বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্0%

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্ লেখক:
প্রকাশক: -
বিভাগ: ধর্ম এবং মাযহাব

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

লেখক: নূর হোসেন মজিদী
প্রকাশক: -
বিভাগ:

ভিজিট: 6846
ডাউনলোড: 1060

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্
বইয়ের বিভাগ অনুসন্ধান
  • শুরু
  • পূর্বের
  • 18 /
  • পরের
  • শেষ
  •  
  • ডাউনলোড HTML
  • ডাউনলোড Word
  • ডাউনলোড PDF
  • ভিজিট: 6846 / ডাউনলোড: 1060
সাইজ সাইজ সাইজ
বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

বিচারবুদ্ধি ও কোরআনের দৃষ্টিতে ‘আালামে বারযাখ্

লেখক:
প্রকাশক: -
বাংলা

মৃত্যুপারের জীবন সম্পর্কে মানুষের ঔৎসুক্য চিরন্তন। এ ঔৎসুক্যের পরিপূর্ণ নিবৃত্তি জীবদ্দশায় সাধারণ মানুষের জন্য সম্ভব নয় জেনেও মানুষ কখনোই এ বিষয়ে জানার আগ্রহ পরিত্যাগ করতে পারে না। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধর্মে যেমন বিভিন্ন ধারণা দেয়া হয়েছে, তেমনি এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য ও কল্পনা। তাই এ ব্যাপারে সম্ভব সর্বাধিক মাত্রায় সঠিক ধারণার প্রয়োজনীয়তা সব সময়ই অনুভূত হয়ে আসছে।

ইসলামী মতে, সাধারণভাবে মৃত্যুপরবর্তী সময়ের দু’টি পর্যায় রয়েছে : মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময় এবং পুনরুত্থান পরবর্তী সময় অর্থাৎ শেষ বিচার ও তদ্পরবর্তী জান্নাতী বা জাহান্নামী অনন্ত জীবন। পুনরুত্থান, শেষ বিচার এবং বেহেশত বা দোযখ বাস তথা আখেরাতের ওপর ঈমান পোষণ ইসলামের মৌলিক চৈন্তিক ভিত্তি (উছূলে ‘আক্বাএদ্)-এর অন্যতম। এ কারণে এ সম্পর্কে কোরআন মজীদে বিস্তারিত বক্তব্য রয়েছে।

বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে স্রষ্টা ও আত্মার অস্তিত্ব

সর্বজনীন মানদণ্ডের দৃষ্টিতে অর্থাৎ বিচারবুদ্ধির আলোকে আালামে বারযাখ্ সংক্রান্ত আলোচনা সৃষ্টিকর্তা ও আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল। কারণ , সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব যদি না থাকে অথবা থাকলেও মানুষের বস্তুগত শরীর ছাড়া কোনো অবস্তুগত সত্তা বা আত্মা যদি না থাকে তাহলে আালামে বারযাখের অস্তিত্ব থাকার প্রশ্নই ওঠে না। কারণ , মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী যদি কেবল বস্তুগত অস্তিত্ব হয়ে থাকে এবং তার প্রাণশীলতা - নাস্তিকরা যেমন দাবী করে থাকে - যদি কেবল বস্তুর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে তো সে ক্ষেত্রে মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যাবার কথা ; মৃত্যুর পরে সুখ-দুঃখের প্রশ্নই ওঠে না। তাই আমরা প্রথমেই বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে স্রষ্টা ও আত্মার অস্তিত্ব-অনস্তিত্ব সম্বন্ধে ফয়ছ্বালায় উপনীত হবো। [এ বিষয়ে আমার লেখা জীবন জিজ্ঞাসা গ্রন্থে বিচারবুদ্ধির আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ; এখানে প্রাসঙ্গিক বিধায় বিষয়টির ওপর সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো।]

বিচারবুদ্ধির আলোকে স্রষ্টা ও আত্মা (নাফ্স্) দর্শন ও আক্বাএদের দু টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় এবং এ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখানে আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে আালামে বারযাখ্ সেহেতু আমরা এখানে স্রষ্টা ও আত্মা সম্বন্ধে অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

