আল হাসানাইন (আ.)

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াত-পূর্ব জীবন

0 বিভিন্ন মতামত 00.0 / 5
বক্ষ্যমান নিবন্ধটি রাসূল (সা.)-এর নবুওয়াত-পূর্ব জীবনের ওপর আলোকপাত করার একটি প্রচেষ্টা । এখানে রাসূল (সা.)-এর জন্ম, শৈশব, তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ হওয়া এবং পৌত্তলিকতা বিরোধী যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।

নবী (সা.)-এর জন্ম

নবী (সা.)-এর জীবনীকারদের মধ্যে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভিন্নমত রয়েছে । সবগুলো একত্র করলে জন্মতারিখ নিয়ে প্রায় বিশটি মত পাওয়া যায় ১ যদিও সুন্নী ও শিয়া ঐতিহাসিক ও হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে এক বিরাট সংখ্যক হাতিবর্ষ অর্থাৎ ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আউয়াল২ মাসে রাসূল (সা.) জন্মগ্রহণ করেন এ ব্যাপারে ঐকমত্য৩ পোষণ করেন । শুরু থেকেই সুন্নী ও শিয়াদের মধ্যে রাসূল (সা.)-এর জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং এ মতভেদ তাদের রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে  যেখানে তাঁরা রাসূল (সা.)-এর জন্মতারিখ নিয়ে আলোচনা করেছেন৪ ।

শিয়ারা ১৭ রবিউল আউয়ালকে আর অধিকাংশ সুন্নী ১২ রবিউল আউয়ালকে রাসূল (সা.)-এর জন্মদিন হিসাবে গণ্য করে । শিয়াদের মধ্যে শুধু আল্-কুলাইনী৫ ১২ রবিউল আউয়ালকে৬ রাসূল (সা.)-এর জন্মদিন বলে সমর্থন করেছেন ।

সুন্নী জীবনীকারগণ রাসূল (সা.)-এর জন্মদিন নিয়ে ঐতিহাসিকদের৭ মধ্যে মতভেদের কথা উল্লেখ করলেও ইবনে ইসহাক এবং অন্য জীবনীকারগণ৮ বলেন, অধিকাংশ ঐতিহাসিক এ ব্যাপারে একমত যে, মুহাম্মাদ (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন । ইবনে ইসহাকের মতে রাসূল (সা.) হাতিবর্ষের৯ ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার জন্মগ্রহণ করেন । সুন্নীরা সাধারণভাবে সোমবারকে রাসূলের জন্মদিন১০ হিসাবে মানে অন্যদিকে শিয়ারা শুক্রবারকে১১ জন্মদিন হিসাবে গণ্য করে । বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে প্রতি বছর ১২ থেকে ১৭ রবিউল আউয়াল রাসূল (সা.)- এর জন্মবার্ষিকী হিসাবে পালিত হয়ে আসছে । এ সপ্তাহকে ‘ঐক্য সপ্তাহ’ ঘোষণা করা হয়েছে । এটি প্রমাণ করে যে, প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ বিশ্বাসের পাশাপাশি অন্যদের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারে ।

তের শতকের শিয়া জীবনীকার আল্-ইরবিলি১২ বলেন যে, তিনি মনে করেন রাসূল (সা.)-এর জন্মদিন নিয়ে এরকম মতভেদ থাকা স্বাভাবিক । কারণ, দিন ও পঞ্জিকা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তখন আরবরা শিশুদের জন্মতারিখ সংরক্ষণ করতে পারত না । তাঁর কাছে বরং রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুদিবস১৩ নিয়ে জীবনীকারদের মধ্যে মতভেদকে অযৌক্তিক বলে মনে হয় ।

অলৌকিক ঘটনাবলী

কিছু সংখ্যক জীবনীকারের মতে রাসূল (সা.)-এর জন্মের আগে-পরে কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটেনি । তাঁদের মতে আমেনার গর্ভধারণ এবং প্রসবের১৪ আগে-পরে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি । তথাপি কিছু সংখ্যক সুন্নী ও শিয়া জীবনীকার রাসূল (সা.)-এর জন্মের পূর্বে ও পরে১৫ কিছু অলৌকিক ঘটনা বর্ণনা করেছেন ।

রাসূল (সা.)-এর দুধপান

রাসূল (সা.) তাঁর মা ব্যতীত অন্য মহিলার দুধ কেনো পান করেছেন । জীবনীকারগণ একমত যে, রাসুল (সা.) স্বল্প সময়ের জন্য আবু লাহাবের দাসী শুয়াইবার দুধ পান করেছেন । অতঃপর আবু যোআইব-এর কন্যা হালিমা আল্ সাদিয়া এ ইয়াতিম ব্যতীত অন্য কোনো শিশু না পাওয়ায় রাসূল (সা.)-কে প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন । হালিমা বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মাদ (সা.)-কে গ্রহণের পরপরই তিনি সব ধরনের আশীর্বাদ এবং কল্যাণপ্রাপ্ত হন । তিনি রাসূল (সা.)-কে পূর্ণ দুই বছর প্রতিপালন করে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দেন ।১৬

ইবনে ইসহাক হালিমা সম্পর্কে বলেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূল (সা.) অন্য শিশুদের থেকে আলাদাভাবে বেড়ে ওঠেন । তাঁর কারণে প্রাপ্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা সত্ত্বেও দুই বছর পর আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে আসলাম । আমি তাকে বললাম, ‘আপনার শিশুটিকে আমার সাথে থাকতে দিন যতদিন না সে পরিপূর্ণ বালকে পরিণত হয় । কারণ, মক্কার দূষিত পরিবেশ তার ক্ষতি করবে বলে আশংকা করছি ।’ আমাদের কাছে তাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এভাবে আমরা তাঁর মায়ের কাছে আবদার করতে থাকলাম ।১৭
 
রাসূল (সা.) কি ইয়াতিম বলে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন?

হালিমা এবং অন্য ধাত্রী মায়েরা রাসূল (সা.) ইয়াতিম বলে তাঁর প্রতিপালনের বিনিময় পাওয়া যাবে না এ আশংকায় তাঁকে নিতে অস্বীকার করে । মোহাম্মদ হুসাইন হাইকেল (সুন্নী জীবনীকার) বলেন, ধাত্রী মায়েরা শিশুর পিতার১৮ কাছ থেকে ভালো বিনিময় না পাওয়ার আশংকায় ইয়াতিম শিশুদের প্রতিপালনে আগ্রহ দেখাত না । বিধবা মায়ের সন্তান মুহাম্মাদ এ জন্যই তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছিল না । তাদের মধ্যে কেউই জীবিত ও ধনী পিতাদের সন্তান রেখে মুহাম্মাদকে গ্রহণ করতে রাজী হচ্ছিল না ।১৯ সীরাত গ্রন্থে ইবনে ইসহাক হালিমার সম্পর্কে বলেন, ‘একজন ইয়াতিম! তার মা ও দাদা কি বিনিময় দিতে পারবে ? সে জন্যই আমরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান২০ করলাম ।’

সাইয়্যেদ জাফর মুরতাজা (শিয়া জীবনীকার) একইভাবে বর্ণনা করেন যে, হালিমা প্রথমে মুহাম্মাদ (সা.)-কে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ব্যতীত ২১ অন্য কোনো বাচ্চা না পাওয়ায় তাঁকে গ্রহণ করেন । তথাপি তিনি অন্য শিয়া মনীষীদের মতো এ বর্ণনাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নিতে পারেননি । কারণ, কেউ বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.)-এর পিতা আবদুল্লাহ তাঁর জন্মের সময় বেচে ছিলেন এবং তাঁর জন্মের কয়েক মাস পর মৃত্যুবরণ করেন । কেউ বর্ণনা করেন, তাঁর পিতা রাসূল (সা.)-এর জন্মের ৭ মাস বা ১৭ মাস২২ পর মৃত্যুবরণ করেন । আবার কেউ
বলেন, রাসূল (সা.)-এর জন্মের২৩ ২৮ মাস পর তাঁর পিতা আবদুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন । সুতরাং রাসূল (সা.) জন্মের সময় ইয়াতিম ছিলেন কিনা এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই । যদিও আমরা ধরে নেই যে, তিনি জন্মের সময় ইয়াতিম ছিলেন তথাপি তিনি এক সম্মানিত এবং ধনাঢ্য ব্যক্তি আবদুল মুত্তালিব-এর উত্তরাধিকারী ছিলেন । হাতিবর্ষে২৪ যাঁর সম্পদের মধ্যে শুধু উটের সংখ্যা ছিল ২০০টি । লোকেরা তাঁকে দাতা এবং মহান ব্যক্তি হিসাবে জানত । তারা এও জানত যে, তাঁর পুত্রবধূ এক ধনী পরিবারের সন্তান । সুতরাং অন্যান্য ধনী পরিবারের শিশুদের মোকাবিলায় মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো একজন ইয়াতিম ধাত্রী মাতাদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হবার কোনো যুক্তি নেই । দাদার আশ্রয়ে২৫ থাকাকালে সম্পদের ওপর তাঁর অধিকার সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই । তদুপরি আমাদের এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, মক্কায় শিশুদের ধাত্রী মায়ের কাছে রেখে প্রতিপালনকে আভিজাত্যের২৬ অংশ হিসাবে দেখা হতো যার অগ্রভাগে ছিলেন আবদুল মুত্তালিব ।

