আল হাসানাইন (আ.)

প্রবন্ধ

হযরত মোহাম্মদ (সা.)
মিরাজ

মিরাজ

বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স.) নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তাঁর মক্কী জীবনের শেষ দিকে, মতান্তরে হিজরতের তিন বছর আগে রজব মাসের ২৭ তারিখের রাতে তিনি জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে বোরাক নামক বাহনযোগে মক্কা মুকাররমা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে রফরফ যোগে ঊর্ধ্বালোকে পরিভ্রমণের মাধ্যমে সৃষ্টির অনন্ত রহস্য অবলোকন এবং আল্লাহপাকের পরম সান্নিধ্য অর্জন করেন। এর পর বায়তুল মুকাদ্দাস ফিরে এসে সব নবী-রাসূলের ইমাম হয়ে নামাজ আদায় করে মক্কায় ফিরে আসেন। নবীজির (স.) মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসের ভ্রমনকে 'ইসরা'এবং বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে উর্ধ্বালোকে ভ্রমনকে 'মিরাজ' বলা হয়।

ইমাম মুসা ইবনে জাফর আল কাযেম (আ.)
ইমাম মূসা কাযিম (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী

ইমাম মূসা কাযিম (আ.)-এর শাহাদাত বার্ষিকী

২৫ রজব ইমাম মূসা ইবনে জাফর আল-কাযিম (আ.)-এর শাহাদাত দিবস। ১৮৩ হিজরির এই দিনে বাগদাদে ৫৫ বছর বয়সে তদানীন্তন শাসক হারুনুর রশীদের এক চক্রান্তমূলক বিষপ্রয়োগে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। বাগদাদের কাযেমিয়ায় তাঁর মাজার রয়েছে। ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) ছিলেন তাঁর পিতা এবং হামিদা আল-বারবারিয়া ছিলেন তাঁর মাতা। ১২৮ হিজরির ৭ সফর রবিবার মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী স্থান আবওয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

ইমাম হোসাইন (আ.)
আশুরার ঘটনাবলীঃ তাবু লুট ও অগ্নিসংযোগ

আশুরার ঘটনাবলীঃ তাবু লুট ও অগ্নিসংযোগ

ফাতেমা সোগরা বলেছেন, “আমি তাবুর দরজায় দাড়িয়ে আমার বাবার মাথাবিহীন লাশ এবং ধূলায় পড়ে থাকা প্রিয়জন-সহচরদের দেহগুলো দেখছিলাম। দুশমনের ঘোড়াগুলো যখন এসব লাশের উপর দিয়ে দলে দলে চলছিল আমি কান্নায় ফেটে পড়ছিলাম। চিন্তায় ছিলাম পিতার অবর্তমানে বনি উমাইয়া গোষ্ঠী আমাদের সাথে কি আচরণই না করে বসে। আমাদেরকে কি তারা হত্যা করে না বন্দী করে নিয়ে যায়। হটাৎ এক ব্যক্তিকে দেখলাম সে বর্শা উচিয়ে নারীদেরকে একদিকে হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছ। নারীগণ আশ্রয় গ্রহণ করার জন্য ছুটোছুটি করছে। এ সময় নারীদের বোরকা ও অলংকার সব লুন্ঠন হয়ে গেছে, আর নারীগণ চিৎকার দিয়ে বলছিল-

কোরআনের তাফসীর
সূরা ইব্রাহীম;(১২তম পর্ব)

সূরা ইব্রাহীম;(১২তম পর্ব)

মুমিন বিশ্বাসীদের প্রতি আল্লাহর সাহায্য আসতে দেরী হলে আল্লাহ ও তার সর্বময় ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দিহান হওয়া উচিত নয়। এছাড়া অবিশ্বাসী কাফের ও সীমালংঘনকারীদের আল্লাহ যে সময় ও সুযোগ দেন তা তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী দেয়া হয়। এ থেকে এটা ধারণা করার কোন অবকাশ নেই যে, আল্লাহ অবাধ্যচারীদের ব্যাপারে উদাসীন ও তাদের খোঁজ খবর নিতে ভুলে গেছেন।

ইমাম হোসাইন (আ.)
আশুরার ঘটনাবলীঃ যুদ্ধের ময়দানে শহীদগণের নেতা ইমাম হোসাইন (আ.)

আশুরার ঘটনাবলীঃ যুদ্ধের ময়দানে শহীদগণের নেতা ইমাম হোসাইন (আ.)

একজন বর্ণনাকারী লিখেছেনঃ আল্লাহর শপথ! দুশমন বেষ্টিত সন্তান, পরিবার ও সাথীদের লাশ চোখের সামনে। এ অবস্থায় হোসাইন (আ.) এর চেয়ে অধিক দৃঢ়চিত্ত বীর আর কেউ হতে পারে না। যখনই শত্রুবাহিনী সম্মিলিত হামলা চালাতো তিনি তাদের দিকে তরবারী হানতেন পুরো বাহিনী চতুর্দিকে নেকড়ের মত ছিটকে পড়তো। এক হাজারের অধিক সৈন্য এক সাথে তার উপর হামলা চালায়। ইমাম (আ.) এর সামনে এসে পঙ্গপালের মতো পালাতে থাকে। একটু দূরে গিয়েই বলতে থাকে-

কোরআনের তাফসীর
সূরা ইব্রাহীম;(১১ম পর্ব)

সূরা ইব্রাহীম;(১১ম পর্ব)