আমাদের অভিজ্ঞতার আওতাধীন বস্তুজগত হচ্ছে কারণ ও ফলশ্রুতির ( Cause and Effect) প্রাকৃতিক বিধান অনুসরণের জগত - এ এক অনস্বীকার্য সত্য। এ বিশ্বের সদাপরিবর্তনশীলতা এবং এতে কার্যকর কারণ ও ফলশ্রুতির বিধি থেকে প্রমাণিত হয় যে , এর একটি সূচনা আছে। বস্তুবিজ্ঞানীরা এ বিশ্বজগতের সূচনা সম্পর্কে যে সব তত্ত্ব দিয়েছেন তার সবগুলোই অসম্পূর্ণ এবং সেগুলোর কোনোটিতেই বিশ্বজগতের সূচনার পিছনে নিহিত মূল কারণ বা উৎস কী তা বলা সম্ভব হয় নি।

বিশ্বজগতের সূচনা সম্পর্কে প্রদত্ত অনাদি তত্ত্ব অর্থাৎ বিশ্বজগত অনাদি কাল থেকে আছে ; এর কোনো সূচনা নেই ’ - এ তত্ত্ব একটি অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। কারণ , বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে কারণ ও ফলশ্রুতি বিধির আওতাধীন সদাপরিবর্তনশীল জগত অনাদি হতে পারে না। আর এমন সুশৃঙ্খল ও অসংখ্য প্রাকৃতিক বিধি-বিধান দ্বারা পরিচালিত বিশ্বজগতকে আমরা যদি যুক্তির খাতিরে অনাদি বলে ধরেও নেই তথাপি মানতে হবে যে , এ শৃঙ্খলা এবং কারণ ও ফলশ্রুতি বিধি প্রমাণ করে , এ বিশ্বজগতের অন্তরালে কোনো সর্বজ্ঞানী অসীম শক্তিশালী চিরঞ্জীব সত্তার অস্তিত্ব রয়েছে - যার সুপরিকল্পনা অনুসারে অনাদি কাল থেকে এ বিশ্বজগত চলে আসছে। অর্থাৎ এ বিশ্বজগত সেই পরম জ্ঞানীর অস্তিত্বেরই নিদর্শন মাত্র।

বিশ্বজগতের সূচনা সম্বন্ধে আরেকটি বস্তুবাদী তত্ত্ব হচ্ছে আদি বস্তু ’ র তত্ত্ব। এ তত্ত্ব অনুযায়ী আদিতে সর্বত্র সমভাবে বিরাজিত অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বস্তু ছিলো। তারপর এক সময় তাতে আলোড়ন বা বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়ে গতি সঞ্চার হয় এবং তার ফলে পর্যায়ক্রমে গ্যালাক্সি সমূহ সৃষ্টি হয় ও পরে উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে প্রাণের সৃষ্টি হয়।

বিশ্বজগতের সূচনা সম্বন্ধে ব্যাপকভাবে গৃহীত তত্ত্ব হচ্ছে বিগ্ ব্যাং ’ বা মহাবিস্ফোরণ ’ তত্ত্ব। এ তত্ত্ব অনুযায়ী অসীম ভরযুক্ত একটি আদি বস্তুকণা থেকে এ বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়েছে ; আদি বস্তুকণায় বিস্ফোরণের ফলে প্রথমে গ্যালাক্সিসমূহ ও পরে তা থেকে ধাপে ধাপে অন্য সব কিছু সৃষ্টি হয়।

এ উভয় তত্ত্বই অনেকগুলো প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখানে এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরা হলো :

(১) অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কথিত আদি বস্তু বা অসীম ভরযুক্ত আদি বস্তুকণা ’ কোত্থেকে এলো ?

(২) আদি বস্তুতে বা আদি বস্তুকণায় গতিসঞ্চার , বা বিস্ফোরণ অথবা মহাবিস্ফোরণ সংঘটিত হবার কারণ কী ? বস্তুধর্ম বা কারণ ও ফলশ্রুতির বিধি অনুযায়ী কোনো শক্তির ইতিবাচক বা নেতিবাচক ক্রিয়া না ঘটলে বস্তুর স্থিতাবস্থায় (সে স্থিতাবস্থা স্থিরতা বা গতিশীলতা - যা-ই হোক না কেন) কোনোরূপ পরিবর্তন ঘটতে পারে না। এমতাবস্থায় আদি বস্তু বা আদি বস্তুকণায় সৃষ্ট পরিবর্তনের পিছনে কোন্ কারণ ক্রিয়া করেছিলো ?