ধাত্রী মা নিয়োগের রেওয়াজ

অন্যান্য শিশুর মতো রাসূল (সা.) মরুচারী গোত্রের এক ধাত্রী মায়ের দুধ পান করেছেন । এটি ছিল তৎকালীন মক্কার অভিজাত পরিবারের একটি রেওয়াজ । তারা তাদের আট দিন বয়সের বাচ্চাকে দুধ পানের জন্য কোনো এক মরু পরিবারে পাঠাতো এবং সেখানে তারা আট/দশ বছর পর্যন্ত প্রতিপালিত হতো । কোনো কোনো মরু গোত্রের বিশেষ করে বনু সা‘দ২৭ গোত্রের ধাত্রী মায়েদের এ কাজে বেশ সুনাম ছিল । এ রেওয়াজের পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণও নিহিত ছিল :
 
১. মরুভূমির নির্মল বায়ু সেবনের ফলে শিশুরা দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং মরুজীবনের কষ্টকর পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে বিভিন্ন পরিবেশে২৮ খাপ খাইয়ে চলার যোগ্যতা তৈরি হয়;

২. মক্কার মিশ্র সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং হজ্ব ও বাণিজ্যিক কাফেলার সাথে মেশার সুযোগ থেকে বহু দূরে মরুভূমির এককেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তারা শুদ্ধ এবং ধ্রুপদী আরবি ভাষা রপ্ত করার সুযোগ পায় । মক্কাবাসী অধিকাংশ ক্ষেত্রে বনু সা‘দ গোত্রের ধাত্রীদের কাছে বাচ্চা প্রতিপালনের দায়িত্ব দিতে পছন্দ করত । কারণ, আরবের শহর ও মরু২৯ এলাকার বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বনু  সা‘দ ছিল শুদ্ধ আরবি সংস্কৃতির ধারক ।
সেজন্য রাসূল (সা.) তাঁর অনুসারীদের বলতেন, ‘আমি তোমাদের সবার চাইতে খাঁটি
আরব । আমি কুরাইশ এবং বনু  সা‘দ বিন বকর৩০ গোত্রের ধাত্রী মায়ের দুধ পান
করেছি এবং তাদের মাঝে বড় হয়েছি ।’

৩. মরুভূমির নির্মল পরিবেশ বেড়ে ওঠা শিশুরা সাহসী ও সিংহ হৃদয়ের অধিকার হয় এবং স্বাধীন ও মুক্ত৩১ মনের মানুষ হয়ে ওঠে;
৪. মরুভূমির সরল এবং নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ শিশুদের মানসিক বিকাশের সহায়ক এবং এটি তাদের বুদ্ধিবৃত্তি এবং মেধা তৈরি করে । তারা হয় প্রকৃত বুদ্ধিমান ও মেধাবী । কারণ, তারা শহরের গ্লানি ও ক্লেশ থেকে মুক্ত এক সাধারণ ও অধিকতর
প্রাকৃতিক পরিবেশে৩২ বাস করে;

৫. বর্ণিত আছে যে, হালিমা যখন দুই বছর পর মুহাম্মাদ (সা.)-কে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে আসেন তখন মক্কায়৩৩ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল বলে তিনি আবার তাঁকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছেন ।

গরমকালে মক্কায় উষ্ণ এবং খারাপ আবহাওয়া থাকায় শিশুরা বড়দের চাইতে বেশি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকায় থাকে সেজন্য গরমকালে মক্কা নবজাতকদের জন্য মোটেই উপযোগী থাকে না । সেজন্য মক্কাবাসী তাদের নবজাতক বাচ্চাদের মরুভূমিতে পাঠায় যাতে তারা মক্কার গরম, উষ্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর হাওয়া থেকে নিরাপদ থাকে । এজন্য তারা তাদের শিশুদের জন্য ধাত্রী মায়ের খোঁজ করে- যাতে তারা কয়েক বছর মক্কার বাইরে থেকে বেড়ে উঠতে পারে । উপরোল্লিখিত দু’টি কারণ নির্ভরযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে । দ্বিতীয় কারণটি ইবনে ইসহাকের ‘সিরাত’৩৪ গ্রন্থে একটি হাদীস হিসাবে এবং পঞ্চমটি ইবনে আসির হাদীস৩৫ হিসাবে বর্ণনা করেছেন । এটি তাবারী তাঁর নবীর ইতিহাস৩৬ গ্রন্থে এবং হাইকেল তাঁর হায়াত৩৭ গ্রন্থে হালিমা প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন । বাকী কারণগুলো জীবনীকারগণ তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন ।
 
রাসূলের বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা

সুন্নী এবং শিয়া উভয় সূত্রে বর্ণিত হাদীস থেকে রাসূল (সা.)-এর বক্ষ বিদীর্র্ণ হওয়ার ঘটনা জানা যায় । যদিও ঘটনাটি মূলত সুন্নীদের সংকলিত হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে; তথাপি এটি শিয়াদের গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে । বিভিন্ন জীবনীকার এ অস্বাভাবিক ঘটনা সম্পর্কে নানা অভিমত পোষণ করেছেন । মোটের ওপর অধিকাংশ সুন্নী পন্ডিত এটিকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে গণ্য করেছেন অপরদিকে শিয়া পন্ডিতগণ এ ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেছেন ।

ইবনে ইসহাক হালিমা প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, হালিমা বলেন,
‘আমরা ফেরত আসার কয়েক মাস পর সে এবং তাঁর ভাই ভেড়া চরানোর জন্য তাঁবুর আড়ালে গিয়েছিল । হঠাৎ তার ভাই দৌড়ে আসল এবং বলল, ‘সাদা পোশাকধারী দু‘জন লোক আমার কুরাইশ ভাইকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর পেট চিরে ফেলেছে ।’ আমরা দৌড়ে তাঁর নিকট গেলাম এবং দেখতে পেলাম সে মলিন চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আমরা তাঁর হাত ধরে কি ঘটেছিল তা জানতে চাই । সে বলল, দুজন সাদা পরিচ্ছদধারী ব্যক্তি এসে আমাকে শুইয়ে দিল এবং আমার পেট চিরে কি যেন খোঁজাখুঁজি করল । অতঃপর আমরা তাঁকে তাবুতে ফেরত নিয়ে গেলাম ।৩৮
এ ঘটনার পর হালিমা মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য উদগ্রীব হলেন । ইবনে ইসহাক খালিদ বিন মাদান নামক এক ব্যক্তি থেকে রাসূল (সা.)-এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন যে, রাসূল বলেন :‘আমি যখন বনু সাদ বিন বকর গোত্রে দুগ্ধপোষ্য ছিলাম তখন একদিন আমার দুধ
ভাইসহ ভেড়ার পাল চরানোর জন্য তাঁবুর আড়ালে গেলাম । হঠাৎ দু‘জন সাদা পোশাকধারী লোক হাতে বরফ ভর্তি সোনার থালাসহ আমার নিকট আসল । তারা আমাকে ধরে শুইয়ে দিল এবং আমার পেট চিরে ফেলল; আমার হৃদয় বের করে চিরে ফেলল; ওটার ভেতর থেকে কালো কোনো বস্তু বের করে ছুঁড়ে ফেলল; আমার হৃদয় এবং পেট পূর্ণ পরিস্কার না হওয়া পর্যন্ত বরফ দিয়ে ধৌত করল৩৯ ।’
মুসলিমের সহীহ গ্রন্থে ঘটনাটি বর্ণনার ধারাক্রমে আনাস বিন মালিক থেকে উদ্ধৃত হয়েছে । আনাসের হাদীস মতে কালো বস্তুটি ছিল রাসূল (সা.)-এর হৃদয়ে শয়তানের অংশ । বর্ণনার শেষের দিকে আনাস বলেন যে, তিনি রাসূল (সা.)-এর বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ার দাগ প্রায়ই দেখতে পেতেন ।৪০

এ কাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মূল্যায়ন

হাইকেল এ কাহিনী মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘প্রাচ্যবিদগণ এবং অনেক মুসলিম পন্ডিত এটা বিশ্বাস করেন না এবং এটিকে বানানো গল্প বলে মনে করেন । জীবনীকারগণ এ ব্যাপারে একমত যে, দু’বছরের এক বালক সাদা পোশাকধারী দুজন লোক দেখেছেন বলে যে দাবী করা হয় তা মোটেও নির্ভরযোগ্য নয় । কারণ, মুহাম্মদ (সা.) মরুভূমির বনু সাদ গোত্রের সাথে পাঁচ বছর বয়স
পর্যন্ত বাস করেন । মুহাম্মদ (সা.)-এর আড়াই বছর বয়সে এ ঘটনা ঘটার পর হালিমা এবং তাঁর স্বামী তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে যান বলে যে দাবি করা হয় তা এ সাধারণ ঐকমত্যের বিপরীত । অপরদিকে কোনো কোনো লেখক এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন যে, মুহাম্মাদ (সা.) হালিমার কাছে তৃতীয় বারের৪১ মতো ফেরত আসেন ।

