভাবে সাপ ধরে

সাপুড়ে কর্তৃক সাপ ধরার কাজটিও পুরোপুরি নাফসের মানসিক শক্তি তথা সাহসিকতার নিদর্শন।

সাপ ধরার সময় বা সাপকে নিয়ে খেলা দেখানোর সময় সাপুড়ে যে মন্ত্র আওড়ায় তা আসলে কতোগুলো অর্থহীন কথা মাত্র ; স্বীয় মানসিক শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যেই সে এ কথাগুলো আওড়ায়। কিন্তু সাপুড়ে যেভাবে সাপ ধরে অন্য কেউ এ মন্ত্র আওড়ালেও তার মনে যদি সাপ থেকে ভয় থাকে তো সে সাপ ধরতে পারবে না , বরং সাপই তাকে দংশন করবে।

প্রকৃত পক্ষে সাপুড়ে যে কারণে সাপ ধরতে সক্ষম হয় তা তার দীর্ঘদিনের চর্চাজাত মানসিক শক্তির কারণে মাত্র। আসলে সাপুড়ে তার নাফসের শক্তি তথা সাহসের কারণে সাপকে এক হাতের মুঠোয় ধরার উপযোগী একটা নিরীহ মাছকে ধরার মতোই অবলীলাক্রমে ধরে ফেলে।

আমরা ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি , বিভিন্ন ইতর প্রাণী এমন অনেক আলোকতরঙ্গ ও শব্দতরঙ্গ দেখতে ও শুনতে পায় যা মানুষ দেখতে বা শুনতে পায় না। তেমনি এ-ও খুবই সম্ভব যে , ইতর প্রাণীরা মানুষের নাফসের স্বরূপ দেখতে পায়। এ কারণেই সাপ কোনো সাপুড়েকে দেখলে দিশাহারা হয়ে পড়ে , ঠিক যেভাবে পুলিশ যাকে খুঁজছে এমন কোনো ব্যক্তি পুলিশের সামনে পড়লে দিশাহারা হয়ে পড়ে এবং কী করবে বুঝতে পারে না ; পালাবার চেষ্টা করার মতো সাহসও হারিয়ে ফেলে।

সাপুড়ের শিশুসন্তানরা যেভাবে সাপধরা শেখে তা হচ্ছে , প্রথমে তারা তাদের বাবা-মা ’ র সাথে থেকে সাপ ধরে। শিশু যখন সাপকে ধরে মূলতঃ তার বাবা বা মা সাপুড়ের উপস্থিতির কারণেই সাপ তখন শিশুটিকে দংশন করে না। এভাবে শিশু সাপ ধরতে ধরতে বড় হয় এবং ক্রমান্বয়ে তার নাফ্স্ও তারা বাবা-মা ’ র মতোই শক্তি ও সাহসের অধিকারী হয়ে ওঠে , অতঃপর কৈশোরে বা যৌবনে সে একাই সাপ ধরতে সক্ষম হয়।

ধ্যানে বসে অজানা তথ্য প্রদান

অনেক আল্লাহ্ওয়ালা লোকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে , তাঁরা ধ্যানে বসে অতীতের অনেক ঘটনাবলী বলে দিয়েছেন অথবা তাঁদের থেকে অনেক দূরে অবস্থিত কোনো কিছু বা কোনো মানুষ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন - যে সম্পর্কে তাঁদের আদৌ জানা না থাকার বিষয়টি অকাট্য। এটা ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নাফসের ইন্দ্রিয়নিচয়ের কর্মক্ষমতার আওতা ও মাত্রা বৃদ্ধিরই প্রমাণ বহন করে , অবশ্য কেবল আল্লাহ্ তা আলার বিশেষ অনুগ্রহেই কোনো ব্যক্তির পক্ষে এটা সম্ভব হতে পারে।

প্রায়মৃত্যুর অভিজ্ঞতা

প্রায়মৃত্যুর অভিজ্ঞতা (Near Death Experience ) অর্জন করেছে এমন লোকদের বর্ণনা থেকেও ব্যক্তিসত্তার শরীর থেকে বেরিয়ে গিয়ে কেবল নাফসের ইন্দ্রিয়নিচয়ের সাহায্যে পার্থিব জগতের অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা জানা যায় - যা ব্যক্তিসত্তার স্বাতন্ত্র্য ও বস্তুদেহ থেকে মুখাপেক্ষিতাহীনতার প্রমাণ বহন করে।

প্রায়মৃত্যুর অভিজ্ঞতার অধিকারী অনেক লোক অচেতন থাকার পর চেতনা ফিরে পেয়ে স্বীয় অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত ও নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের সময় ডাক্তার ও নার্সদের মধ্যে যে সব কথাবার্তা হয়েছে তার বর্ণনাও দিয়েছে। তারা আরো বলেছে যে , এ সময় তারা অস্ত্রোপচারের খাটে শোয়ানো তাদের বস্তুদেহ দেখেছে এবং একই সাথে তারা নিজেদেরকে এক ধরনের হাল্কা শরীরের অধিকারী অবস্থায় অস্ত্রোপচারকক্ষের সিলিং সংলগ্ন হয়ে ভাসমান অবস্থায় দেখেছে। আর ঐ অবস্থায় তারা অস্ত্রোপচারের পুরো ঘটনাবলী প্রত্যক্ষ করেছে এবং সকল কথাবার্তা শুনেছে। আর তাদের সে সব বর্ণনা সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদেরকে হাল্কা শরীর সহকারে আকাশে উড়তে দেখেছে এবং কেউ কেউ নিজেকে কোনো এক অচেনা জগতে প্রবেশ করতে ও অনেক চেষ্টায় ফিরে আসতে দেখেছে।

এ ধরনের ঘটনাবলী বস্তুবিজ্ঞানীদের সামনে এমন এক প্রশ্ন তুলে ধরেছে যার জবাব তাঁদের জানা নেই। তবে ইতিপূর্বে যে কিরলিয়ান ফটোগ্রাফির কথা বলা হয়েছে তা থেকে এর জবাব মিলে , তা হচ্ছে , মানুষ সহ সকল প্রাণশীল ও সজীব অস্তিত্বেরই বস্তুদেহ ছাড়াও একটি আলোর দেহও রয়েছে এবং সন্দেহ নেই যে , প্রায় অবস্তুগত অস্তিত্ব এ আলোর দেহই হচ্ছে নাফ্স্ অথবা অবস্তুগত নাফসের ধারক।