(৩) যদি বলা হয় যে , আদি বস্তুতে বা আদি বস্তুকণায় এ পরিবর্তনের সম্ভাবনা ’ পূর্ব থেকেই বিদ্যমান ছিলো এবং তার ফলেই এতে পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছিলো , তাহলে প্রশ্ন : এ সম্ভাবনা কোত্থেকে এলো ? এ সম্ভাবনা ঠিক ঐ সময় কেন বাস্তবে রূপ নিলো ? ঐ সময়ের আগে বা পরে নয় কেন ? তাহলে কি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিলো যে , ঐ সময়ই এ সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে ? যদি তা-ই হয়ে থাকে তো কে তা নির্ধারণ করে দিয়েছিলো ?

(৪) আদি বস্তুতে বিস্ফোরণের পরে বা আদি বস্তুকণায় মহাবিস্ফোরণের পরে যে নিয়মাবলী বা প্রাকৃতিক বিধিবিধান অনুসরণে গ্যালাক্সি সমূহ গড়ে উঠলো , বিভিন্ন মৌলিক উপাদান , বস্তু ও শক্তি তৈরী হলো এবং অসংখ্য প্রাণহীন বস্তু ও প্রাণশীল প্রজাতি অস্তিত্বলাভ করলো ; এ সব প্রাকৃতিক বিধিবিধান - যার সব এখনো আবিষ্কৃত হয় নি - কোত্থেকে এলো ? এতো সব বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক বিধি কোনো মহাবিজ্ঞানীর অস্তিত্ব ছাড়া কীভাবে সম্ভব হতে পারে ?

এ সব প্রশ্নের সঠিক জবাব একটাই হতে পারে। তা হচ্ছে : এ জীবন ও জগতের অন্তরালে এমন এক অবস্তুগত সর্বজ্ঞানী ও সর্বশক্তিমান চিরন্তন মহাসত্তা রয়েছেন যিনি সকল কারণের আদি কারণ এবং সকল সৃষ্টির উৎস।

সর্বসাম্প্রতিককালে অনেক বিজ্ঞানী দাবী করেছেন যে , ক্বোয়ান্টাম্ ফ্লাকচুয়েশন বিধি অনুযায়ী শূন্য ’ (কিছুই না) থেকে বিশ্বজগতের সৃষ্টির সূচনা হতে পারে এবং এর ভিত্তিতে তাঁরা দাবী করেন যে , সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ নেই।

আসলে এ এক হাস্যকর উদ্ভট দাবী। যদিও ক্বোয়ান্টাম্ ফ্লাকচুয়েশন তত্ত্ব কোনো বিতর্কাতীত বিষয় নয় তথাপি এটিকে সত্য বলে ধরে নিলেও তা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে , আল্লাহ্ তা আলাই শূন্য থেকে এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির সূচনা করেছেন এবং (কোরআন মজীদের উক্তি অনুযায়ী) তিনি অনবরত সৃষ্টি করে চলেছেন।

[বস্তুতঃ ক্বোয়ান্টাম্ ফ্লাক্চুয়েশন বিধি পদার্থ বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞত্ব পর্যায়ের একটি বিষয় , তাই তা সাধারণ পাঠক-পাঠিকাদের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। মোটামুটিভাবে বলা যায় , এ বিধি অনুযায়ী অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য শূন্য থেকে কোনো পরিমাণ এনার্জি তৈরী হতে পারে এবং তৈরী হওয়ার সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এ থেকে উপসংহার টানা হয়েছে যে , শূন্য থেকে একই সময় পার্টিকল্ ও এন্টি-পার্টিকল্ তৈরী হয় এবং সংক্ষিপ্ততম সময়ের মধ্যে এন্টি-পার্টিকল্ পার্টিকলকে ধ্বংস করে দেয়।