বাড়তি প্রমাণ হিসাবে হাইকেল দু‘জন প্রাচ্যবিদ ম্যুর এবং ডারমেনহেম-এর ধারণা তুলে ধরেছেন । ম্যুর বলেছেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন; কারণ, এ গল্পে অসংখ্য সুন্দর উপাখ্যান রয়েছে । তিনি ইতি টানেন এই বলে যে, মুহাম্মাদ (সা.)-এর স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক ধারণা পোষণ না করেও বলা যায় যে, এ গল্পের উৎপত্তি সম্ভবত ভীতি বা মৃগী রোগের উপসর্গ ।৪২
ডারমেনহেম বিশ্বাস করেন যে, কুরআনের সূরা আল্ ইনশিরাহ-র একটি আয়াতের ধারণাগত ব্যাখ্যা থেকে এ গল্পের উৎপত্তি হয়েছে- ‘আমরা কি তোমার বক্ষ উন্মুক্ত করিনি এবং আমরা কি তোমার পৃষ্ঠদেশে চেপে থাকা বোঝা লাঘব করিনি?’৪৩ ডারমেনহেম-এর কুরআনের আয়াতের৪৪ ব্যাখ্যাগত এ ধারণা থেকে হাইকেল এ বলে উপসংহার টেনেছেন যে, নিশ্চয়ই এ আয়াতে কুরআন কোনো একটি অলৌকিক ঘটনার প্রতি ইংগিত করেছে । এটি মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবুওয়াতের দায়িত্ব ও বোঝা বহনের উপযোগী করার জন্য তাঁর আত্মিক পরিশুদ্ধিকে বুঝিয়েছে । এ সমস্ত প্রাচ্যবিদ এবং মুসলিম চিন্তাবিদের এ রকম ধারণার পেছনে অন্তর্নিহিত কারণ হলো তাঁরা মনে করতেন মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন ছিল একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং তাঁর নবুওয়াত এবং তিনি নিজে কখনও পূর্ববর্তী নবীদের অনেকের মতো অলৌকিকতার পেছনে ছুটতেন না ।

এ আবিস্কার আরব ও মুসলিম ঐতিহাসিকদের দ্বারা সমর্থিত যারা ক্রমাগত জোর দিয়ে এসেছেন যে, নবীর জীবন যে কোনো অযৌক্তিক বিষয় বা রহস্য থেকে মুক্ত এবং উল্লিখিত ঘটনা ‘আল্লাহর সৃষ্টি যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণযোগ্য, তাঁর আইন অপরিবর্তনীয় এবং বিধর্মীরা ঘটনার স্বাভাবিকতায় বিশ্বাসী নয়৪৫ বলে নিন্দনীয়’- কুরআনের এ দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত । হাইকেলের মতে নবী (সা.) কখনও অযৌক্তিক এবং অলৌকিক কোনো ব্যাপারে জড়িত ছিলেন না ।

সহীহ মুসলিম থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এস. জাফর মুরতাজা মন্তব্য করেন যে, সুন্নী হাদীস ও সিরাত গ্রন্থে সাধারণত এ গল্প বর্ণিত আছে । এ সকল গ্রন্থের বর্ণনা মোতাবেক নবী (সা.)-এর বক্ষ বহুবার বিদীর্ণ করা হয়েছে । প্রথমবার তাঁর তিন বছর বয়সে যখন তিনি বনু  সা‘দ গোত্রে বাস করেন; দ্বিতীয়ত তাঁর ১০ বছর বয়সে; তৃতীয়বার তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় এবং চতুর্থবার তাঁর মেরাজে গমন এবং বেহেশতে ভ্রমণের সময় । বর্ণনাকারিগণ সম্ভবত তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির চিন্তা করে একই ঘটনা বারংবার বর্ণনা করেছেন । মুরতাজা এ কাহিনীর মাধ্যমে কিছু দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা করেছেন যা
নিম্নরূপ :
 
১. এ কাহিনীর মাধ্যমে নবুওয়াত প্রাপ্তির বহু পূর্বেই তাঁর নবুওয়াতের নিশানা এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি সম্পর্কে ধারণা দেয়া;

২. এটি আল্ কুরআনের সূরা ইনশিরাহর একটি আয়াতের ধারণাগত ব্যাখ্যা, যা পূর্বেই
  উল্লেখ করা হয়েছে;

৩. এ কাহিনী সত্য ও নির্ভরযোগ্য নয় বলেই প্রতিপন্ন হয় । কারণ, নবী (সা.) পবিত্র সত্তা নিয়ে এবং সকল ত্রুটি, অসম্পূর্ণতা ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন ।

৪. এটি অমুসলিম পন্ডিতদের বানানো একটি অসত্য কাহিনী যা তাঁরা পরিহাসচ্ছলে অথবা তাঁদের কোনো অসত্য ধারণার প্রমাণ স্বরূপ দাঁড় করিয়েছেন । উদাহরণস্বরূপ, খ্রিস্টানরা এটি বলে থাকে যে, কোনো মানুষ এমনকি ইসলাম ধর্মের নবী অভ্রান্ত নয়
বরং যীশু (যাঁকে কখনই শয়তান স্পর্শ করেনি) ছাড়া প্রত্যেকেই ত্রুটিপূর্ণ কাজ করেছেন । তারা উপসংহার টানে এভাবে যে, একমাত্র যিশু ছিলেন মানব সত্তার ঊর্ধ্বে এবং প্রকৃত অর্থে তিনি মানবের আকৃতিতে ছিলেন এক ঐশী সত্তা । সুতরাং তাদের মতে মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন অপবিত্র যা বক্ষ বিদীর্ণের গল্প ফেদে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে ।
প্রাচ্যবিদদের মধ্যে ডারমেনহেম তাঁর ‘দি লাইফ অব মোহামেট’ গ্রন্থে লিখেছেন,‘বক্ষ বিদীর্ণের উপাখ্যানের মাধ্যমে একটি গোঁড়া মতবাদ তুলে ধরা হয়েছে । কালো দাগ মুছে ফেলার মাধ্যমে আদমের আদি পাপের সাথে এর যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে যা থেকে তাদের দাবি মতে শুধু মেরী ও যীশু মুক্ত ছিলেন ।’

অন্যদিকে মুরতাজা এ কাহিনীর সত্যতা সরাসরি অস্বীকার করে একে একটি জাহেলী হাদীস বলেছেন যার শিকড় জাহেল লোকের জাহেলী চিন্তার মধ্যে নিহিত । ‘আগানী’-কে উদ্ধৃত করে তিনি দেখিয়েছেন যে, জাহেলী যুগে এ ধরনের গল্পের অস্তিত্ব ছিল । আগানীর মতে উমাইয়্যা বিন আবি আল্ সালত নামক এক জাহেল (অজ্ঞ) লোকের ক্ষেত্রে চার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে যখন সে তার বোনের বাড়িতে ঘুমাচ্ছিল । তার বেলায় দুটি পাখি অবতীর্ণ হয় এবং এদের মধ্যে একটি তার বক্ষ বিদীর্ণ করে । তার দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে এস. জাফর মুরতাজা প্রশ্নাকারে সাতটি কারণ উল্লেখ
করেছেন যা নিম্নরূপ :

১. ইবনে ইসহাক-এর সিরাত গ্রন্থে এক জ্ঞানী ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যে ঘটনার কারণে হালিমা নবী (সা.)-কে তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে যান তা উপরোল্লিখিত কাহিনীর কারণের চাইতে ভিন্ন ছিল । তাঁর মতে কারণটি ছিল- ‘কিছু সংখ্যক আবিসিনীয় খ্রিস্টান তাঁকে দুধ ছাড়ানোর পর ফেরত দেয়ার সময় হালিমার সাথে দেখেছে । তারা হালিমার দিকে তাকিয়ে তাঁর সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল এবং তাঁকে সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করেছিল এবং হালিমাকে বলেছিল, ‘চল আমরা বালকটিকে আমাদের দেশের রাজার কাছে নিয়ে যাই; কারণ, তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল । আমরা তাঁর
সম্পর্কে সবই জানি ।’ যে লোক আমাকে এ ঘটনা বর্ণনা করেছে সে বলেছে, হালিমা তাঁকে কোনোক্রমে তাদের হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছিল ।
সুতরাং যে হাদীস দ্বারা এটি প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, তাঁর দুধ-মা তাঁকে মরুভূমিতে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণের ঘটনার পর তাঁর মায়ের কাছে ফেরত দিতে আসেন তা সন্দেহযুক্ত ।

২. এটি কি করে সম্ভব যে, নবী (সা.)-কে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণের কারণে মায়ের কাছে ফেরত প্রদান করা হলো ? একদিকে বলা হচ্ছে এ ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল দুই বা তিন বছর কয়েক মাস । অন্যদিকে বলা হচ্ছে তাঁর পাঁচ বছর বয়সের সময় মায়ের কাছে ফেরত দেয়া হয় । এ দু’টি বর্ণনাকে কী করে এক করা সম্ভব ?

