আল হাসানাইন (আ.)

আল্লাহ কর্তৃক হযরত আলীর মনোনয়ন

0 বিভিন্ন মতামত 00.0 / 5

আহলে বাইতের শিরমনি, মা ফাতিমার প্রিয় স্বামী, বেহেশ্তের সর্দার ইমাম হাসান ও হুসাইনের সম্মানিত পিতা আলী হচ্ছেন মু’মিনদের নেতা বা অভিভাবক । এ প্রসঙ্গে আল কোরআন উল্লেখ করেছেঃ

إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّـهُ وَرَ‌سُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَ‌اكِعُونَ

 

অর্থাৎঃ নিশ্চয় তোমাদের অভিভাবক হচ্ছেন আল্লাহ ও তার রাসূল এবং যারা ঈমান এনেছে, নামায ক্বায়েম করেছে আর রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদান করেছে ।(আল মায়েদা, আয়াত নং-৫৫)

অধিকাংশ তাফসীরকারকদের মতে উক্ত আয়াতটি ইমাম আলীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে।(তাফসীরে দুররুল মানসুর, খণ্ড-২, পৃঃ-২৯৩; তাফসীরে আল কাবির, খণ্ড-৩, পৃঃ-১৩; তাফসীরে তাবারী, খণ্ড-৬, পৃঃ-১৬৫; তাফসীরে বাইযাভী, খণ্ড-২, পৃঃ-১৬৫; তাফসীর আল কোরআনুল কারিমঃ শেখ মোঃ আব্দুহ, খণ্ড-৬, পৃঃ-৪৪২; তাফসীরে কাশশাফ, সূরা মায়েদা আয়াত নং-৫৫)

আবু ইসহাক বিন মুহাম্মদ আসসা’লিব তার স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে হযরত আবুযার গিফারী থেকে নিম্নলিখিত ভাবে ঘটনাটি বর্ণনা করছেন । হযরত আবু যার গিফারী বলেছেন, আমি স্বীয় কর্নে শ্রবন করেছি যে রাসূল (সা.) বলেছেনঃ

 

علی قائد البرره، و قاتل الکفره، منصور من نصره، مخذول من خذله

 

অর্থাৎঃ আলী সৎ লোকদের নেতা, কাফেরদের হত্যাকারী, যে তাকে সাহায্য করবে সে (আল্লাহ কর্তৃক) সাহায্য প্রাপ্ত হবে, যে তাকে ত্যাগ করবে (আল্লাহ) তাকে ত্যাগ করবেন ।(তাফসীর আল কাশফ ওয়াল বায়ান, আস সালাবী, খণ্ড-১, পৃঃ-৭৪; ফারায়েদুস সিমতাইন, খণ্ড-১, পৃঃ-১৫৭, ১৯১ বাব ৩৯, হাদীস নং-১১৯,১২৬)

হযরত আবুযার গিফারী বলেন “আমি একদা রাসূল (সা.) এর সাথে যোহরের নামাজ আদায় করছিলাম । ইতিমধ্যে একজন ভিখারী মসজিদে প্রবেশ করে ভিক্ষা চাইলো । কিন্তু কেউ তাকে কোন সাহায্য করলো না । ভিক্ষুকটি দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানালোঃ হে আল্লাহ তুমি সাক্ষী থেকো, আমি মসজিদে প্রবেশ করে সাহায্য চাইলাম কিন্তু কেউ কিছু দিল না । তখন হযরত আলী (আ.) নামাজে রুকু অবস্থায় ছিলেন । তিনি ইশারা করলে ঐ লোকটি আলীর হাতের আংটি খুলে নিয়ে যায় । আর এ ঘটনাটি নবীর চোখের সামনে ঘটে । নবীজি নামাজ শেষে দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করলেনঃ

“হে আল্লাহ যখন হযরত মুসা (আ.) তোমাকে বলেছিল,

 

وَاجْعَل لِّي وَزِيرً‌ا مِّنْ أَهْلِي هَارُ‌ونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِ‌ي وَأَشْرِ‌كْهُ فِي أَمْرِ‌ي

 

অর্থাৎঃ (হে আল্লাহ) তুমি আমার জন্যে আমার পরিবার থেকে আমার ভাই হারুনকে আমার পরামর্শদাতা নিয়োগ কর, তার মাধ্যমে আমার কোমরকে শক্তিশালী করে দাও এবং তাকে আমার কাজ কর্মে অংশিদার কর ।(সূরা ত্বা-হা, আয়াত নং-২৯-৩২)

তখন অহি নাযিল হয়েছিল । তুমি তার ভাই হারুনকে দিয়ে তার বাহুবল শক্তিশালী করেছিলে ।

 

اللهم انا محمد بنیک و صفیک اللهم فاشرح لی صدری و یسرلی امری و اجعل لی وزیرا من اهلی علیا اخی و اشدد به ازری.

 

অর্থাৎঃ “হে প্রভু, নিশ্চয়ই আমি তোমার নবী এবং নির্বাচিত ব্যক্তি । হে আল্লাহ তুমি আমার অন্তরকে প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও । আমার জন্য আমার ‘আহল’ থেকে আলীকে পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ কর । তার মাধ্যমে আমার কোমরকে শক্তিশালী করে দাও ।”

তখনও প্রিয় নবী (সা.) এর মুনাজাত সমাপ্ত হয়নি এমনি সময় অবতীর্ণ হয় এ আয়াতঃ

 

إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّـهُ وَرَ‌سُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَ‌اكِعُونَ

 

অর্থাৎঃ নিশ্চয় তোমাদের নেতা ও অভিভাবক হচ্ছেন আল্লাহ ও তার রাসূল এবং যারা ঈমান এনেছে, নামায ক্বায়েম করেছে আর রুকু অবস্থায় যাকাত প্রদান করেছে ।(তাফসীর আল কাশফ ওয়াল বায়ান, খণ্ড-১, পৃঃ-৭৪; ফারায়েদুস সিমতাইন, খণ্ড-১, পৃঃ-১৫৭, ১৯১; কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৬, পৃঃ ৩১৯, খণ্ড-৭, পৃঃ ৩০৫ ; মাজাময়ে হাইসামী, পৃঃ ৮৮,১০২; রিয়াদ আননাদের, খণ্ড-২, পৃঃ-২২৭)

এখানে লক্ষ্যনীয় যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের নেতৃত্বের পাশাপাশি আলীর বেলায়েত বা অভিভাবকত্বের কথা আল কোরআন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করছে । প্রিয় নবী (সা.) তার মুনাজাতে আলীকে তার সাহায্যকারী এবং তার হাত শক্তিশালী করার লক্ষে হযরত আলী ইবনে আবি তালিবকে পরামর্শদাতা হিসেবে পাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন । আর তাই তার ইন্তেকালের পর আলীর অভিভাবকত্ব গ্রহন ইসলামকে শক্তিশালী করারই নামান্তর ।

(মোঃ নূরে আলম লিখিত সত্যের আলো গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

 

আপনার মতামত

মন্তব্য নেই
*
*

আল হাসানাইন (আ.)