আসলে এর পিছনে এমন অজানা প্রাকৃতিক কারণ থাকাও অসম্ভব নয় যা বিজ্ঞানীরা এখনো আবিষ্কার করতে পারেন নি। তাছাড়া বিজ্ঞানীরা যেভাবে শূন্যস্থান দিয়ে মাধ্যম ছাড়া কীভাবে বিদ্যুত তরঙ্গ অতিক্রম করে এটা ব্যাখ্যা করতে না পেরে একটা অজানা মাধ্যম ধরে নিয়ে তার ঈথার ’ নামকরণ করেন , পার্টিকল্ ও এন্টি-পার্টিকল্ সৃষ্টি হওয়ার পিছনেও এমন কোনো অজানা উৎস থাকতে পারে - যা এখনো আবিষ্কৃত হয় নি। আর সর্বোপরি , যে কারণে বা যে উৎস থেকেই তা উদ্ভূত হোক না কেন , অথবা শূন্য থেকে উদ্ভূত হোক , তার পিছনে নিহিত আদি কারণ হচ্ছেন এক অনাদি-অনন্ত অপরিহার্য পরম জ্ঞানময় মহাসত্তা (আমাদের পরিভাষায় যার নাম আল্লাহ্) । নচেৎ আক্ষরিক অর্থে শূন্য ’ অর্থাৎ কিছুই না ’ থেকে কোনো কিছু ’ ই উদ্ভূত হতে পারে না।

অবশ্য স্বয়ং এ তত্ত্বটিতে মৌলিক দুর্বলতা আছে - যা নিয়ে আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গিক নয়।]

এ ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রশ্ন করা হয় : সে সত্তা কোত্থেকে এলেন ? তাঁকে কে সৃষ্টি করেছে ? তাঁর স্বরূপ কী ?

বস্তুতঃ এ ধরনের প্রশ্ন পুরোপুরি বিচারবুদ্ধিবিরুদ্ধ। কারণ , কারণ ও ফলশ্রুতি বিধি ’ এবং তার আওতাধীন জগতের যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি স্বয়ং কারণ ও ফলশ্রুতি বিধির আওতাভুক্ত হতে পারেন না। যিনি অনাদি-অনন্ত বা চিরন্তন তাঁর সম্বন্ধে সৃষ্ট হওয়া ’ কথাটি প্রযোজ্য নয়। কারণ , যিনি আদি স্রষ্টা তাঁর কোনো স্রষ্টা থাকতে পারে না ; থাকলে তাঁর জন্য আদি স্রষ্টা ’ কথাটি প্রযোজ্য হতে পারে না। তেমনি , বিচারবুদ্ধির রায় অনুযায়ী , সসীম অসীমকে ধারণ করতে পারে না। তাই কারণ ও ফলশ্রুতি বিধির আওতাধীন সসীম সৃষ্টি মানুষের পক্ষে অসীম সত্তা সৃষ্টিকর্তার স্বরূপ জানা সম্ভব নয়। কিন্তু বিচারবুদ্ধি যার অস্তিত্বমানতার পক্ষে রায় দেয় তাঁর স্বরূপ জানতে না পারার কারণে তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করা মূর্খতা মাত্র।

এবার আমরা , মানুষের বস্তুগত শরীর ছাড়াও তার মাঝে যে অবস্তুগত ব্যক্তিসত্তার অস্তিত্ব রয়েছে বিচারবুদ্ধির আলোকে তার ওপর আলোকপাত করবো।

বস্তুতঃ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণের চেয়েও আত্মা বা নাফ্স্-এর অস্তিত্ব প্রমাণ করা অধিকতর সহজ। আসলে শরীর জুড়ে এক বস্তুউর্ধ সত্তার অবস্থান যুক্তিপ্রমাণ দিয়ে প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়। কারণ , প্রতিটি মানুষ নিজেই তা অনুভব করে।

প্রতিটি মানুষই স্বীয় ব্যক্তিসত্তার অস্তিত্ব অনুভব করে। এ অনুভূতি এমন একটি গুণ যা জড়বস্তুতে থাকা সম্ভব নয়। (অবশ্য প্রতিটি বস্তুকণায়ই এক ধরনের প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে ; এটা এক ভিন্ন আলোচ্য বিষয় - যে সম্পর্কে আলোচনা করা এখানে অপরিহার্য নয়। এখানে আমরা সাধারণভাবে যাকে জড়বস্তু বলি এবং প্রাণের অনুভূতিহীন বলে অনুভব করি তার এবং প্রচলিত অর্থে প্রাণশীল এমন সৃষ্টি ও জড়বস্তুর মধ্যকার পার্থক্যকেই আত্মা , বা নাফ্স্ বা ব্যক্তিসত্তা বলে গণ্য করছি।)