৩. এটি কি বিশ্বাসযোগ্য যে, হৃদয়ের কালো দাগ যা আদি পাপের সাথে সংশ্লিষ্ট তা অপসারণের জন্য বক্ষ বিদীর্ণের মতো দৈহিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ? এতে কি প্রমাণ হয় যে, কোনো ব্যক্তি যার হৃদয়ে কালো দাগ রয়েছে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা অপসারণ করা হলে সে পবিত্র হয়ে যাবে ?  অথবা এটি কি বিশ্বাসযোগ্য যে, এমন একটি ঘটনার শুধু নবীজী (সা.) ছাড়া আর কেউ প্রত্যক্ষদর্শী থাকবে না ?  তাহলে কি মানবজাতির মধ্যে শুধু নবী (সা.) ব্যতীত আর কারো হৃদয়ে কালো দাগ ছিল না ?

৪. একই অস্ত্রোপচার কেনো দীর্ঘ বিরতি দিয়ে বারংবার (চার বা পাঁচ) করা হলো, এমনকি তাঁর নবুয়োত প্রাপ্তির বেশ কিছু বছর পর এবং ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ এবং মেরাজের সময় ? এটি কি এজন্য প্রয়োজন ছিল যে, শয়তানের কালো দাগ নবীর হৃদয়ে এত গভীরভাবে লেগে ছিল যে, তা বার বার পরিদৃষ্ট হচ্ছিল ? এটি কি ক্যান্সারের মতো যে, একবার অস্ত্রোপচারে তা অপসারণ না হওয়ায় বার বার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে? উপরন্তু, আল্লাহতাআলা কেনো তাঁর নবীকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য বার বার নির্যাতন ও শাস্তির সম্মুখীন করবেন ? তাঁর পক্ষে তাঁর নবীকে শয়তানি কালো দাগমুক্ত করে কি সৃষ্টি করা সম্ভব ছিল না ?

৫. যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো বান্দা নীতিহীন এবং পাপী যেন না হয় এটা চান তাহলে এটা কি জরুরি যে, তার ওপর এমন ভয়ানক শুদ্ধিকরণ ব্যবস্থা চালাবেন যা অন্যের দৃষ্টিগোচর হয় ? এবং এটি কি প্রমাণ করে না যে, নবী (সা.) অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো ভালো কাজ করতে বাধ্য ছিলেন যেহেতু তাঁকে এ প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পবিত্র করা হয় ?
 
৬. নবীদের মধ্যে কেনো শুধু মুহাম্মাদ (সা.)-কে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য বেছে নেয়া হয় ? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য যে, মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, পাশাপাশি তিনিই হলেন একমাত্র নবী যাঁর হৃদয়ের কালো দাগ মোচনের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল ? অথবা এটা কি সম্ভব যে, অন্য নবীদের হৃদয়েও এরকম শয়তানি ছাপ ছিল, কিন্তু যে সমস্ত ফেরেশতা অস্ত্রোপচারের জন্য দায়িত্ববান ছিলেন তাঁরা তখনও জানতেন না কী করে তা করতে হয় ?

৭. সর্বশেষ, এ কি কুরআনের সে আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যেখানে নিশ্চয়তা দিয়ে বলা হয়েছে : ‘যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর ওপর যাদের আস্থা আছে তাদের ওপর শয়তানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই’৬১; ‘না তাঁর খাঁটি বান্দা’৬২, ‘না তাদের ওপর যারা দায়িত্ববান এবং যাদেরকে পবিত্র করা হয়েছে ?’৬৩ ইসলামী চিন্তাধারা
অনুযায়ী রাসূলসহ সকল নবী আল্লাহর সবচেয়ে দায়িত্ববান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদেরকে আল্লাহ মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন । তাহলে শয়তান কি করে নবী (সা.)-এর ওপর রাত্রিকালে (মেরাজের রাত্রে) ঊর্ধ্বাকাশে যাত্রা এবং বেহেশতে আরোহণ৬৪ করার সময়ও তাঁর ওপর আধিপত্য এবং প্রভুত্ব বিস্তার করতে সক্ষম হয় ?

যা হোক, কাহিনীটি শুধু সুন্নীদের দ্বারা বর্ণিত হাদীসে স্থান পেয়েছে এবং এটি কখনই শিয়াদের ইমামদের নিকট থেকে বর্ণিত হয়নি ।৬৫

নবী (সা.) এবং অপবিত্র যুদ্ধ (হারব আল্ ফিজার)

যুদ্ধটি অপবিত্র যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত ছিল । কারণ, সে যুদ্ধে কিনানা এবং কায়েস আইনাল গোত্র পবিত্র মাসসমূহে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞা ভংগ করেছে । অধিকাংশ সুন্নী জীবনীকার এটি বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ (সা.) ফিজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর চাচার পাশে দাঁড়িয়েছেন । উদাহরণস্বরূপ, হাইকেল বলেন যে, মুহাম্মাদ (সা.) এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এ ব্যাপারে মোটামুটি ঐকমত্য রয়েছে । কেউ কেউ দাবি করেন যে, তিনি যে সমস্ত তীর মক্কার ঘাঁটিতে পড়েছিল তা সংগ্রহ করে পুনরায় ব্যবহারের জন্য তাঁর চাচাকে দিতেন । অন্যরা দাবি করে যে, তিনি নিজে তীর ছুঁড়ে সে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ।

সে যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.)-এর বয়স বিবেচনা করে হাইকেল আরও বলেন যে, ইতিহাস থেকে ফিজার যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.)-এর বয়স সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো কিছু জানা যায় না । কোনো কোনো বর্ণনায় তখন তাঁর বয়স পনের বা বিশ বলা হয়েছে । সম্ভবত বয়স বর্ণনায় এ পার্থক্যের কারণ ফিজার যুদ্ধ প্রায় চার বছর ধরে চলে । যদি মুহাম্মাদ (সা.) এর শুরু দেখে থাকেন তাহলে যুদ্ধ শেষে শান্তির৭০ সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর ।
 
ইবনে ইসহাক-এর ’সিরাত’ গ্রন্থে যুদ্ধের সময় নবী (সা.)-এর বয়স চৌদ্দ বা পনের এবং বিশ বছরের উল্লেখ রয়েছে । ইবনে হিশাম-এর মতে মুহাম্মাদ (সা.) যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ৭১ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল চৌদ্দ বা পনের । কিন্তু, একই সিরাত গ্রন্থে ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত , অপবিত্র যুদ্ধের সময় রাসূল (সা.)-এর বয়স ছিল বিশ৭২ । দু’টি বর্ণনা একত্র করে হাইকেল বলেন, ‘যেহেতু কথিত যুদ্ধ চার বছরব্যাপী চলেছে সেহেতু দু’টি বর্ণনাই সঠিক এরকম হওয়ার সম্ভাবনা নেই ।’৭৩ অতঃপর হাইকেল নবী (সা.)-এর এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং কতটুকু অংশগ্রহণ করেছেন তার সমর্থনে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন । নবুওয়াত প্রাপ্তির বেশ কয়েক বছর পর তিনি বলেন, ‘আমি আমার চাচার সাথে সে যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছি এবং কিছু তীরও ছুড়েছি । আফসোস! আমি যদি এটা না করতাম!’৭৪

রাসূল (সা.) ফিজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এটি কিছু সংখ্যক শিয়া মনীষীর কাছে অগ্রহণযোগ্য । এসব মনীষী তাঁদের দাবির সপক্ষে নিম্নের ৪টি প্রমাণ পেশ করেছেন :
১. এ যুদ্ধ পবিত্র মাসে শুরু হয় এবং রাসূল (সা.) ও তাঁর চাচা আবু তালিব কখনই এ মাসসমূহের পবিত্রতা ভংগ করেননি । যে কেউ রাসূল (সা.) এবং আবু তালিব-এর জীবনী পড়েছে তারা জানে রাসূল (সা.) ও তাঁর চাচা কীভাবে পবিত্র মাসসমূহের মর্যাদা রক্ষা করতেন । আল্ কাফি, আল্ গাদির এবং অন্য উৎসে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আবু তালিব বিশুদ্ধ ইবরাহীমী ধর্মে বিশ্বাস করতেন । উপরন্তু তিনি ইবরাহীমের ইচ্ছা এবং বিশ্বাসের বাস্তবায়ন করতেন । সুতরাং আবু তালিবের মতো একজন ধার্মিক ব্যক্তির ওপর কি করে পবিত্র মাসসমূহের অপবিত্রতা সাধনের অভিযোগ আনা যায় ? আবু তালিবের যুদ্ধে অংশগ্রহণ অস্বীকার করা হলে এর অর্থ দাঁড়ায় মুহাম্মাদ (সা.) যিনি তার তত্ত্বাবধানে এবং নির্দেশে চলতেন তিনি এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি ।৭৬

