আল হাসানাইন (আ.)

প্রবন্ধ

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ-(৪র্থ পর্ব)

পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ-(৪র্থ পর্ব)

কুরআনের আলোয় আলোকিত মানুষ পবিত্র কুরআন ও মহানবী (সা.)-এর আহলে বাইতের শিক্ষার অনুবর্তী হয়ে সঠিক ধারায় আধ্যাত্মিকতার অধিকারী হয় যাতে সত্যপ্রেম ও পুণ্যকর্মের সমন্বয় ঘটেছে। এ আধ্যাত্মিকতায় মানুষ তার জীবনের পরিক্রমায় ক্রমান্বয়ে আল্লাহ্ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভ করে। এ জ্ঞান অর্জন কখনও থেমে থাকে না; বরং ধারণাগতভাবে যেমন এ জ্ঞান গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে, তেমনি আত্মনির্ভর জ্ঞানের ( علم حضوری ) মাধ্যমেও স্রষ্টার অস্তিত্বকে বাস্তবরূপে নিজের মধ্যে ও সৃষ্টিজগতে প্রত্যক্ষ করে। এভাবে স্রষ্টা পরিচিতির পরিধি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্রষ্টার প্রতি ভালবাসার গভীরতা ও ব্যাপকতাও বৃদ্ধি পায়।

হযরত ফাতিমা (সা.আ.)
মহানবী (সা.) এর দেহের অংশঃ হযরত ফাতেমা (সা.আ.)

মহানবী (সা.) এর দেহের অংশঃ হযরত ফাতেমা (সা.আ.)

সত্যকে স্পষ্টকারী গুরুত্বপূর্ণ হাদীসসমূহের মধ্যে মহানবী (সা.) থেকে বর্ণিত তাঁর পবিত্র দুহিতা ফাতেমা (আ.) সম্পর্কিত একটি হাদীস হলো ‘ফাতেমা আমার অস্তিত্বের বা সত্তার অংশ। যে কেউ তাকে অসন্তুষ্ট ও ক্রোধান্বিত করল সে আমাকেই অসন্তুষ্ট ও ক্রোধান্বিত করল।’ আলোচ্য হাদীসটি ‘হাদীসে বিদআ’ নামে প্রসিদ্ধ। ধর্মীয় আলোচক ও বিশেষজ্ঞদের এ হাদীসটির ওপর গবেষণায় প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যেই এ সংক্ষিপ্ত লেখনিটি উপস্থাপিত হচ্ছে। আশা করছি চিন্তাশীল পাঠকমণ্ডলী এ প্রবন্ধ থেকে উপকৃত হবেন

কোরআনের তাফসীর
সূরা নাহল;(১৩তম পর্ব)

সূরা নাহল;(১৩তম পর্ব)

মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করত। এ আয়াতে বলা হচ্ছে, কাফের-মুশরিকরা আল্লাহ ও ফেরেশতা সম্পর্কে অদ্ভুত ধারণা পোষণ করত অথচ এরাই নিজেদের ক্ষেত্রে কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়াকে অপমানজনক মনে করত। তাদের কারো স্ত্রী যদি কন্যা সন্তান জন্ম দিত তাহলে লজ্জায় অপমানে তারা ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে যেতো এবং অপমান বোধের কারণে তারা সমাজ থেকে পালিয়ে বেড়াত এমনকি তারা নবজাতক শিশুকে জীবন্ত কবর দিতেও দ্বিধা করত না।

কোরআনের তাফসীর
সূরা নাহল;(১২তম পর্ব)

সূরা নাহল;(১২তম পর্ব)

মুশরিক ও পৌত্তলিকদের ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং তাদের কুসংস্কারের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, তারা আল্লাহর দেয়া নেয়ামত মন্দির এবং প্রতিমার পেছনে ব্যয় করে। এই গর্হিত কাজের জন্য তাদেরকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ যে নেয়ামত দান করেছেন তা শিরক বা প্রতিমা পুজার পছনে ব্যয় করার কোন অধিকার মানুষের নেই।

ধর্ম এবং মাযহাব
কে মু’তা বিবাহ নিষিদ্ধ করেছে? (২)

কে মু’তা বিবাহ নিষিদ্ধ করেছে? (২)

দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর তার খেলাফত কালে মিম্বারে বসে জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতার এক পর্যায়ে উল্লেখ করেন: “রাসূলের (সা.) যুগে দু’ধরনের মু’তার প্রচলন ছিল। কিন্তু আমি সে দু’টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে তামাত্তু হজ্ব এবং অপরটি মু’তাতুন্নেসা বা সাময়িক বিবাহ।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ-(৩য় পর্ব)

পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ-(৩য় পর্ব)

কুরআনের দৃষ্টিতে সে-ই হল প্রকৃত মানুষ যে স্রষ্টাকে চিনেছে, স্রষ্টা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন ও ইসলামী শিক্ষায় প্রশিক্ষিত হওয়ার কারণে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর দাসত্বকে মেনে নিয়েছে এবং তাঁর নবী (সা.) ও মনোনীত ওয়ালীদের (স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি) আনুগত্যকে নিজের জন্য অপরিহার্য জ্ঞান করেছে। আল্লাহর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন বলছে : « يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً » ‘হে ঈমানদার ব্যক্তিগণ! তোমরা সকলেই পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণের আওতায় প্রবেশ কর...।

কোরআনের তাফসীর
সূরা নাহল;(১১তম পর্ব)

সূরা নাহল;(১১তম পর্ব)

প্রকৃতিতে বিদ্যমান সকল কিছুই আল্লাহর প্রতি প্রণত এবং সিজদাবনত, কাজেই সৃষ্টির সেরা মানুষ এই নিয়মের ব্যতিক্রমী হতে পারে না। বিচার-বুদ্ধির অধিকারী মানুষ যদি এই নিয়মের ব্যতিক্রমী হওয়ার চেষ্টা করে তাহলে তার ওপর নেমে আসে বিপর্যয়।

ধর্ম এবং মাযহাব
কে মু’তা বিবাহ নিষিদ্ধ করেছে? (১)

কে মু’তা বিবাহ নিষিদ্ধ করেছে? (১)

দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর তার খেলাফত কালে মিম্বারে বসে জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতার এক পর্যায়ে উল্লেখ করেন: “রাসূলের (সা.) যুগে দু’ধরনের মু’তার প্রচলন ছিল। কিন্তু আমি সে দু’টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। একটি হচ্ছে তামাত্তু হজ্ব এবং অপরটি মু’তাতুন্নেসা বা সাময়িক বিবাহ

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
 পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ-(২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ-(২য় পর্ব)

আল কুরআনে পবিত্র জীবনের কাঠামো ও রূপ পবিত্র দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রবণতা বা পবিত্র বিশ্বাস নৈতিকতা ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পবিত্র জীবন এমন এক জীবন যার প্রতিটি দিক ও ক্ষেত্র ঐশী বর্ণ ও গন্ধের অধিকারী এবং ঐশী সত্তার কর্তৃত্ব ও অবিভাবকত্বের ছায়ায় বিকশিত। এরূপ জীবন কল্যাণহীন জ্ঞান, অসৎ ও অনুপযুক্ত কর্ম, অপরিশুদ্ধ জীবনোপকরণ ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত। এ জীবন শুধু অজ্ঞতা, আল্লাহর প্রতি উদাসীনতা, বস্তুপ্রেম ও ইন্দ্রিয়পরায়ণতার বন্ধনমুক্তই নয়; বরং আল্লাহর স্মরণে জাগ্রত, তাঁর নির্দেশের অনুবর্তী ও পছন্দনীয় কর্ম পালনে তৎপর, নিষিদ্ধ কর্ম বর্জনকারী, হালাল জীবিকা অনুসন্ধানকারী, ওহী ও ঐশী প্রত্যাদেশের নিকট আত্মসমর্পণকারী, খোদা অনুরাগী, বুদ্ধিবৃত্তির যথার্থ ব্যবহারকারী ও আল্লাহর বান্দাদের সেবায় নিয়োজিত।

কোরআনের তাফসীর
সূরা নাহল;(১০ম পর্ব)

সূরা নাহল;(১০ম পর্ব)

সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিণতির বর্ণনা এবং মুশরিকদেরকে চিন্তা গবেষণার আহ্বান জানানোর পর এ কয়েকটি আয়াতে বলা হয়েছে,সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার শাস্তি কেবল পরকালেই দেয়া হবে এমন নয়;বরং খোদাদ্রোহী জালেমদেরকে এই পার্থিব জগতেও নানা বিপদাপদের মাধ্যমে শাস্তি ভোগ করতে হবে। রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় কিংবা দিনের বেলা কর্মমুখর সময়ে তাদের ওপর ঐশী শাস্তি নেমে আসতে পারে। এমনকি তাদের ওপর এমনভাবে শাস্তি নেমে আসতে পারে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। আর তা যদি ঐশী শাস্তি হয় তাহলে কারো পক্ষে তা এড়ানো সম্ভব হবে না।

আপনার মতামত

মন্তব্য নেই
*
*

আল হাসানাইন (আ.)