ভালো-মন্দ , সুখ-দুঃখ , ব্যথা-আনন্দ , হর্ষ-বিষাদ , সন্তোষ-ক্রোধ , আশা-ভয় ইত্যাদি অনুভূতি জড়বস্তুর বৈশিষ্ট্য নয়। তেমনি ন্যায়-অন্যায়বোধ , জ্ঞান ও মূর্খতা এবং সত্য-মিথ্যা নিয়ে বিতর্ক জড়বস্তুর বৈশিষ্ট্য নয়। সহজাত প্রবণতা ও মেধা-প্রতিভার ধারণা জড়বস্তুর জন্য প্রযোজ্য নয়।

বস্তুর একটি ধর্ম হচ্ছে একমুখিতা। অর্থাৎ বস্তুর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অনিবার্যভাবেই কোনো ফলাফল প্রদান করবে ; সে ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্ব , সন্দেহ বা বিতর্ক সংক্রান্ত ধারণার কোনো স্থান নেই।

জড়বস্তুর উন্নততম সংস্করণ হচ্ছে সুপার কম্পিউটার। কিন্তু সুপার কম্পিউটারে মানুষের গুণাবলী নেই। একটি সুপার কম্পিউটার কেবল সে সব কাজই করতে পারে যে সব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচী তার মধ্যে দেয়া হয়েছে। কম্পিউটার মানুষের মতো নিজে নিজে কোনো কিছু উদ্ভাবন করার মতো শক্তির অধিকারী নয় , কল্পনা করতে সক্ষম নয় , স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলতে সক্ষম নয়। মানুষ নিজের সম্পর্কে , বিশ্বজগত সম্পর্কে এবং তার নিজের ও বিশ্বজগতের উৎস সম্বন্ধে চিন্তা করে ; কোনো জড় বস্তু , এমনকি সুপার কম্পিউটারও তা করতে সক্ষম নয়। (বর্তমানে যে জৈবিক কম্পিউটার উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে তা আমাদের আলোচনার সাথে সম্পর্কহীন। কারণ , তা স্রেফ্ জড়বস্তু নয়।)

মানুষ যে শুধু জড়বস্তুর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নয় , বরং তার গোটা শরীর জুড়ে একটি অবস্তুগত অস্তিত্ব বিরাজমান - যা বস্তুগত শরীরকে পরিচালনা করে , তা প্রমাণের জন্য ওপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনাই যথেষ্ট বলে মনে করি। (এ অবস্তুগত সত্তা কীভাবে অস্তিত্বলাভ করে তা ভিন্ন একটি আলোচনার বিষয় ; কিন্তু এ সত্তার অস্তিত্ব অনস্বীকার্য।)

শরীর ও আত্মার সম্পর্ক

এ প্রসঙ্গে শরীর ও আত্মা (নাফ্স্)-এর সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন।

মানুষ হচ্ছে শরীর ও আত্মার সমন্বিত রূপ। শুধু শরীর বা শুধু আত্মাকে মানুষ বলা হয় না , বরং বলা হয় : মানুষের শরীর ’ ও মানুষের আত্মা ’ । কিন্তু এতদসত্ত্বেও প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে মানবসত্তায় আত্মার ভূমিকাই মুখ্য। আত্মা হচ্ছে শরীরের পরিচালক এবং শরীর হচ্ছে আত্মার বাহন ও হাতিয়ার স্বরূপ। তাই শরীর তার কর্মতৎপরতার জন্য পুরোপুরিভাবে আত্মার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আত্মা তার সকল কর্মতৎপরতার জন্য শরীরের ওপর নির্ভরশীল নয়। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুজগতে যার অস্তিত্ব নেই এমন কিছু সম্পর্কে , যেমন : আত্মা স্বয়ং তার নিজের সম্পর্কে এবং কাল্পনিক বিষয়াদি , দার্শনিক বিষয়াদি ও এ সব কিছুর উর্ধে খোদায়ী সত্তা সম্পর্কে চিন্তা করতে এবং সঠিক হোক বা ভুলই হোক , উপসংহারে উপনীত হতে ও জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম।