২. ইয়াকুবী বলেন : বর্ণিত আছে যে, আবু তালিব বনু হাশিম-এর কারো ফিজার যুদ্ধে যোগদান নিষিদ্ধ করে বলেন ‘এটি একটি অত্যাচার, একটি বৈরী আচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং পবিত্র মাসসমূহের মর্যদার পরিপন্থী ।’ আবু তালিব জোর দিয়ে বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের কেউ এ যুদ্ধে অংশ নিবে না । বনু হাশিম-এর একমাত্র জুবায়ের বিন আবদ আল্ মুত্তালিব তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং মিত্রদের চাপে পড়ে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । ইয়াকুবী আরও বলেন যে, আবদুল্লাহ বিন জাদান আল্ তাইমি এবং হারব বিন উমাইয়্যা বলে যে, তারা কোনো ব্যাপারে এমন কোনো অবস্থান কখনও বেছে নেবে না যা বনু হাশিম-এর অবস্থানের বিপরীত ।৭৭

৩. হাদীসের বৈপরীত্য আর একটি কারণ । কোনো কোনো হাদীসে তাঁর ভূমিকা সীমাবদ্ধ করেছে মক্কা শিবিরে যে সমস্ত তীর পড়ত তা কুড়ানো এবং বহন করার মধ্যে যাতে সেগুলো তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং তাঁকে এ বলে অভিযুক্ত করা হয় যে, তিনি তাঁর চাচার অস্ত্রশস্ত্র পাহারা দিতেন ।৭৮ একদল বর্ণনাকারী এটি বলেন যে, তিনি শত্রুর দিকে কিছু তীর ছুঁড়েছেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আক্ষেপ করতেন এ বলে যে, তিনি যদি এটা না করে থাকতেন ।৭৯ তৃতীয় এক দল বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সা.) আবু বারা (বনু কায়েস এর প্রধান এবং বর্শা নিক্ষেপক)-কে এমনভাবে আহত করেন যে সে ঘোড়া থেকে পড়ে যায় ।৮০

৪. কোনো কোনো বর্ণনা যেমন ইবনে হিশাম-এর বর্ণনা পরস্পর বিরোধী । প্রথমত তিনি বলেন যে, নবী (সা.) তাঁর চৌদ্দ বছর বয়সে ফিজার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । কিন্তু শেষের দিকে ইবনে ইসহাক এ অভিমত তুলে ধরে বলেন যে, নবী (সা.)-এর বয়স যখন ২০ অর্থাৎ হাতি বর্ষের বিশ বছর পর ফিজারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় । ৮১ পরস্পর বিরোধিতার আর একটি উদাহরণ হলো ইয়াকুবীর বর্ণনা যাতে বলা হয়েছে হারব বিন উমাইয়্যা ফিজার-এর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি । অথচ অন্য বর্ণনাকারীদের মতে হারব যখন কুরাইশ এবং কিয়ানা গোত্রের প্রধান ছিলেন তখন এ যুদ্ধে অংশ্রগহণ করেন ।৮২

উপসংহারে আমরা বলতে পারি, রাসূল (সা.) না ফিজারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, না এ যুদ্ধে কোনো পক্ষ অবলম্বন করেছেন । বর্ণনাকারীদের বর্ণনার বৈপরীত্যের কারণ হলো উমাইয়্যারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এ ধরনের অতিরঞ্জনের আশ্রয় নিয়েছে ।

রাসূল (সা.)-এর শাম যাত্রা

অনেকগুলো ঘটনার মধ্যে আমরা এমন একটি বিখ্যাত ঘটনার উল্লেখ করতে পারি যেটি প্রায় সকল ঐতিহাসিক এবং জীবনীকার গ্রহণ করেছেন । সেটি হলো চাচা আবু তালিব-এর সাথে প্রথম শাম সফরে ধর্মযাজক বাহিরা কর্তৃক তাঁর নবী হওয়ার ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণীর কথা । ইবনে ইসহাক-এর মতে ঘটনাটি ছিল এরকম- তিনি (বাহিরা) কাফেলার লোকদের মধ্যে মেঘের ছায়াসহ আল্লাহর নবীকে দেখতে পেলেন । তারা ধর্মযাজকের নিকটবর্তী একটি গাছের ছায়ায় এসে থামল । তিনি মেঘের দিকে তাকিয়ে দেখলেন মেঘ গাছটিকে ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে এবং ছায়ায় অবস্থান করা পর্যন্ত
গাছের ডালগুলো নবী (সা.)-এর ওপর নুয়ে পড়েছিল ।৮৪ বাহিরা এ অসাধারণ ঘটনা দেখার পর নবী (সা.)-এর দিকে ভালো করে তাকিয়ে ‘বাইবেলে বর্ণিত লক্ষণসমূহ খুঁজছিলেন’ । তিনি তাঁকে অনেক প্রশ্ন করলেন ‘এবং নবী (সা.) তাঁকে যা বললেন তার সাথে বাহিরা যা জানতেন তাঁর মিল খুঁজে পেলেন ।’৮৫ বাহিরা তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এবং আবু তালিবকে পরামর্শ দিলেন : ‘আল্লাহর ওয়াস্তে তাঁকে ইয়াহুদীদের থেকে রক্ষা করেন! কারণ, যদি তারা তাঁকে দেখতে পায় এবং আমি যা জানি তা যদি জানতে পায় তাহলে তারা তাঁর ক্ষতি করবে; আপনার এ ভাতিজার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে, সুতরাং তাঁকে তাড়াতাড়ি বাড়ি নিয়ে যান ।’৮৬

সারাংশ

১. রাসূল (সা.)-এর জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদের কারণ হলো সুন্নী এবং শিয়া উভয় উৎস হতে বর্ণিত হাদীস এবং সিরাত-এর বৈপরীত্য ।

২. রাসূল (সা.)-এর জন্মের সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণিত কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে খুবই সতর্ক থাকতে হবে । মোটের ওপর যে সমস্ত উদ্ধৃতিতে এরকম অস্বাভাবিক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে তা একটি সম্ভাবনার ইংগিত বহন করে যে, হযরত আমিনার গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসবের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল । তারা দেখাতে চায় অন্য নবীদের জন্মের৮৭ মতো মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মলগ্নেও কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে । এ অলৌকিক ঘটনাসমূহ তাঁর নবুওয়াতের চিহ্ন বহন করছিল । নবী (সা.)-এর নবুওয়াত-পূর্ব জীবনের বর্ণনায় এটি তুলে ধরা হয়েছে যে, তাঁর নবুওয়াত কোনো আকস্মিক বা দৈব ঘটনা নয়; বরং এমন অনেক ঘটনা ঘটেছিল যা ক্রমান্বয়ে তাঁর আল্লাহর নবী হওয়াকে নিশ্চিত করেছে । যে কেউ নবী (সা.)-এর জন্মের সময় বর্ণিত অলৌকিক ঘটনাসমূহ সম্পর্কেও একই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে । সংক্ষেপে, এগুলোকে ইরহাস (এক ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী) বলে বিবেচনা করা যায় । ‘নবীদের জীবন অন্য মানুষের মতোই’ এ কল্পিত মতের সাথে বিরোধ না করেও পূর্ববর্তী নবীদের সম্পর্কে এ ধরনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে ।

৩. রাসূল (সা.)-এর শৈশবের বর্ণনায় তৎকালে শিশুদের জন্য ধাত্রী মায়ের ব্যবস্থা করা মক্কাবাসীর আভিজাত্যের লক্ষণ হিসাবে দেখানোর পরও কোনো কোনো জীবনীকার
কিভাবে বলার চেষ্টা করেছেন যে, মুহাম্মাদ (সা.) ইয়াতিম এবং গরীব বিধায় ধাত্রীরা তাঁর দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে ? মূলত যদি ধরে নেয়া হয় যে, মুহাম্মাদ (সা.)-কে ধাত্রীদের সামনে হাজির করা হয়েছে তাহলে এটি প্রমাণ করে যে, তিনি মক্কার অভিজাত পরিবারের সন্তান । আর এটি সত্য হয়ে থাকলে দানশীলতা, সম্মান এবং কুরাইশ সর্দার৮৮ হিসাবে সকল গোত্রের মধ্যে তাঁর দাদার ব্যাপক পরিচিতি থাকার পরও এটি কি করে সম্ভব যে, ধাত্রীরা তাঁর দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছিল ? এটাও বলা হয় যে, নবী (সা.) তাঁর পিতা আবদুল্লাহর কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসাবে কমপক্ষে ৫টি উট, একপাল ভেড়া, একটি তলোয়ার এবং কিছু নগদ অর্থ পান যা তাঁর ধাত্রী রাখার জন্য যথেষ্ট । আসলে মুহাম্মাদ (সা.) হালিমা সাদিয়া কর্তৃক প্রতিপালিত হওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ হলো তিনি হালিমা ব্যতীত অন্য কোনো ধাত্রীর দুধ পান করছিলেন না । যখন হালিমা কুরাইশ শিশুটিকে দুধ পানের জন্য বুকে তুলে নিলেন তখন অকস্মাৎ শিশুটি তাঁর ধাত্রী মায়ের দুধ আঁকড়ে ধরে যা তাঁর পরিবারকে উৎফুল্ল করেছিল । আবদুল মুত্তালিব তখন হালিমাকে জিজ্ঞাসা করলেন,‘তুমি কোন্ গোত্রের অন্তর্গত?’ উত্তর দিলেন, ‘আমি বনু সাদ গোত্রের ।’ তিনি তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দিলেন তাঁর নাম হালিমা । মুত্তালিব এতে খুবই খুশী হলেন এবং বললেন : ‘চমৎকার, চমৎকার! দু’টি মূল্যবান বৈশিষ্ট্য : পরিত্রাণ ( সা‘দ-সাআদা) এবং ধৈর্য (হিলম) । দু’টি চমৎকার গুণ যা চিরস্থায়ী সুখ এবং ঔজ্জ্বল্য৮৯ প্রকাশ করে তার জন্য তোমাকে শুভ সংবাদ হালিমা!’