হযরত ইব্রাহিম নিজের, নিজের পরিবারের এবং সকল বিশ্বাসী লোকের জন্য দোয়া করেন যা থেকে বোঝা যায় তিনি গোটা সমাজকে নিয়েই চিন্তা করতেন। ইসলামে এ বিষয়ে বারবার গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নিজের চেয়ে অন্যের কল্যাণ কামনা করে বেশী বেশী দোয়া করো। কাজেই দেখা যাচ্ছে, আল্লাহর খাঁটি বান্দাগণের দোয়ার মধ্যে মহান আল্লাহর বিশালত্ব এবং তাঁর তুলনায় মানুষের অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। এছাড়া আমাদের উচিত দোয়া করার সময় আমাদের পূর্ববর্তী বংশধরদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি অনাগত সন্তানদের কল্যাণ কামনা করা।

ইমাম হোসাইন (আ.)
আশুরার ঘটনাবলীঃ হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.) এর ত্যাগ ও শাহাদত

আশুরার ঘটনাবলীঃ হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.) এর ত্যাগ ও শাহাদত

হোসাইন (আ.) পিপাসায় কাতর হয়ে তার ভাই আব্বাসকে সাথে নিয়ে ফোরাতের তীরে উপস্থিত হলেন। ইবনে সা’দের বাহিনী ঝাপিয়ে পড়ল দু’জনার উপর। তাদের পথ বন্ধ করল। বনি দারম গোত্রের এক দুরাচার আবুল ফজল আব্বাস (আ.) এর দিকে তীর নিক্ষেপ করলে তার পবিত্র মুখে বিদ্ধ হয়। ইমাম হোসাইনই (আ.) তা টেনে বের করে নেন তার হাত রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। রক্তগুলো ছুড়ে ফেলে বললেন-হে খোদা! এ জনগোষ্ঠী তোমার নবী নন্দিনীর সন্তানের উপর এ জুলুম চালাচ্ছে এদের বিরুদ্ধে তোমার দরবারে বিচার দিচ্ছি । ইবনে সা’দের বাহিনী মুহূর্তের মধ্যে ইমাম হোসাইন (আ.) থেকে হযরত আব্বাস (আ.) কে ছিনিয়ে নেয়। চতুর্মুখী আক্রমণ, তরবারীর সম্মিলিত আঘাতে হযরত আব্বাস (আ.) শাহাদাতের শরবত পান করেন। হোসাইন (আ.) তার শাহাদাতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কবি তাই তো বলেছেন-

কোরআনের তাফসীর
সূরা ইব্রাহীম;(১০ম পর্ব)

সূরা ইব্রাহীম;(১০ম পর্ব)

হযরত ইব্রাহিম (আ.) মক্কার লোকদের রিজক বা রুজি বৃদ্ধি এবং তাদের মনে ভালোবাসা সৃষ্টি করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে এই আয়াতে বললেন : হে আল্লাহ! তুমি তো সর্বজ্ঞ এবং তোমার অগোচরে কিছুই নেই। মানুষের মনের কথা ও কাজ কিংবা তোমার তৈরি বিশ্বপ্রকৃতি এবং আকাশমণ্ডলী ও ভূপৃষ্ঠের সব বিষয়ে তুমি সম্যক অবহিত। সূরা ইব্রাহিমের এই আয়াতে সৃষ্টজগতের ওপর আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ রয়েছে। আল্লাহর কাছে ছোট-বড়, মানুষ, আকাশ বা প্রকাশ্য ও গোপন বস্তু- সব কিছুই সমান। এছাড়া ভালো কোন কাজ করলে সেজন্য অহঙ্কার করা উচিত নয়।

ইমাম হোসাইন (আ.)
আশুরার ঘটনাবলীঃ কাসেম বিন হাসানের (আ.) শাহাদত

আশুরার ঘটনাবলীঃ কাসেম বিন হাসানের (আ.) শাহাদত

আলী আকবর (আ.) এর শাহাদাতের পর এমন একজন যুবক ময়দানে এসে যুদ্ধ শুরু করলেন যার চেহারা ছিল পূর্ণ চাঁদের মতো। ইবনে ফুজাইল আযদী তার মাথায় এমন জোরে তরবারী চালিয়ে দেয় এতে তার মাথা দু’ভাগ হয়ে যায়। তিনি ধূলায় লুটিয়ে পড়ে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠেনঃ ‘হে চাচা! হোসাইন (আ.) শিকারী বাজপাখির মতো ময়দানে ঝাপিয়ে পড়লেন । ক্রোধান্বিত বাঘের মত ইবনে ফুজাইলের উপর হামলা চালান। এতে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার চীৎকার শুনে কুফাবাসী সৈন্যরা তাকে রক্ষার জন্য হামলা চালায় কিন্তু সে ঘোড়ার পায়ের নীচে ছিন্নভিন্ন ও ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়।

কোরআনের তাফসীর
সূরা ইব্রাহীম;(৯ম পর্ব)

সূরা ইব্রাহীম;(৯ম পর্ব)

মহান আল্লাহ মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য নামাজ আদায় এবং যথাসম্ভব দান করার আদেশ দিয়েছেন। এই আয়াতে বলা হচ্ছে, সেই আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হও যিনি এত বিশাল সৃষ্টিজগতের মালিক। এছাড়া আল্লাহর রাস্তায় দান করো- কারণ তোমাদের অধীনে যা কিছু রয়েছে তার সব তারই দান।

আপনার মতামত

মন্তব্য নেই
*
*

আল হাসানাইন (আ.)