আত্মার আরো অনেক কর্মতৎপরতা আছে। আত্মা স্বীয় ইন্দ্রিয়নিচয়ের সাহায্যগ্রহণ ব্যতীতই অন্য আত্মার ওপর এবং বস্তুর ওপর (স্বীয় বা অন্যের শরীরের ওপর) প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা একটি স্বতন্ত্র বিষয় - যার অবকাশ অত্র আলোচনার সীমিত পরিসরে নেই। তবে এখানে উদাহরণস্বরূপ টেলিপ্যাথি , সম্মোহন (হিপনোটিজম্) , স্বপ্ন , হতাশাব্যঞ্জক বা ভয়ানক খবর শুনে সুস্থ ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুবরণ ইত্যাদি এমন অনেক ধরনের আত্মিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার কথা বলা যেতে পারে যা আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলের নিকটই স্বতঃপ্রমাণিত।

অতএব , এ থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে , আত্মা তার কর্মতৎপরতার জন্য পুরোপুরি শরীরের ওপর নির্ভরশীল নয়।

শরীর জুড়ে অবস্থানকারী অবস্তুগত আত্মিক সত্তা কি শরীরেই সৃষ্টি হয় , নাকি শরীর সৃষ্টির এক বিশেষ পর্যায়ে তা বাইরে থেকে এসে শরীরে যুক্ত হয় তা এক স্বতন্ত্র আলোচ্য বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে , শরীর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট আত্মিক সত্তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া কি অনিবার্য ?

বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে , আত্মিক সত্তা বাইরে থেকে এসে শরীরে যুক্ত হয়ে থাক অথবা শরীরেই তৈরী হয়ে থাক , শরীরের ধ্বংসের কারণে তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া অপরিহার্য নয়। কারণ , আমরা যখন নিদ্রিত থাকি তখন শরীর তথা শরীরের পঞ্চেন্দ্রিয় নিষ্ক্রিয় থাকে , কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাদের অবস্তুগত ব্যক্তিসত্তা সক্রিয় থাকে বলেই আমরা স্বপ্ন দেখি। এমনকি জাগ্রত অবস্থায়ও পঞ্চেন্দ্রিয়ের নিষ্ক্রিয়তা সত্ত্বেও আমাদের আত্মা বা ব্যক্তিসত্তা চিন্তা ও কল্পনায় মশগূল্ হতে পারে। ব্যক্তিসত্তার সক্রিয়তা যখন পঞ্চেন্দ্রিয়ের সক্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয় তখন পঞ্চেন্দ্রিয় বা শরীর ধ্বংস হলেই তা ধ্বংস হয়ে যাবে - এটা সম্ভব বলে মনে করা যায় না।

এ ব্যাপারে অধিকতর শক্তিশালী প্রমাণ হচ্ছে পঙ্গু মানুষের ব্যক্তিসত্তা। কোনো ব্যক্তির শরীরের কোনো অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ যদি কেটে ফেলা হয় তার ফলে তার ব্যক্তিসত্তা ধ্বংস বা পঙ্গু হয়ে যায় না। কারো হাত বা পা কেটে ফেললে , বা চোখ তুলে ফেললে , বা কিডনি ফেলে দিয়ে তদস্থলে অন্যের কিডনি সংযোজন করলে , বা কৃত্রিম হৃদপিণ্ডসংযোজন করলে অথবা শরীরের অর্ধাংশ বা তার পেশী (শরীরের এক পাশ বা নিম্নাংশ) পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে অবশ হয়ে গেলে তার ব্যক্তিসত্তা ধ্বংস বা অবশ হয়ে যায় না। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলে দেয়া বা পক্ষাঘাত শরীরের আংশিক মৃত্যুতুল্য , কিন্তু তা সত্ত্বেও যখন ব্যক্তিসত্তার আংশিক মৃত্যু ঘটে না তখন শরীর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলেও যে ব্যক্তিসত্তা ধ্বংস হয় না - এ ব্যাপারে সুস্থ বিচারবুদ্ধি মোটেই সন্দেহ পোষণ করে না।