৪. নবী (সা.)-এর বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, কাহিনীটি অসত্য এবং অযৌক্তিক এবং এটি রাসূল (সা.)-এর ব্যক্তিত্বের জন্য ধ্বংসাত্মক ।

৫. অপবিত্র যুদ্ধে (যা আক্রমণাত্মক ছিল) আমরা রাসূলের অংশগ্রহণ নাকচ করি । কারণ, এ যুদ্ধ পবিত্র মাসসমূহের পবিত্রতা বিনষ্টকারী, যা নবী (সা.) এবং তাঁর চাচা কুরাইশ সর্দার আবু তালিব সব সময় রক্ষা করেছেন । এ কারণে ইসলাম-পূর্ব একটি সামাজিক আচারকে ইসলাম অনুমোদন করেছে এবং মুসলমানদের পবিত্র মাসে যুদ্ধ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

৬. জীবনীকারগণ রাসূল (সা.)-এর প্রথম শাম সফর সম্পর্কে জানিয়েছেন । তাঁরা বলেছেন, ধর্মযাজক কী করে মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাঝে বাইবেলে৯০ বর্ণিত নবুওয়াতের চিহ্ন আবিস্কার করলো । ধর্মযাজক নবীর চাচা আবু তালিবকে জানালেন যে, তাঁর ভাতিজা আল্লাহর নবী হবেন ।৯১ এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী নিশ্চিতভাবে নবী জীবনের কোনো অসাধারণ ঘটনার ইংগিত করে যা বেশির ভাগ জীবনীকার না অস্বীকার করেছেন, না অবহেলা করেছেন । এ ঘটনা আবু তালিবকে নিশ্চিত করেছে যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর নবী হবেন ।৯২

গ্রন্থপঞ্জী

আবু আল্ ফারাজ আল্ ইসফাহানী. আল্ আগানী. ভলিউম ৪, সামির যাবির কর্তৃক সম্পাদিত, বৈরুত, দার আল্ কুতুব আল্ ইসলামিয়া, ১৯৮৬;

আল্ বুতি, মুহাম্মাদ সাংরিদ রামাযা, ফিকহ্ আল্ সিরা, নতুন সংস্করণ বৈরুত: দার আল্ ফিকর, ১৯৮০;

আল্ হালাবি, আলী বুরহাম আল্ দীন, আল্ সিরা আল্ হালাবিয়া ফি সিরাত আল্ আমিন আল মা’মুন, ভলিউম ১ ও ২, বৈরুত : দার আল্ মা’আরিফ, ১৯৮০;

আল্ ইরবিলি, আলী বিন ঈসা, কাসফ আল্ গাম্মা ফি মা’আরিফাত আল্ আইম্মা. দ্বিতীয় সংস্করণ, বৈরুত : দার আল্ আদওয়া, ১৯৮৫;

আল্ কুলাইনী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল্ কাফি, আল্ উসূল আর রাওযা. ভলিউম ৭, আল্ গাফফারী সম্পাদিত, তেহরান : আল্ মাকতাবা আল্ ইসলামিয়া, ১৯৬২;

আল্ কুলাইনী, মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব, আল্ কাফি, আল্ উসূল, ভলিউম ১, খণ্ড ১, দি বুক অব এক্সিলেন্স অব নলেজ, সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ হাসান রিজভী কর্তৃক ইংরেজিত অনূদিত, তেহরান : ওয়াফিস, ১৯৭৮;
আল্ মাকরিজি, তাকি আল্ দীন আহমাদ বিন ‘আলী ইমতা আল্ আসমা’, ভলিউম ১, মাহমুদ মুহাম্মাদ শাকির সম্পাদিত, কায়রো : মাতবাআত লাজনা আল্ তালিফ ওয়াল তরজমা ওয়াল নশর, ১৯৪১;

আল্ মুরতাদা আল্ আমিলি, আল্ সাইয়্যেদ জাফর. আল্ সহিহ মিন সিরাত আল্ নবী আল্ আজমি, দ্বিতীয় সংস্করণ, ভলিউম ১ ও ২, কোম : ১৯৮৩;

আল্ মুরতাদা আল্ আমিলি, আল্ সাইয়্যেদ জাফর, আল্ সহিহ মিন সিরাত আল্ নবী আল্ আজমি, তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা, অপ্রকাশিত, জুলাই : ১৯৯৩;

আল্ মুরতাদা আল্ আমিলি, আল্ সাইয়্যেদ জাফর, দিরাসাত ওয়া বুহুছ ফি আল্ তারিখ ওয়াল ইসলাম, দ্বিতীয় সংস্করণ, ভলিউম ১, কোম : ১৯৮৩;

আল্ তাবারী, আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন জারির, তারিখ আল্ রাসূল ওয়াল মুলুক, পঞ্চম সংস্করণ, ভলিউম ২, মুহাম্মাদ আবু আল্ ফজল ইবরাহিম, কায়রো : দার আল্ মাআরিফ, ১৯৭৭;

ডারমেনহেম, এমিল, দি লাইফ অব মোহামেট, আরবেল্লা ইয়র্কি অনূদিত, নিই ইয়র্ক : দি ডায়াল প্রেস, ১৯৩০;

হাইকেল, মুহাম্মাদ হুসাইন. দ্য লাইফ অব মুহাম্মাদ, হায়াত মুহাম্মাদ-এর অষ্টম সংস্করণ হতে ইসমাইল রাজি, এ. আল্ ফারুকি অনূদিত, নর্থ আমেরিকান ট্রাস্ট পাবলিকেশন, ১৯৭৬;

ইবনে আসির, ইজ্জ আল্ দিন আবি আল্ হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ, আল্ কামিল ফি আল্ তারিখ,  ভলিউম ১ ও ৩, বৈরুত : দার সাদির, ১৯৬৫;

ইবনে আসির, ইজ্জ আল্ দিন আবি আল্ হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ, উসদ আল্ ঘাবা ফি মারিফাত আল্ সাহাবা, ভলিউম ১, কায়রো : আল্ সা’ব, ১৯৭০;
 
ইবনে হিশাম, আবু মুহাম্মাদ আবদ আল্ মালিক, আল্ সিরা আল্ নবুবিয়াহ, ভলিউম ১, উমর আল্ সালাম তাদমুরি, বৈরুত : দার আল্ কিতাব আল্ আরাবি, ১৯৮৭;

ইবনে কাসির, ইসমাইল আবু আল্ ফিদা, আল্ বিদায়া ওয়া আল্ নিহায়া, ভলিউম ১, ২ ও ৩, আহমাদ আবু মুসলিম এট এল সম্পাদিত, বৈরুত : দার আল্ কুতুব আল্ ইলমিয়া, ১৯৮৫;

ইবনে কাসির, ইসমাইল আবু আল্ ফিদা, আল্ বিদায়া ওয়া আল্ নিহায়া, ভলিউম ১, মুসতফা আবদ আল্ ওয়াহিদ সম্পাদিত, বৈরুত : দার ইয়াহইয়া আল্ তুরাছ আল্ আরাবি, ১৯৮০;

মজলিসি, মুহাম্মাদ বাকির, বিহার আল্ আনওয়ার, ভলিউম ১১, ১৫, ১৮ ও ৪৬, বৈরুত : আল্ ওয়াফা. ১৯৮৩;

ম্যুর, স্যার উইলিয়াম, দি লাইফ অব মুহামেট ফ্রম অরিজিনাল সোর্সেস, নতুন সংস্করণ, প্রথম সংস্করণের চার ভলিউম হতে সংকলিত (১৮৬১ সনে প্রকাশিত), লন্ডন : ওয়াটারলু প্যালেস, ১৮৭৭;

মুসলিম বিন আল্ হাজ্জাজ, সহিহ মুসলিম, ভলিউম ১, মূসা শাহিন লাসিন এবং আহমাদ উমর হাশিম কর্তৃক সম্পাদিত, বৈরুত : মুআস্সাসাত ইজ্জ আল্ দীন, ১৯৮৭;

মুসলিম, আবু আল্ হুসাইন বিন আল্ হাজ্জাজ, সহিহ মুসলিম. ভলিউম ৮, কায়রো : আল আজহার, ১৯১৫;

রাসূলি মাহাল্লাতি. তারিখ তাহলিলি ইসলাম, ভলিউম ১ ও ২, তেহরান : ইরশাদ ইসলামি, ১৯৯২;

সাদুক, আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আলী, ইকমাল আল্ দীন ওয়া ইতমাম আল্ নিয়মা, নাজাফ : আল্ মাতবা আল্ হায়দারিয়া, ১৯৭০;

সুবহানি, জাফর, ফুরুগে আবাদিয়্যাত, ভলিউম ১, কোম : দাফতরে তাবলিগাতে ইসলামী, ১৯৯৩;

তাবারসি, আবু আলী আল্ ফজল বিন আল্ হাসান, মাজমা আল্ বায়ান ফি তাফসির আল্ কুরআন, ভলিউম ৩ ও ৫, কোম : মাকতাবাত, আয়াতুল্লাহ মারাসি, ১৯৮৩;

তাবাতাবাই, মুহাম্মাদ হুসাইন, আল্ মিজান ফি তাফসির আল্ কুরআন, ভলিউম ১৩, ১৪ ও ২০, বৈরুত : আল্ আ’লামি, ১৯৭০;

ইয়াকুবি, আহমাদ বিন আবি ইয়াকুবি, ভলিউম ২, মুহাম্মাদ ইবরাহীম আয়াতি কর্তৃক ফারসিতে অনূদিত. তেহরান : ১৯৬৫;
 
তথ্যসূত্র
১.    সিএফ. রাসূলি, তারিখ, ভলিউম ১, পৃ. ১০৭;
২. ইবনে হিশাম, আল্ সিরা আল্ নবুবিয়াহ, প্রথম সংস্করণ, উমর আবদ আল্ সালঅম
তাদমুরি (বৈরুত : দার আল্ কিতাব আল্ আরাবী, ১৯৮৭), ভলিউম ১, পৃ. ১৮৩-১৮৪; ইয়াকুবী, তারিখে ইয়াকুবী, মুহাম্মাদ ইবরাহীম আয়াতি (তেহরান) ভলিউম ১, পৃ. ৩৮৫ । কিছু সংখ্যক ঐতিহাসিক হাতি বর্ষের বাহিরে অন্য তারিখের পক্ষে মত দেন । তাঁরা বলে থাকেন, এটি হাতির ঘটনার কয়েক বছর পূর্বেই ঘটেছিল । উদাহরণস্বরূপ, আল্ মাকরিজি তাঁর ইমতা আল্ আসমা গ্রন্থে হাতি বছরের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক জন্ম তারিখের উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেন, এ সকল ধারণার মধ্যে পার্থক্য পনের থেকে হাতি বর্ষের পর চল্লিশ বছর পর্যন্ত । আল্ মাকরিজি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতানুসারে হাতি বর্ষকে সমর্থন করেন । দ্রষ্টব্য : রাসূলি, তারিখ, ভলিউম ১, পাদটীকা, পৃ. ১০৭-১০৮, আল্ মাকরিজি হতে, ভলিউম ১, পৃ. ৩-৪;
৩.  হাইকেল, হায়াত, পৃ. ১০৮; মুরতাদা, আল্ সহিহ, ভলিউম ১, পৃ. ৭৮;
৪.  মজলিসি উল্লেখ করেন, ইমামী মতানুসারীরা একমত যে, রাসূল (সা.) শুক্রবার,
১৭ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন । সুন্নীরা মনে করেন যে, এটি ছিল সোমবার, ১২ রবিউল আউয়াল, যদিও কেউ কেউ ৮ এবং অন্যরা ১০ তারিখ; আবার কেউ রমজান মাসের উল্লেখ করেছেন; মজলিশি, দি লাইফ এন্ড রিলিজিয়ন অব মুহাম্মাদ, হায়াত আল্ কুলুব-এর ইংরেজি অনুবাদ, ভলিউম ২, জেমস এল. মেরিক (১৯৮২), পৃ. ৩৪;
৫.  আল্ কুলাইনী, (৯৩৯/৯৪০ খ্রি.) মুসলিম চতুর্থ শতকের প্রসিদ্ধ শিয়া
ঐতিহ্যহাসিক, তাঁর আল্ কাফি, আল্ উসূল ওয়া আল্ রাওদা, ভলিউম ৭, পৃ. ১৩১ (মাওলিদ আল্ নবী), তিনি ১২ রবিউল আউয়াল নবীর জন্মদিন সুন্নীদের এ মত সমর্থন করেন । কিন্তু, তিনি বলেন, দিনটি ছিল শুক্রবার, সোমবার নয় যা সুন্নীরা বলে থাকে;
মজলিসি তাঁর বিহার গ্রন্থে সুন্নী এবং শিয়া ঐতিহ্যের পার্থক্য নির্ণয় করে বলেন যে, শিয়াদের মধ্যে আল্ কুলাইনী ইচ্ছাকৃত বা তাকিয়ার কারণে সুন্নী মতকে সমর্থন করেছেন । দ্রষ্টব্য : মজলিসি, বিহার আল্ আওনায়ার, (বৈরুত : আল্ ওয়াফা, ১৯৮৩), ভলিউম ১৫, পৃ. ২৪৮;
৬.    মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৭৮;
৭.  হাইকাল, হায়াত, পৃ. ১০৯;
৮.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৪৮;
৯.  ইবনে হিশাম, আল্ সিরা, ভলিউম ১, পৃ. ১৮৩; ইবনে কাসির, আল্ বিদায়া ওয়াল
নাহিয়া, আহমাদ আবু মুসলিম এবং অন্যান্য সম্পাদিত (বৈরুত:আল্ তওরাত আল্ আরাবী,১৯৮০), ভলিউম ২, পৃ.২৪২-২৪৩; আল্ মাকরিজি, ইমতা আল্ আসমা, মাহমুদ মুহাম্মাদ সাকির (কায়রো : ১৯৪১), ভলিউম ১, পৃ. ৩-৪;
১০.  ঐ;
১১.  আল্ কুলাইনী, আল্ কাফি, আল্ উসূল ওয়াল রাওদা, গাফ্ফারি কর্তৃক সম্পাদিত
(তেহরান : আল্ মাকতাবা আল্ ইসলামিয়া, ১৯৬২), ভলিউম ৭, পৃ. ১৩১; মজলিসি, বিহার, ভলিউম ১৫, পৃ. ২৪৮;
১২.  একজন ইরাকী শিয়া জীবনীকার যাঁর মৃত্যু ১৯২৩ খ্রি. । তিনি কাসফ আল্     গাম্মা ফি মারিফাত আল্ আয়িম্মা নামক নবী এবং শিয়া ইমামদের জীবনী
     রচনা করেন ।
১৩.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৭৯, আল্ ইরবিলির উদ্ধৃতি, কাসফ, দ্বিতীয়
সংস্করণ (বৈরুত : দ্বার আল্ আদওয়া, ১৯৮৫), ভলিউম ১, পৃ. ১৪;
১৪.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৪৭ এবং ৫১;
১৫.  বিস্তারিত জানতে দেখুন : ইবনে ইসহাক, দি লাইফ অব মুহাম্মাদ, এ. গুইলমী
(লন্ডন-নিউ ইয়র্ক-টরেন্টো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৫৫), পৃ. ৬৯; আল্ তাবারী, তারিখ, ভলিউম ২, পৃ. ১৫৬ । এটি শিয়া পন্ডিতদের দ্বারাও বর্ণিত হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ দেখুন : আল্ সাদুক, ইকমাল আল্ দিন ওয়া ইতমাম আল্ নিয়মা (নাজাফ : ১৯৭০), পৃ. ১৮৯-১৯০; আল্ ইরবিলি, কাসফ, ভলিউম ১, পৃ. ২০-২১;
১৬. ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৭১-৭২; হাইকেল, দি লাইফ, পৃ. ৪৯; মুরতাদা, আল্
    সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮১;
১৭.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৭১;
১৮.  ঐ, পৃ.৭১;
১৯.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৪৯;
 ২০.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৭১;
২১.   মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮১;
২২.  আল্ ইরবিলি, কাসফ, ভলিউম ১, পৃ. ১৫; মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ.
 ৮১;
ইয়াকুবী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে বলেন, আবদুল্লাহ রাসূলের জন্মের দু’মাস পর ইন্তেকাল করেন । তিনি রাসূল (সা.)-এর জন্মের দু’মাস পূর্বে আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন এ মতের বিরোধিতা করেন । তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে যে, পুত্রের জন্মের পর পিতা ইন্তেকাল করেছেন । এমনকি কোনো কোনো ঐতিহাসিক পুত্রের জন্মের এক বছর পর পিতা ইন্তেকাল করেন এটি বিশ্বাস করতেন । দ্রষ্টব্য : ইয়াকুবী, তারিখ, ভলিউম ২, পৃ. ৩৬২;
২৩.  মজলিসি, বিহার, ভলিউম ১৫, পৃ. ১২৫; মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ.
৮১;ইবনে আসির সংক্ষিপ্ত করে বলেন যে, আবদুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে । দ্রষ্টব্য: ইবনে আসির, উসদুল গাবা, ভলিউম ১, পৃ. ২০;
২৪.  রাসূলি, তারিখ, লিউম ১, পৃ. ১৮২;
২৫.  সিএফ. মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮১; সুবহানি, ফুরুগে আবাদিয়াত, ৮ম
    সংস্করণ (কোম : ১৯৯৩), ভলিউম ১, পৃ.১৬০;
২৬.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮১; হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৪৯;
২৭.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৪৮; আরও দেখুন : মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১,
    পৃ.৮১;
২৮.  হাইকেল, পৃ. ৮৯; মুরতাদা, ভলিউম ১, পৃ. ৮৮;
২৯.  হাইকাল, পৃ. ৫২; মুরতাদা, ভলিউম ১, পৃ. ৮১-৮২;
৩০.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৭২; হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৫২;
৩১.  হাইকেল, দি লাইফ, পৃ. ৫১-৫২, মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮২;
৩২.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮২;
৩৩.  সিএফ. হাইকাল, হায়াত, পৃ. ১১০; ইবনে আসির, উসদুল গাবা, ভলিউম ১ পৃ.
    ২১;
    দ্রষ্টব্য : তাবারী, তারিখ, ভলিউম ২, পৃ. ১৫৯; মজলিসি, বিহার, ভলিউম ১৫, পৃ.
  ৪০১  এবং রাসূলী, তারিখ, ভলিউম ১, পৃ. ১৮৩-১৮৪;
৩৪.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৭২;
৩৫.  ইবনে আসির, উসদুল গাবা, ভলিউম ১, পৃ. ২১;
৩৬.  আল্ তাবারী, তারিখ, ভলিউম ২, পৃ. ১৫৯
৩৭.  হাইকল, হায়াত, পৃ. ১১০;
৩৮.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৭১-৭২;
৩৯.  ঐ;
৪০.  মুসলিম, সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ১৬৫-১৬৬, হাদিস ২৬১; মুরতাদা, আল্ সহীহ,
    ভলিউম ১, পৃ. ৮২-৮৩;
৪১.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৫০-৫১;
৪২.  ম্যুর, দি লাইফ, পৃ. ৬-৭; হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৫১;
৪৩.  আল কুরআন, সূরা ইনশিরাহ : ১-২;
৪৪.  হাইকেল, দি লাইফ, পৃ. ৫১;
ডারমেনহেম বলেন, ‘একটি রহস্যময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দ্বিধাহীন চিত্তে ঐশী বাণী ধারণ এবং প্রচারের জন্য হ্রদয় উন্মুক্ত এবং পরিস্কার করা হয়েছে যাতে নবুওয়াতের কঠিন দায়িত্ব পালন সহজ হয় ।’ তিনি আরও বলেন, ‘হৃদয় পরিস্কার করার ঘটনাটি অতীন্দ্রিয় রহস্যময়তার প্রতীক হিসাবে প্রতিভাত হয়েছে ।’ডারমেনহেম, দি লাইফ, পৃ.৩২-৩৩;
৪৫.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ. ৫১;
৪৬.  মুরতাদা, আল্-সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮৩-৮৪;
৪৭.  মুরতাদা, আল্-সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮৪, উদ্ধৃতি : আল্ বুক্সি, ফিকাহ আল্ সিরা, 
         পৃ. ৬২-৬৩;
৪৮.  ঐ, উদ্ধৃতি : হাইকেল, হায়াত, পৃ. ১১১;
৪৯.  ঐ, উদ্ধৃতি : তাবাতাবাই, আল্ মিজান, ভলিউম ১৩, পৃ. ৩২-৩৩, উদ্ধৃতি : আল্
    তাবারসি, মাজমা আল্ বায়ান, ভলিউম ৩, পৃ. ৩৯৫;
 ৫০.  ঐ, পৃ.৮৪ এবং ৮৭-৮৮;
৫১.  ডারমেনহেম, দি লাইফ, পৃ.৩৩;
৫২.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮৮-৮৯; আবু আল্ ফারাজ আল্
    ইস্পাহানী, আল্ আঘানী, ভলিউম ৪, পৃ. ১৩২-১৩৫;
৫৩. ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ.৭৩ । দেখুন : মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১,পৃ.৮৫;
৫৪. মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ.৮৫;
৫৫.  ঐ;
৫৬.  ঐ;
৫৭.  ঐ, পৃ. ৮৫-৮৬;
৫৮.  ঐ;
৫৯. হালাবি তাঁর সিরাহ গ্রন্থে বলেন যে, শুধু ইসলামের নবী (সা.)-কে এভাবে
অস্ত্রোপচার করা হয়েছে । হালাবি এর দ্বারা নবী (সা.)-এর উচ্চ মর্যাদা এবং সম্মান বৃদ্ধির ব্যাপার দেখাতে চেয়েছেন । দেখুন : আল্ হালাবি, আল্ সিরা, ভলিউম ১, পৃ.১৬৭;
৬০.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৮৬;
৬১.  দি কুরআন, সূরা নাহল : ৯৯ ।
৬২.  ঐ, সূরা ইসরা : ৬৫ ।
৬৩.  ঐ, হিজর : ৩৯-৪০ ।
৬৪.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ.৮৭;
৬৫.  মজলিসি, বিহার, ভলিউম ১৫, পৃ. ৩৪৯-৩৫৭;
বিহারের সমালোচক রব্বানী বলেন যে, ‘নবী (সা.) এক অনন্য জীবনের অধিকারী ছিলেন এটি প্রমাণের জন্য এরকম একটি অস্বাভাবিক এবং অলৌকিক ঘটনার প্রয়োজন ছিল না ।’
৬৬.  অধিকাংশ মুসলিম ভাষ্যকার বিশ্বাস করেন যে, পবিত্র মাস চারটি এবং সেগুলো
    হলো জিলক্বাদ, জিলহাজ, মুহাররাম এবং রজব;
৬৭.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৮২২; আরও দেখুন : হাইকাল, দি লাইফ, পৃ.৫৬
     এবং মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৯৫;
৬৮. হাইকাল, দি লাইফ, পৃ.৫৭; আরও দেখুন : ইবনে হিশাম, আল্ সিরাহ, ভলিউম ১,
    পৃ. ২১০;
৬৯.  ঐ, পৃ. ৫৭;
৭০.  ঐ;
৭১.  ইবনে হিশাম, আল্ সিরাহ, ভলিউম ১, পৃ. ২০৮;
৭২.  ঐ, পৃ. ২১১; ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ. ৮২;
 ৭৩.  হাইকেল, দি লাইফ, পৃ. ৫৭;
৭৪.  ঐ;
৭৫.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৯৫;
৭৬.  যেহেতু মুরতাদা পরিস্কারভাবে স্বাভাবিক উপসংহার টানতে পেরেছেন তাই তাঁর
প্রথম যুক্তির শেষে এটি উল্লেখ করেন নি;
৭৭.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ৯৫-৯৬, উদ্ধৃতি আল্ ইয়াকুবি, তারিখ,
    ভলিউম ২, পৃ. ৩৭১;
৭৮.  ঐ, পৃ. ৯৬, উদ্ধৃতি : ইবনে হিশাম, আল্ সিরাহ, ভলিউম ১, পৃ. ২১০;
৭৯.  ঐ, উদ্ধৃতি : আল্ হালাবি, আল্ সিরাহ, ভলিউম ১, পৃ. ২০৭;