বস্তুতঃ শরীর থেকে আত্মার বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহের অন্যতম কারণ হচ্ছে গোটা শরীরের প্রতিটি কোষ জুড়ে আত্মার অবস্থান। এ কারণেই অনেকে বুঝে উঠতে পারে না যে , শরীর ধ্বংস হয়ে গেলে এবং তার কোষগুলো পচেগলে বা ভস্মীভূত হয়ে প্রকৃতিতে মিশে গেলে তার আত্মা বা ব্যক্তিসত্তা ধ্বংস না হয়ে পারে কীভাবে।

বস্তুতঃ শরীর ও আত্মার ভিন্ন ধরনের অস্তিত্ব হওয়ার প্রতি দৃষ্টি না দেয়ার কারণেই এ ধরনের সংশয় সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ সংশয় নিরসনের জন্য বিদ্যুত ও বিদ্যুতবাহী তারের উপমা দেয়া যেতে পারে। তারের মধ্য দিয়ে বিদ্যুত প্রবাহিত হয় এবং যতোক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যুতপ্রবাহ অব্যাহত থাকে ততোক্ষণ পর্যন্ত তারের মধ্যে বিদ্যুত অবস্থান করে। কিন্তু বিদ্যুত তার ছাড়াও শূন্যস্থানের মধ্য দিয়ে (তরঙ্গ আকারে) প্রবাহিত হতে পারে (এবং যতোক্ষণ প্রবাহিত হয় ততোক্ষণ তা কোথাও না কোথাও অবস্থানও করে বটে) । আর তার ও বিদ্যুতের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য যতোখানি বস্তুগত শরীর ও তাতে বিরাজিত আত্মা বা ব্যক্তিসত্তার মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য তার চেয়ে অনেক বেশী।

ব্যক্তিসত্তার অমরত্ব

মোদ্দা কথা , বিচারবুদ্ধির রায় অনুযায়ী , শরীরের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে আত্মা বা ব্যক্তিসত্তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া অপরিহার্য নয় , বরং তার টিকে থাকাই অপরিহার্য। কারণ , মানবপ্রকৃতি এটাই দাবী করে।

মানুষমাত্রই অনন্তকাল টিকে থাকতে চায়। এই টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা মূলতঃ ব্যক্তিসত্তার টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষা। এ কারণেই মানুষ বিকলাঙ্গ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েও বেঁচে থাকতে চায়। এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি পুরোপুরি সংজ্ঞাহারা হয়ে যায় এবং তার সংজ্ঞা ফিরে পাবার আর কোনোই সম্ভাবনা না থাকে তথাপি তার স্বজনরা চায় যে , সে ঐ অবস্থায় হলেও বেঁচে থাক। শুধু তা-ই নয় , কোনো সুস্থ ব্যক্তির কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় যে , সে ঐ ধরনের অবস্থার শিকার হলে মৃত্যু বা ঐ ধরনের অবস্থায় বেঁচে থাকার মধ্যে কোনটিকে সে অগ্রাধিকার দেয় , তো সাধারণতঃ সে ঐ অবস্থায় হলেও বেঁচে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয়। ঐ অবস্থায় ব্যক্তির ব্যক্তিসত্তা তার শরীরকে আশ্রয় করে অবস্থান করে বিধায়ই স্বজনরা তার ব্যক্তিসত্তাকে তাদের কাছে রাখতে চায় বলে এবং স্বয়ং তার ব্যক্তিসত্তাও স্বজনদের কাছে থাকতে চায় বিধায় ঐ অবস্থায় তাকে বাঁচিয়ে রাখাকে বা ঐ অবস্থায় বেঁচে থাকাকে অগ্রাধিকার প্রদান করে থাকে।

আমরা দেখতে পাই যে , শুধু মানুষের মধ্যে নয় , কম-বেশী স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী যে কোনো প্রাণশীল সৃষ্টির মধ্যে যতো ধরনের কামনা-বাসনা রয়েছে তার সব কিছুই পূরণের ব্যবস্থা বা সম্ভাবনা প্রাকৃতিক জগতে নিহিত রয়েছে। এ ধরনের কোনো প্রাণীর এমন কোনো অভাববোধ নেই যা পূরণের আয়োজন বা উপকরণাদি বা সম্ভাবনা প্রকৃতির বুকে নিহিত রাখা হয় নি। ক্ষুধার জন্য খাদ্য , পিপাসার জন্য পানি , শোনার জন্য সুন্দর সুর , দেখার জন্য মনোরম দৃশ্য , ঘ্রাণ নেয়ার জন্য সুগন্ধি , স্পর্শ করার জন্য মোলায়েম বা পুলকসঞ্চারক বা আরামদায়ক উপায়-উপকরণ , ঊষ্ণতা ও শীতলতা , নারীর যৌন কামনা পূরণের জন্য পুরুষ ও পুরুষের যৌন কামনা পূরণের জন্য নারী ইত্যাদি প্রতিটি কামনা-বাসনা পূরণের জন্যই উপায়-উপকরণ বা সম্ভাবনা নিহিত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মানুষের মধ্যে এমনকি মাছের মতো ডুবে থাকার , পাখীর মতো ওড়ার , শুধু তা-ই নয় , নক্ষত্রলোকে উপনীত হবার আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি সে সব সম্ভব হওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এমতাবস্থায় , মানুষ তার ব্যক্তিসত্তার অমরত্ব কামনা করে , অথচ তা অমর হবে না , বরং শরীরের মৃত্যুর সাথে সাথেই তার ব্যক্তিসত্তার বিলুপ্তি ঘটবে - এটা হতেই পারে না ; এটা কেউ ভাবতেই পারে না।

এমনকি যারা দাবী করে যে , শরীরের মৃত্যুর সাথে সাথেই ব্যক্তিসত্তা ধ্বংস হয়ে যায় তাদেরও অবচেতন মনে ব্যক্তিসত্তার অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। শুধু আকাঙ্ক্ষা নয় , বরং অবচেতন মনে তারাও ব্যক্তিসত্তার অমরত্বে প্রত্যয় পোষণ করে। এ কারণেই দেখা যায় , সারা জীবন সৃষ্টিকর্তা ও আত্মার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে এমন বস্তুবাদী নাস্তিক ব্যক্তিরাও মৃত্যুশয্যায় অস্থির ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে , ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে ; মৃত্যুবরণ করতে ভয় পায়। কেন তাদের এ অস্থিরতা ও আতঙ্ক ? কিসের ভয় তাদের ? মৃত্যুতে ব্যক্তিসত্তার বিলুপ্তি ঘটলে তো মৃত্যুতে ভয়ের কিছুই নেই। বরং সুখ-দুঃখের পৃথিবীতে বেঁচে থেকে সুখের লোভে দুঃখ পাওয়ার সম্ভাবনাজনিত দুশ্চিন্তা বয়ে বেড়াবার চেয়ে মরে গিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াই তো উত্তম।

আসলে মুখে অস্বীকার করলেও সচেতনভাবে বা অবচেতন মনে তারা আত্মা বা ব্যক্তিসত্তার অমরত্বে প্রত্যয় পোষণ করে। এ কারণেই , মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এক অজানা নতুন জগতে প্রবেশ করতে তারা ভয় পায়। কারণ , যে কোনো নতুন ও অজানা জায়গায় ও পরিবেশে প্রবেশ করতে গিয়ে ভয় পাওয়া মানবপ্রকৃতির বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই তারা ভয় পায়।

বস্তুতঃ শুধু মরতে না চাওয়ার মধ্যে নয় , এমনকি মরতে চাওয়ার মধ্যেও আত্মা বা ব্যক্তিসত্তার অমরত্বের প্রমাণ নিহিত রয়েছে।

মানুষ কখন আত্মহত্যা করে ? যখন সে কারো কাছ থেকে বা কোনো বিশেষ অবস্থা থেকে বাঁচতে চায় তখন সে আত্মহত্যা করে। যেহেতু সশরীরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি , সমষ্টি , অবস্থা বা পরিস্থিতি থেকে পলায়ন করা সম্ভব নয় সেহেতু আত্মা বা ব্যক্তিসত্তা আত্মহত্যা করে দেহের কারাগার থেকে নিজেকে মুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কষ্টদায়ক ব্যক্তি বা সমষ্টির ধরাছোঁয়ার বাইরে বা বিশেষ পরিবেশ-পরিস্থিতির বাইরে পালিয়ে যেতে চায়। অর্থাৎ সে তার ব্যক্তিসত্তাকে শরীর থেকে স্বতন্ত্র ও অমর গণ্য করে বলেই আত্মহত্যা করে , যদিও সে সব সময় এ সম্বন্ধে সচেতন থাকে না।