৮০.  ঐ, উদ্ধৃতি : আল্ হালাবি, ইবনে হিসাম, আল্ সিরাহ, ভলিউম ১, পৃ. ২০৮;
৮১.  ঐ, উদ্ধৃতি : ইবনে হিসাম, আল্ সিরাহ, ভলিউম ১, পৃ. ২০৮, ২১১;
৮২.  ঐ, পৃ. ৯৬-৯৭;
৮৩. ঐ, পৃ.৯৭;
৮৪.  ইবনে ইসহাক, দি লাইফ, পৃ.৮০;
৮৫. ঐ;
৮৬. ঐ, পৃ.৮১;
৮৭. যেহেতু কুরআনে উল্লিখিত নবিগণ, যেমন ইবনে মরিয়াম, ইয়াহইয়া ইবনে
যাকারিয়া-র জন্ম কোনো না কোনোভাবে অস্বাভাবিক বা অলৌকিক ঘটনার সাথে জড়িত । দেখুন : আল্ কুরআন, ১৯ : ৭-৩৩;
৮৮. সিএফ, মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ. ১২৫;
৮৯. ইবনে আসির, উসদুল গাবা, ভলিউম ১, পৃ. ২১; রাসূলি, তারিখ, ভলিউম ১, পৃ. ১৮২; মজলিসি, বিহার, ভলিউম ১৫, পৃ. ১২৫ ও ৪৪২; সুবহানি, ফুরুগে আবাদিয়াত, ভলিউম ১, পৃ.১৬০; হালাবি, সিরাহ, ভলিউম ১, পৃ. ১৪৭;
৯০.  হাইকাল, দি লাইফ, পৃ.৫৪;
৯১.  মুরতাদা, আল্ সহীহ, ভলিউম ১, পৃ.৯১;
৯২.‘তারা পবিত্র মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে । বলুন, ‘এ যুদ্ধ একটি সীমালঙ্ঘনকারী অত্যাচার যা আল্লাহর পথে প্রতিবন্ধক; তার এবং কাবার প্রতি অবিশ্বাসের ফল ।’ আল্ কুরআন, ২ : ২১৭ ।

সূত্র: ঢাকা থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রত্যাশা, বর্ষ-১, সংখ্যা-১



আপনার মতামত

মন্তব্য নেই
*
*

আল হাসানাইন (আ.)